শ্রী শ্রী রাধা কৃষ্ণ গৌরনিতাই র্মন্দির, দর্জিপাড়া

  • Home
  • Bangladesh
  • Dhaka
  • শ্রী শ্রী রাধা কৃষ্ণ গৌরনিতাই র্মন্দির, দর্জিপাড়া

শ্রী শ্রী রাধা কৃষ্ণ গৌরনিতাই র্মন্দির, দর্জিপাড়া নমষ্কার...
জয় মা দূর্গা।

🔥🔥 পরমেশ্বর শিবই সর্বশ্রেষ্ঠ তার পূজাই সর্বশ্রেষ্ঠ 🔥🔥
01/06/2026

🔥🔥 পরমেশ্বর শিবই সর্বশ্রেষ্ঠ তার পূজাই সর্বশ্রেষ্ঠ 🔥🔥

"বেদে শ্রীনৃসিংহ অবতার"শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণের সপ্তম স্কন্দে নৃসিংহ অবতার এবং ভক্ত প্রহ্লাদের কাহিনী খুব সুন্দরভাবে শ্রীল শ...
30/05/2026

"বেদে শ্রীনৃসিংহ অবতার"

শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণের সপ্তম স্কন্দে নৃসিংহ অবতার এবং ভক্ত প্রহ্লাদের কাহিনী খুব সুন্দরভাবে শ্রীল শুকদেব গোস্বামী রাজা পরীক্ষিৎ মহারাজকে বর্ণনা করেন। এছাড়াও মহাভারত, অগ্নিপুরাণ, ব্রহ্মাণ্ডপুরাণ, বায়ুপুরাণ, ব্রহ্মপুরাণ, বিষ্ণুধর্মোত্তর পুরাণ, কূর্মপুরাণ, মৎস্যপুরাণ, পদ্মপুরাণ (উত্তরখণ্ড), স্কন্দপুরাণ, বিষ্ণুপুরাণ সহ বিবিধ শাস্ত্রে নৃসিংহ অবতারের কথা বর্নিত আছে।

নৃসিংহদেব হলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ/ শ্রীবিষ্ণুর করুণাঘন অবতার। ভক্ত প্রহ্লাদের কাছে তিনি করুণাঘন মূর্তি এবং বিপরীতে দূরাচারীর হিরণ্যকশিপুর কাছে তিনি উগ্র ভয়ংকর মূর্তিতে আবির্ভূত। ভক্ত প্রহ্লাদের কথাকে সত্য করতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যিনি স্বয়ং শ্রীবিষ্ণু তিনি একটি স্পটিক স্তম্ভ থেকে অর্ধেক নর, অর্ধেক সিংহ বা নৃসিংহ অবতাররূপে আবির্ভুত হয়েছিলেন।

শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণ,পদ্মপুরাণসহ আমাদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ বেদ শাস্ত্রেও নৃসিংহ অবতারের কথা বর্ণিত আছে। বেদ প্রধানত চার প্রকার -ঋগ্, যর্জু (শুক্ল, কৃষ্ণ), সাম, অথর্ব। আবার প্রতিটি বেদের চারটি অংশ – সংহিতা, ব্রাহ্মণ, আরণ্যক, উপনিষদ।

বেদের তৈত্তিরীয় আরণ্যকের দশম প্রপাঠকে নৃসিংহদেবের নামে একটি নৃসিংহ গায়ত্রী মন্ত্র রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে –

বজ্রনখায় বিদ্মহে তীক্ষ্ণদংষ্ট্ৰায় ধীমহি।
তন্নো নারসিংহঃ প্রচোদয়াৎ ।।

~ তৈত্তিরীয় আরণ্যক, দশম প্রপাঠক

অনুবাদঃ আমরা বজ্রনখকে জানব। তাই আমরা তীক্ষ্ণদন্তের ধ্যান করি। সেই ধ্যানে নরসিংহ আমাদেরকে প্রেরিত করুন।

কৃষ্ণ যজুর্বেদের মহানারায়ণ উপনিষদেও এই নৃসিংহ গায়ত্রী মন্ত্রটি পাওয়া যায়। এ মন্ত্রটিতে নৃসিংহদেবকে ‘বজ্রনখা’ এবং ‘তীক্ষ্ণদংষ্ট্ৰা’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। অর্থাৎ, তাঁর নখ বজ্রের মত কঠোর ভয়ংকর এবং দাঁত তীক্ষ্ণ ধারালো।

বজ্রনখায় বিদ্মহে তীক্ষ্ণদংষ্ট্ৰায় ধীমহি।
তন্নো নারসিংহঃ প্রচোদয়াৎ ।।

~ মহানারায়ণ উপনিষদ ৩/১৭ (কৃষ্ণ যজুর্বেদ)

অনুবাদঃ আমরা বজ্রনখকে জানব। তাই আমরা তীক্ষ্ণদন্তের ধ্যান করি। সেই ধ্যানে নরসিংহ আমাদেরকে প্রেরিত করুন।

ঋগ্বেদ সংহিতায় ১ম মণ্ডলের ১৫৪ সূক্তে ভগবান বিষ্ণুর বামন অবতারের সাথে উগ্র অবতার নৃসিংহ অবতারের কথা বর্নিত আছে –

प्र तद्विष्णुः स्तवते वीर्येण मृगो न भीमः कुचरो गिरिष्ठाः । यस्योरुषु त्रिषु विक्रमणेष्वधिक्षियन्ति भुवनानि विश्वा ॥
प्र विष्णवे शूषमेतु मन्म गिरिक्षित उरुगायाय वृष्णे ।
य इदं दीर्घं प्रयतं सधस्थमेको विममे त्रिभिरित्पदेभिः ॥

প্র তদ্‌ বিষ্ণু স্তবতে বীর্যেণ মৃগো ন ভীমঃ কুচরো গিরিষ্ঠাঃ । যস্যোরুষু ত্রিষু বিক্রমণেষধি ক্ষিয়ন্তি ভুবনানি বিশ্বা ॥প্র বিষ্ণবে শূষমেতু মন্ম গিরিক্ষিত উরুগায়ায় বৃষ্ণে। য ইদং দীর্ঘং প্রযতং সধস্থমেকো বিমমে ত্রিভিরিৎ পদেভিঃ॥

