দোহাৱ নবাবগঞ্জ হেযবুত তওহীদ

  • Home
  • Bangladesh
  • Dhaka
  • দোহাৱ নবাবগঞ্জ হেযবুত তওহীদ
06/04/2025

আসসালামু আলাইকুম।

আবারও দোহার নবাবগঞ্জ হেযবুত তাওহীদ পেজ থেকে নিয়মিত পোস্ট করা হবে।
সাথে থাকুন, লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করুন।

#দোহার_নবাবগঞ্জ #হেযবুত_তওহিদ

Talent is not enough. You need discipline. You need dedication. You need character. More men have failed, not for lack o...
13/07/2024

Talent is not enough.

You need discipline.
You need dedication.
You need character.

More men have failed, not for lack of talent but for lack of character.

চলমান সঙ্কট মোকাবেলায় হেযবুত তওহীদের প্রস্তাবনাহোসাইন মোহাম্মদ সেলিম-------------------------------বিশ্ব পরিস্থিতি বর্তম...
15/07/2022

চলমান সঙ্কট মোকাবেলায় হেযবুত তওহীদের প্রস্তাবনা
হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম
-------------------------------
বিশ্ব পরিস্থিতি বর্তমানে ভীষণ টালমাটাল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে সাম্রাজ্যবাদী অস্ত্রব্যবসায়ী পরাশক্তিধর রাষ্ট্রগুলো একের পর এক যুদ্ধ সংঘটিত করে বিশ্বকে অস্থিতিশীল করে রেখেছে। দেশে দেশে সংঘাত সংঘর্ষ নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। বিশেষ করে মুসলিম প্রধান দেশগুলিকে পদানত ও শোষণ করার জন্য নানা অসিলায় অন্যায়ভাবে যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে। ইরাক, সিরিয়া, আফগানিস্তান, লিবিয়া, ফিলিস্তিন, বসনিয়া, চেচনিয়া ইত্যাদি দেশগুলোকে একেবারে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। বর্তমানে রাশিয়া কর্তৃক ইউক্রেন আক্রমণের মধ্য দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী এক যুদ্ধের সূচনা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ, ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা সচিব বেন ওয়ালেস সকলেই বলছেন যে, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক জোট ন্যাটোর সঙ্গে রাশিয়ার যুদ্ধই হচ্ছে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা।
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সবচেয়ে অবধারিত বিষয় হচ্ছে এতে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করা হবে যা ভয়াবহ অমানবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে পরমাণু অস্ত্রের প্রয়োগ হলে মানবজাতিও বিনাশ হয়ে যেতে পারে। বিভিন্ন জরিপ মতে, বর্তমানে প্রায় ১৬ হাজারেরও বেশি পারমাণবিক অস্ত্র পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে রয়েছে। পৃথিবীর মোট ১৯৬টি দেশের মধ্যে মাত্র ৯টির এখতিয়ারে পারমাণবিক অস্ত্রসমূহ রয়েছে। পৃথিবীতে অবস্থিত এ সকল পারমাণবিক হাতিয়ারের শতকরা ৯০ ভাগেরও বেশি দুই পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মালিকানাধীন। ‘আর্থস ফিউচার’ নামক বৈজ্ঞানিক গবেষণা সাময়িকীতে প্রকাশিত ২০১৪ সালের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, মাত্র ১০০টি পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্ফোরণই পৃথিবীতে ২৫ বছরের জন্য সূর্যালোকের আগমন বন্ধ করে দেবে।
যার ফলে পৃথিবী মানুষের বাসযোগ্যতা হারাবে এবং পরিণামে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে মানবজাতি। যেখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত পারমাণবিক বোমা লিটল বয় একটি শহর ধ্বংসের পাশাপাশি ৭০,০০০ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল, সেখানে রাশিয়ার হাতে থাকা ‘জার বম্বা’ যদি নিউইয়র্কে ফেলা হয়, তাহলে তা ৭৬ লক্ষ মানুষ নিধনের পাশাপাশি আরো ৪০ লক্ষ মানুষকে আহত করবে। এর থেকে সৃষ্ট পারমাণবিক তেজষ্ক্রিয় ধূলিকণা ঘণ্টায় ১৫ মাইল বেগে বহমান বাতাসে প্রায় ৭,৮৮০ কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়বে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষকে প্রাণ হারাতে হবে।ইউক্রেনের এই যুদ্ধের ফলে সমগ্র পৃথিবীর অর্থনীতিতে ইতোমধ্যেই বিরাট নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। হুহু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ছে। টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বেড়েছে রেকর্ড পরিমাণ।
বৈদেশিক ঋণের বোঝা দেশের প্রতিটি নাগরিকের কাঁধে বর্তায়। এই ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে বৃদ্ধি করা হয় দ্রব্যমূল্য। এই ঋণের যাঁতাকলে পড়ে ইতোমধ্যেই শ্রীলঙ্কায় সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট। এক কাপ চায়ের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১০০ টাকা, এক কেজি চালের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৫০০ টাকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে জনগণের বিক্ষোভের মুখে সরকারের পতন ঘটেছে। প্রভাবশালী এমপি, মন্ত্রীদের গণপিটুনির শিকার হতে হয়েছে ন্যাক্করজনকভাবে।
১৯৭১ সনে লাখো দেশপ্রেমী জনতার জীবনের বিনিময়ে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছিল। আমরা চেয়েছিলাম সুখী, সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ একটি দেশ ও জাতি গড়ে তুলতে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে স্বাধীনতার পর থেকে আমাদের দেশে পাশ্চাত্য সভ্যতার শেখানো রাজনৈতিক দলবাজি প্রবলভাবে বিস্তার লাভ করে। ছাত্রদেরকেও দলীয় সন্ত্রাসী ক্যাডারে পরিণত করা হয়। পাশাপাশি ধর্মের নামে অপরাজনীতি, সাম্প্রদায়িক ঘৃণাবিস্তার ও দাঙ্গা, অন্ধত্বের কুশিক্ষার প্রসার, ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্র ইত্যাদি জাতিকে গ্রাস করে নেয়।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক অঙ্গন হয়ে ওঠে দুর্যোগপূর্ণ, অস্থিতিশীল। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি প্রবেশ করে জাতির অর্থনৈতিক মেরুদ-কে গুড়িয়ে দিয়েছে, দেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি হিসাবে পরিচিত করেছে। দেশের পরিশ্রমী তরুণ প্রজন্ম বিদেশে গিয়ে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণ করছে, তাদের আরো বড় একটি অংশ পোশাক শিল্পে অমানবিক শ্রম দিচ্ছে। কিন্তু তাদের সেই অর্থ শোষণ করা হচ্ছে। তথাপি এই দুটো খাত বাদ দিলে আমাদের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে এমন বড় কোনো খাত আর নেই। এরই মধ্যে দুই বছর ধরে চলা করোনা মহামারির কারণে সমগ্র বিশ্বের অর্থনীতিতে মন্দা নেমে এসেছে। দরিদ্র দেশগুলোর অর্থনীতি একেবারে পঙ্গু হয়ে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে ধস, করোনা মহামারির ফলে কর্মহীনতা, বিক্ষুব্ধ রাজনৈতিক অঙ্গন, ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ইত্যাদি সব মিলিয়ে আমাদের এই দেশ এমন এক ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়েছে যে পরিণতি চিন্তা করে সকল শ্রেণির মানুষের কপালেই ভাঁজ পড়েছে। সরকার যেমন উদ্বিগ্ন, প্রতিদিন প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনী দ্রব্য চাল, ডাল, আটা, তেল, মাছ, মাংস, শাক-সবজি সব কিছুর দাম সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ আজ দিশেহারা। কীভাবে কাটবে জীবন, সন্তানদের মুখে দুটো ভাত তুলে দিতে পারব তো? সংকটকালে শিয়াল-কুকুর, সাপ বেজিও একসাথে বাস করে। আমরা কি পারব এই বিপর্যয়কর পরিস্থিতি এতদিনকার যাবতীয় দ্বন্দ্ব-বিরোধ আপাতত একপাশে সরিয়ে রেখে ঐক্যবদ্ধ হতে? নাকি সংকটকালে আমরা আরো স্বার্থপরতায় আক্রান্ত হয়ে পূর্ব থেকে চলে আসা রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নিয়ে মারামারি, খুনোখুনি, রক্তারক্তির দিকে হাঁটব?
