জয় বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী

  • Home
  • Bangladesh
  • Dhaka
  • জয় বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী

জয় বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী জয় বাবা লোকনাথ | Joy Baba Locknath

25/05/2026
শেখর নগর মা কালির মন্দির
24/03/2026

শেখর নগর মা কালির মন্দির

24/03/2026

সুশাসনের সর্বশ্রেষ্ঠ দৃষ্টান্ত রামরাজ্য

রাম' শব্দের অর্থ আনন্দ। রাম ভগবানের আনন্দঘন স্বরূপ। রাম নামে জীব আনন্দ লাভ করে এবং মুক্ত হয়। আজ উত্তর ভারত সহ পৃথিবী জুড়ে রামনামের বন্যা। উত্তর ভারতে রামনামের বন্যা যিনি তৈরি করেছেন, তিনি হলেন আচার্য রামানন্দ এবং তাঁর কবির, রবিদাস, তুলসীদাস আদি শিষ্যরা। তাঁদের শুদ্ধ প্রচারেই ঘরে ঘরে আজ রামনাম। প্রাণীগণ নিমেষ বা নিমেষার্দ্ধকালেও যদি শ্রীরামকে স্মরণ করে, তবে তাদের সকল অজ্ঞান বিদূরিত হয়।

নিমিষং নিমিষার্দ্ধং বা প্রাণিনাং রামচিন্তনম্।
সংসারকারণাজ্ঞাননাশকং জায়তে ধ্রুবম্।।
(স্কন্দ পুরাণ: বিষ্ণুখণ্ড, অযোধ্যা, দশম অধ্যায়, ৩৩)

"প্রাণীগণ নিমেষ বা নিমেষার্দ্ধকাল রাম চিন্তায় সংসারের অজ্ঞান বিনাশ হয়; এ বিষয়ে কোন সংশয় নেই।"

আজ পৃথিবীর সকল রামভক্তদের কাছে মন্ত্রে পরিণত হয়েছে সাধক শ্রীলক্ষ্মণাচার্যের লেখা শ্রীরামচন্দ্রের একটি ভজন। ভজনটিতে শ্রীরামচন্দ্রকে পতিতপাবন রাজারাম বলে বন্দনা করা হয়েছে। তিনি সত্যিই পতিতপাবন, যিনি গুহক চণ্ডালকে বন্ধুর মর্যাদা দিয়েছিলেন; অহোল্যাকে পাষাণ থেকে উদ্ধার করেছিলেন; শূদ্র শবরীর মুখের ফল খেয়েছিলেন; যিনি সামান্য বানরকুলকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন; যিনি প্রজার কল্যাণের জন্যে নিজের সুখ শান্তি সকলই বিসর্জন দিয়েছিলেন; যিনি অধর্মকে নাশ করে ধর্মরাজ্য সংস্থাপিত করেছিলেন; তাই অনন্তকাল ধরে অক্ষুণ্ণ থাকবে পতিতপাবন রাজারামের মহিমা।

"রঘুপতি রাঘব রাজারাম,পতিত পাবন সীতারাম।।
সুন্দর বিগ্রহ মেঘশ্যাম, গঙ্গা তুলসী শালগ্রাম।।
ভদ্র গিরিশ্বর সীতারাম,ভগত-জনপ্রিয় সীতারাম।।
জানকীরমণা সীতারাম, জয় জয় রাঘব সীতারাম।।"

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সুশাসনের দৃষ্টান্ত হল রামরাজ্য। তাই আজও পৃথিবী জুড়ে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সুশাসনের প্রসঙ্গ উঠলেই রামরাজ্য শব্দটি ব্যবহার করে। ভগবান শ্রীরাম এবং তাঁর রাজ্যশাসনের কথা শুধু মহর্ষি বাল্মিকী রচিত রামায়ণেই নয়; মহাভারত সহ বিবিধ পুরাণে উক্ত হয়েছে। শ্রীরামচন্দ্রের রাজ্যশাসনে ঋষি, দেবতা, মানুষ, পশুপাখি সহ জগতের প্রাণী মিলিত হয়ে একত্রে অত্যন্ত সম্প্রীতির সাথে বসবাস করেছিল। এ কারণেই যুগযুগ ধরে আজও মানুষ শ্রীরামচন্দ্রের জয়গাথা গেয়ে চলছে ।

ঋষীণাং দেবতানাঞ্চ মনুষ্যাণাঞ্চ সর্বশঃ।
পৃথিব্যাং সহবাসােঽভূদ্রামে রাজ্যং প্রশাসতি।।
(মহাভারত:দ্রোণ পর্ব,৫১.১২)

"শ্রীরাম রাজ্যশাসন করতে থাকলে, সমস্ত ঋষি, দেবতা ও মানুষেরা পৃথিবীতে একত্রে মিলিত হয়ে বাস করছিল।"

১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীন হওয়ার পরে, স্বাধীন ভারতের জন্যে একটি নতুন সংবিধান গ্রহণ করা হয়। সেই সংবিধানে একজন বাঙালি চিত্রশিল্পী অলঙ্কৃত ভারতবর্ষের ইতিহাস, পুরাণ, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংক্রান্ত বাইশটি ছবি রয়েছে।এ অনন্য নান্দনিক ছবিগুলো অঙ্কন করেন বিখ্যাত চিত্রশিল্পী নন্দলাল বসু (৩রা ফেব্রুয়ারি; ১৮৮৩-১৬ই এপ্রিল; ১৯৬৬)। ছবিগুলো সংবিধানের বিভিন্ন অধ্যায়ের বিষয়বস্তু অনুসারে অঙ্কিত। সেই সংবিধানের তৃতীয় অধ্যায়ে মৌলিক অধিকারের শুরুতেই মর্যাদা পুরুষোত্তম শ্রীরামচন্দ্র, দেবী সীতা এবং লক্ষ্মণের ছবি অঙ্কিত। সুশাসন এবং মৌলিক অধিকার রক্ষায় আদর্শিক দৃষ্টান্ত হিসেবে ভারতীয় সংবিধানে শ্রীরামচন্দ্রকে গ্রহণ করা হয়। কারণ শ্রীরামের রাজ্যশাসনগুণে জগৎটাই রামময় হয়ে উঠেছিল। সকলেই শান্তিতে বসবাস করত।

