হজ উমরাহ জ্ঞানকোষ

হজ উমরাহ জ্ঞানকোষ Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from হজ উমরাহ জ্ঞানকোষ, Religious organisation, South Keraniganj, Dhaka.

হজ উমরাহ তথ্য ও সচেতনতা একটি ইসলামিক সচেতনতামূলক পেইজ, যেখানে হজ ও উমরাহ সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় জ্ঞান, মাসআলা-মাসায়েল, দোয়া, সুন্নাহ, ভ্রমণ নির্দেশনা, সৌদি আরবের নিয়ম-কানুন এবং হাজীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা হয়।

🌙 থানিয়াতুল ওয়াদা — বিদায়ের গিরিপথমদিনায় থানিয়াতুল ওয়াদা (Thaniyat al-Wada) নামে একটি স্থান রয়েছে।থানিয়াহ অর্থ প...
13/08/2026

🌙 থানিয়াতুল ওয়াদা — বিদায়ের গিরিপথ

মদিনায় থানিয়াতুল ওয়াদা (Thaniyat al-Wada) নামে একটি স্থান রয়েছে।

থানিয়াহ অর্থ পাহাড়ি গিরিপথ বা পাহাড়ের পথ, আর আল-ওয়াদা অর্থ বিদায়।

ঐতিহাসিক বর্ণনায় জানা যায়, মদিনা থেকে কোনো যাত্রী বের হলে তাকে বিদায় জানাতে স্বজন ও পরিচিতরা কিছুদূর পর্যন্ত সঙ্গে যেতেন। এরপর এই গিরিপথের কাছে এসে তারা বিদায় নিয়ে নিজ নিজ ঘরে ফিরে যেতেন, আর যাত্রী তার সফর অব্যাহত রাখতেন।

অনেক আগের সেই দৃশ্যটি কল্পনা করা সহজ—

কেউ মদিনা ছেড়ে চলে যাচ্ছে।
পরিবারের লোকজন তার পাশে হাঁটছে।

গিরিপথে এসে শেষ বিদায়।
তারপর একদল ফিরে যাচ্ছে…
আর অন্যজন নিজের সফর অব্যাহত রাখছে।

তবে এই স্থানটির প্রতি আমার আগ্রহের আরও একটি বিশেষ কারণ রয়েছে।

থানিয়াতুল ওয়াদা শুধু পরবর্তী ঐতিহাসিক বর্ণনায় পাওয়া একটি নাম নয়; রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজেও একটি সহিহ হাদিসে এই স্থানটির নাম উল্লেখ করেছেন।

আর আশ্চর্যের বিষয় হলো, সেই হাদিসটি বিদায় জানানোর বিষয়ে নয়; বরং মদিনাকে ঘিরে ভবিষ্যতের একটি ঘটনার বর্ণনা।

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

“মানুষ মদিনা ছেড়ে চলে যাবে, যদিও তখন মদিনা সর্বোত্তম অবস্থায় থাকবে। সেখানে বন্য পাখি ও হিংস্র প্রাণী ছাড়া আর কেউ বসবাস করবে না। সর্বশেষে মদিনায় মৃত্যুবরণ করবে মুযাইনা গোত্রের দুই রাখাল। তারা তাদের ভেড়াগুলো নিয়ে মদিনার দিকে আসবে। কিন্তু সেখানে কাউকে না পেয়ে যখন তারা থানিয়াতুল ওয়াদার উপত্যকায় পৌঁছাবে, তখন তারা উপুড় হয়ে পড়ে মৃত্যুবরণ করবে।”

— সহিহ আল-বুখারি, হাদিস ১৮৭৪

এই হাদিসে স্থানটির নাম আল-ওয়াদা কেন হয়েছে, তা বলা হয়নি। একইভাবে, প্রাচীনকালে এখানে বিদায় জানানোর যে প্রচলন ছিল, সেটিও হাদিসটির বিষয় নয়।

তবে হাদিসটি আমাদের একটি বিস্ময়কর বিষয় জানায়—

রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সময়েই থানিয়াতুল ওয়াদা একটি পরিচিত স্থাননাম ছিল, এবং তিনি মদিনাকে ঘিরে ভবিষ্যতের একটি ঘটনা বর্ণনা করতে এই স্থানটির নাম উল্লেখ করেছেন।

আজ কোটি কোটি মানুষ ইবাদত ও ভালোবাসা নিয়ে মদিনায় আসেন।

অথচ রাসূলুল্লাহ ﷺ এমন এক সময়ের কথা আমাদের জানিয়েছেন, যখন মদিনা জনশূন্য হয়ে যাবে।

আজকের পরিচিত, প্রাণবন্ত মদিনাকে কল্পনা করা সত্যিই কঠিন—

মানুষশূন্য একটি মদিনা… 🤍

📍 থানিয়াতুল ওয়াদা, মদিনা

সূত্র: সহিহ আল-বুখারি, হাদিস ১৮৭৪

্রশিক্ষণ
েতনতা
#হজের_আদব
#হজে_মাবরুর
#হজে_মাসায়েল
#মদিনাতুল_মুনাওয়ারা
#মদিনা_ইতিহাস

🕋 মক্কার প্রাচীনতম ছবিগুলো (২) | ১৫০ বছর আগে কাবা শরিফ ও আবু কুবাইস পাহাড় 📸 — ১২৯৭ হিজরিমক্কা মুকাররমা ও মসজিদুল হারামে...
13/08/2026

