মাজার দর্শন-MAZAR VISIT

মাজার দর্শন-MAZAR VISIT Mazar visit the world

"আল্লাহ'র প্রথম বার্তা বাহক এবং দ্বিতীয় নবী-হযরত হযরত নুহ আঃ এর পবিত্র মাজার শরীফ"স্থানঃ লেবানন। পরিচয় এবং জ্বীবনীঃ হযরত...
20/08/2026

"আল্লাহ'র প্রথম বার্তা বাহক এবং দ্বিতীয় নবী-
হযরত হযরত নুহ আঃ এর পবিত্র মাজার শরীফ"
স্থানঃ লেবানন।
পরিচয় এবং জ্বীবনীঃ
হযরত আদম (আ.) এর শেষদিকে ক্রমবর্ধমান মানবকুলে শিরক ও কুসংস্কারের আবির্ভাব ঘটে এবং তার বিস্তৃতি লাভ করে।

ফলে তাদের সংশোধনের জন্য আল্লাহ হজরত নূহ (আ.)-কে নবী ও রাসূল করে পাঠান। তিনি সাড়ে নয়শত বছরের দীর্ঘ বয়স লাভ করেছিলেন এবং সারা জীবন পথ ভোলা মানুষকে পথে আনার জন্য দাওয়াতে অতিবাহিত করেন। কিন্তু তখনকার মানুষ তাকে প্রত্যাখ্যান করে। ফলে আল্লাহর গজবে তারা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।

এরপরে আরো কয়েকটি কওম আল্লাহর অবাধ্যতার কারণে পরপর ধ্বংস হয়। এভাবে পৃথিবীতে আদি যুগে ধ্বংসপ্রাপ্ত ৬টি জাতির ঘটনা কোরআনের বিভিন্ন স্থানে বর্ণিত হয়েছে এবং কোরআনের মাধ্যমেই জগতবাসী তাদের খবর জানতে পেরেছে। যাতে মুসলিম উম্মাহ ও পৃথিবীবাসী তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে।

উক্ত ৬টি জাতি হলো- কওমে নূহ, আদ, ছামুদ, কওমে লুত, মাদইয়ান ও কওমে ফেরাউন। অবশ্য কোরআনে এ তালিকায় কওমে ইব্রাহিমের কথাও এসেছে (তওবাহ ৯/৭০)। যদিও তারা একত্রে ধ্বংস হয়নি। তবে হজরত ইব্রাহিম (আ.) এর ভাতিজা লুত এর কওম একত্রে ধ্বংস ও নিশ্চিহ্ন হয়েছিল। আমরা এখানে প্রথমে হজরত নূহ (আ.) ও তার কওম সম্পর্কে আলোচনা করব।

হজরত নূহ (আঃ) এর পরিচয়: হজরত নূহ (আলাইহিস সালাম) ছিলেন পিতা হজরত আদম (আলাইহিস সালাম) এর দশম অথবা অষ্টম অধঃস্তন পুরুষ। তিনি ছিলেন দুনিয়াতে প্রথম রাসূল। তাকে মানবজাতির দ্বিতীয় পিতা বলে আখ্যায়িত করা হত। হজরত নূহ (আ.) এর চারটি পুত্র ছিল: সাম, হাম, ইয়াফিছ ও ইয়াম অথবা কেন’আন। প্রথম তিনজন ঈমান আনেন।

কিন্তু শেষোক্তজন কাফের হয়ে প্লাবনে ডুবে মারা যায়। নূহ (আ.) এর দাওয়াতে তার কওমের হাতে গণা মাত্র কয়েকজন ঈমানদার ব্যক্তি সাড়া দেন এবং তারাই প্লাবনের সময় নৌকারোহণের মাধ্যমে নাজাত পান। নূহের কিশতীতে কয়জন ঈমানদার ব্যক্তি আরোহণ করে নাজাত পেয়েছিলেন, সে বিষয়ে কোরআনে বা হাদীছে কোনো কিছুই বর্ণিত হয়নি। কোরআনে ৪৩ বার নূহ নবীর উল্লেখ পাওয়া গেছে

কোরআন অনুসারে, নূহ (আ.) সাড়ে নয়শত বছরের দীর্ঘ বয়স লাভ করেছিলেন এবং সারা জীবন মানুষকে সঠিক পথে আনার জন্য কাজ করেন। কিন্তু তার জাতি তাকে প্রত্যাখ্যান করে। ফলে তার জাতি ভয়াবহ বন্যায় ধ্বংস হয়ে যায়।

পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আমি নূহকে প্রেরণ করেছিলাম তার সম্প্রদায়ের প্রতি একথা বলেঃ তুমি তোমার সম্প্রদায়কে সতর্ক কর, তাদের প্রতি মর্মন্তদ শাস্তি আসার আগে।’ ‘সে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! আমি তোমাদের জন্যে স্পষ্ট সতর্ককারী।’

এ বিষয়ে যে, তোমরা আল্লাহ তায়ালার এবাদত কর, তাঁকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।

আল্লাহ তায়ালা তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন এবং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবকাশ দিবেন। নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালার নির্দিষ্টকাল যখন হবে, তখন অবকাশ দেয়া হবে না, যদি তোমরা তা জানতে! (সূরা: নূহ, আয়াত: ১-৪)

তার সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে,

তারা বলছেঃ তোমরা তোমাদের উপাস্যদেরকে ত্যাগ করো না এবং ত্যাগ করো না ওয়াদ, সূয়া, ইয়াগুছ, ইয়াউক ও নসরকে। (সূরা: নূহ, আয়াত: ২৩) নূহ (আ.) এর বিরুদ্ধে তাদের যুক্তি সম্পর্কে কোরআনে বলা হয়েছে,

‘অতঃপর তার সম্প্রদায়ের নেতারা যারা কুফরী করেছিল, তারা বলল, ‘আমরা তো তোমাকে আমাদের মত একজন মানুষ ছাড়া কিছু দেখছি না এবং আমরা দেখছি যে, কেবল আমাদের নীচু শ্রেণীর লোকেরাই বিবেচনাহীনভাবে তোমার অনুসরণ করেছে। আর আমাদের ওপর তোমাদের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব আমরা দেখছি না; বরং আমরা তোমাদেরকে মিথ্যাবাদী মনে করি।’ (সূরা: হুদ, আয়াত: ২৭)

আরো বলা হয়েছে, ‘অতঃপর তার সম্প্রদায়ের নেতারা, যারা কুফরী করেছিল, তারা বলল, ‘এ তো তোমাদের মতই একজন মানুষ, সে তোমাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করতে চাচ্ছে। আর আল্লাহ ইচ্ছে করলে ফেরেশতাই পাঠাতেন। আমরা তো আমাদের পূর্বপুরুষদের কালে এরূপ ঘটেছে বলে শুনিনি। সে কেবল এমন এক লোক, যার মধ্যে পাগলামী রয়েছে। অতএব তোমরা তার সম্পর্কে কিছুকাল অপেক্ষা কর।

মহানবী উল্লেখ করেন যে, ‘নূহের প্লাবন শেষে কেবল তার তিন পুত্র সাম, হাম ও ইয়াফেছ এর বংশধরগণই অবশিষ্ট ছিল।’ রাসূলুল্লাহ (সা.) আরো বলেন যে ‘সাম আরবের পিতা, হাম হাবশার পিতা এবং ইয়াফেছ রোমকদের (গ্রীক) পিতা।’ ইবনু আব্বাস ও কাতাদাহ (রা.) বলেন, পরবর্তী মানব জাতি সবাই নূহের বংশধর। ইহুদী-খৃষ্টানসহ সকল ধর্ম মতের লোকেরা নূহ (আ.)-কে তাদের পিতা হিসাবে মর্যাদা দিয়ে থাকে।

