এন্টি দেহবাদি-ism

এন্টি দেহবাদি-ism “দেহবাদিদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।”

08/04/2026

Abu Mansur Muhammad ibn Muhammad Al-Maturidi (Rah.)💐
#এন্টি_দেহবাদি_ism

ইমাম বুখারী বলেছেন, মুহাদ্দিসগণ আবু হানিফা সম্পর্কে নিরব ছিলেন এবং প্রত্যাখ্যান করেছেন। কারণ হিসাবে উল্লেখ্য করেছেন, তিন...
30/03/2026

ইমাম বুখারী বলেছেন, মুহাদ্দিসগণ আবু হানিফা সম্পর্কে নিরব ছিলেন এবং প্রত্যাখ্যান করেছেন। কারণ হিসাবে উল্লেখ্য করেছেন, তিনি “মুরজিয়া” ছিলেন। ইমাম বুখারী আবু হানিফার এ একটি মাত্র ত্রুটিই পেয়েছেন। এর বাহিরে আর কোন ত্রুটির কথা তিনি বলতে পারেননি। এতে বুঝা যায় এর উপর ভিত্তি করেই তিনি আবু হানিফা সম্পর্কে জারহ করেছেন।

🔸 প্রথমতঃ— ইমাম আবু হানিফা মুরজি ছিলেন না, কেননা মুরজিদের মৌলিক আকিদা ছিল কুরআন মাখলুক। কিন্তু ইমাম আবু
হানিফার আকিদা হলো ﻭﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻏﻴﺮ ﻣﺨﻠﻮﻕ অর্থাৎ কুরআন গাইরে মাখলুক।
(ফিকহে আকবার – ২০ পৃঃ)

অনেকেই বলে থাকে আবু হানিফা বলেছে- কুরান আল্লাহর মাখলূক !কিন্তু ইমাম আহমাদ একথার খন্ডন করে বলেন ইমাম আবু হানিফা
রহিমাহুল্লাহ থেকে এটি প্রমানিত
নয়-
ﻟﻢ ﻳﺼﺢ ﻋﻨﺪﻧﺎ ﺃﻥ ﺃﺑﺎ ﺣﻨﻴﻔﺔ ﺭﺣﻤﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﻗﺎﻝ : ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻣﺨﻠﻮﻕ
মুখতাসারে
উলু,আলবানীঃ১৫৬;তারীখে বাগদাদ
১৩/৩৮৪)

🔹 দ্বিতীয়তঃ— এই সম্পর্কে আমরা বলবো মুরজিয়া হওয়ার কারণে কোনো মুহাদ্দিস দুর্বল বা পরিত্যক্ত হন না। নিরীক্ষার মাধ্যমে ব্যক্তিগত সততা ও বর্ণিত হাদীসের নির্ভূলতা প্রমাণ করা মুহাদ্দিসের গ্রহণযোগ্যতার মূল ভিত্তি।

🔸 তৃতীয়ত— ইমাম বুখারী তার সহীহ গ্রন্থে অনেক মুরজিয়া, কাদারিয়া ও খারিজী মুহাদ্দিসগের হাদীস সংকলন করেছেন। তাই ইমাম আবু হানিফার উপর ইমাম বুখারীর এই জরাহ সম্পূর্ণ বাতিল।
যেমনঃ

১। কায়েস ইবনে মুসলিম জাদালী (মৃ. ১২০ হি.)। সে হলো মুরজিয়া। তার হাদীস ইমাম বুখারী তার সহীহ গ্রন্থে সংকলন করেছেন। বুখারী শরীফ: ৪৫, ১৫৫৯, ১৫৬৫, ১৭২৪, ১৭৯৫, ২০০৫ নং হাদীসসহ আরো অনেক হাদীস। সে মুরজিয়া হওয়ার অপরাধে কেউ তাকে পরিত্যক্ত বলেননি। এমনকি ইমাম বুখারীও নয়।
👇
২। আইউব ইবনে আয়েজ হলো মুরজিয়া। স্বয়ং ইমাম বুখারী তাকে মুরজিয়া বলেছেন। আয-যুয়াফা উস-সাগীর: ১৮পৃ.। ইমাম বুখারী তাকে মুরজিয়া হওয়ার অপরাধে পরিত্যক্ত বলেননি। বরং তার হাদীস তিনি তার সহীহ গ্রন্থে সংকলন করেছেন। বুখারী শরীফ: ৪৩৪৬ নং হাদীস।
👇
৩। আতা ইবনে মাইমুনা হলো কাদারিয়া। ইমাম বুখারী বলেন, সে কাদারিয়া। আয-যুয়াফা উস সাগীর: ৮৯ পৃ.।
ইমাম বুখারী তাকে কাদারিয়া হওয়ার অপরাধে পরিত্যক্ত বলেননি। রবং তার হাদীস তিনি তার সহীহ গ্রন্থে সংকলন করেছেন। সহীহ বুখারী: ১৫০, ১৫১, ১৫২, ২১৭, ৫০০, ৬১৯২ নং হাদীস।
👇
৪। ইমরান ইবনে হিত্তানের ন্যায় খারিজী রবং শীর্ষ খারেজী নেতার বর্ণিত হাদীসও ইমাম বুখারী তার সহীহ গ্রন্থে সংকলন করেছেন।
ইমাম যাহাবী বলেন, ﻣﻦ ﺭﺅﻭﺱ ﺍﻟﺨﻮﺍﺭﺝ
ইমরান শীর্ষ খারেজীদের অন্যতম। সিয়ারু আলামিন নুবালা:৫/১২১।
ইমাম বুখারী এই খারেজী লিডার ইমরান ইবনে হিত্তান এর দুটি হাদীস সংলকল করেছেন। সহীহ বুখারী: ৫৮৩৫, ৫৯৫২ নং হাদীস।
এ ইমরান সেই, যে আমীরুল মু’মিনীন হযরত আলী (রা:) এর ঘাতক/হত্যাকারী খারেজী আব্দুর রহমান ইবনে মুলজিমের ন্যায় বদবখতের শোকগাথা লিখেছেন। তারীখুল ইসলাম বাশার: ২/৯৮১।

