মাজার দর্শন-MAZAR VISIT

মাজার দর্শন-MAZAR VISIT Mazar visit the world

"বাংলার ওলী হযরত সৈয়দ সোলেমান শাহ্ লেংটা বাবা রহঃ আঃ এর পবিত্র মাজার শরীফ" স্থানঃ বেলতলী মতলব চাঁদপুর বাংলাদেশ। ১৭ই চৈত্...
23/03/2026

"বাংলার ওলী হযরত সৈয়দ সোলেমান শাহ্ লেংটা বাবা রহঃ আঃ এর পবিত্র মাজার শরীফ" স্থানঃ বেলতলী মতলব চাঁদপুর বাংলাদেশ। ১৭ই চৈত্র বাৎসরিক ওরোছ মোবারক এবং মাসব্যাপী আসেকান পাগল স্বাধুদের মিলন মেলা।
পরিচয় এবং জ্বীবনীঃ
চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার বদরপুর গ্রামে (যা সাধারণ মানুষের কাছে বেলতলী বা বোলতলী নামেই অধিক পরিচিত) শায়িত আছেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত সুফী স্বাধক হযরত শাহ্ সোলেমান লেংটা (রহঃ)। তাঁর জীবন ও আদর্শকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর এখানে যে বিশাল ওরস শরীফ ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়, তা লোকজ সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতার এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
​নিচে এই মহান সাধকের জীবন ও দর্শন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
​১. জন্ম ও বংশ পরিচয়
​হযরত শাহ্ সোলেমান লেংটা (রহঃ) ১৮২৫ সালে (মতান্তরে ১৮২০-এর দশকে) বর্তমান কুমিল্লা জেলার মেঘনা উপজেলার ওমরাবাদ গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম ছিল হযরত শাহ্ আলিম উদ্দিন। শৈশব থেকেই তিনি অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের ছিলেন এবং জাগতিক বিলাসিতার প্রতি তাঁর কোনো আকর্ষণ ছিল না।
​২. আধ্যাত্মিক জীবন ও 'লেংটা' উপাধির রহস্য
​শাহ্ সোলেমান শাহ্ মূলত একজন মজ্জুব (আল্লাহর প্রেমে আত্মহারা) সাধক ছিলেন। সুফিবাদে 'মজ্জুব' বলা হয় তাদের, যারা স্রষ্টার ধ্যানে এতটাই নিমগ্ন থাকেন যে নিজের দেহ বা পারিপার্শ্বিক জগত সম্পর্কে তাঁদের কোনো হুঁশ থাকে না।
​বিবাগী জীবন: তিনি ঘরবাড়ি ত্যাগ করে বনে-জঙ্গলে এবং নির্জন স্থানে ধ্যানমগ্ন থাকতেন।
​বসনহীনতা: লোকমুখে প্রচলিত যে, আধ্যাত্মিক স্তরের এক বিশেষ পর্যায়ে তিনি পোশাক-পরিচ্ছদ ত্যাগ করেন। তিনি মনে করতেন, অন্তরের আবিলতা দূর করাই আসল বিষয়, দেহের আচ্ছাদন সেখানে গৌণ। এই উদাসীন বা বিবাগী অবস্থার কারণেই সাধারণ মানুষের কাছে তিনি 'লেংটা বাবা' হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
​সাধনা: তিনি দীর্ঘ সময় মতলবের বেলতলী এলাকায় নির্জন স্থানে আস্তানা গেড়ে আল্লাহ্‌র ইবাদতে মগ্ন থাকতেন। তাঁর অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও আধ্যাত্মিক শক্তির কথা দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
​৩. অলৌকিক ঘটনা ও কারামত
​ভক্তদের মতে, শাহ্ সোলেমান লেংটার জীবনে অসংখ্য অলৌকিক ঘটনা বা কারামত ঘটেছে। লোকগাঁথা অনুযায়ী:
​তিনি বৃক্ষ বা প্রাণীর সাথে কথা বলতে পারতেন বলে অনেক অনুসারী বিশ্বাস করেন।
​অসুস্থ ব্যক্তিদের আরোগ্য দান এবং মানুষের বিপদে আধ্যাত্মিক সাহায্যের অনেক গল্প এই অঞ্চলে প্রচলিত।
​তিনি হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকল ধর্মের মানুষের কাছে শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন, কারণ তিনি মানুষকে মানুষ হিসেবেই ভালোবাসতেন।
​৪. মৃত্যু ও সমাধি
​এই মহান সাধক ১৯১৮ সালের চৈত্র মাসে (ইংরেজি হিসেবে ১৩২৫ বঙ্গাব্দ) মৃত্যুবরণ করেন। মতলব উত্তর উপজেলার বেলতলী নামক স্থানে তাঁকে সমাহিত করা হয়। তাঁর মৃত্যুর পর সেই স্থানটি 'বদরপুর দরবার শরীফ' বা 'বেলতলী মাজার' হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করে।
​৫. বেলতলী মেলা ও ওরস শরীফ
​প্রতি বছর শাহ্ সোলেমান লেংটার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে চৈত্র মাসের ১৭ তারিখ থেকে বেলতলীতে বিশাল ওরস শুরু হয়। এই ওরসকে কেন্দ্র করে মাসব্যাপী মেলা চলে।
মাজার দর্শন
Yearly Urose Mobarak 17 e Choitro Bangla.
Hazrat Sholeman Shah Lengta Baba Rh Ah. Mazar Sharif. Venue: Beltali Matlab Chandpur Bangladesh.

১০৭তম বাৎসরিক ওরোছ মোবারক-২০২৬ ঈঁষায়ী"বাংলার ওলী হযরত সৈয়দ সোলেমান শাহ্ লেংটা বাবা রহঃ আঃ এর ১০৭তম ওরোছ মোবারক"তারিখঃ ১৬...
15/03/2026

১০৭তম বাৎসরিক ওরোছ মোবারক-২০২৬ ঈঁষায়ী
"বাংলার ওলী হযরত সৈয়দ সোলেমান শাহ্ লেংটা বাবা রহঃ আঃ এর ১০৭তম ওরোছ মোবারক"
তারিখঃ ১৬/১৭/১৮ই চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ।
২৯/৩০/৩১শে মার্চ ২০২৬ ঈঁষায়ী।
০৯/১০/১১ই শাওয়াল ১৪৪৭ হিজ্বরী।
স্থানঃ বেলতলী মতলব চাঁদপুর বাংলাদেশ।
তিন দিন ব্যাপী মহাসমারোহে ওরোছ মোবারক উৎযাপিত হবে। গুরু প্রেমের প্রেমিক/পাগল ভক্ত আসেকান আপনারা সকলেই আমন্ত্রিত। দোহাই লেঙটা 🙏
Yearly Urosh Mobarak 2026
Hazrat Solaman Shah Lengta Baba Rh Ah 107 Urosh Mobarak.
Date: 29/30/31 March 2026
Venue: Beltali Matlab Chandpur Bangladesh.