~ ঋগ্বেদ সংহিতা: ১/১৫৪/২-৩

অনুবাদঃ সেই বিষ্ণু বীরত্ব বীর্যসূচক কর্মহেতু জগতে স্তুত হয়ে থাকেন। বিষ্ণুর তিন পদক্ষেপে সমস্ত ভুবনে অবস্থান করে আছেন; এতেই সকল প্রাণী জীবিত থাকে।আবার তিনি ভয়ঙ্কর, হিংস্র, গিরিশায়ী দুর্গম স্থানে বিচরণশীল। অর্থাৎ বিষ্ণুর শান্ত এবং উগ্র উভয়রূপ বিরাজমান। লোকপ্রশংসিত মহাবল বিষ্ণু এ স্তোত্রসমূহ গ্রহণ করুক। তিনি ফলবর্ষণকারী বৃষভ, তিনি পর্বতবাসী, তিনি সর্বত্র পরিব্যাপ্ত হয়ে ভ্রমণকারী। সেই বিষ্ণু তিনটিমাত্র পদক্ষেপ দ্বারা এই দীর্ঘ, অতিবিস্তৃত সকলের বাসস্থান পরিমাপ করেছেন।

পরিশেষে শ্রীশঙ্করাচার্য সঙ্কটনাশন নৃসিংহদেবকে নিয়ে ‘শ্রীলক্ষ্মীনৃসিংহ স্তোত্রম্’ রচনা করেছিলেন। সেখানে শ্রীশঙ্করাচার্য নৃসিংহদেবের কৃপাময় শ্রীহস্ত তাঁর মাথায় রাখতে বলে; নৃসিংহদেবের করকমলে আশ্রয় চেয়েছেন।

শ্রীমৎপয়োনিধিনিকেতনচক্রপাণে
ভোগীন্দ্রভোগমণিরঞ্জিতপুণ্যমূর্তে।
যোগীশ শাশ্বত শরণ্য ভবান্ধিপোত
লক্ষ্মীনৃসিংহ মম দেহি করাবলম্বম্ ॥ ১ ॥

~ (শ্রীলক্ষ্মীনৃসিংহ স্তোত্রম্ ১)

অনুবাদঃ হে ক্ষীরসমুদ্রনিবাসিন! হে শ্রীমৎ-চক্রপাণে। হে নাগগণাগ্রগণ্য- অনন্তের ফণাস্থিত মনিসমূহে সুরঞ্জিত পুণ্যমূর্তে। হে যোগীশ্বর। হে সনাতন। হে সকলের শরণ্য। হে সংসারসমুদ্র-পারের পোত (নৌকা)। হে লক্ষ্মীনৃসিংহ। তুমি আমাকে হস্তাবলম্বন প্রদান কর অর্থাৎ হস্তপ্রসারণদ্বারা আমাকে অনুগৃহীত কর।

বেদোৎপত্তিব্রহ্মাক্ষরসমুদ্ভবম্— শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ৩।১৫“বেদ ব্রহ্ম থেকে উদ্ভুত”তস্মাদ্যজ্ঞাৎসর্বহুত ঋচঃ সামানি জজ্ঞিরে।ছন্...
30/05/2026

বেদোৎপত্তি

ব্রহ্মাক্ষরসমুদ্ভবম্— শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ৩।১৫
“বেদ ব্রহ্ম থেকে উদ্ভুত”

তস্মাদ্যজ্ঞাৎসর্বহুত ঋচঃ সামানি জজ্ঞিরে।
ছন্দাংসি জজ্ঞিরে তস্মাদ্যজুস্তম্মাদজায়ত॥
ঋগ্বেদ ১০।৯০।৯
সরলার্থ- সেই পূজনীয় পরমেশ্বর থেকেই সর্ব পূজিত ঋগ্বেদ সামবেদ উৎপন্ন হয়েছে। তাঁর থেকেই অথর্ববেদ উৎপন্ন হয়েছে, তাঁর থেকেই যজুর্বেদ উৎপন্ন হয়েছে।

ঈশ্বর কিভাবে বেদ কে প্রকাশ করেছিলেন?
ঈশ্বর চারজন ঋষিগনের হৃদয়ে বেদ শাস্ত্রকে প্রেরণ করেছিলেন। এই চারজন ঋষি হলেন অগ্নি, বায়ু, আদিত্য ও অঙ্গিরা।

ব্রাহ্মণে এ বিষয়ে বলা হয়েছে-
"তেভ্যন্তপ্তেভ্যন্ত্রয়ো বেদা অজায়ন্তে ঋগ্বেদো বায়োয়জুর্বেদঃ সূর্যাৎ সামবেদঃ”।
[শতপথ ব্রাহ্মণ ১১।৫।৮।৩],
"বেদা অজায়ন্ত ঋগ্বেদ এবাগ্রেরজায়ত য়জুর্বেদো বায়োঃ সামবেদ আদিত্যা"
[ঐতরেয় ব্রাহ্মণ প০৫ অঃ২৫।৩২]
অর্থাৎ সেই তপস্বী ঋষির মাধ্যম দ্বারা পরমাত্মা অগ্নি থেকে ঋগ্বেদ, বায়ু থেকে যজুর্বেদ এবং সূর্য থেকে সামবেদ প্রকট করেছেন। চতুর্থ নাম অঙ্গিরা অথর্ববেদের সাথে স্বয়ং এসেছে।

পাঠকের প্রশ্ন হতে পারে - অগ্নি, বায়ু, আদিত্য ও অঙ্গিরা এরা কোনো জড় বস্তু ছিলেন কিনা?
উত্তর: না, এনারা সৃষ্টির আদিকালে শরীরধারী মানুষই ছিলেন। কারণ জড় পদার্থের (অচেতন বস্তুতে) জ্ঞানের প্রকাশ সম্ভব নয়। আর যে স্থানে যে অর্থ প্রয়োজন হয় সে স্থানে সে অর্থই নিতে হয়, যাতে কথাটির মানে যুক্তিসঙ্গত হয়।
যেমন, যদি কোনো সত্যবাদী, ধার্মিক ও বিদ্বান ব্যক্তি বলেন “ক্ষেত্র মধ্যে মঞ্চ কথা বলছে”, তখন আমরা বুঝি যে মঞ্চ নিজে তো কথা বলতে পারে না, নিশ্চয়ই মঞ্চের উপর কেউ আছে, সেই কথা বলছে।
তেমনি এখানেও বুঝতে হবে, জ্ঞান বা বিদ্যার প্রকাশ কেবল মানুষের মাধ্যমেই সম্ভব, জড় বস্তুর মধ্যে সম্ভব নয়।