⁉️ এখন জানতে চাই বুখারীর সংকলিত এই হাদিসগুলা যাবর্নিত হয়েছে মুরজিয়া রাবিদের থেকে এ হাদিস গুলোর ব্যাপারে অভিযোগকারীদের মতামত কি? হাদিসগুলো কি পরিত্যক্ত নাকি গ্রহণযোগ্য? যদি গ্রহণযোগ্য হয় তাহলে ইমাম আবু হানিফার উপর অগ্রহণ যোগ্যতার অভিযোগ কেন? এটা কি ব্যক্তিগত আক্রোশ নয়?

🌻তাছাড়া ইমাম বুখারী তার সহীহ বুখারীতে আরো বহু মুরজিয়ার হাদীস সংকলন করেছেন।
⛳ বসরার তাবিয়ী তালক ইবনে হাবীব আল-আনাযী ৯০ হি.),
⛳ কুফার তাবিয়ী যার্র ইবনে আব্দুল্লাহ মুরহাবী (১০০ হি.),
⛳ বুফার তাবিয়ী আমর ইবনে মুররা জামালী (১২৮ হি.)
⛳ হাররানের তাবিয়ী সালিম ইবনে আজলান আল-আফতাস (১৩৫ হি.)
⛳ ও কুফার তাবিয়ী উমার ইবনে র্যুর ইবনে আব্দুল্লাহ (১৫৩ হি.)।
👇
এমন বহু মুরজিয়া, কাদারিয়া বর্ণনাকারী হাদীস তিনি তার সহীহ বুখারীতে সংকলন করেছেন। এমনকি ইমাম বুখারীর অনেক উস্তাদ মুরজিয়া ছিল।
👇
মুরজিয়া হওয়ার কারণে কোন মুহাদ্দিসকে তিনি পরিত্যক্ত কলেননি। বরং বহু মুরজিয়ার হাদীসও তিনি সংকলন করেছেন। কিন্তু মুরজিয়ার কারণে ইমাম ইমাম আবু হানিফাকে তিনি পরিত্যক্ত সাব্যস্ত করেছেন।
👇
এই ক্ষেত্রে বুখারী আবু হানিফার প্রতি ইনসাফ করতে পারেননি। এতে আবু হানিফা রাহ. বিষয়ে বুখারীর রাহ. জারহ অগ্রহনযোগ্য।
🍂ইমাম বুখারী আবু হানিফাকে মুরজিয়া বলেছেন। ইমাম বুখারীর এই তথ্যও ভূল। কারণ স্বয়ং আবু হানিফা মুরজিয়াদের বিরুদ্ধে স্বীয় গ্রন্থ (আল-ফিকহুল আকবার:১/৪৫-৪৯) এর আলোচনা করেছেন।
যিনি মুরজিয়াদের বিরুদ্ধে কলম ধরেণ তার বিরুদ্ধে মুরজিয়া হওয়ার অভযিাগ কতটা হাস্যকর তা বুঝিয়ে বলার অপেক্ষা রাখেনা।

‎ভুমিকা:‎ইসলামী দর্শনের (কালাম শাস্ত্র) অন্যতম জটিল ও তাত্ত্বিক একটি বিষয় হলো 'যাওহারুল ফারদ' (Atomism)। সহজ কথায় বললে, ...
26/03/2026