"আল্লাহ'র নবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা সাঃ এর চাচাতো ভাই/জামাতা ও ইসলামের চতুর্থ খলিফা এবং পবিত্র পাকপাঞ্জাতনের অন্যতম একজন...
09/03/2026

"আল্লাহ'র নবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা সাঃ এর চাচাতো ভাই/জামাতা ও ইসলামের চতুর্থ খলিফা এবং পবিত্র পাকপাঞ্জাতনের অন্যতম একজন-
শের-এ খোদা হযরত মাওলা আলী ইবনে আবু তালিব (আলী কারীমুল্লাহ্ আঃ) এর পাক রওজা মোবারক"
স্থানঃ নাফাজ শহর ইরাক।

পরিচয় এবং জ্বীবনীঃ
হযরত মাওলা আলী ইবন আবী তালিব ছিলেন ইসলামের নবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা সাঃ এর ﷺ চাচাতো ভাই, জামাতা ও সহচর, যিনি ৬৫৬ থেকে ৬৬১ সাল পর্যন্ত খলিফা হিসেবে মুসলিম বিশ্ব শাসন করেছিলেন। সুন্নি ইসলাম অনুসারে তিনি চতুর্থ রাশিদুন খলিফা। পক্ষান্তরে, শিয়া ইসলাম অনুসারে তিনি মুহম্মদের ন্যায্য স্থলাভিষিক্ত ও প্রথম ইমাম।[৮][৯][১০][১১][১২] আবী তালিব ইবন আব্দুল মুত্তালিব ও ফাতিমা বিন্ত আসাদের পুত্র আলী ছোটবেলা থেকেই তাঁর ভাই মুহম্মদের কাছে বড় হন এবং তিনি ছিলেন প্রথম ইসলাম গ্রহণকারীদের অন্যতম।[১৩] তিনি আহলুল কিসা ও আহলুল বাইতের একজন সদস্য হিসেবে শিয়া ও সুফিবাদী সুন্নি মুসলমানদের কাছে সম্মানিত।[১৪][১৫]

ইসলামের সূচনালগ্নে যখন মক্কায় মুসলমানদের উপর প্রচণ্ড নির্যাতন চলছিল, তখন আলী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।[১৬] ৬২২ সালে মদিনায় হিজরতের পর মুহম্মদ তাঁর কন্যা ফাতিমাকে আলীর সঙ্গে বিয়ে দেন এবং তাঁর সঙ্গে ভ্রাতৃত্বের অঙ্গীকার করেন। এই সময় আলী মুহম্মদের সচিব ও প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেন এবং তাঁর সেনাবাহিনীর পতাকাবাহক ছিলেন। মুহম্মদের অসংখ্য বাণীতে আলীর প্রশংসা করা হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বিতর্কিতটি হল ৬৩২ সালে গাদীর খুমে উচ্চারিত, “আমি যার মওলা, এই আলীও তার মওলা।” বহু-অর্থবোধক আরবি শব্দ মওলার ব্যাখ্যা নিয়ে মুসলমানদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে: শিয়াদের মতে, মুহম্মদ এর মাধ্যমে আলীকে তাঁর ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কর্তৃত্ব অর্পণ করেছিলেন; অপরদিকে, সুন্নিরা এটিকে কেবল বন্ধুত্ব ও সৌহার্দ্যের একটি বিবৃতি হিসেবে দেখে।[১৭]

একই বছর মুহম্মদ যখন মারা যান, তখন আলীর অনুপস্থিতিতে একদল মুসলমান সকীফায় সমবেত হয়ে আবু বকরকে (শা. ৬৩২–৬৩৪) তাদের নেতা নিযুক্ত করেন।[১৮] আলী ও তাঁর স্ত্রী ফাতিমা আবু বকরের কর্তৃত্ব মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান।[১৯][২০] ফাতিমা আমৃত্যু আবু বকরের প্রতি আনুগত্য প্রদান থেকে বিরত থাকলেও আলী পরবর্তীতে তাঁর নেতৃত্বের দাবি থেকে সরে দাঁড়ান এবং আবু বকর ও তাঁর উত্তরসূরি উমরের (শা. ৬৩৪–৬৪৪) শাসনামলে রাজনৈতিক ও সামরিক জনজীবন থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন।[২১] যদিও তাঁর পরামর্শ কখনও কখনও চাওয়া হত, তবু আলীর সঙ্গে প্রথম দুই খলিফার দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন তিনি তাঁদের অনেক কার্যপদ্ধতি মানতে অস্বীকার করেন। এই প্রত্যাখ্যানই তাঁকে খিলাফত থেকে বঞ্চিত করে, যার ফলে উসমান (শা. ৬৪৪–৬৫৬) নির্বাচনী পরিষদ কর্তৃক উমরের উত্তরসূরী নিযুক্ত হন। আলী উসমানেরও তীব্র সমালোচক ছিলেন, যাঁকে ব্যাপক স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। তথাপি তিনি খলিফা ও তার নীতিতে ক্ষুব্ধ প্রাদেশিক বিদ্রোহীদের মধ্যে একাধিকবার মধ্যস্থতা করেছিলেন।

