Sunnah - সুন্নাহ্

Sunnah - সুন্নাহ্ পেজের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কুরআন ও সহিহ সুন্নাহ্ প্রচার করার মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন!

|| আশুরার শুকরিয়া ||১০ই মুহাররম কোন তাজিয়া মিছিলের দিবস নয় কিংবা কোন শোক মাতমের দিবস নয়। বরং এই দিন মুসলিমদের বিজয়ের দিন...
05/08/2022

|| আশুরার শুকরিয়া ||

১০ই মুহাররম কোন তাজিয়া মিছিলের দিবস নয় কিংবা কোন শোক মাতমের দিবস নয়। বরং এই দিন মুসলিমদের বিজয়ের দিন। নাজাত প্রাপ্তির দিন। রব্বে কারিমের শুকরিয়া আদায়ের দিন।

এই বিশেষ দিনে মহান রব্বুল আলামিন ফিরআউন ও তার সৈন্য বাহিনীকে লোহিত সাগরে ডুবিয়ে মূসা (আলাইহিস সালাম) ও তাঁর অনুসারীদেরকে বাঁচিয়েছিলেন, দান করেছিলেন দ্বীন ইসলামের বিজয়। আল্লাহু আকবর! এজন্য মূসা (আ.) এই বিশেষ দিনে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতেন। দিনটি মুহাররম মাসের দশম দিন হওয়ায় একে 'আশুরা' বলা হয়।

আমরা আশুরার দিনে শুকরিয়া আদায় করবো কীভাবে?
_ ইন শা আল্লাহ! পরপর দুইদিন সিয়াম পালনের মাধ্যমে।
-

কবে কবে সিয়াম পালন করতে হবে?
_৯ ও ১০ মুহাররম। আগামী পরশু রবিবার দিবাগত রাতে সাহরী খেয়ে সোমবার এবং সোমবার দিবাগত রাতে সাহরী খেয়ে মঙ্গলবার। এই দু'দিন ইন শা আল্লাহ!

ফজিলত?

১। "রমাদ্বানের পর সর্বোত্তম সিয়াম হচ্ছে মুহাররম মাসের (শাহরুল্লাহ) সিয়াম।" (সহিহ মুসলিম)

২। "নবি করিম (‎ﷺ) মদিনায় আগমন করে দেখতে পেলেন ইহুদিরা আশুরার দিনে সিয়াম পালন করছে।
তিনি (‎ﷺ) বললেন, "এটা কী?" তারা বলল, "এটা একটি ভালো দিন। এ দিনে আল্লাহ তাআলা বণি ইসরাঈলকে তাদের দুশমনের কবল থেকে বাঁচিয়েছেন। তাই মুসা (আ.) সিয়াম পালন করেছেন।"

রাসূলুল্লাহ (‎ﷺ) বললেন, "মুসাকে অনুসরণের ব্যাপারে আমি তোমাদের চেয়ে অধিক হক্বদার। অতঃপর তিনি সিয়াম পালন করেছেন এবং সিয়াম পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। (সহিহ বুখারি)

৩। আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, "আমি রাসূলুল্লাহ (‎ﷺ) কে সিয়াম পালনের জন্য এত অধিক আগ্রহী হতে দেখিনি, যতটা দেখেছি এই আশুরার দিন এবং এই মাসের (অর্থাৎ রমাদান মাসের) সিয়ামের প্রতি।" (সহিহ বুখারি)

৪। রাসূলুল্লাহ (‎ﷺ) বলেন, "আশুরার দিনের সিয়ামের ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, তিনি পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।" (সহিহ মুসলিম)

______

মহান আল্লাহ্‌ আমাদের আশুরার দিনের গুরুত্ব বোঝার ও তদ্বানুযায়ী আমল করার তাওফীক দিন৷ আ-মীন।


#আশুরা
#মুহাররম

10/07/2022

تَقَبَّلَ اللّهُ مِنَّ وَ مِنْكُمْ
তাক্বাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম
ঈদ মুবারক🌙

খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে কোম্পানীর কাজে যায়, স্কুল-কলেজে যায়, নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান-দোকানে যায়..সব কাজ নির্দিষ্ট টাইম মেই...
29/11/2021

খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে কোম্পানীর কাজে যায়, স্কুল-কলেজে যায়, নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান-দোকানে যায়..

সব কাজ নির্দিষ্ট টাইম মেইন্টেন করেই করতে পারে..

কিন্তু নামাযের সময় বিশেষ করে ফজরের নামাযের সময় ”আমার ঘুমটা ভারী”।

আল্লাহ বলেন,

بَلْ تُؤْثِرُونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةُ خَيْرٌ وَأَبْقَى

”বরং তোমরা দুনিয়ার জীবনকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকো, অথচ পরকালই তোমাদের জন্য উত্তম ও স্থায়ী”। (সূরা আ’লা, ১৬-১৭)

© আব্দুল্লাহ আল কাফী মাদানী

সাহ্‌ল ইব্‌নু সা’দ সায়ী’দী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃআল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘আল্লাহ্‌র পথে একদি...
16/11/2021

সাহ্‌ল ইব্‌নু সা’দ সায়ী’দী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,

‘আল্লাহ্‌র পথে একদিন সীমান্ত প্রহরা দেয়া দুনিয়া ও এর উপর যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম। জান্নাতে তোমাদের কারো চিবুক পরিমিত জায়গা দুনিয়া এবং ভূপৃষ্ঠের সমস্ত কিছুর চেয়ে উত্তম। আল্লাহ্‌র পথে বান্দার একটি সকাল বা বিকাল ব্যয় করা দুনিয়া এবং ভূপৃষ্ঠের সব কিছুর চেয়ে উত্তম।’
- সহীহ বুখারী হা/২৮৯২, তিরমিজি ১৬৪৮
▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂
:
:
#সুন্নাহ্_Sunnah (Follow The Messenger of Allah)

❏ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি জান্নাতের মধ্যে ঝুঁকে দেখলাম, অধিকাংশ জান্নাতবাসী দরিদ্র আর আমি জাহান্ন...
11/11/2021

❏ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি জান্নাতের মধ্যে ঝুঁকে দেখলাম, অধিকাংশ জান্নাতবাসী দরিদ্র আর আমি জাহান্নামের দিকে ঝুঁকে দেখলাম, অধিকাংশ জাহান্নামী মহিলা। (বুখারী: ৬৪৪৯)

❏ ধনীদের পাঁচশত বছর পূর্বে দরিদ্রগণ জান্নাতে প্রবেশ করবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দরিদ্র মুহাজিরগণ তাদের সম্পদশালীদের চেয়ে পাঁচশত বছর পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (তিরমিযী: ২৩৫১, সহীহ্)

❏ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন লোকদের নামায পড়াতেন, তখন কিছু লোক ক্ষুধার কারণে (দুর্বলতায়) পড়ে যেতেন, আর তাঁরা ছিলেন আহলে সুফ্ফাহ। এমনকি মরুবাসী বেদুঈনরা বলত, ‘এরা পাগল।’ একদা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায সেরে তাদের দিকে মুখ ফিরালেন, তখন বললেন, ‘‘তোমাদের জন্য আল্লাহর কাছে যা রয়েছে, তা যদি তোমরা জানতে, তাহলে তোমরা এর চাইতেও অভাব ও দারিদ্র্য পছন্দ করতে।’’ (তিরমিযী: ২৩৬৮,সহীহ্)

❏ এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, ‘আল্লাহর কসম! আমি অবশ্য অবশ্যই আপনাকে ভালোবাসি।’ তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘‘তুমি কী বলছ, তা ভেবে দেখ। সে বলল, ‘আল্লাহর কসম! আমি অবশ্য অবশ্যই আপনাকে ভালোবাসি।’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবারও বললেন, ‘‘তুমি কী বলছ, তা ভেবে দেখ। সে পুনরায় বলল, ‘আল্লাহর কসম! আমি অবশ্য অবশ্যই আপনাকে ভালোবাসি।’ একই কথার তিনবার পুনরাবৃত্তি করলে তিনি বললেন, যদি তুমি আমাকে ভালোবেসেই থাকো, তাহলে দারিদ্রের জন্য বর্ম প্রস্তুত রাখো। কেননা, যে আমাকে ভালবাসবে, স্রোত তার শেষ প্রান্তের দিকে যাওয়ার চাইতেও বেশি দ্রুতগতিতে দারিদ্র্য তার নিকট আগমন করবে। (তিরমিযী ২৩৫০,সহীহ্

14/02/2021

যে পাঁচটি কারণে আমি দূরে থাকবো -

১। আমি মুসলিম। এটা আমার স্বকীয়তা। এটাকে বিসর্জন দিয়ে কোন অমুসলিমের বানানো দিবসে গা ভাসাতে যাবো না। আমার গাইরত আছে। ঈমান সায় দেয় না। বিজাতীয় কৃষ্টি কালচার অনুসরণ করে তাদের দলভুক্ত হয়ে আখিরাত হারাতে পারবো না।

