Al-Quran Guidance Academy

Al-Quran Guidance Academy Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Al-Quran Guidance Academy, Religious organisation, Dhaka.

🕌 Quran • Telawat • Tajweed • Mashqe
📚 Tafsir • Translation • Quranic grammar
🎓 Authentic Islamic Education with Research
🌍 Online Classes for All Ages
🤲 Guided by the Quran & Sunnah

📖 Learn the Quran with understanding.

স্ত্রী গরমে ঘেমে অনেক সময় নিয়ে চা-নাশতা বানিয়ে নিয়ে এসেছে।শ্বশুর, শাশুড়ি সবাই বসে খাচ্ছে।স্বামী চায়ে চুমুক দিয়ে ব...
24/08/2026

স্ত্রী গরমে ঘেমে অনেক সময় নিয়ে চা-নাশতা বানিয়ে নিয়ে এসেছে।
শ্বশুর, শাশুড়ি সবাই বসে খাচ্ছে।

স্বামী চায়ে চুমুক দিয়ে বিরক্ত হয়ে বলছে—

“নাহ, এখনও তুমি মা’র মতো চা বানাতেই শিখলে না। কতবার বললাম, মা’র কাছ থেকে দেখো—কতখানি লিকার দিতে হয়, শিখো। মা! ওকে দেখিয়ে দিয়েন তো কীভাবে চা বানাতে হয়।”

—এ হচ্ছে “লুমাযাহ”।

এরা সুযোগ পেলেই মানুষের মুখের উপর তার বদনাম করে। কারও কোনো দোষ ধরার সুযোগ পেলে সহজে ছেড়ে দেয় না।

সারাদিন একে ধমকানো, ওকে খোঁচা মারা, একে গালি দেওয়া, ওকে ব্যঙ্গ করা—এগুলো হচ্ছে এদের স্বভাব।

এদের নিজেদের দোষের কোনো শেষ নেই। অথচ নিজের দোষ ঢাকার জন্য এরা সবসময় অন্যের দোষ নিয়ে ব্যস্ত থাকে।

এদের জিহ্বা হচ্ছে একটি ধারালো অস্ত্র।

এই অস্ত্র দিয়ে সারাদিন এরা একের পর এক মানুষের হৃদয় ক্ষতবিক্ষত করতে থাকে।

রাসূল ﷺ বলেছেন—

“মুসলমান সে, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে।”
📖 [সহিহ বুখারী: ১০, সহিহ মুসলিম: ৪০]

---

আত্মীয় বেড়াতে এসেছে। গল্প করার ফাঁকে জিজ্ঞেস করলো—

“আপনার মেয়ে কেমন আছে? ওর বাচ্চাগুলো ভালো আছে?”

মা উত্তর দিলেন—

“গত সপ্তাহে শুনলাম ওরা অসুস্থ। দেখি শুক্রবারে ফোন করলে বুঝতে পারবো কী অবস্থা?”

আত্মীয় অবাক হয়ে বললেন—

“শুক্রবারে? আপনার মেয়ে প্রতিদিন আপনাকে ফোন করে না? আর আমার মেয়ে প্রতিদিন সকালে ফোন করে সবার আগে আমার খোঁজখবর নেয়। আপনি এত কষ্ট করে মেয়ে বড় করে বিয়ে দিলেন, আর মেয়েটা আপনাকে দিনে একটা ফোনও করতে পারে না!”

মা আমতা আমতা করে বললেন—

“না, না, ব্যাপারটা আসলে সেরকম না। ও ঘর-সংসার, চাকরি নিয়ে অনেক ব্যস্ত থাকে। প্রতিদিন কি আর ফোনে কথা বলা যায়?”

আত্মীয় তার নিজের মেয়ের সাথে আরও কিছু তুলনা করে চলে গেলেন।

তারপর মা সারাদিন বিষণ্ণতায় ভুগলেন এবং বাবার কাছে অভিযোগ করতে থাকলেন—

“দিনে একটা ফোনও করতে পারে না! এই মেয়ের জন্য আমি রক্ত পানি করেছি? কেন একে আমি নয় মাস পেটে ধরেছি! নিজের বাবা-মায়ের থেকে ওর সংসার আজ বেশি বড় হয়ে গেল?”

—হ্যাঁ, সেই আত্মীয় হচ্ছে “হুমাযাহ”।

এরা মানুষে-মানুষে সম্পর্ক বিষিয়ে দিতে পেশাদারি দক্ষতা অর্জন করেছে।

এদের বিষাক্ত জিহ্বার ছোবলে সুখী পরিবারের মধ্যেও মুহূর্তের মধ্যে আগুন ধরে যেতে পারে।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

“দুর্ভোগ প্রত্যেকের, যে পশ্চাতে ও সম্মুখে লোকের নিন্দা করে।”
📖 [সূরা আল-হুমাযাহ: ১]

“কখনও না, সে অবশ্যই নিক্ষিপ্ত হবে হুতামায়। আর আপনি কি জানেন হুতামা কী? তা আল্লাহর প্রজ্বলিত আগুন।”
📖 [সূরা আল-হুমাযাহ: ৪–৬]

রাসূল ﷺ বলেছেন—

“তোমরা কি জানো গীবত কী?”

সাহাবীরা বললেন, “আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।”

তিনি ﷺ বললেন—

“তোমার ভাই সম্পর্কে এমন কিছু বলা, যা সে অপছন্দ করে।”
📖 [সহিহ মুসলিম: ২৫৮৯]

---

হুমাযাতিল লুমাযাহ কারা?

এবার আসুন জেনে নেই হুমাযাতিল লুমাযাহ কারা।

জি, তারা হচ্ছে এমন এক ধরনের মানুষ—

১. যারা অন্যকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে।
২. মানুষের দিকে তাচ্ছিল্যভরে আঙুল দেখায়।
৩. চোখের ইশারা করে ব্যঙ্গ করে।
৪. কারও চরিত্রের কোনো দিক নিয়ে ব্যঙ্গ করে।
৫. কারও মুখের উপর তার বিরুদ্ধে মন্তব্য করে।
৬. কারও পেছনে তার দোষ বলে বেড়ায়।
৭. এর নামে ওর কাছে কথা লাগায়।

এটা তারা একবার-দুইবার করে না।
এমন করতে করতে তা তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়।

এরা হচ্ছে হুমাযাতিল লুমাযাহ।

এদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা।

আল্লাহুম্মাগফিরলী।

---

লুমাযাহ শুধু গীবতকারী নয়

মোটকথা, লুমাযাহ হলো—

কর্মক্ষেত্রে, পারিবারিক জীবনে কিংবা বন্ধু মহলে আমাদের আশেপাশে এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা বুক ফুলিয়ে বলেন—

“আমি উচিত কথা বলতে কাউকে ছাড়ি না।”
“আমি উচিত কথা মুখের উপর বলে দেই।”
“আমি অনেক স্ট্রেইট ফরোয়ার্ড!”
“যা মনে আসে তাই বলি।”

সব মহলে ঠোঁটকাটা স্বভাবের হিসেবে আপনি পরিচিত!

সবাইকে একদম সামনেই ধুয়ে দেন এবং এটা নিয়ে আপনি বেশ গর্বও করেন!

কিন্তু মনে রাখবেন—

সত্য কথা বলা আর কাউকে অপমান করা এক বিষয় নয়।

কাউকে সংশোধন করার নামে তাকে ছোট করা, ব্যঙ্গ করা, অপমান করা কিংবা তার দোষ মানুষের সামনে প্রকাশ করা ইসলামের আদর্শ নয়।

ইসলাম আমাদের জিহ্বার হেফাজত, গীবত থেকে বেঁচে থাকা, অন্যকে সম্মান করা এবং নরম ও সুন্দর কথা বলার শিক্ষা দেয়।

আল্লাহ তাআলা সূরা আল-হুমাযাহ-তে এই ধরনের মানুষের জন্য কঠিন সতর্কবাণী দিয়েছেন।

তাই নিজের কথাবার্তা, আচরণ, ইঙ্গিত এবং মানুষের সঙ্গে আমাদের ব্যবহার—সবকিছু নিয়ে আমাদের নিজেদের হিসাব নেওয়া দরকার।

হয়তো আমিও লুমাযাহর অন্তর্ভুক্ত!

হয়তো আমিও কখনো কাউকে ব্যঙ্গ করেছি, কারও দোষ নিয়ে কথা বলেছি, কারও সামনে তাকে ছোট করেছি কিংবা একজনের কথা আরেকজনের কাছে লাগিয়ে দিয়েছি।

তাই অন্যের দিকে আঙুল তোলার আগে নিজেকে সংশোধন করি।

আসুন, আমরা একটু নরম হই।
একটু সহনশীল হই।
অন্যের দোষ খোঁজার আগে নিজের দোষ দেখি।
নিজের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করি।
নিজের জিহ্বাকে সংযত করি।

মনে রাখবেন—

আল্লাহ যাকে নম্রতা দিয়েছেন, তিনি দুনিয়ার সেরা নিয়ামতগুলোর একটি পেয়েছেন।

হয়তো আমিও লুমাযাহর অন্তর্ভুক্ত, তবে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছি।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে গীবত, পরনিন্দা, অপমান, ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ এবং হুমাযাহ-লুমাযাহর স্বভাব থেকে হেফাজত করুন। আমাদের জিহ্বাকে মানুষের জন্য রহমত বানিয়ে দিন।

আল্লাহ তাওফিক দান করুন। আমিন। 🤲

📌 ইসলামী জ্ঞান, কুরআনের শিক্ষা, হাদিস ও আত্মশুদ্ধির নসিহত পেতে পোস্টটি লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করুন।

#হুমাযাহ #লুমাযাহ #হুমাযাতিললুমাযাহ #সূরাহুমাযাহ #গীবত #গীবতথেকেবাঁচুন #পরনিন্দা #জিহ্বারহেফাজত #আত্মশুদ্ধইসলামিকরিমাইন্ডার #দীনিশিক্ষা

17/08/2026

দুই বন্ধু। একই বয়স। একই বেতন।
পাঁচ বছর পর একজন নিজের ফ্ল্যাটের ডাউন পেমেন্ট দিল।

আরেকজন মাসের শেষ সপ্তাহে ধার খুঁজছে।

কেন?

