Sanatan Dharmakotha - সনাতন ধর্মকথা

Sanatan Dharmakotha - সনাতন ধর্মকথা Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Sanatan Dharmakotha - সনাতন ধর্মকথা, Religious organisation, Dhaka.

25/04/2022

HARE KRISHNA

হে জগৎ জননী, করোনা মহামারী থেকে বিশ্বকে বাঁচাও!আজ শুত্রুবার বিশেষ দিন। এই দিন মা সন্তোষী দেবীর পূজা করা হয়।👏 সন্তোষী মায়...
29/05/2020

হে জগৎ জননী, করোনা মহামারী থেকে বিশ্বকে বাঁচাও!
আজ শুত্রুবার বিশেষ দিন। এই দিন মা সন্তোষী দেবীর পূজা করা হয়।
👏 সন্তোষী মায়ের ত্রিনয়ন। ত্রিনয়ন হল চন্দ্র, সূর্য, অগ্নির প্রতীক। দেবী হলেন জ্ঞানদায়িনী। তিনি অবিদ্যা, ভ্রমতা দূর করেন, তথা ভক্তকে চতুর্বিধ ফল ও মহামুক্তি প্রদান করেন। আমরা জানি ত্রিকালের কথা। অতীত কাল, বর্তমান কাল, ভবিষ্যৎ কাল। মা ত্রিনয়নী। তিনি অতীত কাল জানেন, বর্তমান কালে কি হচ্ছে- তাও তিনি জানেন, আগামীতে কি হবে- তাও তিনি জানেন। তাই মা ত্রিনয়নী। মা সন্তোষী রত্ন সিংহাসনে বিরাজিতা। কারন তিনি সকল প্রকার ঐশ্বর্যের অধীশ্বরী । তিনি নানান রত্ন অলঙ্কার ধারন করে আছেন। তিনি ঐশ্বর্যময়ী । রত্ন অলঙ্কার কে আমরা লক্ষ্মীর স্বরূপ শুভ বলে মানি। মায়ের আশিষে সকল প্রকার অশুভ জড়তা খন্ডিত হয়ে শুভ শক্তির স্থাপনা ও বিরাজমানা হয়, তাই মায়ের শরীরে অলঙ্কার । মা সন্তোষীর চার বাহু। চারদিকে সর্বত্রই মায়ের নিয়ন্ত্রন । মায়ের হাতে তরবারি থাকে। তরবারি তীক্ষ্ণ ধার । তীক্ষ্ণ বা ক্ষিপ্র গতিবেগ বা বুদ্ধির পরিচয় ।
মায়ের অপর হাতে থাকে ত্রিশূল। ত্রিশূল ত্রিগুনের সমাহার । ত্রিশূলের তিনটি ফলা যথাক্রমে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বরের প্রতীক । সত্ত্ব, রজ, তম এই ত্রিগুনের সমাহার হল ত্রিশূল। এই ত্রিশূল থাকে মায়ের হাতে। তিনি সত্ত্ব, রজ, তম ত্রিগুনের সমাহারেই বিশ্ব চালিত করছেন। ত্রিশূল হল শিবকোষ বা অনন্ত জ্ঞানের ভাণ্ডারের চাবি। এই ব্রহ্মজ্ঞানের চাবিটি মা নিজের হস্তে ধারন করেন। অর্থাৎ মা যেমন সকাম উপাসক দের চতুর্বিধ ফল দান করেন, আবার যোগীদের ব্রহ্মজ্ঞান প্রদান করেন । আবার ত্রিশূল অশুভ শক্তির নাশ করে। মা দুর্গার পদতলে আমরা ত্রিশূল বিদ্ধ মহিষাসুরকে দেখতে পাই । ভগবান শিব এই ত্রিশূলেই ত্রিপুর অসুরকে বধ করেছেন। ত্রিশূল আসুরিক শক্তির বিনাশ ঘটায়। দৈবশক্তির সূচনা করে । তাই ত্রিশূলকে পবিত্র মনে করে পূজা করা হয় । তাই মা শুভশক্তির প্রতীক , আসুরিক শক্তি ভাব বিনষ্টের প্রতীক ত্রিশূল ধারন করেন। মা নিজেই আসুরিক ভাব নষ্ট করে দৈবভাব স্থাপনা করেন।
মা সন্তোষী নামের অপর একটি ব্রতকথা শোনা যায় । সেটি হল বিজু ও মালিনীর উপাখ্যান। মালিনীর ঘটনা ঐ একরকম। বিজু কোন কারনে কাজ করতে শহরে চলে যায় । সেখানে গিয়ে এক নারীর প্রেমে পড়ে বাড়ীর কথা স্ত্রীর কথা ভুলে যায় । অপরদিকে শ্বশুর বাড়ীতে মালিনীর ওপর অত্যাচার বৃদ্ধি হলে, মালিনী ভাবে সে আত্মহত্যা করে মুক্তি পাবে। এই ভেবে মালিনী পাহাড়ের ওপর থেকে খাদে ঝাঁপ দিতে উদ্যত হয়। ঠিক সেই সময় দেবর্ষি নারদ মুনি প্রকট হয়ে বললেন- ‘আত্মহত্যা মহাপাপ। তুমি গৃহে ফিরে ষোলো শুক্রবার সন্তোষী মায়ের ব্রত করো।’ নারদ মুনি মালিনীকে ব্রতের সমস্ত নিয়ম শিখিয়ে দেয় । গৃহে ফিরে মালিনী সন্তোষী মায়ের ১৬ শুক্রবার ব্রত পালন করতে থাকে। অল্প কালের মধ্যেই মা সন্তোষী ভক্তের প্রতি সন্তুষ্ট হন। বিজুর পূর্ব স্মৃতি ফিরে আসে। সে অনেক জিনিস পত্র নিয়ে বাড়ী ফিরে আসে। এরপর মালিনীকে নিয়ে সুখে থাকতে লাগে ।
মা সন্তোষীর বাহন বৃষ। কেন? গো জাতি সত্ত্ব গুনী সাত্ত্বিক গুনের আধার। বৃষর মধ্যে আমরা দুটি গুন দেখতে পাই। বৃষ যখন শান্ত তখন সে চলনে মন্থর , সদা তৃপ্ত, প্রসন্ন । কিন্তু ক্রোধ হলে সে ঠিক উল্টো । শিং, খুঁড় দিয়ে আঘাত এমনকি হত্যা করতে পারে। কিন্তু বৃষকে আমরা সব সময় শান্তভাবে মা সন্তোষীর পদতলে দেখতে পাই। মানুষের মধ্যেও ক্রোধ ও শান্ত- দুই ভাব বিরাজ করে। ক্রোধে মানুষ হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়, আবার শান্ত ভাবে প্রসন্ন , হাস্যমুখর । কিন্তু যখন ভগবানের কাছে যেতে হবে, তখন প্রসন্ন চিত্তে , শান্ত অবস্থায় যেতে হবে। ক্রোধ নিয়ে ভগবানের কাছে গেলে কিছুই প্রাপ্তি হবে না । বৃষ আমাদের সেই শিক্ষাই দেয় ।
জয় মা সন্তোষী🙏🙏🙏
👏 সবাইকে জানার জন্য শেয়ার করুন।

👏 প্রতিদিন সনাতন ধর্মীয় মূলক পোষ্ট ও ভজন কীর্তন ভিডিও দেখতে পেজটিকে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন।

👏 আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক গ্রুপ👉 Sanatan Dharmakotha - সনাতন ধর্মকথা গ্রুপটিতে জয়েন করুন এবং আপনার বন্ধুদেরকে এড করুন।

.     ♥🌿""""হরে কৃষ্ণ !! হরে কৃষ্ণ """"🌿♥দেবী তুলসী সম্পর্কে বিধি-নিষেধ এবং তুলসী প্রণাম, প্রদক্ষিণ, জলদান, আরতি এবং চয়ন...
29/05/2020

. ♥🌿""""হরে কৃষ্ণ !! হরে কৃষ্ণ """"🌿♥

দেবী তুলসী সম্পর্কে বিধি-নিষেধ এবং তুলসী প্রণাম, প্রদক্ষিণ, জলদান, আরতি এবং চয়ন মন্ত্র

সকালে সূর্যোদয়ের আগে কিংবা সন্ধায় সূর্যাস্তের পরে, এবং দ্বাদশী তিথিতে কখন ও তুলসীপত্র চয়ন করতে নেই। আগের কিংবা সকালে তোলা তুলসীপত্র শুখিয়ে গেলেও, তা শ্রীবিগ্রহ অর্চ্চনায় ব্যবহার করা চলে।