রামাে রামাে রাম ইতি প্রজানামভবৎ কথা।
রামভূতং জগদভূদ্ রামে রাজ্যং প্রশাসতি।।
(রামায়ণ: যুদ্ধকাণ্ড, ১২৮.১০২)

"রামরাজ্যে প্রজাবর্গের মুখে-মুখে কেবল রাম, রাম নাম এবং রামকথাই শোনা যেত। অখিল রাজ্য রামময় হয়েই থাকতো।"

রামজত্বে জগতে সকলের মুখে মুখে রাম রাম উচ্চারণ করতে করতে সমগ্র জগতই যে রামময় হয়ে গিয়েছলো, এ কথাটি রামায়ণের সাথে সাথে মহাভারতের দ্রোণপর্বেও পাওয়া যায়। রামায়ণ মহাভারত ছাড়াও বিভিন্ন পুরাণেও এ তথ্যটি পাওয়া যায়।

রামাে রামাে রাম ইতি প্রজানামভবৎ কথা।
রামাদ্রামং জগদভূদ্রামে রাজ্যং প্রশাসতি।।
(মহাভারত:দ্রোণ পর্ব,৫১.২২)

"শ্রীরামের রাজ্যশাসনকালে প্রজাদের মধ্যে সর্বদা রাম রাম রাম—এইরূপ আলােচনাই কেবল হত। এক শ্রীরামের রাজ্যশাসনগুণে জগৎটাই রামময় (পরম আনন্দময়) হয়ে উঠেছিল।

রামায়ণের অযোধ্যাকাণ্ডে বলা হয়েছে, যেখানে রাম রাজা নয়, সেই স্থান রাষ্ট্রই নয়। আজও শ্রীরাম রাজারূপে জগতের সকল মানুষের আদর্শ। শ্রীরাম হয়ত অবতার লীলা সংবরণ করেছেন। তিনি দেহধারী রূপে নেই। কিন্তু তাঁর আদর্শিক রামরাজ্য আজও আছে। সেই আদর্শ যে রাজা হয়ে বিরাজ করে, সেই স্থান অরণ্য হলেও এক সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়ে যায়।

ন হি তদ্ ভবিতা রাষ্ট্রং যত্র রামো ন ভূপতিঃ।
তদ্ বনং ভবিতা রাষ্ট্রং যত্র রামো নিবৎস্পতি।।
(রামায়ণ:অযোধ্যাকাণ্ড, ৩৭.২৯)

"যেখানে রাম রাজা নয়, সেই স্থান রাষ্ট্রই নয়। কিন্তু রাম যেখানে বাস করেন তা অরণ্য হলেও রাষ্ট্রে পরিণত হয়ে যায়।"

রামরাজ্যে সত্যযুগের মতই জগতের সকলে আনন্দে ছিলো। তাই আজও সেই আদর্শকে জাতি আদর্শিক কাঠামো হিসেবে গ্রহণ করে দেশ পরিচালনা করবে, তারাও ত্রেতাযুগের রামরাজ্যের মতই সর্বদা আনন্দময় চিত্তে বসবাস করবে। যে রাজ্যে জনগণ সর্বদা প্রসন্ন, সুখী , সন্তষ্ট, হৃষ্টপুষ্ট, ধার্কিক প্রজাহিতৈষী প্রজাকল্যাণকামী রাজ্যকেই বলে রামরাজ্য। সেই রাজ্যে কোন রোগ-ব্যধি থাকে না, দুর্ভিক্ষের ভয় থাকে না। সবাই শতবছর পরমায়ু ভোগ করে। কোন পিতামাতাকে তাঁর সন্তানের অকালে মৃত্যুমুখ দর্শন করতে হয় না। পতিপরায়ণা নারীদের বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। মনুষ্য সহ জগতের কোন প্রাণীরই অগ্নি ভয়, জলে ডুবে যাওয়ার ভয় এবং প্রবল ঝড়-ঝঞ্জার ভয় থাকে। রামরাজ্যে রোগ ব্যাধি তো দেহে আক্রমণ করতে পারে না; এমনকি সামান্য ল জ্বরের ভয়ও থাকে না। সম্পদের জনকল্যাণমুখী সুষম বণ্টন হওয়ায় রামরাজ্যে কেউ ক্ষুধার্ত থেকে ক্ষুধায় কষ্ট পায় না। সকলের ঘরের দ্বার খোলা রেখে নিশ্চিন্ত মনে শয়ন করে। কোন চোরের ভয় থাকে না। রামরাজ্যে জনকল্যাণমুখী বিবিধ প্রকারের কর্মকাণ্ডের কারণে নগর এবং রাষ্ট্রগুলো ধনধান্যে পরিপূর্ণতা পেয়ে সমৃদ্ধ হয়ে উঠে।

প্রহৃষ্টমুদিতা লোকস্তষ্টঃ পুষ্ট সুধার্মিকঃ ।
নিরাময়ো হ্যবোগশ্চ দুর্ভিক্ষ-ভয়বর্জিত।।
ন পুত্রমরণং কোচিদ্ দ্রক্ষ্যন্তি পুরুষাঃ ক্বচিৎ।
নার্যশ্চাবিধবা নিত্যং ভবিষ্যন্তি পতিব্রতাঃ।।
ন চাগ্নিজং ভয়ং কিঞ্চিন্নাপ্সু মজ্জন্তি জন্তবঃ।
ন বাতজং ভয়ং কিঞ্চিন্নাপি জ্বরকৃতং তথা।।
ন চাপি ক্ষুদ্ভয়ং তত্র ন তস্করভয়ং তথা।
নগরাণি চ রাষ্ট্রাণি ধনধান্যযুতানি চ।।
নিত্যং প্রমুদিতাঃ সর্বে যথা কৃতযুগে তথা।
(রামায়ণ : আদিকাণ্ড, ১.৯০-৯৪)