কারণ ভাগ্য আলাদা ছিল না।

সিদ্ধান্ত আলাদা ছিল।

রাহিম প্রতিদিন মাত্র ৩০ মিনিট হাঁটত।

প্রতি মাসে ২,০০০ টাকা আলাদা রাখত।

প্রতিদিন ২০ মিনিট নতুন কিছু শিখত।

অন্যদিকে করিম ভাবত—

“আগামী মাস থেকে ব্যায়াম করব।”

“টাকা জমাব পরে।”

“আজ একটু রিল দেখি, কাল থেকে পড়ব।

এই “কাল” আর কখনো আসেনি।

পাঁচ বছর পরে—

রাহিমের শরীর ভালো, আত্মবিশ্বাস বেশি, আয় বেড়েছে, কিছু সঞ্চয়ও হয়েছে।

করিমের ওজন বেড়েছে, সঞ্চয় নেই, আয়ও প্রায় আগের জায়গাতেই।

মজার বিষয় হলো—

রাহিম কোনো বড় কাজ করেনি।

সে শুধু ছোট ভালো সিদ্ধান্তগুলো বারবার নিয়েছে।

জীবন একদিনে বদলায় না।

জীবন বদলায় প্রতিদিনের পুনরাবৃত্ত ছোট সিদ্ধান্তে।

আজ রাতে ঘুমানোর আগে নিজেকে একটি প্রশ্ন করুন—

আজ আমি এমন কী করেছি, যার জন্য ৫ বছর পরের আমি আমাকে ধন্যবাদ দেবে?

কমেন্টে শুধু একটি অভ্যাস লিখুন, যা আপনি আজ থেকেই শুরু করবেন।

এই লেখাটি সেই মানুষটির কাছে পাঠান, যে সবসময় বলে—

“কাল থেকে শুরু করব।”

17/08/2026

বেশিরভাগ মানুষ ভবিষ্যৎ নিয়ে যা ভাবে, নবিজির সিরাত ঘাঁটলে দেখা যায় তা ভুল। জটিল পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার এই গোপন কৌশলটি খুব কম মানুষই জানে।

নবিজি ﷺ ছিলেন ফরোয়ার্ড থিংকিং লোক। তাঁর মাঝে এই ৪টা কোয়ালিটি ছিল:

১. বাস্তবতা বুঝে প্রিপারেশন নিতেন।
২. অন্য এক্সপার্টদের কথা আমলে নিতেন।
৩. বড় টার্গেট হাসিলে ছোট ছোট জিনিসে ছাড় দিতেন।
৪. পরিস্থিতি বদলালে ফয়সালাও বদলাতেন।

একটা সিদ্ধান্ত নিলে জেদ করে সেটায় পড়ে থাকতেন না। ভালো বিকল্প কারও কাছ থেকে শুনলে সেটা মানতেন।

খান্দাকের লড়াইয়ে পরিখা খোঁড়ার প্ল্যানটা নবিজির ছিল না।

বাদ্‌রে প্রথমে তিনি একজায়গায় শিবির গেড়েছিলেন। পরে সাহাবি হুবাবের পরামর্শে শিবিরের জায়গা পাল্টান।

হুদাইবিয়াতে তিনি বিশাল টার্গেট হাসিল করলেন কারণ ছোট ছোট তাৎক্ষণিক কিছু জিনিস তিনি ছাড় দিয়েছিলেন।

প্ল্যানিঙের বেলায় দুই রকম চিন্তা করি আমরা।

যারা রিয়্যাক্টিভ মাইন্ডসেটের তারা:

সব ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেয়।
সবকিছু একাই বুঝতে চায়।
এখনই জিততে চায়।
ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েও সেখানেই আটকে থাকে।

বাট যারা ফরোয়ার্ড থিঙ্কার তারা:

উটটা আগে বাঁধে। তারপর আল্লাহর ওপর ভরসা করে।
এক্সপার্টদের কথা শোনে।
বড় লক্ষ্যের জন্য এখন কিছু ছাড় দিতে পারে।
নতুন তথ্য এলে সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে।

আপনার জীবনের ‘উট’ কোনটা?

কোন কাজটা আপনি ভাগ্যের ওপর ছেড়ে রেখেছেন? অথচ এখনই আপনার প্রস্তুতি নেওয়া দরকার?

কোন জায়গায় আপনি অন্যের পরামর্শ নিতে পারেন?

কোথায় বড় কোনো লক্ষ্যের জন্য এখন একটু ছাড় দেওয়া দরকার?

আর কোন সিদ্ধান্তটা নতুন তথ্যের কারণে বদলানো দরকার?

হয়তো এই পোস্টটা আপনার জন্যই লেখাআপনি কি কখনো খেয়াল করেছেন—কয়েক মিনিটের জন্য ফোন হাতে নিয়েছিলেন, অথচ কখন যে আধা ঘণ্টা চলে...
31/07/2026

হয়তো এই পোস্টটা আপনার জন্যই লেখা

আপনি কি কখনো খেয়াল করেছেন—কয়েক মিনিটের জন্য ফোন হাতে নিয়েছিলেন, অথচ কখন যে আধা ঘণ্টা চলে গেছে বুঝতেই পারেননি? একটি রিলস শেষ হয়েছে, আরেকটি শুরু হয়েছে। আঙুল স্ক্রল করছে, কিন্তু মন জানে না সে আসলে কী খুঁজছে।

আযান কানে এসেছে। ভেবেছেন, “এই ভিডিওটা শেষ করেই উঠব।” তারপর আরেকটি ভিডিও সামনে এসেছে। নামাজ পড়েছেন ঠিকই, কিন্তু দেরি হয়ে গেছে। কখনো তাড়াহুড়ো করে পড়েছেন। আবার কোনো দিন এত ক্লান্ত হয়ে গেছেন যে ভাবলেন, “আজ থাক, কাল থেকে ঠিক করব।”

তারপর রাতে বিছানায় শুয়ে নিজেরই খারাপ লাগে। মনে হয়, “ফোনের জন্য এত সময় আছে, অথচ কুরআনের জন্য দশ মিনিটও নেই কেন? অন্যদের জীবন দেখতে আমার এত আগ্রহ, অথচ নিজের আখিরাত নিয়ে ভাবার সময় হয় না কেন?”

আপনি একা নন। হয়তো আমরা অনেকেই এমন একটি পথে হাঁটছি, যেখানে শরীর সামনে যাচ্ছে, কিন্তু হৃদয় জানে না গন্তব্য কোথায়।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

أَفَمَن يَمْشِي مُكِبًّا عَلَىٰ وَجْهِهِ أَهْدَىٰ أَمَّن يَمْشِي سَوِيًّا عَلَىٰ صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ

“যে ব্যক্তি মুখ থুবড়ে চলতে থাকে, সে কি অধিক হেদায়াতপ্রাপ্ত, নাকি যে ব্যক্তি সোজা হয়ে সরল পথে চলে?”
সূরা আল-মুলক, আয়াত ২২।

আয়াতটি পড়লে নিজের জীবনটার কথা একবার ভাবুন। আপনি কি জানেন, প্রতিদিন কোন দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন? নাকি চারপাশের মানুষ, ট্রেন্ড, অ্যালগরিদম আর নিজের নফস যেদিকে টেনে নিচ্ছে, সেদিকেই চলে যাচ্ছেন?

মাথা কি শুধু ফোনের দিকে নিচু, নাকি হৃদয়ও?

ফোন ব্যবহার করা গুনাহ নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও সবসময় খারাপ নয়। এর মাধ্যমে উপকারী জ্ঞান শেখা যায়, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা যায়, ভালো কথাও ছড়িয়ে দেওয়া যায়।

কিন্তু আপনি নিজের কাছে সত্যি করে বলুন—ফোনটি কি এখনো আপনার হাতে আছে, নাকি আপনি ফোনের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছেন?

কোনো নির্দিষ্ট প্রয়োজন ছাড়াই কি বারবার ফোন আনলক করেন? নোটিফিকেশন না এলেও কি নিজে থেকে অ্যাপ খুলে দেখেন? কয়েক মিনিট ফাঁকা পেলেই কি যিকর, চিন্তা বা নীরবতার বদলে স্ক্রলিং শুরু হয়ে যায়?

আপনি হয়তো বলেন, “আমি তো খারাপ কিছু দেখি না।” কিন্তু প্রশ্ন শুধু কী দেখছেন, সেটি নয়। প্রশ্ন হলো, দেখতে দেখতে কী হারাচ্ছেন?

হয়তো হারাচ্ছেন নামাজের প্রথম সময়। হারাচ্ছেন কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক। হারাচ্ছেন পরিবারের সঙ্গে মন দিয়ে কথা বলার মুহূর্ত। হারাচ্ছেন নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার সময়। কখনো কখনো হারাচ্ছেন নিজের হৃদয়কে বুঝতে পারার ক্ষমতাও।

অন্যের জীবনের খবর রাখতে রাখতে নিজের জীবনটাই যেন অগোছালো হয়ে যাচ্ছে।

অন্যরা এগিয়ে যাচ্ছে, আর আপনি শুধু দেখছেন?

