Sajjan Jibon Das

Sajjan Jibon Das Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Sajjan Jibon Das, Dhaka.
(1)

"কৃষ্ণ ভুলি যেই জীব অনাদি বহির্মুখ।  অতএব মায়া তারে দেয় সংসার দুঃখ।।"আগামীকাল ২৭ মে ২০২৬  বুধবার "পদ্মিনী" একাদশী। পারনে...
26/05/2026

"কৃষ্ণ ভুলি যেই জীব অনাদি বহির্মুখ।
অতএব মায়া তারে দেয় সংসার দুঃখ।।"

আগামীকাল ২৭ মে ২০২৬ বুধবার "পদ্মিনী" একাদশী। পারনের সময় পরের দিন ২৮ মে ২০২৬ বৃহস্পতিবার সকাল ৫:১১ মিনিট থেকে ০৮:২৯ মিনিটের মধ্যে। সকলে "পদ্মিনী" একাদশী ব্রত পালন করুন এবং দুর্লভ মনুষ্য জীবনকে সার্থক করে তুলুন।

"পদ্মিনী" একাদশীর ব্রত মাহাত্ম্য:
=======================
স্মার্তগণ পুরুষোত্তম মাস বা অধিমাসকে ‘মলমাস’ বলে এই মাসে সমস্ত শুভকার্য পরিত্যাগ করে থাকেন। কিন্তু ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এই মাসকে পারমার্থিক মঙ্গলের জন্য অন্য সকল মাস থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ বলে নির্ণয় করেছেন। তিনি নিজের নামানুসারে এই মাসের নাম ‘পুরুষোত্তম’ মাস রেখেছেন।

যুধিষ্ঠির বললেন- হে জনার্দন! আমি বহুধর্ম ও ব্রতের কথা শুনেছি। এখন পুরুষোত্তম মাসের সর্বপাপবিনাশিনী ও পুণ্যদায়িনী শুক্লপক্ষীয়া ‘পদ্মিনী’ একাদশীর কথা আমার কাছে বর্ণনা করুন- যা শ্রবণ করলেন পরমপদ প্রাপ্ত হওয়া যায়।

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন- দশমীর দিন থেকেই ব্রতের শুরু হয়। কাঁসার পাত্রে ভোজন, মসুর, ছোলা, শাক এবং অপরের অন্ন ও আমিষ দশমীর দিন বর্জন করতে হয়।

পরের দিন প্রাতঃকৃত্যের পর সুগন্ধী ধূপ, দীপ, চন্দনাদি দিয়ে ভগবানের পূজা করতে হয়। রাত্রিতে জাগ্রত থেকে ভগবানের নাম, গুণ কীর্তন করতে হয়।

এখন এই ব্রতের একটি ইতিহাস আপনার মনোরঞ্জনের জন্য বলছি। পূর্বে পুলস্ত মুনি দেবর্ষি নারদকে এই ইতিহাস বর্ণনা করছিলেন।

একসময় রাজা কার্তবীর্য লঙ্কাপতি রাবণকে পরাজিত করে তাঁর কারাগারে বন্দী করে রাখে। পুলস্ত মুনি রাজার কাছে রাবণের মুক্তি প্রার্থনা করেন। মুনির আজ্ঞায় রাজা রাবণকে মুক্ত করে দেন।

এই আশ্চর্যজনক কথা শুনে নারদ পুলস্ত মুনিকে জিজ্ঞাসা করেন- হে মুনিবর! ইন্দ্রসহ সকল দেবতা যেখানে রাবণের কাছে পরাজিত হয়েছিল সেখানে কিভাবে কার্তবীর্য রাবণকে পরাজিত করল? কৃপা করে তা বলুন। পুলস্ত মুনি তখন নারদের কাছে কার্তবীর্যের জন্ম রহস্য বর্ণনা করেন।

ত্রেতাযুগে হৈহয় বংশে কৃতবীর্য নামে এক রাজা ছিলেন। মহিস্মতীপুরে তার রাজধানী ছিল। রাজার এক হাজার পত্নী ছিল। কিন্তু রাজ্যসভার গ্রহণের মতো কোন পুত্র লাভ রাজার ভাগ্যে হয়নি।

দেবতাদের আরাধনাতেও সুফল মেলেনি তার। অবশেষে সাধুদের আজ্ঞানুসারে বিভিন্ন ব্রত পালন করলেন। তথাপি রাজা ছিলেন অপুত্রক। মন্ত্রীর ওপর রাজ্যভার অর্পণ করে তপস্যায় যাবেন বলে স্থির করলেন রাজা কৃতবীর্য।

রাণী মহারাজ হরিশচন্দ্রের কন্যা পদ্মিনী ছিলেন অত্যন্ত পতিব্রতা। স্বামীর সঙ্গে তিনিও তপস্যার জন্য মন্দার পর্বতে গমন করলেন। সেখানে তারা দশ হাজার বছর ধরে কঠোর তপস্যা করলেন। কিন্তু তবুও কৃতবীর্য পুত্রসুখে বঞ্চিতই রইলেন।

রাণী পদ্মিনী মহাসাধ্বী অনুসূয়াকে জিজ্ঞাসা করলেন।- হে সাধ্বী! পুত্র লাভের জন্য আমার স্বামী দশ হাজার বছর তপস্যা করেও বিফল হয়েছে। এখন যে ব্রত পালনে ভগবান প্রসন্ন হন এবং অতিশ্রেষ্ঠ পুত্র লাভ হয়, এমন কোন উপায় বিধান করুন।

পদ্মিনীর প্রার্থনায় অনুসূয়া প্রসন্ন হয়ে বললেন- বত্রিশ মাস অন্তরে এক অধিমাস বা পুরুষোত্তম মাস আসে। এই মাসে পদ্মিনী ও পরমা দুই একাদশী। এই ব্রত পালন করলে পুত্রদাতা ভগবান শীঘ্রই প্রসন্ন হবেন।

অনুসূয়ার নির্দেশে পদ্মিনী পরম শ্রদ্ধায় এই একাদশী ব্রত পালন করলেন। সেই ব্রতে সন্তুষ্ট হয়ে স্বয়ং ভগবান গরুড় বাহনে আরোহন করে পদ্মিনীর সম্মুখে উপস্থিত হলেন।

ভগবান বললেন- হে ভদ্রে! আমি প্রসন্ন হয়েছি। পুরুষোত্তম মাসের সমান কোন মাস আমার প্রিয় নয়। এই মাসের একাদশী আমার পরম প্রিয়। তুমি সেই ব্রত যথাযথ পালন করেছ। তাই আমি তোমার ইচ্ছানুরূপ বর প্রদান করব।

ভগবানের স্তব করে রাণী বললেন- হে ভগবান! আমার স্বামীকে আপনি বরদান করুন। ভগবান তখন রাজার কাছে এসে বললেন- হে রাজেন্দ্র! আপনার অভিলাষিত বর প্রার্থনা করুন।

মহানন্দে রাজা বললেন- হে জগৎপতি, মধুসুদন! দেবতা, মানুষ, নাগ, দৈত্য, রাক্ষস আদি কেউ তাকে পরাজিত করতে পারবে না, এমন পুত্র আমি প্রার্থনা করি। রাজার প্রার্থনা অনুসারে বরদান করে ভগবান অন্তর্হিত হলেন। রাজা পত্নীসহ নগরে ফিরে এলেন।

