29/05/2026
কেন পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ নৃসিংহদেবরূপে আবির্ভূত হন?
পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণের পুরুষাবতার হলেন শ্রীবিষ্ণু। শ্রীমদ্ভাগবত সপ্তম স্কন্ধের প্রথম থেকে দশম অধ্যায়ের বর্ণনা অনুযায়ী, দেবর্ষি নারদ যুধিষ্ঠির মহারাজকে বললেন- " ভগবান শ্রীবিষ্ণু যখন বরাহরূপ ধারণ করে গর্ভোদক সমুদ্র থেকে ধরাদেবীকে উদ্ধার করছিলেন, তখন দৈত্যরাজ হিরণ্যাক্ষ তাঁকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন, তখন ভগবান বরাহদেব তাকে সংহার করেন।এরপর থেকে হিরণ্যাক্ষের ছোট ভাই হিরণ্যাকশিপু সম্পূর্ণ বিষ্ণু বিদ্বেষী হয়ে উঠেন।সে তখন সর্বদা বিজয়ী হওয়ার অভিলাষে ব্রহ্মার ধ্যানে গভীর তপস্যায় মগ্ন হন।তাঁর তপস্যায় ব্রহ্মা হিরণাকশিপুকে দর্শন দান করেন।ব্রহ্মা বর প্রার্থনা করতে বললে হিরণ্যকশিপু অত্যন্ত সুকৌশলে এমন সমস্ত বর প্রার্থনা করেন, যার দ্বারা তাঁর যেন কখনো মৃত্যু না হয়।
সে বর প্রার্থনা করল, আপনার সৃষ্ট কোন প্রাণী থেকে যেন তাঁর মৃত্যু না হয়,গৃহের অভ্যন্তরে অথবা বাইরে,দিনের বেলা অথবা রাত্রে,ভূমিতে অথবা আকাশে যেন তাঁর মৃত্যু না হয়। এমনকি সে আরো বর প্রার্থনা করল ব্রহ্মা কতৃর্ক সৃষ্ট জীব ছাড়াও যেন অন্য কারো দ্বারা যাতে তাঁর মৃত্যু না হয়। কোন অস্ত্রের দ্বারা,কোন মানুষের দ্বারা অথবা পশুর দ্বারা যেন তাঁর মৃত্যু না হয়। ব্রহ্মা তখন হিরণ্যাকশিপুকে বললেন, তুমি যে সমস্ত বর আমার কাছে প্রার্থনা করেছ, তা অধিকাংশ মানুষের পক্ষে দুর্লভ। কিন্তু তা সত্ত্বেও হে বৎস, আমি তোমাকে তা দান করব।
এরপর হিরণ্যকশিপু তাঁর বাহুবলের দ্বারা স্বর্গ ইত্যাদি গ্রহ সমূহের অধিপতিদের পরাস্ত করে তাঁদেরকে তার বশীভূত করেছিল।এভাবে সে সমগ্র ব্রহ্মাণ্ড জয় করে ঐশ্বর্য সমন্বিত স্বর্গে বাস করতে লাগলেন।ঐশ্বর্যগর্বে অত্যন্ত গর্বিত হয়ে সে শাস্ত্রবিধি লঙ্ঘন করে দেবতাদের উপর নির্যাতন করেছিল। তার ফলে সে সনকাদি ব্রাহ্মণ দ্বারা অভিশপ্ত হয়েছিল।
বিভিন্ন লোকের লোকপালগণ সহ সমস্ত অধিবাসীরা হিরণ্যকশিপুর প্রচন্ড উৎপীড়নে অত্যন্ত পীড়িত হয়েছিল। ভীত এবং বিচলিত হয়ে দেবতারা তখন নিদ্রাহীন হয়ে পূর্ণরুপে তাদের মনকে সংযত করে শ্রীবিষ্ণুর আরাধনা করতে লাগলেন। তখন তাঁরা জড়চক্ষুর অতীত এক ব্যক্তির দিব্য কন্ঠস্বর শুনতে পান। সেই বানী ছিল, হে বিবুধশ্রেষ্ঠগণ, ভয় করো না! তোমাদের মঙ্গল হোক। হিরণ্যকশিপুর সমস্ত কার্যকলাপ সমন্ধে আমি জ্ঞাত আছি এবং অচিরেই আমি তার সেই সমস্ত দুষ্কর্মের সমাপ্তি সাধন করব।ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা অপেক্ষা কর। এভাবে ভগবান শ্রীবিষ্ণু দেবতাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন। তখন তারা তাঁকে তাঁদের সশ্রদ্ধ প্রনতি নিবেদন করেছিলেন, এবং দৈত্য হিরণ্যকশিপুর মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী জেনে তাদের আলয়ে ফিরে গিয়েছিলেন। শ্রীভগবানের ইচ্ছায় হিরণ্যকশিপুর স্ত্রীর গর্ভে জন্ম হন প্রহ্লাদ নামক এক মহান কৃষ্ণভক্ত।
ছোট বেলা থেকে প্রহ্লাদ ছিল পরম বিষ্ণুভক্ত।সে সর্বত্রই বিষ্ণুকে দর্শন করত। কিন্তু তার পিতা ছিল বিষ্ণু বিদ্বেষী। তাই পিতা যখন জানতে পারেন তার পূত্র পরম বিষ্ণুভক্ত তখন পিতা হিরণ্যকশিপু পুত্রের প্রতি চরম বিদ্বেষী হয়ে উঠেন। তিনি পুত্রকে গুরুকূলে গুরুর কাছে পাঠান, যাতে তারা তাকে বিষ্ণুভক্তি ত্যাগ করার শিক্ষা প্রদান করেন। কিন্তু গুরুকূলের শিক্ষা সমাপ্ত করে যখন প্রহ্লাদ গৃহে ফিরে আসেন তখন পিতা প্রহ্লাদকে জিজ্ঞেস করেন, হে প্রিয় প্রহ্লাদ, হে বৎস, হে আয়ুষ্মান, তুমি এতকাল তোমার গুরুর কাছে যা কিছু শিখেছ, তার মধ্যে যা শ্রেষ্ঠ বলে তুমি মনে কর তা আমাকে বল। তখন প্রহ্লাদ মহারাজ বললেন-
শ্রবণং কীর্তনং বিষ্ণোঃ স্মরণং পাদসেবনম্ ।
অর্চনং বন্দনং দাস্যং সখ্যমাত্মনিবেদনম্ ॥ ২৩ ৷।
ইতি পুংসার্পিতা বিষ্ণৌ ভক্তিশ্চেন্নবলক্ষণা।
ক্রিয়েত ভগবত্যদ্ধা তন্মন্যেহধীতমুত্তমম্ ॥ ২৪।।
-(শ্রীমদ্ভাগবত :৭/৫/২৩-২৪)
অনুবাদ : সর্বোত্তম জ্ঞান হল সেটি যার মাধ্যমে ভক্ত ভগবান শ্রীবিষ্ণুর মহিমা শ্রবণ, কীর্তন, স্মরণ, তাঁর শ্রীপাদপদ্মের সেবা(পাদসেবনম্), পূজা (অর্চনম্), প্রার্থনা (বন্দনম্), তাঁর দাস হওয়া (দাাস্যম্), ভগবানকে প্রিয়তম বন্ধু বলে মনে করা (সখ্যম্) এবং ভগবানের শ্রীচরণকমলে সর্বস্ব সমর্পণ করা (আত্মনিবেদনম্), এই নবধা ভক্তির অনুশীলনের শিক্ষা লাভ করেন।
পুত্র প্রহ্লাদের মুখে বিষ্ণুভক্তির কথা শ্রবণ করে হিরণ্যকশিপু অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হন এবং ক্রোধান্ধ হয়ে তাঁর কোল থেকে প্রহ্লাদকে মাটিতে ছুঁড়ে ফেলে দেন। ঘৃণা এবং ক্রোধে আরক্ত লোচন হয়ে হিরণ্যকশিপু তার ভৃত্যদের বলল- হে অসুরগণ, এই বালককে এখান থেকে নিয়ে যাও! এ বধের যোগ্য, সুতরাং এক্ষুণি একে বধ কর!
