অমৃতের সন্ধানে

অমৃতের সন্ধানে ১।পেজটা শুধু ধর্মীয় কাজে ব্যবহৃত হয়।
?

07/07/2023

নমস্কার সবাইকে🙏🙏
খুব শীঘ্রই আমরা নতুন লাইভ নিয়ে আসবো।সেই পর্যন্ত সবাই লাইক ও ফলো দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।।

নমস্কার সবাইকে 🙏🏾🙏🏾"ঘোষ বাড়ির খাঁটি ঘি"সম্পূর্ণ ভ্যাজালমুক্ত,ঘরোয়া পরিবেশে তৈরী,সুস্বাদু ও সুঘ্রাণযুক্ত,পুষ্টি ও গুণাগুণ...
05/04/2023

নমস্কার সবাইকে 🙏🏾🙏🏾
"ঘোষ বাড়ির খাঁটি ঘি"
সম্পূর্ণ ভ্যাজালমুক্ত,ঘরোয়া পরিবেশে তৈরী,সুস্বাদু ও সুঘ্রাণযুক্ত,পুষ্টি ও গুণাগুণে ভরপুর।
১কেজি-১৬৫০টাকা
৫০০গ্রাম-৮৫০ টাকা
২৫০গ্রাম-৪৫০ টাকা
অর্ডার করতে যোগাযোগ করুন
+৮৮০১৮৯৪-৭৮৯৬৭৫ &
+৮৮০১৭৬৫-৬২৭০৬৫ এই নাম্বারে।
প্রো:সুকুমার ঘোষ।

🖤 উত্তরীয় প্রস্তুত 🖤ও৩ম্ কৃণ্বন্তো বিশ্বমার্যম্শারদ উৎসবকে রাঙ্গিয়ে তুলতে, বাংলাদেশ অগ্নিবীর কর্তৃক প্রকাশিতঃ১.উত্তরীয়/ ...
16/09/2022

🖤 উত্তরীয় প্রস্তুত 🖤

ও৩ম্ কৃণ্বন্তো বিশ্বমার্যম্
শারদ উৎসবকে রাঙ্গিয়ে তুলতে, বাংলাদেশ অগ্নিবীর কর্তৃক প্রকাশিতঃ

১.উত্তরীয়/ নামাবলী=৩৫০ টাকা
২.ভারতীয় ধুতি=৬৫০ টাকা
(কুরিয়ার চার্জ প্রযোজ্য)

✅ নিম্নলিখিত নাম্বারে যোগাযোগ করুন -
লনীদাশ
শ্রীমঙ্গল, সিলেট।
01628739888 (পার্সনাল নগদ)
01745150032 (বিকাশ)
01680036328 ( bikash)

[বি.দ্রঃ সদস্যদের কথা চিন্তা করে সীমিত সংখ্যক করা হয়েছে তাই দ্রুত অর্ডার করুন ]

 #রথযাত্রা  ✅ #সত্যিই_কি_শুধুমাত্র_বছরের_একটি_দিনই_রথযাত্রা❓আসুন আমরাও সেই যাত্রার যাত্রী হই, সত্যের পথ যাত্রী 🙏 "রথস্থ ...
01/07/2022

#রথযাত্রা ✅
#সত্যিই_কি_শুধুমাত্র_বছরের_একটি_দিনই_রথযাত্রা❓
আসুন আমরাও সেই যাত্রার যাত্রী হই, সত্যের পথ যাত্রী 🙏

"রথস্থ বামনং দৃষ্টা পুনর্জন্ম ন বিদ্যতে।"
অর্থাৎ, রথের উপরে খর্বাকৃতি বামন জগন্নাথকে দর্শন করলে তার পুনর্জন্ম হয় না। তাই রথরজ্জু ধরে রথটানা মহাপুণ্য কর্ম বলে সনাতন ধর্মে স্বীকৃতি লাভ করেছে।

শাস্ত্রবাক্য হয়তো মিথ্যা নয়। সত্যিই জগন্নাথ দর্শন পুনর্জন্মচক্র থেকে জীবকে রক্ষা করে। শুধু জানতে হবে যে, " ি?" "বামন" মানেই বা কি? তবে বিষয়টা একটু রুপক, দার্শনিক ও আধ্যাত্মিক।

তাই চলুন একটু বেদ উপনিষদের আলোকে ব্যতিক্রমভাবে চিন্তন করি! বাহ্যিক নয়, বরং আধ্যাত্মিক!! আর যারা এই আধ্যাত্মিকতার ভেতরে প্রবেশ করতে সমর্থ তারাই প্রকৃত তত্ত্ব উপলব্ধি করতে পারেন। আসুন চেষ্টা করে দেখি-

"আত্মানম্ রথিনম্ বিদ্ধি শরীরম্ রথমেব তু।
বুদ্ধিম্ তু সারথিম্ বিদ্ধি মনঃ প্রগ্রহমেবচ॥
ইন্দ্রিয়ানি হয়ানাহুর্বিষয়াম্স্তেষু গোচরান।
আত্মেন্দ্রিয়মনোয়োক্তম্ ভোক্তেত্যাহুর্মনীষিনঃ॥"
#কাঠোপনিষদ ১/৩/৩-৪

#ভাবার্থ- আমাদের প্রত্যেকের শরীর হল রথ, আর বামন জগন্নাথ (আত্মা ও পরমাত্মা) হল সেই রথের স্বামী, আমাদের মন হল লাগাম, ঘোড়াগুলি হল ইন্দ্রিয়, এবং মনীষীগণ(যোগীপুরুষ-আমরা) বুদ্ধিরূপী সারথির নিয়ন্ত্রণে মন ও ইন্দ্রিয়কে বশীভূত করে (বিষয়রুপী) জীবন পথে পরিচালনা করে পরমাত্মামুখী যাত্রা(শুদ্ধজ্ঞানের দ্বারা কর্ম) করে উনার আশ্রয় লাভ করে(ঈশ্বরপ্রাপ্তি)।

পবিত্র বেদ বলে-
ইচ্ছন্তি দেবাঃ সুন্বন্তং সামবেদ ৭২১
অর্থাৎ বিদ্বানেরা নিজেকে জানার মধ্য দিয়ে ঈশ্বরকে জানার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।💖

আমরা যে রথ স্থুল দৃষ্টিতে দেখি, জ্ঞানীরা আধ্যাত্মিকভাবে তার মধ্যেই আত্মদর্শন করে ব্রহ্মকে প্রাপ্ত হোন। জীব যদি আত্মদর্শনের মধ্য দিয়ে ঈশ্বরদর্শন তথা প্রাপ্ত করে, তবে পুনর্জন্ম হবে কিভাবে? এটাই হল রথযাত্রার আধ্যাত্মিক মোটিভ । তাই তো বেদে বলা আছে-

"যং দেবাসোহবথ বাজসাতৌ যং শূরসাতা মরুতো হি তে ধন।
ত্রাতযাবাণমং রথমিন্দ্রসানসিম রিষ্যন্তমারুহে মা স্বস্তয়ে।।"
#ঋগ্বেদ ১০/৬৩/১৪

#বঙ্গানুবাদ- হে উজ্জ্বল দিব্য ধনের অধিকারী বিদ্যান পুরুষ! অন্ন, বল ও হিতকর ধনাদি লাভের জন্য ঈশ্বর লাভের সাধন যে রথকে তোমরা রক্ষা কর, সেই সুগঠিত রথে কল্যাণের জন্য আমরা আরোহন করি।

#ভাবার্থ- বিদ্বান পুরুষের নাম মরুত এবং শরীরের নাম রথ। এই রথ শুধু অন্ন, বল, ও ধন লাভেরই সহায়ক নয়- ইহা ঈশ্বর লাভেরও সহায়ক। নীরোগ শরীর রূপী রথকে ব্রাহ্মমুহূর্তে জড়িয়া সন্ধ্যোপাসনায় লাগাইবে।

শরীররূপী প্রকৃত রথকে চিনুন, আর সেই রথের ভেতরে বিদ্যমান রথি (জগতের নাথ জগন্নাথকে) চিনুন, চিনতে পারলে ও তাকে জানতে পারলেই জীবন সার্থক। তাই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় বলতে চাই-

"রথযাত্রা, লোকারণ্য, মহা ধুমধাম,
ভক্তেরা লুটায়ে পথে করিছে প্রণাম।
পথ ভাবে ‘আমি দেব’, রথ ভাবে ‘আমি’,
মূর্তি ভাবে ‘আমি দেব’—হাসে অন্তর্যামী।"

তাই শেষ করার পূর্বে উপনিষদকারের ভাষায় বলতে চাই-

"উত্তিষ্ঠত জাগ্রত প্রাপ্য বারণন্ নিবোধত।
ক্ষুরস্য ধারা নিশিতা দুরত্যয়া
দুর্গং পথস্তৎ কবয়ো বদন্তি।।"
িষদ ১/৩/১৪.