২। হালাল - হারামকে পরহেজ করবো। আল্লাহর অবাধ্য হবো না। আল্লাহর অবাধ্য হলে আমারই লস। মালিক ও খালিকের বিধিবিধানকে অগ্রাহ্য করলে আমারই ভরাডুবি। আমি জানি, আল্লাহর অবাধ্য হলে আমার ভেতর থেকে বরকত উঠে যাবে। রহমত উঠে যাবে। নূর চলে যাবে। আল্লাহর গুডলিষ্ট থেকে আমার নাম কাটা যাবে। হারাম উপভোগের কারণে হালাল থেকে বঞ্চিত হতে হবে। হারাম রিলেশনের কারণে হালাল নিয়ামত আটকে যাবে। রিযক সংকুচিত হবে। অন্তরে হতাশা ও অবসাদ ভর করবে। নিজেকে হীন থেকে হীনতর মনে হবে। হৃদয় হবে হিদায়াতশূন্য।

৩। অপব্যয় ও অপচয় থেকে পানাহ চাই। শাইত্বনের ভাই হতে চাই না। আমার হালাল পয়সাকে হারামে খোয়াতে চাই না। হালাল উপার্জনও আল্লাহর তরফ থেকে নিয়ামত। নিয়ামত কেড়ে নিতে আল্লাহর সময় লাগবে না। নিয়ামতের কদর করতে ভুলে যাবো না। হালালে হালাল আনে, হারামে আনে হারাম। গরীব, দুঃখী, অভাবী, সায়েল, মিসকিন, মাসজিদ, মাদ্রাসাসহ জনকল্যাণমুখী অনেক কাজে আমার এই অর্থের হক আছে। তাতে বরকতও আছে। এখানে পয়সা ঢাললে আর-রাজ্জাক অভাবনীয় উৎস থেকে আবারো দুই হাত ভরিয়ে দিবেন। আর হারামে পয়সা ঢাললে মানুষের কাছে হাত পাতা, ঋণ, চুরি, ছিনতাইয়ের মতো লাঞ্চনাকর কাজে আল্লাহ ন্যস্ত করে দিবেন।

৪। গোপন পাপের মতো ঈমান বিধ্বংসী কোনো কাজে জড়ানোর চেয়ে মরে যাওয়াই ভালো। মানুষের ভয়ে গোপনে গুনাহ করছি, অথচ আল্লাহ তায়ালার ভয়ে গুনাহ ছাড়ছি না। আমার ধ্বংসের জন্য এটাই যথেষ্ট যে আমি আল্লাহর দেওয়া নিয়ামত দিয়ে হারামে লিপ্ত হচ্ছি - অথচ ভাবছি তিনি দেখছেন না। আমার হাত, আমার পা, আমার চোখ, আমার জিহবা, আমার সারাদেহই আমার ধ্বংসের জন্য স্বাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট। দুনিয়াতেও এরা আমার বিরুদ্ধে যাবে, কাল কিয়ামতের মাঠেও এরা আমার সর্বনাশ ডেকে আনবে। শরীর আমার, টেনশানও আমার।

৫। মাহাজিরকে আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করবেন না। মাহাজির হলো তারা, যারা নিজের পাপাচারকে প্রচার ও প্রসার করে বেড়ায়। যে গুনাহ গোপনে হয়েছে আল্লাহ চাইলে তা ক্ষমা করে দিতে পারেন। কিন্তু যে গুনাহ করে আমি বন্ধুমহলে স্বাক্ষী রেখেছি, রাস্তাঘাটে দেখিয়ে বেরিয়েছি, লাখো মানুষকে জানান দিয়েছি - সে গুনাহ আমার জন্য সর্বনাশের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। লোকের চোখে আমার পাপ যখন আনন্দের উৎস হয়ে দাঁড়ায়, তখন লোকেরাও এ দেখে আনন্দিত হয়। গুনাহ আর তখন গুনাহ থাকে না। মানুষের মাঝে গুনাহকে সহজ মনে হয়। স্বাভাবিক মনে হয়। সবাই করছে, আমিও করছি ভাব চলে আসে। গুনাহ মার্কেট পেলে সে জাতির সামগ্রিক ভরাডুবি হয়, গুনাহকে আর গুনাহ মনে হয় না। প্রিয় শাইখ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ.) বলতেন, "মানুষের পাপ দেখে আনন্দিত হওয়ার মতো পাপ আর নেই।"

আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল ফিতনাতিদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ!


✸ আর-রাহীম (الرحيم)অর্থঃ অতিশয়-মেহেরবান, অতি দয়ালুআর-রহমান ও আর-রাহীম নামদ্বয় প্রমাণ করে যে, আল্লাহ তা‘আলা পরম দয়াময়, অ...
04/01/2021

✸ আর-রাহীম (الرحيم)

অর্থঃ অতিশয়-মেহেরবান, অতি দয়ালু

আর-রহমান ও আর-রাহীম নামদ্বয় প্রমাণ করে যে, আল্লাহ তা‘আলা পরম দয়াময়, অতি দয়ালু, প্রশস্ত রহমতের অধিকারী; যার রহমত সব কিছুকে বেষ্টন করে রেখেছে এবং সমস্ত সৃষ্টির উপর তাঁর রহমত ব্যাপক ভাবে বিস্তৃত। তাঁর নবী ও রাসূলগণের অনুসারী মুত্তাকীনদের জন্য তিনি তাঁর রহমত লিখে রেখেছেন। তাদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী সুখ-শান্তির স্থানে অবস্থানের নিমিত্তে সর্বময় রহমত। তারা ব্যতীত অন্যরা চিরস্থায়ী পূর্ণ এ রহমত থেকে বঞ্চিত হবে। কেননা তিনি তাদের কাছে এ রহমত প্রেরণ করেছিলেন; কিন্তু তারা এ সংবাদ মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল এবং এর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। তাই তারা নিজেরা শুধু নিজেদেরকেই দোষারোপ করবে।

কুরআন ও সুন্নাহ-এর প্রমাণাদির ভিত্তিতে উম্মাতের সকলের কাছে ঐক্যমত্য মূলনীতি যে, আল্লাহর সমস্ত নাম, তাঁর সকল সিফাত ও সিফাতের যাবতীয় আহকামের উপর ঈমান আনা ফরয। অত:এব, মুমিনরা বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ রহমান ও রাহীম, তিনি অসীম রহমতের অধিকারী, যা রহমত প্রাপ্তদের রহমত সম্পৃক্ত গুণাবলীতে তাঁকে গুণান্বিত করে। অত:এব, বিশ্বের যাবতীয় নি‘আমত তাঁর রহমতেরই প্রভাবে হয়ে থাকে। এমনিভাবে আল্লাহর অন্যান্য সুন্দর নামের ব্যাপারে বলা হবে।

যেমন বলা হবে, তিনি আল-‘আলীম তথা সর্বজ্ঞ, মহাজ্ঞানী: তিনি বিশাল ইলমের অধিকারী, সব কিছুই তিনি অবগত।

তিনি আল-কাদীর তথা মহা ক্ষমতাধর। সব কিছুর উপরে তাঁর রয়েছে পূর্ণ ক্ষমতা।

আল্লাহ তা‘আলা নিজেই নিজের জন্য এসব আসমাউল হুসনা (সুন্দর গুণবাচক নামসমূহ), সুউচ্চ সিফাতসমূহ ও সেসব সিফাত থেকে উৎসারিত আহকামসমূহ সাব্যস্ত করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি এগুলোর কোন একটি সাব্যস্ত করল; কিন্তু অন্যটি নেতিবাচক করল তাহলে সে কুরআন ও সুন্নাহের বিরোধিতা করল এবং তার কাজটি বিরোধপূর্ণ হলো ও তা বাতিল বলে গণ্য হবে।[2]