৬৫৬ সালের জুন মাসে উসমান হত্যাকাণ্ডের পর আলীকে মদিনায় খলিফা নির্বাচিত করা হয়। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে দুটি পৃথক বিদ্রোহের মুখোমুখি হন, যেগুলো বাহ্যত উসমানহত্যার প্রতিশোধের দাবি নিয়ে পরিচালিত হচ্ছিল। মুহাম্মদের স্ত্রী আয়িশা এবং সাহাবি তালহা ও জুবাইর ত্রয়ী ইরাকের বসরা দখল করে নেন, কিন্তু আলী ৬৫৬ সালে উটের যুদ্ধে তাঁদের পরাজিত করেন। অন্যদিকে, আলী কর্তৃক শামের গভর্নর পদ থেকে সদ্য অপসারিত মুয়াবিয়া ৬৫৭ সালে সিফফিনের যুদ্ধে আলীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। যুদ্ধটি নিষ্পত্তিহীন অবস্থায় শেষ হয় এবং মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়, যার ফলে আলীর কিছু অনুসারী ক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে। এই গোষ্ঠী থেকেই খারিজি সম্প্রদায়ের উদ্ভব ঘটে, যারা পরে জনমনে ত্রাস সৃষ্টি করে এবং ৬৫৮ সালে নহরওয়ানের যুদ্ধে আলী এদের দমন করেন। ৬৬১ সালে খারিজি বিদ্রোহী ইবন মুলজাম আলীকে গুপ্তহত্যা করে, যা মুয়াবিয়ার ক্ষমতা দখলের পথ সুগম করে এবং রাজতান্ত্রিক উমাইয়া খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হয়।

আলী তাঁর প্রজ্ঞা, সাহসিকতা, সততা, আধ্যাত্মিকতা, দার্শনিকতা, বাগ্মিতা, ইসলামের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা, মহানুভবতা এবং সকল মুসলমানের প্রতি সমান আচরণের জন্য শ্রদ্ধেয়। তাঁর অনুরাগীদের কাছে তিনি অবিকৃত ইসলাম এবং প্রাগৈসলামিক বীরত্বের আদর্শরূপ। শিয়ারা আলীকে তাদের প্রথম ইমাম বলে গণ্য করে, অন্যদিকে সুন্নিরা তাঁকে চতুর্থ রাশিদুন খলিফা হিসেবে বিবেচনা করে। শিয়া মুসলিম সংস্কৃতিতে মুহম্মদের পরেই আলীর স্থান। ইরাকের নজফে অবস্থিত আলীর মাজার শিয়া মুসলমানদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। আলীর জ্ঞানমূলক উত্তরদায় বহু গ্রন্থে সংরক্ষিত ও অধীত হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হল নহজুল বলাগা।

জন্ম ও বংশপরিচয়
আরও দেখুন: সাহাবাদের মুসলমান হওয়ার সময় ও সতর্কীকরণ হাদীস
হযরত আলি (রা.) মক্কা নগরীতে একটি সম্মানিত কুরাইশ বংশে আনুমানিক ৬০১ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পরিবার কাবা শরিফের রক্ষণাবেক্ষণের গুরুদায়িত্ব পালন করত এবং মক্কার সমাজে অত্যন্ত মর্যাদাশীল অবস্থান ধারণ করত। তাঁর পিতা আবু তালিব কুরাইশ গোত্রের প্রভাবশালী শাখা বনু হাশিমের নেতৃত্ব দিতেন এবং কাবার রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। আলি (রা.)-এর দাদা হাশিম বংশের অন্যান্য সদস্যদের মতোই হানিফ ছিলেন, অর্থাৎ ইসলামপূর্ব যুগেই একেশ্বরবাদী বিশ্বাসে দীক্ষিত ছিলেন। বিশেষ মর্যাদার অধিকারী হিসেবে আলি (রা.) ইসলামের পবিত্রতম স্থান কাবার অভ্যন্তরেই জন্মলাভ করেন।[২২] তাঁর মাতা ছিলেন ফাতিমা বিনতে আসাদ।[১৩] আবু তালিবের পত্নী ফাতিমা বিনতে আসাদ ১৩ রজব, শুক্রবার কাবার সম্মুখে দাঁড়িয়ে আল্লাহর নিকট প্রসববেদনা থেকে মুক্তির জন্য প্রার্থনা করছিলেন। তখন অলৌকিকভাবে কাবার দরজা স্বয়ংক্রিয়ভাবে উন্মুক্ত হয় এবং তিনি অনুভব করেন এক অদৃশ্য শক্তি তাকে কাবার অভ্যন্তরে প্রবেশ করায়। সেখানে তিনি আলি (রা.)-কে জন্ম দেন। ইতিহাসবিদদের মতে, আলি (রা.) সম্ভবত একমাত্র ব্যক্তি যিনি কাবার পবিত্র অভ্যন্তরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।[২৩][২৪][২৫] জন্মের পর তিনি ও তাঁর মাতা তিন দিন পর্যন্ত কাবার অভ্যন্তরে অবস্থান করেন। বাহিরে আসার পর মহানবী মুহাম্মদ (সা.) তাদের অভ্যর্থনা জানান এবং নবজাতককে অন্নপ্রাশন করান। মহানবী সাঃ নিজেই শিশুটির নাম রাখেন "আলী" যার অর্থ 'উন্নত ও মহান। পরবর্তীতে মোহাম্মদ সাঃ মাওলা-এ আলী আঃ দত্তক নেন।
আবু তালিব তাঁর ভাতিজা মুহাম্মদ (সা.)-কে পিতৃ-মাতৃহীন হওয়ার পর লালন-পালন করেছিলেন। পরবর্তীতে যখন আবু তালিব আর্থিক সংকটে পড়েন, তখন প্রায় পাঁচ বছর বয়সে আলি (রা.)-কে মুহাম্মদ (সা.) ও তাঁর স্ত্রী খাদিজা (রা.) তাদের তত্ত্বাবধানে নিয়ে যান[২৩]। ইসলামের ইতিহাসের সূচনালগ্নে তিনি সর্বপ্রথম নবুয়তের ডাকে সাড়া দিয়ে মাত্র ১০ বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন।[২৬] মুহাম্মদ (সা.) আলি (রা.)-কে নিজ সন্তানের মতো লালন-পালন করেন। আলি (রা.) প্রথম পুরুষ হিসেবে শিশুকালেই ইসলাম গ্রহণ করেন।[২৭] তিনিই প্রথম পুরুষ যিনি মুহাম্মদ (সা.)-এর সাথে নামাজ আদায় করেছিলেন।

মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আলি (রা.) তাঁর অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী ছিলেন। তিনি প্রায় সকল গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে অকুতোভয় বীরত্ব প্রদর্শন করেন। বদরের যুদ্ধে তাঁর অসামান্য বীরত্বের জন্য মুহাম্মদ (সা.) তাঁকে জুলফিকার নামক ঐতিহাসিক তরবারি উপহার দেন।[২৮] খাইবারের যুদ্ধে তাঁর সাহসিকতার জন্য মুহাম্মদ (সা.) তাঁকে 'আসাদুল্লাহ' (আল্লাহর সিংহ) উপাধিতে ভূষিত করেন।[২৯] গাদীরে খুমের ঐতিহাসিক ভাষণে মুহাম্মদ (সা.) তাঁকে সমস্ত মুমিনের 'মওলা' (অভিভাবক) হিসেবে ঘোষণা দেন।[৩০][৩১]