#সরলার্থ- উঠ, জাগো, শ্রেষ্ঠ আচার্যগণের নিকট গিয়ে তত্ত্ব (সত্য তত্ত্ব) অবগত হও। মেধাবিগণ বলেন যে, ক্ষুরের তীক্ষ্ণীকৃত অগ্রভাগ যেমন দুর্গম, উক্ত পথও সেইরূপ দুর্গম।

তাই প্রতিনিয়ত সকলের রথযাত্রা শুভ হোক, কল্যাণময় হোক, শান্তিময় হোক, আনন্দময় হোক। রথীর নিকট এই কামনাই করি।

ওম্ শান্তি শান্তি শান্তি।

ओ३म्নমস্কারনিরাকার ঈশ্বরের মাধ্যমে বেদজ্ঞানের প্রবাহবিদ্যার বা জ্ঞানের আদান-প্রদানের মাধ্যম হলো ভাষা। নিজের থেকে ভিন্ন, ...
28/06/2022

ओ३म्
নমস্কার

নিরাকার ঈশ্বরের মাধ্যমে বেদজ্ঞানের প্রবাহ

বিদ্যার বা জ্ঞানের আদান-প্রদানের মাধ্যম হলো ভাষা। নিজের থেকে ভিন্ন, অপর‌ কোনো ব্যক্তিকে বোঝানোর জন্য বাণী দ্বারা শব্দোচ্চারণের‌ আবশ্যকতা হয়ে থাকে। অর্থাৎ, যখন‌ উপদেশ্য‌ এবং উপদেষ্টার মধ্যবর্তী দূরত্ব বেশি হয় তখন‌ ভাব আদান-প্রদানের জন্য বর্ণোচ্চারণের প্রয়োজন হয়ে থাকে, পরন্তু যখন‌ নিজে মনে মনে কথা বলা হয়, অর্থাৎ, যখন‌ আমরা চুপচাপ অবস্থায় কোনো বিষয়ে চিন্তন করি, তখন সংকল্প-বিকল্প অথবা প্রশ্নোত্তরের শৃঙ্খলায় কণ্ঠ-তালু-জিহ্বা প্রভৃতির কাজ ছাড়াই আমাদের মনে‌ সূক্ষ্মরূপে ভাষা‌ ক্রিয়াশীল হয়ে থাকে। মনের ভেতর বলে চলা সেই সূক্ষ্ম ভাষা আমাদের দ্বারা উচ্চারিত স্থূল ভাষার সংস্কারগুলোর স্মৃতিরূপ হয়ে থাকে । সৃষ্টির আদিতে যখন পরমাত্মা ঋষিগণের‌ হৃদয়ে বেদ জ্ঞান প্রদান করেন, তখন অন্তর্যামী হ‌ওয়ার কারণে ঋষিগণের হৃদয়ে বিদ্যমান আত্মায় বেদ এবং তাঁর ভাষার সংস্কার প্রদান পূর্বক তিনি তাঁদের উদ্‌বুদ্ধ করেন। তখন‌ অর্থসমূহ জানার জন্য সেই শব্দরাশিকে তাঁরা এমনভাবে উচ্চারণ করতে থাকেন‌ যেমনভাবে কোনো ব্যক্তি পূর্বে জ্ঞাত বাক্যসমূহ নিদ্রা ভেঙ্গে জাগ্রত হয়ে উচ্চারণ করতে থাকে। এই সমস্ত প্রক্রিয়া জীবাত্মার মস্তিষ্কগত হৃদয়প্রদেশে‌ সংঘটিত হয়। সেই স্থানেই স্থিত পরমেশ্বর‌ দ্বারা জীবাত্মার‌ উক্ত প্রেরণা প্রাপ্ত হয়ে থাকে। অতঃ শব্দের উচ্চারণের মাধ্যমে উপদেশের আবশ্যকতা হয় না।
এক আত্মা দ্বারা অপর আত্মায় এই প্রকার ভাব প্রদানের‌ প্রক্রিয়া কোনোরূপ অলৌকিক নয়। Mesmerism একটি অত্যন্ত নিম্ন‌ স্তরের সিদ্ধি। ধ্যানের‌ একাগ্রতা‌ দ্বারা‌ কোনো ব্যক্তি‌কে প্রভাবিতকারী এই বিদ্যা‌কে আয়ত্ত করে তার‌ নিজ সংকল্পশক্তি দ্বারা‌ অপর‌ ব্যক্তিকে Mesmerism এর মাধ্যমে বশ‌ করে তার দ্বারা‌ যা‌ ইচ্ছা তা‌ করাতে পারে। উক্ত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে Mesmerism আয়ত্তকারী তার স্বভাষাকে অপর কারো হৃদয়ে‌ সঞ্চরণ করাতে সক্ষম হয়। এইভাবে যে ভাষাকে প্রযোজক জানেন, তা তিনি সেই ভাষা সম্পর্কে অনভিজ্ঞ লোকের দ্বারাও কথন করাতে পারেন। কলেজের পাঠ না নেওয়া অশিক্ষিত পিয়নকেও জার্মান ও ইংরেজি ভাষায় কথা বলতে দেখা গিয়েছে। যখন‌ সাধারণ একজন মানুষ অভ্যাস দ্বারা মনোবলের শক্তিতে নিজের সুপ্ত শক্তিসমূহকে জাগ্রত করে তার বিশিষ্ট সামর্থ্য দ্বারা নিজ থেকে ভিন্ন অপর কোনো ব্যক্তির হৃদয়ে তার নিজ ভাষা এবং ভাবের সঞ্চরণ করতে পারে এবং প্রভাবিত ব্যক্তি প্রযোজক অথবা সংক্রাতার ইচ্ছানুসারে ব্যবহার, চলা-ফেরায় বিবশ‌ হয়ে যায় ; তাহলে জীবাত্মায় স্থিত সর্বান্তর্যামী তথা সর্বশক্তিমান পরমাত্মা দ্বারা এরূপ প্রক্রিয়ায় জ্ঞান প্রদান সর্বথা সম্ভব এবং প্রধান বিষয়, সর্গের আদিতে যে‌ চার‌ ঋষিগণের‌ আত্মায় এই পরম জ্ঞান প্রদান করা হয়েছে, তাঁরা বিশিষ্ট সংস্কারী আত্মা ছিলেন। বেদের প্রকট হ‌ওয়ার জন্যই মাধ্যম রূপে তাঁদের প্রাদুর্ভাব হয়েছে। এই প্রকারে সর্বান্তর্যামী পরমাত্মাকে তাঁর নিজ জ্ঞান প্রদানের‌ জন্য মুখ,‌ জিহ্বা প্রভৃতি অবয়ব সমূহের‌ কোনোরূপ আবশ্যকতা হয় না।
যেমনভাবে পরমেশ্বর পক্ষীজগতকে‌ বিভিন্ন কারুকার্যময় নীড় বানানোর যথাবৎ জ্ঞান দিয়েছেন, যেমনভাবে ‌ মৌমাছিকে অনেক কোষ্ঠযুক্ত চাক বানানোর‌ এবং মধু সংগ্রহ করার রাসায়নিক প্রক্রিয়া দিয়েছেন, যেমনভাবে ‌মৎস্যকুলকে সাঁতার কাটার এবং বানর জাতিকে লাফিয়ে চলার‌ জ্ঞান দিয়েছেন, ময়ূরের নাচা‌ এবং নবজাত শিশুর‌ স্তনপান করা শিখিয়েছেন, তদ্রুপ তিনি মনুষ্যজাতিকে সর্বপ্রকার জ্ঞানের জন্য বেদরূপী জ্ঞান প্রদান করেছেন।
ইন্দ্রিয় সমূহ‌, হস্ত-পদ‌ রহিত হ‌য়েও‌ নিরাকার পরমেশ্বর‌ সৃষ্টির রচনা করেন। সাধনরূপে হাত, পা প্রভৃতি অঙ্গের আবশ্যকতা বাহ্যিক ক্রিয়া সম্পাদন করার জন্য প্রয়োজন হয়ে থাকে। সমগ্র‌ ব্রহ্মাণ্ড‌ সেই বিরাট্‌ প্রভুর‌ বিরাট‌্‌ শরীরে স্থিত এবং সেই প্রভু‌ও সমগ্র‌ সৃষ্টির মধ্যে অবস্থান করছেন। যে সর্বব্যাপ‌ক, সর্বশক্তিমান প্রভু তাঁর অসীম সামর্থ্য‌ দ্বারা‌ হস্ত-পদ বিনা‌ই অনন্ত ব্রহ্মাণ্ড রচনা করতে পারেন, তাঁর জন্য বাহ্যিক কোনো ক্রিয়া দ্বারাই‌ ঋষিগণের‌ হৃদয়ে পরম সত্য জ্ঞান প্রদান অত্যন্ত সাধারণ বিষয়।
ঋগ্বেদে চার প্রকার বাক্-এর কথা বলা হয়েছে। যা পরবর্তীতে - পরা‌, পশ্যন্তী, মধ্যমা‌ এবং বৈখরী - এই চার প্রকার বাণী রূপে ব্যাখ্যাত হয়েছে।
পরা -- আত্মার মুখ্য‌ শক্তিরূপ, এর কোনো স্বরূপ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
পশ্যন্তী -- সেই বাক‌ যাতে‌ শব্দ‌ এবং অর্থ একরূপে অবস্থান করে, উভয় বিভক্ত হয় না, এই বাক কেবল প্রকাশরূপে বর্ণন করা হয়ে থাকে।
মধ্যমা -- শব্দ এবং অর্থের‌ বিভাগ বিদ্যমান। কিন্তু শব্দের প্রকাশ কেবল হৃদয় দ্বারা হয়ে থাকে, কন্ঠ-তালু আদি‌র কোনো প্রয়োজন হয় না এবং এই শব্দ কেউ শুনতে পায় না। মনুষ্য‌ একে মনে মনে কথা বলা এমনটা সম্বোধন করে।
বৈখরী -- এই বাক দুইভাগে বিভক্ত । উপাংশু ভাষণ অর্থাৎ, মৃদুস্বর প্রয়োগে বাক্যালাপ এবং দ্বিতীয়টি উচ্চৈঃ স্বর‌ প্রয়োগ দ্বারা ভাষণ‌ যা‌ সমস্ত মনুষ্য শ্রবণে‌ সামর্থ্য ।
এই চারটি বাকের মধ্যে পরা‌, পশ্যন্তী এবং মধ্যমা‌য় কণ্ঠ-তালুর ব্যাপার‌ নেই।
ঈশ্বরের বাণী সম্মুখাভিমুখ ভাবে প্রকট‌ হয় না ।
যে‌ ঋষিগণের হৃদয় রাজস্‌-তামস্‌ বৃত্তিসমূহ থেকে অসম্পৃক্ত হয়, তাঁরা যখন‌ তাঁদের নির্মল‌, স্বচ্ছ‌, নির্দোষ‌ চিত্তকে পরমেশ্বরের সর্বজ্ঞতা‌য় তৎস্থ করেন তখন তাদের স্ফটিকমণিতুল্য‌ চিত্তে পরমেশ্বরের জ্ঞান প্রকাশ পায়। এই প্রকারে মধ্যমা বাক্‌ দ্বারা বেদ সেই ঋষিগণ প্রাপ্ত হন।
বেদ জ্ঞান প্রকটের জন্য পরমেশ্বরের না বলার‌ প্রয়োজন‌ হয়েছে এবং না ঋষিগণের শ্রবণের জন্য কর্ণের‌ প্রয়োজনের আবশ্যক হয়েছে। ঋষিগণ বৈখরী বাণী দ্বারা বেদ জ্ঞানকে এই মনুষ্যলোকে প্রচার এবং প্রসার করেন।
ঋগ্বেদ ১০/৭১/৩ নং মন্ত্রে বর্ণন হয়েছে -- ঋষিগণের অভ্যন্তরে প্রবিষ্ট বাণী মনুষ্যগণ গ্রহণ করে ।
অবিদ্যা এবং মোহের আবরণ নাশ হ‌ওয়ার পর যখন‌ আত্মশক্তির পূর্ণ বিকাশ হয় তখন পরমাত্মার জ্যোতির প্রকাশে আত্মা দ্বারা আনন্দ-কোষ প্রাপ্তি হ‌ওয়ার পর জ্ঞানময়ী পরা বাণীর শব্দানুভূতি হয়ে থাকে। তৎপশ্চাৎ পশ্যন্তী, মধ্যমা‌ এবং অন্তে বৈখরী বাণীর রূপ উদ্ভুত হয়। অনন্ত একরস জগদ্‌ব্যাপী পরমাত্মায় পরা-বাণীরূপে বেদমন্ত্র সদা অবস্থান করে। পরমাত্মার সহিত জীবাত্মার হৃদয়ের যোগসূত্র হ‌ওয়ার পর যোগ দ্বারা জীবাত্মার স্বাভাবিক গুণ আনন্দে লীন হয়ে পরা-বাণীর অনুভূতি অনুভব করে।
উক্ত বচনের‌ সমর্থনে শঙ্করাচার্য তাঁর বেদান্ত ভাষ্যে বর্ণনা করেন – "অভিষ্ট অর্থের অনুষ্ঠানকারী মনুষ্য‌ সেই অর্থের বাচক‌ শব্দকে প্রথমে স্মরণ করে পরে‌ তার অনুষ্ঠান করে – যা‌ আমাদের‌ সবার প্রত্যক্ষ। প্রজাপতি স্রষ্টার‌ও সৃষ্টির পূর্বে বৈদিক শব্দ প্রকট‌ হয়েছিলো। তৎপশ্চাৎ তদনুসার অর্থসমূহ সৃষ্টি করেছেন। এমনটা প্রতীত হয়। এ কারণে তালু প্রভৃতির সহায়তা ছাড়াই শব্দের‌ অনুভূতি হয়েছে। এই মত সযুক্তিক এবং সপ্রমাণ।