যথাসময়ে রাণী পদ্মিনীর গর্ভে মহাবলশালী এক পুত্রের জন্ম হয়। মহারাজ কৃতবীর্য পুত্রের নাম রাখেন কার্তবীর্য। ত্রিলোকে তার সমান কোন বীর ছিল না। তাই দশানন রাবণ যুদ্ধে তার কাছে পরাজিত হয়।

শ্রীকৃষ্ণ বললেন- হে মহারাজ! এই ব্রত যিনি পালন করবেন, তিনি ভগবান শ্রীহরির শ্রীপাদপদ্মে অহৈতুকী ভক্তি লাভ করবেন।

একাদশী পালনের নিয়মাবলীঃ
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
শ্রীকৃষ্ণের উপদেশে ধর্মরাজ সপরিবারে এই একাদশী ব্রত পালন করেন। যিনি এই ব্রত মাহাত্ম্য পাঠ ও শ্রবণ করেন তিনি বহু পুণ্য লাভ করেন।

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।।

শ্রীকৃষ্ণকে ভুলে জীব অনাদিকাল ধরে জড়া প্রকৃতির প্রতি আকৃষ্ট রয়েছে। তাই মায়া তাকে এ জড় জগতে নানা প্রকার দুঃখ প্রদান করছে। পরম করুণাময় ভগবান কৃষ্ণস্মৃতি জাগরিত করতে মায়াগ্রস্ত জীবের কল্যাণে বেদপুরাণ আদি শাস্ত্রগ্রন্থাবলী দান করেছেন। ভক্তি হচ্ছে ভগবানকে জানার ও ভগবৎ প্রীতি সাধনের একমাত্র সহজ উপায়। শাস্ত্রে যে চৌষট্রি প্রকার ভক্ত্যাঙ্গের কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে একাদশী ব্রত সর্বোত্তম।

একাদশীর আবির্ভাব:
*******************
পদ্মপুরাণে একাদশী প্রসঙ্গে বলা হয়েছে। একসময় জৈমিনি ঋষি তাঁর গুরুদেব মহর্ষি ব্যাসদেবকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে গুরুদেব! একাদশী কি? একাদশীতে কেন উপবাস করতে হয়? একাদশী ব্রত করলে কি লাভ? একাদশী ব্রত না করলে কি ক্ষতি? এ সব বিষয়ে আপনি দয়া করে বলুন।

মহর্ষি ব্যাসদেব তখন বলতে লাগলেন-সৃষ্টির প্রারম্ভে পরমেশ্বর ভগবান এই জড় সংসারে স্থাবর জঙ্গম সৃষ্টি করলেন। মর্ত্যলোকবাসী মানুষদের শাসনের জন্য একটি পাপপুরুষ নির্মাণ করলেন। সেই পাপপুরুষের অঙ্গগুলি বিভিন্ন পাপ দিয়েই নির্মিত হল। পাপপুরুষের মাথাটি ব্রহ্মহত্যা পাপ দিয়ে, চক্ষুদুটি মদ্যপান, মুখ স্বর্ণ অপহরণ, দুই কর্ণ-গুরুপত্নী গমন, দুই নাসিকা-স্ত্রীহত্যা, দুই বাহু-গোহত্যা পাপ, গ্রীবা-ধন অপহরণ, গলদেশ-ভ্রুণহত্যা, বক্ষ-পরস্ত্রী-গমন, উদর-আত্মীয়স্বজন বধ, নাভি-শরণাগত বধ, কোমর-আত্মশ্লাঘা, দুই উরু-গুরুনিন্দা, শিশ্ন-কন্যা বিক্রি, মলদ্বার-গুপ্তকথা প্রকাশ পাপ, দুই পা-পিতৃহত্যা, শরীরের রোম-সমস্ত উপপাতক। এই পাপপুরুষের
প্রতিটি অঙ্গ এবং সেই অঙ্গ-গঠনকারী পাপের বিস্তারিত বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো:

১. মাথা - ব্রহ্মহত্যা পাপ
বিশ্লেষণ: ব্রহ্মহত্যা (একজন ব্রাহ্মণকে হত্যা করা) সনাতন ধর্মে গুরুতম পাপগুলির মধ্যে অন্যতম, যা পঞ্চ মহাপাপের অন্তর্ভুক্ত। মাথা হলো শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা চিন্তা, জ্ঞান ও চেতনা ধারণ করে। ব্রহ্মজ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতার ধারক ব্রাহ্মণকে হত্যা করার পাপটি তাই পাপপুরুষের মাথা বা প্রধান অংশ হিসেবে কল্পিত হয়েছে, যা এই পাপের চূড়ান্ত ভয়াবহতা ও মৌলিক পাপ হিসেবে তার অবস্থান নির্দেশ করে।

২. দুই চক্ষু - মদ্যপান পাপ
বিশ্লেষণ: মদ্যপান হলো আরেকটি মহাপাপ। চোখ হলো দেখার ইন্দ্রিয়, যা মানুষকে সঠিক-ভুল বিচার করতে সাহায্য করে। মদ্যপান মানুষের বিবেক ও বিচারবুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করে, ফলে মানুষ সঠিক দৃষ্টি হারায় এবং ভুল পথে চালিত হয়। তাই, পাপপুরুষের চোখ এই পাপ দিয়ে গঠিত, যা বিচারশক্তির বিনাশ ও ভ্রান্ত দৃষ্টিকে প্রতীকায়িত করে।

৩. মুখ - স্বর্ণ অপহরণ পাপ
বিশ্লেষণ: স্বর্ণ অপহরণ (চুরি) হলো লোভ ও অন্যের সম্পদে অন্যায় অধিকারের প্রতীক। মুখ হলো ভক্ষণ এবং কথা বলার স্থান। পাপপুরুষের মুখ এই পাপ দিয়ে নির্মিত কারণ লোভের বশবর্তী হয়ে মানুষ অন্যায়ভাবে সম্পদ গ্রহণ করে এবং সেই লোভের কথা মুখ দিয়েই প্রকাশ করে, যা স্বর্ণ অপহরণের মাধ্যমে মূর্ত হয়েছে।

৪. দুই কর্ণ - গুরুপত্নী গমন পাপ
বিশ্লেষণ: গুরুপত্নী গমন হলো পঞ্চ মহাপাপের অন্যতম। এটি নৈতিকতা, বিশ্বাস ও সম্পর্কের চূড়ান্ত লঙ্ঘন। গুরুকে পিতার সমান সম্মান দেওয়া হয়। এই গুরুতর পাপটি পাপপুরুষের কর্ণ বা কান দিয়ে গঠিত, যা সম্ভবত শোনার পবিত্রতা বা শ্রদ্ধার সঙ্গে সম্পর্কিত জ্ঞান-উপদেশ শোনার অঙ্গটিকে এই জঘন্য পাপের দ্বারা কলুষিত হওয়াকে বোঝায়।