সাম ছিলেন তিন পুত্রের মধ্যে বড়। তিনি ছিলেন আরব জাতির পিতা। তার বংশধরগণের মধ্যেই ছিলেন হজরত ইব্রাহিম, ইসমাঈল, ইসহাক এবং ইসমাঈলের বংশধর ছিলেন মানবজাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হজরত মুহাম্মাদ (সা.)। ইসহাকের বংশধরগণের মধ্যে ছিলেন ইয়াকূব, ইউসুফ, মূসা, দাঊদ, সুলায়মান, ইউনুস, ইলিয়াস, ঈসা প্রমুখ নবী ও রাসূলগণ।

প্লাবনের পর তার সঙ্গে নৌকারোহী মুমিন নর-নারীদের মাধ্যমে পৃথিবীতে নতুনভাবে আবাদ শুরু হয় এবং তাদেরকে তিনি সত্যের পথে পরিচালিত করেন। এ কারণে তাকে ‘মানব জাতির দ্বিতীয় পিতা বলা হয়।

আদম (আ.) ৯৬০ বছর বেঁচে ছিলেন এবং নূহ (আ.) ৯৫০ বছর জীবন পেয়েছিলেন। উল্লেখ্য যে, আদম ও নূহ (আ.) এর দীর্ঘ বয়স আল্লাহর বিশেষ দান ও তাদের মুজেযা স্বরূপ ছিল।



মহাপ্লাবনের ইতিহাস:-

আদম আ. এর দুনিয়ায় আবির্ভাবের পর মানুষের মাঝে শিরক কুফর ছিল না বললেই চলে। তখন মানুষ পৃথিবী আবাদকরণ ও নানা মানবিক কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকত। কালের বিবর্তনে মানুষের মাঝে শিরক কুফরের আত্মপ্রকাশ ঘটে। মানুষ এক আল্লাহর একত্ববাদ ছেড়ে নানা জিনিসের পূজা করা সহ ইসলামের নানা বিধার অস্বীকার করা শুরু করে।বিশেষ করে হযরত নূহ আ. এর উম্মতদের থেকে প্রভলভাবে এই কাজের সূত্রপাত ঘটে। ওয়াদ, সুওয়া‘, ইয়াগূছসহ নানা গোত্রের মানুষ কবর এবং মানুষের মূর্তি বানিয়ে তাদের পূজা করা শুরু করে। কালক্রমে তাদের কাছ থেকেই আরবদের নিকট মূর্তিপূজার উপস্থিতি ঘটে। নূহ আ. এর কওম নানাবিধ সামাজিক অনাচারে মগ্ন হয়ে গিয়েছিল। এই জাতিকে গোমরাহী থেকে মুক্ত করার জন্যই আল্লাহ নূহ আ. কে প্রেরণ করেছিলেন। পবিত্র কুরআনে এ ব্যাপারে অনেক আয়াত নাজিল হয়েছে।

যুগে যুগে আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন অনেক জাতিকেই তাদের পাপের কারণে ধ্বংস করে দিয়েছেন। তদ্রুপ এই জাতিকেও ধ্বংস করার আগে তাদেরকে সতর্ক করার জন্য উক্ত কওমের নিকট আল্লাহ পাক নূহ আ. কে পাঠান। নূহ আ. তাদেরকে বললেন হে আমার জাতি! আমি তোমাদের জন্য স্পষ্ট সতর্ককারী’। ‘ তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর, তাঁকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর’। এতে আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করে দেবেন এবং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সুযোগ দিবেন। কিন্তু আল্লাহর নির্দিষ্ট সময় এসে গেলে তোমরা আর সুযোগ পাবে না।
নূহ আ. তাঁর উম্মতদের নানা বিষয়ে উপমা দেয়ার মাধ্যমে এক আল্লাহর একত্ববাদের দিকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতেন। তিনি মহান আল্লাহ তায়ালার অসংখ্য নেয়ামতের বর্ণনা দিয়ে তাদের বুঝাতে চাইতেন। দিন-রাত প্রকাশ্যে-গোপনে স্বীয় উম্মতদের দাওয়াত দিতে থাকেন নূহ আ.। কিন্তু তাঁর ফল খুব হতাশাজনক। লোকেরা তাঁর দাওয়াতে অতিষ্ট হয়ে পালিয়ে যেত, কানে আঙুল দিয়ে রাখত অশ্রাব্য ভাষায় গালি গালাজ করত।

একবার তাদের গোত্র প্রধানরা সাধারণ মানুষদের ডেকে আনল। তাদের বলা হয় যে তোমরা তোমাদের পূর্ব পুরুষদের দেখানো পথ থেকে বিন্দু পরিমানও সরবে না। তাদের দেখানো ধর্মেই তোমরা অটল থাক। এরপর থেকে লোকেরা নূহ আ. এর বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত শুরু করে। তারা নূহ আ. এর উপর নানা অভিযোগ উত্থাপন করে। যেমন তারা বলতে লাগল যে আপনি তো আমাদের মতই মানুষ নবী হলে তো আপনি ফেরেশতা হতেন। আমাদের গোত্রের হীন ও কম বুদ্ধি সম্পন্ন লোকেরাই আপনার অনুসারী। আপনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে ক্ষমতা লাভ করা। আর আপনি যে দাওয়াত দিচ্ছেন তা আমাদের বাপ দাদাদের দেখানো পথ বিরোধী। সুতরাং আপনি মিথ্যাবাদী।
গোত্রপ্রধানগণ আরো নানা অপপ্রচার চালিয়ে জনগনকে নূহ আ. এর উপর ক্ষেপিয়ে তোলে। নূহ আ.ও তাদের এসব আপত্তির জবাব দিয়েছিলেন। তিনি বললেন হে আমার কওম আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট দলিল পাওয়ার পরও তোমরা যদি আমার কথা না শোন তাহলে আমি তোমাদের উপর জোরপূর্বক কোনকিছু চাপিয়ে দিতে পারি না। কোন গরীব অসহায় ব্যক্তি যদি আমার ডাকে সাড়া দেয় আমি তাকে কোনভাবেই ফিরিয়ে দিতে পারি না। যদি আমি এমনটা করি অবশ্যই আমার প্রতিপালকের কাছে আমি জবাবদিহি করা লাগবে।আমি দাওয়াদের বিনিময়ে তোমাদের নিকট কোন সম্পদ, ক্ষমতা, বিনিময় কিছুই চাই না। আমার পুরস্কার আল্লাহ পাকের কাছে।

লোকদের কাছে থেকে এত ভৎসনা, ধিক্কার পেয়েও নূহ আ. থেমে যাননি। তিনি এক জনের পর একজনের নিকট দাওয়াত দিতেই থাকলেন এই আশায় যে হয়ত পরবর্তীজন আমার দাওয়াতে সাড়া দিবে। একাধারে ৯০০ বছরেরও অধিক সময় স্বীও কওমকে দাওয়াত দিয়েছিলেন নূহ আ.। তারা নূহ (আঃ)-এর দাওয়াতকে তাচ্ছিল্য ভরে প্রত্যাখ্যান করেছিল।
একবার গোত্রের লোকেরা তাঁকে বললেন তুমি যদি দাওয়াত দেয়া থেকে বিরত না হও তবে পাথর মেরে তোমার মস্তক চূর্ণবিচূর্ণ করে দিব। তারপরও তিনি দাওয়াত দিতে থাকেন আল্লাহর কাছে তাদের হেদায়েতের জন্য দোয়া করতে থাকেন। কিন্তু তাঁর সম্প্রদায়ের অনীহা, অবজ্ঞা, তাচ্ছিল্য এবং ঔদ্ধত্য ক্রমেই বৃদ্ধি পেতে থাকে। তাদের অহংকার ও অত্যাচার চরম সীমায় পৌঁছে গিয়েছিল এবং পাপ ষোলকলায় পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। এই দীর্ঘ সময়ে মাত্র ৭০-৮২ জন লোক আল্লাহ পাকের উপর ঈমান এনেছিলেন।

