20/08/2026
"আল্লাহ'র প্রথম বার্তা বাহক এবং দ্বিতীয় নবী-
হযরত হযরত নুহ আঃ এর পবিত্র মাজার শরীফ"
স্থানঃ লেবানন।
পরিচয় এবং জ্বীবনীঃ
হযরত আদম (আ.) এর শেষদিকে ক্রমবর্ধমান মানবকুলে শিরক ও কুসংস্কারের আবির্ভাব ঘটে এবং তার বিস্তৃতি লাভ করে।
ফলে তাদের সংশোধনের জন্য আল্লাহ হজরত নূহ (আ.)-কে নবী ও রাসূল করে পাঠান। তিনি সাড়ে নয়শত বছরের দীর্ঘ বয়স লাভ করেছিলেন এবং সারা জীবন পথ ভোলা মানুষকে পথে আনার জন্য দাওয়াতে অতিবাহিত করেন। কিন্তু তখনকার মানুষ তাকে প্রত্যাখ্যান করে। ফলে আল্লাহর গজবে তারা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।
এরপরে আরো কয়েকটি কওম আল্লাহর অবাধ্যতার কারণে পরপর ধ্বংস হয়। এভাবে পৃথিবীতে আদি যুগে ধ্বংসপ্রাপ্ত ৬টি জাতির ঘটনা কোরআনের বিভিন্ন স্থানে বর্ণিত হয়েছে এবং কোরআনের মাধ্যমেই জগতবাসী তাদের খবর জানতে পেরেছে। যাতে মুসলিম উম্মাহ ও পৃথিবীবাসী তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে।
উক্ত ৬টি জাতি হলো- কওমে নূহ, আদ, ছামুদ, কওমে লুত, মাদইয়ান ও কওমে ফেরাউন। অবশ্য কোরআনে এ তালিকায় কওমে ইব্রাহিমের কথাও এসেছে (তওবাহ ৯/৭০)। যদিও তারা একত্রে ধ্বংস হয়নি। তবে হজরত ইব্রাহিম (আ.) এর ভাতিজা লুত এর কওম একত্রে ধ্বংস ও নিশ্চিহ্ন হয়েছিল। আমরা এখানে প্রথমে হজরত নূহ (আ.) ও তার কওম সম্পর্কে আলোচনা করব।
হজরত নূহ (আঃ) এর পরিচয়: হজরত নূহ (আলাইহিস সালাম) ছিলেন পিতা হজরত আদম (আলাইহিস সালাম) এর দশম অথবা অষ্টম অধঃস্তন পুরুষ। তিনি ছিলেন দুনিয়াতে প্রথম রাসূল। তাকে মানবজাতির দ্বিতীয় পিতা বলে আখ্যায়িত করা হত। হজরত নূহ (আ.) এর চারটি পুত্র ছিল: সাম, হাম, ইয়াফিছ ও ইয়াম অথবা কেন’আন। প্রথম তিনজন ঈমান আনেন।
কিন্তু শেষোক্তজন কাফের হয়ে প্লাবনে ডুবে মারা যায়। নূহ (আ.) এর দাওয়াতে তার কওমের হাতে গণা মাত্র কয়েকজন ঈমানদার ব্যক্তি সাড়া দেন এবং তারাই প্লাবনের সময় নৌকারোহণের মাধ্যমে নাজাত পান। নূহের কিশতীতে কয়জন ঈমানদার ব্যক্তি আরোহণ করে নাজাত পেয়েছিলেন, সে বিষয়ে কোরআনে বা হাদীছে কোনো কিছুই বর্ণিত হয়নি। কোরআনে ৪৩ বার নূহ নবীর উল্লেখ পাওয়া গেছে
কোরআন অনুসারে, নূহ (আ.) সাড়ে নয়শত বছরের দীর্ঘ বয়স লাভ করেছিলেন এবং সারা জীবন মানুষকে সঠিক পথে আনার জন্য কাজ করেন। কিন্তু তার জাতি তাকে প্রত্যাখ্যান করে। ফলে তার জাতি ভয়াবহ বন্যায় ধ্বংস হয়ে যায়।
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আমি নূহকে প্রেরণ করেছিলাম তার সম্প্রদায়ের প্রতি একথা বলেঃ তুমি তোমার সম্প্রদায়কে সতর্ক কর, তাদের প্রতি মর্মন্তদ শাস্তি আসার আগে।’ ‘সে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! আমি তোমাদের জন্যে স্পষ্ট সতর্ককারী।’
এ বিষয়ে যে, তোমরা আল্লাহ তায়ালার এবাদত কর, তাঁকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।