এখানে আর‌ও একটি শঙ্কার‌ সমাধান আবশ্যক‌ যে‌, সৃষ্টির আদিতে অগ্নি আদি চার ঋষিগণের হৃদয়েই কেন বেদ জ্ঞানের প্রকাশ হয়েছে?

সমাধান – সৃষ্টির আদিতে পরমেশ্বর‌ ব্রহ্মবিৎ‌ অগ্নি আদি‌ নামক পরম পবিত্র‌ আত্মাগণে ঋগ্বেদাদি বেদ জ্ঞানের প্রকাশ করেছেন। এই বিষয়ে ঋগ্বেদ‌ ১০/৭১/১ নং মন্ত্রে বর্ণিত হয়েছে –
বৃহস্পতে প্রথমং বাচো অগ্রং যৎপ্রৈরত নামধেয়ং দধানাঃ ।
যদেষাং শ্রেষ্ঠং যদরিপ্রমাসীৎপ্রেণা তদেষাং নিহিতং গুহাবিঃ ll

সৃষ্টির আদিতে পদার্থসমূহের‌ নামরূপকে গ্রহণ পূর্বক‌ ঋষিগণের‌ হৃদয়গুহায় বৃহস্পতি (বৃহৎ লোকসমূহের পতি জগদীশ্বর) তাঁর শ্রেষ্ঠ বাণী‌ প্রেরিত করেছেন । হৃদয়গত প্রেরণার জন্য মুখ‌ থেকে শ্রবণ করা বা কোনো বাহ্যিক অঙ্গের প্রয়োজন অনাবশ্যক –" স্বয়ং‌ তদন্তঃকরণেন‌ গৃহ্যতে " – হৃদয়ে প্রেরণা প্রাপ্তকারী শুদ্ধান্তঃকরণযুক্ত ব্যক্তি অনায়াসেই গ্রহণ করতে পারে । পরমেশ্বর অগ্নি আদি ঋষিগণ যাঁদের পরম জ্ঞান প্রদানের জন্য বরণ করেছেন, তাঁরা মোক্ষ‌ অবধি‌ দীর্ঘকাল‌ পর্যন্ত সেই পরমেশ্বরে লীন থেকে পুনরায় আগমনকারী বিশিষ্ট জীব ছিলেন। অত‌এব এই মহান কার্যের জন্য এই ঋষিগণ ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যম। ঈশ্বরে প্রণিধান ( স্থিতি ) হ‌ওয়ার দরুণ তাঁদের অন্তঃকরণে‌ দীপ্ত হ‌ওয়ার পর পরমেশ্বরকে যোগ‌ দ্বারা প্রত্যক্ষ হ‌ওয়ার‌ ফলে পরম সত্য বেদের প্রকাশ হয়, অর্থাৎ, নির্মল‌ বুদ্ধির জ্ঞানগ্রাহক‌ স্বাভাবিক গুণের কারণ‌ বেদ‌ পবিত্র‌ ঋষিগণের‌ আত্মায় সংক্রান্ত (প্রতিভাসিত‌) হয়েছে ।

- - বিদুষাং বশংবদঃ
নমস্কার

বাংলাদেশ অগ্নিবীর
সত্য প্রকাশে নীর্ভিক সৈনিক

💢 বৈদিক শাস্ত্রে ধর্ষণের শাস্তি কী বলা হয়েছে ❓সনাতন ধর্ম বিশ্বমানবতার ধর্ম ও একমাত্র ঐশ্বরিক সংবিধান বেদের উপর ভিত্তি কর...
27/06/2022