🕋 মক্কার প্রাচীনতম ছবিগুলো (২) | ১৫০ বছর আগে কাবা শরিফ ও আবু কুবাইস পাহাড় 📸 — ১২৯৭ হিজরি

মক্কা মুকাররমা ও মসজিদুল হারামের প্রাচীনতম ঐতিহাসিক আলোকচিত্রের ধারাবাহিকতা আপনাদের সঙ্গে অব্যাহত রাখছি। আজ আমরা এমন একটি চমৎকার ও ঐতিহাসিক ছবির সামনে দাঁড়াচ্ছি, যাতে রয়েছে অসাধারণ সব বিবরণ।

এটি আলোকচিত্রী মুহাম্মদ সাদিক বেই-এর অ্যালবামের ৩ নম্বর ছবি। ছবিটিতে তাঁর প্রচলিত আরবি স্বাক্ষর রয়েছে এবং এর তারিখ ১২৯৭ হিজরি (১৮৮০ খ্রিস্টাব্দ)। ধারণা করা হয়, ছবিটি আসরের সময় মসজিদুল হারামের পশ্চিম দিক থেকে—অর্থাৎ বাবুল উমরাহর দিক থেকে তোলা হয়েছিল।

ছবিতে কাবা শরিফকে নতুন গিলাফে আবৃত অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। মাতাফে তুলনামূলকভাবে বেশ কিছু মানুষের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়। ছবিতে চিহ্নিত স্থানগুলো হলো—

(১) লাগোয়া বাড়িঘর: বাবুস সাফার দিক থেকে মসজিদুল হারামের দেয়ালের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত বাড়িগুলো দেখা যাচ্ছে।

(২) হানবলি মাকাম: নামাজরত মুসল্লিদের রোদ থেকে রক্ষা করার জন্য এর চারপাশে কাপড়ের ছাউনি দেওয়া ছিল।

(৩) বাইত বদীওয়ান: আবু কুবাইস পাহাড়ের উঁচু স্থানে, মসজিদে বিলালের নিচে অবস্থিত একটি বাড়ি।

(৪) মসজিদে বিলাল: বিখ্যাত আবু কুবাইস পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত মসজিদটি ছবিতে শুধু নিচের অংশে দেখা যাচ্ছে; মিনারটি ছবির ফ্রেমে আসেনি।

(৫) খাসকিয়া পরিবারের বাড়িঘর: সাধারণ সড়কের পাশে, মাসআ-এর সঙ্গে সংযোগস্থলে অবস্থিত বড় বড় বাড়িগুলো। এগুলো সুলতান আবদুল হামিদ তাঁর পরিবারের জন্য নির্মাণ করেছিলেন।

(৬) বাবু আলীর মিনার: কাবা শরিফের পেছনে ছবির মাঝামাঝি অংশে স্পষ্টভাবে উঁচু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

(৭) আহমদ ইয়াকানের বাড়ি (পরবর্তীতে বানাজা বাড়ি): হিজরি ১২২৮ (১৮১৩ খ্রিস্টাব্দ) সালে হিজাজের গভর্নর আহমদ ইয়াকান এটি নির্মাণ করেন। ছবিতে এর পুরোনো কাঠের জানালা, উপরের ত্রিভুজাকৃতির অলংকরণ এবং ছাদের চারপাশে কোনো আড়াল না থাকার বিষয়টি লক্ষ্য করা যায়। পরবর্তীতে ১৩০১ হিজরি / ১৮৮৪ খ্রিস্টাব্দে এটি শেখ আবদুল্লাহ বানাজার কাছে বিক্রি করা হয়। তিনি বাড়িটি সংস্কার করে এর বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করেন।

(৮) পাশের বাড়ি: আগের বাড়িটির পাশের ভবনটি। তখনও এতে বড় আকারের কাঠের জানালা বা রাওশান তৈরি হয়নি।

📸 দৃশ্যের প্রতিটি বিবরণ আমাদের ১৯শ শতাব্দীর মসজিদুল হারামের পরিবেশের এক অসাধারণ চিত্র তুলে ধরে।

#মক্কা_মুকাররমা #মসজিদুল_হারাম #ইসলামী_ইতিহাস #ঐতিহাসিক_ছবি #মক্কার_ইতিহাস #মুহাম্মদ_সাদিক #কাবা_শরিফ 🕋

🕋 তাওয়াফ শুরুর চিহ্ন — হাজরে আসওয়াদের বরাবর অবস্থান নির্ধারণের নির্দেশিকাপবিত্র কাবা শরিফকে ঘিরে তাওয়াফ একটি মহান ইবা...
13/08/2026

🕋 তাওয়াফ শুরুর চিহ্ন — হাজরে আসওয়াদের বরাবর অবস্থান নির্ধারণের নির্দেশিকা

পবিত্র কাবা শরিফকে ঘিরে তাওয়াফ একটি মহান ইবাদত। এটি একটি নির্দিষ্ট স্থান থেকে শুরু হয় এবং পরপর ৭টি চক্কর সম্পন্ন করতে হয়। প্রতিটি চক্কর শেষ হয় হাজরে আসওয়াদের বরাবর এসে।

মাতাফে প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে অনেক ওমরাহ পালনকারী বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন—কোথা থেকে চক্কর শুরু করবেন এবং কীভাবে বুঝবেন যে আবার শুরুর স্থানে পৌঁছেছেন?

