10/02/2021
সন্তানকে দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করা এটা আপনার ঈমানী দায়িত্ব এবং কর্তব্য। আপনি আপনার সন্তানকে দুনিয়ার সব কিছু শিখালেন, বড় ডাক্তার বানালেন, বড় ইঞ্জিনিয়ার বানালেন, মোটা অংকের টাকা ব্যয় করে বিদেশ পাঠিয়ে তাকে শিক্ষিত করে দিলেন, দুনিয়া অর্জনের জন্য সকল সুযোগ সুবিধা করে দিলেন। কিন্তু আপনি তাকে দ্বীন শিখালেন না, তা হলে আপনি বাহ্যিকভাবে যদিও তাকে সফল করেছেন কিন্তু পরোক্ষভাবে তার জীবনটাকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। কাল কিয়ামতের ময়দানে বুঝে আসবে আপনি আপনার সন্তানের কী ক্ষতি করেছেন। অপরদিকে আপনি যদি আপনার সন্তানের জন্য টাকা পয়সা ধন- দৌলত কিছুই করতে না পারেন, কিন্তু আপনি তাকে দ্বীন শিক্ষা দিয়েছেন, আলেম বানিয়েছেন, হাফেজে কুরআন বানিয়েছেন, তা হলে আপনি তাঁকে আখেরাতের বাদ্শাহ বানিয়ে দিয়েছেন। (সুবহান-আল্লাহ্)
এতে আপনি সফল হয়েছেন। কাল কিয়ামতের ময়দানে আপনার মাথায় থাকবে রাজকীয় মুকুট। সুতরাং যদি কেউ আখেরাতের বদশাহ হতে চায়, রাজকীয় মুকুট পরিধাণ করতে চায়। তা হলে সে যেন তাঁর সন্তানকে আলেম বানায় হাফেজে কুরআন বানায়, তা হলে এটাই হবে তাঁর জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ পুঁজি। আবু দাউদ শরীফে আছে -
যে ব্যক্তি এলেম শিক্ষার জন্য কোন পথ অবলম্ভন করে। আল্লাহ তায়ালা তার জন্য জান্নাতের রাস্তাকে সহজ করে দেন। এবং ফেরেশতারা তাঁর পায়ের নিচে নূরের পর বিছিয়ে দেয়। (সুবহান-আল্লাহ্)
কোরআনে হাফেজের পিতা-মাতা সম্পর্কে রাসুল (সা.) অনেক সুসংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, কেয়ামতের দিন ফেরেশতারা হাফেজে কোরআনের বাবা-মাকে নিয়ে গর্ব করবেন। ফেরেশতারা তাদের আহলান সাহলান জানাবেন এবং তাদের দেখলে পরস্পর বলতে থাকবেন তিনি হাফেজে কোরআনের বাবা। তিনি হাফেজে কোরআনের মা।
কোরআনের হাফেজ আখেরাতে ফেরেশতাদের সাথে অবস্থান করবে। তিনি যদি জান্নাত বাসী হতে পারেন তবে জান্নাতে প্রবেশের পর কোরআন হিফজের বদৌলতে জান্নাতের বিভিন্ন স্তর অতিক্রম করে উপরে দিকে উঠবেন তার মুখস্থ থাকা শেষ আয়াতটি পড়া পর্যন্ত। হযরত আলী (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোরআন তেলাওয়াত ও মুখস্থ রেখেছে এর হালালকে হালাল এবং হারামকে হারাম মেনেছে। তাকে আল্লাহ জান্নাতে প্রবেশ করাবেন এবং তার পরিবারের এমন দশজন লোক সম্পর্কে তার সুপারিশ কবুল করবেন যাদের প্রত্যেকের জন্য জাহান্নাম আবশ্যক ছিলো। (তিরমিযী-২৯০৫,আহমাদ-১২৭১, মিশকাত-২১৪১)
হজরত মুয়াজ জুহানি (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোরআন পাঠ করেছে এবং তাতে যা আছে সে অনুযায়ী আমল করেছে, তাহলে তার মা-বাবাকে কেয়ামত দিবসে একটি (নুরের) তাজ (টুপি) পরানো হবে। যদি সূর্য তোমাদের গৃহে প্রবেশ করত, তাহলে ওই সূর্যের আলো অপেক্ষাও ওই টুপির আলো উজ্জ্বলতর হবে। এখন আপনারা চিন্তা করুন, যে ব্যক্তি কোরআনের নির্দেশ অনুসারে আমল করে, তার মর্যাদা ও অবস্থা কত উত্তম হবে?’ (আবু দাউদ, আহমাদ পৃ. ১৮৬)।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের হাফেজে কোরআনের বাবা-মা হিসেবে কবুল করুন এবং হাফেজে কোরআনের মা-বাবাকে কেয়ামতের দিন আরও উচ্চ মর্যাদা দান করুক, আমিন।
- SHARE♥️