একপর্যায়ে আল্লাহ পাক নূহকে জানিয়ে দিলেন ইতিমধ্যে যারা ইমান এনেছে তারা ব্যতিত আর কেউ তোমার উপরে ইমান আনবে না। আর তিনি যখন এই সংবাদ জানলেন তখন স্বীয় রবের নিকট প্রার্থনা করলেন ‘হে আমার পালনকর্তা! আমাকে সাহায্য করুন। কেননা ওরা আমাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করেছে। আপনি এই কওমের লোকদের উপর চূড়ান্ত ফয়সালা করুন এবং মুমিনদের রক্ষা করুন। তারপর নূহ আ. এ জাতির জন্য চূড়ান্তভাবে বদদোয়া করলেন।
আল্লাহ পাক তার দোয়া কবুল করেন। এবং দিন তারিখের নমুনাও বলে দেন। যেদিন দেখবে চুল্লির মধ্য থেকে পানি উঠিতেছে তখন প্লাবন শুরু হবে। তবে প্লাবনের আগেই একটি নৌকা বা কিস্তি বানিয়ে রাখতে বলেছিলেন। যাতে করে নূহ আ. এবং ইমানদার উম্মতেরা এই প্লাবন থেকে রক্ষা পায়।

আল্লাহ পাকের নির্দেশ মোতাবেক নুহু আ: কিস্তি বা নৌকা নির্মান শুরু করে দিলেন এবং প্লাবনের কথা কওমের নিকট জানিয়ে দিলেন। কওমের লোকেরা আরো তিরস্কার বৃদ্ধি করে দিল। এবং বললো যে, কোথায়ও পানি নেই । এই মরুভূমিতে কিভাবে প্লাবন হবে?
নূহ আ. তাঁর কিস্তি নির্মাণের কাজ শেষ করলেন।কিস্তিটি ৩০০ গজ লম্বা ৫০ গজ প্রস্থ ৩০ গজ উচু ও ত্রিতল বিশিষ্ট্য। উহার দুই পার্শ্বে অনেকগুলি জানালা ছিল।নীচ তলায় জীব জন্তু, দ্বিতীয় তলায় পূরুষগণ এবং উপরের তলায় নারীরা আরোহন করেছিল। নির্মাণ কাজ শেষে কাফের সম্প্রদায় দলে দলে এসে এই কিস্তিতে পায়খানা করে পূর্ণ করে ফেলল। নুহু আ: এই দৃশ্য দেখে বিমর্ষ হয়ে পড়লেন। আল্লাহ পাক তাঁকে সাহস দিলেন যে আপনি কোন চিন্তা করবেন না।

ঐ কিস্তিতে সর্বশেষ যে পায়খানা করার জন্য গেল সে ছিল কুষ্ট রোগগ্রস্থ এক বুড়ি। বুড়ি ঐ কিস্তির মধ্যে পায়খানা করতে গিয়ে ঐ পায়খানা মধ্যে পড়ে বুড়ি ডুবে গেল। পায়খানার মধ্যে গোসল করে বুড়ি উপরে উঠে নিজের দিকে তাকিয়ে দেখে তার দেহে কোন কুষ্ট রোগতো নেই বরং সে ১৬ বৎসরের যুবতির ন্যায় তার চেহারা ফিরে পেল।

লোকেরা এই ঘটনা শুনে দলে দলে এসে কিস্তি থেকে পায়খানা নিয়ে গেল। যারা এসে পায়নি তারা কিস্তি ধুয়ে সেই পানি নিয়ে গেল। কিস্তির সমস্ত পায়খানা এমনভাবে পরিস্কার করলো যে কিছুই বাকী রহিল না। এবার হঠাৎ করে নির্ধারিত দিনে চুল্লির ভেতর থেকে পানি উঠা শুরু করল। নূহ আ. বুঝলেন যে মহাপ্লাবন আসছে। তিনি প্রতিটি প্রাণি থেকে এক জোড়া করে এবং যারা ইমান এনেছে তাদের কিস্তিতে উঠালেন। এদিকে নূহ আ. এর পূতে কেনান কিস্তিতে উঠতে চাইলো। কিন্তু সে ইমান আনেনি। আল্লাহ পাক নূহকে সতর্ক করে বললেন যদি তাকে কিস্তিতে তোলা হয় তাহলে নবুওয়াতি খাতা থেকে তার নাম কর্তন করা হবে। ৪০ দিন টানা প্লাবন ছিল৷
প্লাবন শেষে কিস্তি এসে মাটিতে ঠেকল। ১০ রযব মাসের শুরু হওয়া এই মহা প্লাবনের সমাপ্তি ঘটে, ইরাকের মুছেল নগরীর উত্তরে ‘‘ইবনে ওমর” দ্বীপের অদূরে আর্মেনিয়া সীমান্তে অবস্থিত যুদি পবর্ত মালায়, ১০ মহাররাম তারিখে জাহাজটি মাটি স্পর্শ করার মাধ্যমে।
প্লাবনের পর তার সঙ্গে নৌকারোহী মুমিন নর-নারীদের মাধ্যমে পৃথিবীতে নতুনভাবে আবাদ শুরু হয় এবং তাদেরকে তিনি সত্যের পথে পরিচালিত করেন। এ কারণে তাকে ‘মানব জাতির দ্বিতীয় পিতা বলা হয়।
মাজার দর্শন
Second Messenger And Prophet Of Allah -
Hazrat Prophet Nuh Ah. Mazar Sharif.
Venue: Lebanon.

"সুলতানুল হীন্দ গরীবে নেওয়াজ হযরত খাজা মঈনউদ্দীন চিঁস্তী রহঃ আঃ এর দাদাপীর-হযরত খাজা হাজ্বী শাহ্ শরীফ আল-জান্দানী চিঁস্ত...
13/08/2026

"সুলতানুল হীন্দ গরীবে নেওয়াজ হযরত খাজা মঈনউদ্দীন চিঁস্তী রহঃ আঃ এর দাদাপীর-
হযরত খাজা হাজ্বী শাহ্ শরীফ আল-জান্দানী চিঁস্তী রহঃ আঃ এর পবিত্র মাজার শরীফ"
স্থানঃ কন্নৌজ শহর উত্তর প্রদেশ ভারত।
পরিচয় এবং জ্বীবনীঃ
খাজা হাজী শরীফ আল-জান্দানি রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর সময়ের একজন মহান সুফি ছিলেন। তিনি ইরাকের জান্দানা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি খাজা কুতুব আল-দীন আল-মাওদুদ চিশতি [মৃত্যু: ৫২৭ হিজরি] রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর একজন মুরিদ [শিষ্য] ছিলেন। যখন তাঁকে খিলাফতের 'খিরকা' [সুফি চাদর] প্রদান করা হয়, তখন একটি ঐশ্বরিক কণ্ঠস্বর উচ্চারিত হয়েছিল বলে কথিত আছে;

''হে হাজী শরীফ! দরবেশদের খিরকা প্রাপ্তির জন্য আমরা আপনাকে অভিনন্দন জানাই। আমরা আপনাকে গ্রহণ করেছি এবং আমাদের দরবারে আপনাকে প্রিয়পাত্র করে নিয়েছি।''

খাজা হাজী শরীফ আল-জান্দানি রহমতুল্লাহি আলাইহি মুজাহিদা ও রিয়াযতের ক্ষেত্রে একজন ওস্তাদ ছিলেন। তিনি অত্যন্ত ভালোবাসার সাথে সালাত আদায় করতেন এবং তাতে এতটাই মগ্ন হয়ে যেতেন যে, কেউ তাঁকে বিরক্ত বা ক্ষতি করার চেষ্টা করলেও তিনি তা টেরই পেতেন না। লোকেরা তাঁর এই গভীর মগ্নতার কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন:

''একজন প্রেমিক এমন হওয়া উচিত যে, যখন সে তার প্রেমিকার নাম উচ্চারণ করে, তখন আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না।'' আল্লাহর কসম, যখন আমি আমার প্রিয় আল্লাহর নাম নিই, তখন তাঁর প্রতি আমার ভালোবাসায় আমি এমন বিভোর হয়ে যাই যে, গোটা দুনিয়া যদি মদে পরিণত হয়ে যায় আর আমি তা পান করি, তবুও আমি এতটা বিভোর হব না। তিনি প্রায়ই তাঁর সৃষ্টিকর্তার ভয়ে কাঁদতেন এবং জ্ঞান হারাতেন। জ্ঞান ফিরলে মুরিদরা তাঁকে এই অতিরিক্ত কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করতেন। তিনি উত্তরে বলতেন;