৫. দুই নাসিকা - স্ত্রীহত্যা পাপ
বিশ্লেষণ: স্ত্রীহত্যা হলো একটি জঘন্য অপরাধ। নাক শ্বাস-প্রশ্বাস ও জীবনের প্রতীক। নারীর জীবন বা প্রাণ হরণ করার এই মহাপাপটি পাপপুরুষের নাসিকা হিসেবে স্থান পেয়েছে, যা জীবনের পবিত্রতা নষ্ট করা ও নৃশংসতার প্রতীক।

৬. দুই বাহু - গোহত্যা পাপ
বিশ্লেষণ: গোহত্যা একসময় অত্যন্ত গুরুতর পাপ হিসেবে বিবেচিত হতো, কারণ গরু ছিল সম্পদ, কৃষি ও জীবনের প্রতীক। বাহু হলো কর্মের অঙ্গ, যা শক্তি ও কর্ম সম্পাদনের ক্ষমতাকে নির্দেশ করে। গোহত্যা পাপপুরুষের বাহু দিয়ে নির্মিত কারণ এই পাপটি এক শক্তিশালী ও ধ্বংসাত্মক কর্মের ফল।

৭. গ্রীবা - ধন অপহরণ
বিশ্লেষণ: ধন অপহরণ (লুণ্ঠন বা চুরি) হলো লোভের দ্বারা চালিত হয়ে অন্যের সম্পদ কেড়ে নেওয়া। গ্রীবা বা গলা মাথা ও শরীরের সংযোগস্থল, যা ভার বহন করে। এই পাপটি গ্রীবা দিয়ে নির্মিত, কারণ এটি অন্যের জীবনকে সংকটাপন্ন করে যে ভার বা বোঝা চাপিয়ে দেয়, তার প্রতীক।

৮. গলদেশ - ভ্রুণহত্যা
বিশ্লেষণ: ভ্রুণহত্যা হলো একটি অনাগত প্রাণের বিনাশ, যা বংশধারা ও জীবনের প্রবাহকে ব্যাহত করে। গলদেশ বা কণ্ঠনালী জীবনের শ্বাস-প্রশ্বাসের পথ। পাপপুরুষের এই অংশটি ভ্রুণহত্যা পাপের দ্বারা গঠিত, যা নতুন জীবনের প্রবাহকে রুদ্ধ করার ভয়াবহতাকে তুলে ধরে।

৯. বক্ষ - পরস্ত্রী-গমন
বিশ্লেষণ: পরস্ত্রী-গমন হলো ব্যভিচার এবং দাম্পত্য সম্পর্কের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা। বক্ষ হলো হৃদয় বা আবেগ-অনুভূতির স্থান। এই পাপটি বক্ষ দিয়ে নির্মিত কারণ এটি সম্পর্কের পবিত্রতা, বিশ্বাস ও আবেগের কেন্দ্রস্থল বা হৃদয়কে কলুষিত করে।

১০. উদর - আত্মীয়স্বজন বধ
বিশ্লেষণ: আত্মীয়স্বজন বধ হলো নিজের পরিবার ও রক্তের বন্ধন নষ্ট করা। উদর বা পেট খাদ্য ও পুষ্টির আধার, যা জীবন ধারণ করে। নিজের উৎস বা আত্মীয়কে ধ্বংস করা এই পাপ উদরকে কলুষিত করেছে, যা জীবনের মৌলিক ভিত্তি বা পরিবারকে নষ্ট করার প্রতীক।

১১. নাভি - শরণাগত বধ
বিশ্লেষণ: শরণাগত বধ হলো যে আশ্রয় বা নিরাপত্তা চেয়েছে, তাকেই হত্যা করা। নাভি হলো জীবন ও শক্তির মূল কেন্দ্র। পাপপুরুষের নাভি এই পাপ দিয়ে গঠিত, যা বিশ্বাসভঙ্গ এবং চরম নিরাপত্তার কেন্দ্রে আঘাত হানার ইঙ্গিত দেয়।

১২. কোমর - আত্মশ্লাঘা
বিশ্লেষণ: আত্মশ্লাঘা হলো নিজেকে অতিরিক্ত প্রশংসা করা বা অহংকার করা। কোমর হলো দেহের ভারসাম্য রক্ষা করার স্থান। আত্মশ্লাঘা নৈতিক ভারসাম্য নষ্ট করে এবং অহংকার মানুষকে পতন ও পাপের দিকে ঠেলে দেয়।

১৩. দুই উরু - গুরুনিন্দা
বিশ্লেষণ: গুরুনিন্দা হলো গুরু বা শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিকে অপমান করা বা সমালোচনা করা। উরু হলো চলন ও গতিশীলতার ভিত্তি। গুরুনিন্দা পাপপুরুষের উরু হিসেবে দেখানো হয়েছে, কারণ এই পাপ নৈতিক ভিত্তি ও শ্রদ্ধা নষ্ট করে মানুষকে ভ্রান্ত পথে পরিচালিত করে।

১৪. শিশ্ন - কন্যা বিক্রি
বিশ্লেষণ: কন্যা বিক্রি হলো কন্যাকে পণ্য বা বস্তু হিসেবে গণ্য করে অর্থের বিনিময়ে তার জীবন বা স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া। শিশ্ন হলো প্রজনন ও সৃষ্টির অঙ্গ। এই অঙ্গটিকে কন্যা বিক্রির পাপ দিয়ে নির্মিত করা হয়েছে, যা মানব সৃষ্টির পবিত্রতাকে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে অপবিত্র করার প্রতীক।

১৫. মলদ্বার - গুপ্তকথা প্রকাশ পাপ
বিশ্লেষণ: গুপ্তকথা প্রকাশ হলো বিশ্বাস ভঙ্গ করা ও গোপনীয়তা নষ্ট করা। মলদ্বার হলো বর্জ্য নিষ্কাশনের গোপন পথ। এই পাপটি মলদ্বার দিয়ে গঠিত, যা ইঙ্গিত করে যে গুপ্তকথা প্রকাশ হলো একরকম মানসিক বর্জ্য যা সম্পর্কের পবিত্রতা নষ্ট করে।

১৬. দুই পা - পিতৃহত্যা
বিশ্লেষণ: পিতৃহত্যা হলো আরেক মহাপাপ। পা হলো চলাচলের ভিত্তি ও অবলম্বন। পিতাকেই জীবনের মূল অবলম্বন বা ভিত্তি হিসেবে দেখা হয়। পিতৃহত্যা পাপপুরুষের পা দিয়ে নির্মিত, যা জীবন ধারণের মৌলিক ভিত্তিকেই ধ্বংস করার প্রতীক।

১৭. শরীরের রোম - সমস্ত উপপাতক
বিশ্লেষণ: উপপাতক হলো মহাপাপগুলির (পঞ্চ মহাপাপ) তুলনায় কম গুরুতর কিন্তু সংখ্যায় অসংখ্য ছোট ছোট পাপ। শরীরের রোম সংখ্যায় অগণিত ও সারা শরীর জুড়ে থাকে। এই অসংখ্য ছোট পাপগুলি, যা সামগ্রিকভাবে জীবনকে কলুষিত করে, তা পাপপুরুষের সমস্ত রোম বা উপরিভাগ দিয়ে গঠিত বলে বোঝানো হয়েছে।