শুরুর দিককার দিনগুলো
হযরত আলি (রা.) এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মধ্যে এক গভীর আত্মিক বন্ধন গড়ে উঠেছিল, যা আলি (রা.)-এর শৈশবকাল থেকেই বিকশিত হয়েছিল। এই বিশেষ সম্পর্কের পটভূমিতে রয়েছে পারিবারিক বন্ধনের ইতিহাস। আলি (রা.)-এর পিতা আবু তালিব ছিলেন রাসূল (সা.)-এর চাচা এবং অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। রাসূল (সা.) যখন পিতৃ-মাতৃহীন হয়ে পড়েন এবং তাঁর দাদা আবদুল মুত্তালিব ইন্তেকাল করেন, তখন আবু তালিব তাঁকে নিজ সন্তানের মতো লালন-পালন করেন। ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত যে, রাসূল (সা.) খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ (রা.)-কে বিয়ে করার প্রায় দুই-তিন বছর পর আলি (রা.)-এর জন্ম হয়। পরবর্তীতে আলি (রা.) শিশুকালে রাসূল (সা.)-এর তত্ত্বাবধানে আসেন এবং তিনি তাঁকে পুত্রস্নেহে লালন করেন। শৈশব থেকেই আলি (রা.) রাসূল (সা.)-এর সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত ছিলেন। রাসূল (সা.) যেখানেই যেতেন, আলি (রা.) তাঁর ছায়াসঙ্গী হতেন। তাঁর সকল কাজে তিনি সহযোগিতা করতেন। হেরা পর্বতের গুহায় মুহাম্মদ (সা.) যখন ধ্যানমগ্ন থাকতেন, আলি (রা.) প্রায়ই তাঁর সাথে থাকতেন। কখনো কখনো তারা একসাথে ৩-৪ দিন পর্যন্ত পাহাড়ে অবস্থান করতেন। আলি (রা.) মাঝে মাঝে মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্য খাদ্যসামগ্রী নিয়ে যেতেন। স্বীয় বর্ণনা নাহজুল বালাগায় আলি (রা.) নিজেই এই সম্পর্ক বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন: "আমি মুহাম্মদ (সা.)-এর সাথে সেইভাবে থাকতাম, যেমন একটি বাচ্চা উট তার মায়ের অনুসরণ করে।"

ইসলাম গ্রহণ
যখন রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রথম ঐশী বাণী প্রাপ্ত হন, তখন মাত্র ১১ বছর বয়সী আলি (রা.) অকুণ্ঠ বিশ্বাস সহকারে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন ইসলাম গ্রহণকারী প্রথম পুরুষ। খাদিজা (রা.)-এর পর দ্বিতীয় ব্যক্তি যিনি ইসলামে দীক্ষিত হন। ইসলামের প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ সৈয়দ আলি আসগর রাজউয়ী তাঁর গবেষণায় উল্লেখ করেছেন: "মুহাম্মদ (সা.) এবং খাদিজা (রা.)-এর গৃহে যমজ সন্তানের মতো কুরআন মজীদ ও আলি (রা.) একসাথে বেড়ে উঠেছেন।" অর্থাৎ, আলির জীবন ইসলামের জন্মের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত ছিল। কাবায় নামাজ আদায়কারী প্রথম তিনজন ব্যক্তি ছিলেন মুহাম্মদ (সা.), খাদিজা (রা.) এবং আলি (রা.)। ইসলাম গ্রহণের পর থেকে রাসূল (সা.)-এর অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী হিসেবে সকল কাজে সহযোগিতা করতেন। শিয়া মাযহাব অনুযায়ী, তিনি কোনো প্রাক-ইসলামিক মক্কান ধর্মীয় রীতিতে অংশগ্রহণ করেননি। অল্প বয়সেই আলি (রা.)-এর মধ্যে গভীর ধর্মীয় বোধের প্রকাশ ঘটে।তিনি হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর আদর্শ অনুসরণ করতেন।মূর্তি ভাঙ্গার মতো সাহসী কাজে অংশ নিতেন। লোকজনকে মূর্তিপূজার অসারতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করতেন। এটি প্রমাণ করে যে, খুব কম বয়সেই আলি ধর্মীয় বিষয়গুলো খুব ভালোভাবে বুঝতেন এবং সাহসের সাথে নিজের বিশ্বাসের পক্ষে দাঁড়াতেন।

জুল আশিরার ভোজনোৎসব
ইসলামের ইতিহাসে নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর প্রথম প্রকাশ্য দাওয়াত 'দাওয়াত দুল-আশিরাহ' (দশজনের দাওয়াত) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়। কুরআনের সূরা আশ-শুআরা ২১৪ নং আয়াতের নির্দেশনা অনুসারে, আল্লাহ তাআলা নবীকে প্রথমে নিজ আত্মীয়-স্বজনকে ইসলামের দিকে আহ্বান জানাতে বলেছিলেন। এই নির্দেশনা পালনে নবী মুহাম্মাদ (সা.) প্রায় তিন বছর গোপনে ইসলাম প্রচারের পর বনু হাশিম গোত্রের সকল সদস্যকে একত্রিত করে একটি বিশেষ সমাবেশের আয়োজন করেন। এই ঐতিহাসিক সমাবেশে নবী (সা.) ইসলামের মৌলিক নীতিমালা উপস্থাপন করে একটি আবেগময় আহ্বান জানান:

"আমি আল্লাহর অশেষ রহমতের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আমি তাঁর প্রশংসা করি এবং তাঁর হিদায়াত কামনা করি। আমি তাঁর উপর ঈমান রাখি এবং তাঁরই উপর ভরসা করি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই; তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আমি তাঁর প্রেরিত রাসূল। আল্লাহ আমাকে আদেশ দিয়েছেন: 'তোমার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক কর' (সূরা আশ-শুআরা: ২১৪)। তাই আমি আপনাদের সতর্ক করছি এবং ঘোষণা করছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি তাঁর রাসূল।