হিরণ্যকশিপুর নির্দেশ শ্রবণ করে অত্যন্ত তীক্ষ্ণ ও ভয়ঙ্কর দন্ত ও বদন-বিশিষ্ট এবং তাম্রবর্ণ শ্মশ্রু ও কেশ সমন্বিত হিরণ্যকশিপুর অনুচর ভয়ঙ্কর রাক্ষসেরা "একে টুকরো টুকরো করে কেটে ফেল ” বলে ভয়ঙ্করভাবে শব্দ করতে করতে পরমেশ্বর বিষ্ণুর ধ্যানে মগ্ন প্রহ্লাদ মহারাজকে ত্রিশূল দ্বারা আঘাত করতে লাগল। পুণ্যহীন ব্যক্তি সৎকর্ম করলেও যেমন তা নিষ্ফল হয়, ঠিক তেমনই রাক্ষসদের অস্ত্রশস্ত্র শ্রীবিষ্ণুর ধ্যানে সম্পূর্ণরূপে মগ্ন প্রহ্লাদ মহারাজের উপর নিষ্ফল হয়েছিল। প্রহ্লাদ মহারাজকে বধ করার সমস্ত প্রয়াস যখন ব্যর্থ হয়েছিল, তখন দৈত্যরাজ হিরণ্যকশিপু অত্যন্ত ভীত হয়ে তাঁকে বধ করার অন্যান্য বিবিধ উপায় উদ্ভাবন করতে শুরু করেছিল।
হিরণ্যকশিপু তার পুত্রকে বিশাল হস্তীর পায়ের নিচে ফেলে, বিশালকায় ভয়ঙ্কর সর্পদের মধ্যে নিক্ষেপ করে, ধ্বংসাত্মক যাদু প্রয়োগ করে, পর্বতশৃঙ্গ থেকে নিক্ষেপ করে, মায়াগর্তে নিরোধ করে, বিষ প্রদান করে, উপবাস করিয়ে, প্রচণ্ড হিম, বায়ু, অগ্নি এবং জলের দ্বারা অথবা বিশাল পাথরের নিচে তাঁকে পেষণ করেও বধ করতে পারেনি। হিরণ্যকশিপু যখন দেখল যে সে কোন মতেই নিষ্পাপ প্রহ্লাদের অনিষ্ট করতে পারছে না, তখন সে অত্যন্ত চিন্তাগ্রস্ত হয়ে ভাবতে লাগল তারপর সে কি করবে।
একদিন অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে সে প্রহ্লাদ মহারাজকে বলল, ওরে হতভাগা প্রহ্লাদ, তুই সব সময় বলিস যে আমি ছাড়া অন্য কোন জগদীশ্বর রয়েছেন, যিনি সকলের ঊর্ধ্বে, যিনি সকলের নিয়ন্তা এবং যিনি সর্বব্যাপ্ত। কিন্তু তিনি কোথায়? তিনি যদি সর্বত্রই থাকেন, তা হলে কেন তিনি আমার সম্মুখস্থ এই স্তম্ভে উপস্থিত নন ? তোর এই অকথ্য কথনের জন্য আমি এখন তোর শরীর থেকে মস্তক বিচ্ছিন্ন করব। তোর পরম আরাধ্য ভগবান এসে এখন তোকে রক্ষা করুক। আমি তা দেখতে চাই। ক্রোধান্ধ হয়ে মহাবলবান হিরণ্যকশিপু এইভাবে তার মহাভাগবত পুত্র প্রহ্লাদকে কঠোর বাক্যে তিরস্কার করেছিল। তাঁর প্রতি বার বার তর্জন করে হিরণ্যকশিপু তার খড়্গ গ্রহণপূর্বক তার রাজসিংহাসন থেকে উত্থিত হয়ে মহাক্রোধে সেই স্তম্ভে মুষ্ট্যাঘাত করেছিল। তখন সেই স্তম্ভ থেকে এক ভয়ঙ্কর ধ্বনি উত্থিত হয়েছিল, যার ফলে মনে হয়েছিল যেন ব্রহ্মাণ্ডের আবরণ বিদীর্ণ হয়েছে। সেই শব্দ ব্রহ্মা আদি দেবতাদের ধামে পৌঁছে ছিল, এবং তা শুনে তাঁরা মনে করেছিলেন, " হায়, আমাদের গ্রহলোক বুঝি বিনষ্ট হয়ে গেল!"