আপনি একজনের সাফল্য দেখলেন। আরেকজনের সুন্দর সংসার দেখলেন। কেউ নতুন কিছু কিনেছে, কেউ ঘুরতে গেছে, কেউ প্রশংসা পাচ্ছে। বাইরে থেকে সবকিছুই নিখুঁত মনে হচ্ছে।

তারপর নিজের জীবনকে ছোট মনে হতে শুরু করল। মনে হলো, “আমার জীবনে কিছুই হচ্ছে না।” অথচ আপনি যা দেখছেন, সেটি মানুষের জীবনের বাছাই করা কয়েকটি মুহূর্ত। তাদের কান্না, ভয়, ব্যর্থতা, পারিবারিক সমস্যা ও ভেতরের শূন্যতা আপনি দেখছেন না।

কিন্তু সেই অসম্পূর্ণ ছবিগুলোর সঙ্গে নিজের পূর্ণ জীবনকে তুলনা করতে করতে আপনি নিজের নিয়ামতগুলো ভুলে যাচ্ছেন।

আপনার সুস্থ শরীর, নিরাপদ ঘর, পরিবারের মানুষ, ঈমান, তাওবার সুযোগ, একটি সিজদা করার সামর্থ্য—এসব যেন আর বড় কিছু মনে হয় না। কারণ চোখ সবসময় অন্যের দিকে তাকিয়ে আছে।

কখনো কি মনে হয়েছে, আপনি অন্যদের জীবন দেখতে দেখতে নিজের জীবনটা বাঁচতেই ভুলে যাচ্ছেন?

শয়তান সবসময় সরাসরি “নামাজ ছেড়ে দাও” বলে না

সে হয়তো শুধু বলে, “আর পাঁচ মিনিট।”

“ভিডিওটা শেষ করো, তারপর নামাজ।”

“আজ অনেক ক্লান্ত, কাল থেকে কুরআন পড়বে।”

“এই পোস্টটা দেখে নাও, তারপর কাজে বসবে।”

আপনি লক্ষ্য করলে দেখবেন, শয়তান অনেক সময় আপনাকে বড় কোনো গুনাহ দিয়ে শুরু করায় না। সে আপনাকে ব্যস্ত রাখে। এত ব্যস্ত রাখে যে আল্লাহর কথা মনে করার জন্য হৃদয়ে আর নীরবতা থাকে না।

একটি রিলস হয়তো আপনাকে বদলে দেয় না। কিন্তু প্রতিদিন দুই ঘণ্টা উদ্দেশ্যহীন স্ক্রলিং ধীরে ধীরে আপনার মনোযোগ, ইচ্ছাশক্তি, সময়ের মূল্যবোধ এবং ইবাদতের স্বাদ বদলে দিতে পারে।

আপনি হয়তো নামাজ ছাড়েননি, কিন্তু নামাজকে জীবনের কেন্দ্র থেকেও সরিয়ে দিয়েছেন। আপনি কুরআন ত্যাগ করেননি, কিন্তু দিনের সবচেয়ে ক্লান্ত সময়টুকু কুরআনের জন্য রেখেছেন। আর দিনের সবচেয়ে সতেজ সময় চলে যাচ্ছে স্ক্রিনের পেছনে।

নিজের কাছে কয়েকটি প্রশ্ন রাখুন

আজ আপনার ফোনের স্ক্রিন টাইম কত?

গত সাত দিনে কুরআন পড়েছেন মোট কত মিনিট?

আযান হলে ফোন আগে বন্ধ করেন, নাকি ভিডিও আগে শেষ করেন?

ঘুম থেকে উঠে প্রথমে আল্লাহকে স্মরণ করেন, নাকি নোটিফিকেশন দেখেন?

আপনার মন খারাপ হলে সিজদায় যান, নাকি উদ্দেশ্যহীন স্ক্রলিংয়ে ডুবে যান?

আপনি যে মানুষগুলোর জীবন প্রতিদিন দেখছেন, তাদের সম্পর্কে যতটা জানেন—নিজের হৃদয়ের অবস্থা সম্পর্কে কি ততটা জানেন?

প্রশ্নগুলোর উত্তর কাউকে বলতে হবে না। শুধু নিজের কাছে লুকাবেন না।

হয়তো আপনার সমস্যা ফোন নয়, পালিয়ে বেড়ানো

কখনো আমরা বাস্তব দায়িত্ব থেকে পালানোর জন্য ফোনে ডুবে থাকি। পড়াশোনা কঠিন লাগছে, তাই স্ক্রল করি। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয় লাগে, তাই অন্যদের জীবন দেখি। কোনো কষ্টের মুখোমুখি হতে চাই না, তাই নিজেকে ব্যস্ত রাখি।

কিন্তু স্ক্রলিং শেষ হলে সমস্যাটি সেখানেই থাকে। শুধু সময়টা আর থাকে না।

আপনি যে কাজটি শুরু করতে ভয় পাচ্ছেন, সেটি আরও পিছিয়ে যায়। যে সম্পর্কটি ঠিক করা দরকার, সেটি আরও দূরে সরে যায়। যে গুনাহ থেকে তাওবা করা দরকার, সেটি আরও স্বাভাবিক হয়ে যায়। আর নিজের প্রতি হতাশা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।

হয়তো আপনি অলস নন। হয়তো আপনার মন এত বেশি বিক্ষিপ্ত যে কোনো কাজে স্থির থাকতে পারছে না।

সোজা পথে চলা মানে কখনো ভুল না করা নয়

আপনি হয়তো বহুবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, “আজ থেকে ফোন কম ব্যবহার করব।” দুদিন ভালো ছিলেন, তারপর আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেছেন। এখন হয়তো নিজের প্রতিই বিশ্বাস নেই।

মনে রাখবেন, আল্লাহর দিকে ফিরে আসার জন্য নিখুঁত হওয়া প্রয়োজন নেই। শুধু ফিরে আসতে হয়।

আজ আবার শুরু করুন। আগের ব্যর্থতার কারণে আজকের তাওবাকে ছোট করবেন না। আপনি দশবার পড়ে গেলে এগারোবার উঠুন। কারণ সরল পথে চলা মানে কখনো পড়ে না যাওয়া নয়; পড়ে গেলে ভুল পথকে গন্তব্য না বানানো।

আজ থেকেই ছোট কয়েকটি পরিবর্তন করুন

ঘুম থেকে উঠে প্রথম বিশ মিনিট ফোন ধরবেন না। প্রথমে সালাত, সকাল-সন্ধ্যার যিকর, দোয়া কিংবা কয়েক আয়াত কুরআন দিয়ে দিন শুরু করুন। দিনের শুরুতেই হৃদয়কে আল্লাহর সঙ্গে যুক্ত করুন, অ্যালগরিদমের সঙ্গে নয়।

আযান হলে সঙ্গে সঙ্গে ফোন রেখে দিন। ভিডিওটি গুরুত্বপূর্ণ নয়। আপনার রবের ডাক তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

যেসব অ্যাকাউন্ট দেখলে হিংসা, হতাশা, কামনা, গুনাহ বা অপ্রয়োজনীয় ভোগের আকাঙ্ক্ষা বাড়ে, সেগুলো আনফলো করুন। আপনার হৃদয় কোনো ময়লার ঝুড়ি নয় যে যা সামনে আসবে, তাই সেখানে জমা করবেন।

প্রতিদিন অন্তত ত্রিশ মিনিট ফোন ছাড়া থাকুন। নীরবে বসুন, হাঁটুন, বই পড়ুন, পরিবারের সঙ্গে কথা বলুন অথবা নিজের জীবন নিয়ে ভাবুন। প্রথম দিকে অস্বস্তি লাগতে পারে। কারণ দীর্ঘদিন পর নিজের হৃদয়ের সঙ্গে একা বসা সহজ নয়।

সপ্তাহে একদিন স্ক্রিন টাইম দেখে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, “এই সময়ের বিনিময়ে আমি কী পেয়েছি?” উত্তর যদি হয় শুধু ক্লান্তি, তুলনা, অপরাধবোধ আর অপূর্ণ কাজ—তাহলে পরিবর্তনের সময় এসেছে।

আপনার জীবন শুধু একটি স্ক্রিন নয়

আপনার এমন কিছু দায়িত্ব আছে, যা অন্য কেউ পূরণ করবে না। আপনার এমন কিছু দোয়া আছে, যা আপনাকেই করতে হবে। আপনার এমন কিছু গুনাহ আছে, যার জন্য আপনাকেই তাওবা করতে হবে। আপনার এমন একটি আখিরাত আছে, যেখানে একাই দাঁড়াতে হবে।

মানুষের জীবন দেখতে দেখতে নিজের জীবনটা শেষ করে দেবেন না।

মাথা তুলুন। নিজের পথ দেখুন। আপনার রবের দিকে ফিরুন। আজকের এই মুহূর্তটিই হয়তো সেই মুহূর্ত, যখন আপনি সিদ্ধান্ত নেবেন—আর উদ্দেশ্যহীনভাবে ভেসে যাবেন না।

দুনিয়া আপনার চোখকে ব্যস্ত রাখতে চাইবে। শয়তান আপনাকে বলবে, “এখনো অনেক সময় আছে।” কিন্তু আপনি জানেন না, আপনার হাতে আসলে কত সময় বাকি আছে।

দুনিয়া টানে, হেদায়াত ডাকে। আপনি আজ কোন ডাকটির উত্তর দেবেন?

