17/12/2024
✍️ যজুর্বেদ যজ্ঞার্থে #অধ্বরাদি শব্দ
যজুর্বেদের অনেক মন্ত্রে যজ্ঞের জন্য অধ্বর শব্দের প্রয়োগ হয়েছে এবং উপদেশের মাধ্যমে পশুহিংসার নিষেধ করা হয়েছে
দূতে দৃংহ মা মিত্রস্য মা চক্ষুষা সর্বানি ভূতানি সমীক্ষন্তাং।
মিত্রস্যাহং চক্ষুষা সর্বাণি ভূতাণি সমীক্ষে মিত্রস্য চক্ষুসা সমীক্ষামহে।। - (যজু০ ৩৬.১৮)
অর্থাৎ হে অজ্ঞানান্ধকার নাশক প্রভু, সব প্রাণী আমাকে মিত্রের দৃষ্টি দিয়ে দেখুক, আমি সব প্রাণীকে (কেবল মনুষ্যই নয়) মিত্রের প্রেমময় দৃষ্টি দিয়ে দেখি, আমরা সকলে পারস্পরিক মিত্রতা অক্ষুন্ন রাখি।
(যজু০ ১.১) মন্ত্রে যজ্ঞকে শ্রেষ্ঠতম কর্ম বলে সম্বোধন করে বলা হয়েছে, 'পশূন্ পাহি' - পশুদের রক্ষা করো। (যজু০ ৬.১১) মন্ত্রে পতি-পত্নীকে উপদেশ দেওয়া হয়েছে, 'পশুংস্ত্রায়েথাম্' - পশুদের রক্ষা করো।
(যজু০ ১৪.৮) মন্ত্রে উপদেশ দেওয়া হয়েছে -
"দ্বিপাদব চতুষ্পাদ পাহি"।।
অর্থাৎ হে মনুষ্য, তুমি দ্বিপদ অর্থাৎ মনুষ্যদের এবং চতুষ্পদ অর্থাৎ পশুদের সর্বদা রক্ষা করো।
এইরূপ পশুরক্ষার প্রতিপাদনে এবং পশুহিংসার নিষেধে নির্দেশ আছে –
গাং মা হিংসীরদিতিং বিরাজম্।। - (যজু০১৩.৪৩)
ইমং মা হিংসীর্দিপাদং পশুম্।। - (যজু০১৩.৪৭)
ইমং মা হিংসীরেক শফং পশুং কনিক্রদং বাজিনং বাজিনেষু।। - (যজু০ ১৩.৪৮)
ইমমূর্ণায়ং বরুণস্য নাভিং ত্বচং পশূনাং দ্বিপদাং চতুষ্পদম্। ত্বষ্টুঃ প্রজানাং পরম জনিত্রমগ্নে মা হিংসীঃ পরমে ব্যোমন্।। - (যজু০১৩.৫০)
এই রকম অজস্র মন্ত্র পাওয়া যায় যেখানে গাভী, অশ্ব, মেষাদি পশুদের প্রতি হিংসা করা নিষেধ করা হয়েছে। অধ্বর শব্দ যজ্ঞের সমার্থক ও বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হয়েছে, এইরকম মন্ত্রের সংখ্যা কমপক্ষে ৪৩।
ক) ভদ্রো নো অগ্নিরাহুতো ভদ্রা রাতিঃ সুভগ ভদ্রো অধ্বরঃ। ভদ্রা উত প্রশস্তয়ঃ।। - (যজু০ ১৫.৩৮)
খ) বীতিহোত্রং ত্বা কবে দ্যুমন্তং সমিধীমহি অগ্নে বৃহন্তমধ্বরে।। - (যজু০ ২.৪)
গ) উপ প্রয়ত্নো অধ্বরং মন্ত্রং বোচেমাগ্নয়ে আরে অস্মে চ শৃন্বতে।। - (যজু০ ৩.১১)
ঘ) হবিষ্মতীরিমা আপো হবিষ্মাং$আ বিবাসতি। হবিষ্মান্ দেবো অঞ্চরো হবিষ্মাং অস্তু সূর্যঃ।।(যজু০ ৬.২৩)
ঙ) হৃদে ত্বা মনসে ত্বা দিবে ত্বা সূর্যায় ত্বা। ঊর্দ্ধমিমধ্বরং দিবি দেবেষু হোত্রা য়চ্ছ।। - (যজু০ ৬.২৫)