আমরা মনে করি, কোনো সঙ্কট আসলে জাতিকে সম্মিলিতভাবে একটা সিদ্ধান্ত নিতে হয়। হেযবুত তওহীদ এ পর্যন্ত এ প্রস্তাবটিই দিয়ে আসছে। সমস্ত অশান্তির মূল হলো অনৈক্য। ঐক্যবদ্ধ হতে চাইলে এখনও হওয়া সম্ভব। বিশেষ করে এ দেশের ১৫ কোটি মানুষ মুসলমান। আমরা আল্লাহ, রসুল, কোর’আন বিশ্বাস করি, আমরা বিশ্বাস করি, ইসলাম এমন একটি উত্তম জীবনব্যবস্থা যার দ্বারা মানবজীবনের সকল সংকটের সমাধান করা সম্ভব। ইসলামপূর্ব জাহেলি সমাজেও এধরনের নানা সঙ্কট ও সংঘাত ছিল যেগুলো সমাধান রসুলাল্লাহ করেছিলেন ইসলাম দিয়েই। কিন্তু বিগত ১৪০০ বছরে সেই ইসলাম বিকৃত ও বিপরীতমুখী হয়ে যাওয়ার দরুন শান্তি আসছে না। আমরা হেযবুত তওহীদ আবারও সেই হারিয়ে যাওয়া অবিকৃত ইসলামকে তার অনাবিলরূপে উদ্ধার করে মানবজাতির সামনে উপস্থাপন করছি।
এ চলমান বৈশ্বিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক সঙ্কট, ধর্মীয় উগ্রপন্থা, গুজব-সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের মোকাবেলায় হেযবুত তওহীদের স্পষ্ট প্রস্তাবনা নিম্নরূপ:
প্রথম প্রস্তাব:
পুরো জাতিকে এখন ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। বর্তমান এই সঙ্কট মোকাবেলা করতে হলে পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা ছাড়া আর কোনো উপায় নাই। আমরা ভুল রাজনীতির চর্চা করি, যাতে জাতির ঐক্য ধ্বংস করার সকল আয়োজন সুসম্পন্ন করা হয়েছে। সেক্যুলার বা ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোর মধ্যে গণতান্ত্রিক, সমাজতান্ত্রিক, জাতীয়তাবাদী বহু নীতির দল রয়েছে। আবার ইসলামপন্থী দলও রয়েছে শত শত। দেশজুড়ে ছড়িয়ে আছে হাজার হাজার পীর। তাদের সবার আছে ভিন্ন ভিন্ন তরিকা। তাদের অনুসারী বেড়ে গেলে অনেকেই রাজনীতির মাঠে চলে আসেন। কেউ প্রশ্ন করতে পারেন, এত ধরনের এত পুরোনো সব অনৈক্যের দেওয়াল কীভাবে চুরমার করা যাবে? আদৌ কি এটা সম্ভব? কে করবে এই কাজ? কোন সূত্র দিয়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করবে?
ঠিক এই সমস্যাটাই ১৪০০ বছর আগের আরবীয় জাহেলি সমাজে ছিল। আরব উপদ্বীপে বসবাসকারী গোত্রগুলোর মধ্যে এমন অনৈক্য ও বিবাদ ছিল যে কেউ বিশ্বাস করত না যে এরকম সংঘর্ষ, দ্বন্দ্ব-সংঘাতে লিপ্ত গোত্রগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করা যাবে। কিš‘ সেই অবিশ্বাস্য ঘটনাটাই ঘটল। ইতিহাসের এক বিস্ময়কর ঘটনা ছিল আরবদের সেই পরিবর্তন যা ঘটিয়েছিলেন নবী করিম (দ.)। তিনি ঠিকই শতধাবিচ্ছিন্ন আরব গোত্রগুলোকে সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে এই ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ঘোষণাকেই ইসলামের পরিভাষায় বলা হয় তওহীদ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোনো হুকুমদাতা নেই। কোনটা ন্যায়, কোনটা অন্যায় তার চূড়ান্ত মানদণ্ড হিসাবে আল্লাহর বিধানকে মেনে নেওয়াই হচ্ছে ঐক্যের একমাত্র সূত্র।
আমাদের দেশের সকল হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলমান, খ্রিষ্টান, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি সকলকে যাবতীয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। স্বার্থচিন্তার কারণে দেশকে ধ্বংস হতে দেওয়া যাবে না। দেশ ধ্বংস হলে কেউই রক্ষা পাবে না। পরবর্তী প্রশ্ন হবে - ঐক্যবদ্ধ করবেন কে, কার কথায় মানুষ বিশ্বাস স্থাপন করবে?
বিশ্বাস স্থাপন করার মত অবস্থা নাই। প্রত্যেকের দোষ খুঁজে খুঁজে বের করা হচ্ছে। এভাবে দোষ বিচার করতে বসলে কাউকেই নির্দোষ পাওয়া যাবে না। তাই কাউকে না কাউকে বিশ্বাস করতে হবে কেবল জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে। তবে হেযবুত তওহীদ এই ঐক্য গঠনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে উদ্যোগ নিচ্ছে। হেযবুত তওহীদ গত ২৭ বছর ধরে এই ঐক্যের ডাক দিয়ে যাচ্ছে এবং ঐক্য ভঙ্গের কোনো কাজ হেযবুত তওহীদ করে না। এই দীর্ঘ সময়ে হেযবুত তওহীদ দেশের কোনো আইন ভঙ্গ করে নি। হেযবুত তওহীদের কোনো কর্মী বিদেশে টাকা পাচার করেছে এমন প্রমাণও কেউ দেখাতে পারবে না। আমাদের যে সমস্ত সদস্যরা প্রবাসে কাজ করেন তারা বরং বাংলাদেশে টাকা পাঠিয়েছেন। আমরা সকল সদস্যের প্রদত্ত অর্থে বহু ধরনের উন্নয়ন কর্মকা- হাতে নিয়েছি এবং জাতির কল্যাণে সামান্য হলেও ভূমিকা রাখছি। কাজেই হেযবুত তওহীদ ঐক্য নষ্টকারী কোনো কাজ করবে না, ছোটখাট বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি করবে না, সঙ্কীর্ণতার মধ্যে যাবে না - এটা অতীতেও প্রমাণিত হয়েছে, ভবিষ্যতেও হবে ইনশাল্লাহ।
দ্বিতীয় প্রস্তাব:
দেশের একটা টাকাও বিদেশে পাচার করতে দেয়া যাবে না। শুধু বিদেশ থেকে কোনো প্রয়োজনীয় সামগ্রী আমদানি করা যাবে। কোনো একটি বিলাসদ্রব্যও আমদানি করা যাবে না।
তৃতীয় প্রস্তাব:
ভোগবাদি জীবনযাবন থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন খরচ কমানোর জন্য। আসলে বিষয়টা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। মানুষ এমনভাবে ভোগবাদী ও ব¯‘বাদী হয়েছে, যে মানুষ আগে দশ হাজার টাকা দিয়ে চলতে পারত, তার আজকে বিশ হাজার টাকা লাগে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে সত্য, কিš‘ অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতায়, যুগের হাওয়ায় গা ভাসিয়ে মানুষ অনেক বেশি অপচয় করছে এটা তার চেয়ে বড় সত্য। একেকটা সামাজিক অনুষ্ঠানে মানুষ ব্যাপক খরচ করে। কেবল লোক দেখানোর জন্য ব্যয়বহুল রেস্টুরেন্টে খেয়ে মধ্যবিত্ত মানুষ এখন হাজার হাজার টাকা নষ্ট করে। মোহনীয় বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পড়ে নতুন নতুন মডেলের ফোন ব্যবহার করার নেশা তাদেরকে পেয়ে বসেছে। গরীবের সংসারে বড়লোকি চলে না।
বাংলাদেশে কিছু উঠতি উচ্চবিত্ত থাকলেও অধিকাংশ মানুষ এখনও দরিদ্রসীমার নিচে বাস করে, এ বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে এ জাতীয় অহেতুক ব্যয়গুলো কমাতে হবে। আমাদের দেশে পাশ্চাত্য জীবনব্যবস্থার উপজাত হিসাবে একটি অভিজাত, ধনপতি আমলা, উচ্চবিত্ত রাজনৈতিক নেতা শ্রেণি সৃষ্টি হয়ে গেছে, যারা তাদের হাজার হাজার কোটি টাকা তারা বিদেশের ব্যাংকে জমা করেছে, কানাডা মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম করেছে, বিয়ে শাদির বাজার করতে তাদের ব্যাংকক দুবাই না গেলে চলছে না, সর্দিকাশি হলেও তারা চলে যাচ্ছে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথে কিংবা পুনেতে। এইভাবে টাকা চলে যাচ্ছে দেশের বাইরে, তা দিয়ে লাভবান হচ্ছে অন্যরা। দেশকে রক্ষা করতে হলে আমাদেরকে চিকিৎসা, শিক্ষা, বিনোদন, কেনাকাটা ইত্যাদি খাতে বিদেশে খরচ করার প্রবণতা একদম বন্ধ করতে হবে।