আল্লাহ আমাদের চোখ, সময় ও হৃদয়কে অনর্থক ও হারাম বিষয় থেকে হেফাজত করুন। উদ্দেশ্যহীন ব্যস্ততা থেকে বের হয়ে তাঁর দিকে ফিরে আসার তাওফিক দিন। আমাদের সরল পথে চলার শক্তি দিন এবং ভুল পথে চলে গেলে দ্রুত ফিরে আসার সাহস দিন। আমিন।

আপনার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি কোন বিষয়টি মিলে গেছে—আযানের পরও স্ক্রল করা, অন্যদের সঙ্গে নিজের জীবন তুলনা করা, নাকি বারবার সিদ্ধান্ত নিয়েও ফোন থেকে বের হতে না পারা?

━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━

📌 পোস্ট-টি সদকায়ে জারিয়া এবং ইসলাম প্রচারের স্বার্থে শেয়ার করে অশেষ সওয়াবের ভাগিদার হোন। এই পোস্ট আপনার আখেরাতের কঠিন মুসিবাতের সময় নাজাতের ওসিলা হয়ে যাক, আমিন🤲

🌿 বাস্তব জীবনের প্রশ্ন, চিন্তা ও সমস্যার ইসলামিক সমাধান পেতে আমাদের পেজ Al-Quran Guidance Academy Follow করে রাখুন।

🎓 একদম ফ্রিতে ইসলামিক দ্বীনি ক্লাস করতে আমাদের গ্রুপে যুক্ত হোন।

আপনি কি জানেন, আপনার মৃত্যুর ঠিক ৪০ দিন আগে আসমানে আপনার নামে একটা ঘোষণা হয়? সাহাবায়ে কেরাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম বলতেন, ...
18/07/2026

আপনি কি জানেন, আপনার মৃত্যুর ঠিক ৪০ দিন আগে আসমানে আপনার নামে একটা ঘোষণা হয়?

সাহাবায়ে কেরাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম বলতেন, মৃত্যুর ৪০ দিন আগে থেকেই রুহের দুনিয়ার সাথে সম্পর্ক আলগা হতে শুরু করে। অথচ আমরা দিব্যি খাচ্ছি, ঘুমাচ্ছি, প্ল্যান করছি... কিছুই টের পাই না।

কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা এতটাই দয়ালু যে, বান্দাকে খালি হাতে নেন না। যাওয়ার আগে তিনি ১টি চুপচাপ ইশারা পাঠান। সেই ইশারাটা কী?

১. দুনিয়ার স্বাদ হঠাৎ ফিকে লাগা শুরু করে
কথিত আছে, মৃত্যু ঘনিয়ে এলে মানুষের অন্তরে এক অদ্ভুত পরিবর্তন আসে। যে খাবারটা কালও প্রিয় ছিল, আজ সেটা বিস্বাদ লাগে। যে বন্ধুদের আড্ডা ছাড়া দিন কাটতো না, হঠাৎ তাদের সঙ্গ অসহ্য লাগে। মন শুধু একটা কথাই বলে — "কিছু একটা মিসিং"।

ইমাম গাজ্জালী রহ. তাঁর 'ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন' কিতাবে এক বুজুর্গের ঘটনা বলেন। সেই বুজুর্গ মৃত্যুর ৪০ দিন আগে থেকে হঠাৎ চুপ হয়ে যান। পরিবার জিজ্ঞেস করলে বলেন, "আমার জিভে দুনিয়ার কোনো খাবারের স্বাদ পাচ্ছি না। মনে হচ্ছে, আমাকে অন্য কোথাও দাওয়াতের জন্য তৈরি করা হচ্ছে।" ঠিক ৪০ দিনের মাথায় তিনি ইন্তেকাল করেন।

২. চোখের পানি কারণ ছাড়াই চলে আসে
ব্যাখ্যা ছাড়া কান্না। নামাজে দাঁড়ালে, কুরআন শুনলে, এমনকি রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে চোখ ভিজে যায়। দুনিয়ার কোনো কষ্ট না, তবুও বুকের ভেতর হাহাকার।

উলামায়ে কেরাম বলেন, এটা রুহের কান্না। কারণ রুহ বুঝে যায়, তার দুনিয়ার সফর শেষের দিকে। সে তার রবের সাথে মোলাকাতের জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে। কিন্তু আমরা ভাবি, "হয়তো মন খারাপ"।

৩. সেই ১টি ইশারা: "ফিরে আসার তীব্র ইচ্ছা"
এবার আসল কথাটা শুনুন।

মৃত্যুর ৪০ দিন আগে আল্লাহ বান্দার অন্তরে তওবার একটা আগুন জ্বালিয়ে দেন। হঠাৎ করে মনে হয়, "ইশ! জীবনে কত গুনাহ করলাম। যদি আরেকটা সুযোগ পেতাম, সব শুধরে নিতাম। যদি মা-বাবার পা ধরে মাফ চাইতে পারতাম। যদি একবার সিজদায় পড়ে মন খুলে কাঁদতে পারতাম।"

এই ইচ্ছাটাই হলো আল্লাহর পাঠানো শেষ ইশারা। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটা "ওয়ার্নিং" না, এটা একটা "মার্সি কল"। তিনি চান, বান্দা যেন পাক-সাফ হয়ে তাঁর কাছে ফিরে।

সমস্যা হলো, ৯০% মানুষ এই ইশারাকে 'ডিপ্রেশন' বা 'মনের ভুল' ভেবে উড়িয়ে দেয়। দুনিয়ার কাজে আরও বেশি ডুবে যায়। আর ১০% মানুষ ঠিকই বুঝে ফেলে। তারা তওবা করে, কাদা-মাটির দুনিয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

শেষ কথাটা কলিজায় লাগবে...
প্রিয় ভাই/বোন, আপনার-আমার মৃত্যুর ৪০ দিন কখন শুরু হবে, সেটা একমাত্র আল্লাহ জানেন। হতে পারে, আপনি এই লেখাটা পড়ছেন, আর আপনার ৪০ দিন অলরেডি শুরু হয়ে গেছে।

কুরআনে আল্লাহ বলেন: "কেউ জানে না আগামীকাল সে কী অর্জন করবে এবং কেউ জানে না কোন জমিনে সে মৃত্যুবরণ করবে" $Quran 31:34$

তাই এই ইশারার জন্য ৪০ দিন অপেক্ষা করবেন না। আজ, এখনই, এই মুহূর্তে যদি বুকের ভেতর তওবার ইচ্ছাটা জাগে, বুঝে নেবেন — এটাই আল্লাহর ডাক।

উঠে দাঁড়ান। ২ রাকাত নামাজ পড়ুন। মা-বাবাকে ফোন দিন। যার হক মেরেছেন, ফিরিয়ে দিন। কারণ আমরা কেউ জানি না, আমাদের নামে আসমানে ঘোষণা কবে হয়ে যাবে...

আপনি কি চান, মৃত্যুর আগে আল্লাহ আপনাকে এই ইশারাটা দিন? কমেন্টে 'আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা হুসনাল খাতিমাহ' লিখে দুআ করুন — "হে আল্লাহ, আমাকে সুন্দর মৃত্যু দিও"।

আর এই পোস্টটা শেয়ার করুন। হয়তো আপনার শেয়ারের কারণে কারো ৪০ দিন শুরু হয়ে গেছে, আর সে ফিরে আসার রাস্তা খুঁজে পাবে। এটাই হবে আপনার জন্য সাদকায়ে জারিয়া।❤️‍🩹

একটা ছোট পরীক্ষা করি?মোবাইলটা এক পাশে রাখুন। এবার না দেখে কুরআনে নাম উল্লেখিত নবীদের মধ্যে যতজনের নাম মনে আছে, বলতে শুরু...
17/07/2026

একটা ছোট পরীক্ষা করি?

মোবাইলটা এক পাশে রাখুন। এবার না দেখে কুরআনে নাম উল্লেখিত নবীদের মধ্যে যতজনের নাম মনে আছে, বলতে শুরু করুন।

৫ জন? ১০ জন? ১৫ জন?

হয়তো আমরা অনেক তথ্য খুব সহজেই মনে রাখতে পারি। কোন জিনিস কোথায় পাওয়া যায়, কার কোন ঘটনা, সোশ্যাল মিডিয়ার কোন ট্রেন্ড—এসব আমাদের মাথায় থেকে যায়। অথচ আল্লাহ যাঁদের জীবন, পরীক্ষা, দাওয়াত, সবর ও তাওহীদের শিক্ষা কুরআনে বারবার আমাদের সামনে এনেছেন—তাঁদের অনেকের নামও আমরা ধারাবাহিকভাবে বলতে পারি না।

বিষয়টা শুধু “২৫টি নাম মুখস্থ করেছি কি না”—এতটুকু নয়।

বরং প্রশ্ন হলো, আল্লাহ কেন নবীদের ঘটনা আমাদের জানিয়েছেন?

কুরআন নিজেই আমাদের বুঝিয়ে দেয়—নবীদের ঘটনা নিছক ইতিহাস বা গল্প নয়। আল্লাহ বলেন,

“রাসূলদের এসব ঘটনা আমি তোমার কাছে বর্ণনা করি, যার মাধ্যমে তোমার হৃদয়কে দৃঢ় করি।”
—সূরা হূদ: ১২০

অর্থাৎ নবীদের জীবনী পড়ার একটি উদ্দেশ্য হলো—অন্তরকে দৃঢ় করা।

ইবরাহিম (আ.)-এর জীবন পড়লে তাওহীদের জন্য দৃঢ়তা শিখি। মূসা (আ.)-এর ঘটনা পড়লে ভয় নিয়েও আল্লাহর আদেশে সামনে এগিয়ে যাওয়া দেখি। ইউসুফ (আ.)-এর জীবনে দেখি—কূপ, দাসত্ব, অপবাদ ও কারাগার জীবনের শেষ অধ্যায় ছিল না। আইয়ুব (আ.) আমাদের সবরের কথা মনে করিয়ে দেন। ইউনুস (আ.)-এর ঘটনা শেখায়—অন্ধকারের গভীরেও আল্লাহকে ডাকার দরজা বন্ধ হয় না।

আর নূহ (আ.)?