"যখন আমার কুরআনের সেই আয়াতের কথা মনে পড়ে যেখানে আল্লাহ বলেন: তিনি জিন ও মানুষকে কেবল তাঁরই ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন, ... এবং এর অর্থ হলো আমাদের দিনরাত তাঁরই ইবাদত করা উচিত। দেখো আমরা কী করছি! আমি জানি না কিয়ামতের দিন আমার অবস্থা কী হবে।" বাহ্যিকভাবে আমি দরবেশদের পোশাক পরিধান করেছি। আমার ভয় হয় যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ যেন আমাকে দরবেশদের সামনে লজ্জিত না করেন এবং দরবেশদের মধ্যে কেউ যেন না বলে যে, হাজী শরীফ আল্লাহর বন্ধু ছিলেন। আমাদের পথে এই ধরনের ভালোবাসা ও বন্ধুত্ব সঠিক নয়, বরং শিরক। এই কারণেই সকলের জন্য দরবেশদের পোশাক পরা অনুমোদিত নয়। "কেবলমাত্র সেইসব দরবেশদেরই এটি পরার অনুমতি আছে, যাদের অন্তরে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ভালোবাসা ছাড়া আর কিছুই নেই।"

যখনই দরিদ্র ও অভাবীরা খাজা হাজী শরীফ আল-জান্দানি রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর কাছে আসতেন, তিনি তাদের প্রতি এত ভালোবাসা ও সম্মান দেখাতেন যে উপস্থিত লোকেরা অবাক হয়ে যেত। তাদের প্রতি তাঁর ভালোবাসা এতটাই ছিল যে, তিনি তাদের পায়ের ধুলো নিয়ে নিজের চোখে রাখতেন এবং এই কাজটি করার সময় বলতেন, "হে আল্লাহ! হাজী শরীফ দরিদ্রদের সেবায় নিয়োজিত এবং তাদের প্রতি আমার ভালোবাসা অটুট রেখো।"

তিনি কখনও ধনী ও সম্পদশালীদের সাথে মেলামেশা করতেন না। সকল মহান উস্তাদদের মতো তিনিও 'ফাকর' [চিন্তাভাবনা]-এর পথ অবলম্বন করেছিলেন, যার সাধারণ অনুবাদ করা হয় দারিদ্র্য, কিন্তু তাসাউফ অনুসারে এর অর্থ হলো বাহ্যিকভাবে দরিদ্র কিন্তু আধ্যাত্মিকভাবে আল্লাহর কাছে ধনী হওয়া। যখন লোকেরা তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করত, তিনি বলতেন: "এই নগণ্য হাজী শরীফ এতটাই লজ্জিত যে, এমনকি যদি প্রত্যেক আল্লাহর যিকির করার জন্য আমার শরীরের লোম জিহ্বায় পরিণত হয়েছিল এবং আমি যদি আল্লাহর সমস্ত সৃষ্টির সমান সালাতও আদায় করতাম, তবুও এই একটি দিনের জন্য আল্লাহর প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা যথেষ্ট হবে না। এটা আমার সৌভাগ্য যে, আল্লাহ আমাকে দরিদ্র ও অভাবীদের মাঝে স্মরণ করেন। যখন আমার ঘরে চরম দারিদ্র্য থাকে, তখন তা তেমন বড় কোনো বিপদ নয়, কারণ আল্লাহর সকল নবী ও সাধু-সন্তদের মতোই আমিও এর যোগ্য। আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি যেন আমাকে দরিদ্রদের মাঝে মৃত্যু দান করেন এবং কিয়ামতের দিনে আমাকে দরিদ্রদের মাঝেই পুনরুত্থিত করেন।

হযরত খাজা হাজী শরীফ আল-যান্দানি রহমাতুল্লাহি আলাইহি ৬১২ হিজরির ৩রা রজব তারিখে ১২০ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। তিনি তাঁর প্রিয় মুরিদ হযরত খাজা উসমান আল-হারুনী রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর উপর চিশতিয়া তরিকার খিলাফত অর্পণ করেন।
মাজার দর্শন
Grandfathers Pir Of Sultanul Hind Garibe Newaz Hazrat Khaza Moinuddin Chishti Rh. Ah.-
Hazrat Khaza Shah Sharif Zandani Chishti Rh. Ah. Mazar Sharif.
Venue: Kannauj City. Uttar Pradesh India.

"পরী বিবির সমাধী"স্থানীয়দের মাঝে পরী বিবির মাজার নামে অধিক পরিচিত।স্থানঃ লালবাগ দুূর্গ বা লালবাগ কেল্লা, পুরান ঢাকা বাংল...
09/08/2026

"পরী বিবির সমাধী"
স্থানীয়দের মাঝে পরী বিবির মাজার নামে অধিক পরিচিত।
স্থানঃ লালবাগ দুূর্গ বা লালবাগ কেল্লা, পুরান ঢাকা বাংলাদেশ।
পরিচয়ঃ
বাংলাদেশের মুঘল স্থাপত্যের উল্লেখযোগ্য নিদর্শনগুলোর মধ্যে পরী বিবির সমাধি আমার কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়। এর নির্মাণশৈলী, ব্যবহৃত উপকরণ এবং সুদৃশ্যভাবে বাঁধানো সমাধি—সব মিলিয়ে এটি এক অনন্য স্থাপত্যকীর্তি।
পাঠকের জানা আছে, পরী বিবি ছিলেন বাংলার মুঘল সুবাহদার শায়েস্তা খানের কন্যা এবং মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের পুত্র শাহজাদা মুহাম্মদ আজমের স্ত্রী।
১৬৭৮ সালে শাহজাদা আজম লালবাগ দুর্গ নির্মাণ শুরু করেন। পরবর্তীতে শায়েস্তা খান তাঁর দ্বিতীয় সুবাহদারির সময় (১৬৭৯–১৬৮৮) এ নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখেন। কিন্তু ১৬৮৪ সালে কন্যা পরী বিবির অকালমৃত্যুর পর তিনি এটিকে অশুভ লক্ষণ মনে করে দুর্গ নির্মাণ বন্ধ করে দেন। দুর্গের অভ্যন্তরে মসজিদের পূর্ব দিকে পরী বিবিকে সমাহিত করা হয় এবং তাঁর স্মরণে শায়েস্তা খান একটি মনোরম সমাধিসৌধ নির্মাণ করেন।
লালবাগ দুর্গের অভ্যন্তরে অবস্থিত তিনটি প্রধান স্থাপনার মধ্যে পরী বিবির সমাধিসৌধটি সবচেয়ে আকর্ষণীয়। এটি একটি বর্গাকার ভবন, যার কেন্দ্রে অবস্থিত মূল সমাধিকক্ষ। এই কক্ষকে ঘিরে রয়েছে আরও আটটি কক্ষ। দক্ষিণ-পূর্ব কোণের একটি কক্ষে আরেকটি ছোট সমাধি রয়েছে, যা অনেকে পরী বিবির কন্যা সামসাদ বেগমের বলে মনে করেন। ভবনের চার কোণে চারটি টাওয়ার রয়েছে, যেগুলোর শীর্ষে ছত্রী স্থাপিত।
সমাধির ছাদ নির্মাণে একটির উপর আরেকটি পাথরের ব্লক বসানোর যে কৌশল ব্যবহৃত হয়েছে, তা হিন্দু মন্দির স্থাপত্যের প্রভাব নির্দেশ করে। কেন্দ্রীয় কক্ষের উপর অষ্টভুজাকার গম্বুজটি বর্তমানে পিতলের পাত দিয়ে আবৃত, যদিও প্রাথমিকভাবে এটি সোনার পাত দ্বারা মোড়া ছিল বলে ধারণা করা হয়।
সব দিক বিবেচনায়, পরী বিবির সমাধি শুধু একটি সমাধিসৌধ নয়, বরং মুঘল স্থাপত্যশৈলী, শিল্পবোধ এবং ঐতিহাসিক আবেগের এক অপূর্ব সমন্বয়।
মাজার দর্শন
Historical Pori Bibi Holy Grave's.
It is better known among the locals as the shrine of Pari Bibi.
Venue: Lalbagh Kella. Old Dhaka Bangladesh.