সকালে ভক্তের উচিত্‍ কয়েকটি তুলসী গাছ রাখা। তবে খুব সতর্কতার সাথে এগুলোর যত্ন করতে হবে। কারণ তুলসী কৃষ্ণ প্রেয়সী। তুলসী গাছ গুলো এমন যায়গায় রাখতে হবে যাতে মানুষ অথবা পশু তাঁর উপর দিয়ে হেঁটে যেতে না পারে, তাঁকে দুমরে মুচরে দিতে না পারে। মঞ্জরী গুলো কচি সময় হাত দিয়ে (নখ দিয়ে নয়) ভেঙ্গে দিলে গাছ্টি অত্যন্ত সুস্থও সবল ভাবে বেরে উঠবে।

শ্রীমতী তুলসীদেবীর যাতে কোনও প্রকার ব্যথা সৃষ্টি না হয়, সেই বিষয়ে বিশেষ যত্নবান হতে হয়। ডান হাত দিয়ে তাঁর পত্র চয়ণের সময়ে বামহাত দিয়ে শাখাটিকে ধরে রাখতে হয় যাতে সেটি ভেঙ্গে না যায়। তুলসী পত্র চয়ণের শেষে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হয়।

শুধুমাত্র বিষ্ণুতত্ত্ব বিগ্রহসমূহ ও চিত্রপটসমূহের প্রতি তুলসী চরণে তুলসী চরণে নিবেদন করা যায় না। ভগবানকে ভোগ নিবেদনের সময় প্রত্যেক সামগ্রীতে একটি করে তুলসী পাতা বা মঞ্জরী দিতে হয়।

🎆 শ্রীগোবিন্দের চরণ ব্যতীত তুলসীপত্র অর্পণ করতে নেই

গুরুদেব ভগবানের মতো শ্রদ্ধেয় হলেও তিনি কখনই ভগবান নন৷ তিনি ভগবানের প্রিয় সেবকমাত্র৷ তিনি ভগবানের ভক্ত৷ আর তুলসী হচ্ছেন গোবিন্দবল্লভা৷ শ্রীকৃষ্ণের প্রেয়সী। একমাত্র বিষ্ণুতত্ত্ব ব্যতীত কারও চরণে তুলসীপত্র অর্পণ করা কখনই উচিত নয়, কারণ তা মহা অপরাধ। শ্রীঅনন্ত সংহিতা শাস্ত্রে পরিষ্কার উল্লেখ রয়েছে-

তুলস্যা বিষয়ং তত্ত্বং বিষ্ণুমেব সমর্চয়েৎ ৷
সা দেবী কৃষ্ণশক্তিহি শ্রীকৃষ্ণবল্লভা মতা ৷৷
অতস্তাং বৈষ্ণবীং দেবীং নান্যপদে সমর্পয়েৎ ৷
অর্পণে তত্ত্বহানিংঃ স্যাৎ সেবাপরাধ এব চ ৷৷
অতত্ত্বজ্ঞস্ত পাষণ্ডো গুরুব্রুবস্য পাদয়োঃ ৷
অর্পয়ন্ তুলসীং দেবীমর্জয়েন্নরকং পদম্ ৷৷

“তুলসীপত্র দিয়ে শ্রীবিষ্ণু তত্ত্বের অর্চনা করা কর্তব্য। তুলসীদেবী কৃষ্ণশক্তি, শ্রীকৃষ্ণের প্রিয়তমা। তিনি পরম বৈষ্ণবী। অন্য কারও পদে তুলসীপত্রাদী অর্পণ করা উচিত নয়৷ যদি কেউ অর্পণ করে তবে সে তত্ত্বজ্ঞানহীন হয় এবং তার সেবা অপরাধ হয়৷ আর যে তত্ত্বজ্ঞানহীন পাষণ্ড গুরুদেবের চরণে তুলসী অর্পণ করে তার নরকগতিই লাভ হয়৷”

যে ব্যক্তি চরণে তুলসীপত্র গ্রহণ করে সে কখনই গুরু নয়৷ সে পরমগুরুরত্ত বিরােধী৷ ভগবান শ্রীহরি ছাড়া কোনও দেবদেবীকে তুলসীপত্র দিয়ে কখনই অর্চনা করা উচিত নয়। বায়ুপুরাণে মহর্ষি ব্যাসদেব সেই কথা উল্লেখ করেছেন

তুলসীদল মাত্রায় যোহন্যং দেবং প্রপূজয়েৎ ৷
ব্রহ্মহা স হি গোঘ্নশ্চ স এব গুরুতল্পগঃ ৷৷

“যে ব্যক্তি তুলসীপত্র দ্বারা অন্য দেবদেবীর পূজা করে তার নিশ্চয়ই ব্রহ্মহত্যা, গো-হত্যা ও গুরুপত্নী গমনের পাপ অর্জিত হয়ে থাকে৷”

🔯 শ্রী শ্রী তুলসী আরতি

নমো নমঃ তুলসী ! কৃষ্ণপ্রেয়সী ৷
রাধাকৃষ্ণ-সেবা পাব এই অভিলাসী ৷৷
যে তোমার শরণ লয়, তার বাঞ্ছা পূর্ণ হয়,
কৃপা করি কর তারে বৃন্দাবন বাসী ৷
মোর এই অবিলাস, বিলাস-কুঞ্জে দিও বাস,
নয়নে হেরিব সদা যুগলরূপরাশি ৷৷
এই নিবেদন ধর, সখীর অনুগত কর,
সেবা অধিকার দিয়ে কর নিজ দাসী ৷
দীন কৃষ্ণদাসে কয়, এই যেন মোর হয়,
শ্রীরাধাগোবিন্দ প্রেমে সদা যেন ভাসী ৷৷

🔯 তুলসী-প্রদক্ষিণ মন্ত্রঃ

যানি কানি চ পাপানি ব্রহ্মহত্যাদিকানি চ।
তানি তানি প্রনশ্যন্তি প্রদক্ষিণ পদে পদে ॥

অর্থঃ যখন মানুষ শ্রীমতী তুলসীদেবীকে প্রদক্ষিণ করতে থাকে, তখন প্রতি পদক্ষেপে তার কৃত সকল পাপকর্ম, এমন কি ব্রহ্মহত্যার পাপও বিনষ্ট হয়ে যায়। তারপরে বাঁ হাতে পষ্ণপাত্র ধারণ করে তা থেকে ডান হাত দিয়ে শ্রীমতি তুলসীদেবীকে জল সিষ্ণন করতে হয়।

তুলসী দর্শনে পুন্য
স্পর্শে পাপ নাশ
স্মরণে তীর্থ লাভ
ভক্তিতে মুক্তি লাভ

🔯 তুলসী প্রণাম মন্ত্রঃ

ওঁ বৃন্দায়ৈ তুলসী দৈব্যৈ
প্রিয়ায়ৈ কেশবস্য চ ।
বিষ্ণুভক্তি প্রদে দেবী
সত্যবত্যৈ নমো নমঃ ॥

🔯 তুলসী জলদান মন্ত্রঃ

ওঁ গোবিন্দবল্লভাং দেবীং ভক্তচৈতন্যকারিণীম্ ।
স্নাপয়ামি জগদ্ধাত্রীং কৃষ্ণভক্তি প্রদায়িনীম্ ॥

🔯 তুলসী চয়ন মন্ত্রঃ

ওঁ তুলস্যমৃতজন্মাসি সদা ত্বং কেশবপ্রিয়া ।
কেশবার্থে চিনোমি ত্বাং বরদা ভব শোভনে ॥

দেবী তুলসী বৈদিক যুগ থেকে সনাতন ধর্মে অন্যতম স্তরে প্রাধান্য পেয়ে আসছেন। তাই তাকে গৃহে প্রতিস্থাপন করে পবিত্রতা বিস্তার করুণ।

তুলসী পাতা এতই পবিত্র যে, এটি একমাত্র পরমেশ্বর ভগবান শ্রীবিষ্ঞুর পাদপদ্দ ব্যতীত অন্য কোন দেবতা বা দেবীর চরনে তুলসীপাতা অর্ঘ্য হিসাবে দেয়া যায় না। অবশ্য লক্ষ্মীদেবীর পুজোয় তুলসী পাতার প্রয়োজন হয় না। এছাড়া সকল দেবতা দেবী পূজোর ভোগে তুলসী পাতা ও মঞ্জুর অত্যাবশ্যক। তুলসী পাতা ভিজানো জল ছটা গৃহাদি পবিত্র করনের কাজে ব্যবহার করা হয়। গভীর ধর্মীয় আঙ্গিকে হিন্দু সমাজে তুলসী গাছের এতো মহিমা প্রচার করে এবং তদানুযায়ী এর পূজন ও যত্ন করা হয়।