হে আবদুল মুত্তালিবের সন্তানগণ! আমি এমন এক বস্তু নিয়ে এসেছি যা আগে কেউ আনেনি। এটি গ্রহণ করলে তোমাদের পার্থিব ও পরকালীন কল্যাণ নিশ্চিত হবে। এখন বলো, তোমাদের মধ্যে কে আমাকে এই মহান কাজে সাহায্য করবে? কে আমার পাশে দাঁড়াবে? কে এই দায়িত্বভার আমার সাথে বহন করবে? কে আমার ডাকে সাড়া দিয়ে আমার উত্তরাধিকারী হবে? আল্লাহর পথে কে আমার সঙ্গী হবে?"[৩২]

সমাবেশে উপস্থিত সকলের মধ্যে থেকে কেবল তরুণ আলি (রা.)ই দৃঢ়চিত্তে উঠে দাঁড়িয়ে বলেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আমি সবচেয়ে কম বয়সী হলেও আপনার পাশে দাঁড়াব।" নবী (সা.) তিনবার একই প্রশ্ন করলেও কেবল আলিই সাড়া দেন। এইভাবে আলি (রা.) প্রথম যুবক হিসেবে ইসলামের পথে অগ্রসর হন এবং নবীর ঘনিষ্ঠ সহচরে পরিণত হন।
এই ঘটনার পর আবু লাহাব বিদ্রূপ করে আবু তালিবকে বলেন: "যাও, এখন তোমার ছেলের আনুগত্য কর।" বনু হাশিমের অধিকাংশ সদস্য নবীর বক্তব্য উপহাস করে সমাবেশ ত্যাগ করলেও আলি (রা.) তার প্রতিশ্রুতি অক্ষুণ্ণ রাখেন। পরবর্তীতে তিনি সারা জীবন নবী (সা.)-কে সহযোগিতা করে ইসলামের ইতিহাসে এক অনন্য ভূমিকা রাখেন। এই ঘটনা ইসলামের প্রাথমিক ইতিহাসে বিশ্বাস ও সাহসিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।

মুসলমানদের ওপর নীপিড়ন
মক্কায় মুসলমানদের ওপর অত্যাচার এবং বনু হাশিম গোত্রের প্রতি অর্থনৈতিক ও সামাজিক বর্জন চলাকালীন আলি (রা.) অবিচলভাবে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি নিরলসভাবে ইসলামের শত্রুদের হাত থেকে নবীজিকে রক্ষা করতেন। এক স্মরণীয় ঘটনায়, যখন নবী (সা.) তায়েফ শহরে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে গিয়েছিলেন, তখন তায়েফের কিশোররা তাঁকে পাথর নিক্ষেপ করে আঘাত করতে শুরু করে। সেই কঠিন মুহূর্তে আলি (রা.) নিজের জীবন বিপন্ন করে নবীজিকে রক্ষা করেন এবং আক্রমণকারীদের সরিয়ে দেন। তাঁর যৌবনকাল থেকেই আলি (রা.)-এর শারীরিক শক্তি, মানসিক দৃঢ়তা এবং অপরিমেয় সাহসিকতা তাঁকে বিশেষভাবে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছিল। তাঁর প্রশস্ত বক্ষ, বলিষ্ঠ বাহু এবং আত্মবিশ্বাসী ব্যক্তিত্ব সবার মধ্যে তাঁকে অনন্য স্থান দিয়েছিল। এমনকি বয়সে বড়রাও তাঁর সামনে সতর্ক থাকত। নবীজিকে কেউ অপমান করার চেষ্টা করলেই তারা আলি (রা.)-এর উপস্থিতি টের পেয়ে পলায়ন করত, কারণ সবাই জানত আলিই নবীজির প্রধান রক্ষক।

ইসলামের প্রাথমিক যুগে আলি (রা.) ছিলেন নবীজির সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ও নির্ভরযোগ্য সহচর। যখন বহু লোক নবীর বিরোধিতা করছিল, আলি (রা.) কখনই তাঁর চাচাতো ভাইয়ের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে দ্বিধা করেননি। প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে তিনি নবীজির জন্য মানবঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। এক সময়ে নবীজি ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে শত্রুদের বর্জন এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে তাদের জীবনই বিপন্ন হয়ে পড়ে। এই ক্রান্তিকালে নবী মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর নির্দেশে মক্কা ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। ঐতিহাসিক লাইলাতুল মবিত-এ নবীজি আলি (রা.)-কে নিজের বিছানায় শুয়ে থাকার নির্দেশ দেন, যা আলি (রা.) অকুণ্ঠচিত্তে মেনে নেন। এ সময় আলি (রা.) নবীজির আমানতগুলো প্রকৃত মালিকদের কাছে ফেরত দেওয়ার দায়িত্বও গ্রহণ করেন। সেই রাতে আলি (রা.) নিজ জীবনকে বিপন্ন করে নবীজির বিছানায় শুয়ে থাকেন, যেখানে কাফিররা নবীজিকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল। আলি (রা.)-এর এই অসাধারণ সাহসিকতার কারণে তাদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয় এবং নবীজি আবু বকর (রা.)-এর সাথে নিরাপদে মদিনায় হিজরত করতে সক্ষম হন।

আলি (রা.) নিজ জীবনের মায়া ত্যাগ করে নবীজির সেবায় সর্বদা নিবেদিত ছিলেন। তিনি সফলভাবে সকল আমানত ফেরত দিয়ে নবী পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মদিনার পথে রওনা হন। এই কাফেলায় ছিলেন তাঁর মাতা ফাতিমা বিনতে আসাদ, খালা, হামজা (রা.)-এর স্ত্রী, নবীজির কন্যা ফাতিমা (রা.) সহ অন্যান্য মহিলারা। মক্কার কাফিররা আলি (রা.)-কে থামানোর চেষ্টা করলে তিনি তাদের বিরুদ্ধে সাহসিকতার সাথে লড়াই করে পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। অবশেষে তারা মদিনায় পৌঁছলে নবীজি শহরের বাইরে তাদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। নবীজি আলি (রা.) ও পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়ে মদিনায় প্রবেশ করেন। অনেক ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, আলি (রা.) ছিলেন মদিনায় পৌঁছানো প্রথম মক্কাবাসীদের মধ্যে অন্যতম, যা ইসলামের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।