চতুর্থ প্রস্তাব:
এলিট (অভিজাত) শ্রেণিকে সাধারণ মানের জীবনযাপনে অভ্যস্ত করে তুলতে হবে। ব্রিটিশদের অনুকরণে ব্রিটিশ লর্ডরা যে মানের জীবনযাপন করতেন আমাদের অনেক আমলা, আইনপ্রণেতাও (এমপি) সেই মানের জীবনযাপন করেন। কিন্তু আমাদের মত দরিদ্র দেশের এলিট শ্রেণিকে এটা করা সাজে না। কারণ আমাদের মনে রাখতে হবে, ব্রিটিশ তথা পশ্চিমা সভ্যতা আর আমাদের ইতিহাস ভিন্ন। এক সময় আমরা ধনেজনে সমৃদ্ধ ছিলাম। সেই ধনরাশি দেখে লোভাতুর ইউরোপীয় জাতিগুলো আমাদেরকে ছলে বলে কৌশলে পদানত করেছে।
তারপর দীর্ঘ দুইশ বছর শোষণ করে সম্পদশালী একটা উপমহাদেশকে প্রায় ফকির বানিয়ে, ৪/৫ টা মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষ দেখিয়ে, কোটি কোটি মানুষের প্রাণহানী করে, মগজে সাদারাই সেরা (White Supremacy) এই বিশ্বাস এবং আত্মদৈন্যের গ্লানি ও হীনম্মন্যতা ঢুকিয়ে দিয়ে গেছে। এই উপমহাদেশ থেকে চুরি করা সম্পদের পাহাড়ে বসে তাদের রাজারানী, মন্ত্রী, লর্ড, সিনেটরদের যে বিলাসিতা সাজে, আমাদের তা সাজে না। আমাদের অত টাকা নেই যা দিয়ে আমাদের নেতাদেরকে আমরা সেইভাবে রাখতে পারি। আমাদের নেতারা সেটা না বুঝে দরিদ্র প্রজাদের উপর দিন দিন আরো ঋণের বোঝা করের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। উপনিবেশযুগের মতই শোষণ করছে নিজ স্বাধীন দেশের মানুষকে।
কৃষক শ্রমিক জনতার কষ্টের টাকায় এ দেশ চলে। এদেশের কোটি কোটি তরুণ তরুণী জন্মভূমির মায়া ত্যাগ করে বছরের পর বছর বিদেশে পড়ে আছে। ওদের টাকায় এ দেশ চলে।
পোশাক শিল্প কারখানায় চাকরি করে লক্ষ লক্ষ নারী পুরুষ তিলে তিলে তাদের জীবন শেষ করে দিচ্ছে। সেই গার্মেন্টেস শ্রমিকদের আয় দিয়েই এ দেশ চলে। তাই আমাদের এলিট শ্রেণির এই জঘন্য বিলাসিতা মানায় না। দেশকে রক্ষা করতে হলে অতি সত্বর এই আত্মপ্রচঞ্চনা থেকে তাদের বেরিয়ে আসতে হবে। ন্যূনতম সাধারণ মানের জীবনযাপনে তাদেরকে অভ্যস্ত হতে হবে।
পঞ্চম প্রস্তাব:
দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।
ষষ্ঠ প্রস্তাব:
ধর্মকে ব্যবহার করে ব্যবসা, অপরাজনীতি, কায়েমি স্বার্থ উদ্ধার করা, সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেওয়া, গুজব-হুজুগ সৃষ্টি করা বন্ধ করতে হবে। যেহেতু এই দেশের প্রায় ৯০% জনসংখ্যা মুসলমান, তাদের ধর্মানুভূতিকে ব্যবহার করে, ঈমানকে হাইজ্যাক করে বারবার এদেশে সন্ত্রাসী কর্মকা- ঘটানো হয়েছে। কেউ তাদের ঈমানকে ব্যবহার করে রাজনীতি করেছে, কেউ জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটিয়েছে, কেউ কাড়ি কাড়ি টাকা কামিয়েছে। ধর্মকে আশ্রয় করে তাদের এই রোজগারের পরিমাণ এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে সরকার একে আয়করের আওতায় আনারও পরিকল্পনা নিয়েছে। তারা ওয়াজের মঞ্চে বসে তাদের প্রতিপক্ষকে বেআইনী হুমকি দিচ্ছে, প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে, হুজুগ গুজব ছড়িয়ে ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করছে।
এগুলো বন্ধ করার উপায় একটাই, ইসলামের প্রকৃত ব্যাখ্যা আল্লাহ রসুলের ইসলামের প্রকৃত রূপ জনসম্মুখে তুলে ধরতে হবে। তাহলেই মানুষ পরিষ্কার বুঝতে পারবে ইসলামের উদ্দেশ্য কী, রসুল কেন এসেছেন, কোনটা হক কোনটা বাতিল, কোনটা সত্য কোনটা মিথ্যা, কোনটা আল্লাহর হুকুম আর কোনটা ধর্মব্যবাসয়ীদের বানানো শরিয়াহ, কোনটা রাসুলুল্লাহর নির্দেশ আর কোনটা মিথ্যা ফতোয়া। এটা যখন জনগণের সামনে পরিষ্কার হবে তখন আর কেউ তাদের ঈমানকে হাইজ্যাক করতে পারবে না। ইসলামের প্রকৃত রূপ, প্রকৃত ইতিহাস ও আদর্শ জাতির সামনে তুলে ধরে জনসচেতনতা সৃষ্টির কাজটি আমরা করছি। এ লক্ষ্যে আমরা দেশজুড়ে লক্ষ লক্ষ পথসভা, জনসভা, সেমিনার, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠান করেছি, পত্রিকা প্রকাশ, বই-হ্যান্ডবিল প্রচার, অনলাইন মাধ্যমসহ যতভাবে সম্ভব প্রচারাভিযান চালিয়ে যাচ্ছি।
এই সংকটের সুযোগ নিয়ে অনেকে চেষ্টা করবে লুটতরাজ করতে, পণ্য মজুদ করে, নানা উপায়ে স্বার্থ হাসিল করতে। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রকারীরা হয়ত চেষ্টা করবে বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য। কিন্তু বাংলাদেশের ষোলো কোটি মানুষের দায়িত্ব আছে দেশটাকে রক্ষা করার জন্য। এ জাতীয় জাতিবিনাশী কর্মকাণ্ড ঘটার আগেই এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।
পরিশেষ বলতে চাই, এই ভয়াবহ অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় উগ্রবাদের সঙ্কটগুলি দূর করানোর জন্য আর পারস্পরিক দোষাদোষি নয়, হানাহানি নয়, দাঙ্গা নয়, বিক্ষোভের নামে জ্বালাও পোড়াও নয়, এগুলো করলে আমাদেরই ক্ষতি হবে। আমরা আবারও পঞ্চাশ বছর পিছিয়ে যাব। এই সংকটকালে ভয় পেয়ে কেউ কেউ হয়ত দেশ ছেড়ে পালাবে, কেউ আবার সুযোগ বুঝে দেশে ঢুকবে। কিন্তু আমাদের দেশের জনগনের মুক্তি হবে না। সেই মুক্তির জন্য আসলে কী করণীয় সেই রূপরেখা হেযবুত তওহীদ তুলে ধরছে। আমরা দেশকে রক্ষার প্রস্তাব নিয়ে ময়দানে আছি। আমরা সবসময় জাতির কল্যাণে কথা বলেছি। আমরা বলেছি প্রয়োজনে বাংলাদেশের মাটিতে জীবন দেব, তবু দেশ ছেড়ে পালাব না, বাংলাদেশকে ইরাক সিরিয়া আফগানিস্তান হতে দেব না ইনশাল্লাহ।
এই ভূমি সত্যের ভূমি। রসুলাল্লাহ (সা.) ও তাঁর সাহাবিরা রক্ত দিয়ে, খেয়ে না খেয়ে, পেটে পাথর বেঁধে, গাছের লতাপাতা খেয়ে মদিনাকে রক্ষা করেছেন, কারণ মদিনা ছিল সত্যের ভূমি। ঠিক তেমনি বাংলার মাটিতে আমরা সেজদা করি, এই মাটিতে আমাদের পূর্বপুরুষের অস্থি’ মজ্জা মিশে আছে, এ দেশের আলো বাতাসে আমরা বেড়ে উঠেছি। এই মাটিতে আমাদের ভবিষ্যৎ। তাই এ দেশকে আমরা ধ্বংস হতে দিতে পারি না। এখান থেকে আমরা যদি উদ্বা¯‘ হই, তাহলে আমাদের কোথাও দাঁড়ানোর জায়গা থাকবে না। তাই আমরা বাংলাদেশকে ধ্বংস হতে দেব না। এই অঙ্গীকার আমরা হেযবুত তওহীদ করেছি। আমরা আপনাদেরকেও আহ্বান করছি, আসুন একটা কথার উপর ঐক্যবদ্ধ হই, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা যাবতীয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে পুরো জাতি ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তুলি।
যদি ঐক্যবদ্ধ হতে পারি, ইনশা’আল্লাহ হলফ করে বলতে পারি, এই সংকট আমরা মোকাবেলা করতে পারব। আমাদের কাউকে না খেয়ে মরতে হবে না, বিনা চিকিৎসায় মরতে হবে না, কেউ বস্ত্রের অভাবে কষ্ট পাবে না, শিক্ষা থেকে কেউ বঞ্চিত হবে না। এতটুকু নিশ্চয়তা আমরা দিতে পারি। ঐক্যবদ্ধ জাতিসত্ত্বা গড়ে তুলতে পারলে সাম্রাজ্যবাদী অস্ত্রব্যবসায়ী পরাশক্তিধর সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্রগুলোর লোলুপদৃষ্টি থেকে আমাদের এই প্রিয় জন্মভূমি নিরাপদ থাকবে। আল্লাহও তখন আমাদেরকে সাহায্য করবেন।
সময় বেশি বাকি নেই, তাড়াতাড়ি হেযবুত তওহীদের আহ্বানে সাড়া দিন। আল্লাহ আমাদেরকে সামগ্রিক পরিস্থিতি উপলব্ধি করার এবং সত্যের পথে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার তওফিক দান করুন।