এখন দেখা যাক বৈজ্ঞানিক ও প্রায়োগিক ব্যাখ্যায় তুলসীগাছ বিষয়ে কি বলা আছে –
তুলসী (Tulsi/Holy Basil/ thai Krapho) একটি Lamiaceae family এর অন্তর্গত সুগন্ধি জাতীয় উদ্ভিদ যার বৈজ্ঞানিক নাম Ocimum sanctum (sanctum অর্থ পবিত্র স্থান) । হাজার হাজার বছর ধরে সাধারণত হিন্দু পরিবারে কৃষ্ঞ ও রাধা তুলসী এই দুই প্রকারে প্রাপ্ত তুলসী হিন্দু গৃহে পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে পূজিত হয়ে আসছে। এর পিছনে গভীর রয়েছে ধর্মীয়,পরিবেশগত ও বৈজ্ঞানিক কারণ ।

ধর্মীয় কারণ :
ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণে তুলসীকে সীতাস্বরূপা, স্কন্দপুরাণে লক্ষীস্বরূপা, চর্কসংহিতায় বিষ্ণুর ন্যায় ভুমি, পরিবেশ ও আমাদের রক্ষাকারী বলে বিষ্ঞু প্রিয়া, ঋকবেদে কল্যাণী বলা হয়েছে । স্বয়ং ভগবান বিষ্ঞু, তুলসীদেবীকে পবিত্রাবৃন্দা বলে আখ্যায়িত করে এর সেবা করতে বলেছেন।

পরিবেশগত কারণ :
সাধারণতঃ উদ্ভিদ মাত্র দিনে অক্সিজেন ও রাতে কার্বডাইঅক্সাইড ত্যাগ করে। পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে তুলসীগাছ একমাত্র উদ্ভিদ যা দিন ও রাত চব্বিশ ঘণ্টা অক্সিজেন সরবরাহ করে বায়ু বিশুদ্ধ রাখে। যেখানে অন্য যেকোন গাছ রাত্রিতে কার্বন ডাই অক্সাইড ত্যাগ করে তাই রাতের বেলাতে তুলসীতলায় শয়ন করাও ব্যক্তির জন্য উপকারী। এছাড়া তুলসীগাছ ভুমি ক্ষয় রোধক এবং তুলসী গাছ লাগালে মশা কীটপতঙ্গ ও সাপ থেকে দূরে রাখে।

বৈজ্ঞানিক ও স্বাস্থ্যগত কারণ:
তুলসীতে Eugenolঅধিক পরিমাণে থাকায় তা Cox-2 Inhibitorরূপে কাজ করে বলে তা ব্যথানাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
• Hypoglycemic drugs এর সাথে তুলসী খেলে তা টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগে দ্রুত গ্লুকোজের মাত্রা কমিয়ে দেয়।
• তেজস্ক্রিয়তার ফেলে ক্ষতিগ্রস্থ কোষসমুহকে মেরামত করে।



• চর্বিজনিত হৃদরোগে এন্টি অক্সিডেন্টের ভুমিকা পালন করে।
• তুলসী একশেরও বেশি Phytochemicals(যেমন oleanolic acid ,beta caryophyllene ইত্যাদি)বহন করে বলে ক্যান্সার চিকিত্সািয় ব্যবহৃত হয়।
• তুলসীর অ্যালকোহলিক নির্যাস Immune system এর রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে।
• তুলসী স্নায়ুটনিক ও স্মৃতিবর্ধক।
• শ্বসনতন্ত্রের বিভিন্নরোগ যেমন ব্রঙ্কাইটিস, ইনফ্লুয়েঞ্জা ,হাঁপানি প্রভৃতি রোগের নিরাময়ক।
• সর্দি ,কাশি, জ্বর, বমি, ডায়ারিয়া, কলেরা, কিডনির পাথর, মুখের আলসারসহ চোখের বিভিন্ন রোগে ইহা ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
• দাঁতের রোগে উপশমকারী বলে টুথপেস্ট তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।

তুলসীর গুণাগুণ আমাদের এই উপমহাদেশে যারা আয়ুর্বেদ শাস্ত্র চর্চা করেন তাদের কাছে তুলসীর গুণাগুণকে নতুন করে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই। তুলসীর সিদ্ধ পানি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তুলসী কেবল শরীরকে নয় বরং শরীরের সাথে এটি বাতাসকেও দূষণমুক্ত করে। তুলসী পাতার অনেক গুণ রযেছে৷ আয়ুর্বেদে তুলসীকে ভেষজের আখ্যা দেওয়া হয়৷ চলুন এই ভেষজের গুণগুলো জেনে নিই৷
* জ্বর হলে জলের মধ্যে তুলসী পাতা, গোল মরিচ এবং মিশ্রী মিশিয়ে ভাল করে সেদ্ধ করুন৷ অথবা তিনটে দ্রব্য মিশিয়ে বড়ি তৈরি করুন৷ দিনের মধ্যে তিন-চার বার ঐ বড়িটা জলের সঙ্গে খান৷ জ্বর খুব তাড়াতাড়ি সেরে যাবে৷



* কাশি যদি না কমে সেই ক্ষেত্রে তুলসী পাতা এবং আদা পিষে মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খান৷… এতে উপকার পাবেন৷
* পেট খারাপ হলে তুলসীর ১০ টা পাতা সামান্য জিরের সঙ্গে পিষে ৩-৪ বার খান৷ পায়খানা একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে৷
* মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে দিনে ৪-৫ বার তুলসী পাতা চেবান৷
* ঘা যদি দ্রুত কমাতে চান তাহলে তুলসী পাতা এবং ফিটকিরি একসঙ্গে পিষে ঘা এর স্থানে লাগান কমে যাবে৷
* শরীরের কোন অংশ যদি পুড়ে যায় তাহলে তুলসীর রস এবং নারকেলের তেল ফেটিয়ে লাগান এতে জ্বালা কমবে৷ পোড়া জায়গাটা তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যাবে৷ সেখানে কোন দাগ থাকবে না৷
* ত্বকের চমক বাড়ানোর জন্য এছাড়া ত্বকের বলীরেখা এবং ব্রোনো দূর করার জন্য তুলসী পাতা পিষে মুখে লাগান৷
* বুদ্ধি এবং স্মরণ শক্তি বাড়ানোর জন্য প্রতিদিন ৫-৭ টা তুলসী পাতা চিবান৷
* প্রস্রাবে জ্বালা হলে তুলসী পাতার রস ২৫০ গ্রাম দুধ এবং ১৫০ গ্রাম জলের মধ্যে মিশিয়ে পান করুন৷ উপকার পাবেন৷
* ত্বকের সমস্যা দূর করতে তিল তেলের মধ্যে তুলসী পাতা ফেলে হালকা গরম করে ত্বকে লাগান৷

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আদি ঋষিরা দেব সাধনায় ধ্যানস্হ থাকতেন বলে আমরা জানি। এসব ঋষিদের ধারনা গত পদ্ধতি গুলি একটিই হলো হিন্দু পরিবার গুলো তুলসী পুজো বা তুলসী সেবা। আসলে ঐ সব আদি ঋষিরা গবেষনা করতেন, যাকে আমরা ধ্যান বলছি। সত্যি সত্যি ভাবতে অবাক লাগে আমরা যে সময়টাকে জ্ঞান বিজ্ঞানের জন্য অনগ্রসর বলি, সে সময়টায় এরা তুলসী গাছের এতো গুন আবিস্কার করে। সাধারণ মানুষ যেহেতু অতি সহজে কোন নির্দেশ মানতে রাজী হয় না, হয়তঃ সেকারণে ঐসব মনিষীরা তুলসী গাছ পরিচর্যার জন্য ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্যের বিষয়টি নিয়ে এসেছেন বলেই হিন্দু শাস্ত্রাদিতে বলা হয়েছে – “যারা প্রত্যহ তুলসীর দর্শন, স্পর্শন, ধ্যান, গুণ কীর্তন, প্রণাম, গুণশ্রবন, রোপন, জল প্রদান ও পূজা এই নয় প্রকারে তুলসীর ভজনা করেন তারা সহস্র কোটি যুগ পর্যন্ত বিষ্ঞুলোকে বসতি লাভ করেন”।

প্রশ্ন:  গুরু মহারাজ, আমাদের যদি কোন বৈষ্ণবকে কষ্ট দেয়ার কোন উদ্দেশ্য না থাকে, কিন্তু আমাদের ব্যবহারে একজন বৈষ্ণবের প্রত...
29/05/2020

প্রশ্ন: গুরু মহারাজ, আমাদের যদি কোন বৈষ্ণবকে কষ্ট দেয়ার কোন উদ্দেশ্য না থাকে, কিন্তু আমাদের ব্যবহারে একজন বৈষ্ণবের প্রতি অপরাধ হয়, আমরা অপরাধ করতে চাইনি, কিন্তু ভক্তেরা তাঁদের নিজেদের প্রত্যাশার কারণে কষ্ট পান, কীভাবে আমরা সেই ধরনের বৈষ্ণব অপরাধ অতিক্রম করতে পারি, যখন আমরা এমনকি এটিও জানিনা যে কার চরণে অপরাধ হয়েছে?