‎ভুমিকা:
‎ইসলামী দর্শনের (কালাম শাস্ত্র) অন্যতম জটিল ও তাত্ত্বিক একটি বিষয় হলো 'যাওহারুল ফারদ' (Atomism)। সহজ কথায় বললে, এটি এমন এক অবিভাজ্য কণার ধারণা যাকে আর ভাঙা সম্ভব নয়। আধুনিক স্ট্রিং থিওরি বা কোয়ান্টাম মেকানিক্সের সাথে এর কিছু মজার মিল থাকলেও অমিলগুলো বেশ মৌলিক।
‎চলুন, কৃত্রিমতা এড়িয়ে বিষয়টি একটু গভীরে গিয়ে দেখা যাক।

‎•• স্ট্রিং থিওরি বনাম যাওহারুল ফারদ:

‎আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের স্ট্রিং থিওরি বলছে, মহাবিশ্বের মূল ভিত্তি কোনো বিন্দু সদৃশ কণা নয়, বরং অতি ক্ষুদ্র কম্পনরত সুতো বা 'স্ট্রিং'। এখানে এসেই প্রাচীন দর্শনের সাথে আধুনিক বিজ্ঞানের সংঘাত বা সীমাবদ্ধতাগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

‎১. মাত্রাগত সীমাবদ্ধতা (Dimensional Constraints)
‎'যাওহারুল ফারদ' মূলত একটি ত্রিমাত্রিক বা মাত্রাভিন্ন বিন্দু হিসেবে কল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু স্ট্রিং থিওরি কাজ করে অন্তত ১০ বা ১১টি মাত্রায়। স্ট্রিং থিওরির সীমাবদ্ধতা হলো, এটি গাণিতিকভাবে সফল হলেও আজ পর্যন্ত কোনো ল্যাবরেটরিতে এই 'স্ট্রিং' খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফলে যাওহারুল ফারদ যেমন একটি দার্শনিক অনুমান ছিল, স্ট্রিং থিওরিও অনেকটা গাণিতিক অনুমানেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে।

‎২. বিভাজ্যতার প্রশ্ন
‎স্ট্রিং থিওরি অনুযায়ী, স্ট্রিংগুলোই সবকিছুর শেষ সীমা। কিন্তু প্রশ্ন জাগে—এই স্ট্রিং কিসের তৈরি? যদি স্ট্রিং শক্তির কম্পন হয়, তবে সেই শক্তি কোথা থেকে আসে? যাওহারুল ফারদের সীমাবদ্ধতা ছিল যে এটি বস্তুর 'ভর' ব্যাখ্যা করতে পারত না। একইভাবে স্ট্রিং থিওরির সীমাবদ্ধতা হলো এটি এখনও এমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দিতে পারেনি যা দিয়ে সাধারণ আপেক্ষিকতা ও কোয়ান্টাম মেকানিক্সের মধ্যকার দূরত্ব পুরোপুরি ঘুচানো যায়।

‎৩. পর্যবেক্ষণমূলক সংকট
‎যাওহারুল ফারদ তত্ত্বে ইমামদের যুক্তি ছিল বিশুদ্ধ বুদ্ধিভিত্তিক (A priori)। অন্যদিকে স্ট্রিং থিওরি অত্যন্ত জটিল গণিতের ওপর দাঁড়িয়ে থাকলেও এটি 'Falsifiability' বা প্রমাণের অযোগ্যতার সংকটে ভুগছে। অর্থাৎ, এমন কোনো পরীক্ষা নেই যা দিয়ে বলা যাবে স্ট্রিং থিওরি ভুল। বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি একটি বড় সীমাবদ্ধতা।
‎একটি তুলনামূলক সারসংক্ষেপ

‎•• ইমাম ও মুতাকাল্লিমদের দৃষ্টিভঙ্গি:
‎প্রাচীন মুসলিম দার্শনিক ও মুতাকাল্লিমরা (ধর্মতত্ত্ববিদ) মহাবিশ্বের সৃষ্টিতত্ত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে 'যাওহারুল ফারদ' বা 'অবিভাজ্য অণু'র ধারণা সামনে আনেন। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল স্রষ্টার একত্ববাদ এবং সৃষ্টির নশ্বরতা প্রমাণ করা।

‎১. আশআরি ও মাতুরিদি ইমামদের অবস্থান:

‎ইমাম আবুল হাসান আল-আশআরি এবং পরবর্তী সময়ের ইমাম আল-গাজালির মতো ইমামদের মতে, বস্তু অসীমভাবে বিভাজ্য হতে পারে না। যদি কোনো বস্তুকে অসীমভাবে ভাঙা যেত, তবে একটি সরিষার দানা আর একটি পাহাড়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকত না—কারণ উভয়ের মধ্যেই 'অসীম' সংখ্যক কণা থাকত। তাই তারা যুক্তি দেন যে, সৃষ্টির শেষ সীমান্তে এমন একটি কণা আছে যা আর বিভাজ্য নয়। তাদের মতে, আল্লাহ প্রতি মুহূর্তে এই কণাগুলোর গুণাগুণ (আরাজ) সৃষ্টি করেন, যার ফলে মহাবিশ্ব টিকে থাকে।