প্রস্তাবক: এমাম, হেযবুত তওহীদ
ফোন: ০১৭১১০০৫০২৫, ০১৭১১৫৭১৫৮১, ০১৬৭০১৭৪৬৪৩
ইমেইল: [email protected]

14/07/2022

ধর্মব্যবসায়ীদের প্রতি হিজবুত তাওহিদের ইমামের প্রশ্ন: এ তোমাদের কেমন বিচার!

ঐক্য ছাড়া ইসলাম হয় না◆ মোহাম্মদ আসাদ আলী---------------------------আল্লাহর দেওয়া জীবনব্যবস্থার বিপরীতে মানুষ আজ পর্যন্ত ...
13/07/2022

ঐক্য ছাড়া ইসলাম হয় না
◆ মোহাম্মদ আসাদ আলী
---------------------------
আল্লাহর দেওয়া জীবনব্যবস্থার বিপরীতে মানুষ আজ পর্যন্ত যত তন্ত্র-মন্ত্র, বাদ-মতবাদ নিজেরা তৈরি করেছে, সবগুলোই অনিবার্যভাবে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ও হিংসা-বিদ্বেষকে উস্কে দিয়েছে। অন্যদিকে ইসলামের আগমন হয়েছে মানুষে মানুষে অন্যায় ভেদাভেদ মুছে ফেলে সমগ্র মানবজাতিকে তওহীদের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ করা ও ঐক্যবদ্ধ রাখা। কাজেই ইসলামের যত শিক্ষা, আমল, আদেশ, নিষেধ রয়েছে, সবগুলোই ঐক্যমুখী। ইসলামে ঐক্যের গুরুত্ব এত বেশি যে, বলা যায় ঐক্য ছাড়া আদতে ইসলামই হতে পারে না। যেখানে ঐক্য নেই সেখানে ইসলাম থাকতে পারে না, আবার যেখানে ইসলাম থাকবে সেখানে ঐক্য সৃষ্টি হবেই হবে। আসুন, এই প্রবন্ধে আমরা পবিত্র কোর’আনের আলোকে জানার চেষ্টা করি মো’মেনদের মধ্যে ঐক্য রক্ষার্থে আল্লাহ কী কী ব্যবস্থা রেখেছেন।
১.
বস্তুত ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া মো’মেন হওয়াই অসম্ভব। ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হলো তওহীদ (এই অঙ্গীকার করা যে, জীবনের সর্বাঙ্গনে আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে হুকুমদাতা, বিধানদাতা বলে মানবো না)। একদল মানুষ যখন তওহীদের ভিত্তিতে সমাজ গড়ার জন্য ঐক্যবদ্ধ হন, তখন তাদেরকে বলা হয় মো’মেন।
২.
তওহীদ গ্রহণের পর মো’মেনের প্রধান দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায় তওহীদভিত্তিক দ্বীনকে সমাজে প্রতিষ্ঠা করা। আর তা করতে গেলেই দেখা যায়, আল্লাহ মো’মেনদেরকে দ্বীন প্রতিষ্ঠার যে কর্মসূচি দান করেছেন তার পাঁচটি দফার প্রথম দফাই হলো ঐক্য। হাদিসের ভাষ্যমতে- কোনো ব্যক্তি যদি তওহীদভিত্তিক ঐক্যবন্ধনী থেকে এক বিঘত দূরে সরে যায় তাহলে তার গলদেশ থেকে ইসলামের রজ্জু খুলে যাবে। সে নামাজ পড়লেও, রোজা রাখলেও, নিজেকে মুসলিম বলে দাবি করলেও জাহান্নামের জ্বালানি পাথর হবে (আল হারিস আল আশয়ারী (রাঃ) থেকে আহমদ, তিরমিযি, বাব উল এমারাত, মেশকাত)। তাহলে দেখা যাচ্ছে তওহীদ গ্রহণ ও তওহীদ প্রতিষ্ঠা- দু’টোরই মূল শর্ত ঐক্য।
৩.
ঐক্যবদ্ধ হতে হবে সেটা বোঝা গেল, এখন কথা হলো সেই ঐক্য কেমন হবে? আল্লাহ পবিত্র কোর’আনে তা বলে দিয়েছেন। মো’মেনদেরকে বলেছেন সীসা গলানো প্রাচীরের মতো ঐক্যবদ্ধ থাকতে। (সফ: ৪) সীসা গলানো প্রাচীরে একটা সুঁই ঢোকানোর মতোও ছিদ্র থাকে না। আল্লাহ মো’মেনদেরকে আরও বলেছেন আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরতে ও পরস্পর বিচ্ছিন্ন না হতে। (ইমরান: ১০৩) তাছাড়া অতীতের জাতিগুলোর অনৈক্য-সংঘাত ও তার পরিণতির উদাহরণ দিয়ে আল্লাহ সতর্ক করেছেন, ওইসব জাতির মতো দলে-উপদলে বিভক্ত হওয়া যাবে না। (ইমরান: ১০৫)
৪.
শুধু ঐক্যবদ্ধ হয়েই নিশ্চিন্তে থাকা যায় না, প্রয়োজন ঐক্য বিনষ্টের কারণগুলো চিহ্নিত করে নির্মূল করা। তাই ঐক্য নষ্ট হতে পারে যেসব কারণে তা নিয়েও ইসলামে রয়েছে ব্যাপক সতর্কতা। ঐক্য নষ্ট হবার কারণ প্রধানত দুইটি। একটি হলো গীবত, আরেকটি হলো মতভেদ। গীবতের ব্যাপারে আল্লাহ কোর’আনে কী ভয়াবহ কথা বলেছেন তা সবারই জানা। আল্লাহ মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন গীবত বা পরনিন্দাকে (হুজরাত: ১২)। আর মতভেদ সৃষ্টি হতে পারে যেসব কারণে, তার কোনো স্থানই আল্লাহ এই দ্বীনে রাখেননি। সাধারণত মতভেদ হবার আশঙ্কা থাকে কখন? কোনো বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত বিশ্লেষণ, চুলচেরা বিশ্লেষণ ইত্যাদি করলে। মৌলিক বা প্রধান বিষয়কে যথেষ্ট মনে না করে সেটার খুঁটিনাটি ও অপ্রধান অংশ নিয়ে সূক্ষ্ম বিচার-বিশ্লেষণ আরম্ভ করলে। এক কথায়, যতটুকু করতে বলা হয়েছে ততটুকুতে সীমাবদ্ধ না থেকে বাড়াবাড়িতে লিপ্ত হলে। তাই আল্লাহ দ্বীন নিয়ে বাড়াবাড়িকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছেন (নিসা: ১৭১, মায়েদা ৭৭)। আর মতভেদ করে যারা দ্বীনকে কঠিন করে তোলে ও জাতিকে খণ্ড-বিখণ্ড করে, তাদের প্রাপ্য পরকালে বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। (আনআম: ১৫৯)
৫.
ঐক্য রক্ষার ব্যাপারে সতর্ক থাকার পরও বাস্তব জীবনে রাজনীতি, অর্থনীতি, বিচারিক, সামাজিক ইত্যাদি বিষয়ে জনগণের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হতে পারে। সেক্ষেত্রে কী করণীয় তার নীতিমালাও আল্লাহ জানিয়ে দিয়েছেন। সেটা হলো- কোনো বিষয়ে যদি মতভেদ সৃষ্টি হয়েই যায়, সেটাকে বাড়তে না দিয়ে আল্লাহ ও রসুলের কাছে সোপর্দ করে দিতে হবে। (নিসা: ৫৯) বর্তমানে রসুলাল্লাহ সরাসরি আমাদের মাঝে উপস্থিত নেই, তার মানে জাতির যিনি ইমাম থাকবেন বা কর্তৃপক্ষ থাকবেন, তার বরাবর সোপর্দ করে দিতে হবে এবং তারপর ব্যাপারটা আল্লাহর উপর ছেড়ে দিতে হবে। বিষয়টিকে দলাদলি-কোন্দলের পর্যায়ে নেওয়া যাবে না।
৬.
আল্লাহর রসুল এমন একজন রিপুজয়ী মহামানব ছিলেন যাকে দয়া, করুণা ও উদারতার মূর্ত প্রতীক বললে অত্যুক্তি হয় না। কিন্তু এই রিপুজয়ী মহামানবকেও আমরা ইতিহাসে দেখতে পাই কখনও কখনও রেগে অগ্নিশর্মা হয়ে যেতে। খেয়াল করলে দেখা যায় যেসব কারণে জাতির মধ্যে ঐক্য নষ্ট হবার আশঙ্কা থাকে, শুধু তেমন কোনো ঘটনা দেখলেই আল্লাহর রসুল রেগে লাল হয়ে যেতেন। যেমন, হাদিসে পাওয়া যায় কুরআনের আয়াতের অর্থ নিয়ে দু’জন সাহাবীকে তর্ক-বিতর্ক করতে দেখে রসুল (সা.) রেগে লাল হয়ে গিয়েছিলেন, এছাড়া একজন সাহাবী খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে অতিরিক্ত প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করায় রসুল (সা.) রেগে লাল হয়ে গিয়েছিলেন। এই সুন্নাহ পুরো জাতি অনুসরণ করলে, অর্থাৎ কাউকে ঐক্য ভঙ্গের কাজ করতে দেখলেই তাৎক্ষণিক বাকি সবাই বাধা দিলে ঐক্য ভঙ্গের আশঙ্কাই থাকবে না।
৭.
কেবল মুখে মুখে ঐক্যের উপদেশ দিলেই তো সমাজে সীসা গলানো প্রাচীরের মতো ঐক্য তৈরি হয়ে যাবে না। ঐক্যের চেতনা মানুষের মনে, মগজে, চিন্তায়, এমনকি অবচেতন মনেও গেঁথে দিতে হবে, কায়েম করতে হবে। সেটার উপায় কী? সেই উপায়ও আল্লাহ বলে দিয়েছেন, কারণ আল্লাহ হলেন সোবাহান, পরিপূর্ণ, নিখুঁত, নির্ভুল। তিনি ঐক্যের নির্দেশ দিবেন কিš‘ ঐক্য সৃষ্টির উপায় বলবেন না তা হতে পারে না। উপায় হিসেবে আল্লাহ নির্ধারণ করেছেন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, যার প্রধান কাজ হলো মো’মেনদের চরিত্রে, চিন্তায় ও অবচেতন মনে ঐক্য, শৃঙ্খলা ও আনুগত্যের গুণাবলি কায়েম করা, প্রতিষ্ঠা করা। দিনে পাঁচবার মসজিদে একত্রিত হয়ে (ঐক্যবদ্ধ হয়ে), নিজেদের মধ্যেকার সমস্ত বিভেদ-মনোমালিন্য ভুলে, একজন নেতার পেছনে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে সালাহ কায়েম করার মাধ্যমে মো’মেনদের চরিত্রে ঐক্যের চেতনা দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। ফলে সর্বদা তাদের মনে গেঁথে থাকে একটি অমোঘ সত্য- আমি একা নই, বিচ্ছিন্ন নই, নেতৃত্বহীন নই, উদ্দেশ্যহীন নই, আমার জাতি আছে, সঙ্গী-সাথী আছে, নেতা আছে, নেতার আনুগত্য করার দায়বদ্ধতা আছে।
মোদ্দাকথা, মানুষের তৈরি ব্যবস্থায় ঐক্য সৃষ্টি করা যতটা কষ্টসাধ্য কাজ, আল্লাহর দেওয়া ব্যবস্থায় তেমনই কঠিন কাজ হলো অনৈক্য সৃষ্টি করা। কারণ, আল্লাহর দেওয়ার ব্যবস্থার ধাপে ধাপে, স্তরে স্তরে রয়েছে ঐক্যের উপাদান। আল্লাহর দেওয়া ব্যবস্থার কাঠামোটাই এমন, যেখানে সবার উপরে থাকে তওহীদ তথা আল্লাহর সার্বভৌমত্ব, যা পুরো জাতিকে ঐক্যসূত্রে গেঁথে রাখে। তারপরে থাকেন একজন ইমাম, যিনি হন অবিসংবাদিত, তারপর থাকেন ইমাম কর্তৃক নিযুক্ত আমিরগণ।
কোনো বিষয়ে ইমামের সিদ্ধান্ত হয়ে গেলে, মুহূর্তেই সেই সিদ্ধান্ত আমিরগণের মাধ্যমে পুরো জাতির কাছে পৌঁছে যায়, আর সঙ্গে সঙ্গে পুরো জাতি ঝাঁপিয়ে পড়ে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য। মানি না, মানব না- এই স্লোগানের সুযোগ, প্রয়োজন বা ইচ্ছা কোনোটাই জনগণের থাকে না। কোনো পদের জন্য, অর্থের জন্য, ক্ষমতার জন্য, খ্যাতির জন্য কেউ জাতিকে বিভক্ত করার চেষ্টা করলে, জাতির ঐক্যে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করলে, জনগণই তাকে “মুনাফিক” হিসেবে চিহ্নিত করে ফেলে।
এই ব্যবস্থার চেয়ে উত্তম ব্যবস্থা আর কী হতে পারে?
[লেখক: সদস্য, সাহিত্য বিভাগ, হেযবুত তওহীদ। যোগাযোগ: ০১৬৭০১৭৪৬৪৩, ০১৭১১০০৫০২৫, ০১৭১১৫৭১৫৮১]

09/07/2022

শান্তি আসবে কোন পথে? জবাব দিলেন হিজবুত তাওহিদের ইমাম জনাব Hossain Mohammad Salim !

শহীদী জামে মসজিদে জুমার সালাতে হেযবুত তওহীদের এমাম জনাব হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে এসেছেন মুসল্লি শহীদ...
08/07/2022

শহীদী জামে মসজিদে জুমার সালাতে হেযবুত তওহীদের এমাম জনাব হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে এসেছেন মুসল্লি শহীদী জামে মসজিদে জুমা কায়েম করতে ও হেযবুত তওহীদের মাননীয় এমামের খুতবা শুনতে।

08/07/2022

ইমাম মাহদী কি চলে গেছেন_
উত্তর দিলেন হেযবুত তওহীদের মাননীয় এমাম জনাব, Hossain Mohammad Salim

প্রচলিত অর্থে ধর্ম বলতে যেটা বোঝানো হয় ইসলাম মোটেও তা নয়। ইসলাম হলো দীন তথা পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা (Complete code of lif...
08/07/2022

