Back To The Vedas

Back To The Vedas নিঃসন্দেহে এই জগতে জ্ঞানের মতো পবিত্র আর কিছুই নেই। [গীতা ৪/৩৮]

14/06/2026

।। যজর্বেদের ২৫/১৯ স্বস্তিবাচন মন্ত্র:।।

উগ্রবাদীতার চরম সীমা অতিক্রম: "মর্যাদা পুরুষোত্তম শ্রীরামের ছবিতে জুতা নিক্ষেপ"নাহ! ধর্ম অবমাননা এখন ঠিক হবে নাহ। ধর্ম অ...
13/06/2026

উগ্রবাদীতার চরম সীমা অতিক্রম: "মর্যাদা পুরুষোত্তম শ্রীরামের ছবিতে জুতা নিক্ষেপ"

নাহ! ধর্ম অবমাননা এখন ঠিক হবে নাহ। ধর্ম অবমাননা তো বাংলাদেশ সংবিধানের সেই রাষ্ট্র ধর্মটির হয়ে থাকে। অন্য ধর্মের সে মর্যাদা ঠিক কোথায়? হ্যাঁ! যদি এখানে রাষ্ট্রধর্মটি সংখ্যালঘু হতো তখন হয়তো এই আহাজারি শ্রবণ করা যেতো যে নাহ, পরমতসহিষ্ণুতা লালন করা দরকার, দেশ ধর্মনিরপেক্ষ হওয়া দরকার, সকলের ধর্মীয় স্বাধীনতা রয়েছে। আমরা সর্বদা এই বিষয় বলেছি, বাংলাদেশে দ্বিচারিতা চরম পর্যায়ের, এখানে কিছু না বলেও শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলেরা সেই সন্তানসম ছাত্রদের উগ্রতার শিকার হয়, বন্ধুর ধর্মকে নিয়ে কটুক্তি করার বিরুদ্ধে পাল্টা কমেন্ট ছুড়ে দিলে সেই প্রতিবাদকারী শিশুটি অভিযুক্ত হয়, কোনো তথ্য প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও গার্মেন্টস কর্মী দীপু চন্দ্র দাসকে মেরে প্রকাশ্যে ঝুলিয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় এবং কতিপয় নরপিশাচ সেটা উপভোগ করে এবং সেই স্লোগান দেয়।

ছবি, বিগ্রহতে কিছু নেই, সত্যি যদি কিছু না থাকতো মৌলবাদীরা একটা ভাস্কর্য নিয়ে এত আস্ফালন করতো নাহ, মিছিলে প্রতিবাদের নামে মর্যাদা পুরুষোত্তম শ্রীরামের ছবিতে জুতো নিক্ষেপ করতো নাহ। নাহ! এসব ধর্তব্যের মধ্যে এখন পড়ে নাহ। প্রশাসনও ঠিক কিভাবে এই উগ্রবাদী জনতাকে সামলাতে পারবে সেটা তো গবেষণার বিষয়। কারণ, একটি সমাজের অধিকাংশ যখন ধর্মান্ধ হয়ে উঠে এবং রাষ্ট্র হয় সেটা পৃষ্ঠপোষক তবে তো মৌলবাদী চিন্তা অনিবার্য। এটা ভুল নয় ধৃষ্টতা, ক্ষমা নয় দন্ড প্রয়োজন। কিন্তু সে দণ্ডের নিশ্চয়তা কে প্রদান করবে? আছে কেউ?

এই সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী নিজ দেশে অন্য ধর্মের মন্দির প্রতিষ্ঠায় বাঁধা সৃষ্টি করে, প্রকাশ্যে বিগ্রহ গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। কিন্তু পৃথিবী তো গোলার্ধ, সেজন্য প্রতিটি ক্রিয়ারই একটা বিপরীত প্রতিক্রিয়া হবে এটাই স্বাভাবিক। কিছুদিন পূর্বে জাপানের শিন্তো মন্দিরে ঘন্টার স্থানে নিজ ধর্মকে জাহির করতে যায় বাংলাদেশী যুবক, হয়তো তিনি ভেবেছিলেন এটা সীতাকুণ্ড। পরবর্তীতে জাপানিজরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং পরবর্তী বিষয় আপনারা সকলে অবগত। ইউরোপে দীর্ঘদিন ধরে এইসব কার্যক্রম চলমান থাকায় এখন সেটা নিয়ে ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে এবং প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ড দেখা যাচ্ছে। নাহ! আমরা সেসব কর্মকাণ্ডের সমর্থন করি নাহ৷ কিন্তু আপনি নিজেকে শক্তিশালী ভেবে পৃথিবীর বাকি মানুষের বিশ্বাসকে কুঠারাঘাত করবেন এবং ভাববেন আপনি সংখ্যাগরিষ্ঠ, যা ইচ্ছে তা করবেন। তাহলে এই চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসা শ্রেয়। গ্লোবালাইজেশন এর যুগে, এখন কোনো কিছু অজানা নয়। নিজেদের কর্মকাণ্ড দ্বারা সেই দ্বিচারিতা যখন ফুটে উঠে তখনই অন্য ব্যক্তি আপনার প্রতি বিশ্বাস হারায়, প্রশ্নবিদ্ধ করে।