হিরণ্যকশিপু যখন তার পুত্রকে বধ করতে অভিলাষী হয়ে তার অসাধারণ পরাক্রম প্রদর্শন করছিল, তখন সে অতি অদ্ভুত প্রচণ্ড ধ্বনি শ্রবণ করেছিল, যা পূর্বে কখনও শোনা যায়নি। সেই শব্দ শুনে অন্যান্য অসুর-নায়কেরাও ভীত হয়েছিল। সেই সভায় কেউই বুঝতে পারেনি সেই শব্দের উৎস কোথায় ছিল। তাঁর ভৃত্য প্রহ্লাদ মহারাজের বাক্যের সত্যতা প্রমাণ করার জন্য অর্থাৎ ভগবান যে সর্বত্র বিরাজমান, এমন কি সভাগৃহের স্তম্ভের মধ্যেও বিরাজমান, সেই কথা প্রমাণ করার জন্য পরমেশ্বর ভগবান শ্রীবিষ্ণু এক অদৃষ্টপূর্ব অদ্ভুত রূপ প্রদর্শন করেছিলেন। সেই রূপটি ছিল না মানুষের না সিংহের। এইভাবে ভগবান এক অদ্ভুত মূর্তিতে সভা গৃহে আবির্ভূত হয়েছিলেন। হিরণ্যকশিপু যখন সেই শব্দের উৎস অন্বেষণ করে চতুর্দিকে দেখছিল, তখন সে স্তম্ভের মধ্যে থেকে ভগবানের সেই অদ্ভুত রূপ বহির্গত হতে দেখেছিল, যা মানুষও নয়, সিংহও নয়। অত্যন্ত আশ্চর্য হয়ে হিরণ্যকশিপু ভেবেছিল, “এই প্রাণীটি কি অর্ধেক মানুষ এবং অর্ধেক সিংহ?”
হিরণ্যকশিপু মনে মনে বলেছিল, "মহা মায়াবী ভগবান বিষ্ণু আমাকে হত্যা করার এই পরিকল্পনা করেছে, কিন্তু তাঁর এই চেষ্টায় কি হতে পারে? আমার সঙ্গে কে যুদ্ধ করতে পারবে?” এই বলে হস্তীর মতো বিশালকায় হিরণ্যকশিপু গদা ধারণ করে ভগবানকে আক্রমণ করেছিল। নৃসিংহদেবকে আক্রমণ করে তার গদার দ্বারা তাঁকে আঘাত করেছিল। কিন্তু গরুড় যেভাবে মহাসর্পকে গ্রাস করে, ঠিক সেইভাবে ভগবান নৃসিংহদেব গদা সহ হিরণ্যকশিপুকে গ্রহণ করেছিলেন।বহু হস্ত সমন্বিত ভগবান প্রথমে তাঁর নখাঙ্কুরের দ্বারা হিরণ্যকশিপুর হৃদয় উৎপাটনপূর্বক তাকে পরিত্যাগ করে অসুর সৈন্যদের সম্মুখীন হয়েছিলেন। এই সমস্ত হাজার হাজার অস্ত্রধারী সৈনিকেরা ছিল হিরণ্যকশিপুর অতি বিশ্বস্ত অনুচর, কিন্তু ভগবান নৃসিংহদেব তাঁর নখাগ্রভাগের দ্বারা তাদের সকলকে সংহার করেছিলেন।
এরপর ব্রহ্মা,শিব,ইন্দ্র,ঋষি,পিতৃপুরুষ,সিদ্ধ,বিদ্যাধর,
মনু,গন্ধর্ব,চারণ,যক্ষ,কিম্পুরুষ, বিষ্ণুপার্ষদ ইত্যাদি সকলে পরমেশ্বর নৃসিংহদেবরুপী শ্রীবিষ্ণুর স্তব করতে লাগলেন। ভগবান তখনও অত্যন্ত ক্রোধাবিষ্ট ছিলেন বলে ব্রহ্মা, শিব প্রমুখ দেবতারা তাঁর সামনে যেতে সাহস করেননি।সমস্ত দেবতারা লক্ষ্মীদেবীকে ভগবানের সামনে যেতে অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু তিনিও ভগবানের এই অদৃষ্ট এবং অশ্রুতপূর্ব অদ্ভুত রূপ দর্শন করে ভয়ভীত হওয়ার ফলে তাঁর সামনে যেতে পারেননি।