তাই মসজিদুল হারামে থাকা নির্দেশনামূলক চিহ্নগুলো সম্পর্কে জানা গুরুত্বপূর্ণ। তবে শরিয়তের দৃষ্টিতে মূল বিষয় হলো হাজরে আসওয়াদের বরাবর থাকা। সবুজ আলো ও অন্যান্য নির্দেশনা মূলত স্থানটি চিনতে সাহায্য করার জন্য ব্যবহৃত হয়।

🟢 প্রথমত: সবুজ আলো — একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

💚 হাজরে আসওয়াদের বিপরীত দিকে সবুজ আলো দেখা যায়। তাওয়াফের সময় এটি হাজরে আসওয়াদের বরাবর অবস্থান চিহ্নিত করতে সহায়তা করে।

🧭 এই চিহ্নের কাছে পৌঁছালে আপনি সেই অবস্থানে পৌঁছে গেছেন, যেখান থেকে একটি চক্কর শুরু ও শেষ হয়।

⚠️ তবে সবুজ আলোর কাছে পৌঁছে হঠাৎ দাঁড়িয়ে যাবেন না বা অন্য তাওয়াফকারীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করবেন না। তাওয়াফ হলো চলমান ইবাদত—শুধু একটি চিহ্নের কাছে দাঁড়িয়ে থাকার বিষয় নয়।

🏁 দ্বিতীয়ত: একটি চক্কর কোথা থেকে শুরু হয়?

🕋 হাজরে আসওয়াদের বরাবর থেকে একটি চক্কর শুরু হয়। এরপর কাবা শরিফকে বাম পাশে রেখে তাওয়াফ করতে করতে আবার একই স্থানে ফিরে আসলে একটি চক্কর পূর্ণ হয়।

🔄 আবার হাজরে আসওয়াদের বরাবর পৌঁছালে একটি পূর্ণ চক্কর সম্পন্ন হয়েছে।

7️⃣ এভাবে মোট ৭টি পূর্ণ চক্কর সম্পন্ন করতে হবে।

📌 মনে রাখতে হবে, শুধু কাবার কাছাকাছি দিয়ে অতিক্রম করলেই একটি চক্কর গণনা হয় না; বরং শুরু ও শেষের ক্ষেত্রে হাজরে আসওয়াদের বরাবর অবস্থান সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরি।

🤲 তৃতীয়ত: হাজরে আসওয়াদের বরাবর পৌঁছালে কী করবেন?

🖐️ যদি কোনো ধরনের ধাক্কাধাক্কি বা অন্যকে কষ্ট না দিয়ে হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ বা চুম্বন করা সম্ভব হয়, তাহলে তা করা উত্তম।

👋 কিন্তু ভিড়ের কারণে কাছে যাওয়া সম্ভব না হলে ধাক্কাধাক্কি করবেন না। বরং দূর থেকে হাত দিয়ে ইশারা করে “আল্লাহু আকবার” বলুন এবং তাওয়াফ চালিয়ে যান।

🚫 হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করার জন্য কোনো মুসলিমকে কষ্ট দেওয়া বা তাওয়াফকারীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা উচিত নয়।

❤️ কারণ মুসলিমদের সম্মান রক্ষা করা এবং তাদের সঙ্গে কোমল আচরণ করাও ইবাদতের সৌন্দর্যের অংশ।

🔄 চতুর্থত: কীভাবে ৭টি চক্করের সংখ্যা ঠিক রাখবেন?

🔢 চক্কর গণনার জন্য নিজের একটি সহজ পদ্ধতি ঠিক করে নিন:

1️⃣ প্রথম চক্কর হাজরে আসওয়াদ থেকে শুরু হয়ে সেখানেই শেষ হবে।

2️⃣ এরপর দ্বিতীয়, তৃতীয়—এভাবে সপ্তম চক্কর পর্যন্ত।

📿 মনে মনে গণনা করতে পারেন অথবা মনে রাখার উপযোগী কোনো সহজ পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন। তবে তাওয়াফের সময় মোবাইল ফোন বা ছবি তোলায় অতিরিক্ত ব্যস্ত না হওয়াই ভালো।

⚠️ চক্করের সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ হলে কোনো আলেম, গাইড বা বিশ্বস্ত জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তির পরামর্শ নিন। অনুমানের ভিত্তিতে শরিয়তের বিধান নির্ধারণ করবেন না।

🛑 পঞ্চমত: কিছু সাধারণ ভুল থেকে সাবধান

🚫 হাজরে আসওয়াদের সামনে হঠাৎ দাঁড়িয়ে যাওয়া।

🚫 হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ বা চুম্বনের জন্য ধাক্কাধাক্কি করা।

🚫 তাওয়াফকারীদের চলার বিপরীত দিকে চলা।

🚫 ছবি তোলা নিয়ে অতিরিক্ত ব্যস্ত হয়ে ইবাদতের খুশু-খুজু নষ্ট করা।

🚫 মনে করা যে সবুজ আলোই শরিয়তের বিধান নির্ধারণ করে। এটি শুধু একটি নির্দেশনামূলক চিহ্ন; মূল বিষয় হলো হাজরে আসওয়াদের বরাবর অবস্থান।