পরিশেষে এতটুকুই বলার রয়েছে, নিজেকে সংখ্যায় শক্তিশালী ভেবে অন্যদের কোণঠাসা করবেন, তবে বলে রাখা ভালো সময় অধিক শক্তিশালী। এই সংকটকালীন সময়ে যেসকল হিন্দু নামধারী প্রতিনিধিরা রয়েছে, তারা যদি বিগত সময়ের মতো নিজের আখেরগোছানো নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, তাহলে স্মরণে রাখুন, "নগরে আগুন লাগলে, দেবালয়ও রক্ষা পায় নাহ।" এই সর্বগ্রাসী উগ্রবাদ একদিন এই সমাজে প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে ধ্বংস ডেকে আনবে। সেদিনও শ্রীরামের আদর্শ নিয়ে প্রজাবৎসল রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখবে বঙ্গের ভূমিপুত্র সনাতনীরা।

জয় শ্রীরাম।
#শ্রীরাম

13/06/2026

কৃষ্ণমায়ন্তং প্রসন্থাদিত গবচ্চসম্।

⚡[মহাভারত উদ্যোগ পর্ব - ৮৩/২]

শ্রীকৃষ্ণ ছিলেন সূর্যের ন্যায় প্রসন্ন নির্মল তেজযুক্ত।

#গীতার_অমোঘবাণী #আর্য_সমাজ ্রীকৃষ্ণ

08/06/2026

কর্মেই তোমার অধিকার, কর্মফলে কখনও তোমার অধিকার নাই। কর্মফল যেন তোমার কর্মপ্রবৃত্তির হেতু না হয়, কর্মত্যাগেও যেন তোমার প্রবৃত্তি না হয়।
~গীতা ২/৪৭

#গীতার_অমোঘবাণী
#জয়গীতা

07/06/2026

আপনার সামর্থ্যের সামান্য অংশ হতে পারে অন্য একটি প্রাণের বেঁচে থাকার প্রেরণা। যজুর্বেদ ১১/৮৩ আমাদের মনে করিয়ে দেয়— দ্বিপদ (মানুষ) এবং চতুষ্পদ (প্রাণী) সবার তৃপ্তিই জগতের প্রকৃত কল্যাণ। 🌾

​আসুন, জীবের সেবা করে ঈশ্বরের সান্নিধ্য খুঁজি।

#পশু_হত্যা_না #প্রানী_রক্ষা #আর্য_সমাজ

06/06/2026

❝ ব্রহ্মণস্পতে পতিমস্যৈ রোচয় ❞

হে প্রভু!পতিকে পত্নীর প্রিয় করো।

— অথর্ববেদ ১৪.১.৩১ 📖

বেদতীর্থ গুরুকুল, আর্য সমাজ 🔥 #আর্য_সমাজ  #গুরুকুল
25/05/2026

বেদতীর্থ গুরুকুল, আর্য সমাজ 🔥

#আর্য_সমাজ #গুরুকুল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল থেকে শুরু করে আজকের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর স্বপ্নেরই বাস্তব রূপ।নিজে তেমন শিক্ষিত ন...
07/04/2026

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল থেকে শুরু করে আজকের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর স্বপ্নেরই বাস্তব রূপ।

নিজে তেমন শিক্ষিত না হলেও শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানবসেবায় তাঁর অবদান চিরস্মরণীয়। শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যিনি যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শ্রী কিশোরীলাল রায় চৌধুরী 💙

এই মহান দানবীরের স্মৃতি রক্ষার্থে তাঁরই দানকরা জমিতে প্রতিষ্ঠিত জগন্নাথ হলের রবীন্দ্র ভবনে তাঁর প্রতিকৃতি উন্মোচন করা হয় সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬।

🌺“ও৩ম্/ॐ” স্মরণম্ 🌺🌟 সর্বে বেদা য়ৎ পদমামনন্তি তপা৺সি সর্বাণি চ য়দ্ বদন্তি।য়দিচ্ছন্তো ব্রহ্মচর্য়ং চরন্তি তৎ তে পদ৺ সংগ্র...
23/02/2026

🌺“ও৩ম্/ॐ” স্মরণম্ 🌺

🌟 সর্বে বেদা য়ৎ পদমামনন্তি তপা৺সি সর্বাণি চ য়দ্ বদন্তি।

য়দিচ্ছন্তো ব্রহ্মচর্য়ং চরন্তি তৎ তে পদ৺ সংগ্রহেণ ব্রবীম্যোমিত্যেতৎ ॥

- কঠোপনিষদ্ ১/২/১৫

পদার্থঃ (সর্বে বেদাঃ) ঋগাদি চতুর্বেদ (য়ৎ, পদম্) যে পরমপদের (আমনন্তি) প্রতিপাদন করে (চ) এবং (সর্বাণি, তপাংসি) সকল তপস্যা (য়ৎ) যাঁর (বদন্তি) বর্ণনা করে, (য়ৎ) যাঁকে (ইচ্ছন্তঃ) পাবার ইচ্ছায় সাধকগণ (ব্রহ্মচর্য়ম্) ব্রহ্মচর্যের ব্রত (চরন্তি) পালন করেন, (তৎ পদম্) সেই পদ (তে) তোমাকে (সংগ্রহেণ) সংক্ষেপে (ব্রবীমি) বলছি- (ওম্ ইতি এতৎ) এই ও৩ম্ সেই পদ।

