17/03/2026
ইসলামী শিক্ষার ইতিহাসে কুরআন মাজীদকে কখনোই কেবল ছাপানো বই বা কন্ঠের আওয়াজের সাথে সীমাবদ্ধ করে দেখা যায়নি। অথচ সাম্প্রতিক দেহবাদি (মুজাসসিমা/মুসাব্বিহা) আক্বিদাহ্ প্রচারকারীরা দাবি করেন যে, ছাপানো কুরআন বা কণ্ঠস্বরের তেলাওয়াত “গাইরে মাখলুক” — অর্থাৎ অবিনশ্বর, সৃষ্টি নয়। এ ধরনের দাবি সরাসরি হাদীস ও আক্বিদার মূল সূত্রের বিরোধী। আসুন কিছু মনীষীর কথায় এটি বিশ্লেষণ করি:
১. ইমাম আবু হানিফা রহ.:
ইমাম আবু হানিফা রহ. স্পষ্টভাবে বলেছেন, “কুরআন হলো আল্লাহর কালাম, যা শব্দের মাধ্যমে প্রকাশিত হলেও তা সৃষ্টি নয়”। তিনি কখনোই কুরআনকে মানবজাতির কোনো পদার্থের সাথে সমরূপ করেননি। ছাপানো কুরআন বা তেলাওয়াতের শব্দ, যেহেতু মানুষের হাত বা কণ্ঠের মাধ্যমেই প্রকাশিত হয়, তা স্বাভাবিকভাবেই মাখলুক, কিন্তু কুরআনের মূল অর্থ ও কালাম অবিনশ্বর।
২. ইমাম বুখারি রহ.:
ইমাম বুখারীর প্রণীত সহীহ হাদীসে এসেছে, কুরআনের তেলাওয়াতের জন্য মানুষের কণ্ঠ ব্যবহার প্রয়োজন। এটি নির্দেশ করে যে, ধ্বনি এবং ছাপা হলো মানব সৃষ্টি, কিন্তু কুরআনের আসল অর্থ ও কালাম আল্লাহর অবিনশ্বর।
৩. ইমাম শাফিই রহ.:
ইমাম শাফিই রহ. বলেছেন, “যে কোনো মানুষের কণ্ঠে তেলাওয়াত হবে, সেটি মাখলুক। তবে তেলাওয়াতের মাধ্যমে পৌঁছানো অর্থ ও বার্তা অবিনশ্বর।” এটি বোঝায় যে, ছাপানো কাগজ বা মানুষের কণ্ঠের মাধ্যমের মাধ্যমে কুরআন প্রকাশিত হলেও, কুরআনের মূলত্ব ও অবিনশ্বরতা আল্লাহর একমাত্র।
৪. সালাফি মনীষীদের যুক্তি:
সালাফ মনীষীরা আরও বিশ্লেষণ করেছেন যে, কুরআনের চেহারা পরিবর্তন করে না কুরআনের সত্ত্বা। ছাপানো কাগজের পৃষ্ঠা মাখলুক হলেও, কুরআনের স্বরূপ সৃষ্টি নয়। যেমন, হাদীসে এসেছে: “কুরআনকে বইয়ে লেখা হয়, তেলাওয়াত করা হয়, কিন্তু কুরআনের আসল সত্ত্বা আল্লাহর।”
সমাপনী মন্তব্য:
দেহবাদি আক্বিদাহ্ যে ছাপানো কুরআন বা তেলাওয়াতকে অবিনশ্বর বলছে, তা স্পষ্টভাবে ভুল। ছাপানো কাগজ, কণ্ঠস্বর বা ডিজিটাল আকার সবই মাখলুক, কিন্তু কুরআনের মূল অর্থ ও কালাম অবিনশ্বর ও অনন্ত, যা আল্লাহর নিজস্ব। ইসলামের শিক্ষার দিক থেকে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, কুরআনকে “মাখলুক” না “গাইরে মাখলুক” হিসেবে বিভ্রান্তিকরভাবে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়।
উপসংহার:
ছাপানো কুরআন, তেলাওয়াতের কণ্ঠ, বা ডিজিটাল ফাইল — সবই মানবিক সৃষ্টি। কিন্তু কুরআনের অর্থ, বার্তা এবং মূল কালাম অবিনশ্বর। এটা