মুহাম্মদের সাহচর্য
আরও দেখুন: লায়লাতুল মাবিত, মুবাহালার ঘটনা ও গাদীর খুমের ভাষণ
৬২২ খ্রিস্টাব্দে নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্রের খবর পাওয়ার পর তিনি নিরাপত্তার জন্য ইয়াসরিবে (পরবর্তীতে মদিনা নামে পরিচিত) হিজরত করেন। কিন্তু আলি (রা.) নবীজির জীবন রক্ষার্থে মক্কায় থেকে যান এবং নবীজির ছদ্মবেশ ধারণ করে শত্রুদের বিভ্রান্ত করেন।[২৩][৩৩] আলি (রা.)-এর এই আত্মত্যাগের ঘটনা সম্পর্কে কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে: "আর কিছু লোক এমন আছে যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে।"[৩৪][৩৫][২৪] এই হিজরতের মাধ্যমেই ইসলামি হিজরি সন গণনা শুরু হয়। আলি (রা.) নবীজির আমানতসমূহ যথাযথভাবে মালিকদের ফেরত দিয়ে পরবর্তীতে মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন।[৩৬]

মদিনায় পৌঁছানোর পর নবীজি (সা.) মুসলমানদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন স্থাপনকালে আলি (রা.)-কে নিজের ভাই হিসেবে মনোনীত করেন।[৩৭] আনুমানিক ৬২৩ থেকে ৬২৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে মুহাম্মদ (স.) তাঁর কন্যা ফাতিমাকে আলি (রা.)-এর সাথে বিবাহ দেন।[৩৮][৩৯] এ সময় আলি (রা.)-এর বয়স ছিল প্রায় বাইশ বছর। উল্লেখ্য, এর পূর্বে নবীজি আবু বকর ও উমর ইবনুল খাত্তাব সহ কয়েকজন বিশিষ্ট সাহাবির ফাতিমা (রা.)-কে বিবাহের প্রস্তাব গ্রহণ করেননি।[৪০][৪১]

মুবাহালার ঘটনা
মূল নিবন্ধ: মুবাহালার ঘটনা

মুহাম্মদ এবং আলি, পনেরো শতকের ইরানি মহাকাব্য খাওয়ারনামা থেকে একটি ফোলিও।
৬৩২ খ্রিস্টাব্দে নজরান অঞ্চল থেকে একদল খ্রিস্টান প্রতিনিধি মদিনায় এসে মুহাম্মদ (সা.)-এর সাথে একটি শান্তিচুক্তি সম্পাদন করে।[৪২][৪৩] আলোচনাকালে তারা ঈসা (আ.)-এর স্বরূপ নিয়ে প্রশ্ন তোলে - তিনি মানব না ঐশ্বরিক সত্তা?[৪৪][৪৫]

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কুরআন মজীদে সূরা আলে ইমরানের ৬১ নং আয়াত নাজিল হয়,[৪৬] যাতে মুহাম্মদ (সা.)-কে নির্দেশ দেওয়া হয় তাঁর বিরোধীদের মুবাহালা (পারস্পরিক অভিশাপের মাধ্যমে সত্য নির্ণয়) করার আহ্বান জানাতে, বিশেষ করে যখন বিতর্ক অচলাবস্থায় পৌঁছায়।[৪৭] যদিও শেষপর্যন্ত খ্রিস্টান প্রতিনিধিদল এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ থেকে বিরত থাকে, তবুও মুহাম্মদ (সা.) মুবাহালার জন্য নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত হন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আলি (রা.), তাঁর কন্যা ফাতিমা এবং তাঁদের দুই পুত্র হাসান ও হুসাইন।[৩৭]

মুহাম্মদ (সা.)-এর এই বিশেষ চারজনকে মুবাহালার সাক্ষী ও প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচন করা ইসলামের ইতিহাসে তাদের মর্যাদাকে বিশেষভাবে উন্নীত করে।[৪৮][১৯][৪৯] শিয়া ইসলামের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কুরআনের এই আয়াতে
'আমাদের নিজেদের' শব্দগুচ্ছ দ্বারা যদি আলি (রা.) ও মুহাম্মদ (সা.)-কে নির্দেশ করা হয়ে থাকে, তবে তা প্রমাণ করে যে আলি (রা.) কুরআনের দৃষ্টিতে নবীজির সমতুল্য ধর্মীয় মর্যাদার অধিকারী ছিলেন।[৫০][৫১]

আরবি ক্যালিগ্রাফিতে খোদাইকৃত শিলালিপি: "আলির চেয়ে বীর যুবক আর নেই, জুলফিকারের চেয়ে উৎকৃষ্ট তরবারিও নেই"
রাজনৈতিক জীবন
মদিনায় আলি (রা.) মুহাম্মদ (সা.)-এর ব্যক্তিগত সচিব ও বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।[৫২][৩৬] তিনি কুরআনের আয়াতসমূহ লিপিবদ্ধকারী বিশেষ লেখকদের অন্যতম ছিলেন।[২৩]

৬২৮ খ্রিস্টাব্দে আলি (রা.) হুদায়বিয়ার ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির শর্তাবলি লিপিবদ্ধ করেন, যা মুসলিম ও মক্কার মুশরিকদের মধ্যে সম্পাদিত হয়েছিল। ৬৩০ খ্রিস্টাব্দে একটি গুরুত্বপূর্ণ কুরআনিক ঘোষণা প্রচারের জন্য মুহাম্মদ (সা.) আবু বকর (রা.)-কে প্রত্যাহার করে আলি (রা.)-কে নিয়োগ দেন। সুন্নি হাদিস সংকলন সুনান আন-নাসাঈ অনুসারে এটি ছিল একটি ঐশ্বরিক নির্দেশ।[৫৩][৫৪][২৪] ৬৩০ খ্রিস্টাব্দের মক্কা বিজয়ে আলি (রা.)-এর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কৌশলী ভূমিকার ফলে এটি একটি রক্তপাতহীন বিজয় হিসেবে ইতিহাসে স্থান পায়। বিজয়ের পর তিনি কাবা শরিফের ভেতরে অবস্থিত সমস্ত মূর্তি অপসারণ করেন।

৬৩১ খ্রিস্টাব্দে আলি (রা.) ইয়েমেনে ইসলাম প্রচারের বিশেষ দূত হিসেবে প্রেরিত হন। তাঁর সফল প্রচারণার ফলে হামদান গোত্র শান্তিপূর্ণভাবে ইসলাম গ্রহণ করে।[৩৩] এছাড়াও তিনি বানু জাধিমা গোত্রের সাথে মুসলমানদের সম্ভাব্য রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঠেকিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধান নিশ্চিত করেন।