🚫 তাওয়াফকারী ও নামাজরত ব্যক্তিদের বিরক্ত হয় এমনভাবে সম্মিলিত উচ্চস্বরে দোয়া করা।

🎯 গাইড হিসেবে পরামর্শ:

🧭 একটি সহজ নিয়ম মনে রাখুন:

হাজরে আসওয়াদ হলো তাওয়াফের শুরুর স্থান; আর সবুজ আলো হলো সেই স্থান চিনতে সাহায্যকারী একটি নির্দেশনা।

💚 হাজরে আসওয়াদ পাওয়ার জন্য ছুটবেন না এবং এমনভাবে কাছে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না যাতে আপনার খুশু নষ্ট হয় বা অন্য কেউ কষ্ট পায়।

🚶‍♂️ তাওয়াফকারীদের সঙ্গে শান্তভাবে একই দিকে চলুন। হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ বা চুম্বন করতে না পারলে দূর থেকে ইশারা করে তাকবির বলুন এবং কোনো ধরনের ধাক্কাধাক্কি ছাড়াই তাওয়াফ চালিয়ে যান।

👨‍👩‍👧‍👦 বয়স্ক ব্যক্তি বা শিশুদের সঙ্গে থাকলে তাদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যকে অগ্রাধিকার দিন। অতিরিক্ত ভিড়ের এলাকায় যাওয়ার চেষ্টা করবেন না।

📜 গাইড হিসাবে বিশেষ পরামর্শ:

“ভিড়কে আপনার তাওয়াফের সৌন্দর্য নষ্ট করতে দেবেন না। হাজরে আসওয়াদে পৌঁছানোকে এমন কোনো কারণ বানাবেন না, যার কারণে অন্য কেউ কষ্ট পায়। কারণ তাওয়াফ হলো অনুসরণ, বিনয়, খুশু ও কোমল আচরণের ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি ইবাদত। মাতাফে প্রবেশের আগে নির্দেশনাগুলো জেনে নিন, শুরুর স্থানটি বুঝে নিন; এরপর আপনার হৃদয়কে এই ঘরের রবের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখুন।”

গাইড হিসাবে —হজ ও ওমরাহর আপনার সহায়ক—এর মাধ্যমে আমরা চেষ্টা করি, যেন প্রত্যেক ওমরাহ পালনকারী জানেন কোথা থেকে শুরু করবেন, কীভাবে চলবেন, কী করবেন এবং কোন বিষয়গুলো এড়িয়ে চলবেন; যাতে তিনি বিভ্রান্তি ও অতিরিক্ত ভিড় থেকে দূরে থেকে জ্ঞান ও প্রশান্তির সঙ্গে তাঁর ইবাদত সম্পন্ন করতে পারেন।

#হারামাইন_জিয়ারত_গাইড
্রশিক্ষণ
েতনতা
#হজে_মাসায়েল
#কাবা_শরীফ
#হারাম_শরীফ
#সাফা_মারওয়া

🏚️ উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর পরিবারের ‘খোখা’ (জানালা)✍️ মসজিদে নববীতে প্রায় ১৪০০ বছর ধরে খোলা একটি জানা...
10/08/2026

🏚️ উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর পরিবারের ‘খোখা’ (জানালা)

✍️ মসজিদে নববীতে প্রায় ১৪০০ বছর ধরে খোলা একটি জানালা—এর পেছনের ঘটনা কী?

এই জানালাটি আমাদের মা ও উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর হুজরার বিপরীত দিকে অবস্থিত বলে বর্ণনা করা হয়।

ঘটনাটি এভাবে বলা হয়—

হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর খিলাফতের সময় মসজিদে নববী সম্প্রসারণের প্রয়োজন দেখা দেয়। এই সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে তাঁর কন্যা, উম্মুল মুমিনীন হযরত হাফসা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর হুজরাটিও সম্প্রসারণের অন্তর্ভুক্ত করে তা অপসারণের প্রয়োজন হয়।

কিন্তু হযরত হাফসা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) এতে সম্মত হননি। তাঁর হুজরাটি ছিল রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সমাধি মোবারকের পাশেই; মাঝখানে কেবল একটি দেয়াল ছিল। রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর দাফনস্থল থেকে দূরে সরে যাওয়ার বিষয়টি তিনি মেনে নিতে পারেননি।

তাঁকে রাজি করানোর সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয়।

এরপর তাঁর ভাই হযরত আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁকে এমন একটি বাড়ি দেওয়ার প্রস্তাব দেন, যে বাড়িটি এই জানালার অবস্থানে ছিল এবং পবিত্র নবীজি ﷺ-এর হুজরার দিকে মুখ করে ছিল।

তখন হযরত হাফসা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) শর্ত দেন—সেখানে এমন একটি জানালা রাখা হবে, যেখান থেকে পবিত্র নবীজি ﷺ-এর হুজরার দিকে দেখা যায় এবং সেটি কখনো বন্ধ করা হবে না।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এতে সম্মতি দেন।

বর্ণনা অনুযায়ী, সেই সময় থেকেই এই জানালাটি খোলা রয়েছে। পরবর্তী মুসলিম খলিফারাও এটিকে বন্ধ না করার ব্যাপারে যত্নবান ছিলেন।