গুরু মহারাজ: শ্রীল প্রভুপাদ তাঁর চেয়ে জ্যেষ্ঠ বৈষ্ণবদের প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতেন। তিনি বলতেন, যদি তুমি প্রশ্ন হিসেবে জিজ্ঞেস করো, প্রকৃতপক্ষে এটি কোন অপরাধ নয়। যদি তুমি কাউকে বলো, ওহ, তুমি পতিত অথবা এমনকিছু। সেটি অপরাধমূলক। কিন্তু যদি তুমি প্রশ্ন করো, প্রভু, কেন আপনি এমন করছেন? এটি কি ঠিক? আমি কি আপনার দৃষ্টান্ত অনুসরণ করতে পারি? তাই প্রশ্ন করার মাধ্যমে এটি অপরাধমূলক নয়। আমি শুনেছি যে, শ্রীল রূপ গোস্বামী যখন তাঁর শ্রীমদ্ভাগবত পড়ছিলেন তখন তিনি আনন্দে হাসছিলেন। একজন বৈষ্ণব পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যিনি ছিলেন খোঁড়া। তো তখন তিনি ভাবলেন যে, শ্রীল রূপ গোস্বামী আমাকে উপহাস করে হাসছে! তো তখন কিছু একটা হলো এবং শ্রীল রূপ গোস্বামী তাঁর দিব্য ভাব হারালেন। তাই তিনি সনাতন গোস্বামীকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, তুমি নিশ্চয়ই কারো চরণে অপরাধ করেছ। আমি কার চরণে অপরাধ করেছি? আমি কীভাবে খুঁজে বের করব? তো তখন সনাতন গোস্বামী তাঁকে পরামর্শ দিলেন একটি প্রীতিভোজের আয়োজন করো এবং যে ব্যক্তি আসবেন না, সেই ব্যক্তি তিনিই হবেন যাঁর প্রতি তুমি অপরাধ করেছ। তিনি সেটি করলেন এবং লক্ষ্য করলেন যে, সেই খোঁড়া ভক্তটি আসেন নি। তিনি সেই খোঁড়া ভক্তের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কেন আমার দ্বারা কষ্ট পেয়েছেন? তারপর তিনি বললেন, তুমি আমার প্রতি উপহাস করে হেসেছ! না, আমি আপনাকে দেখে হাসিনি। আমি জানতামও না আপনি সেখানে ছিলেন! আমি ভাগবত পড়ছিলাম, আমি আনন্দ অনুভব করছিলাম এবং তাই হাসছিলাম! আমি আপনাকে দেখে হাসছিলাম না! আমি আপনাকে সর্বদা শ্রদ্ধা করি। তো তখন তাঁরা দুজন একসাথে ব্যাপারটির সমাধান করলেন এবং তারপর তিনি তাঁর ভাব ফিরে পেলেন! হা! আমি জানি না তুমি কীভাবে এটি করো! কিন্তু তুমি প্রশ্ন করতে পারো, কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ করোনা। কাউকে বলো না যে, ওহ, তুমি পতিত! শচীমাতা অদ্বৈত গোসাঁইয়ের চরণকমল থেকে ধূলি নিয়ে অপরাধমুক্ত হয়েছিলেন। আমি দেখেছি কিছু ভক্ত মন্দিরের বাইরে সমস্ত জুতো স্পর্শ করছে, ধূলি নিচ্ছে। হয়তো এইভাবে তারা ভাবে যে, কোনোভাবে তারা যে ব্যক্তির চরণে অপরাধ করেছে, তাঁর চরণের ধূলি পেতে পারে। হরে কৃষ্ণ!

তোমার নিত্য শুভাকাঙ্ক্ষী,
শ্রীল জয়পতাকা স্বামী
২৮শে এপ্রিল ২০২০
শ্রীধাম মায়াপুর, ভারত

♦️♦️শ্রীকৃষ্ণের দুই চরণে নুপুর দেয়া হয় কেন....???👏 ত্রেতাযুগে ভগবান শ্রীরাম সীতাকে হারিয়ে জঙ্গলে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাঁদছেন...
09/05/2020

♦️♦️শ্রীকৃষ্ণের দুই চরণে নুপুর দেয়া হয় কেন....???

👏 ত্রেতাযুগে ভগবান শ্রীরাম সীতাকে হারিয়ে জঙ্গলে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাঁদছেন। তখন তার পাশে ছিল লক্ষন। যখন রাম কাঁদতেছেন তখন লক্ষন দেখল শ্রীরামের চোখ থেকে জল পড়ছে আর রক্তে মাটি ভেসে যাচ্ছে। তখন লক্ষন বলল, ‘দাদা! তোমার চোখের জল মাটিতে রক্ত হয়ে ভেসে যাচ্ছে।’

শ্রীরাম দেখলেন তার ধনুকের নিচে একটা ব্যাঙ চাপা পড়ে আছে। (সে ব্যাঙের রক্ত আর শ্রীরামের চোখের জল মিশে এক নদীর সৃষ্টি হয়েছে, সেই নদীর নাম ভৈতরনী নদী)। তখন শ্রীরাম ব্যাঙটিকে তুলে নিলেন এবং বললেন, ‘হ্যাঁ রে ব্যাঙ! তুই যখন চাপা পড়লি তখন আওয়াজ করলি না কেন?’

ব্যাঙ বলল, ‘মানুষ বিপদে পড়লে ভগবানকে ডাকে, যখন ভগবানের হাতে মানুষের মৃত্যু হয় তখন মানুষ কাকে ডাকে?’
তখন শ্রীরাম বললেন, ‘হ্যাঁ রে ব্যাঙ! তুমি পূর্বজন্মে কি ছিলে?’
ব্যাঙ বলল, ‘কর্ণব মুনি।’

‘তো তুমি ব্যাঙ হলে কেন?’ – শ্রীরাম জিজ্ঞাসা করলেন।
ব্যাঙ বলল, ‘পূর্বজন্মে আমার গুরু বিশ্বামিত্র মুনির চরণ সেবা করার সময় আমার হাতের নক গুরুর চরণে লাগে। গুরু অভিশাপ দিয়েছে আমি ব্যাঙ হয়ে জন্মবো পরের জন্মে। তখন আমি বললাম, ‘গুরুদেব অভিশাপ তো দিলেন তো আর্শীবাদ দেন!’

গুরু বলেছিলেন, ‘তোকে আর্শীবাদ দিলাম তোর পর জন্মে ভগবানের হাতে মৃত্যু হবে।’
তখন শ্রীরাম বললেন, ‘হ্যাঁ রে ব্যাঙ! তুই কি চাস?’
তখন ব্যাঙ বলল, ‘আমার গুরু যেন তোমার চরণে ঠাঁই পায়।’

তখন শ্রীরাম বললেন, ‘এ জন্মে তো হবে না! পর জন্মে যখন দ্বাপর যুগে আমি কৃষ্ণ হয়ে আসবো; তখন তোমার গুরু এবং তুমি আমার চরণে ঠাঁই পাবে।’
আর এ কারণেই ভগবান শ্রীকৃষ্ণের দুই পায়ে দুই নুপুর, বাম পায়ে কর্ণব মুনি আর ডান পায়ে তার গুরু বিশ্বামিত্র মুনি।
জয় শ্রী কৃষ্ণ🙏🙏🙏

👏 সবাইকে জানার জন্য শেয়ার করুন।

👏 প্রতিদিন সনাতন ধর্মীয় মূলক পোষ্ট ও ভজন কীর্তন ভিডিও দেখতে পেজটিকে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন।

👏 আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক গ্রুপ👉 Sanatan Dharmakotha - সনাতন ধর্মকথা গ্রুপটিতে জয়েন করুন এবং আপনার বন্ধুদেরকে এড করুন।

নৃসিংহ চতুর্দশী ব্রত পালনের নিয়ম -   #হরেকৃষ্ণ আগামী ০৬/০৫/২০২০ রোজ বুধবার বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে ভক্তব...
05/05/2020

নৃসিংহ চতুর্দশী ব্রত পালনের নিয়ম -

#হরেকৃষ্ণ আগামী ০৬/০৫/২০২০ রোজ বুধবার বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে ভক্তবৃন্দ অবশ্যই পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অবতার শ্রীনৃসিংহ দেবের পবিত্র আবির্ভাব তিথিতে উপবাস ব্রত ভক্তিভরে পালন করুুন।

