Hikmah In Islam

Hikmah In Islam Quran is the ultimate source of wisdom Aim to promte quran sunnah related quotes

25/12/2023

ইবনে সিনাতে ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলাম। চেম্বারের সামনে অপেক্ষা করছি, তখনই শুনলাম চিৎকারটা। তাকিয়ে দেখলাম, একজন ক্লিনার একজন ভদ্রলোককে ধমকিয়ে বলছে,

"টয়লেট থেকে বের হওয়ার সময় জুতাটা একটু ঝাড়া দিয়ে আসবেন না! এই মাত্র পুরো ফ্লোর পরিস্কার করলাম। আপনার জুতার কাঁদায় আবার ময়লা হয়ে গেলো।"

আজকাল বড় ছোট, ধনি গরিবের লেহাজ কয়জন করে। তার উপর একজন ক্লিনার ধমকাচ্ছে একজন সুটেড বুটেড ভদ্রলোককে। মনে মনে ভাবলাম, নিশ্চয়ই এখন একটা কাহিনী হবে।

কিন্তু অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম, ভদ্রলোক একটুও রাগ হলেন না। উল্টো ক্লিনারের ঘাড়ে হাত দিয়ে বললেন, সরি ভাই। ভুল হয়ে গিয়েছে। খেয়াল করতে পারি নাই।

ক্লিনার নিজেও প্রস্তুত ছিল না এরকম ব্যবহারের। থতমত খেয়ে বললো, না স্যার সমস্যা নাই। এটা তো আমার ডিউটি।

ডিউটিই যদি হয়, আগে তাহলে কেন চেঁচাল? আর স্যার সম্বোধন! একটু আগেও তো ছিল না।
খারাপ ব্যবহার দিয়ে যা কখনই আদায় করা যেত না, ভদ্রলোক সেই সম্মানটুকু সামান্য একটু ভাল ব্যাবহার দিয়েই আদায় করে নিলেন। সুরা হা-মিম সিজদাতে একটি আয়াত আছে, যার সারমর্ম মোটামুটি এরকম,
উত্তম কিছু দিয়ে মন্দকে প্রতিহত করুন। দেখবেন, আপনার সাথে যার শত্রুতা রয়েছে, সেও হয়ে যাবে যেন আপনার অন্তরঙ্গ বন্ধু। - আয়াত নং ৩৪

আয়াতটা এর আগে অনেকবারই তিলাওয়াত হয়েছে। কিন্তু কখনো বুঝি নি, এর উপর যখন আমল হবে দৃশ্যটা কত সুন্দর হবে!

ওয়া লিল্লাহিল হামদ।

লেখা: রিযওয়ানুল কবীর সানিন

20/05/2023

বৈবাহিক বন্ধন একটি লোভনীয় অফার। আমরা একটু গভীরে চিন্তা করি, বিবাহ জীবনে যদি কোহ্যাবিটেশন অর্থাৎ সঙ্গমের কনসেপ্ট না থাকতো তাহলে প্রত্যেক পুরুষ কখনোই চৈত্রের ভর দুপুরে পরিশ্রম করে অন্য একটি মেয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করতেন না। শুধু সঙ্গম নয় বরং সঙ্গমের মাধ্যমে সিমেন অর্থাৎ বীর্যপাত ঘটিয়ে আমরা অনাবিল প্রশান্তি লাভ করি, সাপোজ কোনভাবে এই অনাবিল প্রশান্তি যদি না থাকতো তাহলে কে বৈবাহিক বন্ধণে আবদ্ধ হতো? উত্তর- কেউ-ই না।
আমরা যাতে করে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হই তাই ছোট্ট এই অনাবিল প্রশান্তির লোভ ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে।

অন্যদিক থেকে বিবেচনা করা যেতে পারে এই যে,
মৃত্যুর পর সবচেয়ে ভয়াবহ যন্ত্রণা হিসেবে যেটাকে সিলেক্ট করা হয়েছে তার নাম 'প্রসব যন্ত্রণা'। তারপরেও নারীরা জননী হতে চায়। এখানেও একটা লোভনীয় অফার দেয়া হয়েছে তাদের মস্তিষ্কে। নারীদের যদি বলা হয়- যাক ভালো হয়েছে তুমি কখনো মা হতে পারবে না। যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়ে গেলে। ঐ নারী কি সত্যিই খুশি হবে? না। বরং প্রত্যেক নারীর জীবনের একমাত্র স্বাদ'ই হলো জননী হওয়া।

বিষয়টা আমার কাছে এক ধরনের রহস্য বলে মনে হয়। যারা তেলাপোকা দেখা ভয় পায়, যারা নরমালি প্রেমের ব্রেক'আপ টলারেট করতে পারে না, তারাও যন্ত্রণা ভোগ করে জননী হতে চায়।

এনালাইসিসের একটু গভীরে যাওয়া যাক-

কোরআনে কারীমে বৈবাহিক সম্পর্কে দুটি শব্দ ব্যবহার করেছে~

সূরা রুমের ২১ নাম্বার আয়াতে বলা হলো- আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও অনুগ্রহের সম্পর্ক স্থাপন করে দিয়েছেন। কোরআন বিবাহিত জীবনকে দুটি শব্দে ব্যাখ্যা করেছে।

১) مودۃ ভালোবাসা।
২) رحمۃ অনুগ্রহ।

আর বাস্তবে দেখা যায় যে বিবাহিত জীবনের দুটি অংশ থাকে, একটি যৌবনের অংশ আরেকটি বার্ধক্যের। ব্যাপারটা মজার না?