এই জানালাটিকে বলা হয়—

🏚️ “খোখাতু আলে উমর” (خوخة آل عمر) — অর্থাৎ উমর পরিবারের জানালা।

#মদিনা_ইতিহাস
#রওজাতুল_জান্নাহ
#রিয়াজুল_জান্নাহ
#সীরাতে_নববী
েতনতা

🕋 মক্কার প্রাচীনতম ছবিগুলো (৭) | ১৩০১ হিজরি (১৮৮৪ খ্রি.) সালে মসজিদুল হারামের পূর্ব পাশের প্রকৃত ইতিহাস উন্মোচনকারী স্থা...
10/08/2026

🕋 মক্কার প্রাচীনতম ছবিগুলো (৭) | ১৩০১ হিজরি (১৮৮৪ খ্রি.) সালে মসজিদুল হারামের পূর্ব পাশের প্রকৃত ইতিহাস উন্মোচনকারী স্থাপত্যগত প্রমাণ 📜📸

মক্কা মুকাররমা ও মসজিদুল হারামের প্রাচীনতম নথিভুক্ত ছবিগুলোর ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা আমরা অব্যাহত রাখছি। আজ আমরা মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামের পূর্ব পাশের একটি বিরল ছবির সামনে দাঁড়িয়েছি, যার মধ্যে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ও সূক্ষ্ম ঐতিহাসিক বিশ্লেষণের উপাদান।

গবেষক বদর আল-হাজ্জ ছবিটি প্রকাশ করেন এবং এটি একজন অজ্ঞাতনামা আলোকচিত্রীর তোলা বলে উল্লেখ করেন। তিনি ছবিটির সময়কাল ১২৯৭ হিজরি (১৮৮০ খ্রি.) নির্ধারণ করেছিলেন। কিন্তু ছবির বিভিন্ন স্থাপত্য ও দৃশ্যের সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ থেকে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, ছবিটি ১৩০১ হিজরি (১৮৮৪ খ্রি.)-এর পর তোলা হয়েছে। আমাদের ধারণা, এটি মক্কার চিকিৎসক ও আলোকচিত্রী সাইয়্যিদ আবদুল গাফফার-এর তোলা হতে পারে।

ছবিটিতে আমরা দেখতে পাই—

(১) পবিত্র কাবা ও বাবু বানু শাইবা:
ছবির মাঝখানে পবিত্র কাবা শরিফ এবং তার পাশে মাতাফ প্রাঙ্গণে ঐতিহাসিক বাবু বানু শাইবার খিলান দেখা যাচ্ছে।

(২) নতুন মাকামে হাম্বলি:
১৩০১ হিজরি (১৮৮৪ খ্রি.) সালে মাতাফের চারপাশের কাঠামোর মধ্যে এর অবস্থান পরিবর্তন ও সংস্কারের পর নতুন অবস্থানে মাকামে হাম্বলির স্থানটি দেখা যাচ্ছে।

(৩) সাকায়া ও ঘড়ির দুই গম্বুজের অনুপস্থিতি:
১৩০১ হিজরি (১৮৮৪ খ্রি.) সালে আনুষ্ঠানিকভাবে অপসারণের পর মাতাফ প্রাঙ্গণে সাকায়া ও ঘড়ির সেই দুই গম্বুজ আর দেখা যাচ্ছে না।

(৪) বাইত বানাজাহ ও এর সংস্কার:
ভবনটি সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের পরের অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। ১৩০১ হিজরি (১৮৮৪ খ্রি.) সালে এর বিশাল রওশনও পরিবর্তন করা হয়েছিল।

(৫) মাদরাসা বাইত আল-কুতবি ও বাবু আলীর মিনার:
হারামের বারান্দাগুলোর পেছনে ঐতিহাসিক ভবনগুলো এবং সুউচ্চ মিনারটি স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।

(৬) আবু কুবাইস পাহাড় ও মসজিদে বিলাল:
আবু কুবাইস পাহাড়টি দেখা যাচ্ছে, যার ঢালে থাকা বাড়িগুলো হারামের দিকে মুখ করে আছে। পাহাড়ের ওপর অবস্থিত মসজিদে বিলালও দৃশ্যমান।

(৭) খন্দামা পাহাড়:
আবু কুবাইস পাহাড়ের পেছনে দিগন্তে খন্দামা পাহাড় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

📜 পুরোনো ছবির সূক্ষ্ম স্থাপত্যগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে ইতিহাসের পাঠ—যা প্রাচীন ছবিগুলোর রহস্য উন্মোচন করে এবং তাদের সময়কাল সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণাগুলো সংশোধন করতে সাহায্য করে।

#মক্কা_মুকাররমা
#কাবা_শরিফ
#মসজিদুল_হারাম
#মক্কা_ইতিহাস

ছবিটা একটু খেয়াল করে দেখুন।সবাই হাঁটছে।কিন্তু প্রত্যেকের প্রতিটি পদক্ষেপের অর্থ আলাদা।কারও জন্য…এটি সেই পথচলা, যে পথ ধরে...
07/08/2026