কেউ এই পবিত্র ব্রতদিন সম্পর্কে জেনেও যদি তা পালন না করেন, তবে চন্দ্রসূর্য যতদিন থাকবে, ততদিন তাকে নরক বাস করতে হবে, একথা স্বয়ং নৃসিংহদেব তাঁর ভক্ত প্রহ্লাদকে বলেছেন। তিনি ভক্ত প্রহ্লাদককে বলেছেন-"-বর্ষে বর্ষে তু কর্তব্যং মমসন্তুষ্টি কারণম।
মহাগুহ্যম ইদম্ শ্রেষ্ঠং মানবৈর্ভবভীরুভিঃ।। অর্থাৎ আমার সন্তুষ্টির লক্ষ্যে চতুর্দশী ব্রত কর্তব্য।জন্ম-মৃত্যুময় সংসার ভয়-ভীত মানুষ এই পরম গোপনীয় ও শ্রেষ্ঠ ব্রত পালন করবে।।

গোধূলি পর্যন্ত নির্জলা উপবাস থাকতে হবে। নির্জলা থাকতে না পারলে ফল প্রসাদ পেতে পারেন। গোধূলি লগ্নে নৃসিংহদেবকে দুধ, দই, ঘি, মধু, মিছরির জল এবং ফলের রস দিয়ে অভিষেক করাতে পারেন (নৃসিংহদেবের চিত্রপটে অভিষেক করা যাবে)। অভিষেকের পরে নৃসিংহদেবকে ফলমূল, সবজি রান্না করে ভোগ দিয়ে প্রসাদ গ্রহণ করতে পারেন। একাদশীর দিন যে অনুকল্প গ্রহণ করা হয় সেটাই ব্রতের দিন গ্রহণ করা যাবে। কিন্তু ব্রতের দিন অন্ন, রুটি, লুচি, পরোটা গ্রহণ করা যাবে না। তবে অবশ্যই নৃসিংহদেবকে "পনকম্ " নিবেদন করতে পারেন। "পনকম্" হলো শীতল জল, তাল-মিছরি, লেবুর রস এবং আদা দিয়ে তৈরি একরকম পানীয় যা নৃসিংহদেবের অত্যন্ত প্রিয়। ব্রতের দিন সম্ভব হলে নৃসিংহদেবের ১০৮টি নাম পড়ে নৃসিংহদেবের চরণে ১০৮টি তুলসীপাতা চন্দনে মাখিয়ে অর্পণ করতে পারেন। নৃসিংহদেবের ব্রতকথা শ্রবণ করুন। জপমালায় বেশি বেশি জপ করুন, গীতা -ভাগবত পাঠ করুন। পাঠ করতে অক্ষম হলে শুদ্ধ কৃষ্ণ ভক্তের নিকট থেকে শ্রদ্ধাসহকারে বিনীতভাবে কৃষ্ণকথা শ্রবণ করুন। বাড়িতে শ্রীমদ্ভাগবত থাকলে শ্রীমদ্ভাগবতের ৭ (সপ্তম) স্কন্ধের ৮ম অধ্যায় শ্রীনৃসিংহদেবের আবির্ভাব লীলা পাঠ করুন। অথবা শুদ্ধভক্তের নিকট থেকে শ্রবণ করুন। ব্রতের দিন নৃসিংহদেবের প্রণাম মন্ত্র এবং স্তব পাঠ করুন। মনে রাখবেন নৃসিংহদেব অত্যন্ত কৃপালু।তিনি ভক্তের মনোবাসনা অবশ্যই পূরণ করবেন। তিনি অত্যন্ত করুণাময়। তিনি তাঁর ভক্তকে সর্ববিপদ থেকে রক্ষা করেন, যেমন----তাঁর ভক্ত প্রহ্লাদকে রক্ষা করেছিলেন। ব্রতের পর দিন সকালে ভগবানকে অন্ন, বিভিন্ন দ্রব্যাদি রান্না করে ভোগ দিয়ে প্রসাদ গ্রহণ করতে পারেন।

ভক্তদের অবগতির জন্য শ্রীনৃসিংহদেবের স্তব ও প্রণাম মন্ত্র নিচে প্রদত্ত হলো---
স্তবঃ- ----
জয় নৃসিংহ শ্রীনৃসিংহ।
জয় জয় জয় শ্রীনৃসিংহ।।
উগ্রং বীরং মহাবিষ্ণুং
জ্বলন্তং সর্বতোমুখম্।
নৃসিংহং ভীষণম ভদ্রং
মৃত্যুর্মৃত্যুং নমাম্যহম্।।
শ্রীনৃসিংহ, জয় নৃসিংহ, জয় জয় নৃসিং।
প্রহ্লাদেশ জয় পদ্মমুখ পদ্মভৃঙ্গ ।।

প্রণাম মন্ত্রঃ
নমস্তে নরসিংহায় প্রহ্লাদাহ্লাদ দায়িনে।
হিরণ্যকশিপো র্বক্ষঃ শিখাটঙ্ক নখালয়ে।।
ইতো নৃসিংহঃ পরতো নৃসিংহ
যতো যতো যামি ততো নৃসিংহো।
বহির্নৃসিংহো হৃদয়ে নৃসিংহো
নৃসিংহমাদিং শরণং প্রপদ্যে।।
তব কর কমলবরে নখমদ্ভূতশৃঙ্গম্
দলিতহিরণ্যকশিপু তনুভৃঙ্গম।
কেশব ধৃত-নরহরিরূপ জয় জগদীশ হরে।।

বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের মানুষকে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা ও দ্রুত এর বিস্তাররোধকল্পে পরমেশ্বর ভগবান নৃসিংদেবের নিকট আকুলভাবে প্রার্থনা করুন।

ভক্তবৎসল, তাঁর শরণাগত ভক্তের সর্ববিঘ্ন বিনাশক পরমেশ্বর ভগবান নৃসিংহদেবের জয় হোক। 🙏🙏
জয় ভক্তশ্রেষ্ঠ শুদ্ধভক্ত প্রহ্লাদ মহারাজ।🙏🙏

নৃসিংহ চতুর্দশী আগামীকাল ৬ মে বুধবার। নৃসিংহ চতুর্দশী ব্রত থাকলে কি হয়, আসুন তা ভগবান নৃসিংহদেব হতে জেনে নেই,হে প্রহ্লাদ...
05/05/2020

নৃসিংহ চতুর্দশী আগামীকাল ৬ মে বুধবার।

নৃসিংহ চতুর্দশী ব্রত থাকলে কি হয়, আসুন তা ভগবান নৃসিংহদেব হতে জেনে নেই,

হে প্রহ্লাদ আমার ব্রতের প্রভাব শোন। সৃষ্টি শক্তি লাভের উদ্দেশ্যে ব্রহ্মা আমার এই চতুর্দশী ব্রত পালন করেছিলেন। ত্রিপুরাসুরকে বধের উদ্দেশ্য মহাদেব এই ব্রত পালন করেছিলেন, স্বর্গ সুখ লাভের জন্যই এই দেবতারা আগের জন্মে আমার ব্রত করেছিলেন।

বেশ্যাও আমার ব্রত প্রভাবে ত্রিলোক সুখচারিনী হয়েছে। যে সমস্ত মানুষ আমার এই শ্রেষ্ঠ ব্রত পালন করবে, শতকোটি কল্পেও তাদের সংসারে পুরনাগমন নেই।

আমার ব্রত প্রভাবে অপুত্রক ভক্তপুত্র লাভ করে, দরিদ্র ধনশালী হয়। তেজঃস্কামী তেজ লাভ করে। রাজ্য কামী রাজ্য পায়। আয়ুক্ষামী দীর্ঘায়ু লাভ করে।

স্ত্রীলোকেরা আমার এই চতুর্দশী ব্রত পালন করলে ভাগ্যবতী হয়, এই ব্রত সৎপুত্র প্রদ, অবৈধব্যকর ও পুত্রশোক বিনাশক, দিব্য সুখপ্রদ। স্ত্রী-পুরুষ যারা এই উত্তমব্রত পালন করে, তাদের আমি সুখ ও ভুক্তি-মুক্তি ফল দান করি।

★☞আপনি নিজে এই মহাব্রত পালন করুন এবং অন্যকে পালন করতে সাহায্য করুন!

....হরিবোল....