আল্লাহর যাত (সত্ত্বা) ও সিফাতের উপর এসব নামের দালালাত (নির্দেশনা) মুতাবাকা, তাদামুন ও ইলতিযাম অনুযায়ী হয়ে থাকে। কেননা কোন শব্দ তার অর্থের প্রতি দুভাবে নির্দেশ করে। একটি হলো লাফযিয়্যাহ তথা শব্দগত এবং আরেকটি মা‘নুবিয়্যাহ আক্বলিয়্যাহ তথা বিবেক-প্রসন্ন অর্থগত। শব্দ যদি তার মধ্যকার সমস্ত অর্থ বুঝায় তাহলে তাকে দালালাতুল মুতাবিকাহ বলে অর্থাৎ শব্দটি যে উদ্দেশ্যে গঠন করা হয়েছে সেটি পুরোপুরি ভাবে সে অর্থ প্রকাশ করেছে। কেননা শব্দটি বাড়তি বা কমতি ছাড়াই হুবহু অর্থের অনুগত হয়েছে। শব্দটি যদি আংশিক অর্থ বুঝায় তাহলে তাকে দালালাতু তাদামুন বলে। কেননা উল্লিখিত আংশিক অর্থ শব্দের কিছু অংশের অর্থ এবং এটি উক্ত শব্দেরই অন্তর্গত। অন্যদিকে দালালাতুল মা‘আনাবিয়্যাহতুল আক্বলিয়্যাহ হলো সুস্থ আক্বল ও চিন্তা-ভাবনার সাথে সম্পৃক্ত। কেননা শুধু শব্দটিই কাঙ্খিত অর্থ প্রমাণ করে না; বরং বান্দা শব্দের অত্যাবশ্যকীয় অর্থের প্রতি গভীর দৃষ্টিপাত করে ও চিন্তা-গবেষণা করে, যে অর্থ ধর্তব্য বতীত শব্দটি পূর্ণ অর্থ বুঝায় না এবং যে শব্দটিতে যে শর্তসমূহ রয়েছে তা পূর্ণ হয় না। এ নিয়ম আসমাউল হুসনার সমস্ত নামের ব্যাপারেই প্রযোজ্য হবে। প্রতিটি নামই আল্লাহর যাত ও তাঁর সিফাতের উপর প্রমাণ করে। এটি শব্দটি তার অর্থের অনুমাগী। আবার নামটি শুধু তাঁর যাত অথবা শুধু সিফাতের উপর প্রমাণ করলে তা দালালাতু তাদামুন। অন্যদিকে নামটি সরাসরি তাঁর বা সিফাতের উপর প্রমাণ না করে অন্য একটি অত্যাবশ্যকীয় সিফাতের উপর প্রমাণ করলে তা দালালাতু ইলতিযাম। যেমন, আর-রহমান নামটি শুধু আল্লাহর যাতের উপর ও শুধু তাঁর রহমতের উপর প্রমাণ করলে তা দালালাতু তাদামুন। কিন্তু একত্রে যাত রহমত সিফাতের উপর প্রমাণ করলে তা দালালাতু মুতাবিক। অন্যদিকে নামটি পূর্ণাঙ্গ জীবন, সর্ব-পরিবেষ্টিত ইলম ও পূর্ণ কুদরত ইত্যাদি অত্যাবশ্যকীয় সিফাতের উপর প্রমাণ করলে তা দালালাতু ইলতিযাম। কেননা রহমাত দানকারীর জীবন, রহমত প্রাপ্তদের কাছে রহমত পৌঁছানোর ক্ষমতা, তাদের সম্পর্কে জ্ঞান ও তাদের অভাব না বুঝলে তিনি রহমত দান করতে পারবে না।[3] কেউ আল্লাহর রহমান নামটি নিয়ে গভীর চিন্তা-গবেষণা করলে দেখতে পাবে যে, তিনি ব্যাপক ও পরিপূর্ণ রহমতের অধিকারী। তাঁর রহমত ঊর্ধ্বজগত, নিম্নজগত, সমস্ত সৃষ্টিজগত, দুনিয়া ও আখিরাতে সর্বত্রই পরিপূর্ণ। উপরোক্ত অর্থের প্রতি প্রমাণকারী নিম্নোক্ত আয়াতসমূহ গভীর ভাবে চিন্তা-ভাবনা করুন। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,

﴿قَالَ عَذَابِيٓ أُصِيبُ بِهِۦ مَنۡ أَشَآءُۖ وَرَحۡمَتِي وَسِعَتۡ كُلَّ شَيۡءٖ١٥٦﴾ [الاعراف: ١٥٥]

“তিনি বললেন, ‘আমি যাকে চাই তাকে আমার আযাব দেই। আর আমার রহমত সব বস্তুকে পরিব্যাপ্ত করেছে।” [সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ১৫৫]

আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেছেন,

﴿إِنَّ ٱللَّهَ بِٱلنَّاسِ لَرَءُوفٞ رَّحِيمٞ١٤٣﴾ [البقرة: ١٤٣]

“নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল, পরম দয়ালু।” [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৪৩]

আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেছেন,

﴿فَٱنظُرۡ إِلَىٰٓ ءَاثَٰرِ رَحۡمَتِ ٱللَّهِ كَيۡفَ يُحۡيِ ٱلۡأَرۡضَ بَعۡدَ مَوۡتِهَآۚ إِنَّ ذَٰلِكَ لَمُحۡيِ ٱلۡمَوۡتَىٰ٥٠﴾ [الروم: ٥٠]

“অত:এব, আপনি আল্লাহর রহমতের চি‎হ্নসমূহের প্রতি দৃষ্টি দিন। কিভাবে তিনি জমিনের মৃত্যুর পর তা জীবিত করেন। নিশ্চয় এভাবেই তিনি মৃতকে জীবিত করেন।” [সূরা আর-রূম, আয়াত: ৫০]

আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেছেন,

﴿أَلَمۡ تَرَوۡاْ أَنَّ ٱللَّهَ سَخَّرَ لَكُم مَّا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِ وَأَسۡبَغَ عَلَيۡكُمۡ نِعَمَهُۥ ظَٰهِرَةٗ وَبَاطِنَةٗ٢٠﴾ [لقمان: ٢٠]

“তোমরা কি দেখ না, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের জন্য নিয়োজিত করেছেন আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে। আর তোমাদের প্রতি তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নি‘আমত ব্যাপক করে দিয়েছেন।” [সূরা লুকমান, আয়াত: ২০]

আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেছেন,

﴿وَمَا بِكُم مِّن نِّعۡمَةٖ فَمِنَ ٱللَّهِۖ ثُمَّ إِذَا مَسَّكُمُ ٱلضُّرُّ فَإِلَيۡهِ تَجۡ‍َٔرُونَ٥٣﴾ [النحل: ٥٣]

“আর তোমাদের কাছ যে সব নি‘আমত আছে, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে। অতঃপর দুঃখ-দুর্দশা যখন তোমাদের স্পর্শ করে তখন তোমরা শুধু তার কাছেই ফরিয়াদ কর।” [সূরা আন-নাহাল, আয়াত: ৫৩]

আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেছেন,

﴿وَإِن تَعُدُّواْ نِعۡمَةَ ٱللَّهِ لَا تُحۡصُوهَآۗ إِنَّ ٱللَّهَ لَغَفُورٞ رَّحِيمٞ١٨﴾ [النحل: ١٨]

“আর যদি তোমরা আল্লাহর নি‘আমত গণনা কর, তবে তার ইয়ত্তা পাবে না। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” [সূরা আন-নাহাল, আয়াত: ১৮]

আল্লাহর নি‘আমতের উসূল তথা মূলনীতি ও ফুরু‘ তথা শাখা-প্রশাখা সম্পর্কিত সূরা নাহাল তিলাওয়াত করুন। এতে আল্লাহর নি‘আমতের অপরিসীম দান ও প্রভাব রয়েছে। এ কারণেই তিনি সূরার শেষে বলেছেন,

﴿كَذَٰلِكَ يُتِمُّ نِعۡمَتَهُۥ عَلَيۡكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تُسۡلِمُونَ٨١﴾ [النحل: ٨١]

“এভাবেই তিনি তোমাদের উপর তার নি‘আমতকে পূর্ণ করবেন, যাতে তোমরা অনুগত হও।” [সূরা আন-নাহাল, আয়াত: ৮১]

অত:পর সূরা আর-রহমান আদ্যোপান্ত গভীর চিন্তা-গবেষণাসহ তিলাওয়াত করুন। এ সূরাতে তাঁর নি‘আমতের বিস্তারিত ব্যাখ্যা রয়েছে। এতে রয়েছে রহমানের রহমতের যাবতীয় উদাহরণ ও নানা ধরণের নি‘আমতের বিস্তারিত বিবরণ। এ কারণেই তিনি তাঁর অনুগত মুমিনদের জন্য জান্নাতে পূর্ণ ও চিরস্থায়ী নি‘আমতের কথা স্মরণ করে দিয়ে সূরাটি শেষ করেন। আর জান্নাতের এ চিরস্থায়ী নি‘আমত আল্লাহর নি‘আমতের অন্যতম প্রভাব। এ কারণেই আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতকে রহমত বলেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,

﴿وَأَمَّا ٱلَّذِينَ ٱبۡيَضَّتۡ وُجُوهُهُمۡ فَفِي رَحۡمَةِ ٱللَّهِۖ هُمۡ فِيهَا خَٰلِدُونَ١٠٧﴾ [ال عمران: ١٠٧]

“আর যাদের চেহারা সাদা হবে, তারা তো আল্লাহর রহমতে থাকবে। তারা সেখানে স্থায়ী হবে।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১০৭]

হাদীসে এসেছে, আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতকে বলবেন,

«أَنْتِ رَحْمَتِي أَرْحَمُ بِكِ مَنْ أَشَاءُ مِنْ عِبَادِي».

