02/11/2025
▌জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত নারীগণ
মুসলিমদের মধ্যে অনেকেই সাহাবী পুরুষদের জান্নাতের সুসংবাদের কথা জানেন, কিন্তু নারীদের মধ্যে এমন সাহাবিয়াও আছেন যাদেরকে নবী ﷺ সরাসরি জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন। তাঁদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ—
১ খাদিজা বিনতে খুয়াইলদ (রাঃ)
রাসূল ﷺ–এর প্রথম স্ত্রী। ইসলামের প্রথম সমর্থক ও সাহসী চরিত্রের অধিকারী।
«اقرأ عليها السلام من ربها عز وجل ومني وبشرها ببيت في الجنة لا صخب فيه ولا نصب»
“আপনি খাদিজাকে তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এবং আমার পক্ষ থেকে সালাম জানিয়ে দিন এবং তাঁকে জান্নাতে এমন এক গৃহের সুসংবাদ দিন, যেখানে থাকবে না কোনো শব্দের কোলাহল, থাকবে না কোনো কষ্ট।” সহীহ বুখারি (হাদিস: 3820), সহীহ মুসলিম (হাদিস: 2432)
২ ফাতিমা (রাঃ) রাসূল ﷺ–এর প্রিয় কন্যা। তাঁর ধৈর্য, ইবাদত ও আনুগত্য তাঁকে জান্নাতের সেরা নারীর মর্যাদা দিয়েছে।
«فاطمة سيدة نساء أهل الجنة»
“ফাতিমা হলো জান্নাতের নারীদের নেত্রী।” সহীহ তিরমিজী (হাদিস: 3805)
৩ উম্মু সুলাইম (রাঃ) আনাস ইবন মালিক (রাঃ)–এর মা। মক্কার হিজরতকালে নবী ﷺ–কে নিজের সন্তান আনাসকে উপহার দেন।
«دخلت الجنة فسمعت خشفةً فقلت: من هذا؟ قالوا: هذه العمیصاء بنت ملحان أم أنس بن مالك»
“আমি জান্নাতে প্রবেশ করলাম, হঠাৎ কারো পদধ্বনি শুনতে পেলাম। জিজ্ঞেস করলাম, এটি কার? বলা হলো, উম্মু সুলাইম।” সহীহ বুখারি (হাদিস: 3750), সহীহ মুসলিম (হাদিস: 2420)
৪ উম্মু জাফর (রাঃ) তিনি মৃগীরোগে ভুগতেন। ধৈর্য ধারণের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ।
«أتصبرين ولك الجنة»
“তুমি যদি ধৈর্য ধারণ করো তবে তোমার জন্য জান্নাত।” সহীহ বুখারি (হাদিস: 5683), সহীহ মুসলিম (হাদিস: 2400)
৫ উম্মু হারাম বিনতে মিলহান (রাঃ) আনাস ইবন মালিক (রাঃ)–এর খালা।
«أول جيش من أمتي يغزون البحر قد أوجبوا»
“আমার উম্মতের প্রথম বাহিনী যারা সমুদ্রপথে যুদ্ধ করবে, তাদের জন্য জান্নাত অবধারিত।” তিনি প্রশ্ন করেন: আমি কি তাদের মধ্যে থাকব? নবী ﷺ উত্তর দিলেন: “হ্যাঁ, তুমি তাদের মধ্যে থাকবে।” সহীহ বুখারি (হাদিস: 2907)
৬ নুসাইবা বিনতে কা’ব (উম্মু উমারা, রাঃ) উহুদ যুদ্ধে সাহসিকতার পরিচয়।
«اللهم اجعلهم رفقائي في الجنة»
“হে আল্লাহ! তাঁদের জান্নাতে আমার সঙ্গী বানিয়ে দাও।” সহীহ মুসলিম (হাদিস: 1730)
৭ রুবাইয়্যি বিনতে মু’আজ (রাঃ)
হুদায়বিয়ার সময় শাজারা বায়আতে অংশ নেন।
«لا يدخل النار أحد ممن بايع تحت الشجرة»
“যারা গাছের নিচে বায়আত করেছে, তাদের কেউই জাহান্নামে প্রবেশ করবে না।” সহীহ বুখারি (হাদিস: 3197), সহীহ মুসলিম (হাদিস: 1820)
৮ সুমাইয়া বিনতে খায়্যাত (রাঃ)
ইসলামের প্রথম শহীদা, ইয়াসির (রাঃ)–এর স্ত্রী।
«صبرا آل ياسر فإن موعدكم الجنة»
“ধৈর্য ধারণ করো হে ইয়াসির পরিবার! তোমাদের জন্য জান্নাত নির্ধারিত।” সহীহ বুখারি (হাদিস: 2941), সহীহ মুসলিম (হাদিস: 1812)
৯ আয়িশা (রাঃ) রাসূল ﷺ–এর স্ত্রী, বিদ্বান ও জ্ঞানী।
«هذه زوجتك في الدنيا والآخرة»
“এটাই আপনার স্ত্রী, দুনিয়া ও আখিরাতে।” সহীহ বুখারি (হাদিস: 3890), সহীহ মুসলিম (হাদিস: 2320)
১০ উম্মু রুমান (রাঃ) আবু বকর (রাঃ)–এর স্ত্রী, আয়েশার মা।
«من أحب أن ينظر إلى امرأة من الحور العين فلينظر إلى أم رومان»
“যে ব্যক্তি জান্নাতের হুরে-আইনদের একজনকে দেখতে চায়, সে যেন উম্মু রুমানের দিকে তাকায়।” সহীহ তিরমিজী (হাদিস: 3898)
১১. ফাতিমা বিনতে আসাদ (রাঃ)
আলী ইবন আবি তালিব (রাঃ)–এর মা। প্রথম দিককার মুহাজিরা।
«إن جبريل أخبرني عن ربي عز وجل أنها من أهل الجنة»
“জিবরাইল আমাকে জানিয়েছেন, তিনি জান্নাতের অধিবাসীদের অন্তর্ভুক্ত।” সহীহ বুখারি (হাদিস: 3755), সহীহ মুসলিম (হাদিস: 2410)
১২ হাফসা বিনতে উমর (রাঃ) উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)–এর কন্যা, নবী ﷺ–এর স্ত্রী।
«إنها صوامة قوامة، وإنها زوجتك في الجنة»
“তাঁকে তালাক দেবেন না, তিনি সিয়াম ও কিয়ামের অভ্যাসকারী এবং জান্নাতে আপনার স্ত্রী।” সহীহ বুখারি (হাদিস: 3810), সহীহ মুসলিম (হাদিস: 2425)
রাসূল ﷺ চারজন মহীয়সী নারীর শ্রেষ্ঠত্ব বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন:
• খাদিজা (রাঃ)
• ফাতিমা (রাঃ)
• আসিয়া বিনতে মুজাহিম (ফিরআউনের স্ত্রী)
• মরিয়ম বিনতে ইমরান
আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁদের অনুসরণ করার তাওফিক দান করুন এবং জান্নাতুল ফিরদাউসে তাঁদের সঙ্গী বানান। আমিন।