 #শ্রীনৃসিংহ_চতুর্দশী_ব্রতোপবাস ২৩বৈশাখ ৬মে বুধবার শ্রীনৃসিংহ চতুর্দশীর পারণ পরাহে মায়াপুর পূর্ব্বাহ্ন ৯ঃ২৫ মধ্যে। এবং ব...
05/05/2020

#শ্রীনৃসিংহ_চতুর্দশী_ব্রতোপবাস
২৩বৈশাখ ৬মে বুধবার
শ্রীনৃসিংহ চতুর্দশীর পারণ পরাহে মায়াপুর পূর্ব্বাহ্ন ৯ঃ২৫ মধ্যে।
এবং বাংলাদেশে পূর্ব্বাহ্ন ৯ঃ৫৫ মধ্যে।

শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জিয়ড়নৃসিংহ দর্শনে স্তুতিঃ—
শ্রীনৃসিংহ, জয় নৃসিংহ, জয় জয় নৃসিংহ।
প্রহ্লাদেশ জয় পদ্মমুখপদ্মভৃঙ্গ॥
"শ্রীনসিংহদেবের জয় ! প্রহ্লাদ মহারাজের ঈশ্বর শ্রীনৃসিংহদেবের জয়, ভ্রমরের মতাে তিনি নিরন্তর তাঁর বক্ষবিলাসিনী লক্ষ্মীদেবীর মুখপদ্ম দর্শন করেন।"
( সূত্রঃ শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত, মধ্যলীলা, ৮/৫ )

শ্রীমদ্ভাগবতের টীকায় শ্রীধর স্বামীপাদ বিঘ্নবিনাশ ভগবান শ্রীনৃসিংহের প্রার্থনা করেছেন—

বাগীশা যস্য বদনে লক্ষ্মীর্যস্য চ বক্ষসি।
যস্যাস্তে হৃদয়ে সম্বিৎ তং নৃসিংহং অহং ভজে॥
"বাগদেবী সরস্বতী সর্বদা নৃসিংহদেবের সহযােগিতা করেন এবং লক্ষ্মীদেবী সর্বদা তাঁর বক্ষে বিরাজ করেন। তিনি সর্বদা সম্বিৎ শক্তিতে পূর্ণ ! আমি সেই শ্রীনৃসিংহদেবকে ভজনা করি।"
প্রহ্লাদহৃদয়াহ্লাদং ভক্তাবিদ্যাবিদারণম্।
শরদিন্দুরুচিং বন্দে পারীন্দ্রবদনং হরিম্॥
"প্রহ্লাদের হৃদয়ে আহ্লাদ প্রদানকারী, ভক্তদের অবিদ্যা নিবারণকারী, শ্রীনৃসিংহদেবকে আমি বন্দনা করি। তাঁর কৃপা শরৎকালের পূর্ণচন্দ্রের জ্যোৎস্নার মতাে বিতরিত হয়। তাঁর মুখমণ্ডল সিংহের মতাে, তাঁকে আমি আমার সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করি।"
উগ্রোহপ্যনুগ্র এবায়ং স্বভক্তানাং নৃকেশরী।
কেশরীব স্বপােতানামন্যেষামুগ্ৰবিক্ৰমঃ॥
"কেশরী যেমন উগ্রবিক্রম হওয়া সত্ত্বেও স্বীয় সন্তানদের প্রতি শান্ত এবং কোমল, নৃসিংহদেবও তেমনই হিরণ্যকশিপু প্রভৃতি অসুরদের প্রতি উগ্র হলেও প্রহ্লাদ আদি ভক্তের প্রতি অনুগ্র ( স্নেহপূর্ণ )।"

শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু স্বয়ংই শ্রীপাদ সনাতন গোস্বামী প্রভুকে বলিয়াছেন—
একাদশী, জন্মাষ্টমী, বামনদ্বাদশী।
শ্রীরামনবমী আর নৃসিংহ-চতুর্দ্দশী॥
এই সবে বিদ্ধা-ত্যাগ, অবিদ্ধা-করণ।
অকরণে দোষ, কৈলে ভক্তির লভন॥
"একাদশী, জন্মাষ্টমী, বামনদ্বাদশী, রামনবমী এবং নৃসিংহ-চতুর্দশীব্রত পালন করার নির্দেশ দিও।"
"একাদশীতে অরুণোদয়-বিদ্ধা ত্যাগ এবং অন্যব্রত সূর্যোদয়-বিদ্ধা ত্যাগ করে অবিদ্ধ ব্রতই পালনীয়। বিদ্ধ-ব্রত পালনে 'দোষ' হয়, আর অবিদ্ধ ব্রত পালনেই 'ভক্তি' হয়।"

( সূত্রঃ শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত, মধ্যলীলা, ২৪/৩৪১-৩৪২ )

শ্রীনরসিংহ চতুর্দশী বার্তা।—বৈশাখের শুক্লা চতুর্দশী তিথিযোগে শ্রীনরসিংহদেবকে অর্চনা করিয়া মহোৎসব করা একান্ত কর্তব্য।

শ্রীনৃসিংহ চতুর্দশী ব্রতের নিত্যতা।— বৃহৎনারসিংহ পুরাণে শ্রীহরি নৃসিংহ প্রহ্লাদ সংবাদে লিখত আছে হে প্রহ্লাদ! যাহারা ভব ভয়ে ভীতু, তাহারা আমার প্রীতির জন্য এই অতি গোপনীয় বৈশাখী শুক্লা চতুর্দশী তিথিকে উত্তম যোগ ভাবিয়া আমাকে পূজার্চনা করিবে।
আর লিখিত আছে যে, আমার এই দিবস বিদিত হইয়াও যে ব্যক্তি ব্রত লঙ্ঘন করে তাহাকে পাতকে ( নরকে ) নিমজ্জিত হইতে হয়। সুতরাং জ্ঞাত হইয়া মদ্দিনে ব্রতোত্তমের অনুষ্ঠান করিবে ; নতুবা চন্দ্র-সূর্য্যের স্থিতিকাল যাবৎ নিরয়বাস করিতে হয়।

চতুর্দশী ব্রতের অধিকারী নিরূপণ।—উক্ত পুরাণে লিখিত আছে সকল মানুষই আমার ব্রতের অধিকারী। বিশেষতঃ যাহারা আমার ভক্ত ও বৈষ্ণবগণের ব্রতাচরণ অবশ্য কর্তব্য।

অতঃপর নৃসিংহ চতুর্দশী ব্রতের মাহাত্ম্য কথিত হইতেছে।—উক্ত পুরাণেই প্রহ্লাদের উক্তি আছ, হে ভগবন্! হে বিষ্ণো! হে নৃসিংহমূর্তে!
আপনাকে প্রণাম করি। হে সুরেশ্বর! আমি জিজ্ঞাসা করছি, হে প্রভু, তোমার প্রতি আমার ভক্তি কিরূপ উৎপন্ন হল? কিরূপ আমি তোমার প্রিয় ভক্ত হলাম?
শ্রীনৃসিংহদেব বললেন, হে মহামতে! হে বৎস! মদ্ভক্তি ও মৎ-প্রিয়ত্বলাভের কারণ বলিতেছি, অবহিত হইয়া শ্রবণ কর। হে তাত! পূর্বজন্মে তুমি ব্রাহ্মণকুলে জন্মগ্রহণ করিয়াছিলে, কিন্তু কিছুমাত্র অধ্যয়ন কর নাই। তুমি বসুদেব নামে প্রথিত ছিলে এবং নিরন্তর বেশ্যাসক্ত হইয়া দিন যাপন করিতে। সে জন্মে তোমার কোন পুণ্যকর্ম ছিল না, মদ্ব্রত বিসর্জন পূর্বক কেবলমাত্র বেশ্যায় আসক্ত হইয়াছিলে। পরে মদ্ব্রতেরপ্রসাদেই এতাদশী ভক্তি প্রাপ্ত হইয়াছ। প্রহ্লাদ–বলিলেন, হে নৃসিংহ! হে অচ্যু! হে প্রভো! আমি কাহার তনয় ছিলাম, কি কার্যই বা করিয়াছিলাম, বেশ্যাসক্ত থাকিয়াই বা কিরূপে ত্বদ্ব্রতের অনুষ্ঠান করিলাম? এই সমস্ত সবিস্তার প্রকাশ করুন।

শ্রীনৃসিংহদেব বলিলেন, হে তাত! পুরাকালে অবন্তীনগরে সর্বজনপ্রথিত বসুশর্মা নামে জনৈক বেদবিচক্ষণ ব্রাহ্মণ বাস করিতেন। তিনি প্রত্যহ হোমানুষ্ঠানে রত ও নিখিল বৈদিকক্রিয়ায় নিরত ছিলেন। তিনি অগ্নিষ্টোমাদি যজ্ঞসমূহ দ্বারা দেবতোদ্দেশ্যে যাগানুষ্ঠান করিতেন। জীবিতাবস্থায় তাঁহার কোনরূপ দুষ্ক্রিয়াই নেত্রগোচর হয় নাই। সুশীলা নাম্নী তদীয় পত্নী নিরন্তর সদাচারানুষ্ঠান ও পতিভক্তি প্রদর্শন করাতে ত্রিলোকে প্রসিদ্ধি প্রাপ্ত হইয়াছিলেন। কালসহকারে সেই বিপ্রের ঔরসে সুশীলার উদরে পাঁচটি পুত্রের উৎপত্তি হইল। পুত্রগণ বিদ্যায় বিচক্ষণ, সদাচারপরায়ণ ও পিতৃভক্তিমান হইল; কিন্তু তন্মধ্যে সর্ব কনিষ্ঠ নিরন্তর বেশ্যারত হইয়া উঠিল। তুমিই সেই কনিষ্ঠ সন্তান।