💢 বৈদিক শাস্ত্রে ধর্ষণের শাস্তি কী বলা হয়েছে ❓

সনাতন ধর্ম বিশ্বমানবতার ধর্ম ও একমাত্র ঐশ্বরিক সংবিধান বেদের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত । বেদ ও বেদানুকূল শাস্ত্রে সনাতন ধর্মের বিধিবিধান যে শ্রুতি-স্মৃতি-সদাচার-প্রিয়াত্মনের ন্যায়দণ্ডে স্থাপিত হয়েছে তাতে কোন পক্ষপাত বা ভেদাভেদ নেই । এখানে কেউ জন্মগতভাবে বা জাতিগতভাবে অভিশপ্ত কিংবা অনন্তকাল শাস্তিভোগী নয় । বৈদিক সনাতন ধর্মে যুদ্ধ কিংবা সমাজ ব্যবস্থা কেবল মানুষের কল্যাণের নিমিত্তে এবং তাতে অনুপম যে মানবীয় ও নৈতিক গুণাবলীর সমাবেশ রয়েছে তা অতুলনীয় । নারী হোক যে গৃহবধূ কিংবা যুদ্ধবন্দিনী আমাদের নিকট পূজ্য । "মাতৃবৎ পরদারেষু" এই নীতির উত্তরসূরী সনাতনীদের নিকট তাই কোন বহিরাগত অপসংস্কৃতির যুদ্ধতত্ত্ব কখনোই গ্রহণযোগ্য নয় । আমরা খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে একটি লেখা প্রকাশ করবো । প্রাথমিকভাবে আমরা ধর্ষণ সম্পর্কে শাস্ত্রে কি বলা হয়েছে সেটি জানার পূর্বে ধর্ষণ কি জেনে নেবো ।

✅ ধর্ষণ কাকে বলে ❓

১। অধিকাংশ বিচারব্যবস্থায় ধর্ষণ বলতে কোনো ব্যক্তি কর্তৃক অন্য কোনো ব্যক্তির অনুমতি ব্যতিরেকে তার সঙ্গে যৌনসঙ্গমে লিপ্ত হওয়া কিংবা অন্য কোনোভাবে তার দেহে যৌন অনুপ্রবেশ ঘটানোকে বুঝায় ।
[ Smith, ed. by Merril D. (২০০৪)। Encyclopedia of r**e (1. publ. সংস্করণ)। Westport, Conn. [u.a.]: Greenwood Press। পৃষ্ঠা 169–170 ]

২। সাধারণত একজন ব্যক্তির অনুমতি ব্যতিরেকে তার সঙ্গে যৌনসঙ্গম বা অন্য কোনো ধরনের যৌন অনুপ্রবেশ ঘটানোকে ধর্ষণ বলা হয়। ধর্ষণ শারীরিক বলপ্রয়োগ, অন্যভাবে চাপ প্রদান কিংবা কর্তৃত্বের অপব্যবহারের মাধ্যমে সংঘটিত হতে পারে। অনুমতি প্রদানে অক্ষম (যেমন- কোনো অজ্ঞান, বিকলাঙ্গ, মানসিক প্রতিবন্ধী কিংবা অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি) এরকম কোনো ব্যক্তির সঙ্গে যৌনমিলনে লিপ্ত হওয়াও ধর্ষণের আওতাভুক্ত ।
[ "Sexual violence chapter 6" (PDF)। World Health Organization। ২০০২ ]

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নারীদের প্রতি সহিংসতামূলক আক্রমণ (যার মধ্যে ধর্ষণও রয়েছে) করার পেছনে যে কারনগুলো ব্যাখা করেছেন সেগুলো হল:
(১) পারিবারিক সম্মান এবং যৌন পরিশুদ্ধতার বিশ্বাস;
(২) পুরুষরা যৌন সুবিধা পাবেই এমন মনোভাব;
(৩) যৌন সহিংসতার জন্য দুর্বল আইনকানুন
[ WHO (২৩ নভেম্বর ২০১২)। "Violence against women"]

👉 ধর্ষণের কোন একক কারণ নেই যাকে সুনির্দিষ্ট করে এই অপরাধের প্রেরণা বলা যাবে। এর পেছনে বিভিন্ন কারণ আছে যেমন: রাগ,ক্ষমতা প্রদর্শন,ধর্ষকাম, যৌন তৃপ্তি বা বিবর্তনগত কারনে। অন্যদিকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণিক কারণ খুজে পাওয়া যায় যা ধর্ষণের কারণ বলা যায়। আমেরিকান মনোবিদ ডেভিড লাইস্যাক যিনি ২০০২ সালে গবেষণা করা "অচিহ্নিত ধর্ষক" বিষয়ের সহ-লেখক ছিলেন, তিনি বলেন যে "সাধারণ মানুষের তুলনায় অচিহ্নিত ও চিহ্নিত ধর্ষকরা নারীদের প্রতি বেশি রাগ পোষন করেন, তাদের মধ্যে নারীদের উপর আধিপত্যের মনোভাব বেশি, তারা তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। তারা মধ্যে হঠাৎ ঝোকের বশে কাজ করার বিষয়টি থাকে, অসামাজিক হয়, অতি-পৌরুষ মনোভাব থাকে, কম দয়ালু হয় এবং সমাজের নিয়মকানুন মানতে চান না।
[ Lisak, David (মার্চ–এপ্রিল ২০১১)। "Understanding the predatory nature of sexual violence"। Sexual Assault Report। 14 (4): 49–64 ]

👉 যৌন আগ্রাসনকে পৌরষত্বের লক্ষণ ও বৈশিষ্ট্য বলে মনে করেন এমন অনেক পুরুষের দল আছে এবং তারা তাদের কাছাকাছি থাকা সকল পুরুষদের মধ্য থেকে বেশি উদ্দমী হয়। যুবা পুরুষদের মধ্যে যৌন আগ্রাসী আচরণ গ্যাং বা গোষ্ঠী সদস্যতার পাশাপাশি অন্য অপরাধী সহকর্মীদের সাথে সম্পর্কযুক্ত।
[ Ouimette PC, Riggs D (১৯৯৮)। "Testing a mediational model of sexually aggressive behavior in nonincarcerated perpetrat সনাতন ধর্মে যুদ্ধবন্দিনীগণ কখনোই ভোগ্যবস্তু নয় । ors": 117–130 ]

🥀 বৈদিক শাস্ত্রে ধর্ষণের শারীরিক দণ্ড থেকে শুরু করে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত বিধান রয়েছে । যদি গর্ভপাত হয় তবে নিশ্চিত মৃত্যুদণ্ড বেদের সরাসরি বিধান । এছাড়াও যদি কেউ " ম্যারিটাল রেপ " এর স্বীকার হয় তবেও রাজআইনে তার ন্যায় বিচার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে । বেদে বলা হয়েছে -

🌼
যস্ত্বা ভ্রাতা পতির্ভূত্বা জারো ভূত্বা নিপদ্যতে।
প্রজাং যস্তে জিঘাংসতি তমিতো নাশয়ামসি ॥
অথর্ববেদ ২০।৯৬।১৫
অনুবাদঃ হে স্ত্রী ! যে ব্যভিচারী পুরুষ ছলে ভাই কিংবা স্বামী হয়ে ধর্ষণ করে এবং এভাবে তোমার গর্ভস্থ সন্তানকে গর্ভপাতরূপে হত্যা করে তাকে এই জীবনেই আমরা রাজ্যাধিকারীগণ বিনষ্ট করি ।

🌼
যস্ত্বা স্বপ্নেন তমসা মোহয়িত্বা নিপদ্যতে।
প্রজাং যস্তে জিঘাংসতি তমিতো নাশয়ামসি ॥
অথর্ববেদ ২০।৯৬।১৬
অনুবাদঃ হে স্ত্রী ! যে ব্যভিচারী পুরুষ স্বপ্ন ঔষধি দ্বারা , অন্ধকারে , তোমাকে জ্ঞানরহিত করে ধর্ষণ করে এবং এভাবে তোমার গর্ভস্থ সন্তানকে গর্ভপাতরূপে হত্যা করে তাকে এই জীবনেই আমরা রাজ্যাধিকারীগণ বিনষ্ট করি ।

🌼
পর্যস্তাক্ষা অপ্রচঙ্কশা অস্ত্রৈণাঃ সন্তু পণ্ডগাঃ।
অব ভেষজ পাদয় য ইমাং সম্বিবৃৎসত্যপতিঃ স্বপতিং স্ত্রিয়ম্ ॥
অথর্ববেদ ৮।৬।১৬
অনুবাদঃ তত্ত্বজ্ঞানীদের নিন্দুক ও ব্যভিচারী পুরুষ যেন কখনো শাসনকর্তা কিংবা আমাদের স্ত্রীদের সাথে মিলিত না হয় । হে ভয় নিবারক মানব ! যে ব্যক্তি স্বামী না হয়েও স্বামীরূপে পতিব্রতা স্ত্রীদের নিকট আসতে চায় সেই ব্যক্তিকে দণ্ডদান করে অধঃপতিত করো ।