এই বিষয়ে শতপথ ব্রাহ্মণে বলা আছে যে- অগ্নি, বায়ু, সূর্য ও অঙ্গিরা এই চার ঋষিগনের হৃদয়ে ঈশ্বর বেদ জ্ঞান প্রেরণ করেন। অতঃপর ঐ চার ঋষি এই চতুর্বেদ ঋষি ব্রহ্মাকে শিক্ষা দেন এবং ঋষি ব্রহ্মা থেকে বাকি ঋষিরা তার জ্ঞান প্রাপ্ত হন।
দেখুন- "য়দথর্বাঙ্গিরসঃ স য় এবমবিদ্বানোর্থর্বাঙ্গিরসো অহরহঃ স্বাধ্যায়মধীতে"। [শতপথ ব্রাহ্মণ ১১।৫। ৬।৭] "এবং বা অরেস্য মহতো ভূতস্য নিঃশ্বাসতমতদ্‌ য়দৃগ্বেদো রজুর্বেদঃ সামবেদোহর্থবাঙ্গিরসঃ”। [শতপথ ব্রাহ্মণ ১৪।৫।৪।১০]

এখন পাঠকের মনে হতে পারে এটা সত্য যে ঈশ্বর ওই চার ঋষিগণকেই বেদ জ্ঞান দান করেছিলেন। কিন্তু জ্ঞান প্রাপ্ত হয়ে তারা নিজের জ্ঞান দ্বারা বেদ রচনা করেছিলেন কি না। অর্থাৎ বেদের রচনাকারি ঈশ্বরকে না বলে ওই চার ঋষিকে বলতে পারি কি না?
উত্তর: না, এমন বলা ঠিক নয়। আপনি কি জানেন ঈশ্বর তাঁদের কী প্রকারের জ্ঞান দিয়েছিলেন? ঈশ্বর তাঁদের সাধারণ কোনো জ্ঞান দেননি, তিনি সরাসরি বেদরূপ জ্ঞানই তাঁদের মধ্যে প্রকাশ করেছিলেন। বেদ ঈশ্বরই রচনা করেছেন, ঋষিরা কেবল সেই ঈশ্বরপ্রদত্ত জ্ঞান প্রকাশ করেছেন। যেহেতু ঋষিদের জ্ঞান ছিল ঈশ্বরপ্রদত্ত সেহেতু ঈশ্বরই বেদের রচনাকারি।

এইবার পাঠকের মনে হতে পারে ঈশ্বর কেন ওই চারজন ঋষির হৃদয়েই বেদ প্রকাশ করলেন? তিনি তো সকলের হৃদয়েই বেদকে প্রকাশ করতে পারতেন এ থেকে কি ঈশ্বরের পক্ষপাতীত্ব লক্ষ্য যায় না? তাহলে ঈশ্বর ন্যায়কারী নাকি পক্ষপাতী?
উত্তর: ঈশ্বর ন্যায়কারি, এতে ঈশ্বরের কোনো পক্ষপাতিত্ব নেই। বরং এর মধ্য দিয়েই তাঁর পরিপূর্ণ ন্যায়বোধ প্রকাশ পেয়েছে। কারণ ন্যায় মানে হলো যে যেমন কর্ম করে, তাকে তেমন ফল প্রদান করা। তাই বুঝতে হবে যে, ওই চার ঋষির পূর্বজন্মের সুকর্ম বা পুণ্য এতই বেশি ছিল যে, ঈশ্বরের ন্যায়বিচারের দৃষ্টিতে তাঁদের হৃদয়ে বেদ প্রকাশ করাই যথাযথ মনে করেছিলেন। এজন্য তাদের হৃদয়ে বেদজ্ঞান প্রদান করেছেন।

আবার পাঠকের মনে হতে পারে এই চারজন ঋষি তো সৃষ্টির প্রথমেই জন্মেছিলেন। তাহলে তাঁদের “পূর্বজন্মের পুণ্য” কোথা থেকে এল?
উত্তর: ঈশ্বর, জীব ও প্রকৃতি এই তিনটি অনাদি সত্তা। জীব যেমন অনাদি, তেমনি তার কর্ম ও প্রকৃতিও অনাদি প্রবাহের মতোই চলে আসছে। অর্থাৎ এই সৃষ্টির পূর্বেও সৃষ্টি হয়েছিল এবং এই সৃষ্টির ধ্বংসের পরেও আবারো সৃষ্টি হবে। উক্ত ঋষিরা পূর্বের সৃষ্টিতে এমন পূর্ণ করেছেন যে ঈশ্বরের ন্যায়বিচারের দৃষ্টিতে তাদের হৃদয়েই বেদ প্রকাশ করাই যথাযথ মনে করেছিলেন।

সারসংক্ষেপে বেদ উৎপত্তির বিষয় এখন বলতেছি-
বৈদিক শাস্ত্রভাণ্ডার থেকে যা জানা যায় চার ঋষি প্রথম ঈশ্বরের কাছ হতে চারবেদ লাভ করেন। অতঃপর আদি চার ঋষি এই চতুর্বেদ ঋষি ব্রহ্মাকে শিক্ষা দেন এবং ঋষি ব্রহ্মা থেকে বাকি ঋষিরা তার জ্ঞান প্রাপ্ত হন।

নিরুক্তে ১৪৮ এও বলা হয়েছে-
"ব্রহ্মা সর্ববিদ্যা সর্ব বেদিতুমর্হতি।
ব্রহ্মা পরিবৃহঃ শ্রুততো ব্রহ্মা পরিবৃহং সর্বতঃ"।
অর্থাৎ সর্ববিদ্যার জ্ঞাতা, যিনি সবকিছু জানার যোগ্য ও ত্রয়ীবিদ্যা জানেন তিনি ব্রহ্মা। বেদ আগমনের আগে সংঘবদ্ধ ভাষার অস্তিত্ব তেমনভাবে ছিল না। আদি চার ঋষি যে মন্ত্র উপলব্ধি করেন, তাই হুবহু ঋষি ব্রহ্মাকে শেখান। এখানে অর্থের বোধ ছিল গৌণ।