সরলার্থঃ ঋগাদি চতুর্বেদ যে পরমপদের প্রতিপাদন করে এবং সকল তপস্যা যাঁর বর্ণনা করে, যাঁকে পাবার ইচ্ছায় সাধকগণ ব্রহ্মচর্যের ব্রত পালন করেন, সেই পদ তোমাকে সংক্ষেপে বলছি- এই 'ও৩ম্' সেই পদ ।

🌟 ওমিত্যেতদক্ষরমিদং সর্বং তস্যোপব্যাখ্যানং ভূতং ভবদ্‌ ভবিষ্যদিতি সর্বমোঙ্কার এব।

য়চ্চান্যৎ ত্রিকালাতীতং তদপ্যোঙ্কার এব॥

- মাণ্ডূক্যোপনিষদ্ ১ম শ্রুতি

পদার্থঃ (ও৩ম্ ইতি) ও৩ম্ (এতৎ) এই (অক্ষরম্) অক্ষর [অবিনাশী ব্রহ্ম], (ইদম্) এই (সর্বম্) সম্পূর্ণ জগৎ (তস্য) তাঁর (উপব্যাখ্যানম্) নিকটতম মহিমার বোধক। (ভূতম) অতীত (ভবৎ) বর্তমান (ভবিষ্যৎ) ভবিষ্যৎ (ইতি) এই (সর্বম্) সবকিছু (ওঙ্কারঃ এব) ওঙ্কারই (চ) এবং (অন্যৎ) অন্য (য়ৎ) যা কিছু (ত্রিকাল) ত্রিকালের (অতীতম্) অতীত [ঊর্ধ্বে] (তৎ অপি) তাও (ওঙ্কার এব) ওঙ্কারই ।

সরলার্থঃ 'ও৩ম্' এই অবিনাশী ব্রহ্ম, এই সম্পূর্ণ জগৎ তাঁর নিকটতম মহিমার বোধক। অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এই সবকিছু ওঙ্কারই এবং ত্রিকালের ঊর্ধ্বে অন্য যা কিছু আছে, তাও ওঙ্কারই।

🌟 এতদ্ব্যেবাক্ষরং ব্রহ্ম এতদ্ব্যেবাক্ষরং পরং।

এতদ্ব্যেবাক্ষরং জ্ঞাত্বা য়ো য়দিচ্ছতি তস্য তৎ ॥

- কঠোপনিষদ্ ১/২/১৬

পদার্থঃ (এতৎ হি এব) এই ওঙ্কারই (অক্ষরম্) অবিনাশী (ব্রহ্ম) ব্রহ্ম, (এতৎ, এব) এই ওঙ্কারই (হি) নিশ্চিতরূপে (পরম্) পরম্ (অক্ষরম্) সূক্ষ্ম এবং ব্যাপক। (এতৎ, হি, এব) এইজন্যই এই (অক্ষরম্) অবিনাশী ব্রহ্মকে (জ্ঞাত্বা) জেনে (য়ঃ) যে মনুষ্য (যৎ) যা (ইচ্ছতি) ইচ্ছা করেন (তস্য) তাঁর (তৎ) সেটিই প্রাপ্তি হয়।

সরলার্থঃ এই ওঙ্কারই অবিনাশী ব্রহ্ম, এই ওঙ্কারই পরম সূক্ষ্ম এবং ব্যাপক। এইজন্যই এই অবিনাশী ব্রহ্মকে জেনে যে মনুষ্য যা ইচ্ছা করেন, তাঁর সেটিই প্রাপ্তি হয়।

ব্যাখ্যাঃ মানব জীবনের লক্ষ্য হচ্ছে সাংসারিক সুখ এবং মুক্তিসুখ লাভ করা। কিন্তু এই দুটির মধ্যে পরম লক্ষ্য হচ্ছে মুক্তিসুখ লাভ করা। এই উভয়বিধ সুখের প্রাপ্তি পরব্রহ্মের জ্ঞান এবং তাঁর মুখ্য নাম 'ও৩ম্' এর সার্থক জপের দ্বারাই হয়।

🌟 এতদালম্বন৺ শ্রেষ্ঠমেতদালম্বনং পরম্।

এতদালম্বনং জ্ঞাত্বা ব্রহ্মলোকে মহীয়তে ॥

- কঠোপনিষদ্ ১/২/১৭

পদার্থঃ ব্রহ্মের প্রাপ্তি এবং ব্রহ্মজ্ঞানের সমস্ত সাধনের মধ্যে (এতৎ) এই ব্রহ্মের মুখ্যনাম ওঙ্কারকে (আলম্বনম্) উপসানার সময় জপ-রূপে আশ্রয় করা (শ্রেষ্ঠম্) অত্যন্ত শ্রেষ্ঠ এবং (এতৎ) এই (আলম্বনম্) সাধন (পরম্) সর্বোপরি। (এতৎ) এই ওঙ্কারের জপ এবং তদর্থভাবনারূপ (আলম্বনম্) সাধনকে (জ্ঞাতা) জেনেই [সাধক] (ব্রহ্মলোকে) ব্রহ্মের সান্নিধ্য দ্বারা হওয়া মোক্ষসুখ লাভ করে (মহীয়তে) মহিমান্বিত হন।