🥀 মহর্ষি মনু বলেছেন -

পরদারাভিমর্ষেষু প্রবৃত্তান্ নূন্ মহীপতিঃ। উদ্বেজনকরৈদণ্ডৈশ্চিহ্নয়িত্বা প্রবাসয়েৎ।।
মনুস্মৃতি ৮।৩৫২
অনুবাদঃ যে সব লোক পরদারসম্ভোগে প্রবৃত্ত হয় রাজা তাদের নাক-কান-ছেদন প্রভৃতি এমন উদ্বেগজনক দণ্ডের দ্বারা চিহ্নিত ক'রে দেবেন যা দেখে সকলে ভীত হয়; সেই অবস্থায় তাদের দেশ থেকে বহিষ্কৃত ক'রে দেবেন।

💢 যৌন নির্যাতনের পরিণতি বর্ণিত হয় এভাবে :
গাইনি ব্যাধি
প্রজনন ব্যাধি
যৌন ব্যাধি
বন্ধ্যাত্ব
শ্রোনীর প্রদাহজনিত রোগ
গর্ভাবস্থায় জটিলতা
গর্ভপাত
যৌন অসামঞ্জস্যতা
যৌনবাহিত রোগ সংক্রমন
আঘাত থেকে মৃত্যুর ঝুঁকি
আত্মহত্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি
হতাশা
তীব্র ব্যাথা
সোমাটিক উপসর্গের ব্যাধি
অনিরাপদ অকাল গর্ভপাত
অপ্রত্যাশিত গর্ভধারণ

[ Krug (২০০২)। Rapport mondial sur la violence et la santé। Organisation mondiale de la santé। আইএসবিএন 978-92-4-154561-7]

✅ ধর্ষিতাকে কি ত্যাগ করবে স্বামী ?

অত্রিস্মৃতি ১৯৩-১৯৪
স্ত্রীর সম্পূর্ণ অমতসত্ত্বে, যদি কেহ বঞ্চনা, বল বা চৌর্য্যপূর্ব্বক উপগত হয়, তাহা হইলে ঐ অদুষ্টা স্ত্রীকে পরিত্যাগ করা বিধেয় নহে। যেহেতু ঐ কার্য্যে স্ত্রীর ইচ্ছা ছিল না; পরে ঋতুকাল উপস্থিত হইলে ঐ স্ত্রীর সহিত সংসর্গ করিতে পারিবে ( তাহার পূর্ব্বে করিবে না ); কেমনা ঋতুকাল উপস্থিত হইলে স্ত্রীলোক শুদ্ধ হয়।

অতঃ আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি -
(১) সনাতন ধর্মে ব্যভিচার নিষিদ্ধ
(২) ধর্ষণের জন্য মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত বিধান রয়েছে
(৩) ভুক্তভোগী নারীকে ত্যাগ করা যাবে না ।

🖋️
বাংলাদেশ অগ্নিবীর
সত্য প্রকাশে নির্ভীক সৈনিক

ओ३म्   পণ্ডিত বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কারঅথর্ববেদ এবং  সামবেদের আধ্যাত্মিক ভাষ্যকার তথা অনেক প্রসিদ্ধ, মহত্ত্বপূর্ণ বৈদিক সাহি...
22/06/2022