আল্লাহ তায়ালা তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন এবং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবকাশ দিবেন। নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালার নির্দিষ্টকাল যখন হবে, তখন অবকাশ দেয়া হবে না, যদি তোমরা তা জানতে! (সূরা: নূহ, আয়াত: ১-৪)
তার সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে,
তারা বলছেঃ তোমরা তোমাদের উপাস্যদেরকে ত্যাগ করো না এবং ত্যাগ করো না ওয়াদ, সূয়া, ইয়াগুছ, ইয়াউক ও নসরকে। (সূরা: নূহ, আয়াত: ২৩) নূহ (আ.) এর বিরুদ্ধে তাদের যুক্তি সম্পর্কে কোরআনে বলা হয়েছে,
‘অতঃপর তার সম্প্রদায়ের নেতারা যারা কুফরী করেছিল, তারা বলল, ‘আমরা তো তোমাকে আমাদের মত একজন মানুষ ছাড়া কিছু দেখছি না এবং আমরা দেখছি যে, কেবল আমাদের নীচু শ্রেণীর লোকেরাই বিবেচনাহীনভাবে তোমার অনুসরণ করেছে। আর আমাদের ওপর তোমাদের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব আমরা দেখছি না; বরং আমরা তোমাদেরকে মিথ্যাবাদী মনে করি।’ (সূরা: হুদ, আয়াত: ২৭)
আরো বলা হয়েছে, ‘অতঃপর তার সম্প্রদায়ের নেতারা, যারা কুফরী করেছিল, তারা বলল, ‘এ তো তোমাদের মতই একজন মানুষ, সে তোমাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করতে চাচ্ছে। আর আল্লাহ ইচ্ছে করলে ফেরেশতাই পাঠাতেন। আমরা তো আমাদের পূর্বপুরুষদের কালে এরূপ ঘটেছে বলে শুনিনি। সে কেবল এমন এক লোক, যার মধ্যে পাগলামী রয়েছে। অতএব তোমরা তার সম্পর্কে কিছুকাল অপেক্ষা কর।
মহানবী উল্লেখ করেন যে, ‘নূহের প্লাবন শেষে কেবল তার তিন পুত্র সাম, হাম ও ইয়াফেছ এর বংশধরগণই অবশিষ্ট ছিল।’ রাসূলুল্লাহ (সা.) আরো বলেন যে ‘সাম আরবের পিতা, হাম হাবশার পিতা এবং ইয়াফেছ রোমকদের (গ্রীক) পিতা।’ ইবনু আব্বাস ও কাতাদাহ (রা.) বলেন, পরবর্তী মানব জাতি সবাই নূহের বংশধর। ইহুদী-খৃষ্টানসহ সকল ধর্ম মতের লোকেরা নূহ (আ.)-কে তাদের পিতা হিসাবে মর্যাদা দিয়ে থাকে।
সাম ছিলেন তিন পুত্রের মধ্যে বড়। তিনি ছিলেন আরব জাতির পিতা। তার বংশধরগণের মধ্যেই ছিলেন হজরত ইব্রাহিম, ইসমাঈল, ইসহাক এবং ইসমাঈলের বংশধর ছিলেন মানবজাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হজরত মুহাম্মাদ (সা.)। ইসহাকের বংশধরগণের মধ্যে ছিলেন ইয়াকূব, ইউসুফ, মূসা, দাঊদ, সুলায়মান, ইউনুস, ইলিয়াস, ঈসা প্রমুখ নবী ও রাসূলগণ।
প্লাবনের পর তার সঙ্গে নৌকারোহী মুমিন নর-নারীদের মাধ্যমে পৃথিবীতে নতুনভাবে আবাদ শুরু হয় এবং তাদেরকে তিনি সত্যের পথে পরিচালিত করেন। এ কারণে তাকে ‘মানব জাতির দ্বিতীয় পিতা বলা হয়।
আদম (আ.) ৯৬০ বছর বেঁচে ছিলেন এবং নূহ (আ.) ৯৫০ বছর জীবন পেয়েছিলেন। উল্লেখ্য যে, আদম ও নূহ (আ.) এর দীর্ঘ বয়স আল্লাহর বিশেষ দান ও তাদের মুজেযা স্বরূপ ছিল।