তখন ব্রহ্মা তাঁর নিকটে দণ্ডায়মান প্রহ্লাদ মহারাজকে অনুরোধ করেছিলেন- হে বৎস, ভগবান নৃসিংহদেব তোমার আসুরিক পিতার প্রতি অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়েছেন, তাঁর কাছে গিয়ে তুমি তাঁকে শান্ত কর। প্রহ্লাদ মহারাজ তখন একটি ছোট্ট বালক হওয়া সত্ত্বেও, ব্রহ্মার বাণী শিরোধার্য করে ধীরে ধীরে ভগবান নৃসিংহদেবের কাছে গিয়ে ভূতলে পতিত হয়ে, কৃতাঞ্জলিপুটে তাঁকে সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করেছিলেন।প্রহ্লাদ মহারাজকে তাঁর শ্রীপাদপদ্মে পতিত দেখে ভগবান নৃসিংহদেব করুণার্দ্র হয়ে তাঁকে উত্থাপন করেছিলেন এবং তাঁর ভক্তদের অভয় প্রদানকারী করকমল তাঁর মস্তকে স্থাপন করেছিলেন।এরপর প্রহ্লাদ মহারাজ বিবিধ স্তব করতে শুরু করলেন।এইভাবে ভক্ত প্রহ্লাদ মহারাজের অপ্রাকৃত প্রার্থনা শ্রবণ করে ভগবান নৃসিংহদেব তাঁর ক্রোধ সম্বরণ করেছিলেন, এবং তাঁর শ্রীপাদপদ্মে প্রণত প্রহ্লাদের প্রতি অত্যন্ত প্রসন্ন হয়ে তাঁকে বলেছিলেন, হে ভদ্র প্রহ্লাদ, তোমার মঙ্গল হোক। হে অসুরোত্তম, তোমার প্রতি আমি অত্যন্ত প্রসন্ন হয়েছি। আমি সমস্ত মানুষের বাসনা পূর্ণ করি, সুতরাং তুমি আমার কাছে তোমার অভীষ্ট বর প্রার্থনা কর। তখন প্রহ্লাদ মহারাজ বললেন-
যদি দাস্যসি মে কামান্ বরাংত্ত্বং বরদর্ষভ।
কামানাং হৃদ্যসংরোহং ভবতস্তু বৃণে বরম্ ॥ ৭ ॥
-(শ্রীমদ্ভাগবত ৭/১০/৭)
হে ভগবান, হে সর্বশ্রেষ্ঠ বরদাতা, আপনি যদি আমাকে আমার অভীষ্ট বর প্রদান করতে চান, তা হলে আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করি, যেন আমার হৃদয়ে কোন জড় বাসনার উদয় না হয়।
এরপর ভগবান বললেন- হে প্রিয় প্রহ্লাদ, তোমার মতো ভক্ত ইহলোকে অথবা পরলোকে, কোন প্রকার জড় ঐশ্বর্য বাসনা করে না। কিন্তু তা সত্ত্বেও আমি তোমাকে আদেশ দিচ্ছি যে, তুমি এই মন্বন্তর পর্যন্ত এখানে দৈত্যদের অধীশ্বর হয়ে, এই জড় জগতে তাদের সমস্ত ঐশ্বর্য উপভোগ কর।
তারপর ভগবান নৃসিংহদেব ব্রহ্মাকে বললেন, হে ব্রহ্মা, হে পদ্মসম্ভব, সর্পদের দুধ প্রদান করা যেমন ভয়ঙ্কর, তেমনই অত্যন্ত ক্রুরস্বভাব এবং ঈর্ষাপরায়ণ অসুরদের বরদান করাও অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। অসুরদের আর কখনও এই প্রকার বর দান করো না। ভগবান নৃসিংহদেব এইভাবে ব্রহ্মাকে নির্দেশ দিয়ে, ব্রহ্মা কর্তৃক পূজিত হয়ে সেই স্থান থেকে অন্তর্হিত হয়েছিলেন।
এরপর কমলাসন ব্রহ্মা শুক্রাচার্য প্রভৃতি মুনিদের সঙ্গে মিলিত হয়ে প্রহ্লাদকে দৈত্য এবং দানবদের অধিপতি করেছিলেন। তারপর ব্রহ্মা আদি দেবতাগণ প্রহ্লাদ মহারাজ কর্তৃক যথাযথভাবে পূজিত হয়ে, প্রহ্লাদকে চরম আশীর্বাদ প্রদান করে তাঁদের স্বধামে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন। "