“তুমি আমার রহমত, তোমার মাধ্যমে আমি আমার বান্দাদের থেকে যাকে ইচ্ছা রহমত করব।”[4] আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,

﴿وَهُوَ أَرۡحَمُ ٱلرَّٰحِمِينَ٦٤﴾ [يوسف: ٦٣]

“এবং তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।” [সূরা ইউসুফ, আয়াত: ৬৩]

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«لَلَّهُ أَرْحَمُ بِعِبَادِهِ مِنْ الوالدة بِوَلَدِهَا».

“মা তার সন্তানের উপর যতটুকু দয়ালু, আল্লাহ তার বান্দার উপর তদাপেক্ষা অধিক দয়ালু।”[5]

«إِنَّ اللَّهَ كَتَبَ كِتَابًا قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ الخَلْقَ: إِنَّ رَحْمَتِي سَبَقَتْ غَضَبِي».

“আল্লাহ তা‘আলা সমস্ত সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করার পূর্বে একটি লেখা লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। তা হলো “আমার ক্রোধের উপর আমার রহমত অগ্রগামী রয়েছে।”[6]

এককথায়, আল্লাহ তাঁর রহমতে সৃষ্টিকুলকে সৃষ্টি করেছেন। তাঁর অপরিসীম দয়ায় তিনি তাদের কাছে নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন। তাঁর রহমতের কারণেই তিনি তাদেরকে আদেশ-নিষেধ করেছেন এবং তাদের জন্য শরী‘আত বিধিবদ্ধ করেছেন। তিনি তাদের প্রতি তাঁর বাহ্যিক ও গোপনীয় নি‘আমতে পরিপূর্ণ করেছেন এবং তাদেরকে সুন্দর সূক্ষ্ম পরিচালনায় পরিচালিত করছেন। তাঁর রহমতেই তিনি তাদেরকে বিভিন্ন স্তরে পরিবর্তন করেন। তাঁর রহমত দুনিয়া ও আখিরাতে ভরপুর। অত:এব, তাঁর রহমত ব্যতীত কোন কিছুই শুভ-সুন্দর হয় না; কোন কাজই তাঁর রহমত ব্যতীত সহজ হয় না; কোন উদ্দেশ্য তাঁর রহমত ব্যতীত অর্জিত হয় না। তাঁর রহমত সব কিছু ঊর্ধ্বে, সবচেয়ে মহান ও সুউচ্চ। মুহসিন মুত্তাকিদের জন্য রয়েছে তাঁর রহমতের পূর্ণ অংশ এবং অপরিসীম কল্যাণ। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,

﴿إِنَّ رَحۡمَتَ ٱللَّهِ قَرِيبٞ مِّنَ ٱلۡمُحۡسِنِينَ٥٦﴾ [الاعراف: ٥٥]

“নিশ্চয় আল্লাহর রহমত সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী।” [সূরা আল-আ’রাফ, আয়াত: ৫৫][7]

[1] এ নামদ্বয়ের দলিল হলো নিম্নোক্ত আল্লাহর বাণী,

﴿ٱلرَّحۡمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ٣﴾ [الفاتحة: ٣]

“দয়াময়, পরম দয়ালু, পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।” [সূরা আল-ফাতিহা, আয়াত: ৩]

[2] আল-খুলাসা দিমনাল মাজমূ‘আতিল কামিলা লি মুয়াল্লাফাতিস সা‘দী, ১/১৭৯; আত-তাফসীর, ১/৩৩।

[3] আল-হাক্বকুল ওয়াদিহ আল-মুবীন, পৃ. ১০৬-১০৭।

[4] সহীহ বুখারী, কিতাবুত তাফসীর, বাব, কাওলুহু ‘ওয়াতাকূলু হাল মিম মাযীদ’ ৬/৪৮, হাদীস নং ৪৮৫০; সহীহ মুসলিম, কিতাবুল জান্নাহ, বাব, আন-নারু ইয়াদখুলুহাল জাব্বারূন ওয়াল জান্নাতু ইয়াদখুলুহাদ দু‘আফা, ৪/২১৮৬, হাদীস নং ২৮৪৬, এটি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসের অংশ বিশেষ।

[5] সহীহ বুখারী, ৭/৭৫, কিতাবুল আদাব, বাব, রহমাতুল ওয়ালাদি ওয়াতাকবীলিহি ওয়া মু‘আনাকাতিহি, হাদীস নং ৫৯৯৯; সহীহ মুসলিম, ৪/২১০৯, কিতাবুত তাওবা, বাব, ফি সি‘আতি রহমাতিল্লাহি তা‘আলা, হাদীস নং ২৭৫৪। হাদীসটি উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত।

[6] সহীহ বুখারী, ৮/১৭৬, কিতাবুত তাওহীদ, বাব, ওয়াকানা ‘আরশুহু ‘আলাল মাই, হাদীস নং ৭৫৫৪; সহীহ মুসলিম, ৪/২১০৭, কিতাবুত তাওবা, বাব, ফি সি‘আতি রহমাতিল্লাহি তা‘আলা, হাদীস নং ২৭৫১।

[7] আল-মাওয়াহিবুর রাব্বানিয়্যাহ মিনাল আয়াতিল কুরআনিয়্যাহ, পৃ. ৬৪।

▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂
:
#আল্লাহর_৯৯_নাম_ও_তার_অর্থ
:
#সুন্নাহ্_Sunnah (Follow The Messenger of Allah)

‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু ‘আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেন, সে-ই মুসলিম, যার...
03/01/2021

‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু ‘আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেন,
সে-ই মুসলিম, যার জিহবা ও হাত হতে সকল মুসলিম নিরাপদ এবং সে-ই প্রকৃত মুহাজির, আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা যে ত্যাগ করে।
- সহীহ বুখারী হা/১০, মুসলিম ১/১৪ হা-৪০
▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂
:
:
#সুন্নাহ্_Sunnah (Follow The Messenger of Allah)

আবূ সা’ঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদ...
03/01/2021

আবূ সা’ঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের পন্থা পুরোপুরি অনুসরণ করবে, প্রতি বিঘতে বিঘতে এবং প্রতি গজে গজে। এমনকি তারা যদি গো সাপের গর্তেও ঢুকে তবে তোমরাও তাতে ঢুকবে।
আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি ইয়াহূদী ও নাসারার কথা বলছেন?
নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তবে আর কার কথা?
- সহীহ বুখারী হা/৩৪৫৬, সহীহ মুসলিম হা/৬৫৩৯
▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂
:
:
#সুন্নাহ্_Sunnah (Follow The Messenger of Allah)

❏  আর রাহমান (الرحمن)অর্থ: পরম দয়ালু, পরম করুণাময়, সবচেয়ে দয়ালু, কল্যাণময়আর-রহমান ও আর-রাহীম নামদ্বয় প্রমাণ করে যে, আল্...
03/01/2021

❏ আর রাহমান (الرحمن)

অর্থ: পরম দয়ালু, পরম করুণাময়, সবচেয়ে দয়ালু, কল্যাণময়

আর-রহমান ও আর-রাহীম নামদ্বয় প্রমাণ করে যে, আল্লাহ তা‘আলা পরম দয়াময়, অতি দয়ালু, প্রশস্ত রহমতের অধিকারী; যার রহমত সব কিছুকে বেষ্টন করে রেখেছে এবং সমস্ত সৃষ্টির উপর তাঁর রহমত ব্যাপক ভাবে বিস্তৃত। তাঁর নবী ও রাসূলগণের অনুসারী মুত্তাকীনদের জন্য তিনি তাঁর রহমত লিখে রেখেছেন। তাদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী সুখ-শান্তির স্থানে অবস্থানের নিমিত্তে সর্বময় রহমত। তারা ব্যতীত অন্যরা চিরস্থায়ী পূর্ণ এ রহমত থেকে বঞ্চিত হবে। কেননা তিনি তাদের কাছে এ রহমত প্রেরণ করেছিলেন; কিন্তু তারা এ সংবাদ মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল এবং এর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। তাই তারা নিজেরা শুধু নিজেদেরকেই দোষারোপ করবে।

কুরআন ও সুন্নাহ-এর প্রমাণাদির ভিত্তিতে উম্মাতের সকলের কাছে ঐক্যমত্য মূলনীতি যে, আল্লাহর সমস্ত নাম, তাঁর সকল সিফাত ও সিফাতের যাবতীয় আহকামের উপর ঈমান আনা ফরয। অত:এব, মুমিনরা বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ রহমান ও রাহীম, তিনি অসীম রহমতের অধিকারী, যা রহমত প্রাপ্তদের রহমত সম্পৃক্ত গুণাবলীতে তাঁকে গুণান্বিত করে। অত:এব, বিশ্বের যাবতীয় নি‘আমত তাঁর রহমতেরই প্রভাবে হয়ে থাকে। এমনিভাবে আল্লাহর অন্যান্য সুন্দর নামের ব্যাপারে বলা হবে।