"হযরত শাহ্ জালাল ইয়ামেনী রহঃ আঃ এর সফরসঙ্গী এবং ৩৬০ জন আউলিয়াগনের মধ্যে অন্যতম একজন-হযরত সৈয়দ আহম্মেদ গেছু দারাজ ইয়ামেনী...
06/08/2026

"হযরত শাহ্ জালাল ইয়ামেনী রহঃ আঃ এর সফরসঙ্গী এবং
৩৬০ জন আউলিয়াগনের মধ্যে অন্যতম একজন-
হযরত সৈয়দ আহম্মেদ গেছু দারাজ ইয়ামেনী রহঃ আঃ পবিত্র মাজার শরীফ" তিনি, কেল্লা বাবা বা কেল্লা শাহ্ নামে অধিক পরিচিত।
স্থানঃ খড়মপুর আখাউড়া ব্রাহ্মণ্যবাড়ীয়া বাংলাদেশ।
বাৎসরিক ওরোছ মোবারকঃ প্রতি বছর ১০ই আগস্ট হতে ১৬ পর্যন্ত ৭দিন ব্যাপী মহাসমারোহে ওরোছ মাহফিল উৎযাপিত হয়। উক্ত মাহফিলকে কেন্দ্রকরে লক্ষ লক্ষ পাগল আসেকান স্বাধুগুরু পীর মশায়েখ এবং সাধারণ দর্শনার্থীদের আগমন ঘটে। এবং মাসব্যাপী গ্রাম্যমেলা ও রাস উৎসবে মুখরিত হয়ে ওঠে।
পরিচয় এবং জ্বীবনীঃ
হযরত কেল্লা শাহ (রহঃ)
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়ার খড়মপুরে অবস্থিত হজরত সৈয়দ আহম্মদ (রঃ) এর দরগাহ যা কেল্লা শহীদের দরগাহ নামে সমগ্র দেশে পরিচিত । কেল্লা শহীদ রহঃ সর্ম্পকে যে কাহিনী প্রচলিত আছে তা হচ্ছে এই যে, তৎকালীন বাংলার রাজা ছিলো গৌর গোবিন্দ। তিনি ছিলেন তান্ত্রিক শক্তিতে বলিয়ান। রাজা গৌর গোবিন্দের "জীয়ন কূপ" নামে একটা আশ্চর্য জনক কূপ ছিল । সেই কূপে মৃত লাশ ফেলে দিলে তা সাথে সাথেই জীবিত হয়ে যেত। বাবা শাহ্ জালাল ও ৩৬০ আওলিয়ার ইসলাম প্রচারের লক্ষে গৌর গোবিন্দের তুমল যুদ্ধ বাধে,
এই যুদ্ধে গোবিন্দের যে সৈন্য মারা যেত তাকে রাজা জীয়ন কূপে ফেলে আবার জিবিত করে ফেলতেন।
এ ভাবে গৌড় গোবিন্দের সাথে হাজার চেষ্টা করেও যখন বাবা শাহ্ জালাল যুদ্ধে জয় লাভ করতে পারছিলেন না।
তখন তিনি ধ্যানে জানতে পারলেন যে ঐ জিয়ন কূপের শক্তি না নষ্ট করা পর্যন্ত এই যুদ্ধে জয় লাভ সম্ভব না।
তখন তিনি তার ৩৬০ আউলিয়াদের ডেকে জীয়ন কূপ নষ্ট করার জন্য বললে কেউ রাজি হয়নি। কারন সেই কূপের পাহারায় থাকতো ৪০ জন উলঙ্গ নারী,
ইসলামে অশ্লীলতার নিকট হওয়া হারাম। যখন শাহ্ জালাল রহঃ খুব চিন্তায় মগ্ন ছিলেন, তখন শাহ্ জালাল বাবার অনুরাগি ভক্ত গিয়াসু দারাজ শাহ্ জালালের চিন্তা মাখা মুখ সহ্য করতে না পেরে এই কঠোর কাজে রাজি হলেন। এরপর যখন গিয়াসু দারাজ সেই কূপের সামনে যান তখন ইসলামের মান অক্ষুন রাখতে নিজের ধারালো তরবারি দিয়ে আল্লাহু আকবারবলে এক কোপে নিজের কল্লা কেটে তিতাস নদীতে ফেলে দেন। কল্লা ছাড়া গিয়াসু দারাজ রহঃ তরবারি হাতে যখনই জিয়ন কূপের সামনে গেলেন তখন বাবার এই ভয়াবহ রূপ দেখে ৪০ জন উলঙ্গ নারী দিক বিদিক হয়ে পালিয়ে যান। গিয়াসু দারাজ রহঃ তখন এক টুকরা গরুর মাংস ঐ কূপে ফেলে দিলে সাথে সাথে ঐ কূপের সকল ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়।
এরপর কল্লা ছাড়া কেল্লা শাহ্ রহঃ'র দেহ শাহ্ জালাল রহঃ নিকট তার পায়ের সামনে গিয়ে প্রান ত্যাগ করেন।
এরপর হযরত শাহ্ জালাল রহঃ কল্লা শাহ্ রহঃ এর পাক দেহ নিজ হাতে সিলেটে দাফন করেন। সে সময় খড়মপুরের জেলেরা তিতাস নদীতে মাছ ধরত ।
একদিন চৈতন দাস ও তার সঙ্গীরা উক্ত নদীতে মাছ ধরার সময় হঠাৎ তাদের জালে একটি খন্ডিত শির আটকা পড়ে যায় । তখন জেলেরা ভয়ে ভীত হয়ে পড়ে এবং খন্ডিত শিরটি উঠাতে গেলে আল্লাহর কুদরতে খন্ডিত শির বলতে থাকে ‘‘একজন আস্তিকের সাথে আর একজন নাস্তিকের কখনো মিল হতে পারে না। তোমরা যে পর্যন্ত কলেমা পাঠ করে মুসলমান না হবে ততক্ষণ আমার মস্তক স্পর্শ করবে না ।’’ খন্ডিত মস্তকের এ কথা শুনে মস্তকের কাছ থেকে কলেমা পাঠ করে চৈতন দাস ও সঙ্গীরা হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে মুসলমান হয়ে যায়। মস্তকের নির্দেশ মোতাবেক ইসলামী মতে খড়মপুর কবরস্থানে মস্তক দাফন করে । ধর্মান্তরিত জেলেদের নাম হয় শাহবলা, শাহলো, শাহজাদা, শাহগোরা ও শাহর ওশন ।
তাঁরাই এ দরগাহের আদিম বংশধর । এই দরগাহের খ্যতি ধীরে ধীরে চর্তুদিঁকে ছড়িয়ে পড়ে । এ থেকেই শাহ পীর সৈয়দ আহম্মদ গেছুদারাজ কেল্লাশহীদের পবিত্র মাজার শরীফ নামে পরিচিতি লাভ করে । ২৬০ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত দরগা শরীফের জায়গা তৎকালীন আগরতলা রাজ্যের মহারাজা দান করেন । বিভিন্ন ঐতিহাসিকগণ অনুমান করেন যে, আউলিয়া হজরত শাহ জালাল (রঃ) এক সঙ্গে সিলেটে যে ৩৬০ জন শিষ্য এসেছিলেন হজরত সৈয়দ আহম্মদ গেছুদারাজ ছিলেন তাঁদের অন্যতম । তরফ রাজ্যেও রাজা আচক নারায়নের সঙ্গে হজরত শাহজালাল রহঃ ওনার প্রধান সেনাপতি হজরত সৈয়দ নাসিরউদ্দিন রহঃ যে যুদ্ধ পরিচালনা করেন সে যুদ্ধে হজরত সৈয়দ আহম্মদ গেছুদারাজ রহঃ শহীদ হন এবং তাঁর মস্তক তিতাস নদীর স্রোতে ভেসে আসে।
মাজার দর্শন
Hazrat Shah Jalal Yameni Rh. On there’s Companion And 360 Auliya In Bangladesh-
Hazrat Syed Ahmmed Geshu Daraz Yameni Rh. Ah. (Qella Shah Baba) Mazar Sharif.
Venue: Kharampur. Akhaura B Bariya Bangladesh.