মহাপ্লাবনের ইতিহাস:-
আদম আ. এর দুনিয়ায় আবির্ভাবের পর মানুষের মাঝে শিরক কুফর ছিল না বললেই চলে। তখন মানুষ পৃথিবী আবাদকরণ ও নানা মানবিক কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকত। কালের বিবর্তনে মানুষের মাঝে শিরক কুফরের আত্মপ্রকাশ ঘটে। মানুষ এক আল্লাহর একত্ববাদ ছেড়ে নানা জিনিসের পূজা করা সহ ইসলামের নানা বিধার অস্বীকার করা শুরু করে।বিশেষ করে হযরত নূহ আ. এর উম্মতদের থেকে প্রভলভাবে এই কাজের সূত্রপাত ঘটে। ওয়াদ, সুওয়া‘, ইয়াগূছসহ নানা গোত্রের মানুষ কবর এবং মানুষের মূর্তি বানিয়ে তাদের পূজা করা শুরু করে। কালক্রমে তাদের কাছ থেকেই আরবদের নিকট মূর্তিপূজার উপস্থিতি ঘটে। নূহ আ. এর কওম নানাবিধ সামাজিক অনাচারে মগ্ন হয়ে গিয়েছিল। এই জাতিকে গোমরাহী থেকে মুক্ত করার জন্যই আল্লাহ নূহ আ. কে প্রেরণ করেছিলেন। পবিত্র কুরআনে এ ব্যাপারে অনেক আয়াত নাজিল হয়েছে।
যুগে যুগে আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন অনেক জাতিকেই তাদের পাপের কারণে ধ্বংস করে দিয়েছেন। তদ্রুপ এই জাতিকেও ধ্বংস করার আগে তাদেরকে সতর্ক করার জন্য উক্ত কওমের নিকট আল্লাহ পাক নূহ আ. কে পাঠান। নূহ আ. তাদেরকে বললেন হে আমার জাতি! আমি তোমাদের জন্য স্পষ্ট সতর্ককারী’। ‘ তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর, তাঁকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর’। এতে আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করে দেবেন এবং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সুযোগ দিবেন। কিন্তু আল্লাহর নির্দিষ্ট সময় এসে গেলে তোমরা আর সুযোগ পাবে না।
নূহ আ. তাঁর উম্মতদের নানা বিষয়ে উপমা দেয়ার মাধ্যমে এক আল্লাহর একত্ববাদের দিকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতেন। তিনি মহান আল্লাহ তায়ালার অসংখ্য নেয়ামতের বর্ণনা দিয়ে তাদের বুঝাতে চাইতেন। দিন-রাত প্রকাশ্যে-গোপনে স্বীয় উম্মতদের দাওয়াত দিতে থাকেন নূহ আ.। কিন্তু তাঁর ফল খুব হতাশাজনক। লোকেরা তাঁর দাওয়াতে অতিষ্ট হয়ে পালিয়ে যেত, কানে আঙুল দিয়ে রাখত অশ্রাব্য ভাষায় গালি গালাজ করত।
একবার তাদের গোত্র প্রধানরা সাধারণ মানুষদের ডেকে আনল। তাদের বলা হয় যে তোমরা তোমাদের পূর্ব পুরুষদের দেখানো পথ থেকে বিন্দু পরিমানও সরবে না। তাদের দেখানো ধর্মেই তোমরা অটল থাক। এরপর থেকে লোকেরা নূহ আ. এর বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত শুরু করে। তারা নূহ আ. এর উপর নানা অভিযোগ উত্থাপন করে। যেমন তারা বলতে লাগল যে আপনি তো আমাদের মতই মানুষ নবী হলে তো আপনি ফেরেশতা হতেন। আমাদের গোত্রের হীন ও কম বুদ্ধি সম্পন্ন লোকেরাই আপনার অনুসারী। আপনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে ক্ষমতা লাভ করা। আর আপনি যে দাওয়াত দিচ্ছেন তা আমাদের বাপ দাদাদের দেখানো পথ বিরোধী। সুতরাং আপনি মিথ্যাবাদী।