"রামরাজ্য জনগন প্রসন্ন, সুখী, সন্তষ্ট, হৃষ্টপুষ্ট ধার্মিক এবং ব্যধিমুক্ত হবে; দুর্ভিক্ষের ভয় তাদের থাকবে না।
কোন পুরুষ কখনো পুত্রের মৃত্যু দর্শন করবে না, নারীগন হবেন অবিধবা ও পতিপরায়ণা।
কোন প্রাণীরই অগ্নি ভয়, জলে ডুবে যাওয়ার ভয় এবং প্রবল ঝড়-ঝঞ্জার ভয় থাকবে না, এমনকি জ্বরের ভয়ও থাকবে না।
সেই রামরাজ্যে ক্ষুধার ভয় এবং চোরের ভয় থাকবে না। নগর এবং রাষ্ট্রগুলো ধনধান্যে সমৃদ্ধ থাকবে।
যেমন সত্যযুগের মতই রামরাজ্যে জগতের সকলেই
নিত্য আনন্দময় থাকবে।"

রাষ্ট্রে বিধবাদের বৃদ্ধি, সিংহাদির ভয়, চোর-ডাকাতের ভয়, ব্যবহারিক অনর্থ, বাল্যমৃত্যু, পারস্পরিক বিবাদ, বংশচ্ছেদন ইত্যাদির কারণ নেতা রাজার অনুচিত শাসন। বাল্যবিবাহ, বৃদ্ধ বিবাহ, বন-জঙ্গলের অনিয়ম, প্রজাদের অসুরক্ষা, চিকিৎসার জন্য চিকিৎসালয় এবং খাদ্যবস্তুর ন্যূনতা রাজ্যের দুর্ব্যবস্থার পরিণাম -এ সকল কিছুই কিছুই না রামরাজ্যে।রামায়ণের আদিকাণ্ডের সাথে সাথে যুদ্ধকাণ্ডেও আরেকবার রামরাজ্যের বর্ণনা করা হয়েছে। রামরাজ্যের বিষয়টি উপলব্ধি করাতেই আদিকবি বাল্মিকী একাধিক স্থানে এই রামরাজ্যের মাহাত্ম্য বর্ণনা করেছেন।

ন পর্যদেবেন বিধবা ন চ ব্যালকৃতং ভয়ম্৷
ন ব্যধিজং ভয়ং চাসীদ্ রামে রাজ্যং প্রশাসতি।।
নির্দস্যুরভবল্লোকো নানর্থং কশ্চিদস্পৃশৎ ।
ন চ স্ম বৃদ্ধা বালানাং প্রেতকার্যানি কুৰ্বতে।।
সর্বং মুদিতমেবাসীৎ সর্বো ধর্মপরোঽভবৎ।
রামমেবানুপশ্যন্তো নাভ্যহিংসন্ পরস্পরম্।।
আসন্ বর্ষসহস্রানি তথা পুত্রসহশ্রিণঃ।
নিরাময়া বিশোকাশ্চ রামে রাজ্যং প্রশাসতি।।
(রামায়ণ: যুদ্ধকাণ্ড,১২৮,৯৮-১০১)

"শ্রীরামের শাসনকালে বিধবাদের ক্রন্দন শোনা যেত না। সর্পাদি শ্বাপদ সহ কোন হিংস্র প্রাণীর ভয় ছিলো না, ব্যাধি থেকে উৎপন্ন ভয়ও ছিলো না।কোন রোগ ব্যাধির কাউকে কষ্ট দিতো না। দেশের কোথাও চোর, ডাকাতের ভয় তো দূরে থাক, তাদের নাম পর্যন্ত শোনা যেত না। কেউ কারো প্রতি অনর্থ বা পাপকর্ম করতো না। বৃদ্ধদের সম্মুখে কোন নবীন বা শিশুদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া করার প্রয়োজন পড়তো না। অর্থাৎ অকালে কারই মৃত্যু হত না। সকলেই সন্তুষ্ট এবং আনন্দিত চিত্তে ছিলো।সকলেই ধর্মপরায়ণ হয়ে ধর্ম আচরণ করতো।শ্রীরামকে স্মরণে রেখে একের সাথে অন্যে হিংসা করতো না। অনেক পুত্র-পৌত্র যুক্ত বংশ সহস্র বর্ষ পর্যন্ত জীবিত থাকতো। প্রজারা রোগ ও শোক থেকে মুক্ত হয়ে সানন্দে বসবাস করতো।"

রামায়ণের একাধিক স্থানেই রামরাজ্যে শ্রেষ্ঠত্বের কথা আছে। আদিকাণ্ড, যুদ্ধকাণ্ডের পরে উত্তরকাণ্ডেও বিষয়টি রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সকলের প্রতিই রামরাজ্যে ন্যায় করা হত। প্রজাদের কখনও কোন সামাঅন্যতম অসুবিধা হত না। তাই শ্রীরামের রাজ্য তাঁর রাজদরবারে কখনও কোনো অভিযোগকারী কারো প্রতি অভিযোগ জানাতেও আসতো না। সকলেই অত্যন্ত প্রসন্ন ছিলো।

নাধয়ো ব্যাধয়শ্চৈব রামে রাজাং প্রশাসতি।
পক্কসস্যা বসুমতী সর্বৌষধিসমন্বিতা॥
ন বালো প্রিয়তে তত্র ন যুবা ন চ মধ্যমঃ ।।
ধর্মেণ শাসিতং সর্বং ন চ বাধা বিধীয়তে৷৷
দৃশ্যতে ন চ কার্যার্থী রামে রাজ্যং প্রশাসতি।
প্রাঞ্জলির্ভূত্বা রামায়ৈবং নাবেদয়ৎ।
অথ রামঃ প্রসন্নাত্মা সৌমিত্রিমিদমব্রবীৎ।
ভূয় এব তু গচ্ছ ত্বং কার্যিণঃ প্রবিচারয়।।
সম্যক্ প্রণীতয়া নীত্যা নাধর্মো বিদ্যতে ক্বচিৎ।
তন্মাদ্ রাজভয়াৎ সর্বে রক্ষন্তীহ পরম্পরম্ ।।
(রামায়ণ: উত্তরকাণ্ড, প্রক্ষিপ্ত সর্গ, ১.৮-১২)