চ) মন্মানি ধীভিরুত যজ্ঞমৃন্ধন্ দেবত্রা চ কৃনুহ্যধ্বরং নঃ।। - (যজু০ ২৯.২৬)
✍️ সামবেদে "অধ্বর" শব্দ -
সামবেদেও যজ্ঞের জন্য অধ্বর শব্দের ব্যবহার বহু মন্ত্রে দেখতে পাওয়া যায়; যেমন-
মন্ত্র ১৬ - প্রতিত্যং চারুমধ্বরং গোপীথায় প্রহয়সে। মরুদ্ ভিরগ্ন আগহি।।
-এখানে যজ্ঞকে অধ্বর অর্থাৎ হিংসারহিত শুভকর্ম এবং চারু অর্থাৎ উত্তম বলা হয়েছে এবং সেখানে বিদ্বানদেরকে আমন্ত্রণ করা হয়েছে।
মন্ত্র ২১ – অগ্নিং বো বৃদ্ধন্তমধ্বরানাং পুরুতমম্। অচ্ছানপত্রে সহস্বতে।।
-এখানে অগ্নি পরমেশ্বর ও জ্ঞানী বিদ্বান-অগ্রণী নেতাকে অধ্বর অর্থাৎ হিংসারহিত যজ্ঞকে বৰ্দ্ধিত ও প্রোৎসাহিত করার জন্য বলা হয়েছে।
মন্ত্র ৩২ – কবিমগ্নিমুপস্তুহি সত্যধর্মাণমধ্বরে। দেবমমীবচাতনম্।।
এখানেও যজ্ঞকে অধ্বর অর্থাৎ হিংসারহিত শুভকর্ম বলা হয়েছে। যজ্ঞে সত্য ধর্ম (শাশ্বত নিত্য নিয়ম) রক্ষক, সর্বরোগনাশক, জ্ঞানস্বরূপ পরমেশ্বরের স্তুতির উপদেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া নিম্ন মন্ত্রগুলিও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য কেননা এগুলিতে যজ্ঞে পশুবলির স্পষ্ট নিষেধ পাওয়া যায়।
ন কি দেবা ইনীমসি ন ক্যায়োপয়ামসি মন্ত্রশ্রুত্যং চরামসি।। - (সাম০পূ০ ২,৪,২)
এই মন্ত্রটির ব্যাখ্যায় ভাষ্যকার সায়ণাচায় লিখছেন – 'হে দেবাঃ! য়ুষ্মদ্ বিষয়ে কিমপি ন হিংসম্ শ্রুতৌ বিধিবাক্য প্রতিপদ্যং য়দ্ য়ুগ্মদ্ বিষযে কর্ম তৎ আচরামঃ।' (সাম০সংহিতা ভাষ্যম্ কলিকাতা সং পৃ০ ৯৫), সুপ্রসিদ্ধ বিদ্বান্ সত্যব্রত সামশ্রমী তাঁর ব্যাখ্যায় লিখেছেন – 'প্রাণিবধং কর্ম পশ্বাদিয়াগং ন কুর্মঃ।'
(৮) অর্থাৎ আমরা প্রাণিবধরূপ পশ্বাদিযাগ করি না। মীঞ হিংসায়াম্ প্রযুক্ত হয়েছে। এতএব অর্থ পরিস্কার যে আমরা হিংসাত্মক কর্ম করি না। লোকদেরকে প্রলোভন দিয়েও মন্দ কর্ম করাই না। আমরা বেদের উপদেশ অনুযায়ী আচরণ করি। 'অধ্বর' শব্দের ব্যবহার বহুমন্ত্রে এসেছে যার দ্বারা পশুবলি নিষেধ করা হয়েছে সন্দেহ নাই।
🙏 ও৩ম্ শান্তি শান্তি শান্তিঃ।। 🙏
#বৈদিকযজ্ঞসম্বন্ধেভ্রান্তিনিবারণ৩
✍️ প্রচারে,
Arya Samaj আর্যসমাজ
Arya Pratinidhi Sabha Bangladesh