এভাবে বিভিন্ন সমস্ত পাপ দ্বারা ভয়ঙ্কর পাপপুরুষ নির্মিত হল। পাপপুরুষের ভয়ঙ্কর রূপ দর্শন করে ভগবান শ্রীবিষ্ণু মর্ত্যের মানব জাতির দুঃখমোচন করবার কথা চিন্তা করতে লাগলেন। একদিন গরুড়ের পিঠে চড়ে ভগবান চললেন যমরাজের মন্দিরে। ভগবানকে যমরাজ উপযুক্ত স্বর্ণ সিংহাসনে বসিয়ে পাদ্য অর্ঘ্য দিয়ে যথাবিধি তাঁর পূজা করলেন। যমরাজের সঙ্গে কথোপকথনকালে ভগবান শুনতে পেলেন দক্ষিণ দিক থেকে অসংখ্য জিবের আর্তক্রন্দন ধ্বনি। প্রশ্ন করলেন-এ আর্তক্রন্দন কেন?

যমরাজ বললেন, হে প্রভু, মর্ত্যের পাপী মানুষেরা নিজ কর্মদোষে নরকযাতনা ভোগ করছে। সেই যাতনার আর্ত চীৎকার শোনা যাচ্ছে। যন্ত্রণাকাতর পাপাচারী জীবদের দর্শন করে করুণাময় ভগবান চিন্তা করলেন-আমিই সমস্ত প্রজা সৃষ্টি করেছি, আমার সামনেই ওরা কর্মদোষে দুষ্ট হয়ে নরক যাতনা ভোগ করছে, এখন আমিই এদের সদগতির ব্যবস্থা করব। ভগবান শ্রীহরি সেই পাপাচারীদের সামনে একাদশী তিথি রূপে এক দেবীমুর্তিতে প্রকাশিত হলেন। সেই পাপীদেরকে একাদশী ব্রত আচরণ করালেন। একাদশী ব্রতের ফলে তারা সর্বপাপ মুক্ত হয়ে তৎক্ষণাৎ বৈকুন্ঠ ধামে গমন করল।

শ্রীব্যাসদেব বললেন, হে জৈমিনি! শ্রীহরির প্রকাশ এই একাদশী সমস্ত সুকর্মের মধ্যে শ্রেষ্ট এবং সমস্ত ব্রতের মধ্যে উত্তম ব্রত। কিছুদিন পরে ভগবানের সৃষ্ট পাপপুরুষ এসে শ্রীহরির কাছে করজোড়ে কাতর প্রার্থনা জানাতে লাগল-হে ভগবান! আমি আপনার প্রজা! আমাকে যারা আশ্রয় করে থাকে, তাদের কর্ম অনুযায়ী তাদের দুঃখ দান করাই আমার কাজ ছিল। কিন্তু সম্প্রতি একাদশীর প্রভাবে আমি কিছুই করতে পারছি না, বরং ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছি। কেননা একাদশী ব্রতের ফলে প্রায় সব পাপাচারীরা বৈকুন্ঠের বাসিন্দা হয়ে যাচ্ছে।

হে ভগবান, এখন আমার কি হবে? আমি কাকে আশ্রয় করে থাকব? সবাই যদি বৈকুন্ঠে চলে যায়, তবে এই মর্ত্য জগতের কি হবে? আপনি বা কার সঙ্গে এই মর্ত্যে ক্রীড়া করবেন? পাপপুরুষ প্রার্থনা করতে লাগল- হে ভগবান, যদি আপনার এই সৃষ্ট বিশ্বে ক্রীড়া করবার ইচ্ছা থাকে তবে, আমার দুঃখ দুর করুন। একাদশী তিথির ভয় থেকে আমাকে রক্ষা করুন। হে কৈটভনাশন, আমি একমাত্র একাদশীর ভয়ে ভীত হয়ে পলায়ন করছি। মানুষ, পশুপাখী, কীট-পতঙ্গ, জল-স্থল, বন-প্রান্তর, পর্বত-সমুদ্র, বৃক্ষ, নদী, স্বর্গ-মর্ত্য-পাতাল সর্বত্রই আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু একাদশীর প্রভাবে কোথাও নির্ভয় স্থান পাচ্ছি না দেখে আজ আপনার শরণাপন্ন হয়েছি।

হে ভগবান, এখন দেখছি, আপনার সৃষ্ট অনন্ত কোটি ব্রহ্মান্ডের মধ্যে একাদশীই প্রাধান্য লাভ করেছে, সেইজন্য আমি কোথাও আশ্রয় পেতে পারছি না। আপনি কৃপা করে আমাকে একটি নির্ভয় স্থান প্রদান করুন। পাপপুরুষের প্রার্থনা শুনে ভগবান শ্রীহরি বলতে লাগলেন- হে পাপপুরুষ! তুমি দুঃখ করো না। যখন একাদশী তিথি এই ত্রিভুবনকে পবিত্র করতে আবির্ভুত হবে, তখন তুমি অন্ন ও রবিশস্য মধ্যে আশ্রয় গ্রহণ করবে। তা হলে আমার মূর্তি একাদশী তোমাকে বধ করতে পারবে না।

একাদশী ব্রত সর্বোত্তম কেন?
""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
(১). শাস্ত্রে যে চৌষট্টি প্রকার ব্রতের কথা বলা আছে তার মধ্যে একাদশী ব্রত সর্বোত্তম। শ্রবন, স্মরণ, কীর্তন ইত্যাদি নবধা ভক্তির পরই একাদশীর অবস্থান।।

(২). শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু তাঁর লীলা বিলাসের প্রথম থেকেই একাদশী ব্রত পালনের উপর জোর দিয়েছিলেন।।

(৩). মোট ছাব্বিশটি একাদশী আছে। প্রতি মাসে দুটি একাদশী হলে বছরে চব্বিশটি। কিন্তু যে বছর পুরুষোত্তম, অধিমাস বা মলো মাস, সেই মাসে পদ্মিনী ও পরমা নামে আরও দুটি একাদশীর আবির্ভাব হয়।।

(৪). আট বছর থেকে আশি বছর বয়সের যে কেউই এই একাদশী পালন করতে পারে।।

(৫). জন্ম মৃত্যুর অশৌচে কখনোই এই
একাদশী পরিত্যাগ করতে নেই।

(৬). শুধু এই একাদশী পালন করেও মানুষ শনির প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে পারে।।

(৭). একাদশীর ব্রত পালনে যে ফল লাভ হয় অস্বমেধ, রাজশূয় ও বাজপেয় যজ্ঞের দ্বারাও সেই ফল লাভ হয় না।

(৮). ভুলক্রমে একাদশী ভঙ্গ হয়ে গেলে ক্ষমা ভিক্ষা করে তা চালিয়ে যাওয়া উচিৎ।

(৯). একাদশীর দিনগুলো হলো চরিত্র সংশোধনের দিন। পরনিন্দা, পরশ্রীকাতরতা, মিথ্যাচার, ক্রোধ, দুশ্চিন্তা এবং সকল প্রকার কলহ বিবাদ কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ।।

