12/06/2026
“হে আমাদের রব, হিদায়াতের পর আমাদের অন্তরকে বক্র করে দিও না”
https://youtube.com/shorts/MKjxzQvxt4o?feature=share
মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় নেয়ামত হলো **হিদায়াত**। সম্পদ, ক্ষমতা, জ্ঞান কিংবা সম্মান—এসবের মূল্য তখনই আছে, যখন মানুষ আল্লাহর পথে অটল থাকতে পারে। তাই কুরআনে আল্লাহর প্রিয় বান্দারা এই দোয়া শিখিয়েছেন:
**رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً ۚ إِنَّكَ أَنتَ الْوَهَّابُ**
“হে আমাদের রব, আপনি হিদায়াত দেওয়ার পর আমাদের অন্তরসমূহ বক্র করবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদেরকে রহমত দান করুন। নিশ্চয় আপনি মহাদাতা।” (সূরা আলে ইমরান: ৮)
# কেন এই দোয়া এত গুরুত্বপূর্ণ?
এই আয়াতে একটি বড় শিক্ষা রয়েছে—**হিদায়াত পাওয়া যত গুরুত্বপূর্ণ, হিদায়াতের উপর টিকে থাকা তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।**
অনেক মানুষ একসময় দ্বীনের প্রতি আগ্রহী ছিল, নামাজ পড়ত, কুরআন তিলাওয়াত করত, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকত। কিন্তু সময়ের প্রবাহে, খারাপ পরিবেশে, অহংকারে, কিংবা দুনিয়ার মোহে পড়ে তারা ধীরে ধীরে আল্লাহর পথ থেকে দূরে সরে গেছে।
তাই আল্লাহর নেক বান্দারা নিজেদের আমলের উপর ভরসা করেননি; বরং তাঁরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছেন—“হে রব! আপনি আমাদেরকে পথ দেখিয়েছেন, এখন আমাদের হৃদয়কে বিপথগামী হতে দেবেন না।”
# “অন্তর বক্র হয়ে যাওয়া” বলতে কী বোঝায়?
অন্তর বক্র হয়ে যাওয়ার অর্থ হলো—
* সত্যকে জেনেও তা গ্রহণ না করা।
* গুনাহকে ছোট মনে করা।
* দ্বীনের বিষয়ে উদাসীন হয়ে যাওয়া।
* অহংকার ও প্রবৃত্তির অনুসরণ করা।
* আল্লাহর আনুগত্য থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যাওয়া।
মানুষের হৃদয় সবসময় পরিবর্তনশীল। এজন্যই রাসূলুল্লাহ ﷺ বেশি বেশি এই দোয়া করতেন:
“হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী, আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের উপর দৃঢ় রাখুন।”
# রহমত কেন চাওয়া হয়েছে?
আয়াতে শুধু হিদায়াত নয়, বরং আল্লাহর বিশেষ রহমতও চাওয়া হয়েছে।
কারণ হিদায়াতের উপর স্থির থাকা, গুনাহ থেকে বাঁচা, ঈমান নিয়ে জীবন শেষ করা—এসবই আল্লাহর রহমতের ফল। মানুষ নিজের শক্তি, বুদ্ধি বা আমলের মাধ্যমে জান্নাতের যোগ্য হয় না; বরং আল্লাহর রহমতই তাকে সফলতা দান করে।
তাই মুমিন বুঝে যে—
* আমি নামাজ পড়ছি, এটা আল্লাহর রহমত।
* আমি কুরআন পড়ছি, এটা আল্লাহর রহমত।
* আমি গুনাহ থেকে বেঁচে আছি, এটাও আল্লাহর রহমত।
# “নিশ্চয় আপনি মহাদাতা”
আয়াতের শেষে আল্লাহর একটি মহান গুণের নাম এসেছে—**আল-ওয়াহহাব (মহাদাতা)**।
তিনি এমন দাতা, যিনি বিনিময় ছাড়াই দান করেন, বারবার দান করেন, এবং তাঁর ভাণ্ডার কখনো শেষ হয় না।
যখন বান্দা নিজের দুর্বলতা অনুভব করে আল্লাহর দরবারে হাত তোলে, তখন সে জানে—আমি এমন এক রবের কাছে চাইছি, যিনি দিতে ভালোবাসেন।
# আমাদের জন্য শিক্ষা
এই দোয়া আমাদের শেখায়—
১. কখনো নিজের ঈমান ও আমলের উপর অহংকার করা যাবে না।
২. প্রতিদিন আল্লাহর কাছে হিদায়াতের উপর অটল থাকার জন্য দোয়া করতে হবে।
৩. অন্তরের নিরাপত্তা বাহ্যিক সফলতার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
৪. আল্লাহর রহমত ছাড়া কেউ সঠিক পথে টিকে থাকতে পারে না।
৫. মৃত্যুর আগ পর্যন্ত একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় ভয় হওয়া উচিত—ঈমান হারিয়ে ফেলা নয়, বরং ঈমানের উপর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে না পারা।
আল্লাহ আমাদের অন্তরকে সত্যের উপর দৃঢ় রাখুন, হিদায়াতের পর বিপথগামী না করুন এবং তাঁর অফুরন্ত রহমত দ্বারা আমাদেরকে আচ্ছাদিত করুন। আমীন।