ओ३म्

পণ্ডিত বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার

অথর্ববেদ এবং সামবেদের আধ্যাত্মিক ভাষ্যকার তথা অনেক প্রসিদ্ধ, মহত্ত্বপূর্ণ বৈদিক সাহিত্যের রচয়িতা পণ্ডিতপ্রবর শ্রদ্ধেয় শ্রী বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার, বিদ্যামার্তণ্ড বৈদিক সাহিত্য তথা আর্য‌ জগতের উচ্চকোটির মর্মজ্ঞ বিদ্বান্ ছিলেন ।
পূজ্য‌ পণ্ডিত জীর স্বরচিত জীবনী সম্বন্ধে‌ এক হস্তলেখ থেকে জানা যায় যে‌, তাঁর জন্ম ১৮৮৯ সনে‌ । তাঁর পিতা শ্রী প্রীতমদাস আর্য গুজরাম্বালা আর্যসমাজের প্রধান ছিলেন । তিনি ( পণ্ডিত জীর‌ পিতা ) তাঁর জীবনকালে মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী জীকে দর্শন করেছিলেন ।
আর্যসমাজের সিদ্ধান্তের‌ উপর‌ দৃঢ়তা থাকার‌ দরুণ‌ই তিনি তাঁর পুত্রকে গুরুকূলে প্রবিষ্ট করান ।
তাঁর বিদ্যাধ্যয়ন গুরুকূল কাঁগড়ী বিশ্ববিদ্যালয়, হরিদ্বারে গঙ্গাপারের তপঃস্থলীতে সম্পন্ন হয় । সেখানে তিনি প্রসিদ্ধ বিদ্বান্‌ মহাত্মা মুন্শীরাম (স্বামী শ্রদ্ধানন্দ সরস্বতী ) জীর সান্নিধ্যে কঠোর‌ অধ্যাবসায় দ্বারা বিবিধ বিদ্যা পরিপূর্ণভাবে আয়ত্ত করেন ।
গুরুকূল কাঁগড়ীর সর্বপ্রথম স্নাতক ছিলেন পণ্ডিত ইন্দ্র বিদ্যাবাচস্পতি তথা তাঁর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা পণ্ডিত হরিশ্চন্দ্র বিদ্যালঙ্কার । উভয়‌ই ছিলেন গুরুকূল কাঁগড়ীর সংস্থাপক মহাত্মা শ্রদ্ধানন্দ জীর সুপুত্র তথা তাঁরা দুইজন‌ই ১৯১২ সনে কাঁগড়ী থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন । পরের বছর কেউ স্নাতক ছিলেন না । তৎপশ্চাৎ ১৯১৪ সনে‌ পাঁচ জন স্নাতক সম্পন্ন করেন, তাঁর মধ্যে পণ্ডিতপ্রবর বিশ্বনাথ জী‌ও ছিলেন । তিনি গুরুকূল কাঁগড়ীর প্রথম সারির‌ তুখোড় মেধাবী‌ ছাত্র‌ ছিলেন । সমগ্র‌ বেদের পাণ্ডিত্য প্রাপ্ত করার‌ সাধনায় ব্রতী হয়ে মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতীকে গুরু মেনে তাঁর বিবিধ‌ গ্রন্থ তথা তাঁর অমৃতময় বেদভাষ্য থেকে বিবিধ‌ জ্ঞান‌ আয়ত্ত করে দৃঢ়‌ পরিশ্রম‌ তথা‌ অত্যন্ত মহত্ত্বপূর্ণ গবেষণা দ্বারা‌ তিনি বেদের‌ ভাষ্য‌ তথা বিবিধ‌ বৈদিক সাহিত্য প্রণয়ন‌ করেন । সেই সময়ে মহর্ষি দয়ানন্দ দ্বারা‌ নির্দেশিত বিশুদ্ধ বৈদিক পদ্ধতিতে‌ বেদ তথা‌ সমগ্র আর্ষ‌ সাহিত্যের‌ শিক্ষা, পঠন-পাঠন বিধির প্রদানকারী কোনো বিদ্বান্ উপলব্ধ ছিলেন না ।
বেদ তথা সমগ্র‌ আর্ষ শাস্ত্র অতিরিক্ত পণ্ডিত জী ভারতীয় দর্শন শাস্ত্র এবং পাশ্চাত্য দর্শন , রসায়নশাস্ত্র, জ্যোতির্বিদ্যা, ইংরেজি ভাষা আদির প্রসিদ্ধ বিদ্বান্ ছিলেন ।
পূজ্য পণ্ডিত জীর একটি সংক্ষিপ্ত পরিচয় তাঁর ভাষায় ব্যক্ত করছি‌, যা‌ তিনি স্বয়ং নিজ‌ জীবনী সম্পর্কে কিছু বক্তব্য রেখেছেন ।
"" আমার পিতা বজীরাবাদ, গুজরাম্বালা জেলার ( বর্তমান পাকিস্তান ) নিবাসী । তাঁর নাম লালা প্রীতমদাস। তৎকালীন সময়ে সমগ্র দেশব্যাপী আর্যসমাজ দ্বারা গুরুকূল সম্বন্ধী প্রচার, প্রসার তথা গুরুকূল শিক্ষা পদ্ধতির প্রভাবে‌ প্রভাবিত‌ তথা‌ অত্যন্ত মুগ্ধ হয়ে প্রবল পক্ষধারী ছিলেন তিনি । প্রসিদ্ধ বিদ্বান্ পণ্ডিত গুরুদত্ত বিদ্যার্থী আদি বিদ্বানগণের‌ বিদ্বতার প্রেরণায় পিতাজী মহাত্মা মুন্শীরাম জীর মাধ্যমে আমাকে গুরুকূলে প্রবিষ্ট করান‌ । আমার‌ বয়স সেই সময় প্রায়ঃ ৯ বছর ছিলো ।
প্রারম্ভে বৈদিক পাঠশালা গুজরাম্বালায় আমাকে ভর্তি করানো হয় । উক্ত বৈদিক পাঠশালা গুরুকূলের প্রারম্ভিক বীজ ছিলো এবং সঞ্চালক ছিলেন মহাত্মা মুন্শীরাম জী । শ্রী পণ্ডিত গঙ্গাদত্ত জী ব্যাকরণাচার্য উক্ত বৈদিক পাঠশালার আচার্য ছিলেন । এই পাঠশালাতে প্রসিদ্ধ ব্রহ্মচারীগণ‌ও ছিলেন তথা উচ্চ আয়ুর বিদ্যার্থীও ছিলেন । কিছুকাল পশ্চাৎ ব্রহ্মচারীদের অন্য‌ বিদ্যার্থীদের থেকে পৃথক করে গুজরাম্বালার অপর‌ একটি স্থানে রাখা হয় । সেই সময়ে পণ্ডিত বিষ্ণুমিত্র জী ব্রহ্মচারীগণের আচার্য ছিলেন । সেই সময়‌ থেকে ব্রহ্মচারী শ্রী আচার্য পণ্ডিত গঙ্গাদত্ত জী তথা পণ্ডিত বিষ্ণুমিত্র জী সমেত শ্রী মুন্শীরাম জীর অধ্যক্ষতায় গুরুকূল কাঁগড়ীতে পৌঁছাই । ""
"" ১৯১৪ সনে আমি স্নাতক প্রাপ্ত হ‌ই এবং প্রায়ঃ ২-৩ মাস পর আমাকে‌ গুরুকূলে প্রফেসর পদে‌ নিযুক্ত করা হয় । প্রারম্ভে আমাকে দর্শনশাস্ত্র তথা রসায়নশাস্ত্র পাঠ দানে‌ নিযুক্ত‌ করা হয় । সেই সময়ে গুরুকূলে বেদ পড়ানোর‌ মতো কোনো বিশেষ প্রবন্ধ ছিলো না । দর্শন পড়ানোর‌ সময় ন্যায়শাস্ত্রে আমার কোনোরূপ আগ্রহ ছিলো না , এ কারণে‌ মহাত্মা মুন্শীরাম জী তথা প্রফেসর‌ রামদেব জীর প্রেরণায় আমি বেদ পড়ানোর কার্যে রত‌ হ‌ই । আচার্য রামদেব জীর আচার্যত্বকালে আমি প্রায়ঃ ১৫ বর্ষ উপাচার্য‌ পদে‌ অধিষ্ঠিত ছিলাম । পরন্তু কতিপয় বিষয়ে‌ মতভেদ হ‌ওয়ার দরুণ আমি ত্যাগপত্র দেই । ""
"" বৈদিক সাহিত্যের লেখনকার্যে ব্রতী হ‌ই ১৯৪২ সনের‌ পশ্চাৎ, যখন‌ আমি গুরুকূল‌ সেবা‌ থেকে‌ মুক্ত‌ হ‌ই । সর্বপ্রথম আমি ‘বৈদিক গৃহস্থাশ্রম’ পুস্তক প্রণয়ন করি । রাজাধিরাজ উমেদসিংহ জীর রাজ্যারোহণকালে আমাকে রাজাধিরাজ জী আমন্ত্রিত করেন এবং রাজসূয় পদ্ধতি অনুসারে রাজসূয় যজ্ঞ করান এবং ‘বৈদিক গৃহস্থাশ্রম’ পুস্তক প্রকাশনার্থে তিনি আমাকে‌ তিন হজার রুপি প্রণামী দেন । এই সহযোগিতা দ্বারা দেহরাদূন হতে ১৯৪৭ সনে পুস্তকরূপে প্রকাশিত হয় । "
"" পাঞ্জাব বিভাজনের পশ্চাৎ লাহোর থেকে দেহরাদূন-এ চলে আসি । ১৯৭৩ সন‌ পর্যন্ত আমি কোনো প্রকার‌ সাহিত্য-গ্রন্থ প্রণয়ন করি না, কেননা সাহিত‌্য-গ্রন্থ প্রকাশনার্থের পর্যাপ্ত টাকা আমার নিকট‌ ছিলো না । ১৯২৩-২৪ সনে‌ অজমের-এ অবস্থান করে পরোপকারিণী সভার তত্ত্বাবধানে আমি ঋগ্বেদের সংশোধিত মূলপাঠ তৈরি করি এবং মথুরা-শতাব্দীর নিমিত্তে মহর্ষি দয়ানন্দ জীর‌ পুস্তকসমূহ'র দুটি সংস্কৃত সংস্করণ তৈরি করে পরোপকারিণী সভার নিকট‌ হস্তান্তর করি, পরোপকারিণী সভা থেকে মথুরা–শতাব্দীতে পুস্তক রূপে প্রকাশিত করা হয় ।""
" ১৯৫৬-৫৭ সনে আমি প্রায়ঃ দুই বছর সার্বদেশিক আর্য‌ প্রতিনিধি সভা বাটিকাতে অনুসন্ধান কার্যে রত থাকি । ‘বৈদিক অনুসন্ধান’ ত্রৈমাসিক পত্রিকার প্রকাশন তথা মহর্ষির ঋগ্বেদভাষ্য সুগম সংস্করণরূপে প্রায়ঃ এক হজার মন্ত্রের ভাষ্য পরোপকারিণী সভার নিকট হস্তান্তর করি ।
১৯৭৩ সনে‌ রায়সাহেব শ্রী প্রতাপসিংহ জী চৌধুরী করনাল দ্বারা আর্থিক সহায়তায় সামবেদের আধ্যাত্মিক ভাষ্য, অথর্ববেদ-পরিচয়, যজুর্বেদ-স্বাধ্যায় তথা পশুযজ্ঞ-সমীক্ষা গ্রন্থ পুস্তকরূপে প্রকাশিত হয় । অথর্ববেদ ভাষ্যের চারটি খণ্ড প্রকাশিত হয়েছে, পঞ্চম খণ্ড চলমান‌ । ‘শতপথব্রাহ্মণ ঔর অগ্নিচয়ন-সমীক্ষা’ গ্রন্থ ছাপানো হচ্ছে । এবং প্রত্যেক বর্ষ একটি করে গ্রন্থ প্রণয়ন করে প্রকাশনার্থের নিকট হস্তান্তর করি । এই সমস্ত কিছু রায়সাহেব শ্রী প্রতাপসিংহ জীর সহায়তায় সম্পন্ন হচ্ছে । অথর্ববেদ এর অবশিষ্ট কাণ্ডের উপর ভাষ্যকার্য‌ চলমান । লেখন কার্য এখন শনৈঃশনৈঃ গতিতে হচ্ছে । শরীরে‌র অবস্থা অবনতির‌ দিকে ।’’
যখন‌ পূজ্য পণ্ডিত জী আত্মপরিচয় লিখছিলেন, তখন অথর্ববেদ ভাষ্যের অন্তিম চার খণ্ড‌ই (অর্থাৎ ১১তম কাণ্ড থেকে ২০ তম কাণ্ড ) প্রকাশিত হয়েছিলো তথা ৫ম খণ্ড (অর্থাৎ ৯ম এবং ১০ম কাণ্ডের ভাষ্য) চলমান ছিলো । পরন্তু দেহ ত্যাগের কিছু সময়কাল পূর্বে পূজ্য পণ্ডিত জীর অত্যন্ত দৃঢ় সঙ্কল্প তথা অধ্যবসায়ের দরুণ অন্তিম খণ্ডের (কাণ্ড ১-৩) সাথে সম্পূর্ণ অথর্ববেদ ভাষ্য সম্পন্ন করে প্রকাশিত করেন । প্রবল স্বাস্থ্যহানি তথা লেখনকার্যের‌ সময় পণ্ডিত জী কাঁপা কাঁপা হাতে‌ও অথর্ববেদ ভাষ্য পূর্ণ করেন যা‌ তাঁর বিদ্বতা‌ তথা অত্যন্ত গভীর‌ সাধনা‌র‌ ফল‌ ।
গুরুকূল কাঁগড়ী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিদ্যালঙ্কার পরীক্ষায় ১৯১৪ সনে পণ্ডিত বিশ্বনাথ জী প্রথম শ্রেণীতে সর্বপ্রথম হন‌ ।
বৈদিক সাহিত্য, সংস্কৃত সাহিত্য, দর্শনশাস্ত্র এবং রসায়নশাস্ত্রে পৃথক্-পৃথক্ তথা সর্বশাস্ত্রে‌ও প্রথম অবস্থান করার কারণে পণ্ডিত জীকে‌ শ্রেষ্ঠ চারটি সুবর্ণপদক এবং বিবিধ রজতপদকে ভূষিত করা হয় । ১৯১৪ সনে‌ই গুরুকূল কাঁগড়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাধ্যায় পদে নিযুক্ত হয়ে নিরন্তর ২৮ বর্ষ সফল অধ্যাপনা করেন ।