"শ্রীরামের রাজ্য শাসন কালে কারো কোনো শারীরিক রোগ হত না এবং মানসিক চিন্তাও কষ্ট দিত না। পৃথিবীতে সর্বপ্রকার ওষধি (অন্ন-ফল ইত্যাদি) উৎপন্ন হতো এবং পক্ক শস্য ক্ষেতে শোভা পেত।
শ্রীরামের রাজ্যে কোনো বালকের, যুবকের বা মধ্য বয়স্ক পুরুষের (অকালে) মৃত্যু হত না। সকলের প্রতিই ন্যায় করা হত। কারো কখনও কোনো অসুবিধা হত না।
শ্রীরামের রাজ্য শাসনকালে দরবারে কখনও কোনো অভিযোগকারী ছিল না। লক্ষ্মণ হাত জোড় করে শ্রীরামচন্দ্রকে রাজ্যের এই অবস্থা অবগত করালেন।
তারপর প্রসন্নচিত্তে শ্রীরাম সুমিত্রাকুমারকে পুনর্বার বলেন – ‘লক্ষ্মণ ! তুমি আবার যাও এবং ভালো করে সন্ধান করো।"

শ্রেষ্ঠ শাসক হিসেবে জগতের মানুষ আজও যে রাম এবং রামরাজ্যের কথা বলে। কারণ শ্রীরামচন্দ্র ছিলেন বিবিধ গুণে গুণান্বিত এক আদর্শ মানব। এই বিবিধ গুণাবলি কারণেই তাঁকে মর্যাদা পুরুষোত্তম শ্রীরামচন্দ্র বলে অবিহিত করা হয়। তিনি যেমন প্রজাসকলের মনোরঞ্জনের সর্বদা প্রচেষ্টা করতেন, তেমনি পিতা দশরথের গুণে গুণান্বিত হয়ে নিজ কিরণমালায় এক জাজ্জ্বল্যমান প্রদীপ্ত সূর্যের মত সকলের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ছিলেন। তিনি ছিলেন অজেয়, পরাক্রমী এবং সদাচারসম্পন্ন লোকপাল। তিনি ছিলেন জনগণের হৃদয়ের রাজা। তাই রামায়ণের অযোধ্যাকাণ্ডেই বলা হয়েছে, সেই রামকে পৃথিবীর সকল প্রজা প্রভুরূপে কামনা করতেন।

তথা সর্বপ্রজাকান্তৈঃ প্রীতিসঞ্জননৈঃ পিতুঃ।
গুণৈর্বিরুরুচে রামো দীপ্তঃ সূর্য ইবাংশুভিঃ।।
তমেবংবৃত্তসম্পন্নমপ্রদৃশ্যপরাক্রম্।
লোকনাথোপমং নাথমকাময়ত মেদিনী।।
(রামায়ণ: অযোধ্যাকাণ্ড, ১.৩৩-৩৪)

"প্রজাসকলের মনোরঞ্জন ও পিতার প্রীতিকর কার্যগুণে রাম, স্বীয় কিরণমালায় প্রোজ্জ্বল সূর্যের মতো প্রদীপ্ত (সকলের আকর্ষণীয়) হয়ে উঠেছিলেন।

এইরকম অজেয় পরাক্রমী সদাচারসম্পন্ন লোকপাল সদৃশ সেই রামকে পৃথিবী তথা পৃথিবীর সকল প্রজা প্রভুরূপে কামনা করতেন।"

শ্রীরাম আজও ভারতবর্ষ সহ পৃথিবীর মানুষের হৃদয়ে। পৃথিবী ব্যাপী ছড়ানো রয়েছে নামের নাম এবং সংস্কৃত। আজও পৃথিবীতে এমন মানুষেরা আছেন, যাদের শ্রীরামচন্দ্রের প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে সারা গায়ে 'জয় শ্রীরাম', 'রাম রাম', 'শ্রীরাম' লিখে রাখে। গুজরাটে সোমনাথ মন্দিরে পূজা দেয়ার সময় এমন বিষয়টি সম্পর্কে প্রথম আমি জানতে পারি। আমার পাশে বেশ কয়েকজন নারীপুরুষ পূজা দেয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে। আমি বিস্ময়ে হতবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম তাদের দেহের উর্ধাঙ্গ সহ সম্পূর্ণ মুখমণ্ডলে রামনাম লেখা। আমি বিস্মিত হয়ে ভাবতে লাগলাম, আমরা এই তথাকথিত আধুনিক শিক্ষিত মানুষেরা মুখে একটি সামান্য দাগ বা তীল হলেও এর চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছে যাই। আর এরা সারা মুখমণ্ডল সহ দেহতে রামনামের উল্কি করা। দুই অক্ষরের একটা শব্দ— ‘রাম’। তাদের থেকে শুনলাম, শুধু একবার ‘রাম’ শব্দের ‘র’ উল্কি আঁকতে তিনটে ছুঁচ শরীরে কুড়ি বার ফোটাতে হয়। শুধু 'র' লিখতেই যদি কুড়িবারের মত ছুঁচ শরীরে ফোটাতে হয়। সেই হিসেবে সারাদেহে রামনামের লেখা হাজার হাজার উল্কি করতে, কত সহস্রবার ছুঁচ ফোটাতে হয়েছে তাদের শরীরে ভাবতেই আমার চোখে জল চলে এলো। উপলব্ধি করতে পারলাম শ্রীরামচন্দ্র এবং তাঁর রামরাজ্যের আদর্শ আজও কতটা সক্রিয় সর্বশ্রেণীর মানুষের মধ্যে। মানুষগুলোর সাথে কথা বলে জানতে পারলাম, তারা পিছিয়ে পরা তথাকথিত শূদ্র শ্রেণীর। অথচ ভারতবর্ষের কিছু বুদ্ধিজীবীদের মুখে হরহামেশাই শুনতে পাই যে এই শূদ্র শ্রেণীর মানুষেরা নাকি শ্রীরামচন্দ্রকে পছন্দ করে না। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে না এবং পূজাও করে না। কথাটি যে কতটা অসত্য, তা এই পিছিয়ে পরা মানুষদের সাথে কথাবার্তায় কিছুটা সময় কাটালে এমনিতেই বুঝে যাবে। আজও অসংখ্য মানুষের বেঁচে থাকার মন্ত্র শ্রীরামচন্দ্রের আদর্শে এবং তাঁর পবিত্র নাম। ছত্তীসগঢ়ের মহানদীর তীরে আজও অসংখ্য মানুষ রামনামের উল্কি শরীরে ধারণ করে থাকে। এদের অধিকাংশই গুরু শ্রীঘাসীরাম প্রবর্তিত সৎনামি সম্প্রদায়ের।