গোত্রপ্রধানগণ আরো নানা অপপ্রচার চালিয়ে জনগনকে নূহ আ. এর উপর ক্ষেপিয়ে তোলে। নূহ আ.ও তাদের এসব আপত্তির জবাব দিয়েছিলেন। তিনি বললেন হে আমার কওম আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট দলিল পাওয়ার পরও তোমরা যদি আমার কথা না শোন তাহলে আমি তোমাদের উপর জোরপূর্বক কোনকিছু চাপিয়ে দিতে পারি না। কোন গরীব অসহায় ব্যক্তি যদি আমার ডাকে সাড়া দেয় আমি তাকে কোনভাবেই ফিরিয়ে দিতে পারি না। যদি আমি এমনটা করি অবশ্যই আমার প্রতিপালকের কাছে আমি জবাবদিহি করা লাগবে।আমি দাওয়াদের বিনিময়ে তোমাদের নিকট কোন সম্পদ, ক্ষমতা, বিনিময় কিছুই চাই না। আমার পুরস্কার আল্লাহ পাকের কাছে।
লোকদের কাছে থেকে এত ভৎসনা, ধিক্কার পেয়েও নূহ আ. থেমে যাননি। তিনি এক জনের পর একজনের নিকট দাওয়াত দিতেই থাকলেন এই আশায় যে হয়ত পরবর্তীজন আমার দাওয়াতে সাড়া দিবে। একাধারে ৯০০ বছরেরও অধিক সময় স্বীও কওমকে দাওয়াত দিয়েছিলেন নূহ আ.। তারা নূহ (আঃ)-এর দাওয়াতকে তাচ্ছিল্য ভরে প্রত্যাখ্যান করেছিল।
একবার গোত্রের লোকেরা তাঁকে বললেন তুমি যদি দাওয়াত দেয়া থেকে বিরত না হও তবে পাথর মেরে তোমার মস্তক চূর্ণবিচূর্ণ করে দিব। তারপরও তিনি দাওয়াত দিতে থাকেন আল্লাহর কাছে তাদের হেদায়েতের জন্য দোয়া করতে থাকেন। কিন্তু তাঁর সম্প্রদায়ের অনীহা, অবজ্ঞা, তাচ্ছিল্য এবং ঔদ্ধত্য ক্রমেই বৃদ্ধি পেতে থাকে। তাদের অহংকার ও অত্যাচার চরম সীমায় পৌঁছে গিয়েছিল এবং পাপ ষোলকলায় পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। এই দীর্ঘ সময়ে মাত্র ৭০-৮২ জন লোক আল্লাহ পাকের উপর ঈমান এনেছিলেন।
একপর্যায়ে আল্লাহ পাক নূহকে জানিয়ে দিলেন ইতিমধ্যে যারা ইমান এনেছে তারা ব্যতিত আর কেউ তোমার উপরে ইমান আনবে না। আর তিনি যখন এই সংবাদ জানলেন তখন স্বীয় রবের নিকট প্রার্থনা করলেন ‘হে আমার পালনকর্তা! আমাকে সাহায্য করুন। কেননা ওরা আমাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করেছে। আপনি এই কওমের লোকদের উপর চূড়ান্ত ফয়সালা করুন এবং মুমিনদের রক্ষা করুন। তারপর নূহ আ. এ জাতির জন্য চূড়ান্তভাবে বদদোয়া করলেন।
আল্লাহ পাক তার দোয়া কবুল করেন। এবং দিন তারিখের নমুনাও বলে দেন। যেদিন দেখবে চুল্লির মধ্য থেকে পানি উঠিতেছে তখন প্লাবন শুরু হবে। তবে প্লাবনের আগেই একটি নৌকা বা কিস্তি বানিয়ে রাখতে বলেছিলেন। যাতে করে নূহ আ. এবং ইমানদার উম্মতেরা এই প্লাবন থেকে রক্ষা পায়।
আল্লাহ পাকের নির্দেশ মোতাবেক নুহু আ: কিস্তি বা নৌকা নির্মান শুরু করে দিলেন এবং প্লাবনের কথা কওমের নিকট জানিয়ে দিলেন। কওমের লোকেরা আরো তিরস্কার বৃদ্ধি করে দিল। এবং বললো যে, কোথায়ও পানি নেই । এই মরুভূমিতে কিভাবে প্লাবন হবে?