পরবর্তীতে ঋষিরা একেকজন যখন ভিন্ন ভিন্ন মন্ত্র নিয়ে ধ্যান বা সাধনায় অগ্রসর হয়েছিলেন, তখনই তাঁরা মন্ত্রের অর্থ পরিপূর্ণভাবে বুঝতে শুরু করেন। অতঃপর সাধারণ মানুষকে বৈদিক ভাষার আঙ্গিকে শিক্ষা দিতে থাকেন যে এই বস্তুটি গো, এটি অশ্ব ইত্যাদি। এভাবে ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষেরা সকল বস্তু সম্পর্কে ধারণা পেতে থাকে এবং সেই সেই শব্দসমূহ ব্যবহার করতে থাকে। এভাবেই ভাষার প্রচলন শুরু হয়। মনুস্মৃতি ১।২১ -এ উল্লেখিত আছে বেদ থেকে জেনেই ঋষিরা গো, অশ্ব ইত্যাদি নামকরণ করেছেন। এজন্যই দেখা যায় উপমহাদেশীয় পরিচিত প্রায় সকল প্রাচীন শব্দ বা বিভিন্ন নগর, নদী ইত্যাদির নামসমূহ বেদে পাওয়া যায় কেননা ওইসব নগর, নদী ইত্যাদির নামকরণ ই হয়েছে বেদ থেকে। এজন্যই বেদকে ভাষার কেন জননী বলা হয়। যেহেতু বেদের ভাষা লৌকিক নয় তাই ঋষিরাই লৌকিক ভাষার প্রচলন শুরু করেন এবং ঋষি ব্রহ্মাই সর্বপ্রথম বৈদিক ও লৌকিক ভাষার জন্য ব্যাকরণ তৈরি করেন।

বর্তমানে গুরুকুলে একজন বাচ্চাকে কীভাবে বেদ শেখানো হয়? প্রথম শেখায় কি অর্থের বোধ থাকে? থাকে না। প্রথমে মন্ত্র মুখস্থ করানো হয়। তারপর ধীরে ধীরে বেদের অর্থ শেখানো হয়। ঠিক তেমনি মানুষের মাঝে যখন সুসংগঠিত ভাষা ছিল না, তখন ঋষিরা প্রথমে কেবল মন্ত্রই হুবহু শেখাতেন। তারপর ঋষিরা মন্ত্রার্থ দর্শন করার পর ধীরে ধীরে তা অন্যদের শিখিয়েছেন।

📰প্রচারেঃ আর্য সমাজ

কেন পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ নৃসিংহদেবরূপে আবির্ভূত হন?‎পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণের পুরুষাবতার হলেন শ্রীবিষ্ণু। ‎শ্রীমদ্ভাগবত সপ্তম স...
29/05/2026

কেন পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ নৃসিংহদেবরূপে আবির্ভূত হন?

পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণের পুরুষাবতার হলেন শ্রীবিষ্ণু। ‎শ্রীমদ্ভাগবত সপ্তম স্কন্ধের প্রথম থেকে দশম অধ্যায়ের বর্ণনা অনুযায়ী, দেবর্ষি নারদ যুধিষ্ঠির মহারাজকে বললেন- " ভগবান শ্রীবিষ্ণু যখন বরাহরূপ ধারণ করে গর্ভোদক সমুদ্র থেকে ধরাদেবীকে উদ্ধার করছিলেন, তখন দৈত্যরাজ হিরণ্যাক্ষ তাঁকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন, তখন ভগবান বরাহদেব তাকে সংহার করেন।এরপর থেকে হিরণ্যাক্ষের ছোট ভাই হিরণ্যাকশিপু সম্পূর্ণ বিষ্ণু বিদ্বেষী হয়ে উঠেন।সে তখন সর্বদা বিজয়ী হওয়ার অভিলাষে ব্রহ্মার ধ্যানে গভীর তপস্যায় মগ্ন হন।তাঁর তপস্যায় ব্রহ্মা হিরণাকশিপুকে দর্শন দান করেন।ব্রহ্মা বর প্রার্থনা করতে বললে হিরণ্যকশিপু অত্যন্ত সুকৌশলে এমন সমস্ত বর প্রার্থনা করেন, যার দ্বারা তাঁর যেন কখনো মৃত্যু না হয়।

‎সে বর প্রার্থনা করল, আপনার সৃষ্ট কোন প্রাণী থেকে যেন তাঁর মৃত্যু না হয়,গৃহের অভ্যন্তরে অথবা বাইরে,দিনের বেলা অথবা রাত্রে,ভূমিতে অথবা আকাশে যেন তাঁর মৃত্যু না হয়। এমনকি সে আরো বর প্রার্থনা করল ব্রহ্মা কতৃর্ক সৃষ্ট জীব ছাড়াও যেন অন্য কারো দ্বারা যাতে তাঁর মৃত্যু না হয়। কোন অস্ত্রের দ্বারা,কোন মানুষের দ্বারা অথবা পশুর দ্বারা যেন তাঁর মৃত্যু না হয়। ব্রহ্মা তখন হিরণ্যাকশিপুকে বললেন, তুমি যে সমস্ত বর আমার কাছে প্রার্থনা করেছ, তা অধিকাংশ মানুষের পক্ষে দুর্লভ। কিন্তু তা সত্ত্বেও হে বৎস, আমি তোমাকে তা দান করব।

‎এরপর হিরণ্যকশিপু তাঁর বাহুবলের দ্বারা স্বর্গ ইত্যাদি গ্রহ সমূহের অধিপতিদের পরাস্ত করে তাঁদেরকে তার বশীভূত করেছিল।এভাবে সে সমগ্র ব্রহ্মাণ্ড জয় করে ঐশ্বর্য সমন্বিত স্বর্গে বাস করতে লাগলেন।ঐশ্বর্যগর্বে অত্যন্ত গর্বিত হয়ে সে শাস্ত্রবিধি লঙ্ঘন করে দেবতাদের উপর নির্যাতন করেছিল। তার ফলে সে সনকাদি ব্রাহ্মণ দ্বারা অভিশপ্ত হয়েছিল।