ড. কুশল বরণ চক্রবর্ত্তী

ওঁ নম: শিবায়🔱হর হর মহাদেব
16/02/2026

ওঁ নম: শিবায়🔱
হর হর মহাদেব

শুভ বসন্ত পঞ্চমী🌸শুভ সরস্বতী পূজা। বিদ্যার দেবী সকলকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করে তুলুক। অজ্ঞানতা দূর হোক। শুভ হোক সকলকিছু।🌸...
23/01/2026

শুভ বসন্ত পঞ্চমী🌸
শুভ সরস্বতী পূজা। বিদ্যার দেবী সকলকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করে তুলুক। অজ্ঞানতা দূর হোক। শুভ হোক সকলকিছু।🌸🪔

© Dr. Kushal Baran Chakraborty
15/11/2025

© Dr. Kushal Baran Chakraborty

মন্দিরে ভগবান কোথায়?

বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের গত দুইশো বছরে এত তথাকথিত অবতারের জন্ম হয়েছে, যার সঠিক পরিসংখ্যান হয়ত কেউ দিতে পারবে না। গত পঞ্চাশ বছরে বঙ্গে যত মন্দির হয়েছে, এর অধিকাংশই বিভিন্ন গুরুদেবদের মন্দির। এ গুরুদের অন্ধ শিষ্যরা সকলেই তাদের গুরুকে ঈশ্বরের অবতার বলে মনে করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া অবস্থায় বুয়েটের এম এ রশীদ হলে আমার এক নেপালি বন্ধু ছিল। নাম ছিল উমেশ গৌতম। অসম্ভব অমায়িক স্বভাবের ছিল সে। উমেশ নিয়মিত আমাদের জগন্নাথ হলে আসত।আমিও যেতাম এম এ রশীদ হলে। লালবাগের ঢাকেশ্বরী মন্দির এবং রমনা কালী মন্দিরে বেশ কয়েকবারই যাওয়া হয়েছে। তাই ঢাকা শহরের অন্যান্য মন্দিরগুলো দর্শন করানোর জন্যে উমেশ আমাকে অনুরোধ করে। তাকে পুরাণ ঢাকার মন্দিরগুলো ঘুরে দেখাতে আমিও রাজি হয়ে যাই। সে অনুসারে ২০০৬ সালের শুরুর দিকে একটি শুক্রবারের ছুটির দিনে, উমেশকে নিয়ে আমি পুরাণ ঢাকার মন্দিরগুলো ঘুরিয়ে দেখানো শুরু করি। আমি ভাবলাম, পুরাণ ঢাকার মন্দিরগুলোকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথম ভাগে শাঁখারীবাজার, তাঁতিবাজার, সূত্রাপুর, সদরঘাট ; অন্য দ্বিতীয় ভাগে স্বামীবাগ, টিকাটুলি, গোপীবাগ ইত্যাদি। তখন আমি ভাবি, এই সপ্তাহ উমেশকে স্বামীবাগ, টিকাটুলি রামকৃষ্ণ মিশনের দিকে নিয়ে যাই, অন্য সপ্তাহ ওকে অন্যস্থানে নিয়ে যাব। এই মনে করে এক শুক্রবার বন্ধের দিন আমরা দুজনে রিক্সায় করে মন্দির দর্শন শুরু করি। প্রথমেই যাই স্বামীবাগ লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আশ্রমে। উমেশ খুবই খুশী হয় আশ্রমটি দেখে। লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আশ্রম থেকে এরপরে আমরা যাই, টিকাটুলি পুলিশ বক্সের পাশে জগদ্বন্ধু সুন্দরের মহাপ্রকাশ মঠে। সদ্য তরুণ বয়সের জগদ্বন্ধু সুন্দরের চিত্রকে অবলম্বন করে তৈরি অপূর্ব সুন্দর মূর্তিটি আকর্ষিত করে ভক্তদের। স্বর্গীয় অপূর্ব চাহনিযুক্ত বিগ্রহটির দিকে তাকালে মনে হয় জগদ্বন্ধু সুন্দর বুঝি জীবন্ত বসে আছেন। এরপরে আমরা যাই কে এম দাশ লেনে সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজের বিপরীতে ভোলানন্দ গিরি আশ্রমে। আশ্রম মন্দিরের উত্তরদিকের বেদিতে পূজিত হচ্ছে, স্বামী ভোলানন্দ গিরি মহারাজের একটি মূর্তি। মন্দিরের একই কক্ষে পশ্চিম দিকের বেদিতে পূজিত হচ্ছে স্বামী প্রণবানন্দ মহারাজের একটি বড় তৈলচিত্র। চাইলে স্বামী ভোলানন্দ গিরি মহারাজ এবং স্বামী প্রণবানন্দ মহারাজ এ দুজন শৈব সন্ন্যাসীকে একসাথে একই বেদিতে রেখেই তাঁদের পূজা করা যেত। কিন্তু সবার কাছে তাদের গুরুই ভগবান, তাই কি আর করা। একই মন্দিরে দুইপাশে দুজন মহাপুরুষের দুটি পূজার আসন। সাধারণ মানুষ অনেক সময়েই বিভ্রান্ত হয়ে যায় যে, উত্তরদিকে নাকি পশ্চিমদিকে কোনদিকে ফিরে সে প্রণাম করবে।