প্রচলিত অর্থে ধর্ম বলতে যেটা বোঝানো হয় ইসলাম মোটেও তা নয়। ইসলাম হলো দীন তথা পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা (Complete code of life). ব্যক্তিগত জীবন কীভাবে পরিচালিত হবে সেটা যেমন ইসলামে বলা আছে ঠিক তেমনি জাতীয় জীবনে অর্থনীতি, সমরনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, আইন-কানুন, দণ্ডবিধি, শ্রমব্যবস্থা ইত্যাদি সমস্ত কিছুর মৌলিক নীতিমালা ঠিক করে দেওয়া আছে এই দীনে। এ কারণেই মহান আল্লাহ বলেছেন, “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের উপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য দীন হিসেবে ইসলামকে মনোনীত করলাম।” (সুরা মায়েদা- ৩)।
এই দীনটি পূর্ণরূপে প্রতিষ্ঠিত হলে এর ফল হিসাবে সমাজে নেমে আসবে অবারিত শান্তি (ইসলাম)। আর যদি এটি আংশিকভাবে কেবল পালন করা হয় তবে সেই শান্তি কখনোই আসবে না। কাজেই আংশিক ইসলাম কখনোই ইসলাম নয়। আংশিকভাবে (শুধু ব্যক্তিজীবনে অথবা শুধু জাতীয় জীবনে অথবা শুধু সমরনীতিতে) ইসলাম মানার অর্থ হলো শেরক করা। এটা যারা করবে তাদের দুনিয়ার জীবনে থাকবে লাঞ্ছনা, গঞ্জনা আর আখেরাতে থাকবে কঠিন শাস্তি। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেছেন- “তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশ বিশ্বাস করো এবং কিছু অংশ প্রত্যাখ্যান করো? সুতারং তোমদের মধ্যে যারা এরূপ করে তাদের প্রতিফল পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনা, গঞ্জনা এবং কেয়ামতের দিন তারা কঠিনতম শাস্তির দিকে নিক্ষিপ্ত হবে।“ (সুরা আল-বাকারা: ৮৫)
আজ পৃথিবীর সর্বত্র এই আংশিক ইসলাম মেনে শেরক করা হচ্ছে, এ কারণে মহান আল্লাহও মুসলিম নামক এই জাতির উপর লাঞ্ছনা, গঞ্জনা দিয়ে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, তোমাদের আখেরাতেও কঠিন শাস্তির দিকে নিক্ষেপ করা হবে। তবু এই জাতির অধিকাংশ মানুষই নির্বিকার। দীন হিসাবে ইসলামকে সামগ্রিক জীবনে প্রতিষ্ঠা করার তেমন কোনো প্রচেষ্টা নেই।

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ দীন বা জীবনব্যবস্থা (সুরা মায়েদা: ৩) যা মানুষের বাকি আয়ুষ্কালে পৃথিবীর সকল জনপদে শান্তি আনতে সক্ষম।...
08/07/2022

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ দীন বা জীবনব্যবস্থা (সুরা মায়েদা: ৩) যা মানুষের বাকি আয়ুষ্কালে পৃথিবীর সকল জনপদে শান্তি আনতে সক্ষম। এই জীবনব্যবস্থা যদি প্রতিষ্ঠা না করা হয় তাহলে এটা আল্লাহর পাঠানোর কোনো মানে থাকে না। তাই তিনি তাঁর শেষ নবীর উপর দায়িত্ব দিয়েছিলেন একে পৃথিবীতে বিরাজিত সকল জীবনব্যবস্থার উপর বিজয়ী করার জন্য (সুরা তওবা- ৩৩, সুরা ফাতাহ: ২৮, সুরা সফ: ৯)।
কিন্তু এত বড় কাজ তো একজন মানুষের জীবনে করে যাওয়া সম্ভব না। তাই তিনি আল্লাহর দেওয়া এই দায়িত্ব তাঁর অবর্তমানে পালন করার জন্য একটি উম্মাহ বা জাতি গঠন করলেন। এই জাতিটিকে বলা হয় উম্মতে মোহাম্মদী। জাতির একটি লক্ষ্য অবশ্যই থাকতে হয়। এই জাতির লক্ষ্য হচ্ছে সর্বাত্মক সংগ্রাম করে সমগ্র পৃথিবীতে আল্লাহর দেওয়া দীন প্রতিষ্ঠা করে ন্যায়, শান্তি, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করা।
জন্মসূত্রে কেউ উম্মতে মোহাম্মদী হতে পারে না। এই মহান দায়িত্ব পালনের জন্য যারা নিজেদের জীবন ও সম্পদকে কোরবান করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ তারাই এ জাতির সদস্য। তাই নামের আগে মোহাম্মদ লিখলেই উম্মতে মোহাম্মদী হওয়া সম্ভব নয়, ঠিক যেভাবে মুক্তিযুদ্ধ না করে কেউ মুক্তিযোদ্ধা হতে পারে না।
মুজিবকোট পরেই যেমন কেউ মুক্তিবাহিনী হতে পারে না তেমনি ব্যক্তিগতভাবে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করেও কেউ উম্মতে মোহাম্মদী হতে পারে না। এজন্য জাতির নেতা রসুলাল্লাহ (সা) যে লক্ষ্যে জাতি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সেই লক্ষ্যকে ধারণ করতে হয়, সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য সংগ্রাম করতে হয়।
বর্তমানে উম্মতে মোহাম্মদী দাবিদার এই জনগোষ্ঠীকে আর জাতি বলার কোনো সুযোগ নেই। তারা নিছক আর দশটা উপাসক সম্পদ্রায়ের একটি। কিন্তু জাতিটিকে যখন সৃষ্টি করা হয়েছিল তখন কিন্তু এমন ছিল না। এখন এই জনগোষ্ঠীর সদস্যরা তাদেরকে কেন একটি জাতি হিসাবে, উম্মাহ হিসাবে সৃষ্টি করা হয়েছিল সেটা মনে করতে পারে না। সেই লক্ষ্যকে যদি স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় তারা প্রাণপণে সেটা অস্বীকার করে, কারণ তাতে তাদের ব্যক্তিগত উপাসনা করে বিনা পরিশ্রমে, জীবন-সম্পদ না বিলিয়ে, বিনা ঝুঁকিতে জান্নাতে যাওয়ার সুযোগটি হারাতে হবে।
তবু স্মরণ করিয়ে দেওয়া কর্তব্য কারণ তাদের এই আত্মপ্রবঞ্চনার ফল তাদেরকে যে কেবল জাহান্নামে নিয়ে যাবে সেটাই নয়, এর ফলে গোটা মানবজাতি নানারকম ভুল জীবনব্যবস্থার চর্চা করতে করতে কেয়ামত পর্যন্ত অশান্তির আগুনে জ্বলতে থাকবে। মানবতা ভূলুণ্ঠিত থাকবে, যুদ্ধ-রক্তপাত নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকবে। আর যে জন্য আল্লাহ একটি নিখুঁত জীবনব্যবস্থা প্রেরণ করলেন সেই উদ্দেশ্যই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।

Hezbut Tawheed পেজ থেকে নেওয়া।

29/06/2022

এই পেজ থেকে আবার পোস্ট আপলোড করা হবে; সবাই লাইক, কমেন্ট দিয়ে সঙ্গেই থাকবেন।

রসুলাল্লাহ (সা.) পৃথিবীতে এসেছিলেন কেন?মোহাম্মদ আসাদ আলী...................................................................
14/05/2022

রসুলাল্লাহ (সা.) পৃথিবীতে এসেছিলেন কেন?
মোহাম্মদ আসাদ আলী................................................................................