দীর্ঘ দাওয়াতের পথেও ফলাফলের মালিক যে আল্লাহ—তাঁর জীবন আমাদের সেই সত্য মনে করিয়ে দেয়।

তাই নবীদের নাম শেখা মানে শুধু একটা ইসলামিক কুইজে ভালো করা নয়। প্রতিটি নামের পেছনে আছে ঈমানের একটি শিক্ষা।

কুরআনের সূরা আল-আন‘আমের ৮৩–৮৬ নম্বর আয়াতে একসাথে বহু নবীর নাম এসেছে—ইবরাহিম, ইসহাক, ইয়াকুব, নূহ, দাউদ, সুলাইমান, আইয়ুব, ইউসুফ, মূসা, হারূন, যাকারিয়া, ইয়াহইয়া, ঈসা, ইলিয়াস, ইসমাঈল, আল-ইয়াসা‘, ইউনুস ও লূত (আলাইহিমুস সালাম)।

কুরআনের বিভিন্ন স্থানে নাম ধরে উল্লেখ পাওয়া ২৫ জন নবীর পরিচিত তালিকাটি হলো—

১. আদম (আ.)
২. ইদরীস (আ.)
৩. নূহ (আ.)
৪. হূদ (আ.)
৫. সালিহ (আ.)
৬. ইবরাহিম (আ.)
৭. লূত (আ.)
৮. ইসমাঈল (আ.)
৯. ইসহাক (আ.)
১০. ইয়াকুব (আ.)
১১. ইউসুফ (আ.)
১২. আইয়ুব (আ.)
১৩. শু‘আইব (আ.)
১৪. মূসা (আ.)
১৫. হারূন (আ.)
১৬. যুলকিফল (আ.)
১৭. দাউদ (আ.)
১৮. সুলাইমান (আ.)
১৯. ইলিয়াস (আ.)
২০. আল-ইয়াসা‘ (আ.)
২১. ইউনুস (আ.)
২২. যাকারিয়া (আ.)
২৩. ইয়াহইয়া (আ.)
২৪. ঈসা (আ.)
২৫. মুহাম্মাদ ﷺ

ইদরীস (আ.)-কে কুরআন স্পষ্টভাবে সত্যনিষ্ঠ ও নবী হিসেবে উল্লেখ করেছে; আর ইসমাঈল, ইদরীস ও যুলকিফলকে সূরা আল-আম্বিয়ায় ধৈর্যশীলদের মধ্যে একসাথে স্মরণ করা হয়েছে।

তবে একটা বিষয় মনে রাখা জরুরি—আল্লাহ শুধু এই ২৫ জন নবী-রাসূলই পাঠিয়েছেন, এমন নয়।

আল্লাহ বলেন,

“এমন অনেক রাসূল রয়েছেন, যাঁদের কথা আমি ইতিপূর্বে তোমার কাছে বর্ণনা করেছি এবং এমন অনেক রাসূল রয়েছেন, যাঁদের কথা তোমার কাছে বর্ণনা করিনি।”
—সূরা আন-নিসা: ১৬৪

অর্থাৎ আমরা যাঁদের নাম জানি, তাঁরা আল্লাহর প্রেরিত নবী-রাসূলদের সকলেই নন। আরও রাসূল এসেছেন, যাঁদের বিস্তারিত কুরআনে আমাদের জানানো হয়নি। সূরা গাফির ৪০:৭৮-এও একই সত্য এসেছে।

আর এই দীর্ঘ নবুওয়াতের ধারার শেষ নবী হলেন আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ ﷺ। আল্লাহ তাঁকে রাসূলুল্লাহ ও খাতামান-নাবিয়্যীন—নবীদের সীলমোহর/শেষ নবী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
—সূরা আল-আহযাব: ৪০

এখন নিজের দিকে একটু তাকাই।

আমরা কি নবীদের শুধু নাম জানব?

নাকি তাঁদের জীবন থেকে নিজের জীবনের উত্তর খুঁজব?

আপনি যখন দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও ফল পাচ্ছেন না—নূহ (আ.)-এর দাওয়াতের কথা মনে করুন।

যখন চারপাশের পরিবেশ ভুল পথে যাচ্ছে—ইবরাহিম (আ.)-এর দৃঢ়তা মনে করুন।

যখন অন্যায় অপবাদে কষ্ট পাচ্ছেন—ইউসুফ (আ.)-এর জীবন পড়ুন।

যখন অসুস্থতা বা দীর্ঘ পরীক্ষা ক্লান্ত করে দিচ্ছে—আইয়ুব (আ.)-এর সবর মনে করুন।

যখন নিজের ভুলের পর মনে হচ্ছে সব শেষ—ইউনুস (আ.)-এর অন্ধকারের দোয়া মনে করুন।

আর যখন জানতে চান একজন মুমিন কীভাবে পরিবার, সমাজ, ইবাদত, আখলাক, দয়া, নেতৃত্ব ও আল্লাহর আনুগত্য নিয়ে জীবন যাপন করবে—তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সীরাহর কাছে ফিরে যান।

নবীদের গল্প শিশুদের ঘুম পাড়ানোর গল্প নয়।

এগুলো আমাদের ঈমানের মানচিত্র।

তাঁদের জীবনে ছিল ভয়—কিন্তু আল্লাহর ওপর ভরসাও ছিল। ছিল পরীক্ষা—কিন্তু আনুগত্য ছাড়েননি। ছিল মানুষের বিরোধিতা—কিন্তু সত্য পরিবর্তন করেননি।

আজ photocard-টি save করে রাখুন। প্রথমে ২৫ জন নবীর নাম ধারাবাহিকভাবে শেখার চেষ্টা করুন।

তারপর আরও সুন্দর একটি কাজ করুন—

প্রতি সপ্তাহে একজন নবীর জীবন কুরআন ও নির্ভরযোগ্য তাফসীর থেকে পড়ুন।

শুধু জিজ্ঞেস করবেন না, “তাঁর জীবনে কী ঘটেছিল?”

নিজেকে জিজ্ঞেস করুন—

“তাঁর জীবন থেকে আমার জন্য কী শিক্ষা আছে?”

আল্লাহ আমাদের নবীদের জীবন সঠিকভাবে জানতে, তাঁদের তাওহীদ, সবর ও আনুগত্যের শিক্ষা বুঝতে এবং শেষ নবী মুহাম্মাদ ﷺ-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে জীবন গড়ার তাওফিক দিন। আমিন। 🤲

১. নবীদের ঘটনা শুধু ইতিহাস নয়—অন্তর দৃঢ় করার শিক্ষা।
২. নাম মুখস্থ করুন, তারপর একজন একজন করে তাঁদের জীবন জানুন।
৩. প্রতিটি নবীর জীবনে আছে আমাদের জন্য আলাদা শিক্ষা।
৪. কষ্টের সময়ে কখনো কখনো একজন নবীর জীবন পড়াই অন্তরকে নতুনভাবে শক্ত করে।
৫. আজ না দেখে ২৫ জনের মধ্যে কতজনের নাম বলতে পেরেছেন? 😊

🌿 নবীদের জীবন শেখার সহজ ৫ ধাপ
১. প্রথমে ২৫ জনের নাম ধারাবাহিকভাবে শিখুন।
২. প্রতি সপ্তাহে একজন নবী নির্বাচন করুন।
৩. কুরআনে তাঁর নাম ও ঘটনা কোথায় এসেছে খুঁজুন।
৪. নির্ভরযোগ্য তাফসীর থেকে ঘটনাটি বুঝুন।
৫. নিজের জন্য একটি আমল বা শিক্ষা লিখে রাখুন।

🤍 Save :
২৫ জন নবীর নাম মনে রাখতে photocard-টি save করে রাখুন।

📤 Share :
আপনার পরিবার ও সন্তানদের শেখানোর জন্য পোস্টটি শেয়ার করুন।

💬 question :
না দেখে এখনই বলুন—২৫ জনের মধ্যে কতজন নবীর নাম মনে করতে পেরেছেন?

━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━

📌 পোস্ট-টি সদকায়ে জারিয়া এবং ইসলাম প্রচারের স্বার্থে শেয়ার করে অশেষ সওয়াবের ভাগিদার হোন। এই পোস্ট আপনার আখেরাতের কঠিন মুসিবাতের সময় নাজাতের ওসিলা হয়ে যাক, আমিন🤲

🌿 বাস্তব জীবনের প্রশ্ন, চিন্তা ও সমস্যার ইসলামিক সমাধান পেতে আমাদের পেজ Follow করে রাখুন।

“আমি তো যি-না করিনি!”কথাটা হয়তো সত্য। আপনি কারও সঙ্গে শারীরিক হা-রাম সম্পর্কে জড়াননি। কিন্তু গত রাতে যে দৃশ্যটা বারবার দ...
17/07/2026

“আমি তো যি-না করিনি!”

কথাটা হয়তো সত্য। আপনি কারও সঙ্গে শারীরিক হা-রাম সম্পর্কে জড়াননি। কিন্তু গত রাতে যে দৃশ্যটা বারবার দেখলেন? যে মানুষের অ-শ্লীল কথাগুলো আগ্রহ নিয়ে শুনলেন? যে মেসেজটা লিখলেন? যে গোপন কথোপকথনটা প্রতিদিন একটু একটু করে গভীর হচ্ছে?