‎বিভিন্ন লোকের লোকপালগণ সহ সমস্ত অধিবাসীরা হিরণ্যকশিপুর প্রচন্ড উৎপীড়নে অত্যন্ত পীড়িত হয়েছিল। ভীত এবং বিচলিত হয়ে দেবতারা তখন নিদ্রাহীন হয়ে পূর্ণরুপে তাদের মনকে সংযত করে শ্রীবিষ্ণুর আরাধনা করতে লাগলেন। তখন তাঁরা জড়চক্ষুর অতীত এক ব্যক্তির দিব্য কন্ঠস্বর শুনতে পান। সেই বানী ছিল, হে বিবুধশ্রেষ্ঠগণ, ভয় করো না! তোমাদের মঙ্গল হোক। হিরণ্যকশিপুর সমস্ত কার্যকলাপ সমন্ধে আমি জ্ঞাত আছি এবং অচিরেই আমি তার সেই সমস্ত দুষ্কর্মের সমাপ্তি সাধন করব।ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা অপেক্ষা কর। এভাবে ভগবান শ্রীবিষ্ণু দেবতাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন। তখন তারা তাঁকে তাঁদের সশ্রদ্ধ প্রনতি নিবেদন করেছিলেন, এবং দৈত্য হিরণ্যকশিপুর মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী জেনে তাদের আলয়ে ফিরে গিয়েছিলেন। শ্রীভগবানের ইচ্ছায় হিরণ্যকশিপুর স্ত্রীর গর্ভে জন্ম হন প্রহ্লাদ নামক এক মহান কৃষ্ণভক্ত।

‎ছোট বেলা থেকে প্রহ্লাদ ছিল পরম বিষ্ণুভক্ত।সে সর্বত্রই বিষ্ণুকে দর্শন করত। কিন্তু তার পিতা ছিল বিষ্ণু বিদ্বেষী। তাই পিতা যখন জানতে পারেন তার পূত্র পরম বিষ্ণুভক্ত তখন পিতা হিরণ্যকশিপু পুত্রের প্রতি চরম বিদ্বেষী হয়ে উঠেন। তিনি পুত্রকে গুরুকূলে গুরুর কাছে পাঠান, যাতে তারা তাকে বিষ্ণুভক্তি ত্যাগ করার শিক্ষা প্রদান করেন। কিন্তু গুরুকূলের শিক্ষা সমাপ্ত করে যখন প্রহ্লাদ গৃহে ফিরে আসেন তখন পিতা প্রহ্লাদকে জিজ্ঞেস করেন, হে প্রিয় প্রহ্লাদ, হে বৎস, হে আয়ুষ্মান, তুমি এতকাল তোমার গুরুর কাছে যা কিছু শিখেছ, তার মধ্যে যা শ্রেষ্ঠ বলে তুমি মনে কর তা আমাকে বল। তখন প্রহ্লাদ মহারাজ বললেন-

‎শ্রবণং কীর্তনং বিষ্ণোঃ স্মরণং পাদসেবনম্ ।
‎অর্চনং বন্দনং দাস্যং সখ্যমাত্মনিবেদনম্ ॥ ২৩ ৷।
ইতি পুংসার্পিতা বিষ্ণৌ ভক্তিশ্চেন্নবলক্ষণা।
‎ক্রিয়েত ভগবত্যদ্ধা তন্মন্যেহধীতমুত্তমম্ ॥ ২৪।।

-‎(শ্রীমদ্ভাগবত :৭/৫/২৩-২৪)

‎অনুবাদ : সর্বোত্তম জ্ঞান হল সেটি যার মাধ্যমে ভক্ত ভগবান শ্রীবিষ্ণুর মহিমা শ্রবণ, কীর্তন, স্মরণ, তাঁর শ্রীপাদপদ্মের সেবা(পাদসেবনম্), পূজা (অর্চনম্), প্রার্থনা (বন্দনম্), তাঁর দাস হওয়া (দাাস্যম্), ভগবানকে প্রিয়তম বন্ধু বলে মনে করা (সখ্যম্) এবং ভগবানের শ্রীচরণকমলে সর্বস্ব সমর্পণ করা (আত্মনিবেদনম্), এই নবধা ভক্তির অনুশীলনের শিক্ষা লাভ করেন।

‎পুত্র প্রহ্লাদের মুখে বিষ্ণুভক্তির কথা শ্রবণ করে হিরণ্যকশিপু অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হন এবং ক্রোধান্ধ হয়ে তাঁর কোল থেকে প্রহ্লাদকে মাটিতে ছুঁড়ে ফেলে দেন। ঘৃণা এবং ক্রোধে আরক্ত লোচন হয়ে হিরণ্যকশিপু তার ভৃত্যদের বলল- হে অসুরগণ, এই বালককে এখান থেকে নিয়ে যাও! এ বধের যোগ্য, সুতরাং এক্ষুণি একে বধ কর!

‎হিরণ্যকশিপুর নির্দেশ শ্রবণ করে অত্যন্ত তীক্ষ্ণ ও ভয়ঙ্কর দন্ত ও বদন-বিশিষ্ট এবং তাম্রবর্ণ শ্মশ্রু ও কেশ সমন্বিত হিরণ্যকশিপুর অনুচর ভয়ঙ্কর রাক্ষসেরা "একে টুকরো টুকরো ‎করে কেটে ফেল ” বলে ভয়ঙ্করভাবে শব্দ করতে করতে পরমেশ্বর বিষ্ণুর ধ্যানে মগ্ন প্রহ্লাদ মহারাজকে ত্রিশূল দ্বারা আঘাত করতে লাগল। ‎পুণ্যহীন ব্যক্তি সৎকর্ম করলেও যেমন তা নিষ্ফল হয়, ঠিক তেমনই রাক্ষসদের অস্ত্রশস্ত্র শ্রীবিষ্ণুর ধ্যানে সম্পূর্ণরূপে মগ্ন প্রহ্লাদ মহারাজের উপর নিষ্ফল হয়েছিল। প্রহ্লাদ মহারাজকে বধ করার সমস্ত প্রয়াস যখন ব্যর্থ হয়েছিল, তখন দৈত্যরাজ হিরণ্যকশিপু অত্যন্ত ভীত হয়ে তাঁকে বধ করার অন্যান্য বিবিধ উপায় উদ্ভাবন করতে শুরু করেছিল।