সামরিক জীবন
আলি (রা.) মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রায় সকল সামরিক অভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তবে ৬৩০ সালে তাবুকের যুদ্ধ চলাকালে তিনি মদিনায় অবস্থান করে নগরীর নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন।[৩৩] এই ঘটনার সাথে সম্পর্কিত একটি প্রসিদ্ধ হাদিসে মুহাম্মদ (সা.) আলি (রা.)-কে বলেন: "হে আলি, তুমি কি সন্তুষ্ট নও যে, আমার সাথে তোমার সম্পর্ক হারুন ও মুসা-এর মতো, শুধু এই পার্থক্য যে, আমার পরে আর কোনো নবী আসবে না?" এই হাদিসটি সুন্নি ইসলামের প্রামাণিক গ্রন্থ সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম-এ বর্ণিত হয়েছে।[৫৫]

শিয়া মুসলমানদের বিশ্বাস অনুযায়ী, এই হাদীসটি আলি (রা.)-এর নবীজির প্রকৃত উত্তরসূরি হওয়ার অধিকারের স্পষ্ট প্রমাণ, যা পরবর্তীতে অস্বীকার করা হয়।[৫৬] নবীজির অনুপস্থিতিতে ৬২৮ সালে আলি (রা.) ফাদাকের যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন।[৩৬][২৩]

খায়বারের যুদ্ধে আলি (রা.)-এর বীরত্ব
আলি (রা.)-এর অসামান্য বীরত্ব ও সাহসিকতা ইসলামের ইতিহাসে প্রবাদপ্রতিম।

"নবী মোহাম্মদ মোস্তফা সাঃ এর নাতি-ইসলামের চতুর্থ খলিফা-হযরত মাওলা আলী আঃ এর বড়শাহজাদা এবং পবিত্র পাকপাঞ্জাতনের একজন"হযরত...
03/03/2026

"নবী মোহাম্মদ মোস্তফা সাঃ এর নাতি-
ইসলামের চতুর্থ খলিফা-হযরত মাওলা আলী আঃ এর বড়শাহজাদা এবং
পবিত্র পাকপাঞ্জাতনের একজন"
হযরত মাওলা ইমাম হাসান ইবনে আলী আঃ এর পবিত্র মাজার শরীফ" পবিত্র মাজার শরীফ এর ছবি ১৯২৫ সালের কিছুকাল আগের। স্থানঃ জান্নাতুল মাওয়া মদিনা শরীফ সৌদি আরব।
পরিচয় এবং জ্বীবনীঃ
ইমাম হাসান ইবনে আলী (আরবি: الحسن ابن علي, রোমানাইজড: আল-হাসান ইবনে আলী; আনুমানিক ৬২৫ – ২ এপ্রিল ৬৭০) ছিলেন একজন আলি রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতা। মাওলা আলীআঃ ও মা ফাতিমার আঃ জ্যেষ্ঠ পুত্র এবং ইসলামী নবী মুহাম্মদ সাঃ এর নাতি, মাওলা ইমাম হাসান ৬৬১ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট ৬৬১ সাল পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য খলিফা হিসেবে শাসন করেছিলেন। শিয়া ইসলামে তাকে দ্বিতীয় ইমাম হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তিনি মাওলা আলীর উত্তরসূরী এবং তার ভাই মাওলা ইমাম হুসাইনের পূর্বে। নবীর মোহাম্মদ মোস্তফা সাঃ এর নাতি হিসেবে, তিনি আহলে বায়াত এবং আহলে কিসার অংশ এবং মুবাহালার অনুষ্ঠানেও অংশগ্রহণ করেছিলেন।

মাওলা আলী (রা. ৬৫৬-৬৬১) এর খেলাফতের সময়, ইমাম হাসান প্রথম ফিতনার সামরিক অভিযানে তার সাথে ছিলেন। ৬৬১ সালের জানুয়ারিতে আলীর হত্যার পর, হাসানকে কুফায় খলিফা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ইসলামী সিরিয়ার দীর্ঘকালীন গভর্নর এবং খিলাফতের প্রতিদ্বন্দ্বী দাবিদার মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান (রা. ৬৬১-৬৮০) তার সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেননি। তিনি চিঠিতে হাসানকে পদত্যাগের জন্য চাপ দেওয়ার সময় কুফায় একটি সেনাবাহিনী নিয়ে যান। এর জবাবে, হাসান উবায়দুল্লাহ ইবনে আল-আব্বাসের নেতৃত্বে একটি অগ্রণী দল পাঠান মুয়াবিয়ার অগ্রযাত্রাকে বাধা দেওয়ার জন্য যতক্ষণ না তিনি প্রধান সেনাবাহিনী নিয়ে আসেন। ইতিমধ্যে, আলী এবং মুয়াবিয়ার বিরোধী খারেজীদের সদস্য আল-জাররাহ ইবনে সিনানের একটি ব্যর্থ হত্যা প্রচেষ্টায় হাসান গুরুতর আহত হন। এই আক্রমণ হাসানের সেনাবাহিনীকে হতাশ করে এবং ব্যাপকভাবে ত্যাগের দিকে পরিচালিত করে। মুয়াবিয়ার ঘুষ দেওয়ার পর উবায়দুল্লাহ এবং তার বেশিরভাগ সৈন্যও দলত্যাগ করে। ৬৬১ সালের আগস্টে, হাসান মুয়াবিয়ার সাথে একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করেন এই শর্তে যে মুয়াবিয়ার কুরআন ও সুন্নাহ অনুসারে শাসন করা উচিত, একটি কাউন্সিল তার উত্তরসূরি নিয়োগ করবে এবং হাসানের সমর্থকরা সাধারণ ক্ষমা পাবে। হাসান রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহণ করেন এবং মদিনায় পদত্যাগ করেন যেখানে তিনি অসুস্থতা বা বিষক্রিয়ায় মারা যান, যদিও প্রাথমিক সূত্রগুলি প্রায় একমত যে তাকে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল। মুয়াবিয়াকে সাধারণত হাসানের হত্যার প্ররোচনাকারী হিসাবে দেখা হয়, যা তার পুত্র ইয়াজিদ প্রথম (রা. 680-683) এর উত্তরাধিকারের পথে বাধা দূর করে।

