05/06/2026
~~স্ক্রল কইরেন না বোন.. প্লিজ ২ মিনিট সময় হবে?
আজ আমি আমার *দোয়া কবুলের গল্প* শোনাবো... কষ্ট হলেও সবাই পরবেন প্লিজ..! যে গল্প শুনে হয়তো আপনার তাহাজ্জুদের জায়নামাজ ভিজে যাবে..
*"আমার দোয়া কবুলের গল্প — আলহামদুলিল্লাহ আলা কুল্লি হাল"*
আসসালামু আলাইকুম ইয়া উখতি ফিল্লাহ 🤍
অনেক বোন আমার দোয়া কবুলের গল্পটা জানতে চেয়েছো। আজকে তোমাদের সেই গল্পটাই শোনাচ্ছি, যে গল্পের প্রতিটা লাইনে আমার রবের রহমত লেগে আছে।
*আমার স্বপ্নটা কী ছিলো?*
ছোটবেলা থেকে আমার খুব ইচ্ছে ছিলো একজন হাফেজ-আলেমকে বিয়ে করবো। যে ফজরে ডেকে তুলবে, যে আমার হাত ধরে জান্নাতে নিয়ে যাবে। দাওরা পরীক্ষা দেওয়ার পর আব্বু-ভাইয়া অনেক ছেলে খুঁজেছেন। যেহেতু আমার হুজুর পছন্দ, আব্বু বলতেন, *"আমার মেয়ের বিরুদ্ধে যাবো না, হুজুরের কাছেই বিয়ে দিবো।"*
সাত-আট মাস ছেলে দেখা হলো, কিন্তু কাউকেই মন থেকে পছন্দ হয় না। একদিন ভাইয়া আব্বুকে বললেন, "যতগুলো আলেম দেখলাম, সবাই মধ্যবিত্ত। এখন সরকারি চাকরিজীবী অথবা প্রবাসী ছেলে দেখা যাক।" আব্বুও রাজি হয়ে গেলেন। এমনকি ইতালি থাকে এমন একটা প্রস্তাবও এসেছিলো।
*ওই রাতটা আমি জীবনেও ভুলবো না।*
এটা শুনে আমার কলিজা ফেটে গেছে। সারাত বালিশ ভিজায় কাঁদছি। মনে হচ্ছিলো, আমার স্বপ্নটা বুঝি শেষ। তখন থেকেই আমি আমার রবকে আঁকড়ে ধরলাম।
*আমার হাতিয়ার ছিলো কী?*
প্রতিদিন তাহাজ্জুদ। প্রতিদিন দুই রাকাত সালাতুল হাজত। আর একটাই দোয়া—
*"ইয়া আল্লাহ, আমার জন্য যদি কোনো হাফেজ-আলেম কল্যাণকর না হয়, তাহলে আমার মন থেকে এই চাওয়াটা উঠায় নাও। আর যদি কল্যাণকর হয়, তাহলে এমন এক প্রস্তাব পাঠাও যেটা আর্থিকভাবেও ভালো হয়, আমার আব্বু-ভাইয়ার মন মতো হয়, আবার আমারও মন মতো হয়। ইয়া মুজিবু, তুমি তো 'কুন' বললেই হয়ে যায়।"*
*তারপর আমার রব কী করলেন?*
আল্লাহ এমন একটা প্রস্তাব পাঠালেন, যা আমার কল্পনারও বাইরে। ছেলে হাফেজ, মাওলানা, মুফতি। আলিয়া থেকে আলিম ফাজিল পাস। আবার তার *তিনটা নিজের দ্বীনি প্রতিষ্ঠানও* আছে সুবহানাল্লাহ। সবদিক দিয়ে পারফেক্ট।
আমার শ্বশুর ব্যবসায়ী, তারা ভাইয়রা সরকারি চাকরি করে আমাদের থেকে অনেক বেশি ধনী। ময়মনসিংহ সিটির মাঝে তাদের সাড়ে তিনশ কাঠা জমি। কুটি কুটি টাকার মালিক.. আমার শশুর... আর আমাদের গ্রামে আব্বুর আছে নব্বই একশো কাঠা। তাদের সাথে আমাদের আকাশ-পাতাল তফাৎ।