‎২. মুতাজিলাদের মতভেদ:

‎মুতাজিলামুতাজিলা চিন্তাবিদদের মধ্যে ইব্রাহিম আল-নাজ্জাম এই ধারণার তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি মনে করতেন, বস্তু অসীমভাবে বিভাজ্য। তাঁর মতে, আল্লাহ চাইলে একটি কণাকে অনন্তকাল ধরে ভেঙে যেতে পারেন। তবে অধিকাংশ মুতাকাল্লিম 'যাওহারুল ফারদ' সমর্থন করতেন কারণ এটি 'শূন্য থেকে সৃষ্টি' (Creation ex nihilo) তত্ত্বকে যৌক্তিকভাবে ব্যাখ্যা করতে সহজ ছিল।

ইসলামী শিক্ষার ইতিহাসে কুরআন মাজীদকে কখনোই কেবল ছাপানো বই বা কন্ঠের আওয়াজের সাথে সীমাবদ্ধ করে দেখা যায়নি। অথচ সাম্প্রত...
17/03/2026

ইসলামী শিক্ষার ইতিহাসে কুরআন মাজীদকে কখনোই কেবল ছাপানো বই বা কন্ঠের আওয়াজের সাথে সীমাবদ্ধ করে দেখা যায়নি। অথচ সাম্প্রতিক দেহবাদি (মুজাসসিমা/মুসাব্বিহা) আক্বিদাহ্ প্রচারকারীরা দাবি করেন যে, ছাপানো কুরআন বা কণ্ঠস্বরের তেলাওয়াত “গাইরে মাখলুক” — অর্থাৎ অবিনশ্বর, সৃষ্টি নয়। এ ধরনের দাবি সরাসরি হাদীস ও আক্বিদার মূল সূত্রের বিরোধী। আসুন কিছু মনীষীর কথায় এটি বিশ্লেষণ করি:

১. ইমাম আবু হানিফা রহ.:
‎ইমাম আবু হানিফা রহ. স্পষ্টভাবে বলেছেন, “কুরআন হলো আল্লাহর কালাম, যা শব্দের মাধ্যমে প্রকাশিত হলেও তা সৃষ্টি নয়”। তিনি কখনোই কুরআনকে মানবজাতির কোনো পদার্থের সাথে সমরূপ করেননি। ছাপানো কুরআন বা তেলাওয়াতের শব্দ, যেহেতু মানুষের হাত বা কণ্ঠের মাধ্যমেই প্রকাশিত হয়, তা স্বাভাবিকভাবেই মাখলুক, কিন্তু কুরআনের মূল অর্থ ও কালাম অবিনশ্বর।

২. ইমাম বুখারি রহ.:
‎ইমাম বুখারীর প্রণীত সহীহ হাদীসে এসেছে, কুরআনের তেলাওয়াতের জন্য মানুষের কণ্ঠ ব্যবহার প্রয়োজন। এটি নির্দেশ করে যে, ধ্বনি এবং ছাপা হলো মানব সৃষ্টি, কিন্তু কুরআনের আসল অর্থ ও কালাম আল্লাহর অবিনশ্বর।

৩. ইমাম শাফিই রহ.:
‎ইমাম শাফিই রহ. বলেছেন, “যে কোনো মানুষের কণ্ঠে তেলাওয়াত হবে, সেটি মাখলুক। তবে তেলাওয়াতের মাধ্যমে পৌঁছানো অর্থ ও বার্তা অবিনশ্বর।” এটি বোঝায় যে, ছাপানো কাগজ বা মানুষের কণ্ঠের মাধ্যমের মাধ্যমে কুরআন প্রকাশিত হলেও, কুরআনের মূলত্ব ও অবিনশ্বরতা আল্লাহর একমাত্র।

৪. সালাফি মনীষীদের যুক্তি:
‎সালাফ মনীষীরা আরও বিশ্লেষণ করেছেন যে, কুরআনের চেহারা পরিবর্তন করে না কুরআনের সত্ত্বা। ছাপানো কাগজের পৃষ্ঠা মাখলুক হলেও, কুরআনের স্বরূপ সৃষ্টি নয়। যেমন, হাদীসে এসেছে: “কুরআনকে বইয়ে লেখা হয়, তেলাওয়াত করা হয়, কিন্তু কুরআনের আসল সত্ত্বা আল্লাহর।”

সমাপনী মন্তব্য:
‎দেহবাদি আক্বিদাহ্ যে ছাপানো কুরআন বা তেলাওয়াতকে অবিনশ্বর বলছে, তা স্পষ্টভাবে ভুল। ছাপানো কাগজ, কণ্ঠস্বর বা ডিজিটাল আকার সবই মাখলুক, কিন্তু কুরআনের মূল অর্থ ও কালাম অবিনশ্বর ও অনন্ত, যা আল্লাহর নিজস্ব। ইসলামের শিক্ষার দিক থেকে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, কুরআনকে “মাখলুক” না “গাইরে মাখলুক” হিসেবে বিভ্রান্তিকরভাবে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়।