সরলার্থঃ ব্রহ্মের প্রাপ্তি এবং ব্রহ্মজ্ঞানের সমস্ত সাধনের মধ্যে এই ব্রহ্মের মুখ্যনাম ওঙ্কারকে উপসানার সময় জপ-রূপে আশ্রয় করা অত্যন্ত শ্রেষ্ঠ এবং এই সাধন সর্বোপরি। এই ওঙ্কারের জপ এবং তদর্থভাবনারূপ সাধনকে জেনেই সাধক ব্রহ্মের সান্নিধ্য দ্বারা হওয়া মোক্ষসুখ লাভ করে মহিমান্বিত হন।

💥 সূত্র- তস্য বাচকঃ প্রণবঃ।।

- যোগদর্শন ১/২৭

শব্দার্থ: (তস্য) ওই ঈশ্বরের (বাচকঃ) বোধক শব্দ= নাম (প্রণবঃ) ও৩ম্।

সূত্রার্থ- ওই ঈশ্বরের বোধক নাম = 'ও৩ম্'।

💥 সূত্র - তজ্জপস্তদর্থভাবনম্।।

- যোগদর্শন ১/২৮

শব্দার্থ: (তত্-জপঃ) ওই ও৩ম্ শব্দের জপ (তত্-অর্থ-ভাবনম্) ওই ঈশ্বর রূপ অর্থের ভাবনা অর্থাৎ গুণের চিন্তন করা উচিৎ।

সূত্রার্থ- ওই ও৩ম্ শব্দের জপ এবং ও৩ম্ নামের নামী ঈশ্বরের ভাবনা অর্থাৎ তাঁর রক্ষণাদি গুণের চিন্তন করা উচিৎ।

💠 এতদক্ষরমেতাং চ জপন্ ব্যাহৃতিপূর্বিকাম।

সন্ধ্যযোর্বেদবিদ্বিপ্রো বেদপুণ্যেন যুজ্যতে।।

- বিশুদ্ধ মনুস্মৃতি ২/৫৩ [২/৭৮]

বঙ্গানুবাদঃ এই ও৩ম্ অক্ষরকে ও 'ভূঃ র্ভুবঃ স্বঃ' এই ব্যাহৃতি দ্বারা গায়ত্রী ঋচা অর্থাৎ, “ও৩ম্ ভূর্ভুবঃ স্বঃ। তৎসবিতুর্বরেণ্যং ভর্গো দেবস্য ধীমহি। ধিয়ো য়ো নঃ প্রচোদয়াৎ।।” এই মন্ত্র দ্বিজগণ প্রাতঃকালে ও সায়ংকালে সন্ধ্যা উপাসনার সময় জপের মাধ্যমে বেদাধ্যায়নের পূণ্য ফল প্রাপ্ত হন।

🌟 অণোরণীয়ান্ মহতো মহীয়ানাত্মাস্য জন্তোর্নিহিতো গুহায়াম্।

তমক্রতুঃ পশ্যতি বীতশোকো ধাতুপ্রসাদান্মহিমানমাত্মনঃ॥

- কঠোপনিষদ্ ১/২/২০

পদার্থঃ (আত্মা) ওই ব্যাপক ব্রহ্ম (অণোঃ) পরমাণু প্রভৃতি সূক্ষ্ম পদার্থ থেকেও (অণীয়ান্) অত্যন্ত সূক্ষ্ম, (মহতঃ) আকাশ, পৃথিব্যাদি বৃহৎ পদার্থ থেকেও (মহীয়ান্) বৃহত্তর, তিনি (অস্য) এই (জন্তোঃ) জীবের (গুহায়াম্) হৃদয়রূপ গুহাতে (নিহিতঃ) বিরাজমান। (তম্) সেই (আত্মনঃ) ব্যাপক ব্রহ্মের (মহিমানম্) মহিমাকে (ধাতুপ্রসাদাৎ) ঈশ্বরের কৃপায় (অক্রতুঃ) নিষ্কামকর্মী এবং (বীতশোকঃ) শোকরহিত ব্যক্তিই (পশ্যতি) অনুভব করেন।

সরলার্থঃ ওই ব্যাপক ব্রহ্ম পরমাণু প্রভৃতি সূক্ষ্ম পদার্থ থেকেও অতি সূক্ষ্ম‌ ; আকাশ পৃথিব্যাদি বৃহৎ পদার্থ থেকেও বৃহত্তর। তিনি এই জীবের হৃদয়রূপ গুহাতে বিরাজমান। ঈশ্বরের কৃপাতেই সেই ব্যাপক ব্রহ্মের মহিমাকে নিষ্কামকর্মী ও শোকরহিত ব্যক্তিই অনুভব করেন।

🌟 হিরণ্ময়েন পাত্রেণ সত্যস্যাপিহিতং মুখম্ ।

যোঽসাবাদিত্যে পুরুষঃ সোঽসাবহম্ । ও৩ম্ খং ব্রহ্ম ।।

- ঈশাবাস্যোপনিষদ্ ১৫ / যজুর্বেদ ৪০।১৭

পদার্থঃ হে মনুষ্যগণ! (হিরণ্ময়েন) জ্যোতির্ময় (পাত্রেণ) সবার রক্ষক আমার দ্বারা (সত্যস্য) অবিনাশী সৎরূপ কারণের [প্রকৃতির] (অপিহিতম্) আচ্ছাদিত (মুখম্) মুখের তুল্য উত্তম অঙ্গ প্রকাশিত হয়। (য়ঃ) যিনি (অসৌ) ওই (আদিত্যে) প্রাণ বা সূর্যমণ্ডলে (পুরুষঃ) পূর্ণ পরমাত্মা আছেন, (সঃ) সেই তিনি (অসৌ) পরোক্ষরূপে (অহম্) আমি। (খম) আকাশতুল্য ব্যাপক (ব্রহ্ম) গুণ, কর্ম ও স্বরূপের দৃষ্টিতে সর্বাপেক্ষা বৃহৎ [মহান] (ও৩ম্) আমি সমস্ত জগতের রক্ষক 'ও৩ম্' এরূপ জানবে।