"হযরত ইমাম শাফেঈ রহঃ এর পবিত্র মাজার শরীফ"স্থানঃ আল-কারাফা কায়রো মিশর। ইমাম শাফেঈ (রহ:)-এর জীবনীঃ=======================...
03/08/2026

"হযরত ইমাম শাফেঈ রহঃ এর পবিত্র মাজার শরীফ"
স্থানঃ আল-কারাফা কায়রো মিশর।

ইমাম শাফেঈ (রহ:)-এর জীবনীঃ
=========================
ইমাম শাফেঈ (রহ:)-এর পুরো নাম মোহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস ইবনে আব্বাস ইবনে উসমান ইবনে শাফেঈ।তাঁর পূর্বপুরুষদের মধ্যে ৮ম প্রপিতামহ হাশেম ইবনে আব্দিল মোত্তালেবের চাচা হাশেম ছিলেন রাসূলুল্লাহ (দ:)-এর পূর্বপুরুষ।ইমাম সাহেবের ৫ম প্রপিতামহ সায়িব বদরের যুদ্ধে শত্রু পক্ষে অবস্থান করলেও পরবর্তীকালে তিনি ও তাঁর ছেলে শাফেঈ সাহাবী হবার মর্যাদা লাভ করেন। এই কারণে ইমাম সাহেবকে ‘আশ্ শাফেঈ’ বলা হয়। তাঁর মাতা সাহেবানী ছিলেন একজন শরীফা, মানে ইমাম হাসান (রা:)-এর বংশধর।ইমাম শাফেঈ (রহ:)-এর জন্ম গাযায় ১৫০ হিজরী মোতাবেক ৭৬৭ সালে এবং বেসাল মিসরে ২০৪ হিজরী/৮২০ সালে। দু’বছর বয়সে তাঁকে মক্কা মোকাররমায় নেয়া হয়, যেখানে তিনি শৈশবকালে আল-কুরআন হেফয করেন এবং মাত্র ১০ বছর বয়সে ইমাম মালেক (রা:)-এর ‘মুওয়াত্তা’ হাদীসের গ্রন্থটি মুখস্থ করেন।পনেরো বছর বয়সে তিনি ফতোওয়া জারি আরম্ভ করেন।একই বছর তিনি মদীনা মোনাওয়ারায় যান এবং সেখানে ইমাম মালেক (রহ:)-এর কাছ থেকে ইসলামী জ্ঞান ও ফয়েয (আধ্যাত্মিক জ্ঞান) লাভ করেন।তিনি বাগদাদে আসেন ১৮৫ হিজরী সালে।দু’বছর পরে তিনি হজ্জ্ব উপলক্ষে মক্কা মোয়াযযমায় গমন করেন।হিজরী ১৯৮ সালে তিনি আবার বাগদাদে প্রত্যাবর্তন করেন এবং ১৯৯ সালে মিসরে বসতি আরম্ভ করেন।তাঁর বেসাল শরীফের দীর্ঘকাল পরে কেউ কেউ তাঁর জিসম মোবারক বাগদাদে ফেরত নিতে চাইলে তাঁর মাযার খনন করা হয়।ওই সময় মাযার শরীফ থেকে কস্তুরিগন্ধ বের হয়ে খননকারী লোকদেরকে বেহাল করে দেয়। তারা খনন কাজ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।ইসলামী জ্ঞান,এবাদত- বন্দেগী,যুহদ, মা’রেফত, ধীশক্তি, স্মরণশক্তি ও কুলপরিচয়ে তিনি ছিলেন তাঁর সময়কার ইমামবৃন্দের পাশাপাশি তাঁর আগেকার ইমামদেরও পুরোধা। তাঁর মযহাব দূর-দূরান্তে প্রসার লাভ করে। আল-হারামাইন ও আল-আরদ্ আল-মুকাদ্দাস (প্যালেস্টাইন)-এর অধিবাসীরা সবাই শাফেঈ মযহাবের অনুসারী হন। ইমাম শাফেঈ (রহ:) ছিলেন নিম্নবর্ণিত হাদীসে কৃত ভবিষ্যদ্বাণীর বাস্তব রূপ; মহানবী (দ:) এরশাদ ফরমান,
কুরাইশ গোত্রের আলেম-ব্যক্তি পৃথিবীকে জ্ঞান দ্বারা পরিপূর্ণ করবেন।
ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ:)-এর পুত্র আবদুল্লাহ তাঁর বাবাকে ইমাম শাফেঈ (রহ:)-এর জন্যে কেন এতো বেশি বেশি তিনি দোয়া করেন এর কারণ জিজ্ঞেস করলে তাঁর বাবা ইমাম সাহেব জবাবে বলেন,
ওহে পুত্র! মানুষের মাঝে ইমাম শাফেঈ (রহ:)-এর মর্যাদা হলো আকাশে সূর্যের উপস্থিতির মতো।তিনি আত্মার (ব্যাধি) নিরাময়কারীস্বরূপ।
ওই দিনগুলোতে ‘মুওয়াত্তা’ হাদীসগ্রন্থে সংকলিত হয়েছিল ৯৫০০ হাদীস।পরবর্তীকালে তা থেকে যাচাই-বাছাই করে বর্তমানের ১৭০০টি হাদীসের সংকলন হিসেবে এটি আকৃতি পায়।ইমাম শাফেঈ (রহ:)-এর উপনাম ছিল ‘নাসিরুস্ সুন্নাহ’ (ধর্মের সাহায্যকারী)।মাত্র চার বছরের অল্প সময়ে তিনি একটি মযহাবের গোড়াপত্তন করার ঘটনাটি সত্যি বিস্ময়কর। ইমাম সাহেবের জীবনী ও শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করে ৪০টিরও বেশি বই অদ্যাবধি লেখা হয়েছে।
১লা রজ্জ্বব হযরত ইমাম শাফেঈ রহঃ ইহজগৎ ত্যাগ করেন। এবং ১লা রজ্জ্বব ঘিরে দরবারের বাৎসরিক ওরোছ মোবারক পালিত হয়।
মাজার দর্শন
Hazrat Imam Shafiee Rh. Mazar Sharif.
Venue: Al-Qarafa. Kairo Egypt.

"হযরত শাইখ আবু বকর শাহ্ (মটকা পীর) হায়দারী কালান্দার রহঃ এর পবিত্র মাজার শরীফ"স্থানঃ যমুনা নদীর পার দিল্লি ভারত। পরিচয়ঃ....
28/07/2026

"হযরত শাইখ আবু বকর শাহ্ (মটকা পীর) হায়দারী কালান্দার রহঃ এর পবিত্র মাজার শরীফ"
স্থানঃ যমুনা নদীর পার দিল্লি ভারত।
পরিচয়ঃ..............
হযরত শাইখ আবু বকর তুসি হায়দারি কালান্দার, যিনি সাধারণত “মটকা পীর” নামে পরিচিত, ছিলেন একজন প্রসিদ্ধ সুফি কালান্দার। কালান্দাররা সাধারণত কোনো সংগঠিত সুফি তরিকার সাথে আবদ্ধ থাকেন না; বরং তারা স্থান থেকে স্থানে ভ্রমণ করেন এবং আল্লাহর ভালোবাসায় এমনভাবে নিমগ্ন থাকেন যে দুনিয়াবি আনুষ্ঠানিকতা ও বাহ্যিকতাকে তেমন গুরুত্ব দেন না। তিনি ফরজ নামাজ আদায় করতেন, তবে অতিরিক্ত ইবাদতের উপর বিশেষ জোর দিতেন না।