যেমন বলা হবে, তিনি আল-‘আলীম তথা সর্বজ্ঞ, মহাজ্ঞানী: তিনি বিশাল ইলমের অধিকারী, সব কিছুই তিনি অবগত।

তিনি আল-কাদীর তথা মহা ক্ষমতাধর। সব কিছুর উপরে তাঁর রয়েছে পূর্ণ ক্ষমতা।

আল্লাহ তা‘আলা নিজেই নিজের জন্য এসব আসমাউল হুসনা (সুন্দর গুণবাচক নামসমূহ), সুউচ্চ সিফাতসমূহ ও সেসব সিফাত থেকে উৎসারিত আহকামসমূহ সাব্যস্ত করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি এগুলোর কোন একটি সাব্যস্ত করল; কিন্তু অন্যটি নেতিবাচক করল তাহলে সে কুরআন ও সুন্নাহের বিরোধিতা করল এবং তার কাজটি বিরোধপূর্ণ হলো ও তা বাতিল বলে গণ্য হবে।[2]

আল্লাহর যাত (সত্ত্বা) ও সিফাতের উপর এসব নামের দালালাত (নির্দেশনা) মুতাবাকা, তাদামুন ও ইলতিযাম অনুযায়ী হয়ে থাকে। কেননা কোন শব্দ তার অর্থের প্রতি দুভাবে নির্দেশ করে। একটি হলো লাফযিয়্যাহ তথা শব্দগত এবং আরেকটি মা‘নুবিয়্যাহ আক্বলিয়্যাহ তথা বিবেক-প্রসন্ন অর্থগত। শব্দ যদি তার মধ্যকার সমস্ত অর্থ বুঝায় তাহলে তাকে দালালাতুল মুতাবিকাহ বলে অর্থাৎ শব্দটি যে উদ্দেশ্যে গঠন করা হয়েছে সেটি পুরোপুরি ভাবে সে অর্থ প্রকাশ করেছে। কেননা শব্দটি বাড়তি বা কমতি ছাড়াই হুবহু অর্থের অনুগত হয়েছে। শব্দটি যদি আংশিক অর্থ বুঝায় তাহলে তাকে দালালাতু তাদামুন বলে। কেননা উল্লিখিত আংশিক অর্থ শব্দের কিছু অংশের অর্থ এবং এটি উক্ত শব্দেরই অন্তর্গত। অন্যদিকে দালালাতুল মা‘আনাবিয়্যাহতুল আক্বলিয়্যাহ হলো সুস্থ আক্বল ও চিন্তা-ভাবনার সাথে সম্পৃক্ত। কেননা শুধু শব্দটিই কাঙ্খিত অর্থ প্রমাণ করে না; বরং বান্দা শব্দের অত্যাবশ্যকীয় অর্থের প্রতি গভীর দৃষ্টিপাত করে ও চিন্তা-গবেষণা করে, যে অর্থ ধর্তব্য বতীত শব্দটি পূর্ণ অর্থ বুঝায় না এবং যে শব্দটিতে যে শর্তসমূহ রয়েছে তা পূর্ণ হয় না। এ নিয়ম আসমাউল হুসনার সমস্ত নামের ব্যাপারেই প্রযোজ্য হবে। প্রতিটি নামই আল্লাহর যাত ও তাঁর সিফাতের উপর প্রমাণ করে। এটি শব্দটি তার অর্থের অনুমাগী। আবার নামটি শুধু তাঁর যাত অথবা শুধু সিফাতের উপর প্রমাণ করলে তা দালালাতু তাদামুন। অন্যদিকে নামটি সরাসরি তাঁর বা সিফাতের উপর প্রমাণ না করে অন্য একটি অত্যাবশ্যকীয় সিফাতের উপর প্রমাণ করলে তা দালালাতু ইলতিযাম। যেমন, আর-রহমান নামটি শুধু আল্লাহর যাতের উপর ও শুধু তাঁর রহমতের উপর প্রমাণ করলে তা দালালাতু তাদামুন। কিন্তু একত্রে যাত রহমত সিফাতের উপর প্রমাণ করলে তা দালালাতু মুতাবিক। অন্যদিকে নামটি পূর্ণাঙ্গ জীবন, সর্ব-পরিবেষ্টিত ইলম ও পূর্ণ কুদরত ইত্যাদি অত্যাবশ্যকীয় সিফাতের উপর প্রমাণ করলে তা দালালাতু ইলতিযাম। কেননা রহমাত দানকারীর জীবন, রহমত প্রাপ্তদের কাছে রহমত পৌঁছানোর ক্ষমতা, তাদের সম্পর্কে জ্ঞান ও তাদের অভাব না বুঝলে তিনি রহমত দান করতে পারবে না।[3] কেউ আল্লাহর রহমান নামটি নিয়ে গভীর চিন্তা-গবেষণা করলে দেখতে পাবে যে, তিনি ব্যাপক ও পরিপূর্ণ রহমতের অধিকারী। তাঁর রহমত ঊর্ধ্বজগত, নিম্নজগত, সমস্ত সৃষ্টিজগত, দুনিয়া ও আখিরাতে সর্বত্রই পরিপূর্ণ। উপরোক্ত অর্থের প্রতি প্রমাণকারী নিম্নোক্ত আয়াতসমূহ গভীর ভাবে চিন্তা-ভাবনা করুন। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,

﴿قَالَ عَذَابِيٓ أُصِيبُ بِهِۦ مَنۡ أَشَآءُۖ وَرَحۡمَتِي وَسِعَتۡ كُلَّ شَيۡءٖ١٥٦﴾ [الاعراف: ١٥٥]

“তিনি বললেন, ‘আমি যাকে চাই তাকে আমার আযাব দেই। আর আমার রহমত সব বস্তুকে পরিব্যাপ্ত করেছে।” [সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ১৫৫]

আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেছেন,

﴿إِنَّ ٱللَّهَ بِٱلنَّاسِ لَرَءُوفٞ رَّحِيمٞ١٤٣﴾ [البقرة: ١٤٣]

“নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল, পরম দয়ালু।” [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৪৩]

আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেছেন,

﴿فَٱنظُرۡ إِلَىٰٓ ءَاثَٰرِ رَحۡمَتِ ٱللَّهِ كَيۡفَ يُحۡيِ ٱلۡأَرۡضَ بَعۡدَ مَوۡتِهَآۚ إِنَّ ذَٰلِكَ لَمُحۡيِ ٱلۡمَوۡتَىٰ٥٠﴾ [الروم: ٥٠]

“অত:এব, আপনি আল্লাহর রহমতের চি‎হ্নসমূহের প্রতি দৃষ্টি দিন। কিভাবে তিনি জমিনের মৃত্যুর পর তা জীবিত করেন। নিশ্চয় এভাবেই তিনি মৃতকে জীবিত করেন।” [সূরা আর-রূম, আয়াত: ৫০]

আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেছেন,

﴿أَلَمۡ تَرَوۡاْ أَنَّ ٱللَّهَ سَخَّرَ لَكُم مَّا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِ وَأَسۡبَغَ عَلَيۡكُمۡ نِعَمَهُۥ ظَٰهِرَةٗ وَبَاطِنَةٗ٢٠﴾ [لقمان: ٢٠]

“তোমরা কি দেখ না, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের জন্য নিয়োজিত করেছেন আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে। আর তোমাদের প্রতি তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নি‘আমত ব্যাপক করে দিয়েছেন।” [সূরা লুকমান, আয়াত: ২০]

আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেছেন,

﴿وَمَا بِكُم مِّن نِّعۡمَةٖ فَمِنَ ٱللَّهِۖ ثُمَّ إِذَا مَسَّكُمُ ٱلضُّرُّ فَإِلَيۡهِ تَجۡ‍َٔرُونَ٥٣﴾ [النحل: ٥٣]

“আর তোমাদের কাছ যে সব নি‘আমত আছে, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে। অতঃপর দুঃখ-দুর্দশা যখন তোমাদের স্পর্শ করে তখন তোমরা শুধু তার কাছেই ফরিয়াদ কর।” [সূরা আন-নাহাল, আয়াত: ৫৩]

আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেছেন,

﴿وَإِن تَعُدُّواْ نِعۡمَةَ ٱللَّهِ لَا تُحۡصُوهَآۗ إِنَّ ٱللَّهَ لَغَفُورٞ رَّحِيمٞ١٨﴾ [النحل: ١٨]

“আর যদি তোমরা আল্লাহর নি‘আমত গণনা কর, তবে তার ইয়ত্তা পাবে না। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” [সূরা আন-নাহাল, আয়াত: ১৮]

