07/05/2026
যিনা হলো বান্দার জন্য কর্জ স্বরূপ।
একদিন বিকেলে ইউসুফ পানির মশক নামিয়ে রাখতে এসেছিল। ফাতেমা বেগম একা ছিলেন ঘরে। সেদিন জানি কী হলো ইউসুফের — শয়তান তার মনে কুমন্ত্রণা দিল। সে ফাতেমা বেগমের হাত ধরে ফেলল। এক মুহূর্ত কামভাবে হাত চেপে ধরেই দ্রুত বেরিয়ে গেল।
ফাতেমা বেগম পাথরের মতো দাঁড়িয়ে রইলেন কিছুক্ষণ। তারপর হাত দুটো বুকের কাছে চেপে ধরে কেঁদে ফেললেন।
*পনেরো বছর! পনেরো বছর ধরে এই ছেলে এই ঘরে এসেছে। শেষে...*
সন্ধ্যায় রহিম সওদাগর ঘরে ফিরে দেখলেন স্ত্রীর চোখ লাল, মুখ গম্ভীর। জিজ্ঞেস করলেন, "কী হয়েছে তোমার?"
ফাতেমা বেগম সব খুলে বললেন।
রহিম সওদাগর চুপ করে রইলেন কিছুক্ষণ। তারপর তার চোখও ভিজে উঠল।
ফাতেমা বেগম অবাক হয়ে বললেন, "তুমি কাঁদছ কেন? দোষ তো ইউসুফের!"
রহিম সওদাগর মাথা নিচু করে বললেন, "না। দোষ আমার।"
"মানে?"
"আজ দুপুরে এক মহিলা দোকানে এসেছিল চুড়ি কিনতে। পছন্দ করে বলল হাতে পরিয়ে দিতে। পরাতে গিয়ে দেখি হাতটা নরম, সুন্দর। শয়তান আমার মাথায় চাপল। আমিও কামভাবে তার হাত চেপে ধরেছিলাম।"
ফাতেমা বেগম স্বামীর মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন নিঃশব্দে।
রহিম সওদাগর দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, "আল্লাহ বদলা নিয়েছেন। ঠিক সেদিনই, ঠিক একইভাবে।"
সেই রাতে দুজনে দীর্ঘক্ষণ নামাজ পড়লেন। রহিম সওদাগর তাওবা করলেন — খাঁটি দিলে, চোখের পানি ফেলে।
পরদিন সকালে ইউসুফ মশক কাঁধে নিয়ে এল। কিন্তু দরজায় দাঁড়িয়ে সে আর ভেতরে ঢুকতে পারছিল না। মাথা নিচু, মুখ লাল।
ফাতেমা বেগম দরজা খুলতেই সে মাটির দিকে তাকিয়ে বলল, "খালাম্মা, গতকাল শয়তান আমাকে পথ ভুলিয়েছিল। আমি খাঁটি মনে তাওবা করেছি। আপনি যদি মাফ না করেন তাহলে আল্লাহর কাছে কী জবাব দেব?"
ফাতেমা বেগম চুপ করে রইলেন এক মুহূর্ত। তারপর বললেন, "আল্লাহ তোমাকে মাফ করুন।"
---
সেদিন রাতে রহিম সওদাগর স্ত্রীকে বললেন, "দেখলে? আমি যখন তাওবা করলাম, সে-ও তাওবা করল। আল্লাহর নিয়ম নীতি কত নিখুঁত।"
তারপর একটু থেমে বললেন, "ইমাম শাফিয়ি (রহঃ) বলেছিলেন — *যিনা হলো বান্দার জন্য কর্জ স্বরূপ। সেই কর্জ তার নিকটাত্মীয়দের মাধ্যমেই শোধ করা হয়।*"
ঘরে তখন গভীর নীরবতা। বাইরে বুখারার রাত নেমে আসছিল ধীরে ধীরে।
---
*যে অন্যের সম্মানে হাত দেয়, সে আসলে নিজের ঘরেই আগুন লাগায় — শুধু সময়ের অপেক্ষা।*
গল্পের একদম শেষে এই অংশটুকু যোগ করা যায়
*যে যুবক ভাবে — "এটা তো ছোট্ট একটা গুনাহ, কেউ দেখেনি" — সে ভুলে যায় যে আল্লাহর আদালতে কোনো ফাইল হারিয়ে যায় না। বদলা আসে নীরবে, অপ্রত্যাশিতভাবে — কখনো তার বোনের উপর দিয়ে, কখনো তার স্ত্রীর উপর দিয়ে, কখনো তার মেয়ের উপর দিয়ে।*
*তাই নিজেকে জিজ্ঞেস করো — তুমি কি চাও অন্য কেউ তোমার বোনের দিকে সেই চোখে তাকাক, যে চোখে তুমি আজ অন্যের বোনের দিকে তাকিয়েছ?*
*উত্তর যদি "না" হয়, তাহলে আজই তাওবা করুন। এখনই। কারণ কর্জ কিন্তু জমতে থাকে — সুদসহ।
তাওবার দরজা এখনো খোলা। কিন্তু কর্জ যত বাড়বে, শোধ করতে তত কষ্ট হবে — এবং সেই কষ্ট শুধু আপনার একার হবে না।" জিনা করার আগে পরিণতির কথা ভাবুন।