আব্বু-ভাইয়ার একটাই ভয় ছিলো, তারা আমাদের পছন্দ করবে তো? সবাই বলছিলো, "এখানে যদি বিয়ে হয় তাহলে তোমার ভাগ্য।"
*কিন্তু পরীক্ষা তো এখানেই শেষ না বোন...*
আমার লাইফে প্রথম কেউ দেখেতে আসছে খুবি নার্বাস ছিলাম, এরপর তারা আমাকে দেখতে এলো। আলহামদুলিল্লাহ, আমাকে তাদের খুব পছন্দ হলো। বাড়িতে গিয়েও বলল পছন্দ হয়েছে। কিন্তু এরপর না তারা না করে, না কথাটা সামনে আগায়। এক সপ্তাহ, দুই সপ্তাহ... নীরবতা।
যেহেতু তাদের দিক থেকে কোনো কথা আসছে না, ভাবি আমার হাসবেন্ডের আইডিতে মেসেজ দিলেন। দুই দিন মেসেজ দেওয়ার পরেও কোনো রেসপন্স নেই। তখন আমি অবাক হলাম। এই যুগে এমন ছেলে পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।
এরপর ভাবি নাম্বারে কল দিলেন। ভাবি বললেন, "আপনাদের পছন্দ না হলে না করে দিন, এভাবে ঝুলিয়ে রাখছেন কেন?"
তখন সে বলল, *"আস্তাগফিরুল্লাহ, বোন। আমাকে পছন্দ হয়েছে, কিন্তু আমাদের একটু সময় লাগবে। পারিবারিক কিছু ঝামেলা আছে। আর আমি চাই না আমার জন্য আপনার ননদের অন্য কোথাও বিয়ের কথা হোক।"*
*আর তার তাকওয়ার লেভেল শুনবেন?*
পরে ভাবি আমার নাম্বার দিলেন। কিন্তু সে বলল, *"আমি তার সাথে হারাম ভাবে এক মিনিটও কথা বলতে চাই না। আমি তাকে স্ত্রী হিসেবে পেতে চাই, গুনাহের সাথী হিসেবে না। তার জন্য আমার রবের কাছে চাইবো।"*
সে আমার জন্য প্রতিদিন তাহাজ্জুদ পড়তো। মাদ্রাসার এতিম ছাত্রদের দিয়ে কুরআন খতম করাতো যেনো আমাকে পায়। *সোম-বৃহস্পতি রোজাও রেখেছে* আমাকে পাওয়ার জন্য। এমন জীবনসঙ্গী কোন মেয়ে না চাইবে?
দুইজন দুই দিক থেকে দোয়া করতাম। দুজনের চাওয়া হালাল ছিলো, নিয়ত শুদ্ধ ছিলো দেখে আল্লাহ আমাদের দোয়া কবুল করেছেন।
*তিন মাসের সবর... আর মানুষের কটু কথা...*
তিন মাস চলে যাচ্ছে, তারা কিছুই বলে না। পরে জানা গেলো, আমাকে তাদের খুব পছন্দ হয়েছে, কিন্তু আমাদের গ্রামের পরিবেশ দেখে তার পরিবারের কেউ কেউ রাজি হচ্ছিলো না। আমাদের এলাকার কেউ নাকি আমাদের ব্যাপারে খারাপ মন্তব্য করেছিলো।
আমাকে দেখার পর তারা আরও চার-পাঁচটা মেয়ে দেখেছে, কিন্তু কাউকে পছন্দ হয়নি। এমনকি সে তিন বছর ধরে মেয়ে দেখতেছে কাওকেই পছন্দ হয় নি আমাকেই পছন্দ হয়ছে তাদের প্রথম.. কিন্তু আমাদের গ্রামের পরিবেশ তাদের পছন্দ হয় নি..