হিরণ্যকশিপু তার পুত্রকে বিশাল হস্তীর পায়ের নিচে ফেলে, বিশালকায় ভয়ঙ্কর সর্পদের মধ্যে নিক্ষেপ করে, ধ্বংসাত্মক যাদু প্রয়োগ করে, পর্বতশৃঙ্গ থেকে নিক্ষেপ করে, মায়াগর্তে নিরোধ করে, বিষ প্রদান করে, উপবাস করিয়ে, প্রচণ্ড হিম, বায়ু, অগ্নি এবং জলের দ্বারা অথবা বিশাল পাথরের নিচে তাঁকে পেষণ করেও বধ করতে পারেনি। হিরণ্যকশিপু যখন দেখল যে সে কোন মতেই নিষ্পাপ প্রহ্লাদের অনিষ্ট করতে পারছে না, তখন সে অত্যন্ত চিন্তাগ্রস্ত হয়ে ভাবতে লাগল তারপর সে কি করবে।

‎‎একদিন অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে সে প্রহ্লাদ মহারাজকে বলল, ওরে হতভাগা প্রহ্লাদ, তুই সব সময় বলিস যে আমি ছাড়া অন্য কোন জগদীশ্বর রয়েছেন, যিনি সকলের ঊর্ধ্বে, যিনি সকলের নিয়ন্তা এবং যিনি সর্বব্যাপ্ত। কিন্তু তিনি কোথায়? তিনি যদি সর্বত্রই থাকেন, তা হলে কেন তিনি আমার সম্মুখস্থ এই স্তম্ভে উপস্থিত নন ? তোর এই অকথ্য কথনের জন্য আমি এখন তোর শরীর থেকে মস্তক বিচ্ছিন্ন করব। তোর পরম আরাধ্য ভগবান এসে এখন তোকে রক্ষা করুক। আমি তা দেখতে চাই। ক্রোধান্ধ হয়ে মহাবলবান হিরণ্যকশিপু এইভাবে তার মহাভাগবত পুত্র প্রহ্লাদকে কঠোর বাক্যে তিরস্কার করেছিল। তাঁর প্রতি বার বার তর্জন করে হিরণ্যকশিপু তার খড়্গ গ্রহণপূর্বক তার রাজসিংহাসন থেকে উত্থিত হয়ে মহাক্রোধে সেই স্তম্ভে মুষ্ট্যাঘাত করেছিল। তখন সেই স্তম্ভ থেকে এক ভয়ঙ্কর ধ্বনি উত্থিত হয়েছিল, যার ফলে মনে হয়েছিল যেন ব্রহ্মাণ্ডের আবরণ বিদীর্ণ হয়েছে। সেই শব্দ ব্রহ্মা আদি দেবতাদের ধামে পৌঁছে ছিল, এবং তা শুনে তাঁরা মনে করেছিলেন, " হায়, আমাদের গ্রহলোক বুঝি বিনষ্ট হয়ে গেল!"

‎হিরণ্যকশিপু যখন তার পুত্রকে বধ করতে অভিলাষী হয়ে তার অসাধারণ পরাক্রম প্রদর্শন করছিল, তখন সে অতি অদ্ভুত প্রচণ্ড ধ্বনি শ্রবণ করেছিল, যা পূর্বে কখনও শোনা যায়নি। সেই শব্দ শুনে অন্যান্য অসুর-নায়কেরাও ভীত হয়েছিল। সেই সভায় কেউই বুঝতে পারেনি সেই শব্দের উৎস কোথায় ছিল। তাঁর ভৃত্য প্রহ্লাদ মহারাজের বাক্যের সত্যতা প্রমাণ করার জন্য অর্থাৎ ভগবান যে সর্বত্র বিরাজমান, এমন কি সভাগৃহের স্তম্ভের মধ্যেও বিরাজমান, সেই কথা প্রমাণ করার জন্য পরমেশ্বর ভগবান শ্রীবিষ্ণু এক অদৃষ্টপূর্ব অদ্ভুত রূপ প্রদর্শন করেছিলেন। সেই রূপটি ছিল না মানুষের না সিংহের। এইভাবে ভগবান এক অদ্ভুত মূর্তিতে সভা গৃহে আবির্ভূত হয়েছিলেন। হিরণ্যকশিপু যখন সেই শব্দের উৎস অন্বেষণ করে চতুর্দিকে দেখছিল, তখন সে স্তম্ভের মধ্যে থেকে ভগবানের সেই অদ্ভুত রূপ বহির্গত হতে দেখেছিল, যা মানুষও নয়, সিংহও নয়। অত্যন্ত আশ্চর্য হয়ে হিরণ্যকশিপু ভেবেছিল, “এই প্রাণীটি কি অর্ধেক মানুষ এবং অর্ধেক সিংহ?”

‎হিরণ্যকশিপু মনে মনে বলেছিল, "মহা মায়াবী ভগবান বিষ্ণু আমাকে হত্যা করার এই পরিকল্পনা করেছে, কিন্তু তাঁর এই চেষ্টায় কি হতে পারে? আমার সঙ্গে কে যুদ্ধ করতে পারবে?” এই বলে হস্তীর মতো বিশালকায় হিরণ্যকশিপু গদা ধারণ করে ভগবানকে আক্রমণ করেছিল। নৃসিংহদেবকে আক্রমণ করে তার গদার দ্বারা তাঁকে আঘাত করেছিল। কিন্তু গরুড় যেভাবে মহাসর্পকে গ্রাস করে, ঠিক সেইভাবে ভগবান নৃসিংহদেব গদা সহ হিরণ্যকশিপুকে গ্রহণ করেছিলেন।বহু হস্ত সমন্বিত ভগবান প্রথমে তাঁর নখাঙ্কুরের দ্বারা হিরণ্যকশিপুর হৃদয় উৎপাটনপূর্বক তাকে পরিত্যাগ করে অসুর সৈন্যদের সম্মুখীন হয়েছিলেন। এই সমস্ত হাজার হাজার অস্ত্রধারী সৈনিকেরা ছিল হিরণ্যকশিপুর অতি বিশ্বস্ত অনুচর, কিন্তু ভগবান নৃসিংহদেব তাঁর নখাগ্রভাগের দ্বারা তাদের সকলকে সংহার করেছিলেন।

