03/01/2023
ধর্মান্ধ চেনার সহজ উপায় হলো মানব রচিত গ্রন্থের পক্ষে দাঁড়িয়ে কুরআনের বিরুদ্ধে প্রশ্ন উত্থাপন ও কুরআনকে অস্পষ্ট সন্দেহজনক প্রমান করার চেষ্টা করা।অমুক হতে বর্ণিত,তমুক হতে বর্ণিত ব্যক্তির কথা তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলেও আল্লাহ হতে কি বর্ণিত তা জানা নাই।তাই আল্লাহ প্রশ্ন করেছেন, হাদিস বর্ণনাকারি হিসেবে আল্লাহর চাইতে আর কে সত্যবাদী?এরপর তোমরা কোন কিতাবে বিশ্বাস করবে?তোমাদের কাছে কি অন্য কোন কিতাব আছে যাতে তোমাদের যা পছন্দ তোমরা তাই পাও?(সুরা ৪৫ আয়াত ৬)
কুরআন সমস্ত মানুষের জন্য প্রকৃত জ্ঞানের সমষ্টি এবং যারা দৃঢ় বিশ্বাস রাখে, তাদের জন্য পথনিদেশ ও রহমত।(সুরা জাসিয়াহ,আয়াত ২০)
[জ্ঞানের সমষ্টি?আমাদের জ্ঞান তো হাদিস,নেকি আর খতমে আর তেলাওয়াত সহীত আটকে গেছে]
নিশ্চয় আমি তোমাদের প্রতি এক কিতাব নাযিল করেছি,যাতে তোমাদের জন্য উপদেশ রয়েছে,তবুও কি তোমরা বুঝবে না?(সুরা আম্বিয়া আয়াত ১০)
[না বুজবো না,আমরা হুজুর ভাড়া করে দ্রুত কুরআন খতম করে সোয়াব কামাবো,আমার বাপ,দাদা আশে পাশের সবাই তাই করে,সো আমিও তাই করবো।]
কুরআন উপদেশ গ্রহণের জন্য সহজ।আমি কুরআন কে সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য,
উপদেশ গ্রহণ করার কেউ আছে কি?(সুরা ৫৪: আয়াত ১৭,২২,৩২,৪০)
[কি বলে,কুরআন বুজা কঠিন,আরবি ব্যকরন জানা লাগবে,হাদিস লাগবে,না হলে আমি কি পড়িয়ে মাদ্রাসা ব্যাবসা চালাবো?হাফেজ,আল্লামা,আলেম, মাওলানা,মুফতি,মুহাদ্দিস টাইটেল আর র্যাংক কিভাবে দিব?]
আল্লাহ মানুষকে জাজ করবেন তার সৎকর্ম দ্বারা কোন র্যাংক দ্বারা নয়।তাও আল্লাহ কুরআনে বলে দিয়েছেন,যারা আমার সাক্ষাৎ কামনা করে তারা যেন সৎকর্ম করে।এই দেখেন আমার ফোনে।
[এই ফোন,ইন্টারনেট হারাম,এগুলো ইহুদা নাসারাদের তৈরি।এগুলো যারা ব্যবাহার করে তারা জাহান্নামি।]
আল্লাহ কোন ব্যক্তিকে হারাম বলার বা শাস্তির বিধান দেওয়ার অধিকার দেননি বরং আল্লাহ ব্যক্তিকে
অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন আর বলেছেন, বিধান দেবার ক্ষমতা শুধু আল্লাহর। (সুরা ইউসুফ আয়াত ৪০,সুরা আল মুমিনুল,আয়াত ৩৪)
বল-তোমরা কি ভেবে দেখেছ আল্লাহ যে রিযক তোমাদের জন্য পাঠিয়েছেন, তোমরা তার কতক গুলোকে হারাম আর কতককে হালাল করে নিয়েছ। বল,আল্লাহ কি তোমাদেরকে এর অনুমতি দিয়েছেন? না তোমরা আল্লাহর উপর মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছ(সুরা ১০,আয়াত ৫৯)
আর তোমাদের জিহবা দ্বারা বানানো মিথ্যার উপর নির্ভর করে বলো না যে,এটা হালাল এবং এটা হারাম, আল্লাহর উপর মিথ্যা রটানোর জন্য। নিশ্চয় যারা আল্লাহর উপর মিথ্যা রটায়, তারা সফল হবে না।
(সুরা নাহল,আয়াত ১১৬)
কিন্তু আমরা অন্ধভাবে ব্যক্তিকে অনুসরন ও তার দেয়া বিধানকে বাস্তবায়ন করতে যেয়ে ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য থেকে দূরে সরে গিয়ে,আমাদের জীবন জটিল করে ফেলেছি।
ব্যক্তির বক্তব্য না শুনে,আল্লাহ কি বলছে তা শুনুন
ব্যক্তি বলছে,তিন জুম্মা জামাতে না পড়লে আপনি মুমিন থাকবেন না আর আল্লাহ কুরআনে বলছেন,
আপনি দুনিয়ায় বুকে নম্রভাবে চলাফেরা না করলে আপনি প্রকৃত মুমিন নন।আপনি যদি প্রতিশ্রুতি বা ওয়াদা রক্ষা না করেন তাহলে আপনি মুমিন থাকবেন না।"যারা দুনিয়াতে নম্রভাবে চলে তারাই মুমিন"
(সুরা লুকমান আয়াত ১৮)
ব্যক্তি আপনাকে নামাজ দিয়ে মুমিনের লিস্ট থেকে বাদ দিল আর ব্যক্তির বিধান শুনতে গিয়ে আপনার জানা হলো না,আল্লাহ কাদের মুমিনের লিস্ট থেকে বাদ দিয়েছেন।এজন্য আল্লাহ,
আল্লাহর কথা বলে যারা টাকা নেয়,তাদের অনুসরন করতে নিষেধ করেছেন,কেননা তাদের কাছ থেকে আপনি সরল সঠিক পথের সন্ধান পাবেন না।এখন আবার আপনি আল্লাহর এই কথাকে ডিফেন্ড করবেন আবেগ দিয়ে।হুজুরা টাকা নিলেই দোষ,জ্বী তাহলে এই আয়াতটা আপনার জন্য
আর যারা আমার আয়াতসমূহকে ব্যর্থ করে দেয়ার চেষ্টা চালায়, তাদেরই জন্য রয়েছে কঠোর পীড়া দায়ক আযাব।( সুরা আস সাবাহ,আয়াত ৫)
কিন্তু এই আয়াতকে পাশ কাটিয়ে আপনি ঝগড়া করবেন,ওই মিয়া আপনি নিরুৎসাহিত করতেসেন!তাই আল্লাহ বলেছেন,আমি সব বিস্তারিত বলার পরও মানুষ তর্ক প্রিয়।
আর আমি এই কুরআনে মানুষের জন্য সকল প্রকার
উপমা বিস্তারিত বর্ণনা করেছি। আর মানুষ সবচেয়ে বেশি তর্ককারী। সুরা আলকাহাফ আয়াত ৫৪
যারা মনোনিবেশ সহকারে কথা শুনে, অতঃপর যা উত্তম, তার অনুসরণ করে। তাদেরকেই আল্লাহ সৎপথ প্রদর্শন করেন এবং তারাই বুদ্ধিমান।"
(Az-Zumar 39: Verse 18)আর এটা বরকতময় উপদেশ, যা আমি নাযিল করেছি। তবুও কি তোমরা তা অস্বীকার করবে?(সুরা আল আম্বিয়া আয়াত ৫০)