আল্লাহর নি‘আমতের উসূল তথা মূলনীতি ও ফুরু‘ তথা শাখা-প্রশাখা সম্পর্কিত সূরা নাহাল তিলাওয়াত করুন। এতে আল্লাহর নি‘আমতের অপরিসীম দান ও প্রভাব রয়েছে। এ কারণেই তিনি সূরার শেষে বলেছেন,

﴿كَذَٰلِكَ يُتِمُّ نِعۡمَتَهُۥ عَلَيۡكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تُسۡلِمُونَ٨١﴾ [النحل: ٨١]

“এভাবেই তিনি তোমাদের উপর তার নি‘আমতকে পূর্ণ করবেন, যাতে তোমরা অনুগত হও।” [সূরা আন-নাহাল, আয়াত: ৮১]

অত:পর সূরা আর-রহমান আদ্যোপান্ত গভীর চিন্তা-গবেষণাসহ তিলাওয়াত করুন। এ সূরাতে তাঁর নি‘আমতের বিস্তারিত ব্যাখ্যা রয়েছে। এতে রয়েছে রহমানের রহমতের যাবতীয় উদাহরণ ও নানা ধরণের নি‘আমতের বিস্তারিত বিবরণ। এ কারণেই তিনি তাঁর অনুগত মুমিনদের জন্য জান্নাতে পূর্ণ ও চিরস্থায়ী নি‘আমতের কথা স্মরণ করে দিয়ে সূরাটি শেষ করেন। আর জান্নাতের এ চিরস্থায়ী নি‘আমত আল্লাহর নি‘আমতের অন্যতম প্রভাব। এ কারণেই আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতকে রহমত বলেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,

﴿وَأَمَّا ٱلَّذِينَ ٱبۡيَضَّتۡ وُجُوهُهُمۡ فَفِي رَحۡمَةِ ٱللَّهِۖ هُمۡ فِيهَا خَٰلِدُونَ١٠٧﴾ [ال عمران: ١٠٧]

“আর যাদের চেহারা সাদা হবে, তারা তো আল্লাহর রহমতে থাকবে। তারা সেখানে স্থায়ী হবে।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১০৭]

হাদীসে এসেছে, আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতকে বলবেন,

«أَنْتِ رَحْمَتِي أَرْحَمُ بِكِ مَنْ أَشَاءُ مِنْ عِبَادِي».

“তুমি আমার রহমত, তোমার মাধ্যমে আমি আমার বান্দাদের থেকে যাকে ইচ্ছা রহমত করব।”[4] আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,

﴿وَهُوَ أَرۡحَمُ ٱلرَّٰحِمِينَ٦٤﴾ [يوسف: ٦٣]

“এবং তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।” [সূরা ইউসুফ, আয়াত: ৬৩]

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«لَلَّهُ أَرْحَمُ بِعِبَادِهِ مِنْ الوالدة بِوَلَدِهَا».

“মা তার সন্তানের উপর যতটুকু দয়ালু, আল্লাহ তার বান্দার উপর তদাপেক্ষা অধিক দয়ালু।”[5]

«إِنَّ اللَّهَ كَتَبَ كِتَابًا قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ الخَلْقَ: إِنَّ رَحْمَتِي سَبَقَتْ غَضَبِي».

“আল্লাহ তা‘আলা সমস্ত সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করার পূর্বে একটি লেখা লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। তা হলো “আমার ক্রোধের উপর আমার রহমত অগ্রগামী রয়েছে।”[6]

এককথায়, আল্লাহ তাঁর রহমতে সৃষ্টিকুলকে সৃষ্টি করেছেন। তাঁর অপরিসীম দয়ায় তিনি তাদের কাছে নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন। তাঁর রহমতের কারণেই তিনি তাদেরকে আদেশ-নিষেধ করেছেন এবং তাদের জন্য শরী‘আত বিধিবদ্ধ করেছেন। তিনি তাদের প্রতি তাঁর বাহ্যিক ও গোপনীয় নি‘আমতে পরিপূর্ণ করেছেন এবং তাদেরকে সুন্দর সূক্ষ্ম পরিচালনায় পরিচালিত করছেন। তাঁর রহমতেই তিনি তাদেরকে বিভিন্ন স্তরে পরিবর্তন করেন। তাঁর রহমত দুনিয়া ও আখিরাতে ভরপুর। অত:এব, তাঁর রহমত ব্যতীত কোন কিছুই শুভ-সুন্দর হয় না; কোন কাজই তাঁর রহমত ব্যতীত সহজ হয় না; কোন উদ্দেশ্য তাঁর রহমত ব্যতীত অর্জিত হয় না। তাঁর রহমত সব কিছু ঊর্ধ্বে, সবচেয়ে মহান ও সুউচ্চ। মুহসিন মুত্তাকিদের জন্য রয়েছে তাঁর রহমতের পূর্ণ অংশ এবং অপরিসীম কল্যাণ। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,

﴿إِنَّ رَحۡمَتَ ٱللَّهِ قَرِيبٞ مِّنَ ٱلۡمُحۡسِنِينَ٥٦﴾ [الاعراف: ٥٥]

“নিশ্চয় আল্লাহর রহমত সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী।” [সূরা আল-আ’রাফ, আয়াত: ৫৫][7]

[1] এ নামদ্বয়ের দলিল হলো নিম্নোক্ত আল্লাহর বাণী,

﴿ٱلرَّحۡمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ٣﴾ [الفاتحة: ٣]

“দয়াময়, পরম দয়ালু, পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।” [সূরা আল-ফাতিহা, আয়াত: ৩]

[2] আল-খুলাসা দিমনাল মাজমূ‘আতিল কামিলা লি মুয়াল্লাফাতিস সা‘দী, ১/১৭৯; আত-তাফসীর, ১/৩৩।

[3] আল-হাক্বকুল ওয়াদিহ আল-মুবীন, পৃ. ১০৬-১০৭।

[4] সহীহ বুখারী, কিতাবুত তাফসীর, বাব, কাওলুহু ‘ওয়াতাকূলু হাল মিম মাযীদ’ ৬/৪৮, হাদীস নং ৪৮৫০; সহীহ মুসলিম, কিতাবুল জান্নাহ, বাব, আন-নারু ইয়াদখুলুহাল জাব্বারূন ওয়াল জান্নাতু ইয়াদখুলুহাদ দু‘আফা, ৪/২১৮৬, হাদীস নং ২৮৪৬, এটি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসের অংশ বিশেষ।

[5] সহীহ বুখারী, ৭/৭৫, কিতাবুল আদাব, বাব, রহমাতুল ওয়ালাদি ওয়াতাকবীলিহি ওয়া মু‘আনাকাতিহি, হাদীস নং ৫৯৯৯; সহীহ মুসলিম, ৪/২১০৯, কিতাবুত তাওবা, বাব, ফি সি‘আতি রহমাতিল্লাহি তা‘আলা, হাদীস নং ২৭৫৪। হাদীসটি উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত।

[6] সহীহ বুখারী, ৮/১৭৬, কিতাবুত তাওহীদ, বাব, ওয়াকানা ‘আরশুহু ‘আলাল মাই, হাদীস নং ৭৫৫৪; সহীহ মুসলিম, ৪/২১০৭, কিতাবুত তাওবা, বাব, ফি সি‘আতি রহমাতিল্লাহি তা‘আলা, হাদীস নং ২৭৫১।

[7] আল-মাওয়াহিবুর রাব্বানিয়্যাহ মিনাল আয়াতিল কুরআনিয়্যাহ, পৃ. ৬৪।

❏ প্রশ্ন : পুরুষেরা নারীদেরকে অথবা নারীরা পুরুষদেরকে শিক্ষাদান করতে পারবে কি?উত্তর : কোন পুরুষ কোন গায়ের মাহরাম নারীকে ন...
02/01/2021

❏ প্রশ্ন : পুরুষেরা নারীদেরকে অথবা নারীরা পুরুষদেরকে শিক্ষাদান করতে পারবে কি?