সরলার্থঃ হে মনুষ্যগণ! জ্যোতির্ময়, সবার রক্ষক আমার দ্বারা অবিনাশী সৎরূপ কারণের (প্রকৃতির) আচ্ছাদিত মুখের তুল্য উত্তম অঙ্গ প্রকাশিত হয়। যিনি ওই প্রাণ বা সূর্যমণ্ডলে পূর্ণ পরমাত্মা, সেই তিনি পরোক্ষরূপে আমিই। আমি আকাশতুল্য ব্যাপক এবং গুণ, কর্ম ও স্বরূপের দৃষ্টিতে সর্বাপেক্ষা মহান। আমি সমস্ত জগতের রক্ষক 'ও৩ম্' এরূপ জানবে।

🌟 সোঽয়মাত্মাঽধ্যক্ষরমোঙ্কারোঽধিমাত্রং, পাদা মাত্রাঃ মাত্রাশ্চ পাদাঃ, অকার উকারো মকার ইতি ॥

- মাণ্ডূক্যোপনিষদ্ ৮ম শ্রুতি

পদার্থঃ (সঃ) সেই (অয়ম্) এই (আত্মা) পরমাত্মা (অধি অক্ষরম্) অক্ষরে অধিষ্ঠিত, আর এই অক্ষর (ওঙ্কারঃ) ওঙ্কার এবং এই ওঙ্কার (অধিমাত্রম্) মাত্রায় অধিষ্ঠিত (পাদাঃ মাত্রাঃ) ব্রহ্মের পাদই ওঙ্কারের মাত্রা (চ) এবং (মাত্রাঃ পাদাঃ) ওঙ্কারের মাত্রাই ব্রহ্মের পাদ, আর সেই মাত্রাসমূহ হলো (অকার, উকার, মকার, ইতি) অ-কার, উ-কার ও ম-কার।

সরলার্থঃ সেই এই পরমাত্মা অক্ষরে অধিষ্ঠিত, আর এই অক্ষর ওঙ্কার এবং এই ওঙ্কার মাত্রায় অধিষ্ঠিত। ব্রহ্মের পাদই ওঙ্কারের মাত্রা এবং ওঙ্কারের মাত্রাই ব্রহ্মের পাদ, আর সেই মাত্রাসমূহ হলো- অ-কার, উ-কার ও ম-কার ।

🌟 বায়ুরনিলমমৃতমথেদং ভস্মান্ত৺ শরীরম্।

ও৩ম্ ক্রতো স্মর ক্লিবে স্মর কৃত৺ স্মর॥

- ঈশাবাস্যোপনিষদ্ ১৫ / যজুর্বেদ ৪০/১৫

পদার্থঃ হে (ক্রতো) কর্মশীল জীব! তুমি শরীর ত্যাগ করার সময় (ও৩ম্) ও৩ম্ এই নামবাচ্য ঈশ্বরকে (স্মর) স্মরণ করো, (ক্লিবে) নিজের সামর্থ্য প্রাপ্তির জন্য পরমাত্মা ও নিজের স্বরূপকে (স্মর) স্মরণ করো, (কৃতম) জীবনে যা কিছু করেছ, সেই সব কৃতকর্মকে (স্মর) স্মরণ করো। এখানে বিদ্যমান (বায়ুঃ) ধনঞ্জয়াদিরূপ বায়ু (অনিলম্) কারণরূপ বায়ুকে, আর কারণরূপ বায়ু (অমৃতম্) অবিনাশী কারণকে ধারণ করে (অথঃ) অতঃপর (ইদম্) এই (শরীরম্) চেষ্টাদির আশ্রয়, নশ্বর শরীর (ভস্মান্তম্) অন্তে ভস্মে পরিণত হয় - এরূপ জানবে।

সরলার্থঃ হে কর্মশীল জীব! তুমি শরীর ত্যাগ করার সময় 'ও৩ম্' এই নামবাচ্য ঈশ্বরকে স্মরণ করো, নিজের সামর্থ্য প্রাপ্তির জন্য পরমাত্মা ও নিজের স্বরূপকে স্মরণ করো, নিজের কৃতকর্মকে স্মরণ করো। এখানে (এই শরীরে) বিদ্যমান ধনঞ্জয়াদিরূপ বায়ু কারণরূপ বায়ুকে, আর কারণরূপ বায়ু অবিনাশী কারণকে (প্রকৃতিকে) ধারণ করে। অতঃপর এই নশ্বর শরীর অন্তে ভস্মে পরিণত হয় - এরূপ জানবে।

📖 এছাড়াও শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় যোগেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এই বিষয়ে বলছেন যে,