তবুও আমি হাল ছাড়িনি। প্রতিদিন তাহাজ্জুদে উঠে জায়নামাজ ভিজায় কাঁদতাম আর বলতাম,
*"ইয়া আল্লাহ, আপনি ইউসুফ আ.-কে কূপ থেকে বের করে মিশরের আজিজ বানাইছেন। আপনি মুসা আ.-এর জন্য সমুদ্রে রাস্তা বানাইছেন। আমার জন্য কি এই বিয়েটা সহজ করতে পারেন না? যদি কল্যাণকর হয়, তবে 'কুন ফায়াকুন' করে দাও। আর যদি কল্যাণকর না হয়, তবে আমার কলিজা থেকে তার নামটা মুছে দাও।"*
কত রাত জেগে কেঁদেছি, এই নীরব রাত আর আমার জায়নামাজ সাক্ষী।
*আর তারপর 'কুন ফায়াকুন' হয়ে গেলো...*
হঠাৎ একদিন ভাইয়াকে ফোন দিয়ে বলল, *"ভাই, আপনাদের এখান থেকে মানুষ পাঠান, আমরা কাবিন করবো। আমার সবর শেষ। আমি আর হারামে থাকতে পারবো না।"*
আলহামদুলিল্লাহ সুম্মা আলহামদুলিল্লাহ, এরপর আমাদের এখান থেকে মানুষ গিয়ে কাবিন হয়।
*আমার রব আমাকে কতটা সম্মান দিয়েছেন শুনবেন?*
আমার আব্বুর কাছে তারা *একটা সুতাও* যৌতুক চায়নি। উল্টো আমার শ্বশুর সাড়ে চার ভরি স্বর্ণ দিয়ে আমাকে সাজিয়ে এনেছেন। তাদের একটাই চাওয়া ছিলো— বিয়ের অনুষ্ঠানটা বড় করে করতে হবে, যেন সবাই জানে এটা হালাল সম্পর্ক। শ্বশুরবাড়ি থেকে তিনশ মানুষ আসবে বলেছিলো। আমার আব্বু ভালোবেসে সাতশ মানুষের আয়োজন করেছিলেন।
অবশেষে জানুয়ারির ২৩ তারিখ আমাদের বিয়ে হয়।
*আমার সব ইচ্ছা পূরণ...*
আমার খুব ইচ্ছে ছিলো মসজিদে খেজুর ছিটিয়ে বিয়ে হবে, সাদা পোশাকে বিয়ে হবে। আলহামদুলিল্লাহ, আমার রব আমার কোনো ইচ্ছাই অপূর্ণ রাখেননি। *মসজিদে আকদ হয়েছে, খেজুর ছিটানো হয়েছে, আর আমি ছিলাম সাদা কাপড়ে।* মনে হচ্ছিলো আমি জান্নাতের হুর।
আলহামদুলিল্লাহ, আমি যা চেয়েছি আল্লাহ আমাকে তার চেয়ে হাজার গুণ বেশি দিয়েছেন। আমার হাসবেন্ড, শ্বশুর-শাশুড়ি— তাদের মতো মানুষ পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। তাকে পেয়ে আমি সত্যিই জিতে গেছি। কারণ সে যত্নবান, দায়িত্বশীল, চরিত্রবান একজন পুরুষ। *সে আমার স্বামী হওয়ার আগে আমার দ্বীনের রাহবার হয়েছে।*
---
# # # *এই গল্প থেকে আমি যা শিখেছি বোনেরা — এগুলো সোনার হরফে লিখে রাখো:*
১. *দোয়া কখনো বৃথা যায় না*: আল্লাহ দেরিতে দিতে পারেন, সবর আর পরীক্ষা নিতে পারেন, কিন্তু বান্দাকে খালি হাতে ফেরান না। সুরা বাকারা ১৮৬ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, *"আমার বান্দারা যখন তোমাকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, তখন বলে দাও আমি তো কাছেই আছি। আমি দোয়া কবুল করি দোয়াকারীর, যখন সে আমাকে ডাকে।"*