নূহ আ. তাঁর কিস্তি নির্মাণের কাজ শেষ করলেন।কিস্তিটি ৩০০ গজ লম্বা ৫০ গজ প্রস্থ ৩০ গজ উচু ও ত্রিতল বিশিষ্ট্য। উহার দুই পার্শ্বে অনেকগুলি জানালা ছিল।নীচ তলায় জীব জন্তু, দ্বিতীয় তলায় পূরুষগণ এবং উপরের তলায় নারীরা আরোহন করেছিল। নির্মাণ কাজ শেষে কাফের সম্প্রদায় দলে দলে এসে এই কিস্তিতে পায়খানা করে পূর্ণ করে ফেলল। নুহু আ: এই দৃশ্য দেখে বিমর্ষ হয়ে পড়লেন। আল্লাহ পাক তাঁকে সাহস দিলেন যে আপনি কোন চিন্তা করবেন না।
ঐ কিস্তিতে সর্বশেষ যে পায়খানা করার জন্য গেল সে ছিল কুষ্ট রোগগ্রস্থ এক বুড়ি। বুড়ি ঐ কিস্তির মধ্যে পায়খানা করতে গিয়ে ঐ পায়খানা মধ্যে পড়ে বুড়ি ডুবে গেল। পায়খানার মধ্যে গোসল করে বুড়ি উপরে উঠে নিজের দিকে তাকিয়ে দেখে তার দেহে কোন কুষ্ট রোগতো নেই বরং সে ১৬ বৎসরের যুবতির ন্যায় তার চেহারা ফিরে পেল।
লোকেরা এই ঘটনা শুনে দলে দলে এসে কিস্তি থেকে পায়খানা নিয়ে গেল। যারা এসে পায়নি তারা কিস্তি ধুয়ে সেই পানি নিয়ে গেল। কিস্তির সমস্ত পায়খানা এমনভাবে পরিস্কার করলো যে কিছুই বাকী রহিল না। এবার হঠাৎ করে নির্ধারিত দিনে চুল্লির ভেতর থেকে পানি উঠা শুরু করল। নূহ আ. বুঝলেন যে মহাপ্লাবন আসছে। তিনি প্রতিটি প্রাণি থেকে এক জোড়া করে এবং যারা ইমান এনেছে তাদের কিস্তিতে উঠালেন। এদিকে নূহ আ. এর পূতে কেনান কিস্তিতে উঠতে চাইলো। কিন্তু সে ইমান আনেনি। আল্লাহ পাক নূহকে সতর্ক করে বললেন যদি তাকে কিস্তিতে তোলা হয় তাহলে নবুওয়াতি খাতা থেকে তার নাম কর্তন করা হবে। ৪০ দিন টানা প্লাবন ছিল৷
প্লাবন শেষে কিস্তি এসে মাটিতে ঠেকল। ১০ রযব মাসের শুরু হওয়া এই মহা প্লাবনের সমাপ্তি ঘটে, ইরাকের মুছেল নগরীর উত্তরে ‘‘ইবনে ওমর” দ্বীপের অদূরে আর্মেনিয়া সীমান্তে অবস্থিত যুদি পবর্ত মালায়, ১০ মহাররাম তারিখে জাহাজটি মাটি স্পর্শ করার মাধ্যমে।
প্লাবনের পর তার সঙ্গে নৌকারোহী মুমিন নর-নারীদের মাধ্যমে পৃথিবীতে নতুনভাবে আবাদ শুরু হয় এবং তাদেরকে তিনি সত্যের পথে পরিচালিত করেন। এ কারণে তাকে ‘মানব জাতির দ্বিতীয় পিতা বলা হয়।
মাজার দর্শন
Second Messenger And Prophet Of Allah -
Hazrat Prophet Nuh Ah. Mazar Sharif.
Venue: Lebanon.