উত্তর : কোন পুরুষ কোন গায়ের মাহরাম নারীকে নির্জনে পড়াতে পারবে না।
রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘কোন বেগানা পুরুষ কোন বেগানা নারীর সাথে নির্জনে অবস্থান করলে সেখানে তৃতীয় জন থাকে শয়তান’ (তিরমিযী হা/১১৭১, মিশকাত হা/৩১১৮)।

তবে যদি একত্রিতভাবে শরঈ পর্দা বজায় রেখে পড়ানো হয় এবং তাতে কোন ফেৎনার আশংকা না থাকে, তাহ’লে বাধা নেই রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মহিলাদের দাবীক্রমে তাদের জন্য পৃথক একটি দিন নির্ধারণ করেন, সেখানে তারা জমায়েত হ’ত এবং তিনি তাদেরকে হাদীছ শিক্ষা দিতেন… (বুখারী হা/৭৩১০; মুসলিম হা/২৬৩৩; মিশকাত হা/১৭৫৩ ‘জানায়েয’ অধ্যায়)।

অপরদিকে নিরাপদ পরিবেশ থাকলে পূর্ণ পর্দা সহকারে এবং শরী‘আতের বিধি-বিধানসমূহ মেনে নারী পুরুষদেরকে শিক্ষাদান করতে পারে। তবে ফেৎনার আশংকা থাকলে তা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

মা আয়েশা ছিদ্দীকা (রাঃ) পর্দার আড়াল থেকে ছাহাবীগণকে জ্ঞানদান করতেন এবং প্রয়োজনীয় প্রশ্নের জবাব দিতেন। আবু মূসা আশ‘আরী (রাঃ) বলেন, আমরা কোন বিষয়ে আটকে গেলে আয়েশা (রাঃ)-এর নিকটে গিয়ে তার সমাধান নিতাম (তিরমিযী হা/৩৮৮৩)।

▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂
:
সংগৃহীত: Islamicaskbd.com
:
:
#সুন্নাহ্_Sunnah (Follow The Messenger of Allah)

❏ আল্লাহ [1]আল্লাহ হলেন সাধারণত যার ইবাদত করা হয়, যিনি নির্ভরশীল মা‘বূদ এবং সমস্ত সৃষ্টির উপর ইলাহ ও মা‘বূদ হওয়ার যোগ্য...
02/01/2021

❏ আল্লাহ [1]

আল্লাহ হলেন সাধারণত যার ইবাদত করা হয়, যিনি নির্ভরশীল মা‘বূদ এবং সমস্ত সৃষ্টির উপর ইলাহ ও মা‘বূদ হওয়ার যোগ্য। তিনি ইলাহ হওয়ার সমস্ত গুণাবলীতে গুণান্বিত।[2] আল্লাহ নিজেই বলেছেন, তাঁর মধ্যে উলুহিয়্যাতের সমস্ত গুণাবলী একত্রিত হয়েছে। তিনিই সমস্ত দিক থেকে একমাত্র ইলাহ হওয়ার যোগ্য যা তাকে একমাত্র মা‘বুদ হওয়া আবশ্যক করে, তিনিই একমাত্র প্রশংসা ও শুকরিয়া পাওয়ার অধিকারী, তিনি মহান, মহাপবিত্র, মহাশক্তিধর, মহাসম্মানিত ও মহামর্যাদাবান।[3]

আল্লাহর নামের মধ্যে আসমাউল হুসনার সমস্ত নাম ও সুউচ্চ সিফাত একত্রিত হয়েছে। আল্লাহই অধিক ভালো জ্ঞাত।[4]

আল্লাহ নামটি চিন্তা-গবেষণা করলে দেখা যায়, আল্লাহ নামের মাঝেই ইলাহিয়্যাতের সব অর্থ বিদ্যমান। এ নামটি পরিপূর্ণ সিফাত ও একমাত্র তাঁরই জন্য নির্ধারিত এবং তাঁর কাজে কেউ অংশীদার নেই। কেননা অনুরক্তর (যাকে সবাই ভালোবাসে) মাঝে সমস্ত পূর্ণাঙ্গ গুণাবলী থাকার কারণেই সবাই তাকে ভালোবাসে এবং তাঁর পরিপূর্ণ গুণাবলীর কারণেই তাঁর কাছে নতজানু ও বিনয়ী হয়। পূর্ণাঙ্গ গুণাবলীর কোন গুণই সর্বদিক বিবেচনায় মহান আল্লাহর থেকে বাদ পড়ে না। অথবা তিনি তাদের উপকার করেন, তাদের দেখ-ভাল করেন ও সাহায্য-সহযোগিতা করেন তাই তারা তাঁর দিকে ঝুঁকেন বা তাঁর ইবাদত করেন। ফলে ইবাদতকারীর প্রতি কল্যাণ বর্ষিত হয় এবং তাদের থেকে অকল্যাণ ও ক্ষয়-ক্ষতি প্রতিহত হয়। এ কথা সকলেই অবগত আছে যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলাই সব কিছুর মালিক। তাঁর সৃষ্টির কেউ নিজের যেমন মালিক নন তেমনি অন্যেরও মালিক নন, তারা নিজের যেমন কোন উপকার বা ক্ষতি সাধন করতে পারে না তেমনি অন্যেরও কোন উপকার বা ক্ষতি সাধন করতে পারে না। এমনিভাবে তারা নিজেদের ও অন্য কারো জীবন, মৃত্যু, পুনরুত্থান কোন কিছুই দিতে পারে না। কারো মনে যখন এ কথা গেঁথে যাবে যে, আল্লাহ তা‘আলাই একমাত্র ইলাহ ও আশ্রয়দাতা তখন বান্দার ভালোবাসা, ভয় ও প্রত্যাশা সবকিছুর তার রবের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া অত্যাবশ্যকীয় হয়ে যাবে। সবকিছুতেই সে তাঁর কাছে ফিরে যাবে, তিনি ব্যতীত সৃষ্টিকুলের সবকিছু থেকেই চাওয়ার প্রত্যাশা বর্জন করবে, যাদের নিজেদেরই পরিপূর্ণতা নেই, তারা নিজেরা কর্ম সম্পাদনকারী নন। সুউচ্চ ও সুমহান আল্লাহ ব্যতীত কোন শক্তিদাতা ও সাহায্যকারী নেই।[5]

শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ রহ. কে আল্লাহর নামসমূহের মধ্যে ইসমে আ‘যম তথা সবচেয়ে বড় নামের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলো। সবচেয়ে বড় নাম কি আল্লাহর নির্দিষ্ট ও সুপরিচিত না-কি তা অনির্দিষ্ট ও অপরিচিত?

তিনি এ প্রশ্নের উত্তরে বলেন, কিছু লোক মনে করেন যে, আসমাউল হুসনা তথা আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের মধ্যে ইসমে আ‘যম তথা আল্লাহর সর্বাধিক মহান নামটি শুধু তিনি যাদেরকে নির্বাচিত করেন সেসব বিশেষ বান্দাগণ কারামতের মাধ্যমে জানেন, যা সাধারণ নিয়মের বহির্ভূত। মূলত এ ধারণাটি ভুল। কেননা আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নামসমূহ ও তাঁর সিফাতসমূহ জানার জন্য আমাদেরকে উৎসাহিত করেছেন। যারা তাঁর নামসমূহ জানেন, এগুলোর ব্যাপারে গভীর জ্ঞান রাখেন, ইবাদত ও দো‘আয় এসব নামে তাঁকে ডাকেন এবং কিছু চাওয়ার ক্ষেত্রে যারা তাঁর কাছে এসব নামে চায় তাদের তিনি প্রশংসা করেছেন। নি:সন্দেহে আসমাউল হুসনার অগ্রবর্তী নামই আল্লাহর সর্বাধিক মহান নাম (ইসমে আ‘যম)। যেমন আল্লাহ তা‘আলা সর্বময় দানশীল যার বদান্যতা ও দানশীলতা শেষ হওয়ার নয়। তিনি বান্দাকে দান করতে পছন্দ করেন। তাঁর দানের মধ্যে সর্বাধিক দানপ্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন যাকে তিনি তাঁর আসমাউল হুসনা ও তাঁর সুমহান সিফাতসমূহ জানার ও বুঝার বদান্যতা দান করেছেন। অত:এব, সঠিক কথা হলো আল্লাহর সব নামই সুন্দর এবং সবগুলোই মহান; তবে সর্বাধিক মহান নাম হলো যেসব নাম তাঁর জন্যই একক বা অন্যের সাথে মিলিত হলেও তা তাঁর সত্ত্বাগত যাবতীয় গুণাবলী বা তাঁর কর্মগত যাবতীয় গুণাবলী বা যাবতীয় গুণাবলীর উপর প্রমাণ করে। যেমন, আল্লাহ এমন একটি নামটি ইসমে জামে‘ যার মধ্যে উলুহিয়্যাত তথা ইলাহ হওয়ার যাবতীয় গুণাবলী বিদ্যমান, এ নামটিতে সমস্ত পূর্ণাঙ্গ গুণাবলী একত্রিত হয়েছে। এমনিভাবে আল-হামীদ (মহা প্রশংসিত) ও আল-মাজীদ (মহিমান্বিত, সম্মানিত)। আল-হামীদ এমন একটি নামকে বুঝায় যাতে সকল প্রশংসাকারীদের যাবতীয় প্রশংসা ও আল্লাহর পরিপূর্ণতা একত্রিত হয়েছে। আর মাজীদ বলা হয় যাতে মহান ও উচ্চ-মর্যাদাবান হওয়ার যাবতীয় গুণাবলী একত্রিত হয়েছে। এ নামের কাছাকাছি অর্থের নাম হলো আল-জালীল (মহা মহিয়ান), আল-জামীল (মহা মনোরম), আল-গানী (অমুখাপেক্ষী) এবং আল-কারীম (মহা সম্মানিত)।