১৯৪২ সনের‌ মার্চ মাসে উক্ত পদ‌ থেকে সেবানিবৃত হন । পদে‌ নিযুক্ত থাকাকালীন তাঁর কার্য কেবল শিক্ষা প্রদান‌ই ছিলো না, বরং উপাচার্য হ‌ওয়ার‌ দরুণ ছাত্রদের বিবিধ ব্রতপালন তথা চতুর্মুখী বিকাসের‌ও উত্তরদায়িত্বে‌ ছিলেন তিনি । সময়-সময়ে তিনি ছাত্রদের সাহিত্য সঞ্জীবনী আদি সভাতে বিবিধ বিষয়ের উপর ভাষণ দিয়েও এসবের জ্ঞানবর্দ্ধন করেছিলেন ।
বিদেশ থেকে যে‌সব ছাত্র বা বিদ্বান্ তার নিজের জ্ঞানবর্ধনার্থ গুরুকূলে‌ এসেছিলেন , তাদের‌ও বৈদিক সংস্কৃতির বিষয়ে মার্গদর্শন করাতেন তিনি তথা তারা গুরুকূল থেকে অত্যন্ত প্রভাবিত হয়ে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করতো ।
বৈদিক বিষয়সমূহের উপর বিভিন্ন প্রসিদ্ধ গ্রন্থলেখন পণ্ডিত বিশ্বনাথ জী গুরুকূলে অবস্থানকালীন‌ই আরম্ভ করেছিলেন, যদিও বিবিধ‌ বিষয়ের‌ উপর আর‌ও অনেক প্রসিদ্ধ গ্রন্থ সেবানিবৃত্তির পশ্চাতে‌ লিখেন ।
গুরুকূলে অধ্যাপক‌ পদে‌ থাকাকালীন তিনি বৈদিক পশুযজ্ঞ মীমাংসা, বৈদিক জীবন তথা সন্ধ্যা-রহস্য নামক মহত্ত্বপূর্ণ পুস্তক প্রণয়ন করেন । এসব পুস্তকের মধ্যে প্রথম পুস্তকে তিনি অনেক বৈদিক প্রমাণ তথা মহাভারত, রামায়ণ আদি আর্ষ গ্রন্থ থেকে বহুল‌ প্রমাণের‌ আধারে অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে সিদ্ধ করেন যে‌, যজ্ঞে পশুহিংসা বেদানুমোদিত কদাপি নয়, সর্বথা‌ সর্বতোভাবে নিষিদ্ধ ।
দ্বিতীয় পুস্তকে বেদমন্ত্র দ্বারা বৈদিক জীবনের নিয়ম-নীতি প্রণয়ন করেন । এই পুস্তক মথুরা-শতাব্দীতে প্রকাশিত হয় ।
তৃতীয় পুস্তকে ভূমিকা সহিত সন্ধ্যার মন্ত্রসমূহের মহত্ত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা করেছেন , এই পুস্তকের একটি বিশেষতা হলো ব্যাখ্যায় জ্যোতির্বিদ্যার বিস্তৃত প্রয়োগ‌ও করেছেন । সেবানিবৃত্তির উপরান্ত তিনি যেসব গ্রন্থ প্রণয়ন করেছেন, তার মধ্যে সামবেদ এবং অথর্ববেদ এই দুই বেদের ভাষ্য অত্যন্ত মহত্ত্বপূর্ণ তথা‌ অমৃতময় কার্য‌ ।
পণ্ডিত জীর সামবেদভাষ্য অধ্যাত্মপরক তথা এখন‌ও পর্যন্ত বিভিন্ন‌ বিদ্বান্ কৃত হিন্দীতে‌ সামবেদের যতো‌ অনুবাদ এবং ভাষ্য প্রণয়ন‌ হয়েছে, তার মধ্যে পণ্ডিত জীর‌ ভাষ্য‌ অতীব পাণ্ডিত্যপূর্ণ ।
পণ্ডিত জী অথর্ববেদ ভাষ্য উল্টা ক্রমে আরম্ভ করেন । সর্বপ্রথম ২০তম কাণ্ডের ভাষ্য করেন, তদনন্তর ১৯, ১৮,১৭ আদি কাণ্ডের ভাষ্য ক্রমানুসারে‌ করতে থাকেন ।
পণ্ডিত জী‌ উল্টা ক্রমে ভাষ্য‌ করেন এই কারণে‌ যে‌‌, প্রতীত হয় অন্তিম কাণ্ডে রহস্যময় বর্ণন অধিকতম‌ বিদ্যমান, যথা: ২০ তম কাণ্ডের কুন্তাপ সূক্ত, ১৯তম কাণ্ডের মণিবন্ধন সূক্ত, ১৮তম কাণ্ডের পিতৃমেধ-সূক্ত এবং ১৫তম কাণ্ডের ব্রাত্য-সূক্ত। ১৪তম কাণ্ডের দুইটি বিবাহ-সূক্ত , এসব সূক্তের উপর পণ্ডিত জী বিশেষ মনন-মন্থন করেছেন এবং রহস্যময়, জটিল তত্ত্ব সমূহ‌ তথা বিবাদাস্পদ সূক্ত সমূহের অত্যন্ত পাণ্ডিত্যপূর্ণ ভাষ্য পাঠকগণকে প্রদান‌ করে তাদের‌ ইন্দ্রিয়তে অন্যরকম অনুভূতির প্রলোভন হেতু উল্টো ক্রমে ভাষ্য করার বিশেষ প্রেরক নির্দেশ করেছেন ।
পণ্ডিত জী তাঁর অথর্ববেদ ভাষ্যে জ্যোতির্বিদ্য , নিরুক্ত, গণিত, ভৌতিক বিজ্ঞান, দর্শনশাস্ত্র আদি শাস্ত্রের‌ গভীর বিস্তৃত জ্ঞানের প্রয়োগ করেছেন, ভাষ্যশৈলী অত্যন্ত সুবোধ ।
পণ্ডিত জী এক প্রৌঢ় গ্রন্থ ‘শতপথব্রাহ্মণস্থ অগ্নিচয়নসমীক্ষা’ নামে প্রণয়ন করেছেন । এই পুস্তকে শতপথের জটিল অগ্নিচয়ন-প্রকরণের বিস্তৃত মীমাংসা করা হয়েছে ।
আরেকটি প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ‘যজুর্বেদ স্বাধ্যায় তথা পশুযজ্ঞ-সমীক্ষা’ । এই পুস্তকে তাঁর যজুর্বেদের সূক্ষ্ম তথা গহীন অধ্যয়নে পরিচয় পাওয়া যায় ।
তাঁর কতিপয় অন্য পুস্তক বৈদিক গৃহস্থাশ্রম, বাল সত্যার্থপ্রকাশ, ঋগ্বেদাদিভূমিকা কা সরল অধ্যয়ন, ঋগ্বেদ-পরিচয়, অথর্ববেদ-পরিচয় তথা বীর মাতা কা উপদেশ ।
তাঁর প্রগাঢ় বৈদিক বৈদুষ্য তথা অমর সাহিত্য সাধনার কারণে পূজ্য পণ্ডিত জী কে অনেক খ্যাতিমান‌ সংস্থা বিবিধ‌ উচ্চ পুরস্কারে সম্মানিত তথা পুরস্কৃত করে সেই সংস্থাগুলো স্বয়ংকে সৌভাগ্যশালী মেনেছে। পণ্ডিত জীর মাতৃ-সংস্থা গুরুকূল কাঁগড়ী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সর্বোচ্চ পূজ্যপাধি ‘বিদ্যামার্তণ্ড’ উপাধিতে ভূষিত করেছে ।
আর্যসমাজ সান্তাক্রুজ মুম্বাই ১৯৮৭ সনে পণ্ডিত বিশ্বনাথ জীকে ২১ সহস্র রুপির রাশি, রজত-পদক, উত্তরীয় এবং প্রশস্তিপত্র অর্পিত করে তাঁকে বেদবেদাঙ্গ-পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়েছে । এর অতিরিক্ত ১৯৭৯ সনে গঙ্গাপ্রসাদ উপাধ্যায় পুরস্কার তথা ১৯৮৩ সনে পণ্ডিত গোবর্ধনশাস্ত্রী পুরস্কারেও ভূষিত করা হয়েছে তাকে ।
উত্তরপ্রদেশ সংস্কৃত একাডেমী‌ও পণ্ডিত জীর‌ অমৃতময় কার্য অথর্ববেদ ভাষ্য আদি সাহিত্যকে পুরস্কৃত করেছে । পণ্ডিত জীর কী আয়ু শত বর্ষ পূর্ণ হ‌ওয়ার পর আর্য প্রতিনিধি সভা পাঞ্জাবের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি সভা প্রধান শ্রী বীরেন্দ্র জী কন্যা গুরুকূল দেহরাদূনে এক বিশাল আয়োজন করে তাঁকে সম্মানিত করা হয়েছিলো ।
এই প্রকারে উত্তরপ্রদেশে আর্য‌ প্রতিনিধি সভার‌ মন্ত্রী শ্রী ধর্মেন্দ্রসিংহ আর্য দ্বারা গঠিত সমিতির পক্ষ থেকেও পণ্ডিত জীকে অতি উচ্চ সম্মানে সম্মানিত করা হয়েছে ।
আদরণীয় পণ্ডিত জীর অনেক প্রসিদ্ধ সাহিত্যের প্রকাশন করেছেন রায়সাহেব স্ব. চৌধরী প্রতাপসিংহ জী, রামলাল কাপুর ট্রাস্ট বহালগঢ় তথা আর্য‌ জগতের শ্রেষ্ঠ বিদ্বান মহামহোপাধ্যায় পণ্ডিত যুধিষ্ঠির জী‌ মীমাংসক ।
রায়সাহেব দ্বারা আর্থিক সহায়তা যদি পণ্ডিত জী প্রাপ্ত না হতেন তাহলে‌ তিনি প্রকাশনে সন্দিগ্ধ হ‌ওয়ার দরুণ তিনি গ্রন্থ লেখন কার্যেও প্রবৃত্ত হতেন না ।
রামলাল কাপুর ট্রাস্ট তথা পণ্ডিত যুধিষ্ঠির জী মীমাংসক পণ্ডিত জীর অমৃত গ্রন্থসমূহ‌ প্রকাশনে পূর্ণ সহায়তা করেছেন ।
রায়সাহেব দেহ ত্যাগের পর সমস্যা হয়েছিলো‌ যে‌, অথর্ববেদের অন্তিম ছয়টি কাণ্ড কিভাবে প্রকাশিত হবে ।
কিন্তু অর্থাভাব হ‌ওয়ার‌ পরেও মহামহোপাধ্যায় পণ্ডিত যুধিষ্ঠির মীমাংসক জীর প্রেরণায় উক্ত ট্রাস্ট অন্তিম ছয়টি কাণ্ডের প্রকাশনের ভার বহন করে ।
পণ্ডিত বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার জীর জীবন অত্যন্ত তপস্যাময় ছিলো । তাঁর স্বভাব অতি সরল ছিলো‌ ।
আগন্তুকের আগমনে তিনি আনন্দিত হতেন । অত্যন্ত অসুস্থ অবস্থায়‌ও বিভিন্ন পত্রের উত্তর দিতেন ।
গুরুকূল কাঁগড়ীর প্রায়ঃ সমস্ত পুরানো স্নাতক তাঁর শিষ্য ছিলেন । শিষ্যগণের উন্নতি দেখে তিনি সদা প্রসন্ন হতেন তথা তিনি বিবিধ কার্যে উৎসাহিত করতেন
পণ্ডিত জী দীর্ঘায়ু ছিলেন ।
তাঁর জীবনের অন্তিম সময় পর্যন্ত তিনি বিবিধ‌ প্রসিদ্ধ লেখন-কার্যে রত ছিলেন । ১৯৯১ সনের‌ ১১ মার্চ ১০৩ বর্ষ‌ আয়ুতে‌ এই মহান‌ বৈদিক বিদ্বান দেহত্যাগ করেন ।
তাঁর শবযাত্রায় দেহরাদূন তথা গুরুকূল কাঁগড়ী, হরিদ্বারে অনেক গণমান্য ব্যক্তি সম্মিলিত হয়েছিলেন ।
পণ্ডিত জীর ধর্মপত্নী শ্রীমতী কুন্তী দেবীর জন্ম ১৮৯৮ সনে‌ ক্বেটা'র এক আর্যসমাজী পরিবারে ।
তিনি জালন্ধর‌ প্রদেশের‌ কন্যা মহাবিদ্যালয় প্রথম শ্রেণীর‌ ছাত্রী ছিলেন । পণ্ডিত জীর সমস্ত কার্যে সর্বদা তিনি সহযোগী ছিলেন । পণ্ডিত জীর দেহাবসানের সময়ে তিনি অত্যন্ত অসুস্থ ছিলেন ।
১৯৯২ সনের‌ ১৫ এপ্রিল ৯৪ বর্ষ আয়ুতে তিনি দেহত্যাগ করেন ।
পণ্ডিত জীর চার পুত্র এবং তিন কন্যা । চার পুত্র ক্রমশঃ ডা. প্রেমনাথ, শ্রী রাজেন্দ্রনাথ, শ্রী সোমনাথ তথা শ্রী রবীন্দ্রনাথ‌ ।
তিন কন্যা ক্রমশঃ শ্রীমতী কমলা ডবরাল, শ্রীমতী বিমলা বহল এবং শ্রীমতী ইন্দিরা খন্না।
ডা. প্রেমনাথ পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় চণ্ডীগঢ়ে দর্শন বিভাগের অধ্যক্ষ ছিলেন , উনি ১৯৭৫ সনে দেহত্যাগ করেন । শ্রী রবীন্দ্রনাথ খন্না বিএসএফ-এ ( BSF) ডিপুটি কমাণ্ডার ছিলেন । তিনিও দেহত্যাগ করেছেন ।
বর্তমানে পণ্ডিত জীর‌ দুইজন পুত্র এবং তিন কন্যা জীবিত আছেন ।
পণ্ডিত বিশ্বনাথ জী তাঁর ধর্মপত্নীর সহিত তাঁর কনিষ্ঠ বোন শ্রীমতী ইন্দিরা খন্না'কে নিয়ে কাম্বলী রোড, ৬১, দেহরাদূনে থাকেন ।
পণ্ডিত. বিশ্বনাথ বিদ্যালঙ্কার জী যে‌সব অমূল্য, অমৃত বৈদিক সাহিত্য রচনা করেছেন, তার জন্য তিনি সদা অমর থাকবেন ।