উপসংহার:
‎ছাপানো কুরআন, তেলাওয়াতের কণ্ঠ, বা ডিজিটাল ফাইল — সবই মানবিক সৃষ্টি। কিন্তু কুরআনের অর্থ, বার্তা এবং মূল কালাম অবিনশ্বর। এটা

কুরআন মাজীদ সম্পর্কে আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আকীদা একদম পরিষ্কার, সুসংহত এবং সাহাবা-তাবেঈন থেকে চলে আসা ধারার উপর প্র...
17/03/2026

কুরআন মাজীদ সম্পর্কে আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আকীদা একদম পরিষ্কার, সুসংহত এবং সাহাবা-তাবেঈন থেকে চলে আসা ধারার উপর প্রতিষ্ঠিত।

আহলে সুন্নাহর বিশ্বাস হলো—
কুরআন মাজীদ আল্লাহ তা‘আলার কালাম, এটা সৃষ্টি (মাখলুক) নয়। বরং এটি আল্লাহর চিরন্তন সিফাত। যেমন আল্লাহ চিরন্তন, তেমনি তাঁর কালামও চিরন্তন। তবে আমরা যে কুরআন তিলাওয়াত করি, লিখি বা মুখস্থ করি—এইগুলো (আমাদের কণ্ঠ, লেখা, কাগজ ইত্যাদি) সৃষ্টি; কিন্তু যার অর্থ ও আসল কালাম, তা আল্লাহরই গুণ, সৃষ্টি নয়।

সহজ করে বললে—
“আমাদের পড়া সৃষ্টি, কিন্তু কুরআন নিজে সৃষ্টি নয়।”
আহলে সুন্নাহ আরও বিশ্বাস করে—
আল্লাহর কালাম কোনো মানুষের কথার মতো নয়, কোনো শব্দ-ধ্বনির সীমায় আবদ্ধ নয়, কোনো অক্ষর-ধ্বনির উপর নির্ভরশীল নয়। আল্লাহ যেভাবে চান, যেভাবে বলেন—তা আমাদের ধারণার বাইরে। আমরা শুধু এতটুকু বলি: “বিলা কৈফ” (কিভাবে—এ প্রশ্ন করি না)।

এখন দেহবাদিদের (মুজাস্সিমাদের) অপপ্রচার
মুজাস্সিমা বা দেহবাদিরা মূলত আল্লাহকে সৃষ্টির সাথে তুলনা করে, এবং এখান থেকেই তাদের বড় বড় ভ্রান্তি তৈরি হয়। কুরআন নিয়ে তাদের কিছু অপপ্রচার হলো—

১. কুরআনকে তারা মানুষের কথার মতো ভাবতে চায়
তারা বলে—কুরআন অক্ষর, শব্দ, আওয়াজ—এগুলো নিয়েই গঠিত, এবং এই শব্দগুলো নাকি সরাসরি আল্লাহর মুখ থেকে ধ্বনির আকারে বের হয়েছে!
এটা আসলে আল্লাহকে মানুষের মতো বানানোর একটা কৌশল।

২. আল্লাহর জন্য “মুখ, জিহ্বা, স্বরযন্ত্র” কল্পনা করা
কুরআনকে শব্দ-ধ্বনির মধ্যে সীমাবদ্ধ করতে গিয়ে তারা পরোক্ষভাবে আল্লাহর জন্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রমাণ করতে চায়।
এটাই মূল দেহবাদ—আল্লাহকে শরীরের মতো ভাবা।

৩. ‘আল্লাহ কথা বলেন’—এই আকীদাকে বিকৃত করা
আহলে সুন্নাহ বলে: আল্লাহ কথা বলেন, কিন্তু তাঁর কথা বলার ধরন আমাদের মতো নয়।
কিন্তু মুজাস্সিমারা বলে: না, আল্লাহও মানুষের মতোই শব্দ করে কথা বলেন!
এটা সরাসরি তাশবীহ (সৃষ্টির সাথে তুলনা)।

৪. কুরআনের মর্যাদা কমিয়ে ফেলা
যখন কুরআনকে শুধু “ধ্বনি” বা “শব্দ” হিসেবে দেখানো হয়, তখন তার আসল মর্যাদা—আল্লাহর চিরন্তন কালাম—এই বিষয়টা আড়াল হয়ে যায়।

সংক্ষেপে আসল কথা
আহলে সুন্নাহর পথটা খুব ভারসাম্যপূর্ণ—
কুরআন আল্লাহর কালাম → সৃষ্টি নয়
আমরা যা তিলাওয়াত করি → সৃষ্টি
আল্লাহর কথা বলার ধরন → আমাদের মতো নয়
কোনো ধরনের সাদৃশ্য বা তুলনা → সম্পূর্ণ বাতিল