(১০). এইদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে মঙ্গল আরতি করতে হয়। মা এবং বোনেরা এই সময় রজচক্রের মধ্যে থাকলেও একাদশী পালন করতে পারবেন।।

(১১). একাদশীর দিন ক্ষৌরকর্মাদি নিষিদ্ধ।।

(১২). অহংকার বশত একাদশী ব্রত ভঙ্গ করলে তাকে নরক যন্ত্রনা ভোগ করতে হয়।

(১৩). শ্রীল প্রভুপাদ ভক্তদের একাদশীর দিন নূন্যতম পঁচিশ মালা জপ করতে বলেছেন।।

(১৪). অনাহারে থেকে হরিনাম করে, হরিকথা বলে ও রাত্রি জাগরণ করে মালা জপ করতে হয়।।

(১৫). একাদশীতে শ্রাদ্ধ আসলে তা এইদিন না করে দ্বাদশীতে শ্রাদ্ধ করা উচিৎ।।

(১৬). এই উপাচার শুধু বৈষ্ণবের জন্য নয়, সনাতন ধর্মাবলম্বী সকলেরই এই ব্রত পালন করা অবশ্য কর্তব্য।

(১৭). পরিশেষে, বলব, একাদশীর উপবাস মানে কি। লুনার সাইকেলের এগারতম দিনে হয় এই উপবাস। উপ মানে হলো নিকটে আর বাস মানে হলো অবস্থান করা। অর্থাৎ, শুক্ল ও কৃষ্ণ পক্ষের এগারতম দিনে পরমেশ্বর ভগবানের সাথে অবস্থান।। সুতরাং, এই দিন শুধু না খেয়ে থাকলেই হবে না, ভগবানের নাম জপ করতে হবে ও সকল পাপাচার থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে হবে।

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।।

একাদশী কী?
***********
শ্রবণ, কীর্তন, স্মরণ আদি নবধা ভক্তির পরই দশম ভক্ত্যাঙ্গরূপে একাদশীর স্থান। এই তিথিকে হরিবাসর বলা হয়। তাই ভক্তি লাভেচ্ছু সকলেই একাদশী ব্রত পালনের পরম উপযোগীতার কথা বিভিন্ন পুরাণে বর্ণিত হয়েছে। একাদশী তিথি সকলের অভীষ্ট প্রদানকারী। এই ব্রত পালনে সমস্ত প্রকার পাপ বিনষ্ট, সর্বসৌভাগ্য ও শ্রীকৃষ্ণের প্রীতি বিধান হয়। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে আট থেকে আশি বছর বয়স পর্যন্ত যেকোন ব্যক্তিরই ভক্তিসহকারে পবিত্র একাদশী ব্রত পালন করা কর্তব্য।

সঙ্কটজনক অবস্থা বা জন্মমৃত্যুর অশৌচে কখনও একাদশী পরিত্যাগ করতে নেই। একাদশীতে শ্রাদ্ধ উপস্থিত হলে সেইদিন না করে দ্বাদশীতে শ্রাদ্ধ করা উচিত। শুধু বৈষ্ণবেরাই নয়, শিবের উপাসক, সূর্য-চন্দ্র-ইন্দ্রাদি যেকোন দেবোপাসক, সকলেরই কর্তব্য একাদশী ব্রত পালন করা। দুর্লভ মানবজীবন লাভ করেও এই ব্রত অনুষ্ঠান না করলে বহু দুঃখে-কষ্টে চুরাশি লক্ষ যোনি ভ্রমণ করতে হয়।

অহংকারবশত একাদশী ব্রত ত্যাগ করলে যমযন্ত্রণা ভোগ করতে হয়। যে ব্যাক্তি এই ব্রতকে তুচ্ছ জ্ঞান করে, জীবিত হয়েও সে মৃতের সমান। কেউ যদি বলে “একাদশী পালনের দরকারটা কি?” সে নিশ্চয় কুন্তিপাক নরকের যাত্রী। যারা একাদশী পালনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে শনির কোপে তারা বিনষ্ট হয়। একাদশীকে উপেক্ষা করে তীর্থ স্থান আদি অন্য ব্রত পালনকারীর অবস্থা গাছের গোড়া কেটে পাতায় জল দানের মতোই।

একাদশী বাদ দিয়ে যারা দেহধর্মে অধিক আগ্রহ দেখায়, ধর্মের নামে পাপরাশিতে তাদের উদর পূর্ণ হয়। কলহ-বিবাদের কারণেও একাদশী দিনে উপবাস করলে অজ্ঞাত সুকৃতি সঞ্চিত হয়। পুণ্যপ্রদায়িনী সর্বশ্রেষ্ঠ এই ব্রত শ্রীহরির অতি প্রিয়। একাদশী ব্রত পালনে যে ফল লাভ হয়, অশ্বমেধ, রাজসূয় ও বাজপেয় যজ্ঞদ্বারাও তা হয় না। দেবরাজ ইন্দ্রও যথাবিধি একাদশী পালনকারীকে সম্মান করেন। একাদশী ব্রতে ভাগবত শ্রবণে পৃথিবী দানের ফল লাভ হয়। অনাহার থেকে হরিনাম, হরিকথা, রাত্রিজাগরণে একাদশী পালন করা কর্তব্য।

কেউ যদি একাদশী ব্রতে শুধু উপবাস করে তাতে বহু ফল পাওয়া যায়। শুদ্ধ ভক্তেরা এই দিনে একাদশ ইন্দ্রিয়কে শ্রীকৃষ্ণে সমর্পণ করেন। একাদশীতে শস্যমধ্যে সমস্ত পাপ অবস্থান করে। তাই চাল, ডাল, আটা, ময়দা, সুজি, সরিষা আদি জাতীয় খাদ্যদ্রব্য একাদশী দিনে বর্জন করা উচিত। নির্জলা উপবাসে অসমর্থ ব্যক্তি জল, দুধ, ফল-মূল, এমনকি আলু, পেপে, কলা, ঘিয়ে বা বাদাম তেল অথবা সূর্যমুখী তেলে রান্না অনুকল্প প্রসাদ রূপে গ্রহণ করতে পারেন। রবিশস্য (ধান, গম, ভুট্রা, ডাল ও সরিষা) ও সোয়াবিন তেল অবশ্যই বর্জনীয়। দশমী বিদ্ধা একাদশীর দিন বাদ দিয়ে দ্বাদশী বিদ্ধা একাদশী ব্রত পালন করতে হয়।

একাদশীতে সূর্যোদয়ের পূর্বে বা সুর্যোদয়কালে (১ঘন্টা ৩৬ মিনিটের মধ্যে) যদি দশমী স্পর্শ হয়, তাকে দশমী বিদ্ধা বলে জেনে পরদিন একাদশীব্রত পালন করতে হয়। মহাদ্বাদশীর আগমন হলে একাদশীর উপবাস ব্রতটি মহাদ্বাদশীতেই করতে হয়। একাদশী ব্রত করে পরের দিন উপযুক্ত সময়ে শস্যজাতীয় প্রসাদ গ্রহণ করে পারণ করতে হয়। শাস্ত্রবিধি না মেনে নিজের মনগড়া একাদশী ব্রত করলে কোন ফল লাভ হয় না। দৈববশত যদি কখনও একাদশী ভঙ্গ হয়ে যায়, তবে ক্ষমা ভিক্ষা করে পুনরায় ব্রত পালন করতে হয়।