লেখন কার্য‌ –
1.‌ সামবেদ‌ ( আধ্যাত্মিক ভাষ্য‌ )
2. সন্ধ্যারহস্য‌
3. বৈদিক পশুযজ্ঞ মীমাংসা
4. বৈদিক জীবন
5. বৈদিক গৃহস্থাশ্রম
6.. বাল‌ সত্যার্থ প্রকাশ
7. ঋগ্বেদ ভাষ্যভূমিকা কা সরল‌ অধ্যয়ন
8. অথর্ববেদ পরিচয়
9. অথর্ববেদ ভাষ্য‌ ( ৫ খণ্ডে সম্পূর্ণ )
10. যজুর্বেদ‌স্বাধ্যায় তথা‌ পশুযজ্ঞসমীক্ষা
11. শতপথ‌ব্রাহ্মণস্থ অগ্নিচয়নসমীক্ষা
12. ঋগ্বেদ পরিচয়
13. বীর মাতা‌ কা উপদেশ

– বিদুষাং বশংবদঃ

বন্যার্তদের সহায়তায় বাংলাদেশ অগ্নিবীরের "মহর্ষি দয়ানন্দ দাতব্য সংস্থা"দেশের বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে আমরা সকলেই ...
21/06/2022

বন্যার্তদের সহায়তায় বাংলাদেশ অগ্নিবীরের "মহর্ষি দয়ানন্দ দাতব্য সংস্থা"

দেশের বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে আমরা সকলেই অবগত। শত বছরেও এমন বন্যা দেখেনি সেখানের মানুষ। খাদ্য, নিরাপদ আশ্রয়, সুপেয় জলের অভাবে তাদের প্রতিটা মূহুর্ত অতিক্রম করাই যেন চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এমতাবস্থায় আমাদের ও আপনাদের একটু সহায়তার হাত হয়তো হতে পারে এই বানভাসি মানুষদের বাঁচার আশা। তাই বাংলাদেশ অগ্নিবীর এর মহর্ষি দয়ানন্দ দাতব্য সংস্থা - Maharshi Dayanand Charitable Trust দেশের এই দুঃসময়ে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সহায়তা করতে চায় যা বরাবরের মতোই আপনাদের অনুদান ছাড়া কোনভাবেই সম্ভব নয়।

আমাদের নিকট অনুদান পাঠাতেঃ

বিকাশ ও নগদ (পার্সনাল): 01786659164.
রকেট (পার্সনাল) 01786659164-1.

বিদেশ থেকে অর্থ প্রদান করার জন্য–
Subratha Das
A/C: 2807-0311089687
Routing number: 035510228
Bangladesh Krishi Bank (Char Alexander Branch).

আশাকরি, সকলের সহযোগিতা, উদ্যোম, চেষ্টা ও শ্রম শীঘ্রই বন্যার্তদের একটু হলেও উপকারে আসবে।

বাংলাদেশ অগ্নিবীর
সত্য প্রকাশে নির্ভীক সৈনিক

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when অমৃতের সন্ধানে posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share