১৪০০ বছর আগে জাহেলিয়াতের নিকষ কালো অন্ধকার দূর করতে হেদায়াতের নুর নিয়ে আরবভূমিতে আবির্ভূত হয়েছিলেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানব, রহমাতাল্লিল আলামিন, রাসুলে করিম হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সা.)। লেখার শুরুতেই কোটি কোটি মুসলমানের হৃদয়ের স্পন্দন, আত্মার আত্মীয়, দোজাহানের অকৃত্রিম বন্ধু, সেই মহামানবের প্রতি হাজারও সালাম ও দরুদ পেশ করছি। আল্লাহ যেন আমাদেরকে তাঁর প্রিয় রসুলের সান্নিধ্য নসিব করেন।
আখেরী নবী মোহাম্মদ (সা.) যে আল্লাহর প্রেরিত সত্যনবী ছিলেন এবং তিনি সারাজীবন মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করেছেন তা নিয়ে আমাদের মুসলিম সমাজে কোনো সন্দেহ নেই বা দ্বিধা নেই, এ ব্যাপারে সবাই একমত। এ বিষয়েও মোটামুটি একমত যে, রসুল (সা.) সারাজীবন কী কী কাজ করেছেন। কিন্তু যখনই প্রশ্ন ওঠে রসুলাল্লাহর সারাজীবনের কর্মকাণ্ডের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কী ছিল, তখনই শুরু হয় হাজারও মতভেদ! তার মানে রসুল (সা.) সম্পর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিই মুসলিমরা ভুলে গেছে বা অস্পষ্টতার মধ্যে আছে। এর চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক বিষয় আর কী হতে পারে?
আমরা এমন একদল অনুসারী, যারা তাদের বিপ্লবী নেতা কীভাবে দাঁত মাজতেন, কীভাবে ঘুমাতেন, কীভাবে গোসল করতেন, কীভাবে খাবার খেতেন, কীভাবে পোশাক পরতেন, কীভাবে চুল দাঁড়ি রাখতেন ইত্যাদি সবকিছু জানি, শুধু জানি না তিনি সারাজীবন কষ্ট করে যে বিপ্লব সাধন করেছেন সেটার উদ্দেশ্য কী ছিল? হায় পরিহাস!
রসুলাল্লাহ (সা.) এর সামগ্রিক জীবন সম্পর্কে সম্যক ধারণা না থাকায় অর্থাৎ আকীদা না জানায় একেকজন একেকভাবে তাঁর সম্পর্কে ধারণা করে নিচ্ছেন। যেমন, আল্লাহর রসুল সশস্ত্র জিহাদ করেছেন। ব্যস, এই উদ্ধৃতি দিয়ে একদল মানুষ জিহাদের নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে পড়ছেন। আল্লাহর রসুল কেন জিহাদ করেছেন, কখন করেছেন ইত্যাদি আকীদা তাদের অজানা। আরেকদল ইতিহাসের পাতা উল্টে দেখলেন যে, ‘আল্লাহর রসুল রাষ্ট্রচালনা করেছেন।’ ব্যস, তারা পাশ্চাত্যের তৈরি প্রক্রিয়ায় রাজনীতি শুরু করে দিলেন।
ওদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ নামাজ, রোজা, তসবিহ, তাহলিল, জিকির আজকার ইত্যাদিকেই ইসলাম বলে সাব্যস্ত করে নিয়েছে, জীবনের উদ্দেশ্য বলে ধরে নিয়েছে। তাদের আবার জিহাদ, রাষ্ট্র, আইন, কানুন, দণ্ডবিধি, অর্থনীতি ইত্যাদি নিয়ে মাথাব্যথা নেই, ওগুলো তাদের ধারণারও বাইরে। আল্লাহর রসুল নামাজ পড়েছেন, উম্মাহকে নামাজে উৎসাহ দিয়েছেন, কাজেই তাদের ধারণা শুধু নামাজ পড়েই তারা এত সওয়াব কামিয়ে ফেলবেন যে, জান্নাত অবধারিত হয়ে যাবে। অন্য কিছুর দরকার নেই।
এই যে আল্লাহর রসুলের ঘটনাবহুল জীবনের খাতা থেকে একেকজন একেক পাতা ছিঁড়ে নিয়ে সেটাকেই আল্লাহর রসুলের সংগ্রামী জীবনের একমাত্র দিক বলে গ্রহণ ও প্রচার করছেন, এটা সম্ভব হচ্ছে কারণ যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে আল্লাহর রসুল সংগ্রাম করেছিলেন, জাতির সামরিক, অর্থনৈতিক, আধ্যাত্মিক, বিচারিক ইত্যাদি বিভিন্ন অঙ্গনে গতিশীল পদচারণা করেছিলেন, সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য জাতি হারিয়ে ফেলেছে। ফলে সামগ্রিকভাবে আল্লাহর রসুলের কর্মকাকাণ্ড বোঝা তাদের পক্ষে সম্ভব না হওয়ায় তারা রসুলাল্লাহকে জানছেন খণ্ডিতভাবে এবং সেটাকেই রসুলাল্লাহর আগমনের লক্ষ্য বলে চালিয়ে দিচ্ছেন।
একজন মানুষ বলতে আমরা কী বুঝব? মাথা থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত সমগ্রটা নিয়ে একজন মানুষ। যদিও পা তার দেহেরই অঙ্গ কিন্তু দেহ থেকে পা’টা আলাদা করে নিলে সেই পা’কে আর মানুষ বলা যায় কি? যায় না। তেমনি আলাদাভাবে মস্তক, হাত, কান, চোখ ইত্যাদি কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকেই মানুষ বলা যায় না। কিন্তু সেটাই বলা হচ্ছে ইসলামের বেলায়। ইসলামের নামে চলছে বিচিত্র কর্মকাণ্ড, বিচিত্র ধ্যান-ধারণা! একটি শ্রেণির কর্মকাণ্ডের দিকে তাকালে মনে হয় আল্লাহর রসুল এসেছেন মানুষকে শুধু মেসওয়াক করাতে, ডান খাতে শোয়াতে, খাওয়ার পরে মিষ্টি খাওয়াতে।
আরেক দলের দিকে তাকালে মনে হয় আল্লাহর রসুল এসেছেন বিধর্মীদের কতল করতে। কারো কর্মকাণ্ড দেখলে আবার মনে হয় তিনি এসেছেন রাজনীতি শেখাতে। কখনও মনে হয় তাঁর আগমনের উদ্দেশ্য আর কিছুই নয়, সুফি সাধক তৈরি করা। সমাজের অন্যায় অবিচার যাই হোক ওদিকে না তাকিয়ে বিভিন্ন তরিকা ধরিয়ে দিয়ে মানুষকে আত্মার ঘষামাজায় বসিয়ে দেওয়াই তাঁর মূল কাজ ছিল! (নাউজুবিল্লাহ)
এই যে বহুমুখী দৃষ্টিভঙ্গি- এই বহুমুখী দৃষ্টিভঙ্গি ও দিক-নির্দেশনার কারণে জাতি আজ বিভিন্নদিকে ছুটে চলেছে। যারা রসুলের জীবনের হাজারো শিক্ষা থেকে বেছে বেছে মেসওয়াককে গ্রহণ করেছেন কিন্তু কিতালকে বর্জন করেছেন, তারা কিতালকারীদের দুই চোখে দেখতে পারেন না এবং যারা আবার অন্যসব ভুলে শুধু কিতালকে গ্রহণ করেছেন তারা মেসওয়াকধারীদের দেখতে পারেন না। যারা আধ্যাত্মিকতাকে আঁকড়ে ধরেছেন তারা রাজনীতিকারীদের পছন্দ করেন না, তাদেরকে পথভ্রষ্ট মনে করেন এবং যারা রাজনীতিকেই ইসলাম মনে করেন তারা আধ্যাত্মিক চর্চাকারীদের পথভ্রষ্ট, ভণ্ড মনে করেন ও গালমন্দ করেন।