আর মুজাস্সিমারা এই সরল আকীদাকে জটিল করে ফেলে, আর শেষে আল্লাহকে সৃষ্টি বানানোর মতো অবস্থায় নিয়ে যায়—যা বড় গোমরাহি।

এই কারণে উলামায়ে আহলে সুন্নাহ সবসময় সতর্ক করেছেন—
“আল্লাহকে যেমন, তেমনই মানো; নিজের কল্পনা ঢুকাতে যেয়ো না।”

#এন্টি_দেহবাদি_ism

দেহবাদি/মুজাসসিমা (যারা আল্লাহর জন্য দেহ সাব্যস্ত করে) এবং মুশাব্বিহা (যারা আল্লাহকে সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য দেয়) – এদের চ...
14/03/2026

দেহবাদি/মুজাসসিমা (যারা আল্লাহর জন্য দেহ সাব্যস্ত করে) এবং মুশাব্বিহা (যারা আল্লাহকে সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য দেয়) – এদের চিনার কিছু লক্ষণ ইতিহাসে আলিমগণ উল্লেখ করেছেন। সাধারণত তাদের কথাবার্তা ও আকীদা দেখলেই বিষয়টি বোঝা যায়।

১. আল্লাহকে দেহ বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের অধিকারী বলা
যদি কেউ বলে আল্লাহর “হাত”, “পা”, “চেহারা”, “চোখ” ইত্যাদি মানুষের মতো প্রকৃত অঙ্গ—তাহলে বুঝতে হবে সে তাশবীহ বা তাজসীমের দিকে যাচ্ছে। অথচ আহলে সুন্নাহ বলেন: এগুলো কুরআনে এসেছে, কিন্তু কিভাবে তা আমরা জানি না এবং সৃষ্টির মতো নয়।

২. আল্লাহকে নির্দিষ্ট দিক বা স্থানে সীমাবদ্ধ করা
মুজাসসিমারা সাধারণত বলে: আল্লাহ আকাশের ওপরে নির্দিষ্ট স্থানে বসে আছেন বা কোনো দিকের মধ্যে সীমাবদ্ধ। অথচ আকীদায় বলা হয়, আল্লাহ মাখলুকের স্থান-কাল দ্বারা আবদ্ধ নন।

৩. আয়াত ও হাদিসের আক্ষরিক অর্থ ধরে বসা
কুরআনের মুতাশাবিহাত আয়াতগুলো তারা এমনভাবে ব্যাখ্যা করে যেন তা সরাসরি দেহ বা আকৃতি বোঝায়। কিন্তু সালাফ ও খালাফের অনেক আলিম বলেছেন—এগুলোতে হয় তাফউইয (অর্থ আল্লাহর কাছে সোপর্দ করা) অথবা যথাযথ তাওয়িল করা হয়।

৪. “কিভাবে” প্রশ্ন করা
আল্লাহর সিফাত নিয়ে তারা প্রায়ই জিজ্ঞেস করে—“কিভাবে আল্লাহ বসেন”, “কিভাবে নেমে আসেন” ইত্যাদি। অথচ ইমাম মালিক (রহ.)-এর বিখ্যাত উক্তি আছে:
الاستواء معلوم، والكيف مجهول، والسؤال عنه بدعة
অর্থাৎ: “ইস্তিওয়া জানা, কিন্তু তার ‘কিভাবে’ অজানা; এ বিষয়ে প্রশ্ন করা বিদআত।”

৫. আলিমদের সতর্কবাণীকে উপেক্ষা করা
ইতিহাসে বহু বড় ইমাম—যেমন Imam Abu Hanifa, Imam Malik, Imam al-Shafi‘i, Imam Ahmad ibn Hanbal—তাশবীহ ও তাজসীমের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন। কিন্তু মুজাসসিমা-মুশাব্বিহারা এসব সতর্কতা গুরুত্ব দেয় না।

৬. আল্লাহকে মানুষের মতো কল্পনা করা
কখনো কখনো তাদের কথায় এমন ধারণা প্রকাশ পায় যে আল্লাহ যেন সিংহাসনে বসে থাকা কোনো রাজা—যার ওঠা-নামা, বসা-দাঁড়ানো আছে। এটা মূলত সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য কল্পনা করার ফল।

সংক্ষেপে:
যেখানে আল্লাহকে দেহ, আকার, দিক বা সৃষ্টির মতো বৈশিষ্ট্যের সাথে বর্ণনা করা হয়—সেখানে মুজাসসিমা বা মুশাব্বিহার প্রভাব থাকার সম্ভাবনা বেশি।