🔹যদক্ষরং বেদবিদো বদন্তি বিশন্তি যদ্ যতয়ো বীতরাগাঃ।

যদিচ্ছন্তো ব্রহ্মচর্যং চরন্তি তৎ তে পদং সংগ্রহেণ প্রবক্ষ্যে ॥

- শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ৮/১১

পদার্থ: (যৎ, অক্ষরং) যেই অক্ষরকে (বেদবিদঃ) বেদের জ্ঞাতাগণ (বদন্তি) কথন করে (বীতরাগাঃ) বিরক্তপুরুষ [অনাসক্ত ব্যক্তি] (যতয়ঃ) যত্নশীল (যৎ, বিশান্তি) যাঁকে প্রাপ্ত হয় এবং (যৎ, ইচ্ছন্তঃ) যাঁকে ইচ্ছে করে (ব্রহ্মচর্যং) ব্রহ্মচারীগণ ব্রহ্মচর্য (চরন্তি) করে (তৎ, পদং) সেই পদ (তে) তোমার জন্য (সংগ্রহেণ) সংক্ষেপে (প্রবক্ষ্যে) বর্ণনা করছি।

সরলার্থ: যেই অক্ষরকে বেদের জ্ঞাতাগণ কথন করে, বিরক্তপুরুষ [অনাসক্ত ব্যক্তি] যত্নশীল যাঁকে প্রাপ্ত হয় এবং যাঁকে ইচ্ছে করে ব্রহ্মচারীগণ ব্রহ্মচর্য করে, সেই পদ তোমার জন্য সংক্ষেপে বর্ণনা করছি।

🔹সর্বদ্বারাণি সংযম্য মনো হৃদি নিরুধ্য চ।

মুর্ধ্ন্যাধায়াত্মনঃ প্রাণমাস্থিতো যোগধারণাম্ ॥

- শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ৮/১২

পদার্থ: (সর্বদ্বারাণি, সংযম্য) সকল ইন্দ্রিয়ের সংযম করে (চ) এবং (মনঃ, হৃদি, নিরুধ্য) মনকে হৃদয়দেশে যুক্ত করে (আত্মনঃ, প্রাণং) নিজ প্রাণকে (মুন্নি, আধায়) মুর্ধাদেশে [মস্তিস্কে] নিরুদ্ধ করে (যোগধারণাং, আস্থিতঃ) যোগের ধারণায় স্থির হও।

সরলার্থ: সকল ইন্দ্রিয়ের সংযম করে এবং মনকে হৃদয়দেশে যুক্ত করে, নিজ প্রাণকে মূর্ধাদেশে [মস্তিস্কে] নিরুদ্ধ করে যোগের ধারণায় স্থির হও।

🔹ওমিত্যেকাক্ষরং ব্রহ্ম ব্যাহরন্ মামনুস্মরন্।

যঃ প্রয়াতি ত্যজন্ দেহং স যাতি পরমাং গতিম্ ॥

- শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ৮/১৩

পদার্থ: (ওম্, একাক্ষরং, ব্রহ্ম) "ও৩ম্” এই এক অক্ষর ব্রহ্ম অর্থাৎ ব্রহ্মের বোধক, এই যে "ও৩ম্” অক্ষর রয়েছে একে (ব্যাহরন্) কথন করে (মাং, অনুস্মরন্) আমাকে এর অনন্তর স্মরণ করে অর্থাৎ এই পদের উপদেষ্টা জেনে (যহ) যে ব্যক্তি (দেহং,ত্যজন্) দেহ ত্যাগ করে (প্রয়াতি) প্রয়াণ করে (সঃ) তিনি (পরমাং, গতিং, যাতি) পরমগতিকে প্রাপ্ত হয়।

সরলার্থ: "ও৩ম্” এই এক অক্ষর ব্রহ্ম অর্থাৎ ব্রহ্মের বোধক। এই যে "ও৩ম্” অক্ষর রয়েছে একে কথন করে আমাকে এর অনন্তর স্মরণ করে অর্থাৎ এই পদের উপদেষ্টা জেনে, যে ব্যক্তি দেহ ত্যাগ করে প্রয়াণ করে তিনি পরমগতিকে প্রাপ্ত হয়।

🔹ॐ তৎসদিতি নির্দেশো ব্রহ্মণস্ত্রিবিধঃ স্মৃতঃ।

ব্রাহ্মণাস্তেন বেদাশ্চ যজ্ঞাশ্চ বিহিতাঃ পুরাঃ ॥

- শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ১৭/২৩

পদার্থ: (ব্রহ্মণঃ) ব্রহ্ম পরমাত্মার (নির্দেশঃ) নাম (ॐ তৎ সৎ) ও৩ম্, তৎ, সৎ (ইতি) এই (ত্রিবিধঃ, স্মৃতঃ) তিন প্রকারের কথন করা হয়েছে। যেই ব্রহ্মের এই তিন প্রকারের নাম (তেন) তিনি (পুরাঃ) পূর্বকালে (ব্রাহ্মণাঃ) বেদবেত্তা ব্যক্তি (বেদাঃ) বেদ (চ) এবং (যজ্ঞাঃ) যজ্ঞ (বিহিতাঃ) রচনা করেছেন।