অথচ এটা ঐতিহাসিক সত্য যে, আল্লাহর রসুল যেমন সমস্ত নির্যাতন অপমান গায়ে না মেখে তওহীদের দিকে মানুষকে আহ্বান করেছেন, তেমনি শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধও করেছেন, প্রশিক্ষণ দিয়ে দুর্ধষ যোদ্ধা জাতি তৈরি করেছেন। তিনি ক্ষমার অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, কুসুমের মতো কোমলতা প্রদর্শন করেছেন, আবার পাথরের মতো শক্ত ও পাহাড়ের মত অটল থেকে অপরাধীকে কঠোর দণ্ড দিয়েছেন। তিনি রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার প্রস্তাবকে দুই পায়ে ঠেলে দিয়েছেন, অর্থাৎ প্রচলিত রাজনীতিকে উপেক্ষা করে গেছেন, আবার একটি পর্যায়ে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বও পালন করেছেন, বিচার ফয়সালা করেছেন। শুধু তাই নয়, জাতির আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য বিভিন্ন ধরনের আমলের শিক্ষাও তিনিই দিয়েছেন। প্রশ্ন হচ্ছে, কোনটা কখন কীভাবে এবং কেন?
এই প্রশ্নের উত্তর জানতে হবে। কারণ, এর উত্তর জানাই আকীদা, যেই আকীদা ছাড়া ঈমান ও আমল সমস্তকিছুই নিষ্ফল হয়ে যায়। ইসলামের বহু বিধান রয়েছে- নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাত, জিহাদ, কিতাল ইত্যাদি। মনে করুন এই বিধানগুলোকে একেকটি ফুল। আর ইসলামকে মনে করুন সেই ফুলগুলো দিয়ে তৈরি মালা। ফুলগুলোকে যতক্ষণ না একটি সুতো দিয়ে একত্রে গেঁথে সেই সুতোটি গিঁট দেওয়া হবে ততক্ষণ কি সেটা মালা হতে পারবে? পারবে না। এই সুতোর গিঁটটাই হচ্ছে আকিদা। আমরা বিয়ের ব্যাপারে ‘আকদ’ শব্দটি ব্যবহার করি একজন পুরুষের সাথে একজন নারীর ‘সংযোগ করে দেওয়া’ বোঝাতে।
অর্থাৎ যে জ্ঞান বা ধারণার মাধ্যমে ইসলামের সমস্ত বিধান, সমস্ত বিশ্বাস, সমস্ত রীতি-নীতি এবং আল্লাহর রসুলের সংগ্রামী জীবনের সমস্ত কর্মপ্রক্রিয়া একটি সূত্রে সমন্বিত থাকে সেটাই আকীদা।
আজকে আমাদের সমাজে মসজিদ ভর্তি মানুষ নামাজ পড়ছে, লক্ষ লক্ষ লোক হজ্ব করতে যাচ্ছে, রমজান মাসে রোযা রাখছে, ঈদের দিনে উৎসব করছে, আবার কথিত জিহাদও করছে, কিন্তু এই বিধানগুলোর একটির সাথে আরেকটির কী স¤পর্ক তা কেউ জানে না। কোন আমলের পূর্বশর্ত কোনটা তাও তাদের অজানা। তারা নামাজ পড়ছে কিন্তু নামাজের উদ্দেশ্য অজানা।
লাখ লাখ টাকা খরচ করে হজ্ব করতে যাচ্ছে কিন্তু জানে না হজ্বের উদ্দেশ্য কী। জিহাদের নামে শরীরে বোমা বেঁধে আত্মঘাতী হয়ে যাচ্ছে কিন্তু জানে না জিহাদের উদ্দেশ্য কী। তারা জানে না নামাজের সাথে জিহাদের সম্পর্ক কী, আবার জিহাদের সাথে তওহীদের সম্পর্ক কী। অর্থাৎ ফুল অনেক থাকলেও সেগুলো কেবলই ছিন্নবিচ্ছিন্ন ফুল। সেই ফুল কখনও মালা হয়ে উঠে নি। আর যতক্ষণ এই ফুলগুলো একত্রে গ্রন্থিত হয়ে মালা তৈরি না হয় ততক্ষণ সেটা বিশ্বনবীর ইসলাম হয় না। এ কারণে আমাদের সমাজে ইসলাম বলে যেটা পালিত হচ্ছে বাইরে থেকে দেখতে সেটা আল্লাহ-রসুলের প্রকৃত ইসলামের মতো মনে হলেও আদতে সেটা আল্লাহ-রসুলের প্রকৃত ইসলাম নয়, তার বিপরীত একটা কিছু এবং এই জাতি তাদের বিকৃত ধারণায় আল্লাহর রসুলকে যেমনটা কল্পনা করে থাকে সেটাও ভুল।
আল্লাহর রসুলকে জানতে হলে অবশ্যই আল্লাহর রসুলের আগমনের উদ্দেশ্য ও সংগ্রামী জীবনের আকিদা জানা থাকা অপরিহার্য। সেই সামগ্রিক ধারণা জাতির নেই, আছে বিচ্ছিন্ন-বিক্ষিপ্ত কিছু খণ্ডিত ধারণা যা দিয়ে আল্লাহর রসুলকে বোঝা দুরূহ। খণ্ডিত ধারণা দিয়ে কেন আল্লাহর রসুলকে বোঝা যাবে না, তার আরেকটি উদাহরণ দিচ্ছি। একটি গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ থাকে। যার গাড়ি সম্পর্কে সম্যক ধারণা নেই তাকে যদি গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ দিয়ে সেগুলো সংযুক্ত করতে বলা হয় তিনি কি পারবেন? সাধারণ জ্ঞানেই বোঝা যায়, তিনি ব্যর্থ হবেন।
গাড়ির ইঞ্জিন কোথায় বসবে, গিয়ার বক্স কোথায় বসবে, লুকিং গ্লাস কোথায় বসবে, চাকা কোথায় বসবে, আবার হয়তো কোনো যন্ত্রাংশ গাড়ির অংশই নয়, ক্ষতিকর, সেটা ফেলে দিতে হবে- এসব কিছুই তিনি জানেন না বিধায় যন্ত্রপাতিগুলো সঠিকভাবে স্থাপন করতে পারবেন না এবং চূড়ান্তভাবে একটি গাড়ির যে উদ্দেশ্য থাকে অর্থাৎ মানুষকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া সেই লক্ষ্যও ওই ব্যক্তিকে দিয়ে অর্জিত হবে না। তা কেবল তিনিই পারবেন যিনি গাড়ি সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখেন। ১৩০০ বছরের কালপরিক্রমায় এক আল্লাহ, এক রসুল, এক কিতাবের অনুসারী এক জাতিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা গাড়ির যন্ত্রাংশের মতই ভেঙে আলাদা আলাদা করা হয়েছে এবং শুধু তাই নয়, আজ বিভিন্ন ফেরকা, মাজহাব, তরিকা, দল উপদল ইত্যাদি ওই ভাঙা গাড়ির ভিন্ন ভিন্ন অংশকেই ‘গাড়ি’ মনে করছেন।