কথিত সালাফিদের অধঃপতন……এসব কথিত সালাফিরা মনে করেন, রাসূল সা. নিজেই বলে গিয়েছেন, এখন আমি যে কথা বললাম এটা জয়িফ অথবা এখন...
13/03/2026

কথিত সালাফিদের অধঃপতন……

এসব কথিত সালাফিরা মনে করেন, রাসূল সা. নিজেই বলে গিয়েছেন,
এখন আমি যে কথা বললাম এটা জয়িফ অথবা এখন আমি যে কথা বললাম এটা সহিহ" পারলে একটা প্রমাণ।

আল্লাহ কোথায়? — হানাফিদের সঠিক জবাবঅনেকে প্রশ্ন করে, “আল্লাহ কোথায়?”আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত তথা হানাফি আকীদা এই প্রশ...
10/03/2026

আল্লাহ কোথায়? — হানাফিদের সঠিক জবাব
অনেকে প্রশ্ন করে, “আল্লাহ কোথায়?”
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত তথা হানাফি আকীদা এই প্রশ্নের খুবই স্পষ্ট ও সহজ জবাব দিয়েছে।
আল্লাহ তাআলা সৃষ্টির আগে যেমন ছিলেন, এখনো তেমনই আছেন।
আরশ–কুরসি, আসমান–জমিন সৃষ্টির পূর্বে যেমন ছিলেন, এখনো তেমনই আছেন।

ইমাম ত্বহাবী (রহ.) এর বক্তব্য
আহলে সুন্নাতের বিখ্যাত হানাফি ইমাম ইমাম আবু জাফর আত-ত্বহাবী (রহ.) বলেন—
تعالى عن الحدود والغايات والأركان والأعضاء والأدوات، لا تحويه الجهات الست كسائر المبتدعات
অর্থ:
আল্লাহ তাআলা সকল প্রকার সীমা, পরিসীমা, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, উপকরণ ও মাধ্যম থেকে পবিত্র।
অন্যান্য সৃষ্ট বস্তুর মত ছয় দিক (উপর, নিচ, ডান, বাম, সামনে, পিছন) তাকে পরিবেষ্টন করতে পারে না।
(আকীদাতুত ত্বহাবিয়্যাহ)

ইমাম আবু হানিফা রহ.-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আল্লাহ কোথায়? তিনি বললেন :

كان الله تعالى ولا مكان، كان قبل أن يخلق الخلق، كان ولم يكن أين ولا خلق ولا شىء، وهو خالق كل شىء

যখন কোনো স্থানই ছিল না, তখনো আল্লাহ ছিলেন। সৃষ্টির অস্তিত্বের পূর্বে তিনি ছিলেন। তিনি তখনো ছিলেন, যখন ‘কোথায়’ বলার মতো জায়গা ছিল না, কোনো সৃষ্টি ছিল না এবং কোনো বস্তুই ছিল না। তিনিই সবকিছুর স্রষ্ট! আল-ফিকহুল আবসাত : ৫৭

হাদীস থেকে প্রমাণ
রাসূলুল্লাহ ﷺ একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়ায় বলেন—
اللَّهُمَّ أَنْتَ الأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ
وَأَنْتَ الآخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ
وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ
وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَيْءٌ
“হে আল্লাহ! আপনি প্রথম— আপনার আগে কিছু নেই।
আপনি শেষ— আপনার পরে কিছু নেই।
আপনি প্রকাশ্য— আপনার উপরে কিছু নেই।
আপনি গোপন— আপনার নিচে কিছু নেই।”
📚 সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৭১৩

এ হাদীসকে বিশ্লেষণ করলে আহলে সুন্নাতের আকীদা পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত হয় যে—
আল্লাহ তাআলা সৃষ্টির পূর্বে যেমন ছিলেন, এখনো তেমনই আছেন।

১️⃣ “আপনি প্রথম— আপনার আগে কিছু নেই” (أنت الأول فليس قبلك شيء)
ইলমুল কালামের মূল নীতি হলো:
যে সত্তা সৃষ্টির আগে বিদ্যমান, তার অস্তিত্ব কোন সৃষ্টি বা স্থানের উপর নির্ভরশীল নয়।
কারণ যদি বলা হয় আল্লাহ কোন স্থানে ছিলেন, তাহলে প্রশ্ন হবে—
সেই স্থানটি কে সৃষ্টি করল?
যদি বলা হয় স্থান আগে ছিল, তাহলে স্থান হবে কদীম (অনাদি) — যা স্পষ্ট কুফরি।
কারণ কদীম একমাত্র আল্লাহ তাআলাই।
সুতরাং প্রমাণিত হলো—
👉 সৃষ্টি ও স্থান সৃষ্টির আগে আল্লাহ ছিলেন, কিন্তু কোন স্থানের মধ্যে ছিলেন না।