২. *তাহাজ্জুদ মুমিনের মিরাজ*: রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আল্লাহ প্রথম আসমানে নেমে আসেন। বলেন, "কে আছো আমাকে ডাকবে, আমি সাড়া দেবো? কে আছো আমার কাছে চাইবে, আমি দেবো?" *সেই সময়ের চোখের পানি দিয়ে যা চাইবে, আরশ কাঁপিয়ে হলেও আল্লাহ তা কবুল করেন।*
৩. *ইস্তিখারা আর কল্যাণের দোয়া করো*: শুধু "আল্লাহ এটা দাও" না বলে বলবে, *"ইয়া আল্লাহ, যদি এটা আমার দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য কল্যাণকর হয় তবেই দিও। আর না হলে আমার মন থেকে এটা উঠায় নাও এবং যা কল্যাণকর তা দিয়ে আমার অন্তরকে খুশি করে দাও।"* এতে না পেলেও কষ্ট থাকে না, কারণ তুমি জানো আল্লাহ তোমাকে আরও ভালো কিছু দিবেন।
৪. *হালাল পথে থাকো, বরকত আসবেই*: আমার হাসবেন্ড বিয়ের আগে হারাম কথা বলেনি, হারাম দেখা করেনি। সে সবর করেছে আর শুধু আল্লাহর কাছে চেয়েছে। *রাসূল ﷺ বলেছেন, "যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে কোনো হারাম কাজ ছেড়ে দেয়, আল্লাহ তাকে তার চেয়ে উত্তম কিছু দান করেন।"* [আহমাদ]
৫. *সবর আর তাওয়াক্কুল — মুমিনের অস্ত্র*: তিন মাস কোনো খবর ছিলো না। মানুষের কটু কথা ছিলো, আত্মীয়দের টিটকারি ছিলো। তবুও হতাশ হইনি। *কারণ সূরা আদ-দুহার শেষে আল্লাহ বলেছেন, "আর তোমার রব তোমাকে এত দিবেন যে তুমি খুশি হয়ে যাবে।"* সবরের ফল সবসময় মিষ্টি হয়, শুধু সময় লাগে।
৬. *শুকরিয়া আদায় করো, নেয়ামত বাড়বে*: পাওয়ার পর ভুলে যেয়ো না যে এটা কার দান। *আল্লাহ বলেছেন, "যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের আরও বাড়িয়ে দেবো। আর যদি অকৃতজ্ঞ হও, তবে আমার শাস্তি বড় কঠিন।"* [সুরা ইবরাহিম: ৭] তাই সিজদায় পড়ে থাকো।
৭. *মানুষের কথায় কান দিও না, রবের ফায়সালায় ভরসা রাখো*: লোকে বলেছিলো, "এত বড় ঘর, তোকে নিবে না"। লোকে বলেছিলো, "গ্রামের মেয়ে, হবে না"। কিন্তু আমার রবের ফায়সালা ছিলো অন্য। *মনে রেখো, মানুষের মুখ বন্ধ করতে পারবা না, কিন্তু দুয়ার দরজা বন্ধ হয় না।
বোনেরা আমার, তোমরাও দোয়া করতে থাকো। হঠাৎ করেই একদিন দেখবে, তুমি যতটুকু চেয়েছো আল্লাহ তোমাকে তার চেয়েও বেশি দিয়ে দিয়েছেন।
ইনশাআল্লাহ পাও বা না পাও, আল্লাহর কাছে চাওয়া বন্ধ করো না। কারণ তিনি যখন দেওয়া শুরু করেন, তখন শুকরিয়া আদায় করেও শেষ করতে পারবে না।
*আলহামদুলিল্লাহ আলা কুল্লি হাল — সর্বাবস্থায় আল্লাহর প্রশংসা* 🤍🤲
ফ্রেন্ড লিস্টে থাকা বোন আলেমা জান্নাত আপুর গল্প উনি লিখেছেন।