একাদশী পালনের নিয়মাবলী
**************************
ভোরে শয্যা ত্যাগ করে শুচিশুদ্ধ হয়ে শ্রীহরির মঙ্গল আরতিতে অংশগ্রহণ করতে হয়। শ্রীহরির পাদপদ্মে প্রার্থনা করতে হয়, “হে শ্রীকৃষ্ণ, আজ যেন এই মঙ্গলময়ী পবিত্র একাদশী সুন্দরভাবে পালন করতে পারি, আপনি আমাকে কৃপা করুন।” একাদশীতে গায়ে তেল মাখা, সাবান মাখা, পরনিন্দা-পরচর্চা, মিথ্যাভাষণ, ক্রোধ, দিবানিদ্রা, সাংসারিক আলাপাদি বর্জনীয়। এই দিন গঙ্গা আদি তীর্থে স্নান করতে হয়। মন্দির মার্জন, শ্রীহরির পূজার্চনা, স্তবস্তুতি, গীতা-ভাগবত পাঠ আলোচনায় বেশি করে সময় অতিবাহিত করতে হয়।

এই তিথিতে গোবিন্দের লীলা স্মরণ এবং তাঁর দিব্য নাম শ্রবণ করাই হচ্ছে সর্বোত্তম। শ্রীল প্রভুপাদ ভক্তদের একাদশীতে পঁশিচ মালা বা যথেষ্ট সময় পেলে আরো বেশি জপ করার নির্দেশ দিয়েছেন। একাদশীর দিন ক্ষৌরকর্মাদি নিষিদ্ধ। একাদশী ব্রত পালনে ধর্ম অর্থ, কাম, মোক্ষ আদি বহু অনিত্য ফলের উল্লেখ শাস্ত্রে থাকলেও শ্রীহরিভক্তি বা কৃষ্ণপ্রেম লাভই এই ব্রত পালনের মুখ্য উদ্দেশ্য। ভক্তগণ শ্রীহরির সন্তোষ বিধানের জন্যই এই ব্রত পালন করেন। পদ্মপুরাণ, ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণ, বরাহপুরাণ, স্কন্দপুরাণ ও বৈষ্ণবস্মৃতিরাজ, শ্রীহরিভক্তিবিলাস আদি গ্রন্থে এ সকল কথা বর্ণিত আছে।

বছরে ছাব্বিশটি একাদশী আসে। সাধারণত বার মাসে চব্বিশটি একাদশী। এইগুলি হচ্ছে-

১. উৎপন্না একাদশী - ২. মোক্ষদা একাদশী
৩. সফলা একাদশী , - ৪. পুত্রদা একাদশী
৫. ষটতিলা একাদশী - ৬. জয় একাদশী
৭. বিজয়া একাদশী - ৮. আমলকী একাদশী
৯. পাপমোচনী একাদশী - ১০. কামদা একাদশী
১১. বরুথিনী একাদশী - ১২. মোহিনী একাদশী
১৩. অপরা একাদশী - ১৪. নির্জলা একাদশী
১৫. যোগিনী একাদশী - ১৬. শয়ন একাদশী
১৭. কামিকা একাদশী - ১৮. পবিত্রা একাদশী
১৯. অন্নদা একাদশী - ২০. পরিবর্তিনী বা পার্শ্ব একাদশী
২১. ইন্দিরা একাদশী - ২২. পাশাঙ্কুশা একাদশী
২৩. রমা একাদশী - ২৪. উত্থান একাদশী

কিন্তু যে বৎসর পুরুষোত্তমাস, অধিমাস বা মলমাস থাকে, সেই বৎসর পদ্মিনী ও পরমা নামে আরও দুটি একাদশীর আবির্ভাব হয়। যারা যথাবিধি একাদশী উপবাসে অসমর্থ অথবা ব্রতদিনে সাধুসঙ্গে হরিকথা শ্রবণে অসমর্থ, তারা এই একাদশী মাহাত্ম্য পাঠ বা শ্রবণ করলে অসীম সৌভাগ্যের অধিকারী হবেন।

একাদশী ব্রত মাহাত্ম্য
*******************
ভদ্রশীলের কাহিনীঃ পুরাকালে গালব নামে এক মহান মুনি নর্মদা নদীর তীরে বাস করতেন। তাঁর ভদ্রশীল নামে এক বিষ্ণুভক্ত পুত্র ছিল। সে ছোটবেলা থেকে বিষ্ণুমূর্তি বানিয়ে পূজা করত। বালক হয়েও লোককে বিষ্ণুপূজার উপদেশ ও একাদশী পালন করতে নির্দেশ দিত, নিজেও পালন করত। পিতা একদিন জিজ্ঞাসা করেন। আচ্ছা ভদ্রশীল! তুমি অতি ভাগ্যবান। তুমি বলো তো, রোজ শ্রীহরির পূজা করা, একাদশ তিথি পালন করা- এরূপ ভক্তি কিভাবে তোমার উদয় হল?”

উত্তরে ভদ্রশীল বলতে লাগল- বাবা! আমি পূর্বজন্মের কথা ভুলিনি। আগের জন্মে যমপুরীতে গিয়েছিলাম। সেখানে যমরাজ আমাকে এ বিষয়ে উপদেশ করেছিলেন। পিতা অত্যন্ত বিস্মিত হয়ে বললেন- ভদ্রশীল, তুমি পূর্বে কে ছিলে? যমরাজ তোমাকে কি বলেছিল, সব কিছুই আমাকে বলো। ভদ্রশীল বলল- বাবা! আমি পূর্বে চন্দ্রবংশের একা রাজা ছিলাম। তখন আমার নাম ছিল ধর্মকীর্তি।

ভগবান দত্তাত্রেয় আমার গুরু ছিলেন। নয় হাজার বছর আমি পৃথিবী শাসন করেছিলাম। বহু ধর্ম-কর্ম করেছিলাম। পরে যখন আমার অনেক ধনসম্পদ হল তখন আমি পাগলের মতো অধর্ম করতে লাগলাম। কতগুলি পাষন্ড ব্যক্তির সঙ্গে আলাপ করতাম। আর কেবল কথা আলাপের ফলেই আমার বহু দিনের অর্জিত পুণ্য নষ্ট হয়ে গেল। আমিও পাষন্ডী হলে গেলাম। সব প্রজারাও অধর্ম করতে লাগল। প্রজাদের প্রত্যেকের অধর্মের ছয় ভাগের এক ভাগ রাজাকেই গ্রহণ করতে হয়। তারপর একদিন আমি সৈন্যদের সঙ্গে বনে মৃগয়া করতে গেলাম।