এসবের হিসাব কী?

আমাদের বড় একটা ভুল হলো—আমরা যি-নাকে শুধু শেষ ধাপ থেকে চিনতে শিখেছি। অথচ মানুষ অধিকাংশ সময় হঠাৎ করে বড় গু-নাহে পড়ে না। আগে চোখ অভ্যস্ত হয়। তারপর কান। তারপর কথা। এরপর হৃদয়ে আকাঙ্ক্ষা জমে। পা এগোয়। হাত বাড়ে। তারপর একসময় মানুষ এমন জায়গায় পৌঁছে যায়, যেটা নিয়ে একদিন সে নিজেই বলেছিল—“আমি কোনোদিন এমন করব না।”

এই কারণেই আল্লাহ তাআলা বলেননি শুধু, “যি-না করো না।”

আল্লাহ বলেছেন —

“তোমরা যি-নার নিকটবর্তীও হয়ো না। নিশ্চয়ই তা অ-শ্লীল কাজ এবং অত্যন্ত মন্দ পথ।” [—সূরা আল-ইসরা: ৩২]

খেয়াল করুন—“নিকটবর্তী হয়ো না।”

কারণ যিনার আগে একটা রাস্তা আছে। সেই রাস্তারও শুরু আছে। আর কখনো সেই শুরুটা খুব নির্দোষ মনে হয়।

“শুধু দেখছি।”
“শুধু কথা বলছি।”
“আমাদের মধ্যে কিছু নেই।”
“আমি তো খারাপ উদ্দেশ্যে শুনিনি।”
“একটু মজা করেছি।”
“মনেই তো ভেবেছি, কিছু করিনি।”

কিন্তু রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের এই জায়গাতেই সতর্ক করেছেন।

আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—আদমসন্তানের জন্য তার অংশের যি-না নির্ধারিত হয়েছে। চোখের যি-না হলো দেখা, কানের যি-না শোনা, জিহ্বার যি-না কথা বলা, হাতের যি-না স্পর্শ করা, পায়ের যি-না এগিয়ে যাওয়া; হৃদয় কামনা ও আকাঙ্ক্ষা করে, আর লজ্জাস্থান তা সত্যে পরিণত করে অথবা অস্বীকার করে। [—সহিহ মুসলিম: ২৬৫৭]

এখানে একটা জরুরি বিষয় বুঝতে হবে। হাদিসে অঙ্গগুলোর ক্ষেত্রে “যি-না” শব্দ ব্যবহৃত হলেও এগুলো শরঈ বিধানের দৃষ্টিতে লজ্জাস্থানের প্রকৃত যি-নার সমান নয় এবং এগুলোর ওপর যি-নার হদ্দ প্রয়োগ হয় না। রাসূল ﷺ অত্যন্ত শক্ত ভাষায় আমাদের বুঝিয়েছেন—শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ হা-রামের দরজা খুলে দিতে পারে এবং মানুষকে ধাপে ধাপে বড় গু-নাহের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

১. জিহ্বার যি-না

অ-শ্লীল কথা, কামনাময় আলাপ, হারাম সম্পর্ককে গভীর করা কথোপকথন—এসবকে আমরা কখনো “ফ্লার্ট”, “ফান” বা “জাস্ট চ্যাট” বলে হালকা করি।

কিন্তু প্রশ্ন হলো—যে কথাগুলো নিজের স্বামী বা স্ত্রী দেখলে আপনি অস্বস্তি বোধ করবেন, অথবা আল্লাহর সামনে প্রকাশিত হলে লজ্জিত হবেন—সেই কথাগুলো আসলেই কতটা নির্দোষ?

২. পায়ের যি-না

পা নিজে সিদ্ধান্ত নেয় না। হৃদয়ের ইচ্ছা মানুষকে কোনো স্থান, কোনো সাক্ষাৎ বা কোনো হা-রাম পরিবেশের দিকে নিয়ে যায়।

আমরা অনেক সময় গু-নাহের জায়গায় গিয়ে বলি, “আমি তো কিছু করিনি।”

কিন্তু নিজেকে প্রশ্ন করুন—আমি সেখানে গেলাম কেন?

৩. কানের যি-না

অ-শ্লীল আলাপ শুনে আনন্দ পাওয়া, কামনাময় কথা মন দিয়ে শোনা, এমন কিছু শোনা যা হৃদয়ের ভেতর হা-রাম আকাঙ্ক্ষা জাগায়—কানও অন্তরের দরজা।

সবকিছু শোনা নিরপেক্ষ নয়। কিছু শব্দ শোনার পরও হৃদয়ে থেকে যায়।

৪. হৃদয়ের যি-না

এখানেই বিষয়টা সবচেয়ে সূক্ষ্ম।

কাউকে নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে হারাম কল্পনা লালন করা, নিষিদ্ধ আকাঙ্ক্ষাকে বারবার মনে জায়গা দেওয়া, নিজের ভেতরে এমন এক সম্পর্ক তৈরি করা যার কোনো হালাল ভিত্তি নেই—হৃদয় ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে যায়।

হঠাৎ আসা চিন্তা আর ইচ্ছাকৃতভাবে সেই চিন্তা লালন করা এক বিষয় নয়। কিন্তু আমরা কি হারাম চিন্তাকে তাড়িয়ে দিচ্ছি, নাকি নিজেরাই বসে বসে গল্পটা বড় করছি?

৫. লজ্জাস্থানের যি-না

এটাই প্রকৃত যিনা—বিবাহের বাইরে অবৈধ যৌ-ন সম্পর্ক। এটি কবিরা গু-নাহ, ভয়া-বহ অ-শ্লীলতা এবং ইসলাম কঠোরভাবে এর পথ বন্ধ করেছে।

কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মানুষ এক লাফে এখানে পৌঁছে না। আগের দরজাগুলো খোলা ছিল বলেই শেষ দরজাটা সহজ হয়ে যায়।

৬. চোখের যি-না

আজকের যুগে সম্ভবত সবচেয়ে সহজ দরজা।

একটা Reel।
একটা profile।
একটা series।
একটা “suggested for you।”

প্রথমবার চোখে পড়ে। দ্বিতীয়বার নিজে খুঁজি। তৃতীয়বার algorithm আর আমাকে খুঁজতে হয় না—সে নিজেই জানে আমি কী দেখতে চাই।

আল্লাহ মুমিন পুরুষ ও নারীদের দৃষ্টি সংযত করতে নির্দেশ দিয়েছেন। [—সূরা আন-নূর: ৩০–৩১]

কারণ চোখ শুধু দেখে না; চোখ হৃদয়ের ভেতর ছবি রেখে যায়।

৭. হাতের যি-না

হারাম স্পর্শ এর অন্তর্ভুক্ত। আজকের বাস্তবতায় হাতের মাধ্যমে হারামের আরেকটি দরজাও আমরা উপলব্ধি করতে পারি—নিজ হাতে এমন মেসেজ লেখা, ছবি আদান-প্রদান করা বা যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়া যা মানুষকে গু-নাহের পথে এগিয়ে নেয়।

বাটনটা ছোট।

কিন্তু “Send” চাপার আগে আল্লাহ জানেন আপনি কী লিখেছেন এবং কেন লিখেছেন।

প্রিয় ভাই ও বোন, এই পোস্টের উদ্দেশ্য কাউকে হতাশ করা নয়। বরং নিজের গু-নাহকে চিনতে শেখা।

কারণ যে মানুষ রোগটাই চিনতে পারে না, সে চিকিৎসা শুরু করবে কীভাবে?

হয়তো আপনার কোনো একটি দরজা এখনো খোলা আছে। হয়তো চোখ। হয়তো গোপন chat। হয়তো এমন একজনের প্রতি হৃদয়ের আসক্তি, যাকে আপনি হালালভাবে পাওয়ার কোনো চেষ্টা করছেন না—শুধু মনের ভেতর হা-রাম সম্পর্কটাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন।

আজই দরজাটা বন্ধ করুন।

Unfollow করুন।
Conversation delete করুন।
প্রয়োজনে block করুন।
একাকীত্বের trigger চিনুন।
বিয়ে সম্ভব হলে হালাল পথে উদ্যোগ নিন।
আর পড়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তাওবা করুন।

শয়-তান আপনাকে বলবে—“এতদূর তো এসেই গেছ, এখন আর ফিরে কী হবে?”

কিন্তু আল্লাহর রহমতের দরজা আপনাকে বলে—এখনও ফিরে আসো।

আজ নিজের ফোন, চোখ, কান, কথোপকথন আর হৃদয়কে একটু audit করুন।

নিজেকে শুধু জিজ্ঞেস করবেন না—“আমি যি-না করেছি কি না?”

বরং জিজ্ঞেস করুন —

“আমি কি যি-নার কোনো দরজা খোলা রেখেছি?”

আল্লাহ আমাদের চোখ, কান, জিহ্বা, হৃদয়, হাত-পা ও লজ্জাস্থানকে হা-রাম থেকে হেফাজত করুন। গোপন ও প্রকাশ্য সকল ফি-তনা থেকে বাঁচিয়ে রাখুন এবং ভুল হয়ে গেলে খাঁটি তাওবার তাওফিক দিন। আমিন। 🤲

১. বড় গুনাহ প্রায়ই ছোট ছোট ছাড় থেকে শুরু হয়।
২. “শুধু দেখছি”—কখনো কখনো এটাই প্রথম দরজা।
৩. হৃদয়ে যা বারবার জায়গা দিচ্ছেন, একদিন তা আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে।
৪. তাওবা মানে শুধু কান্না নয়; গুনাহের দরজাটাও বন্ধ করা।
৫. আজ নিজের ফোন ও গোপন কথোপকথন একটু audit করুন।

🌿 হারামের দরজা বন্ধ করতে আজই ৫টি কাজ করুন!