ছবিটা একটু খেয়াল করে দেখুন।

সবাই হাঁটছে।
কিন্তু প্রত্যেকের প্রতিটি পদক্ষেপের অর্থ আলাদা।

কারও জন্য…
এটি সেই পথচলা, যে পথ ধরে হাঁটার স্বপ্ন তিনি বছরের পর বছর ধরে দেখেছেন।

কারও জন্য…
এটি জীবনে প্রথমবার মসজিদুল হারাম দেখার মুহূর্ত।

আবার কারও জন্য…
এটি বাড়ি ফেরার আগে পবিত্র এই ভূমিতে তাঁর শেষ পথচলা।

দূর থেকে দেখলে…
তাদের সবাইকে একই জনসমুদ্রের অংশ মনে হয়।

কিন্তু একমাত্র আল্লাহই জানেন…

কত দোয়া… কত অপেক্ষা…
আর কত আশা…

প্রতিটি পদক্ষেপকে এই পবিত্র স্থানে পৌঁছে দিয়েছে।

🤍

পবিত্র কাবা শরিফের দরজার ডান পাশে আটটি বিরল মার্বেলের টুকরা রয়েছে, যা শাযরাওয়ান-এর ওপর স্থাপন করা হয়েছে। শাযরাওয়ান হ...
07/08/2026

পবিত্র কাবা শরিফের দরজার ডান পাশে আটটি বিরল মার্বেলের টুকরা রয়েছে, যা শাযরাওয়ান-এর ওপর স্থাপন করা হয়েছে। শাযরাওয়ান হলো কাবার নিচের দেয়ালের সঙ্গে লাগানো ঢালু অংশ।

যদিও অনেক তাওয়াফকারী এগুলোর পাশ দিয়ে চলে যান এবং খেয়াল করেন না, তবুও এগুলো কাবার আশপাশে অবশিষ্ট থাকা প্রাচীন ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোর অন্যতম।

▪️ ঐতিহাসিক সূত্রগুলো থেকে জানা যায়, এসব মার্বেলের টুকরা আব্বাসীয় খিলাফতের একজন খলিফার পক্ষ থেকে মসজিদুল হারামের তাওয়াফের স্থান সংস্কারের সময় উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। একটি টুকরার নিচে এ সম্পর্কিত একটি ঐতিহাসিক শিলালিপিও পাওয়া গেছে।

▪️ প্রাচীনকালে এসব মার্বেল “মা‘জান” নামক একটি স্থানে ছিল, যা তাওয়াফের স্থান থেকে কিছুটা নিচু ছিল।

▪️ “মা‘জান” নামটি দেওয়ার কারণ হিসেবে ইতিহাসবিদরা উল্লেখ করেছেন যে, হযরত ইবরাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.) কাবা নির্মাণের সময় সেখানে মাটি মাখতেন। তবে এটি একটি প্রচলিত ঐতিহাসিক নাম, এর পক্ষে কোনো শরয়ি প্রমাণ নেই।

▪️ মক্কার কয়েকজন ইতিহাসবিদ আরও বর্ণনা করেছেন যে, এই স্থানেই জিবরাইল (আ.) নবী ﷺ-কে নামাজ ফরজ হওয়ার পর নামাজ শিক্ষা দিয়েছিলেন। এই বর্ণনাটি ইতিহাসবিদদের উল্লেখ করা একটি তথ্য; এটি কোনো সহিহ হাদিস নয়। তাই ঐতিহাসিক বর্ণনা ও শরয়ি দলিলের মধ্যে পার্থক্য রাখা জরুরি।

▪️ ১৩৭৭ হিজরিতে তাওয়াফকারীদের অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে “মা‘জান” স্থানটি ভরাট করে দেওয়া হয় এবং মার্বেলের টুকরাগুলো বর্তমান স্থানে—কাবার দরজার ডান পাশে—স্থাপন করা হয়, যাতে তা সেই ঐতিহাসিক স্থানের স্মারক হিসেবে থেকে যায়।

🚫 এসব মার্বেলের টুকরার কোনো বিশেষ ফজিলত প্রমাণিত নয়। এগুলো স্পর্শ করা, চুম্বন করা, গায়ে হাত বুলানো বা বিশেষভাবে সেখানে দাঁড়িয়ে দোয়া করার কোনো শরয়ি বিধান নেই। এগুলোর মূল্য ঐতিহাসিক ও স্থাপত্যগত; এগুলো ইবাদতের কোনো স্বতন্ত্র অংশ নয়।

সুবহানাল্লাহ! যিনি এই বরকতময় ঘরকে সংরক্ষণ করেছেন এবং এর সঙ্গে যুগ যুগ ধরে চলে আসা ইতিহাসের নিদর্শনগুলোও সংরক্ষণ করেছেন।

#কাবা_শরিফ
#মসজিদুল_হারাম
#মক্কা_মুকাররমা

মক্কার পাহাড়গুলোর মাঝে, মিনা প্রান্তরে জামরায়ে আকাবা আল-কুবরার পূর্ব দিকে অবস্থিত মসজিদে বাইআত এমন এক ঐতিহাসিক ঘটনার সা...
07/08/2026

মক্কার পাহাড়গুলোর মাঝে, মিনা প্রান্তরে জামরায়ে আকাবা আল-কুবরার পূর্ব দিকে অবস্থিত মসজিদে বাইআত এমন এক ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী, যা উম্মাহর ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তন করেছে।