যেমন আল-হাইয়্যু (চিরঞ্জীব) ও আল-কাইয়্যূম (চিরন্তন)। আল-হাইয়্যু বলা হয় যার রয়েছে মহাপরিপূর্ণ জীবন যাতে সত্ত্বার (যাতের) যাবতীয় অর্থ বিদ্যমান। আর কাইয়্যূম হলো যিনি নিজে নিজেই প্রতিষ্ঠিত, বিদ্যমান, শ্বাশত, তিনি সব সৃষ্টি থেকে মুখাপেক্ষীহীন এবং সকল সৃষ্টি তিনিই সৃষ্টি করেছেন। এটি এমন একটি নাম যাতে যাবতীয় কর্মের গুণাবলী প্রবিষ্ট হয়েছে।

আল্লাহর আরো অন্য নামের মধ্যে রয়েছে আল-‘আযীম (মহা মর্যাদাপূর্ণ, অতি বিরাট) এবং আল-কাবীর (অতি বৃহৎ, অতি মহান) যাতে তাঁর নামসমূহ ও সিফাতসমূহের যাবতীয় মহত্ব, বড়ত্ব, অহমিকা একত্রিত হয়েছে। তাঁর সকল সৃষ্টির যাবতীয় সম্মান ও মর্যাদা প্রশর্দন একমাত্র তাঁরই জন্য। যেমন তুমি বলো, ‘ইয়া যাল-জালালি ওয়াল ইকরাম’ (হে মহা মর্যাদাবান, মহা মহত্ত্ব ও মহা সম্মানিত)। কেননা আল-জালাল (মহা মহত্ত্ব) হলো বড়ত্ব, মহত্ত্ব, অহমিকা ও সর্বদিকের পরিপূর্ণতার গুণ। আর ইকরাম (মহা সম্মানিত) হলো বান্দা কর্তৃক তাঁকে মহা সম্মান প্রদর্শন ও তাঁর সম্মুখে সর্বোচ্চ অপমান ও লাঞ্ছনাবোধ বা এরূপ আরো কিছু করা।

অত:এব, উপরোক্ত আলোচনা থেকে এ কথা প্রতীয়মান হয় যে, ইসমে আ‘যম (সর্বশ্রেষ্ঠ নাম) হলো ইসমে জিনস (সমষ্টিগত নাম)। শরী‘আতের দলীল ও বুৎপত্তিগত[6] অর্থ এ মতটিই প্রমাণ করে। যেমন সুনানের কিতাবে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে দো‘আ করতে শুনলেন। সে বলছিল,

«اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِأَنِّي أَشْهَدُ أَنَّكَ أَنْتَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ الأَحَدُ الصَّمَدُ، الَّذِي لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ» ، قَالَ: فَقَالَ: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَقَدْ سَأَلَ اللَّهَ بِاسْمِهِ الأَعْظَمِ الَّذِي إِذَا دُعِيَ بِهِ أَجَابَ، وَإِذَا سُئِلَ بِهِ أَعْطَى».

“হে আল্লাহ নিশ্চয় আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনিই একমাত্র আল্লাহ যিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, আপনি একক ও অমুখাপেক্ষী, যিনি কাউকে জন্ম দেন নি এবং কারো থেকে জন্মও নেন নি, আর তাঁর কোন সমকক্ষও নেই।” রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন, যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ সেই সত্তার কসম! এই ব্যক্তি আল্লাহর কাছে এমন ইসমে আ‘যমের (সর্বশ্রেষ্ঠ নামের) মাধ্যমে দো‘আ করছে যার উসিলায় দো‘আ করা হলে আল্লাহ তা’আলা কবুল করেন এবং যার উসিলায় প্রার্থনা করা হলে তিনি দান করেন।[7]

তাছাড়াও অন্য হাদীসে এসেছে, এক ব্যক্তি দো‘আয় বলল,

«اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِأَنَّ لَكَ الْحَمْدَ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ الْمَنَّانُ بَدِيعُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ، يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ، يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ، إِنِّي أَسْأَلُكَ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِأَصْحَابِهِ: «تَدْرُونَ بِمَا دَعَا؟» قَالُوا: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لَقَدْ دَعَا اللَّهَ بِاسْمِهِ الْعَظِيمِ، الَّذِي إِذَا دُعِيَ بِهِ أَجَابَ، وَإِذَا سُئِلَ بِهِ أَعْطَى».

“হে আল্লাহ নিশ্চয় আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি, নিশ্চয় সমস্ত প্রশংসা আপনার, আপনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, আপনি দানশীল, আসমান ও জমিনের সৃষ্টিকারী। হে মর্যাদা ও ঔদার্য প্রদানকারী, হে চিরঞ্জীব ও সুপ্রতিষ্ঠিত ধারক, আমি আপনার নামের উসিলায় আপনার কাছে প্রার্থনা করছি। তখন নবী রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীগণকে বললেন, তোমরা কি জান সে কিসের দ্বারা দো‘আ করল? তারা বললেন, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তখন তিনি বললেন, যার হাতে আমার প্রাণ তার শপথ, সে আল্লাহর ঐ ইসমে আযম দ্বারা দো‘আ করেছে যা দ্বারা কেউ দো‘আ করলে তিনি তা কবুল করেন, আর যা দ্বারা কিছু চাওয়া হলে তিনি তা দান করেন।”[8]

এছাড়া রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

اسْمُ اللَّهِ الْأَعْظَمُ فِي هَاتَيْنِ الْآيَتَيْنِ: ﴿وَإِلَٰهُكُمۡ إِلَٰهٞ وَٰحِدٞۖ لَّآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلرَّحۡمَٰنُ ٱلرَّحِيمُ١٦٣﴾ [البقرة: ١٦٣] ، وَفَاتِحَةِ سُورَةِ آلِ عِمْرَانَ: ﴿الٓمٓ١ ٱللَّهُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلۡحَيُّ ٱلۡقَيُّومُ٢﴾ [ال عمران: ١، ٢] .

“আল্লাহর ইসমে আ‘যম নিম্নোক্ত দুটি আয়াতে রয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, “আর তোমাদের ইলাহ এক ইলাহ। তিনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। তিনি অতি দয়াময়, পরম দয়ালু।” [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৬৩], সূরা আলে ইমরানের শুরুতে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, “আলিফ-লাম-মীম। আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, চিরপ্রতিষ্ঠিত ধারক।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১-২][9] অত:এব, বান্দা অন্তরের অন্ত:স্থল থেকে বিনয়ের সাথে যখন আল্লাহকে তাঁর এসব ইসমে আ‘যমের দ্বারা ডাকে তখন তার দো‘আ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।[10]

[1] এ নামের দলীল হলো, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,

﴿ٱللَّهُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلۡحَيُّ ٱلۡقَيُّومُ٢٥٥﴾ [البقرة: ٢٥٥]

“আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সুপ্রতিষ্ঠিত ধারক।” [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৫৫]

[2] আত-তাফসীর, ৫/৬২০।

[3] প্রাগুক্ত, ১/৩৩; আল-খুলাসা, পৃ. ৮-৯; বাহজাতু কুলুবুল আবরার, পৃ. ১৬৫।

[4] আল-হাক্কুল ওয়াদিহ আল-মুবীন, পৃ. ১০৪।

[5] আল-মাওয়াহিব আর-রাব্বানিয়্যাহ মিনাল আয়াতিল কুরআনিয়্যাহ, পৃ. ৬২।

[6] আল্লাহর সর্বাধিক মহান নামের অর্থ বর্ণনার ব্যাপারে এ মতের উপরই যাবতীয় দলীল একত্রিত হয়।

[7] তিরমিযী, হাদীস নং ৩৪৭৫, ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান গরীব বলেছেন। আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন; আবু দাউদ, হাদীস নং ১৪৯৩।

[8] নাসায়ী, হাদীস নং ১৩০০; তিরমিযী, হাদীস নং ৩৫৪৪; মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং ১২২০৫; আবু দাউদ, হাদীস নং ১৪৯৫; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৩৮৫৮; হাকিম, ১/৫০৪। আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।

[9] মুসনাদ আহমাদ, ৬/৪৬১; তিরমিযী, হাদীস নং ৩৪৭৮, তিনি হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন; আবু দাউদ, হাদীস নং ১৪৯৬; আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৩১০৯।

[10] দেখুন, মাজমু‘উল ফাওয়ায়েদ ওয়া ইকতিনাসুল আওয়াবিদ, পৃ. ২৫০-২৫২।

▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂
:
: #আল্লাহর_৯৯_নাম_ও_তার_অর্থ
:
#সুন্নাহ্_Sunnah (Follow The Messenger of Allah)

Address

Dhaka
1000

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sunnah - সুন্নাহ্ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Sunnah - সুন্নাহ্:

Share