মাওলা হাসান আঃ এর সমালোচকরা মুয়াবিয়ার সাথে তার চুক্তিকে দুর্বলতার ইঙ্গিত বলে অভিহিত করেন, বলেন যে তিনি শুরু থেকেই আত্মসমর্পণ করতে চেয়েছিলেন। মুয়াবিয়ার সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের কারণে, হাসানের সমর্থকরা মনে করেন যে তার সৈন্যরা বিদ্রোহ করার পর তার পদত্যাগ অনিবার্য ছিল এবং তিনি মুসলিমদের মধ্যে ঐক্য ও শান্তির আকাঙ্ক্ষা দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন, যা মুহাম্মদ একটি সুন্নি হাদিসে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন বলে জানা গেছে। মুহাম্মদের আরেকটি সুন্নি হাদিসে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে যে নবীর উত্তরাধিকার ত্রিশ বছর স্থায়ী হবে, যা কিছু প্রাথমিক সুন্নি পণ্ডিত হাসানের খেলাফত সঠিকভাবে পরিচালিত হওয়ার প্রমাণ হিসাবে ব্যাখ্যা করেছেন (রাশিদ)। শিয়া ধর্মতত্ত্বে, দ্বিতীয় শিয়া ইমাম হিসেবে হাসানের ঐশ্বরিক অভ্রান্ততা (ইসমা) তার কর্মকাণ্ডকে আরও ন্যায্যতা দেয়। শিয়া ইসলামে মুহাম্মদের ন্যায্য উত্তরসূরী হিসেবে, হাসানের সর্বব্যাপী পার্থিব ও ধর্মীয় কর্তৃত্ব ঐশ্বরিকভাবে অনুপ্রাণিত উপাধি (নাস) থেকে এসেছে, যা মুয়াবিয়া প্রথমের পদত্যাগের মাধ্যমে বাতিল করা হয়নি, যিনি কেবল পার্থিব কর্তৃত্ব দখল করেছিলেন। ইমামত এবং খেলাফতকে শিয়া ইসলামে পৃথক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখা হয় যতক্ষণ না ঈশ্বর ইমামকে বিজয়ী করেন।

প্রাথমিক জীবন
প্রধান নিবন্ধ: আলীর বংশতালিকা এবং মুহাম্মদের বংশতালিকা
জন্ম
মাওলা হাসান আঃ আনুমানিক ৬২৫ সালে মদিনায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শাবান না রমজান মাসে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তা নিয়ে সূত্র ভিন্ন, [1] যদিও বেশিরভাগ প্রাথমিক রচনায় তার জন্ম তারিখ ১৫ রমজান ৩ হিজরি (২ মার্চ ৬২৫) বলে উল্লেখ করা হয়েছে, [2] যা শিয়ারা বার্ষিকভাবে উদযাপন করে।[3] হাসান ছিলেন মুহাম্মদের কন্যা ফাতিমা এবং তার চাচাতো ভাই আলীর প্রথমজাত।[4] নাসর এবং আফসারউদ্দিন লিখেছেন, [5] এবং মুহাম্মদ বলেছিলেন যে তিনি ফাতিমার সাথে আলীর বিবাহের ঐশ্বরিক আদেশ অনুসরণ করেছিলেন, সুন্নি আল-সুয়ুতি (মৃত্যু ১৫০৫) বর্ণনা করেছেন। [6][7][5] সুন্নি সূত্রে আলী অন্য নাম বেছে নিয়েছিলেন বলে জানা গেছে, কিন্তু মুহাম্মদের নামে নামকরণ করেছিলেন যিনি শিশুটির নামকরণ করেছিলেন হাসান (আক্ষরিক অর্থে 'ভালো, পুণ্যবান')। [8][2] তার জন্ম উদযাপনের জন্য, মুহাম্মদ একটি ভেড়া উৎসর্গ করেছিলেন, যখন ফাতিমা হাসানের মাথা মুণ্ডন করেছিলেন এবং তার চুলের ওজন রূপা দান করেছিলেন। [2]

মুহাম্মদের জীবনকাল
মাওলা হাসান তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মুহাম্মদের পরিবারে লালিত-পালিত হয়েছিলেন, যখন হাসানের বয়স সাত বছর ছিল। [2] প্রাথমিক সূত্রগুলি হাসান এবং তার ভাই হুসাইনের প্রতি মুহাম্মদের ভালোবাসা ব্যাপকভাবে বর্ণনা করে, [2][9] বলে যে মুহাম্মদ ছেলেদের নামাজে সিজদা করার সময় তার পিঠে আরোহণ করতে দিয়েছিলেন, [10] এবং হাসান পড়ে যাওয়ার পর তাকে তুলে নেওয়ার জন্য একটি খুতবাতে বাধা দিয়েছিলেন। [10][9] হাসান পরে তার দাদা তার কাছ থেকে খেজুর নেওয়ার একটি ঘটনার কথা স্মরণ করেন এবং তাকে ব্যাখ্যা করেন যে তার পরিবারের জন্য দান (সদকা) গ্রহণ নিষিদ্ধ।[2][11]

সুন্নি হাদিস সংকলন সুনান আল-তিরমিযী এবং সুনান ইবনে মাজাহ [12]-এ লিপিবদ্ধ নবীর একটি বাণীতে হাসান এবং হুসাইনকে "জান্নাতে যুবকদের দুই সাইয়্যেদ (আক্ষরিক অর্থে 'প্রধান' বা 'প্রভু')" (আরবি: সাইয়্যেদা শাবাব আহল আল-জান্না) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।[13][10] মাদেলুং আরও বলেন যে এই হাদিসটি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়,[2] অন্যদিকে ভেকিয়া ভ্যাগলিরি (মৃত্যু ১৯৮৯) উল্লেখ করেছেন যে উমাইয়া খলিফা মারওয়ান (রা. ৬৮৪-৬৮৫) এর সত্যতা নিয়ে বিতর্ক করেছিলেন।[14]
১৫ই রমজান হযরত মাওলা ইমাম হাসান আঃ শাহাদাৎ বরণ করেন।
মাজার দর্শন
Grand Son's Prophet Of Allah Hazrat Mohammad Mostafa Sa: -
Hazrat Maula Imam Hassan Ibn Ali Ah. Mazar Sharif.
Venue: Jannatul Mawa Madina Sharif Soudi Arab.

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when মাজার দর্শন-MAZAR VISIT posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to মাজার দর্শন-MAZAR VISIT:

Share