ভোলানন্দ গিরি আশ্রম থেকে পরবর্তীতে আমরা যাই, অপূর্ব স্থাপত্যশৈলীতে ২০০৫ সালে সদ্য নির্মিত গোপীবাগে অবস্থিত রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে। মন্দিরের চূড়ায় নটরাজের মূর্তি এবং মন্দিরের বাইরের দেয়াল জুড়ে বিভিন্ন গ্রহদেবতাদের মূর্তি দেখে আমিও মুগ্ধ হই। বন্ধু উমেশও প্রচণ্ড মুগ্ধ হয়। রামকৃষ্ণ মন্দিরের বাইরের অংশটি দেখে, আমরা মন্দিরের ভেতরে প্রবেশ করি।মন্দিরে প্রবেশ করে শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবকে প্রণাম করে চরণামৃত গ্রহণ করি। শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের বিগ্রহের কক্ষটি কাঁচ দিয়ে ঘেরা। এ কাঁচের ঘেরাও পর্যন্ত চলে গিয়ে, কাঁচে হাত দিয়ে প্রচণ্ড কৌতুহলী দৃষ্টিতে এদিক ওদিক উঁকিঝুঁকি দিতে থাকে আমার বন্ধুটি। আমি এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করি, কি হয়েছে? উমেশ একরাশ কৌতুহল নিয়ে বিস্ময়ে জিজ্ঞাসা করে, মন্দিরে ভগবান কোথায়? পদ্মের বেদিতে বসা রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব বিগ্রহ দেখিয়ে আমি বলি, ঐযে বসা আছে। উমেশ বলে, এটা তো মানুষের মূর্তি! তোমাদের বাংলাদেশে কি শুধু মানুষের মূর্তিই পূজা হয়?

সাথে সাথে আমার স্মরণ হয়, তাই তো আমি আজ লোকনাথ ব্রহ্মচারীর মন্দির থেকে রামকৃষ্ণ মন্দির পর্যন্ত যত মন্দির বন্ধু উমেশকে দেখিয়েছি, সকল মন্দিরেই পূজার বেদিতে মানুষের বিগ্রহ। যার যার গুরুদেবের ছবি বা মূর্তি পূজিত। তবে কয়েকটি মন্দিরে প্রধান বিগ্রহের সামনে বা পাশে বাণলিঙ্গ, নারায়ণ শিলা, গণেশের প্রতিমা ইত্যাদি বিগ্রহাদি পূজিত। অর্থাৎ বন্ধুকে আমার দেখানো মন্দিরগুলোতে শিব, বিষ্ণু, দুর্গা, কালী, কৃষ্ণ আমাদের পূজিত প্রাচীন দেববিগ্রহ পার্শবিগ্রহ হিসেবে থাকলেও, কোথাও মূলবেদিতে পূজিত নয়। শুধু জগদ্বন্ধু মঠে, জগদ্বন্ধু সুন্দরের সাথে একই বেদিতে রাধাকৃষ্ণ বিগ্রহ পূজিত। আমি বন্ধুর প্রশ্নের কি উত্তর দিব, ঠিক বুঝে উঠতে পারলাম না। একটু সামলে নিয়ে ওকে পাল্টা প্রশ্ন করি, তোমাদের নেপালের মন্দিরগুলোতে কি আমাদের মত এরকম মানুষের বিগ্রহাদি পূজিত হয় না? উত্তরে উমেশ বলে- দেখ বন্ধু, নেপালে যে অঞ্চলে আমাদের বাড়ি, সেখানে জন্ম থেকে কোনদিনও আমরা মন্দিরে কোন মানুষের পূজা হতে দেখিনি। একবার কিছু ভারতীয় মাড়োয়ারিরা মিলে সাঁইবাবার একটি মন্দির তৈরি করে পূজা শুরু করে। কিন্তু অনেক দিন চলে যাবার পরেও, মন্দিরে কোন নেপালিই পূজা দিতে যেত না। বিষয়টি যখন সাঁই বাবার মন্দির কর্তৃপক্ষ বুঝতে পারে, তারা তখন নিজেদের শুধরে নিয়ে পূজার মূলবেদিতে শিববিগ্রহ স্থাপন করে এবং সেই শিববিগ্রহের পায়ের কাছে সাঁইবাবার মূর্তিটি স্থাপন করে। পরবর্তীতে সাধারণ নেপালি হিন্দুরা সে মন্দিরে ধীরেধীরে যাওয়া শুরু করে।

উমেশের কথাগুলো শুনে আমি হতবাক হয়ে যাই। আমি ভাবি, আহারে আমাদের বঙ্গেও যদি এমন হত কতই না ভাল হত। নেপালিদের সাথে মিশে মনে হয়েছে, তাদের ধর্মীয় জ্ঞানের থেকে অনুভূতি এবং বিশ্বাসটা তীব্র। সাধারণ নেপালি মানুষেরা অত বেশি ধর্মীয় জ্ঞানে ডুব না দিয়েও, অন্ততপক্ষে এই সহজ সরল সত্যটা সকলেই জানে যে, মন্দিরে দেববিগ্রহ পূজিত হয়। মানুষের মূর্তি নয়। যিনি মহাপুরুষ, সাধক পুরুষ ; তাঁকে আমরা শ্রদ্ধা করব। কিন্তু সেই শ্রদ্ধা যেন শ্রদ্ধার সীমানা অতিক্রম করে না যায়। আমরা তেলবাজি করে, বর্তমানে আমাদের আশেপাশের সকল মহাপুরুষ সাধকপুরুষদেরই অবতার বানিয়ে পূজার বেদিতে বসিয়ে দিতেছি। মহাপুরুষ সাধকপুরুষদের কালী-কৃষ্ণ-শিব ইষ্টদেবতাকে বাদ দিয়ে, আমরা সাধকপুরুষদেরই আমাদের ইষ্টদেবতা বানিয়ে ফেলেছি। মহাপুরুষেরা আমাদের জীবনে সদা অনুসরণীয় ; কিন্তু তাঁরা আমাদের আরাধ্য ইষ্টদেবতা নয়। মানুষকে ভগবান সাজিয়ে পূজা করার তীব্র বিরোধিতা করেছেন শ্রীচৈতন্যদেব। এ প্রসঙ্গে তাঁর সুস্পষ্ট নির্দেশনা আমাদের সকলের স্মর্তব্য এবং অনুসরণীয়। মানুষকে অতিস্তুতি করে যে ঈশ্বরের অবতার বানিয়ে ফেলা হয়; এ বিষয়টির ঘোরতর বিরোধী ছিলেন শ্রীচৈতন্যদেব । বাংলার আনাচে-কানাচে গত দেড়শো বছরে অবতারের হাইব্রীড ফসল দিয়ে ভরে ফেলা হয়েছে।কিন্তু শ্রীচৈতন্যদেব তাঁর দূরদৃষ্টি দিয়ে বলেছেন,"জীবধামে কৃষ্ণজ্ঞান" না করতে। জীব এবং ঈশ্বর সমান নয়। যে মূর্খ জীবকে ঈশ্বরের সমতুল্য মনে করে, তাকে পাষণ্ডী বলে। যমরাজও সেই পাষণ্ডীকে দণ্ড প্রদান করে।