বহু পশু বধ করলাম। তারপর আমি ক্ষুধা তৃষ্ণায় কাতর ও ক্লান্ত হয়ে রেবা নদীর তীরে গেলাম। প্রখর রোদে তপ্ত হয়ে নদীতে স্নান করলাম। কিন্তু তারপর আমার কোন সেনাকে দেখতে না পেয়ে চিন্তিত ও অতিশয় ক্ষুধার্ত হলাম। অন্ধকার হয়ে এল। আমি পথ ঠিক করতে পারলাম না। তারপর এক জায়গায় গিয়ে কয়েকজন তীর্থবাসীকে দেখলাম। জানলাম তারা একাদশী ব্রত করেছে। তারা সারাদিন কিছু খায়নি, জলপান পর্যন্তও করেনি। আমি তাদের সঙ্গে পড়ে রাত্রি জাগরণ করলাম। কিন্তু ক্লান্তি ক্ষুধা পিপাসায় কাতর হয়ে রাত্রি জাগরণের পর আমার মৃত্যু হল।

তখন দেখলাম বড় বড় দাঁত বিশিষ্ট দুজন ভয়ংকর যমদুত এসে আমাকে দড়ি দিয়ে বাঁধল। আর ক্লেশময় পথ দিয়ে আমাকে টেনে নিয়ে চলল। তারপর যমপুরীতে পৌছালাম। যমরাজও দেখতে তখন ভয়ংকর। যমরাজ চিত্রগুপ্তকে ডেকে আমাকে দেখিয়ে বললেন-পন্ডিত! এই ব্যক্তির যেরূপ শিক্ষাবিধান তুমি তা বলো। চিত্রগুপ্ত কিছুক্ষণ বিচার করে ধর্মরাজ যমকে বললেন-হে ধর্মপাল! এই ব্যক্তি পাপকর্মেই রত ছিল সত্য, কিন্তু তবুও একাদশীর উপবাসের জন্য সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হয়েছে।

তীর্থবাস ও রাত্রি-জাগরণও করেছে। তাই ওর সব পাপ নষ্ট হয়েছে। চিত্রগুপ্ত এই কথা বললে যমরাজ খুব চমকে উঠলেন, তিনি ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে ভুমিতে দন্ডবৎ প্রণাম জানিয়ে আমাকে পূজা করতে লাগলেন। তারপর তাঁর দূতদের আহ্বান করে বলতে লাগলেন- হে দূতগণ! তোমরা ভাল করে আমার কথা শোনো। তোমাদের মঙ্গলজনক কথা আমি বলছি। যে সব মানুষ মর্ধরত, তোমরা তাদেরকে এখানে আনবে না। যাঁরা শ্রীহরির ভক্ত, পবিত্র, একাদশীব্রত পরায়ণ, জিতেন্দ্রিয় এবং যাঁদের মুখে সর্বদা ‘হে নারায়ণ, হে গোবিন্দ, হে কৃষ্ণ, হে হরি, উচ্চারিত হয়, যাঁরা সকল লোকের হিতকারী ও শান্তিপ্রিয়, তাদেরকে তোমরা দূর থেকেই পরিত্যাগ করবে।

কারণ, সেই সব ব্যক্তিকে আমার শিক্ষা দেবার অধিকার নেই। যাঁরা সর্বদা হরিনামে আসক্ত, সর্বদা হরিকথা শ্রবণে আগ্রহী, যাঁরা পাষন্ডগণের সঙ্গ করে না, ভক্তদের শ্রদ্ধা করে, সাধুসেবা অতিথিসেবা পরায়ণ, তাঁদেরকে পরিত্যাগ করবে।

হে দূতগণ! তোমরা শুধু তাদেরকেই আমার কাছে ধরে আনবে যারা উগ্রস্বভাব, ভক্তদের অনিষ্ট করে, লোকদের সঙ্গে কলহ বাধায়, একাদশী ব্রত পালনে একান্ত পরাঙ্মুখ, পরনিন্দুক, ব্রাহ্মণের ধনে লোভ, পরতন্ত্র, হরিভক্তি বিমূখ, যারা ভগবদ্ বিগ্রহ দেখে শ্রদ্ধাবত হয় না, মন্দির দর্শনে যাদের আগ্রহ নেই, অন্যের অপবাদ করে বেড়ায়, তাদের সবাইকে বেঁধে এখানে নিয়ে আসবে।’

যমরাজের মুখে এসব কথা শুনে আমি পাপকর্মের জন্য অত্যন্ত অনুশোচনা করতে থাকি। তারপর আমি সূর্যের মতো উজ্জ্বল দেহ লাভ করলাম। একটি দিব্য বিমানে চড়িয়ে আমাকে যমরাজ দিব্যলোকে পাঠিয়ে দিলেন। কোটি কল্প সেখানে অবস্থান করার পর এই পৃথিবীতে এসে সদাচারী মহান ব্রাহ্মণকুলে জন্মগ্রহণ করেছি। আমার জাতিস্মরতা হেতু এসব ঘটনা আমার হৃদয়ে জাগ্রত আছে।

আমি পূর্বে একাদশী ব্রত মাহাত্ম্য জানতাম না। অনিচ্ছাকৃতভাবে যখন একাদশী পালনে এত ফল লাভ করেছি। তাহলে ভক্তি সহকারে একাদশী ব্রত উপবাস করলে কি প্রকার ফল লাভ হয় তা জানি না। তাই বৈকুন্ঠধামে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছায় আমি পবিত্র একাদশীব্রত ও প্রতিদিন বিষ্ণুপূজা করব এবং অন্যদেরও এসব পালন করতে উৎসাহী করব। পুত্রের কথা শুনে গালব মুনি অতি সন্তুষ্ট হয়ে ভাবলেন, আমার বংশে এই পরম বিষ্ণুভক্তের জন্ম হয়েছে, তাই আমার জন্ম সফল, আমার বংশও পবিত্র হল।

"জয় শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
শ্রী অদ্বৈত গদাধর শ্রীবাসাদি গৌর ভক্তবৃন্দ।"

"হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।"

"আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত কৃষ্ণভাবনায় যুক্ত হওয়া; বাকি সব দায়িত্ব  ভগবান শ্রীকৃষ্ণের। নিজের শক্তির ওপর অহংকার না ...
26/05/2026

"আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত কৃষ্ণভাবনায় যুক্ত হওয়া; বাকি সব দায়িত্ব ভগবান শ্রীকৃষ্ণের। নিজের শক্তির ওপর অহংকার না করে পরমেশ্বরের কৃপার ওপর ভরসা করাই হলো প্রকৃত বুদ্ধিমত্তা। ​শ্রীকৃষ্ণের ওপর সর্বতোভাবে শরণাগত হওয়াই জীবনের একমাত্র সার্থকতা, কারণ তিনিই আমাদের অনাদি রক্ষণাবেক্ষণকারী।"

তথ্যসূত্র: ভগবদ্গীতা, ১৮.৬৬
নিবেদনে: সজ্জন জীবন দাস, জপযজ্ঞ (কুটি ধাম)
সময়: মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

"নিজেকে ভগবানের চরণে সর্বতোভাবে সঁপে দেওয়াই হলো প্রেমের সর্বোচ্চ প্রকাশ এবং ভগবানের সন্তুষ্টির মূল চাবিকাঠি।"তথ্যসূত্র: ...
25/05/2026