২️⃣ “আপনি শেষ— আপনার পরে কিছু নেই” (أنت الآخر فليس بعدك شيء)
এর দ্বারা বোঝা যায়—
সমস্ত সৃষ্টি ধ্বংস হয়ে গেলেও আল্লাহ তাআলা থাকবেন।
যদি আল্লাহ কোন স্থানের মধ্যে অবস্থান করতেন, তাহলে
সৃষ্টি ধ্বংসের সাথে সেই স্থানও ধ্বংস হয়ে যেত।
তাহলে আল্লাহর অবস্থানের জায়গাও ধ্বংস হয়ে যেত—
যা অসম্ভব।
অতএব প্রমাণ হলো—
👉 আল্লাহ কোন স্থানের উপর নির্ভরশীল নন।

৩️⃣ “আপনার উপরে কিছু নেই” (فليس فوقك شيء)
যদি আল্লাহ কোন নির্দিষ্ট স্থানে থাকতেন, তাহলে
তার উপরে অন্য কিছু থাকা সম্ভব হতো।
কিন্তু হাদীস স্পষ্ট বলছে—
👉 আল্লাহর উপরে কিছু নেই।
অতএব আল্লাহ সৃষ্ট জগতের সীমাবদ্ধ স্থানের মধ্যে নন।

৪️⃣ “আপনার নিচে কিছু নেই” (فليس دونك شيء)
এটাও প্রমাণ করে—
আল্লাহ তাআলা কোন দিক বা স্থানের সীমাবদ্ধতার মধ্যে আবদ্ধ নন।
কারণ নিচে বা উপরে থাকা—
এগুলো সবই সৃষ্টির বৈশিষ্ট্য।

✍️ Md Tamim Iqbal
📍 জেলা: নরসিংদী
📅 তারিখ: __১০ মার্চ ২০২৬__

10/03/2026
🔹 প্রশ্নটা আসলে ভন্ডামি— “তুমি হানাফি না মুহাম্মাদি?”কিছু ভন্ড সালাফি বা আহলে হাদীস লোকজন সাধারণ মুসলমানদেরকে বিভ্রান্ত ...
09/03/2026

🔹 প্রশ্নটা আসলে ভন্ডামি— “তুমি হানাফি না মুহাম্মাদি?”

কিছু ভন্ড সালাফি বা আহলে হাদীস লোকজন সাধারণ মুসলমানদেরকে বিভ্রান্ত করার জন্য একটা প্রশ্ন করে—
“তুমি হানাফি না মুহাম্মাদি?”
এই প্রশ্নটাই আসলে জাহেলি ও প্রতারণামূলক। কেন?
কারণ হানাফি হওয়া মানেই মুহাম্মাদী হওয়া।
যে ব্যক্তি ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর ফিকহ অনুসরণ করে, সে মূলত কুরআন ও হাদীসেরই অনুসরণ করে, কারণ ইমাম আবু হানিফা নিজে কুরআন-সুন্নাহ থেকেই মাসআলা বের করেছেন।
📌 একটু সহজ উদাহরণ দেই—
কেউ যদি আপনাকে প্রশ্ন করে:
“আপনি বাংলাদেশি না সিলেটি?”
এই প্রশ্ন কি যৌক্তিক?
কারণ যে সিলেটি, সে তো অবশ্যই বাংলাদেশি।
এটা একে অপরের বিপরীত না, বরং একই পরিচয়ের দুই স্তর।
ঠিক একইভাবে—
যে হানাফি, সে অবশ্যই মুহাম্মাদী।
কারণ হানাফি মাযহাবের মূল ভিত্তিই হলো:
১️⃣ কুরআন
২️⃣ হাদীস
৩️⃣ ইজমা
৪️⃣ কিয়াস
অর্থাৎ ইমাম আবু হানিফা (রহ.) নিজের পক্ষ থেকে কোনো নতুন শরিয়ত বানাননি; বরং তিনি রাসূল ﷺ-এর শরিয়তের ব্যাখ্যা করেছেন।
তাই প্রশ্নটা হওয়া উচিত ছিল—
✔️ তুমি হানাফি না শাফেয়ি?
✔️ তুমি মুসলিম না খ্রিস্টান?
✔️ তুমি মুহাম্মদ ﷺ-এর উম্মত না ঈসা (আ.)-এর উম্মত?
কিন্তু কেউ যদি বলে—
“তুমি হানাফি না মুহাম্মাদি?”
তাহলে বুঝতে হবে সে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য একই জিনিসকে দুইটা বিপরীত জিনিস বানানোর চেষ্টা করছে।
📌 তাই পরিষ্কার কথা—
আমরা হানাফিও, আবার মুহাম্মাদীও।
কারণ আমরা মুহাম্মদ ﷺ-এর শরিয়তই মানি, আর সেই শরিয়ত বুঝার ক্ষেত্রে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর ইজতিহাদ অনুসরণ করি।

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when এন্টি দেহবাদি-ism posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share