এরপর ব্রহ্মা,শিব,ইন্দ্র,‎ঋষি,পিতৃপুরুষ,সিদ্ধ,বিদ্যাধর,
মনু,‎গন্ধর্ব,চারণ,যক্ষ,কিম্পুরুষ, বিষ্ণুপার্ষদ ইত্যাদি সকলে পরমেশ্বর নৃসিংহদেবরুপী শ্রীবিষ্ণুর স্তব করতে লাগলেন। ‎ভগবান তখনও অত্যন্ত ক্রোধাবিষ্ট ছিলেন বলে ব্রহ্মা, শিব প্রমুখ দেবতারা তাঁর সামনে যেতে সাহস করেননি।সমস্ত দেবতারা লক্ষ্মীদেবীকে ভগবানের সামনে যেতে অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু তিনিও ভগবানের এই অদৃষ্ট এবং অশ্রুতপূর্ব অদ্ভুত রূপ দর্শন করে ভয়ভীত হওয়ার ফলে তাঁর সামনে যেতে পারেননি।তখন ব্রহ্মা তাঁর নিকটে দণ্ডায়মান প্রহ্লাদ মহারাজকে অনুরোধ করেছিলেন- হে বৎস, ভগবান নৃসিংহদেব তোমার আসুরিক পিতার প্রতি অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়েছেন, তাঁর কাছে গিয়ে তুমি তাঁকে শান্ত কর। প্রহ্লাদ মহারাজ তখন একটি ছোট্ট বালক হওয়া সত্ত্বেও, ব্রহ্মার বাণী শিরোধার্য করে ধীরে ধীরে ভগবান নৃসিংহদেবের কাছে গিয়ে ভূতলে পতিত হয়ে, কৃতাঞ্জলিপুটে তাঁকে সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করেছিলেন।প্রহ্লাদ মহারাজকে তাঁর শ্রীপাদপদ্মে পতিত দেখে ভগবান নৃসিংহদেব করুণার্দ্র হয়ে তাঁকে উত্থাপন করেছিলেন এবং তাঁর ভক্তদের অভয় প্রদানকারী করকমল তাঁর মস্তকে স্থাপন করেছিলেন।এরপর প্রহ্লাদ মহারাজ বিবিধ স্তব করতে শুরু করলেন।এইভাবে ভক্ত প্রহ্লাদ মহারাজের অপ্রাকৃত প্রার্থনা শ্রবণ করে ভগবান নৃসিংহদেব তাঁর ক্রোধ সম্বরণ করেছিলেন, এবং তাঁর শ্রীপাদপদ্মে প্রণত প্রহ্লাদের প্রতি অত্যন্ত প্রসন্ন হয়ে তাঁকে বলেছিলেন, হে ভদ্র প্রহ্লাদ, তোমার মঙ্গল হোক। হে অসুরোত্তম, তোমার প্রতি আমি অত্যন্ত প্রসন্ন হয়েছি। আমি সমস্ত মানুষের বাসনা পূর্ণ করি, সুতরাং তুমি আমার কাছে তোমার অভীষ্ট বর প্রার্থনা কর। তখন প্রহ্লাদ মহারাজ বললেন-

‎যদি দাস্যসি মে কামান্ বরাংত্ত্বং বরদর্ষভ।
‎কামানাং হৃদ্যসংরোহং ভবতস্তু বৃণে বরম্ ॥ ৭ ॥

‎ -(শ্রীমদ্ভাগবত ৭/১০/৭)
‎হে ভগবান, হে সর্বশ্রেষ্ঠ বরদাতা, আপনি যদি আমাকে আমার অভীষ্ট বর প্রদান করতে চান, তা হলে আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করি, যেন আমার হৃদয়ে কোন জড় বাসনার উদয় না হয়।

‎এরপর ভগবান বললেন- হে প্রিয় প্রহ্লাদ, তোমার মতো ভক্ত ইহলোকে অথবা পরলোকে, কোন প্রকার জড় ঐশ্বর্য বাসনা করে না। কিন্তু তা সত্ত্বেও আমি তোমাকে আদেশ দিচ্ছি যে, তুমি এই মন্বন্তর পর্যন্ত এখানে দৈত্যদের অধীশ্বর হয়ে, এই জড় জগতে তাদের সমস্ত ঐশ্বর্য উপভোগ কর।

তারপর ভগবান নৃসিংহদেব ব্রহ্মাকে বললেন, হে ব্রহ্মা, হে পদ্মসম্ভব, সর্পদের দুধ প্রদান করা যেমন ভয়ঙ্কর, তেমনই অত্যন্ত ক্রুরস্বভাব এবং ঈর্ষাপরায়ণ অসুরদের বরদান করাও অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। অসুরদের আর কখনও এই প্রকার বর দান করো না। ভগবান নৃসিংহদেব এইভাবে ব্রহ্মাকে নির্দেশ দিয়ে, ব্রহ্মা কর্তৃক পূজিত হয়ে সেই স্থান থেকে অন্তর্হিত হয়েছিলেন।

এরপর কমলাসন ব্রহ্মা শুক্রাচার্য প্রভৃতি মুনিদের সঙ্গে মিলিত হয়ে প্রহ্লাদকে দৈত্য এবং দানবদের অধিপতি করেছিলেন। তারপর ব্রহ্মা আদি দেবতাগণ প্রহ্লাদ মহারাজ কর্তৃক যথাযথভাবে পূজিত হয়ে, প্রহ্লাদকে চরম আশীর্বাদ প্রদান করে তাঁদের স্বধামে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন। "

🌺অষ্টাদশ শক্তিপীঠ স্তোত্রম্🌺লঙ্কায়াং শাঙ্করী দেবী কামাক্ষী কাঞ্চিকাপুরে ।প্রদ্যুম্নে শৃঙ্খলা দেবী চামুণ্ডা ক্রৌঞ্চপট্টণ...
28/05/2026

🌺অষ্টাদশ শক্তিপীঠ স্তোত্রম্🌺

লঙ্কায়াং শাঙ্করী দেবী কামাক্ষী কাঞ্চিকাপুরে ।
প্রদ্যুম্নে শৃঙ্খলা দেবী চামুণ্ডা ক্রৌঞ্চপট্টণে ॥ ১ ॥