তুমি নিরন্তর বেশ্যারত থাকাতে মদ্যপানে ও পাপকর্যে লিপ্ত হইয়া কিঞ্চিন্মাত্রও অধ্যয়ন করিলে না, নিরন্তর বেশ্যালয়েই তোমার বাস হইল। একদিন সেই বেশ্যার সহিত তোমার তুমুল কলহ সংঘটিত হইল, সেইহেতু সেদিন তুমি নিরাহারে অবস্থান করিলে। সেইদিন অজ্ঞানবশে ত্বদীয়কর্তৃক মদব্রতরাজের অনুষ্ঠান হয় এবং সেই বেশ্যাসহ কলহ নিবন্ধন নিশাজাগরণও ঘটিয়া উঠিল। তোমার সঙ্গ নিবন্ধন সেই বেশ্যা কর্তৃকও ব্রতাদি সমস্ত আচরিত হয় এবং নিশাজাগরণ বশতঃ ত্বদীয় দেহও পবিত্র হইল। এই প্রকারে তুমি অজ্ঞানে বহুপুণ্যপ্রদ মদ্ব্রত অনুষ্ঠান করিয়াছিলে।

এই ব্রত করিয়াই সুরগণ অধুনা সুরধামে আনন্দ ভোগ করিতেছেন। ব্রহ্মাও মদীয় এই ব্রত সাধন করেন, এই ব্রতের প্রসাদেই তিনি চরাচর বিশ্বের স্রষ্টা হইয়াছেন। মহেশ্বর ত্রিপুরাসুর বিনাশার্থ এই ব্রতের অনুষ্ঠান করিয়া ইহারই প্রসাদে উক্ত দানবকে বধ করেন। অন্যান্য বহুসংখ্যক দেবতা, প্রাচীন ঋষি ও মহামতি নৃপতিগণ এই ব্রতোত্তমের অনুষ্ঠান করিয়াছিলেন। এই ব্রতের প্রসাদে সকলেই সিদ্ধিলাভ করিয়াছেন এবং বেশ্যাও ইহার প্রসাদে ত্রিভুবনসুখচারিণী ও মদীয় প্রিয়পাত্রী হইয়াছে। হে তাত! আমার এই ব্রত ত্রিভুবনে বিদিত, ধূর্ত বিলাসিনী নারীর জন্যও এই ব্রত উপস্থিত হয় অর্থাৎ তাহারাও এই ব্রত করিয়া তৎফল লাভ করিতে পারে। হে প্রহ্লাদ! এই কারণেই আমার প্রতি ত্বদীয় উত্তমা ভক্তি জন্মিয়াছে।

সেই বেশ্যা সুরপুরে অপ্সরারূপে বহুবিধ ভোগ সম্ভোগ করিয়া আমাতে বিলীনা হইয়াছে, তুমিও আমাতে প্রবেশ কর। কার্যসাধনার্থ মদীয় দেহ হইতে পৃথক হইয়াই তোমার এই অবতার হইয়াছে, তুমি আবশ্যকীয় কর্ম সম্পাদন পূর্বক আশু আমাতে প্রবিষ্ট হইবে। মদীয় এই ব্রতরাজের অনুষ্ঠান করিলে শতকোটি কল্পেও আর সংসারে পুনরাগমন করিতে হয় না। এই ব্রতের প্রসাদে পুত্রহীনের পরম সুন্দর মদ্ভক্ত পুত্র লাভ হয়, দীনজন কুবের সদৃশ লক্ষ্মীমান হইতে পারে এবং তেজস্কামী তেজ, রাজ্যেচ্ছু রাজ্য ও আয়ুষ্কামী শিবসদৃশ দীর্ঘায়ু প্রাপ্ত হয়। এই ব্রত নারীগণের পক্ষে অতি বিশুদ্ধ, পুত্রপ্রদ, সৌভাগ্যজনক অবৈধব্যকর, সুতশোকনাশন, ধনধান্যপ্রদ, স্বামীহিতকর ও পবিত্র। এই ব্রত করিলে তৎপ্রসাদে নারীগণ সার্বভৌমানন্দ ও স্বর্গসুখ প্রাপ্ত হইতে পারে। হে প্রহ্লাদ! এই ব্রতোত্তমের অনুষ্ঠান করিলে কি নর কি নারী সকলকেই সুখ ও ভুক্তি-মুক্তি-ফল অর্পণ করিয়া থাকি। হে তাত! এই ব্রত-ফলের বিষয় অধিক আর কি বলিব, ইহার ফল অর্পণে আমার বা শিবেরও শক্তি নাই; বিধাতা আজীবন চতুর্মুখে কীর্তন করিতেও সক্ষম নহেন। উক্ত স্থলে ব্রতবিধিকথনে আরও লিখিত আছে যে, কলিকাল যখন যখন পাপের উদ্ভব হয়, তখন তখনই মানবগণ এই বিরল ব্রতের বিধান করেন। এই ব্রতানুষ্ঠান করিলে দুরাত্মা ও নিরন্তর পাপলিপ্ত ব্যক্তিগণেরও মতি বিরুদ্ধ ধর্মে প্রবর্তিত হয় না। হে তাত! এইরূপ বিবেচনা করিয়া বৈশাখের শুক্লা চতুর্দশীতে সর্বপাপহরা মদ্ব্রত করা কর্তব্য।
এই চতুর্দশী ব্রত পালন করিলে মহাত্মা মনুষ্যগণ সহস্র দ্বাদশী ব্রতের ফল প্রাপ্ত হইয়া থাকে। হে প্রহ্লাদ! কখনও আমার বাক্য মিথ্যা মনে করিবে না।
উক্ত প্রকরণের শেষ ভাগে লিখিত আছে, ভক্তিসহকারে এই পাপ হরণকারী ব্রত কথা শ্রবণ করিলে ব্রহ্মহত্যা পাপের বিমোচন হয়। এই গোপনীয় পবিত্র ব্রত আচরণ করিলে এবং কীর্তন করিলে কীর্তনকারীর যাবতীয় অভিষ্ট পূর্ণ হয়।

অতঃপর নৃসিংহচতুর্দশী-ব্রতের দিননির্ণয় হইতেছে।—আগমে লিখিত আছে, বৈশাখী শুক্লা চতুর্দশী মহাতিথির সন্ধ্যা-সময়ে প্রহ্লাদের প্রতি (তৎপিতার) ধিক্কার (তাড়না) সহ্য করিতে না পারিয়া পরমপুরুষ শ্রীহরি তৎক্ষনাৎ কটকটা শব্দে সভাস্থ সকলকে চমকিত করিয়া লীলাবশে স্তম্ভাভ্যন্তর হইতে ভীষণ শব্দ সহকারে প্রাদুর্ভূত হইলেন। নৃসিংহদেব অবতীর্ণ হইয়াছিলেন বলিয়া এই মহাপুণ্য স্বরূপা তিথিতে উপবাসী থাকিয়া সন্ধ্যা-সময়ে সযত্নে শ্রীজনার্দনের অর্চনা করা কর্তব্য। বৃহৎনারসিংহ-পুরাণে নৃসিংহদেবের উক্তি আছে, বৈশাখী শুক্লা চতুর্দশীতে মদীয় জন্ম হেতু সমুদ্ভূতা, পাপহরা, পুণ্য ব্রতের অনুষ্ঠান করিবে। আরও লিখিত আছে, দৈবাৎ স্বাতীনক্ষত্র-সমন্বিত শনিবারে বা সিদ্ধি যোগের সংযোগে মদ্ব্রত হইলে উক্ত ব্রত হত্যাকোটিজনিত পাপ ধ্বংস করিয়া দেন।
উক্ত যোগ না ঘটিলে ফলেচ্ছু ব্যক্তিরা কেবলমাত্র শুদ্ধা চতুর্দশীতে উপবাস করিবেন। ত্রয়োদশী-বিদ্ধা চতুর্দশীতে উপবাস করা বৈষ্ণবের অকর্তব্য। আগমে লিখিত আছে, কুজবারে ( মঙ্গলবারে ) মৎপ্রীতিকরী চতুর্দশী হইলে তাহাতে মদ্ব্রতানুষ্ঠান নিখিলপাপনাশন জানিবে। ত্রয়োদশীবিদ্ধা চতুর্দশীতে কুজবার বা স্বাতীনক্ষত্রের যোগ হইলেও সে দিনে ব্রত অকরণীয়।