গাড়ির যে কাজ সেটা তো লুকিং গ্লাস দিয়ে হাসিল করা যায় না, হোক সেটা গাড়ির অংশ। অথচ সেটাই করার চেষ্টা হচ্ছে। কেউ অতি নিখুঁতভাবে গাড়ির চাকা পরিষ্কার করছেন, ইঞ্জিন পরিষ্কার করছেন, লুকিং গ্লাসের ধুলোবালি মুছছেন, ক্যাসেট প্লেয়ার মেরামত করছেন এবং মনে করছেন খুব সওয়াবের কাজ করা হচ্ছে। কিন্তু সম্যক ধারণা নেই বলে সমস্ত যন্ত্রপাতি সংযুক্ত করে যে গাড়িটির পূর্ণাঙ্গতা দিবেন এবং তারপর সেই গাড়িটি চালিয়ে গন্তব্যস্থলে যাবেন সেটা কেউ করছেনও না, জানছেনও না।
আল্লাহর রসুলের সংগ্রামী জীবনের লক্ষ্য (আকিদা) ভুলে গিয়ে লক্ষ্য অর্জনের বিভিন্ন প্রক্রিয়াকেই আজ লক্ষ্য বানিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তার পরিণতি হয়েছে ভয়াবহ। আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে মুসলমান জাতি। সাম্রাজ্যবাদীরা তাদেরকে টার্গেট করেছে। তাদের দেশগুলো একের পর এক ধ্বংস করে ফেলছে। গণহত্যা চালাচ্ছে। লক্ষ লক্ষ নারী ধর্ষিতা হচ্ছে। কোটি কোটি মুসলমান আজ উদ্বাস্তু। কিন্তু জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে এই আগ্রাসন যে মোকাবেলা করবে, তা করতে চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছে। কোথাও মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারছে না।
এই অবস্থায় জাতির করণীয় ছিল দুইটি- প্রথমত নিজেদের মধ্যে যাবতীয় মতভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং দ্বিতীয়ত আল্লাহর রসুলের সংগ্রামী জীবনকে সামগ্রিকভাবে উপলব্ধি করে তিনি যেই কর্মপন্থায় যেই লক্ষ্যে সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন সেই কর্মপন্থা মোতাবেক সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়া। কিন্তু হায়! ঐক্যবদ্ধ হবার সমস্ত পথই যে বন্ধ। দ্বীনের প্রকৃত আকীদা ভুলে গিয়ে, আল্লাহর রসুলের আগমনের উদ্দেশ্য ভুলে গিয়ে, তওহীদের রশি ছেড়ে দিয়ে, শতাব্দীর পর শতাব্দী ছোট-খাটো বিভিন্ন আমল নিয়ে তর্ক, বাহাস, মারামারি ইত্যাদিতে লিপ্ত থেকে ঐক্যের সমস্ত দরজাতেই তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আর দ্বীনের ছোট খাটো কম প্রয়োজনীয়, এমনকি অপ্রয়োজনীয় বিষয়েও বাড়াবাড়ি রকমের অতি বিশ্লেষণ করতে করতে ছোট খাটো বিষয়ের মধ্যেই জাতির দৃষ্টিভঙ্গি এমনভাবে নিবদ্ধ হয়ে গেছে যে, সেখান থেকে মাথা তুলে এক নজরে আল্লাহর রসুলের সামগ্রিক জীবনটাকে দেখার ও উপলব্ধি করার সক্ষমতা তাদের নেই। এমতাবস্থায়, এই জাতির ঐক্যের সূত্র কী হতে পারে এবং আল্লাহর রসুল কী জন্য আবির্ভুত হয়েছিলেন, কী লক্ষ্যে সংগ্রাম করেছেন এবং জাতির উপর কী দায়িত্ব অর্পণ করে গেছেন, তা জাতির সামনে তুলে ধরার মহৎ উদ্যোগটি নিয়েছে হেযবুত তওহীদ। হাজারো বিকৃতি ও মতভেদের চাদর সরিয়ে আল্লাহ-রসুলের প্রকৃত ইসলামের যে আকীদা হেযবুত তওহীদ উপস্থাপন করছে তা যদি জাতি উপলব্ধি করতে পারে তাহলে এখনও ঘুরে দাঁড়ানো অসম্ভব নয়।
লেখক: সাহিত্য ও গবেষণা বিষয়ক কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য, হেযবুত তওহীদ। যোগাযোগ: ০১৬৭০১৭৪৬৪৩, ০১৭১১০০৫০২৫, ০১৭১১৭৫১৫৮১।

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when দোহাৱ নবাবগঞ্জ হেযবুত তওহীদ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to দোহাৱ নবাবগঞ্জ হেযবুত তওহীদ:

Share