এখানেই আনসারগণ রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর হাতে আকাবার বাইআত করেছিলেন। তারা তাঁকে সাহায্য ও সমর্থনের অঙ্গীকার করেছিলেন। এই বরকতময় বাইআতই ছিল হিজরতে নববী এবং ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সূচনার অন্যতম প্রধান কারণ।

এটি এমন এক স্থান, যার দেয়াল শুধু কোনো স্থাপনার গল্প বলে না; বরং বলে আনুগত্য, ঈমান ও ত্যাগের এমন এক কাহিনি, যা ইতিহাসের ধারা বদলে দিয়েছে।

﴿আর যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে, আর যারা আশ্রয় দিয়েছে ও সাহায্য করেছে—তারাই প্রকৃত মুমিন।﴾
(সূরা আল-আনফাল: ৭৪)

হে আল্লাহ! আমাদেরকে এই বরকতময় স্থানগুলো জিয়ারতের সৌভাগ্য দান করুন এবং আমাদের অন্তরকে ঈমানে অটল রাখুন, যেমন আপনি আপনার নবী ﷺ-এর সাহাবিদের অন্তরকে দৃঢ় করেছিলেন। 🤍🕌

#মক্কা_মুকাররমা
#মসজিদ_বাইআত
#আকাবার_বাইআত
#সীরাতে_নববী
#ইসলামি_ইতিহাস
#মক্কা
#মক্কা_ইতিহাস

🌙 যে কূপ সংরক্ষণ করে রেখেছে দুটি অসাধারণ ইতিহাস…মসজিদে কুবা থেকে অল্প কিছু দূর হাঁটলেই এমন একটি কূপ পাওয়া যায়, যার গুরুত...
07/08/2026

🌙 যে কূপ সংরক্ষণ করে রেখেছে দুটি অসাধারণ ইতিহাস…

মসজিদে কুবা থেকে অল্প কিছু দূর হাঁটলেই এমন একটি কূপ পাওয়া যায়, যার গুরুত্ব অনেক হাজি-যাত্রী না জেনেই পার হয়ে যান।

এটি বীরে আরিস (Bi’r Aris) নামে পরিচিত, যা পরবর্তীতে “কূপের আংটি” (The Well of the Ring) নামে প্রসিদ্ধ হয়।

প্রথম দেখায় এটি সাধারণ একটি কূপের মতোই মনে হয়।

কিন্তু এই স্থান ইসলামের ইতিহাসের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী হয়ে আছে।

একদিন রাসূলুল্লাহ ﷺ বীরে আরিসে এসে কূপের কিনারায় বসেছিলেন এবং তাঁর পা কূপের ভেতরে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন।

সাহাবি আবু মুসা আল-আশ‘আরী (রা.) কূপের প্রবেশপথে পাহারা দিচ্ছিলেন। এমন সময় আবু বকর (রা.) এসে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন:

“তাকে প্রবেশের অনুমতি দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও।”
(সহিহ বুখারি)

কিছুক্ষণ পর উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) এলেন।
আবারও রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন:

“তাকে প্রবেশের অনুমতি দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও।”
(সহিহ বুখারি)

এরপর উসমান ইবন আফফান (রা.) এলেন।
এবার রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন:

“তাকে প্রবেশের অনুমতি দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও, তবে তার ওপর একটি পরীক্ষা আসবে।”
(সহিহ বুখারি)

বছরের পর বছর পরে সেই ভবিষ্যদ্বাণী সত্যে পরিণত হয়।

খিলাফতের সময়ে উসমান (রা.) তাঁর ঘর দীর্ঘদিন অবরোধের মধ্যে থাকার পরও মুসলমানদের মধ্যে রক্তপাত এড়ানোর জন্য ধৈর্য ধারণ করেন। তিনি নিজের পক্ষ থেকে যুদ্ধ করতে কাউকে অনুমতি দেননি। অবশেষে তিনি কুরআন তিলাওয়াতরত অবস্থায় শাহাদাত বরণ করেন।

তবে এই কূপ আরেকটি কারণেও বিখ্যাত হয়ে ওঠে।

রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর একটি রুপার আংটি ছিল, যাতে খোদাই করা ছিল:

“মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ”

রাসূল ﷺ-এর ইন্তেকালের পর আংটিটি প্রথমে আবু বকর (রা.), এরপর উমর (রা.) এবং পরে উসমান (রা.)-এর কাছে আসে।

একদিন উসমান (রা.) যখন বীরে আরিসের পাশে বসেছিলেন, তখন অসাবধানতাবশত আংটিটি তাঁর হাত থেকে পড়ে কূপের মধ্যে চলে যায়।

তারা অনেক খোঁজাখুঁজি করলেন…

বারবার অনুসন্ধান করলেন…

কিন্তু আংটিটি আর কখনো পাওয়া যায়নি।
(সহিহ মুসলিম)

সেই দিন থেকে অনেক মানুষ এই স্থানকে “কূপের আংটি” (The Well of the Ring) নামে অভিহিত করতে শুরু করেন।

আজও বীরে আরিস মসজিদে কুবা থেকে অল্প দূরে অবস্থিত এবং নীরবে ইসলামের ইতিহাসের এই স্মরণীয় ঘটনাগুলোর সাক্ষ্য বহন করে চলেছে।