সরলার্থ: পরমাত্মার নাম ও৩ম্, তৎ, সৎ। এই তিন প্রকারের কথন করা হয়েছে। যেই ব্রহ্মের এই তিন প্রকারের নাম তিনি পূর্বকালে বেদবেত্তা ব্যক্তি, বেদ এবং যজ্ঞ রচনা করেছেন।

🔹তস্মাদোমিত্যুদাহৃত্য যজ্ঞদানতপঃক্রিয়াঃ ।

প্রবর্তন্তে বিধানোক্তাঃ সততং ব্রহ্মবাদিনাম্ ॥

- শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ১৭/২৪

পদার্থ: (তস্মাৎ) এইজন্য (ॐ, ইতি, উদাহৃত্য) ওঙ্কারের উচ্চারণ করে (যজ্ঞদানতপঃ, ক্রিয়াঃ) যজ্ঞ, দান, তপ এইসব ক্রিয়া (ব্রহ্মবাদিনাং) বৈদিক ব্যক্তিদের মধ্যে (সততং) নিরন্তর (প্রবর্তন্তে) প্রবৃত্ত হয়, সেই যজ্ঞাদি কিরকম (বিধানোক্তাঃ) যা বৈদিক।

সরলার্থ: এইজন্য ওঙ্কারের উচ্চারণ করে যজ্ঞ, দান, তপ এইসব ক্রিয়া বৈদিক ব্যক্তিদের মধ্যে নিরন্তর প্রবৃত্ত হয়। সেই যজ্ঞাদি কিরকম? যা বৈদিক।

🖋️ আদিত্য কুমার নীল

শিক্ষা ও শাস্ত্র সমন্বয়ক

বাংলাদেশ অগ্নিবীর, নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা।

সনাতন ধর্মে ষোড়শ সংস্কার❤️সনাতনীদের জীবনের শুরু অর্থাৎ জন্ম নেওয়া থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বৈদিক সংস্কার মোট ১৬ টি। মহর্ষি মন...
22/02/2026

সনাতন ধর্মে ষোড়শ সংস্কার❤️

সনাতনীদের জীবনের শুরু অর্থাৎ জন্ম নেওয়া থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বৈদিক সংস্কার মোট ১৬ টি। মহর্ষি মনু মনুস্মৃতিতে বেদ দ্বারা এই ১৬ টি সংস্কার (যজুর্বেদ ৮।৩৩) নির্দেশিত তাহা বলেছেন। এগুলোকে একত্রে ষোড়শ সংস্কার হিসেবে উল্লেখিত করা হয়। একজন ব্যক্তির উত্তম পরিবার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে বাধ্যতামূলকভাবে এই ষোড়শ সংস্কার পালন করা অবশ্য কর্তব্য। নিম্নে ধারাবাহিকভাবে এই ষোড়শ সংস্কারের প্রত্যেকটি সংস্কার দেওয়া হলো:-

১) গর্ভাধানঃ (অথর্ববেদ ৬|৮১।২) গর্ভধারণ অর্থাৎ গর্ভাশয়ে বীর্যস্থাপনের মাধ্যমে যে ক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় তাহাকেই গর্ভাধান বলে। যার বীজ ও ক্ষেত্র উত্তম তার যেমন উত্তম ফসল উৎপন্ন হয়, তেমনই বলবান স্ত্রী পুরুষের সন্তানও উত্তম হয়। এই কারণে নারী ও পুরুষ উভয়েরই পুর্ণ ব্রহ্মচর্য পালনের পর সমাবর্তনের মাধ্যমে গৃহস্থ জীবনে প্রবেশের বিধান রয়েছে।

২) পুংসবনঃ (অথর্ববেদ ৩।২৩।৬) পত্নী গর্ভবতী হয়েছেন এটা জানার পর দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় মাসে সুস্থ সন্তান কামনায় পুংসবন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে যজ্ঞ করা হয়। এই অনুষ্ঠান মূলত গর্ভাবস্থায় প্রসূতির সুস্থতার জন্য এবং সন্তান ঠিকভাবে ভূমিষ্ঠ হবার জন্য আয়োজন করা হয়ে থাকে।

৩) সীমান্তোন্নয়নঃ (ঋগ্বেদ ২।৩২।৪) এই সংস্কার দ্বারা গর্ভধারিণী স্ত্রীর মন পুলকিত হয় এবং তার শরীর আরোগ্য লাভ করে। গর্ভধারণ করার চতুর্থ মাসে এ সংস্কার করতে হয়।

৪) জাতকর্মঃ (ঋগ্বেদ ৫।৭৮।৯) সন্তান প্রসবের সময় মন্ত্র জপ, মন্ত্র উচ্চারণপূর্বক নাভিচ্ছেদন, শিশুর যত্ন বিষয়ক যেসব কর্ম করা হয়ে থাকে তাকে জাতকর্ম সংস্কার বলা হয়।

৫) নামকরণঃ (যজুর্বেদ ৭।২৯) সন্তান জন্ম নেওয়ার একাদশতম দিনে আত্মীয়স্বজন ও পরিবারের ব্যক্তিদের সঙ্গে করে সন্তানের নাম রাখার সংস্কারকে নামকরণ সংস্কার বলা হয়ে থাকে।