প্রভু কহে বিষ্ণু বিষ্ণু ইহা না কহিহ।
জীবধামে কৃষ্ণজ্ঞান কভু না করিহ।।
জীব ঈশ্বর তত্ত্ব কভু নহে সম।
জলদগ্নি রাশি যৈছে স্ফুলিঙ্গের কণ।।
যেই মূঢ় কহে জীব ঈশ্বর হয় সম।
সেই ত পাষণ্ডী হয় দণ্ডে তবে যম।।
(শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত : মধ্য, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ)

শ্রীচৈতন্যদেব সহ সকল মহাপুরুষের আদর্শে উজ্জীবীত হয়ে আমরা একটি সময়ে হয়ত একদিন জাতিকে সঠিক পথ দেখাতে পারব। সে দিন বেশী দূরে নয়, এ মানুষের মন্দিরগুলো একদিন পূর্বের মত সেই দেব মন্দির হবে। মাত্র অর্ধশতাব্দী পূর্বেও অধিকাংশ মন্দিরে দেববিগ্রহ পূজিত হত। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমানে বাংলাদেশের অধিকাংশ মন্দিরে পূজিত হয় বিভিন্ন গুরু, তার অনুসারী এবং তাদের সন্তানসন্ততি। যে মহাপুরুষ কালীর উপাসক, সেই মহাপুরুষের অনুসারীদের তৈরি মন্দিরে দেবী কালীর বিগ্রহ মূলবেদিতে থাকা উচিত। এবং দেবী কালিকার বিগ্রহের পায়ের কাছে, সেই সাধক বা মহাপুরুষের ছবি বা মূর্তি থাকতে পারে। একইভাবে যিনি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের উপাসক বা ভগবান শিবের উপাসক তাঁদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। অর্থাৎ আমাদের প্রত্যেকটি মন্দিরের মূলবেদিতে দুর্গা, কালী, শিব, বিষ্ণু, কৃষ্ণ প্রমুখ দেববিগ্রহ পূজিত হবে।এ উপাস্য বিগ্রহাদির পায়ের কাছে থাকবে বিভিন্ন সাধক এবং মহাপুরুষদের ছবি অথবা বিগ্রহ। কিন্তু নির্মম পরিহাস হল, অধিকাংশক্ষেত্রেই সাধকের ছবি বা মূর্তি পূজিত হলেও, সেই সাধকের আরাধ্য কৃষ্ণ, কালী বা শিব ইত্যাদি বিগ্রহাদি গুরুবাদী আশ্রমগুলোতে মূলবেদিতে পূজিত হতে দেখা যায় না।

ড. কুশল বরণ চক্রবর্ত্তী
সহকারী অধ্যাপক,
সংস্কৃত বিভাগ,
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

05/11/2025

কার্তিক পূর্ণিমা তিথিতে অনুষ্ঠিত হয়। এই উৎসবের মাধ্যমে শ্রীকৃষ্ণের ব্রজলীলার অনুকরণ করা হয়, যেখানে ভক্তরা তাদের আধ্যাত্মিক এবং মানসিক সংযোগকে পরমাত্মার দিকে চালিত করতে চায়। এই উৎসবে রাধাকৃষ্ণের যুগল পূজার সঙ্গে রাস नृत्य (নাচ) ও বিভিন্ন মেলার আয়োজন করা হয়।
এটি রাধা ও কৃষ্ণের মধ্যেকার গভীর প্রেম এবং ভক্তের সঙ্গে ভগবানের একাত্মতার এক প্রতীকী উৎসব। শ্রীকৃষ্ণের ব্রজলীলার মাধ্যমে জীবাত্মা থেকে পরমাত্মায় উত্তরণের এক আধ্যাত্মিক রূপান্তরকে বোঝানো হয়। রাসযাত্রা মূলত শ্রীকৃষ্ণের রাসলীলার স্মরণে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তিনি গোপিনীদের সঙ্গে এক বিশেষ নৃত্য করেছিলেন। এই উৎসবে পরিবেশিত বিশেষ নৃত্যকে রাসনৃত্য বলা হয়, যা মনিপুরী সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

#শ্রীকৃষ্ণ #রাসপূর্ণিমা #রাসযাত্রা #রাধাকৃষ্ণ জয় বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী

১৮ কার্তিক ১৪৩২ বঙ্গাব্দ শ্রী কৃষ্ণের রাসযাত্রা। রাসপূর্ণিমাতে সকলকে প্রীতি ও শুভেচ্ছা।
05/11/2025

১৮ কার্তিক ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শ্রী কৃষ্ণের রাসযাত্রা। রাসপূর্ণিমাতে সকলকে প্রীতি ও শুভেচ্ছা।

জগদ্ধাত্রী দুর্গা- ‘জয় সর্বগত দুর্গে জগদ্ধাত্রি নমোহস্তুতে’! জগদ্ধাত্রী শব্দের আভিধানিক অর্থ “জগৎ+ধাত্রী। জগতের (ত্রিভুব...
30/10/2025