কালান্দারদের পরিচয় ছিল তাদের ভিন্নধর্মী পোশাক ও আচরণে। মটকা পীর হায়দারি কালান্দারদের সিলসিলার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যার নাম পারস্যের সাওয়া অঞ্চলের সুফি হায়দারের সাথে সম্পর্কিত। মঙ্গোল আক্রমণের পর হায়দারি কালান্দারদের একটি দল দিল্লিতে এসে বসতি স্থাপন করে এবং মটকা পীরও প্রায় ত্রয়োদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে দিল্লিতে স্থায়ী হন।

তার খানকাহ ছিল যমুনা নদীর তীরে, যেখানে সমা (সঙ্গীত সভা) অনুষ্ঠিত হতো এবং স্বয়ং হযরত নিজামুদ্দিন আউলিয়া আলাইহির রহমাহ-ও সেখানে অংশগ্রহণ করতেন। মটকা পীর তার মুরিদদের যমুনার পানি মাটির মটকে করে দিতেন, যা শিফা দানকারী হিসেবে বিবেচিত হতো।

তার করামতের খ্যাতি সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবনের কাছেও পৌঁছায়; বলা হয়, সুলতান প্রেরিত দাসী তামিজান তার মুরিদা হয়ে যান এবং সারা জীবন তার সেবা করেন। পরবর্তীতে সুলতান নিজেও তার প্রতি অনুগত হয়ে পড়েন।

মানুষ তাদের মানত পূর্ণ হলে মটকা উৎসর্গ করা শুরু করে, এবং এ কারণেই তিনি “মটকা পীর” নামে পরিচিত হন। আজও তার দরগাহে হায়দারি কালান্দার ও ভক্তদের আগমন অব্যাহত রয়েছে, এবং সেই প্রাঙ্গণে তার প্রধান খলিফা শাইখ রহিমুদ্দিন ইরাকির কবরও অবস্থিত।
মাজার দর্শন
Hazrat Shaikh Abu Bakor Shah (Motka Peer) Haidari Qalandar Rh. Mazar Sharif.
Venue: Near Jamuna River Delhi India.

"হযরত মাওলানা সাইয়্যাদ নুর মোহাম্মদ বাদায়ুনী রহঃ এর পবিত্র মাজার শরীফ" স্থানঃ হযরত খাজা নিজামুদ্দিন আউলিয়া রহঃ এর পবিত্র...
23/07/2026

"হযরত মাওলানা সাইয়্যাদ নুর মোহাম্মদ বাদায়ুনী রহঃ এর পবিত্র মাজার শরীফ"
স্থানঃ হযরত খাজা নিজামুদ্দিন আউলিয়া রহঃ এর পবিত্র মাজার শরীফ এর পাশে। দিল্লি ভারত।
পরিচয় এবং জ্বীবনীঃ
হযরত সাইয়্যেদ নূর মুহাম্মদ বাদায়ুনী রহঃ নকশবন্দী তরিকারএকজন অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন। তিনি একজন সাইয়্যেদ, অর্থাৎ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বংশধর ছিলেন।

তিনি আঠারো বছর বয়সে তাঁর শিক্ষক মুহাম্মদ শরীফ (মৃত্যু: ১১২৪ হিজরি/১৭১২ খ্রিস্টাব্দ)-এর কাছ থেকে ইসলামী শাস্ত্রের অধ্যয়ন সম্পন্ন করেন।

দিল্লিতে সাইয়্যেদ নূর মুহাম্মদ বাদায়ুনীর পবিত্র সমাধি।

তিনি ইমাম রাব্বানী শায়খ আহমদ সিরহিন্দীর নাতি খাজা মুহাম্মদ সাইফ আদ-দীন সিরহিন্দী ফারুকীর কাছ থেকে সুফি প্রশিক্ষণ ও আধ্যাত্মিক আশীর্বাদ লাভ করেন। তাঁর শায়খের ইন্তেকালের পর, তিনি হযরত হাফিজ মুহাম্মদ মহসিন দেহলভীর কাছ থেকে আধ্যাত্মিক নির্দেশনা লাভ করেন, যিনি শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলভীর নাতি ছিলেন।

অতিরিক্ত মুরকিবা (ধ্যান)-এর কারণে তাঁর পিঠ বেঁকে গিয়েছিল।

তাঁর প্রখর কাশফ ছিল এবং তিনি সহজেই তাঁর শিষ্যদের অন্তরের আধ্যাত্মিক আলো বা অন্ধকার লক্ষ্য করতে পারতেন। একবার তাঁর এক মুরিদ তাঁর কাছে আসছিল, এবং আসার পথে সে একজন নন-মাহরাম মহিলাকে দেখতে পায়। পৌঁছানোর পর, শায়খ তাকে বললেন যে সে যিনার (ব্যভিচারের) অন্ধকারে আচ্ছন্ন, এবং মনে হচ্ছে সে একজন নন-মাহরামকে দেখেছে। একবার তাঁর খাদেম একজন মদ্যপ ব্যক্তির সাথে দেখা করে। যখন সে শায়খের কাছে এলো, তখন তিনি তাকে বললেন যে আমি তোমার মধ্যে মদের অন্ধকার দেখতে পাচ্ছি, সম্ভবত তুমি একজন মদ্যপ ব্যক্তির সাথে দেখা করেছ। তারপর তিনি বললেন যে ফাসিক (পাপী) লোকদের সাথে সাক্ষাৎ নিসবাহ (আধ্যাত্মিক অবস্থা)-কে বিঘ্নিত করে।

মহান নকশবন্দী সাধক ও সুফি কবি হযরত মির্জা মাযহার জানেজান (মৃত্যু: ১১৯৫ হিজরি) ছিলেন তাঁর খলিফা ও উত্তরাধিকারী। তিনি বলতেন যে, হযরত সাইয়্যেদের কাশফ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কখনও কখনও যা আমরা আমাদের জাগতিক চোখে দেখতে পাই না, তিনি তা তাঁর আধ্যাত্মিক চোখে দেখতে পেতেন।

সৈয়দ নূর মুহাম্মদ ছিলেন চরম ধার্মিকতা ও তাকওয়ার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি কখনও ধনীদের খাবার খেতেন না। যদি তাঁকে কারও কাছ থেকে বই ধার করতে হতো, তবে তিনি তিন দিন পর পর্যন্ত তা পড়া শুরু করতেন না এবং বলতেন যে, ধনীদের সঙ্গের অন্ধকারে বইগুলোও প্রভাবিত হয়।

তিনি ১১ জিলহজ্ব ১১৩৫ হিজরিতে (১২ বা ১৩ আগস্ট ১৭২৩) মৃত্যুবরণ করেন এবং দিল্লিতে খাজা নিজামউদ্দিন আউলিয়ার মাজারের কাছে তাঁকে দাফন করা হয়।

আজ লক্ষ লক্ষ নকশবন্দী অনুসারী তাদের অন্তরে তাঁর আধ্যাত্মিক ফয়দ লাভ করেন। এমনকি তাবলিগি জামাতের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ ইলিয়াস কান্ধলভীও বরকত লাভের জন্য তাঁর মহৎ কবরে ধ্যান করতেন।

নকশবন্দী মুজাদ্দিদী তাহিরী আধ্যাত্মিক স্বর্ণধারার পরবর্তী জন হলেন মির্জা মাজহার জান-ই-জানান।
মাজার দর্শন
Hazrat Maulana Shaiyed Nur Mohammad Badayuni Rh. Mazar Sharif.
Venue: Hazrat Khaza Nizamuddin Auliya Rh. Mazar Sharif. Delhi India

"হযরত খাজা আলী ইবন আহমদ আবুল হাসান আল-খারকানী (কুদ্দীসা সিররুহুল আজীয) এর পবিত্র মাজার শরীফ"স্থানঃ খারকান ইরান। পরিচয় এব...
21/07/2026