#মদিনা_ইতিহাস
#জান্নাতুল_বাকি
#সাল্লাল্লাহু_আলাইহি_ওয়া_সাল্লাম

🤍

⚠️ প্রথমবার মদিনায় যাচ্ছেন? যাওয়ার আগে এটি অবশ্যই পড়ুন।মদিনায় আপনার প্রথম সফর হবে জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় অভিজ্ঞতাগু...
06/08/2026

⚠️ প্রথমবার মদিনায় যাচ্ছেন? যাওয়ার আগে এটি অবশ্যই পড়ুন।

মদিনায় আপনার প্রথম সফর হবে জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। সফরটিকে আরও সহজ, সুন্দর ও অর্থবহ করতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ—

✅ স্বামী-স্ত্রী আগে থেকেই মিলিত হওয়ার একটি স্থান নির্ধারণ করুন

পুরুষ ও নারীদের জন্য মসজিদে নববীতে প্রবেশের আলাদা গেট রয়েছে।

হোটেল থেকে একসঙ্গে এলেও মসজিদের কাছে এসে আপনাদের আলাদা গেট দিয়ে প্রবেশ করতে হতে পারে।

📍 তাই ভেতরে যাওয়ার আগে এমন একটি নির্দিষ্ট স্থান ঠিক করে নিন, যেখানে নামাজের পর আবার দেখা করবেন।



✅ রওযাতুল জান্নাহ (রিয়াজুল জান্নাহ) জিয়ারতের পরিকল্পনা আগে থেকেই করুন

পুরুষ ও নারীদের জন্য রওযায় প্রবেশের সময়সূচি আলাদা। তাই আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রাখুন।

ভেতরে থাকার সময় সাধারণত খুবই সীমিত।

🤲 রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি সালাম পেশ করুন।

🕌 সুযোগ থাকলে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করুন।

❤️ আন্তরিকভাবে দোয়া করুন এবং বেশি বেশি দরুদ শরীফ পাঠ করুন।

অমূল্য সেই সময়টি কী করবেন—এটি ভাবতে ভাবতেই যেন শেষ না হয়ে যায়।



✅ পুরুষদের জন্য: অন্তত একবার ছাদে (Rooftop) নামাজ আদায় করুন

“To Roof” লেখা নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

ছাদের পরিবেশ শান্ত, নির্মল ও মনোমুগ্ধকর। বিশেষ করে ফজর, মাগরিব ও ইশার সময় এখানকার আবহ অসাধারণ।



✅ মসজিদে নববীর বাইরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোও ঘুরে দেখুন

নামাজের মধ্যবর্তী অবসর সময়ে হারাম এলাকার আশপাশে হাঁটতে পারেন।

📍 সবুজ গম্বুজ (Green Dome) — গেট ৩০১–৩০৮ অথবা ৩৫৬–৩৬৯

📍 জান্নাতুল বাকি — গেট ৩৬২ ও ৩৬৪

📍 সাকিফা বানু সাঈদাহ — গেট ৩২২ ও ৩২৬

📍 মসজিদে গামামাহ — গেট ৩০৬–৩০৮

📍 মসজিদে আবু বকর (রা.) — গেট ৩০৮

📍 মসজিদে আলী (রা.) — গেট ৩০৫ ও ৩০৬

📍 মসজিদে উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) — গেট ৩১০

📍 আস-সাফিয়্যাহ মিউজিয়াম ও পার্ক — গেট ৩০৩ ও ৩০৪ (প্রবেশমূল্য প্রযোজ্য)



✅ মসজিদে নববীর ভেতরের বিনামূল্যের দুটি জাদুঘর ঘুরে দেখুন

অনেকেই জানেন না যে, এখানে দুটি বিনামূল্যে দর্শনযোগ্য জাদুঘর রয়েছে।

📖 কুরআন মিউজিয়াম

📍 গেট ২১ বা ২২ (বাব উসমান)

🆓 সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।

📜 দুর্লভ কুরআনের পাণ্ডুলিপি প্রদর্শনী

📍 গেট ৩৬৮–৩৬৯-এর নিকটবর্তী বেজমেন্টে।

🆓 সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।



✅ কিছু সময় ধীর হয়ে উপভোগ করুন

ফজরের পরে… অথবা মাগরিবের আগে…

মসজিদের চত্বরে কোথাও বসে বিশাল ছাতাগুলো (Umbrellas) খোলা বা বন্ধ হওয়ার দৃশ্য দেখুন।

জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলো অনেক সময় এমনই সহজ ও নীরব হয়।



✅ কেনাকাটা করতে চাইলে

🛍️ বিন দাউদ (BinDawood) ও তাইবা কমার্শিয়াল সেন্টার

→ গেট ৩৩০-এর নিকটে।

🛍️ লুলু হাইপারমার্কেট (Lulu Hypermarket)

→ গেট ৩১০-এর নিকটে। (এস্কেলেটর দিয়ে বেজমেন্টে নামতে হবে।)



েতনতা
#হজের_আদব
#মদিনাতুল_মুনাওয়ারা
#মদিনা_ইতিহাস
#মসজিদে_নববী
#রওজা_শরীফ
#রিয়াজুল_জান্নাহ
#জান্নাতুল_বাকি
#সাল্লাল্লাহু_আলাইহি_ওয়া_সাল্লাম

Address

South Keraniganj
Dhaka
1310

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when হজ উমরাহ জ্ঞানকোষ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share