১. যে account আপনার দৃষ্টিকে নষ্ট করে—Unfollow করুন।
২. যে chat আপনাকে হারামের দিকে নেয়—বন্ধ করুন।
৩. নিজের সবচেয়ে দুর্বল সময় ও trigger চিনে রাখুন।
৪. একা থাকলে screen use-এর জন্য personal boundary তৈরি করুন।
৫. ভুল হলে দেরি না করে তাওবা করুন এবং গুনাহের কারণটাও সরিয়ে ফেলুন।

🤍 Save :

নিজের চোখ, কান ও হৃদয়ের হিসাব নেওয়ার জন্য পোস্টটি Save করে রাখুন।

📤 Share :

একজন মানুষও যদি এই পোস্ট পড়ে হারামের একটি দরজা বন্ধ করে—শেয়ারটি আপনার জন্য কল্যাণের ওসিলা হতে পারে, ইন শা আল্লাহ।

💬 question :

বর্তমান সময়ে কোন দরজাটি হেফাজত করা সবচেয়ে কঠিন বলে আপনার মনে হয়—চোখ, কান, জিহ্বা নাকি হৃদয়?

━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━

📌 পোস্ট-টি সদকায়ে জারিয়া এবং ইসলাম প্রচারের স্বার্থে শেয়ার করে অশেষ সওয়াবের ভাগিদার হোন। এই পোস্ট আপনার আখেরাতের কঠিন মুসিবাতের সময় নাজাতের ওসিলা হয়ে যাক, আমিন।

©

কুরআন থেকে বাছাই করা ৪০ টি দোয়াআপনার কালেকশনে রাখুন এবং প্রতিদিন পড়ুন—❑ কুরআনের দোয়া (আরবি, উচ্চারণ ও অর্থ):১. দুনিয়া...
13/07/2026

কুরআন থেকে বাছাই করা ৪০ টি দোয়া
আপনার কালেকশনে রাখুন এবং প্রতিদিন পড়ুন—

❑ কুরআনের দোয়া (আরবি, উচ্চারণ ও অর্থ):
১. দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ:
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
❂ আরবি::
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

❂ উচ্চারণ: রব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাহ, ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাহ, ওয়াকিনা আযাবান নার।
❂ অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদেরকে দুনিয়ায় কল্যাণ দাও, আখিরাতেও কল্যাণ দাও এবং আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা কর।(২:২০১)

২. হেদায়েতের পরে হৃদয় না বাঁকানোর দোয়া:
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
❂ আরবি:
رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا

❂ উচ্চারণ: রব্বানা লা তুযিগ কুলুবানা বা‘দা ইয হাদাইতানা।
❂ অর্থ: হে আমাদের রব, তুমি আমাদেরকে হেদায়েত দেওয়ার পর আমাদের হৃদয়কে বাঁকা করে দিও না।(৩:৮)

৩. ক্ষমা ও রহমতের দোয়া (আদম আ.):
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
❂ আরবি:
رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنفُسَنَا
❂ উচ্চারণ: রব্বানা যালামনা আনফুসানা।
❂ অর্থ: হে আমাদের রব, আমরা নিজেদের উপর জুলুম করেছি। যদি তুমি আমাদের ক্ষমা না করো ও দয়া না করো তবে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হব।(৭:২৩)

৪. জ্ঞান বৃদ্ধির দোয়া:
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
আরবি:
رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا
❂ উচ্চারণ: রব্বি যিদনী ইলমা।
❂ অর্থ: হে আমার রব, আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন।(২০:১১৪)

৫. পিতা-মাতার জন্য দোয়া:
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
❂ আরবি:
رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا
❂ উচ্চারণ: রব্বির হামহুমা কামা রব্বাইয়ানি সাগীরা।
❂ অর্থ: হে আমার রব, আমার পিতা-মাতার প্রতি দয়া করুন যেমন তারা আমাকে ছোটবেলায় লালন-পালন করেছেন।(১৭:২৪)

৬. ঈমান দৃঢ় রাখার দোয়া:
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
❂ আরবি:
رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا
❂ উচ্চারণ: রব্বানা আফরিগ আলাইনা সবরা।
❂ অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের উপর ধৈর্য ঢেলে দিন এবং আমাদেরকে মুসলিম হিসেবে মৃত্যু দিন।(৭:১২৬)

৭. ক্ষমা ও রহমতের দোয়া:
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
আরবি:
رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ
উচ্চারণ: রব্বিগফির ওয়ারহাম।
অর্থ: হে আমার রব, ক্ষমা করুন এবং দয়া করুন।(২৩:১১৮)

৮. ঈমানদারদের ক্ষমার দোয়া:
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
❂ আরবি:
رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا
❂ উচ্চারণ: রব্বানাগফির লানা ওয়া লি ইখওয়ানিনা।
❂ অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদেরকে এবং আমাদের ঈমানদার ভাইদের ক্ষমা করুন।(৫৯:১০)

৯. পরিবারকে সালাত প্রতিষ্ঠাকারী করার দোয়া:
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
আরবি:
رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ
❂ উচ্চারণ: রব্বিজআলনি মুকীমাস সালাহ।
❂ অর্থ: হে আমার রব, আমাকে ও আমার সন্তানদের সালাত কায়েমকারী বানান।(১৪:৪০)

১০. অন্তর প্রশস্ত করার দোয়া (মুসা আ.):
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
আরবি:
رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي
❂ উচ্চারণ: রব্বিশরাহলি সদরি।
❂ অর্থ: হে আমার রব, আমার বুক প্রশস্ত করে দিন।(২০:২৫)

❑ কোরআনের দোয়া (পর্ব–২):
১১. নূহ (আ.)-এর দোয়া:
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
আরবি:
رَبِّ اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِمَن دَخَلَ بَيْتِيَ مُؤْمِنًا
❂ উচ্চারণ: রব্বিগফির লি ওয়া লিওয়ালিদাইয়া ওয়ালিমান দাখালা বাইতিয়া মু’মিনা।
❂ অর্থ: হে আমার রব, আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং যে মুমিন হয়ে আমার ঘরে প্রবেশ করে তাকে ক্ষমা করুন।(৭১:২৮)

১২. বিপদে ইউনুস (আ.)-এর দোয়া:
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
আরবি:
لَا إِلَٰهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
❂ উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ্জালিমিন।
❂ অর্থ: আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, আপনি পবিত্র। নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।(২১:৮৭)

১৩. মুমিনদের ক্ষমার দোয়া:
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
আরবি:
رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا
❂ উচ্চারণ: রব্বানা লা তুয়াখিজনা ইন নাসিনা আও আখতা’না।
❂ অর্থ: হে আমাদের রব, আমরা ভুলে গেলে বা ভুল করলে আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না।(২:২৮৬)

১৪. বোঝা হালকা করার দোয়া:
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
আরবি:
رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا
❂ উচ্চারণ: রব্বানা ওয়ালা তাহমিল আলাইনা ইসরান।
❂ অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের উপর এমন বোঝা চাপিয়ে দেবেন না যেমন পূর্ববর্তীদের উপর দিয়েছিলেন।(২:২৮৬)

১৫. শক্তির বাইরে দায়িত্ব না দেওয়ার দোয়া:
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
আরবি:
رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ
❂ উচ্চারণ: রব্বানা ওয়ালা তুহাম্মিলনা মা লা তাকাতা লানা বিহি।
❂ অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের এমন দায়িত্ব দেবেন না যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই।(২:২৮৬)

১৬. ক্ষমা ও সাহায্যের দোয়া:
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
আরবি:
وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا
❂ উচ্চারণ: ওয়া’ফু আন্না ওয়াগফির লানা ওয়ারহামনা।
❂ অর্থ: আমাদের ক্ষমা করুন, আমাদেরকে মাফ করুন এবং আমাদের উপর দয়া করুন।(২:২৮৬)

১৭. ধৈর্যের দোয়া:
▬▬▬▬▬▬▬▬☞
আরবি:
رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا
❂ উচ্চারণ: রব্বানা আফরিগ আলাইনা সাবরা ওয়া সাব্বিত আকদামানা।
❂ অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের উপর ধৈর্য ঢেলে দিন এবং আমাদের পা দৃঢ় রাখুন।(২:২৫০)

১৮. ক্ষমা ও রহমতের দোয়া:
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
আরবি:
رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا
❂ উচ্চারণ: রব্বানাগফির লানা জুনুবানা।
❂ অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের গুনাহ ক্ষমা করুন।(৩:১৬)

১৯. হৃদয়ে ঈমান স্থির রাখার দোয়া:
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
আরবি:
رَبَّنَا لَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِّلَّذِينَ آمَنُوا
❂ উচ্চারণ: রব্বানা লা তাজআল ফি কুলুবিনা গিল্লান লিল্লাজিনা আমানু।
❂ অর্থ: হে আমাদের রব, ঈমানদারদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না।(৫৯:১০)

২০. উত্তম পরিণতির দোয়া:
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
আরবি:
تَوَفَّنِي مُسْلِمًا وَأَلْحِقْنِي بِالصَّالِحِينَ
❂ উচ্চারণ: তাওয়াফফানি মুসলিমা ওয়া আলহিকনি বিস সালিহীন।
❂ অর্থ: আমাকে মুসলিম অবস্থায় মৃত্যু দিন এবং আমাকে সৎ লোকদের সাথে মিলিয়ে দিন।(১২:১০১)