"হযরত খাজা আলী ইবন আহমদ আবুল হাসান আল-খারকানী (কুদ্দীসা সিররুহুল আজীয) এর পবিত্র মাজার শরীফ"
স্থানঃ খারকান ইরান।
পরিচয় এবং জ্বীবনীঃ
১০ মহররম ৪২৫ হিজরি
হযরত খাজা আবুল হাসান আল-খারকানী (রহ.)-এর পবিত্র ওফাত দিবস
শাইখুল মাশায়েখ, হাকীকত ও মারিফাতের মহাসমুদ্র, ইমামুত ত্বরীকাহ হযরত খাজা আলী ইবন আহমদ আবুল হাসান আল-খারকানী (কুদ্দিসা সিররুহুল আজীয)-এর পবিত্র ওফাত দিবস ১০ মহররম, ৪২৫ হিজরি।
তাঁর পূর্ণ নাম ছিল আলী ইবন আহমদ ইবন জাফর ইবন সালমান এবং তাঁর কুনিয়াত ছিল আবুল হাসান। তিনি ৩৫২ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ইরানের বাস্তামের নিকটবর্তী খারকান গ্রামের একজন কৃষক ছিলেন।
আল্লাহপ্রদত্ত অসাধারণ মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে তিনি শরিয়তের জ্ঞান এবং সুলুক ও ত্বরীকতের সাধনায় উচ্চ মর্যাদা অর্জন করেন। তিনি সর্বদা সৎ লোকদের সাহচর্যে থাকতেন, অধিকাংশ সময় অজু অবস্থায় কাটাতেন এবং ইবাদত, যিকর ও মুজাহাদায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন।
তিনি উয়াইসী সম্পর্কের মাধ্যমে সুলতানুল আরিফীন হযরত খাজা বায়েজিদ বস্তামী (রহ.)-এর কাছ থেকে আধ্যাত্মিক ফয়েজ লাভ করেন। এছাড়াও তিনি তাঁর যুগের বহু প্রখ্যাত আলেম ও সুফি-সাধকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বিশেষভাবে শায়খ আবুল আব্বাস আহমদ কাসসাব আমুলী (রহ.)-এর সান্নিধ্য লাভ করেন এবং দীর্ঘদিন তাঁর খানকাহে অবস্থান করেন।
এক ব্যক্তি একদিন তাঁর নিকট এসে বলল, "হুজুর! আমাকে আপনার খিরকা পরিয়ে দিন।"
তিনি বললেন, "আগে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও। যদি কোনো নারী পুরুষের পোশাক পরে, তবে কি সে পুরুষ হয়ে যায়?"
লোকটি বলল, "না।"
তিনি বললেন, "তাহলে খিরকা পরালেই কী লাভ? অন্তরে পরিবর্তন না এলে শুধু পোশাক বদলালে কেউ দরবেশ হতে পারে না।"
হযরত আবুল হাসান খারকানী (রহ.) উয়াইসী তরীকায় হযরত বায়েজিদ বস্তামী (রহ.)-এর নিকট থেকে বাতিনী ফয়েজ লাভ করেন এবং সেই ফয়েজ সারা বিশ্বে প্রচার করেন। একই সঙ্গে তাঁর সিলসিলা চারজন মাধ্যমের মাধ্যমে হযরত বায়েজিদ বস্তামী (রহ.) পর্যন্ত নির্ভরযোগ্যভাবে পৌঁছায়।
প্রসিদ্ধ মুসলিম শাসক সুলতান মাহমুদ গজনভী (রহ.) ছিলেন তাঁর একনিষ্ঠ ভক্ত। একবার সুলতান তাঁকে রাজদরবারে আমন্ত্রণ জানালে তিনি তা গ্রহণ করেননি। পরে সুলতান নিজেই তাঁর খানকাহে উপস্থিত হন। তখন তিনি সুলতানের সম্মানে দাঁড়াননি। কিন্তু বিদায়ের সময় যখন সুলতান গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তিভরে তাঁর পবিত্র পিরাহান (জামা) তাবাররুক হিসেবে গ্রহণ করলেন, তখন তিনি দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করলেন।
সুলতান কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন,
"আগে আমি তোমার রাজত্বের জন্য দাঁড়াইনি; এখন তোমার দরবেশির জন্য দাঁড়িয়েছি।"
বর্ণনায় এসেছে, সোমনাথ অভিযানের সময় যখন সুলতান মাহমুদ কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হন, তখন তিনি হযরত আবুল হাসান খারকানী (রহ.)-এর পবিত্র পিরাহান হাতে নিয়ে আল্লাহর দরবারে এভাবে দোয়া করেন:
"হে আল্লাহ! এই পবিত্র খিরকার মর্যাদার উসিলায় আমাকে এই কাফিরদের ওপর বিজয় দান করুন। এখানে যে গনীমতের সম্পদ লাভ করব, তা দরবেশদের মধ্যে বিতরণ করব।"
এরপর আল্লাহ তাআলা তাঁকে বিজয় দান করেন।
হযরত আবুল হাসান খারকানী (রহ.) তাঁর যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কুতুব ও গাউস হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর দরবারে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আধ্যাত্মিক ফয়েজ লাভের জন্য সমবেত হতো।
একদিন তিনি মুরিদদের জিজ্ঞাসা করলেন,
"সবচেয়ে উত্তম জিনিস কী?"
সকলেই বললেন,
"হুজুর, আপনিই বলুন।"
তিনি বললেন,
"সেই হৃদয়, যেখানে একমাত্র আল্লাহরই স্মরণ বিরাজমান থাকে।"
তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো,
"সুফি কাকে বলে?"
তিনি বললেন,
"সুফি জুব্বা বা জায়নামাজ দ্বারা হয় না; সুফি কেবল রীতি-নীতির নামও নয়। প্রকৃত সুফি সেই ব্যক্তি, যার নিজের কোনো অস্তিত্বের দাবি থাকে না।"
তিনি আরও বলেন,
"প্রকৃত সুফি সেই, যার দিনের জন্য সূর্যের প্রয়োজন নেই, রাতের জন্য চাঁদ বা তারকার প্রয়োজন নেই; আর ফানা এমন এক অবস্থা, যেখানে নিজের অস্তিত্বেরও আর প্রয়োজন থাকে না।"
আরও একবার তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়,
"মানুষ কীভাবে বুঝবে যে সে সত্যিকার অর্থে জাগ্রত?"
তিনি উত্তর দেন,
"যখন আল্লাহকে স্মরণ করলে মাথা থেকে পা পর্যন্ত তার সমগ্র সত্তা আল্লাহর স্মরণে নিমগ্ন হয়ে যায়।"
আবার তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়,
"ফানা ও বাকার আলোচনা কার জন্য উপযুক্ত?"
তিনি বলেন,
"সেই ব্যক্তির জন্য, যাকে যদি একটি রেশমি সুতো দিয়ে আকাশ থেকে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এবং এমন ঝড় বয়ে যায় যাতে গাছ, ঘরবাড়ি ও পাহাড় উপড়ে যায় এবং নদীগুলো উত্তাল হয়ে ওঠে, তবুও সে আল্লাহর প্রতি স্থিরতা থেকে এক বিন্দুও বিচলিত না হয়।"
ওফাতের পূর্বমুহূর্তে তিনি ওসিয়ত করেন,
"আমার কবর ত্রিশ গজ গভীর খনন করবে, যাতে তা হযরত বায়েজিদ বস্তামী (রহ.)-এর কবরের চেয়ে উঁচু না হয়।"
তাঁর এই ওসিয়ত অনুযায়ীই কবর প্রস্তুত করা হয়।
১০ মহররম ৪২৫ হিজরি, মোতাবেক ৫ ডিসেম্বর ১০৩৩ খ্রিস্টাব্দে ইরানের খারকানে তাঁর পবিত্র ওফাত ঘটে। সে সময় তাঁর বয়স ছিল ৭৩ বছর।
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
বর্তমানে ইরানের খারকান শরীফে অবস্থিত তাঁর পবিত্র মাজার অসংখ্য মানুষের জন্য আধ্যাত্মিক ফয়েজ ও বরকতের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে সুপরিচিত।
মাজার দর্শন
Hazrat Khaza Ali Ibne Ahmad Abul Hassan Al-Kharkani (Quddisha Sirruhul Aziz) Mazar Sharif.
Venue: Kharkan Iran.

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when মাজার দর্শন-MAZAR VISIT posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to মাজার দর্শন-MAZAR VISIT:

Shortcuts

Share