জগদ্ধাত্রী দুর্গা- ‘জয় সর্বগত দুর্গে জগদ্ধাত্রি নমোহস্তুতে’! জগদ্ধাত্রী শব্দের আভিধানিক অর্থ “জগৎ+ধাত্রী। জগতের (ত্রিভুবনের) ধাত্রী (ধারণকর্ত্রী, পালিকা)।” ব্যাপ্ত অর্থে দুর্গা, কালী সহ অন্যান্য শক্তিদেবীগণও জগদ্ধাত্রী। জগদ্ধাত্রীপূজা হিন্দুদের অন্যতম ধর্মীয় অনুষ্ঠান।
তিনিই জগৎ সভ্যতার পালিকা শক্তি। তিনি দেবী দুর্গারই আর এক রূপ। তাই জগদ্ধাত্রীর প্রণামমন্ত্রে তাঁকে ‘দুর্গা’ বলে স্তুতি করা হয়েছে। তবে শাস্ত্রনির্দিষ্ট জগদ্ধাত্রী রূপের নামকরণের পশ্চাতে রয়েছে সূক্ষ্মতর ধর্মীয় দর্শন। জগদ্ধাত্রী বা জগদ্ধাত্রী দুর্গা হচ্ছেন দেবী দুর্গার রূপভেদ।
একই দেবীর দুই রূপ। এক জন দুর্গা, অন্য জন জগদ্ধাত্রী। উপনিষদে এঁর নাম উমা হৈমবতী । বিভিন্ন তন্ত্র ও পুরাণ গ্রন্থেও এঁর উল্লেখ পাওয়া যায়। জগদ্ধাত্রী আরাধনা বিশেষত বঙ্গদেশে প্রচলিত।
আবার পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার চন্দননগর,গুপ্তিপাড়া ও নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী উৎসব জগদ্বিখ্যাত। কার্তিক মাসের শুক্লা নবমী তিথিতে দেবী জগদ্ধাত্রীর বাৎসরিক পূজা অনুষ্ঠিত হয়। হিন্দু বাঙালির ধর্মীয় মানসে রাজসিক দেবী দুর্গা ও তামসিক কালীর পরেই স্থান সত্ত্বগুণের দেবী জগদ্ধাত্রীর।
স্বামী প্রমেয়ানন্দের মতে, “ধৃতিরূপিণী মহাশক্তি জগদ্ধাত্রী। সগুণ ব্রহ্মের সৃষ্টি, স্থিতি ও বিনাশরূপ তিনগুণের যুগপৎ প্রকাশ যেমন কালীরূপের বৈশিষ্ট্য, তাঁর ধারণী ও পোষণী গুণের যুগপৎ প্রকাশও জগদ্ধাত্রীরূপের বৈশিষ্ট্য।… ধা ধাতুর অর্থ ধারণ বা পোষণ।
ভগবতী নিখিল বিশ্বকে বক্ষে ধারণ করে পরিপালন করেন বলে মুনিগণ কর্তৃক তিনি ত্রৈলোক্যজননী নামে অভিহিত।… নিয়ত-পরিবর্তনশীল এই জগতের পেছনে রয়েছে তার রক্ষণ ও পোষণের জন্য অচিন্তনীয়া মহাশক্তির এক অদ্ভুত খেলা।
সতত পরিবর্তনশীল জগৎ সেই মহাশক্তির দ্বারা বিধৃত – যিনি নিত্যা, শাশ্বতী ও অপরিবর্তনীয়া। দেবী জগদ্ধাত্রীই সেই ধৃতিরূপিণী মহাশক্তি।”

ওঁ আধারভূতে চাধেয়ে ধৃতিরূপে ধুরন্ধরে।ধ্রূবে ধ্রূবপদে ধীরে জগদ্ধাত্রি নমোঽস্তু তে॥শবাকারে শক্তিরূপে শক্তিস্থে শক্তিবিগ্র...
30/10/2025

ওঁ আধারভূতে চাধেয়ে ধৃতিরূপে ধুরন্ধরে।
ধ্রূবে ধ্রূবপদে ধীরে জগদ্ধাত্রি নমোঽস্তু তে॥
শবাকারে শক্তিরূপে শক্তিস্থে শক্তিবিগ্রহে।
শাক্তাচার প্রিয়ে দেবি জগদ্ধাত্রি নমোঽস্তু তে॥
জয়দে জগদানন্দে জগদেক প্রপূজিতে।
জয় সর্ব্বগতে দুর্গে জগদ্ধাত্রি নমোঽস্তু তে॥
পরমাণু স্বরূপে চ দ্ব্যণুকাদি স্বরূপিণি।
স্থূলাতি সূক্ষ্ম রূপেণ জগদ্ধাত্রি নমোঽস্তু তে॥
সূক্ষ্মাতি সূক্ষ্ম রূপে চ প্রাণাপানাদিরূপিণি।
ভাবাভাব স্বরূপে চ জগদ্ধাত্রি নমোঽস্তু তে॥
কালাদি রূপে কালেশে কালাকাল বিভেদিনি।
সর্ব্ব স্বরূপে সর্ব্বজ্ঞে জগদ্ধাত্রি নমোঽস্তু তে॥
মহাবিঘ্নে মহোৎসাহে মহামায়ে বলপ্রদে।
প্রপঞ্চাসারে সাধ্বীশে জগদ্ধাত্রি নমোঽস্তু তে॥
অগম্যে জগতামাদ্যে মাহেশ্বরি বরাঙ্গনে।
অশেষ রূপে রূপস্থে জগদ্ধাত্রি নমোঽস্তু তে॥
দ্বিসপ্তকোটি মন্ত্রাণাং শক্তিরূপে সনাতনি।
সর্ব্ব শক্তি স্বরূপে চ জগদ্ধাত্রি নমোঽস্তু তে॥
তীর্থযজ্ঞ তপোদান যোগসারে জগন্ময়ি।
ত্বমেব সর্ব্বং সর্ব্বস্থে জগদ্ধাত্রি নমোঽস্তু তে॥
দয়ারূপে দয়াদৃষ্টে দয়াদ্রে দুঃখমোচনি।
সর্ব্বাপত্তারিকে দুর্গে জগদ্ধাত্রি নমোঽস্তু তে॥
অগম্য ধামাধামস্থে মহাযোগীশ হৃৎপুরে।
অমেয় ভাব কূটস্থে জগদ্ধাত্রি নমোঽস্তু তে॥
যঃ পঠেৎ স্তোত্রমেতত্তু পূজান্তে সাধক উত্তমঃ।
সর্ব্ব পাপৎ বিনির্মুক্তঃ পূজা ফলং অবামুয়াৎ॥
ইতি শ্রীজগদ্ধাত্রীকল্পে জগদ্ধাত্রী স্তোত্রং সমাপ্তম্॥

১২ কার্তিক ১৪৩২ শ্রী শ্রী জগদ্ধাত্রী পূজা। ( উপনিষদে মার নাম উমা হৈম)

সকলকে শ্রী শ্রী জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রীতি ও শুভেচ্ছা🪔🌸

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when জয় বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share