❑ কোরআনের দোয়া (২১–৩০):
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
২১. আরবি:
رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا ۖ إِنَّكَ أَنتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
❂ উচ্চারণ: রব্বানা তাকাব্বাল মিন্না, ইন্নাকা আন্তাস সামীউল আলীম।
❂ অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের কাছ থেকে (এ আমল) কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।(সূরা আল-বাকারা ২:১২৭)

২২. আরবি:
▬▬▬▬▬▬☞
رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِن ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُّسْلِمَةً لَّكَ
❂ উচ্চারণ: রব্বানা ওয়াজআলনা মুসলিমাইনি লাকা ওয়া মিন যুররিয়্যাতিনা উম্মাতাম মুসলিমাতাল্লাক।
❂ অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদেরকে আপনার অনুগত মুসলিম বানান এবং আমাদের বংশধরদের মধ্য থেকেও একটি অনুগত জাতি বানান।
(সূরা আল-বাকারা ২:১২৮)

২৩. ইস্তিগফারের দোয়া (রিজিক বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ):
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
আরবি:
رَّبِّ اغْفِرْ لِي وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
❂ উচ্চারণ: রব্বিগফিরলি ওয়াতুব আলাইয়া ইন্নাকা আংতাত-তাওয়াবুর রহিম।
❂ অর্থ: হে আমার প্রতিপালক, আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার তওবা কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি তওবা গ্রহণকারী, পরম দয়ালু।

২৪. আরবি:
▬▬▬▬▬▬☞
رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا
❂ উচ্চারণ: রব্বানা লা তুযিগ কুলুবানা বা‘দা ইয হাদাইতানা।
❂ অর্থ: হে আমাদের রব, আপনি আমাদেরকে হেদায়েত দেওয়ার পর আমাদের হৃদয়কে বক্র করবেন না।(সূরা আলে ইমরান ৩:৮)

২৫. আরবি:
▬▬▬▬▬☞
رَبَّنَا إِنَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا
❂ উচ্চারণ: রব্বানা ইন্নানা আমান্না ফাগফির লানা জুনুবানা।
❂ অর্থ: হে আমাদের রব, আমরা ঈমান এনেছি; অতএব আমাদের গুনাহ ক্ষমা করুন।(সূরা আলে ইমরান ৩:১৬)

২৬. আরবি:
▬▬▬▬▬☞
رَبَّنَا آمَنَّا بِمَا أَنزَلْتَ وَاتَّبَعْنَا الرَّسُولَ
❂ উচ্চারণ: রব্বানা আমান্না বিমা আনযালতা ওয়াত্তাবা‘নার রাসূল।
❂ অর্থ: হে আমাদের রব, আপনি যা নাযিল করেছেন আমরা তাতে ঈমান এনেছি এবং আমরা রাসুলের অনুসরণ করেছি।(সূরা আলে ইমরান ৩:৫৩)

২৭. আরবি:
▬▬▬▬▬☞
رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَإِسْرَافَنَا فِي أَمْرِنَا
❂ উচ্চারণ: রব্বানাগফির লানা জুনুবানা ওয়া ইসরাফানা ফি আমরিনা।
❂ অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের গুনাহ এবং আমাদের কাজে সীমালঙ্ঘন ক্ষমা করুন।(সূরা আলে ইমরান ৩:১৪৭)

২৮. আরবি:
▬▬▬▬▬☞
رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَٰذَا بَاطِلًا سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
❂ উচ্চারণ: রব্বানা মা খালাকতা হাযা বাতিলা সুবহানাকা ফাকিনা আযাবান নার।
❂ অর্থ: হে আমাদের রব, আপনি এগুলো অনর্থক সৃষ্টি করেননি। আপনি পবিত্র; অতএব আমাদের আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।(সূরা আলে ইমরান ৩:১৯১)

২৯. আরবি:
▬▬▬▬▬☞
رَبَّنَا إِنَّكَ مَن تُدْخِلِ النَّارَ فَقَدْ أَخْزَيْتَهُ
❂ উচ্চারণ: রব্বানা ইন্নাকা মান তুদখিলিন্নারা ফাকদ আখযাইতাহু।
❂ অর্থ: হে আমাদের রব, আপনি যাকে আগুনে প্রবেশ করান তাকে অবশ্যই অপমানিত করেছেন।(সূরা আলে ইমরান ৩:১৯২)

৩০. আরবি:
▬▬▬▬▬☞
رَبَّنَا إِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِيًا يُنَادِي لِلْإِيمَانِ
❂ উচ্চারণ: রব্বানা ইন্নানা সামি‘না মুনাদিয়ান ইউনাদি লিল ইমান।
❂ অর্থ: হে আমাদের রব, আমরা এক আহ্বানকারীকে ঈমানের দিকে আহ্বান করতে শুনেছি, তাই আমরা ঈমান এনেছি।(সূরা আলে ইমরান ৩:১৯৩)

❑ কোরআনের দোয়া (৩১–৪০):
৩১. আরবি:
▬▬▬▬▬▬▬☞
رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا
❂ উচ্চারণ: রব্বানা ফাগফির লানা জুনুবানা ওয়া কাফ্ফির আন্না সাইয়্যিআতিনা।
❂ অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের গুনাহ ক্ষমা করুন এবং আমাদের পাপসমূহ দূর করে দিন।(সূরা আলে ইমরান ৩:১৯৩)

৩২. আরবি:
▬▬▬▬▬☞
وَتَوَفَّنَا مَعَ الْأَبْرَارِ
❂ উচ্চারণ: ওয়া তাওয়াফ্ফানা মা‘আল আবরার।
❂ অর্থ: এবং আমাদেরকে সৎকর্মশীলদের সাথে মৃত্যু দিন।(সূরা আলে ইমরান ৩:১৯৩)

৩৩. আরবি:
▬▬▬▬▬☞
رَبَّنَا وَآتِنَا مَا وَعَدتَّنَا عَلَىٰ رُسُلِكَ
❂ উচ্চারণ: রব্বানা ওয়া আতিনা মা ওয়া‘আদতানা ‘আলা রুসুলিক।
❂ অর্থ: হে আমাদের রব, আপনার রাসুলদের মাধ্যমে আপনি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা আমাদেরকে দান করুন।(সূরা আলে ইমরান ৩:১৯৪)

৩৪. আরবি:
▬▬▬▬▬☞
وَلَا تُخْزِنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ
❂ উচ্চারণ: ওয়ালা তুখযিনা ইয়াওমাল কিয়ামাহ।
❂ অর্থ: এবং কিয়ামতের দিন আমাদের অপমানিত করবেন না।(সূরা আলে ইমরান ৩:১৯৪)

৩৫. আরবি:
▬▬▬▬▬☞
رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَتَوَفَّنَا مُسْلِمِينَ
❂ উচ্চারণ: রব্বানা আফরিগ ‘আলাইনা সাবরান ওয়া তাওয়াফ্ফানা মুসলিমীন।
❂ অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের উপর ধৈর্য ঢেলে দিন এবং আমাদেরকে মুসলিম হিসেবে মৃত্যু দিন।
(সূরা আল-আরাফ ৭:১২৬)

৩৬. আরবি:
▬▬▬▬▬☞
رَبِّ نَجِّنِي مِنَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ
উচ্চারণ: রব্বি নাজ্জিনি মিনাল কওমিজ্জালিমিন।
অর্থ: হে আমার রব, আমাকে জালিম সম্প্রদায় থেকে রক্ষা করুন।(সূরা আল-কাসাস ২৮:২১)

৩৭. আরবি:
▬▬▬▬▬☞
رَبِّ أَنزِلْنِي مُنْزَلًا مُّبَارَكًا
❂ উচ্চারণ: রব্বি আনযিলনি মুনযালাম মুবারাকা।
❂ অর্থ: হে আমার রব, আমাকে বরকতময় স্থানে অবতরণ করান।(সূরা আল-মুমিনুন ২৩:২৯)

৩৮. আরবি:
▬▬▬▬▬☞
رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ
❂ উচ্চারণ: রব্বি আউযু বিকা মিন হামাযাতিশ শায়াতীন।
❂ অর্থ: হে আমার রব, আমি শয়তানদের কুমন্ত্রণা থেকে আপনার আশ্রয় চাই।
(সূরা আল-মুমিনুন ২৩:৯৭)

৩৯. আরবি:
▬▬▬▬▬☞
وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَن يَحْضُرُونِ
❂ উচ্চারণ: ওয়া আউযু বিকা রব্বি আইয়্যাহদুরুন।
❂ অর্থ: এবং হে আমার রব, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই যেন তারা আমার কাছে উপস্থিত না হয়।
(সূরা আল-মুমিনুন ২৩:৯৮)

৪০. আরবি:
▬▬▬▬▬▬☞
رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ
❂ উচ্চারণ: রব্বি আওযি‘নি আন আশকুরা নি‘মাতাকাল্লাতি আন‘আমতা আলাইয়্যা।
❂ অর্থ: হে আমার রব, আমাকে অনুপ্রাণিত করুন যাতে আমি আপনার সেই নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা আদায় করতে পারি যা আপনি আমাকে দান করেছেন।(সূরা আন-নামল ২৭:১৯)

— আমিন, আল্লাহুম্মা আমিন🤲
পোস্টটি ভালো লাগলে সদকায়ে জারিয়ার উদ্দেশ্য শেয়ার করে দিন, আল্লাহ আপনাকে ইসলামের জন্য কবুল করুন (আমিন)🤲❤️

Address

Dhaka
১৩৪০

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Al-Quran Guidance Academy posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share