এক্ষণে নৃসিংহচতুর্দশী ব্রতের বিধান কথিত হইতেছে।—শ্রীনৃসিংহ বলিলেন, হে তাত! প্রভাতে গাত্রোত্থান করিয়া দশনধাবন পূর্বক আমাকে হৃদয়ে স্মরণ করিতে করিতে নিয়ম গ্রহণ করিবে।
উক্ত নিয়মমন্ত্র।—হে নৃসিংহ! হে মহাভীম! মৎপ্রতি কৃপা প্রদর্শন করুন, আমি অদ্য ত্বদ্ব্রতের অনুষ্ঠান করিতেছি, ইহা নিরাপদে সম্পন্ন করিয়া দিবেন। পাপীগণের সহিত আলাপ করা ব্রতদিনে ব্রতীর অনুচিত। যিনি ব্রতের সম্পূর্ণ ফল কামনা করেন, মিথ্যালাপ করা তাঁহার পক্ষে অকর্তব্য।
মহানুভব ব্রতীজন একেবারে ভার্যা ও দ্যূতক্রীড়া বিসর্জন পূর্বক সমস্ত দিবস মদীয় রূপ স্মরণ করিবেন। তৎপরে সুধী ব্যক্তি মধ্যাহ্ন সময়ে নদী প্রভৃতি বিমল সলিলে বা গৃহে অথবা দেবখাতে কিম্বা মনোরম তড়াগে বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ সহকারে স্নান করিবেন। কিম্বা মহানুভব ব্রতী মৃত্তিকা, গোময়, আমলকী ফল দ্বারা বা সর্বপাপহর তিল দ্বারা স্নান করিয়া বিশুদ্ধ-ভাবে বসনযুগল পরিধান পূর্বক নিত্যক্রিয়ার অনুষ্ঠান করিবেন। তদনন্তর ভক্তিমান হইয়া আমাকে ধ্যান করিতে করিতে গৃহে প্রত্যাগত হইবে। পরে গোময়োপলিপ্ত ভূমির উপর অষ্টদল পদ্ম অঙ্কিত করিয়া তাহাতে সরত্ন তাম্রকুম্ভ স্থাপন পূর্বক তদুপরি অক্ষতপূর্ণ পাত্র স্থাপন করিবে। তদুপরি শ্রীনৃসিংহদেবের ও লক্ষ্মী দেবীর স্বর্ণমূর্তি স্থাপন করিতে হয়।
অর্থ বিষয়ে কৃপণতা পরিত্যাগ করিয়া সামর্থ্যনুসারে এক পল, অর্ধ পল বা তদর্ধ পল স্বর্ণ দ্বারা শ্রীনৃসিংহ ও লক্ষ্মী দেবীর মূর্তি নির্মাণ করিয়া পঞ্চামৃতে স্নান করাইয়া স্থাপনপূর্বক অর্চনা করিবে।
অনন্তর লোভহীন, শাস্ত্রদর্শী, দান্ত, শান্ত, জিতেন্দ্রিয়, দ্বিজাতিকে আমন্ত্রণ করিয়া আচার্যপদে বরণ করিবেন। শাস্ত্রানুযায়ী তাঁহার দ্বারা অর্চনা করাইবেন। আচার্যের বচনানুসারে ব্রত উপবাস করিয়া পূজা করাই বুদ্ধিমানের উচিত।

প্রহ্লাদ অর্চনা।—আগমে লিখিত আছে, শ্রীপ্রহ্লাদের দুঃখ নাশ করার জন্য যে পবিত্রা চতুর্দশীর উদ্ভব সেই তিথিতে শ্রীনৃসিংহদেবকে পূজা করার পূর্বে সযত্নে ভক্ত শ্রীপ্রহ্লাদের পূজা করা কর্তব্য।
বৃহৎনারসিংহ পুরাণে লিখিত আছে, ঐ স্থানে কুসুমস্তবক দ্বারা মদীয় মূর্তি প্রস্তুত করিয়া ঋতুকালজাত পুষ্প দ্বারা বিধানে অর্চনা করিবে।

মদীয় মন্ত্র, মদীয় নাম ও পৌরাণিক মন্ত্র সমূহ উচ্চারণ করিয়া বিশেষ প্রকারে ষোড়শোপচারে মদীয় অর্চনা করিতে হয়।
তন্মধ্যে চন্দনদানমন্ত্র কথিত হইতেছে।—হে নৃসিংহ! হে পরমেশ্বর! আপনার প্রীত্যর্থ কর্পূর কুঙ্কুমান্বিত উত্তম শীতল চন্দন অর্পণ করিলাম।
উক্ত পূজার পুষ্পদান-মন্ত্র।—হে নৃসিংহ! হে ঈশ! যথাকালজাত কুসুম ও তুলসীদল দ্বারা আপনার ও লক্ষ্মী-দেবীর অর্চনা করিতেছি, আপনাকে প্রণাম।
উক্ত পূজার ধূপদানমন্ত্র।—হে মহাবিষ্ণো! নিখিল কামসমৃদ্ধি লাভের জন্য সর্বদেব-দুর্লভ কালাগুরুধূপ আপনাকে প্রদান করিলাম।
উক্ত পূজার দীপদানমন্ত্র।—দীপ দ্বারা পাতকনাশ ও অন্ধকাররাশি বিনাশ পায়, দীপ দ্বারা তেজোলাভ হয়; সুতরাং আপনাকে দীপ অর্পণ করিতেছি।
উক্ত পূজার নৈবেদ্যদানমন্ত্র।—হে লক্ষ্মীপতে! হে রমাকান্ত! ভক্ষ্য ভোজ্যযুক্ত সুখকর নৈবেদ্য আপনাকে প্রদান করিতেছি, আপনি নিখিল পাতক দূর করুন।
উক্ত পূজার অর্ঘ্যদানমন্ত্র।—হে নৃসিংহ! হে অচ্যুত! হে রমাকান্ত! হে বিশ্বপতে! আপনাকে এই অর্ঘ্য সমর্পণ করিতেছি, ইহার প্রসাদে আমার মনোরথ সফল হউক।
অনন্তর পূজামন্ত্র।—হে পীতাম্বর! হে মহাবিষ্ণো! হে প্রহ্লাদভয়হারিন্! হে নাথ! চতুর্দশী পূজনে যথাবিহিত ফল প্রদান করুন।
অনন্তর গীত ও বাদ্য সহযোগে নিশাকালে জাগরণ, পুরাণাদি পাঠ, নৃত্য ও আমার কথা শ্রবণ করিয়া অতিবাহিত করিবে।

তদনন্তর প্রভাতে স্নানান্তে নিরলস হইয়া পূর্ব কথিত বিধানে সযত্নে আমাকে অর্চনা করিতে হয়। আরও লিখিত আছে, হে দেবেশ! যাহারা আমার বংশে জন্ম গ্রহণ করিয়াছে অথবা আমার সাক্ষাতে ( পরে ) জন্ম গ্রহণ করিবে, তাহাদিগকে দুঃসহ সংসার-সমুদ্র হইতে পরিত্রাণ কর। হে শেষশায়িন্! হে বিশ্বপতে! আমি ভবসাগরে নিমগ্ন হইয়াছি, ভীষণ ব্যাধিরূপ দুঃখসলিলে পরাভূত হইয়াছি এবং মহাদুঃখে নিমগ্ন হইয়াছি, আপনি আমাকে করাবলম্বন অর্পণ করুন। হে নৃসিংহ! হে রমাপতে! হে ভক্তভয়ভঞ্জন! হে ক্ষিরোদবাসিন! হে জনার্দন! হে দেব! এই ব্রত দ্বারা আপনি আমার প্রতি সন্তুষ্ট হইয়া ভুক্তি মুক্তি প্রদান করুন। একইরূপে প্রার্থনা করিয়া বিধানে প্রভুকে বিসর্জন পূর্বক উপহার প্রভৃতি যাবতীয় দ্রব্য আচার্যকে নিবেদন করিবে। তৎপরে দক্ষিণা প্রভৃতি দ্বারা সম্যকরূপে দ্বিজাতিগণকে সন্তুষ্ট করিয়া বিদায় করিবে এবং আমার ধ্যান নিবিষ্ট হইয়া বন্ধুবর্গের সহিত আহার করিবে।

( সূত্রঃ শ্রীহরিভক্তিবিলাস, ১৪/৪১৪-৪৯০)

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sanatan Dharmakotha - সনাতন ধর্মকথা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share