"নিজেকে ভগবানের চরণে সর্বতোভাবে সঁপে দেওয়াই হলো প্রেমের সর্বোচ্চ প্রকাশ এবং ভগবানের সন্তুষ্টির মূল চাবিকাঠি।"

তথ্যসূত্র: শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (১৮ অধ্যায়, ৬৬ শ্লোক)
নিবেদনে: সজ্জন জীবন দাস, জপযজ্ঞ (কুটি ধাম)
সময়: সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

"প্রকৃত শিষ্য তিনিই', যিনি গুরুদেবের যেকোনো কঠোর নির্দেশ বা সমালোচনাকে দ্বিধাহীন চিত্তে ও শ্রদ্ধার সাথে শিরোধার্য করে গ্...
24/05/2026

"প্রকৃত শিষ্য তিনিই', যিনি গুরুদেবের যেকোনো কঠোর নির্দেশ বা সমালোচনাকে দ্বিধাহীন চিত্তে ও শ্রদ্ধার সাথে শিরোধার্য করে গ্রহণ করেন, কারণ গুরুর শাসনই শিষ্যের পরম কল্যাণ ও কৃষ্ণভক্তির পথকে প্রশস্ত করে।"

তথ্যসূত্র: শ্রীমদ্ভগবত গীতা ৪.৩৪
নিবেদনে: সজ্জন জীবন দাস জপযজ্ঞ (কুটি ধাম)
সময়: রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

23/05/2026
"সদগুণ অর্জনের জন্য পৃথক কোনো প্রচেষ্টার চেয়ে কৃষ্ণের শরণাগতি সবচেয়ে কার্যকর। সূর্যের আলোতে যেমন অন্ধকার থাকে না, তেমনি ...
23/05/2026

"সদগুণ অর্জনের জন্য পৃথক কোনো প্রচেষ্টার চেয়ে কৃষ্ণের শরণাগতি সবচেয়ে কার্যকর। সূর্যের আলোতে যেমন অন্ধকার থাকে না, তেমনি শ্রীকৃষ্ণের সান্নিধ্যে থাকলে কুপ্রবৃত্তি টিকে থাকতে পারে না।"

তথ্যসূত্র: শ্রীমদ্ভাগবতম ১.২.১৭, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ১৮.৬৬
নিবেদনে: সজ্জন জীবন দাস, জপযজ্ঞ (কুটি ধাম)
সময়: শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

"‘আমি’ ও ‘আমার’—এই দুই মিথ্যা অহংকারকে পরিত্যাগ করে নিজেকে ভগবানের সেবক হিসেবে নিঃশর্তভাবে সমর্পণ করাই হলো ভক্তির পরম পূ...
21/05/2026

"‘আমি’ ও ‘আমার’—এই দুই মিথ্যা অহংকারকে পরিত্যাগ করে নিজেকে ভগবানের সেবক হিসেবে নিঃশর্তভাবে সমর্পণ করাই হলো ভক্তির পরম পূর্ণতা।"

তথ্যসূত্র: শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, ১৮.৬৬
নিবেদনে: সজ্জন জীবন দাস, জপযজ্ঞ (কুটি ধাম)
সময়: শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

20/05/2026
গুরু-কৃষ্ণ-প্রসাদ (দ্বৈত কৃপা): ভক্তি লাভের জন্য দুটি শক্তির প্রয়োজন।​গুরুর কৃপা: গুরুর মাধ্যমেই আমরা ভগবানের তত্ত্ব জান...
20/05/2026

গুরু-কৃষ্ণ-প্রসাদ (দ্বৈত কৃপা): ভক্তি লাভের জন্য দুটি শক্তির প্রয়োজন।

​গুরুর কৃপা: গুরুর মাধ্যমেই আমরা ভগবানের তত্ত্ব জানতে পারি এবং ভক্তির বিধিবিধান শিখতে পারি। গুরু আমাদের হৃদয়ে সেই ভক্তির বীজ রোপণ করেন।

​কৃষ্ণের কৃপা: কৃষ্ণ পরমাত্মা হিসেবে আমাদের হৃদয়ে বাস করেন। গুরুর দেওয়া বীজটি আমাদের হৃদয়রূপ মাটিতে অংকুরিত হওয়ার শক্তি বা অনুপ্রেরণা কৃষ্ণই জোগান। গুরু ও কৃষ্ণ—উভয়ের সম্মিলিত করুণা ছাড়া ভক্তি লাভ অসম্ভব।

তথ্যসূত্র: শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত (মধ্যলীলা ১৯.১৫১)।
নিবেদনে: সজ্জন জীবন দাস, জপযজ্ঞ (কুটি ধাম)
সময়: বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

"জন্মসূত্রে প্রতিটি মানুষ দেবতা, ঋষি, পিতৃপুরুষ ও সমাজের কাছে নানাভাবে ঋণী ও দায়বদ্ধ থাকে। কৃষ্ণের চরণে নিবেদিত হলে পূর্...
20/05/2026

"জন্মসূত্রে প্রতিটি মানুষ দেবতা, ঋষি, পিতৃপুরুষ ও সমাজের কাছে নানাভাবে ঋণী ও দায়বদ্ধ থাকে। কৃষ্ণের চরণে নিবেদিত হলে পূর্বের সমস্ত কর্মফল ও ঋণের বন্ধন এক নিমেষে ছিন্ন হয়ে যায়। কৃষ্ণই হলেন 'মুকুন্দ', যার চরণে আশ্রয় নিলে এই জড় সংসারের জন্ম-মৃত্যুর চক্র (ভববন্ধন) থেকে চিরতরে মুক্তি লাভ করা যায়।"

তথ্যসূত্র: শ্রীমদ্ভাগবত ১১.৫.৪১
নিবেদনে: সজ্জন জীবন দাস, জপযজ্ঞ (কুটি ধাম)
সময়: বুধবার, ২০ মে ২০২৬

"মুখ দিয়ে কৃষ্ণপ্রসাদ আস্বাদন এবং কৃষ্ণনাম জপ করার মাধ্যমে জিহ্বা পবিত্র হয়।""​নাক দিয়ে তুলসী ও কৃষ্ণের শ্রীচরণের ফুলের ...
18/05/2026

"মুখ দিয়ে কৃষ্ণপ্রসাদ আস্বাদন এবং কৃষ্ণনাম জপ করার মাধ্যমে জিহ্বা পবিত্র হয়।"

"​নাক দিয়ে তুলসী ও কৃষ্ণের শ্রীচরণের ফুলের সুবাস নিলে ঘ্রাণেন্দ্রিয় শুদ্ধ হয়।"

"​হাত দিয়ে বিগ্রহের সেবা, অর্চন এবং সাধু-গুরু-বৈষ্ণবদের শ্রীচরণ স্পর্শের মাধ্যমে স্পর্শেন্দ্রিয় চিন্ময় রূপ লাভ করে।"

তথ্যসূত্র: "শ্রীমদ্ভাগবতম্ (৯/৯/১৮-২০)"
নিবেদনে: সজ্জন জীবন দাস, জপযজ্ঞ (কুটি ধাম)
সময়: মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

Address

Dhaka
380001

Telephone

+8801682320449

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sajjan Jibon Das posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share