আলম্পুরে যোগুলাম্বা শ্রীশৈলে ভ্রমরাম্বিকা ।
কোলহাপুরে মহালক্ষ্মীঃ মহূরে একবীরিকা ॥ ২ ॥

উজ্জয়িন্যাং মহাকালী পীঠিকায়াং পুরুহূতিকা ।
ওড্যায়াং গিরিজা দেবী মানিক্যা দক্ষবাটিকে ॥ ৩ ॥

হরিক্শেত্রে কামরূপী প্রয়াগে মাধবেশ্বরী ।
জ্বালায়াং বৈষ্ণবী দেবী গয়া মাঙ্গল্যগৌরিকা ॥ ৪ ॥

বারাণস্যাং বিশালাক্ষী কাশ্মীরে তু সরস্বতী ।
অষ্টাদশ সুপীঠানি যোগিনামপি দুর্লভম্ ॥ ৫ ॥

সায়ংকালে পঠেন্নিত্যং সর্বশত্রুবিনাশনম্ ।
সর্বরোগহরং দিব্যং সর্বসম্পৎকরং শুভম্ ॥ ৬ ॥

🌺 বাংলা অনুবাদ

১।
লঙ্কায় শঙ্করীরূপে দেবী বিরাজ করেন,
কাঞ্চিপুরে তিনি কামাক্ষী।
প্রদ্যুম্নে তিনি শৃঙ্খলা দেবী,
এবং ক্রৌঞ্চপট্টণে চামুণ্ডা রূপে পূজিতা হন।

২।
আলম্পুরে তিনি যোগুলাম্বা,
শ্রীশৈলে ভ্রমরাম্বিকা।
কোলহাপুরে মহালক্ষ্মী,
এবং মহূরে একবীরা রূপে বিরাজমান।

৩।
উজ্জয়িনীতে তিনি মহাকালী,
পীঠিকায় পুরুহূতিকা।
ওড্যায় (ওডিশা) তিনি গিরিজা দেবী,
এবং দক্ষবাটিকায় মানিক্যা রূপে পূজিতা হন।

৪।
হরিক্শেত্রে তিনি কামরূপী,
প্রয়াগে মাধবেশ্বরী।
জ্বালায় তিনি বৈষ্ণবী দেবী,
এবং গয়ায় মাঙ্গল্যগৌরী রূপে বিরাজ করেন।

৫।
বারাণসীতে তিনি বিশালাক্ষী,
কাশ্মীরে সরস্বতী রূপে পূজিতা।
এই অষ্টাদশ শক্তিপীঠ অত্যন্ত পবিত্র,
যা যোগীদের জন্যও দুর্লভ।

৬।
যে ব্যক্তি প্রতিদিন সন্ধ্যায় এই স্তোত্র পাঠ করে,
তার সমস্ত শত্রুর বিনাশ হয়।
এটি সকল রোগ দূর করে,
এবং জীবনে শুভ ও সমৃদ্ধি নিয়ে আসে।

🌺 ভগবান বিষ্ণুর ১০টি স্বর্গীয় অবতার 🌺যখনই পৃথিবীতে অন্যায় বৃদ্ধি পায়, তখনই ভগবান বিষ্ণু বিভিন্ন রূপ ধারণ করে ধর্ম রক্...
28/05/2026

🌺 ভগবান বিষ্ণুর ১০টি স্বর্গীয় অবতার 🌺

যখনই পৃথিবীতে অন্যায় বৃদ্ধি পায়, তখনই ভগবান বিষ্ণু বিভিন্ন রূপ ধারণ করে ধর্ম রক্ষা করেন। এদের এই দশাবতার শুধু বর্ণনাই নয়, বরং মানবতাকে সত্য, ধর্ম ও ন্যায়বিচারের বার্তা দিচ্ছে ঐশ্বরিক চিহ্ন। ✨🙏

🐟 মাছের অবতার — বেদ এবং জীবন রক্ষার জন্য।
🐢 কুরমা অবতার — সমুদ্র মন্থনে ধৈর্য ও সমর্থনের প্রতীক।
🐗 ভারাহ অবতার — পৃথিবীকে বাঁচাতে।
🦁 নরসিং অবতার - ভক্ত প্রহ্লাদকে রক্ষা করতে অন্যায়ের অবসান।
👣 বামন অবতার — তিনি অসুর রাজা বলি রাজা এর অহংকার দমন ও দেবতাদের স্বর্গরাজ্য পুনরুদ্ধারের জন্য অবতীর্ণ হয়েছিলেন।
🏹 পরশুরাম অবতার — অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে ক্রোধের ধর্মীয় রূপ।
🚩 রাম অবতার - মর্যাদা, সত্য ও আদর্শ জীবনের প্রতীক।
🦚 কৃষ্ণ অবতার — প্রেম, জ্ঞান এবং কর্ম যোগের ঐশ্বরিক বার্তা।
🪷 বুদ্ধ অবতার — সমবেদনা, শান্তি ও অহিংসা পথ।
⚔️ কল্কি অবতার - কলিযুগের অন্যায়ের অবসান ঘটাতে যে ঐশ্বরিক রূপ আসে।

এই সব অবতারের একই বার্তা আছে —
ধর্মের সবসময় জয় হয়। ” 🌸

জয় শ্রী হরি বিষ্ণু 🙏💙

27/05/2026

শ্রীকৃষ্ণের প্রতিটি নামই এক একটি অসীম দিব্য মহিমার জগৎ। এই পবিত্র মন্ত্রে তাঁকে বন্দনা করা হয় বাসুদেবের পুত্র, পরমাত্মা এবং সকল দুঃখ-কষ্টের নাশকারী হিসেবে।

যখন আমরা গোবিন্দের শরণ গ্রহণ করি, তখন আমাদের জীবনে নেমে আসে ঈশ্বরীয় কৃপা—দূর হয়ে যায় উদ্বেগ, আর হৃদয়ে জাগে গভীর শান্তি।

জপ করুন, ভাবনায় ধারণ করুন, এবং অনুভব করুন শ্রীকৃষ্ণের দিব্য উপস্থিতির অতীন্দ্রিয় শক্তি। 🙏✨

Address

Dorjipara, Panditsar, Naria, Shariatpur
Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when শ্রী শ্রী রাধা কৃষ্ণ গৌরনিতাই র্মন্দির, দর্জিপাড়া posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share