৬) নিষ্ক্রমণঃ (অথর্ববেদ ৮।২।১৪) ঘরের বাইরে শুদ্ধ বায়ু দ্বারা পূর্ণ স্থানে সন্তানকে ভ্রমণ করানোর সংস্কারকে নিষ্ক্রমণ বলে। যে সময় উত্তম মনে হবে, সে সময়েই ভ্রমণ করানো যাবে। চতুর্থ মাসে বা এর পরে ভ্রমণ করানো উচিত।

৭) অন্নপ্রাশনঃ (অথর্ববেদ ৮।২।১৯) যখন শিশু অন্ন জাতীয় খাদ্য হজম করার উপযুক্ত শক্তি লাভ করবে, তখন মুখে অন্ন দেওয়ার নামই অন্নপ্রাশন সংস্কার।

৮) চূড়াকর্মঃ (অথর্ববেদ ৬।৬৮।৩) শিশুর মস্তক মুণ্ডন অর্থাৎ মাথার চুল ফেলে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে চূড়াকর্ম সংস্কার বলে। ১ বছর বা ৩ বছর বয়সে এই সংস্কার পালন করতে হয়।

৯) কর্ণবেধঃ (অথর্ববেদ ৬।১৪১।২) শিশুর জন্মের তৃতীয় বা পঞ্চম বর্ষে নাক ও কান ছিদ্র করাকে কর্ণবেধ সংস্কার বলা হয়। এই সংস্কার এখন প্রায় বিলুপ্ত বলা যায়।

১০) উপনয়নঃ (অথর্ববেদ ১১।৫।৩) যে সংস্কার দ্বারা শিষ্যকে গুরুর সাহচর্যে শিক্ষাগ্রহণ করে বিদ্বান ব্যক্তিতে পরিণত হতে নিয়ে যাওয়া হয় তার নাম 'উপনয়ন'। এই সংস্কারের মাধ্যমে গুরু তার শিষ্যকে যজ্ঞোপবীত দিয়ে দীক্ষিত করেন। উপনয়ন বর্তমানে কেবল এক বর্ণের জন্য প্রচলিত থাকলেও বৈদিক কর্মগত বর্ণব্যবস্থা অনুযায়ী এটি আবশ্যিক সংস্কার যা নারী পুরুষ, বর্ণ নির্বিশেষে বাধ্যতামূলক।

১১) বেদারম্ভঃ (অথর্ববেদ ১১।৫। ২৪) গায়ত্রী মন্ত্র থেকে শুরু করে চারবেদ অধ্যয়নের জন্য যে নিয়ম ধারণ করতে হয়, তাকে বেদারম্ভ সংস্কার বলে। যেদিন উপনয়ন হয় সেদিনই অথবা এক বছরের মধ্যে এই সংস্কার শুরু করতে পারে।

১২) সমাবর্তনঃ (ঋগ্বেদ ৩।৮।৪) শাস্ত্র অধ্যয়ন ও শিক্ষা সমাপ্ত হলে গুরুগৃহ থেকে গৃহে ফিরে গার্হস্থ্য আশ্রম গ্রহণের জন্য সমাবর্তন সংস্কার পালন করা হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও এমন অনুষ্ঠান প্রচলিত রয়েছে।

১৩) বিবাহঃ (অথর্ববেদ ১১।৫।১৮) সমাবর্তনের পর গৃহাশ্রমের জন্য শুভ গুণ, কর্ম ও স্বভাবের দিক দিয়ে সকলদিক দিয়ে তুল্য ও প্রীতিযুক্ত হয়ে স্ত্রী পুরুষের মধ্যে সম্বন্ধ স্থাপনই বিবাহ সংস্কার। বিয়ের পর গৃহাশ্রমে ইহলৌকিক ও পারলৌকিক সুখ লাভের জন্য নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পরোপকার করা, ঈশ্বর উপাসনা ও গৃহকর্ম করা, সত্যধর্মে একনিষ্ঠ হওয়া এবং ধর্মানুসারে চলা অবশ্য কর্তব্য।

১৪) বানপ্রস্থঃ (ঋগ্বেদ ১০।১৪৬।৫) বিবাহের পরে ধর্মানুসারে সন্তান প্রাপ্তি সহ সংসারের কাজ শেষ করে মহাত্মাগণের সহিত যোগাভ্যাস, শাস্ত্র আলোচনা ও পরমাত্মার সাক্ষাৎ লাভের প্রয়াস করাকে বানপ্রস্থ সংস্কার বলে।

১৫) সন্ন্যাসঃ (ঋগ্বেদ ৯/১১৩।৪) সংসারের মায়া মোহত্যাগ করে, বৈরাগ্যবান হয়ে পরোপকারের জন্য ও সমাজের কল্যাণের জন্য পরিভ্রমণ করাই হলো সন্ন্যাস সংস্কার।

১৬) অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াঃ (যজুর্বেদ ৪০।১৫) মৃত্যুর পর দাহকার্য সম্পাদন করা অর্থাৎ অন্তিম সংস্কারকে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া বলে। অন্ত্যেষ্টিই শেষ সংস্কার। এরপর শরীরের জন্য অন্য কোনো সংস্কারই অবশিষ্ট থাকে না।

এই হলো বৈদিক ষোড়শ সংস্কার। আমাদের প্রত্যেক সনাতনীর উচিত আগ্রহ ও নিষ্ঠা সহকারে এগুলোর পালন করা।

ও৩ম্ কৃন্বন্তো বিশ্বমার্যম। 🚩

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Back To The Vedas posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share