20/04/2024
আমি একমত।
আলিয়া মাদ্রাসায় কাউকে গালি দেওয়া শেখানো হয় না। যেমন কওমীরা কথায় কথায় (ক্লাসেও) জামায়াতে ইসলামীদের গালি দেন, জাহান্নামী বলেন। কিন্তু আমি সেখানে ক্লাস করলাম, থাকলাম, অনেকের সাথে কথা বললাম, কিন্তু আপনাদেরকে কেউ কোন গালিও দেননি বা গোমরাহও বলেন নি। আপনাদেরকে তারা সম্মান করেন। এখানে শেখানো হয় অন্যকে সম্মান করতে।আলিয়ায় কোনদিন কাউকে জোর করে শিবির করতে বাধ্য করে না অথবা কাউকে কেউ শিবির করতে কোনদিন চাপ দেয় না। আমাকেও কোন দিন চাপ দেন নি শিবির করতে।
তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসার সবাইকে বলছিঃ
আমি যশোরের লাউড়ী আলিয়া মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাশ করেছি। এই মাদ্রাসাটি আলিয়া হলেও দেওবন্দ মাদ্রাসার আদলে প্রতিষ্ঠিত। আমি যখন সিদ্ধান্ত নিলাম যে আলিম পড়ব ঢাকার তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসায় তখন আমি আমার কোন এক শিক্ষকদের মাধ্যমে জানতে পারলাম যে এটা জামায়াতে ইসলামীদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। ফলে, আমার শিক্ষকরা আমাকে সেখানে যেতে দিবেন না। কারণ তাদের চোখে জামায়াত ও কাদিয়ানীরা একই কাতারে।
আমি ভয় পেয়ে গেলাম। আমি এই গোমরাহ মাদ্রাসায় কেন যাব!!! পরে মুরুব্বিদের সাথে পরামর্শ করে বুঝলাম সেখানে অজামায়াতীরাও আছেন এবং সেখানে গেলে কাউকে জোর করে জামায়াত-শিবির করানো হয় না।
আর ক্লাসে তো আলিয়া মাদ্রাসাগুলোতে একই সিলেবাসের বই পড়ানো হয়।
তৎকালীন অধ্যক্ষ মাওলানা সাঈদ আহমদ সাহেবের সরাসরি তত্ত্বাবধানে একটি রিস্ক নিয়ে আমি মিল্রাতে আলিম ক্লাসে ভর্তি হই।
দেখতে লাগলাম তারা কেমন। তাদেরকে দেখে, ক্লাসে বসে লাউড়ী মাদ্রাসার চেয়ে তেমন ভিন্ন কিছু চোখে পড়লো না। সেখানকার অনেক ছাত্র ও শিক্ষকরা নিয়মিত তাহাজ্জুদ পড়েন, যেমনটা করতাম আমরা লাউড়ী মাদ্রাসাতে। এখানে পেলাম মদীনা থেকে পাশ করা,দেওবন্দ থেকে পাশ করা, হাটহাজারি থেকে পাশ করা, এমন কি আহলে হাদীস শিক্ষকদেরকে, যাদেরকে আমার খুব ভালো লাগলো। এখানে সব ধরণের উস্তাদ আছেন!! তবে আব্দুল মতিন সালাফী (রঃ), ডঃ গিয়াসউদ্দিন মাদানী (রঃ) সহ মাদানী উস্তাদের অনেক কাছে আসতে পেরেছিলাম সেই ১৯৮৩ সাল থেকে, আলহামদুলিল্লাহ।
যাওয়ার দশদিন পর ছুটি হলো। বাড়িতে (লাউড়ীতে) চলে এলাম। লাউড়ীর শিক্ষকরা তামিরুল মিল্লাত সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে চাইলেন। একটা কথা বলেছিলাম লাউড়ীর হুজুরদেরকে। আপনারা কথায় কথায় (ক্লাসেও) জামায়াতে ইসলামীদের গালি দেন, জাহান্নামী বলেন। কিন্তু আমি সেখানে ১০ দিন ক্লাস করলাম, থাকলাম, অনেকের সাথে কথা বললাম, কিন্তু আপনাদেরকে কেউ কোন গালিও দেননি বা গোমরাহও বলেন নি।আপনাদেরকে তারা সম্মান করেন বলেই মনে হলো।
এছাড়া আমি সেখানে চার বছর ছিলাম, কিন্তু কোনদিন শিবির করি নি অথবা আমাকে কেউ শিবির করতে কোনদিন চাপ দেন নি, যদিও আমি সেখানকার বৃত্তিধারী আবাসিক ছাত্র ছিলাম। শিবিরের ছেলেরাই আমার মত অশিবিরকে ভোট দিয়ে ছাত্র সংসদের সাহিত্য সম্পাদক নির্বাচিত করেছিলো। মিল্লাতের এই উদারতার সাক্ষী আমি নিজেই।
এটাই হলো সেই মিল্লাত, আমি যার আলিম ও ফাজিল ক্লাসের ছাত্র এবং পরে শিক্ষক। এখানে কাউকে গালি দেওয়া শেখানো হয় না। এখানে শেখানো হয় অন্যকে সম্মান করতে। তোমরা আসল মিল্লাতিয়ান হয়ে থাকলে সেই চরিত্র তুলে ধরো। তোমাদের কথা ও আচরণে বলবে তোমরা কে সত্যিকারের মিল্লাতিয়ান।
🌹© ডঃ আবুল কালাম আজাদ, লন্ডন।....
আমার সামান্য অভিজ্ঞতায় বলতে পারি কওমীতে যথেষ্ট ঘৃণা চর্চা হয়। নিজদের অর্জিত বিদ্যাকে সবার চেয়ে সেরা এবং নিজেরাই বেশী জ্ঞানী এই ভুল ধারণাটাই লালন করেন।