যৌবনকালে স্বামী স্ত্রী যদি কোন কারনে পরস্পর ঝগড়ায় লিপ্তও হয় তথাপি সহবাসের কারণে কিছুক্ষণ পরই একত্রে মিলিত হয়। উভয়ের যৌন চাহিদা পরস্পরকে বাধ্য করে মেলামেশার প্রতি।
শুধু বিয়ের পরে না, বিয়ের পূর্বেও এই যৌনতার আসক্তির ফলেই আমরা বিবাহ করি। এজন্য কোরআন এক্ষেত্রে مودۃ বা পারস্পরিক ভালোবাসার শব্দ ব্যবহার করেছে। এর আর একটা অর্থ হলো বন্ধুত্ব। অর্থাৎ বন্ধুর সঙ্গে প্রেম।

কিন্তু বার্ধক্যে উপনীত হওয়ার পর স্বামীর আর স্ত্রীর প্রয়োজন পড়েনা, আর স্ত্রীরও স্বামীর প্রয়োজন পড়েনা। যৌন চাহিদা একদম কমে যায় বা থাকেই না। এই সময় নারীদের মেনোপেজ অর্থাৎ ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যায়। মেজাজ খিটখিটে হয়, পৃথিবীর মতই নারীদের মাথা প্রচন্ড ঘুরতে থাকে সবসময়। কিছুই ভাল লাগে না। খাবারে অরুচি। অন্যদিকে পুরুষের ক্ষেত্রে শরীর দুর্বল, বাচ্চাদের মত আচরণ করা, নিজের লুঙ্গি পর্যন্ত ঠিক রাখতে পারে না। পরস্পরকে জড়িয়ে রাখার যে যৌন সম্পর্ক ছিলো এখন তা শেষ হয়ে গেছে। তাহলে বউকে কি ডিভোর্স দিতে হবে? স্বামীকে ফেলে রেখে চলে যেতে হবে? না।

এবার কোর'আন বলছে - স্বামী স্ত্রীর একত্রে মিলেমিশে থাকার ব্যাপারে কোরআন رحمۃ বা অনুগ্রহ শব্দ ব্যবহার করেছে। অর্থাৎ তখন একে অপরের প্রতি অনুগ্রহশীল হবে, দয়াশীল হবে।স্বামীকে এ কথা ভাবতে হবে যে, আমার স্ত্রী তার পুরো যৌবন আমার জন্য নিঃশেষ করে দিয়েছে, আমার সন্তানদের প্রতি লালন-পালনে কাটিয়ে দিয়েছে। প্রিয় মানুষটি এতটা বছর রান্না করে দিয়েছে আর আমি পেট পুরে খেয়েছি। এই মানুষটি কত রজনী আমার বুকের উপরে শুয়ে তার ফেলে আসা শিকড়ের কথা বলেছে। এর শেকড় এখন আমি। এককথায় যেভাবেই থাকুক এখন তার প্রতি অনুগ্রহশীল থাকতে হবে তাকে দূরে সরিয়ে দেয়া উচিত হবেনা।

এমনিভাবে স্ত্রীও ভাববে যে,স্বামী তার পুরো যৌবন প্রেম-ভালোবাসায় আমাকে জড়িয়ে রেখেছেন, আমার সুখের জন্য, আমার সন্তানের জন্য জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন। এই মানুষটি আমার জন্য বৃষ্টিতে ভিজে অর্থ ইনকাম করেছে, এখন আমার উচিত স্বামীর খেয়াল রাখা,তার প্রতি অনুগ্রহশীল থাকা, তার লুঙ্গি ঠিক করে দেয়া। সবসময় তার পাশে থাকা।

কোর'আনের সৌন্দর্য দেখুন! দাম্পত্যজীবন বা বিবাহিত জীবন সম্পর্কে দুটি শব্দ ব্যবহার করেছে। বন্ধুত্বপূর্ণ ভালোবাসা শব্দটির সম্পর্ক যৌবনকালের সাথে। আর অনুগ্রহ শব্দটির সম্পর্ক বার্ধক্যের সাথে।

(সংগৃহীত)

20/05/2023

সূরা ফুরকানের আলোকে আল্লাহর প্রিয় বান্দা হতে হলে
যে ১৩টি গুনের প্রয়োজনঃ

রহমান রহীম আল্লাহ্ তায়ালার নামে-

১) আল্লাহ তাআলার দাসত্ব করা। (সুরা ফুরকান-৬৩)
২) পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করা। (সুরা ফুরকান-৬৩)
৩) মূর্খজনোচিত আচরণের বিপরীতে শান্তির বার্তা প্রদান করা। (সুরা ফুরকান-৬৩)
৪) সিজদা ও নামাজরত অবস্থায় রাত্রিজাগরণ করা। (সুরা ফুরকান-৬৪)
৫) জাহান্নাম থেকে মুক্তির দোয়া করা। (সুরা ফুরকান-৬৫)
৬) অপচয় ও কার্পণ্য না করা। (সুরা ফুরকান-৬৭)
৭) শিরক থেকে বেঁচে থাকা। (সুরা ফুরকান-৬৮)
৮) অন্যায় হত্যাকাণ্ডে না জড়ানো। (সুরা ফুরকান-৬৮)
৯) ব্যভিচার লিপ্ত না হওয়া। (সুরা ফুরকান-৬৮)
১০) অনৈতিক ও মিথ্যা কাজে যোগদান না করা। (সুরা ফুরকান-৭২)
১১)অসার ক্রিয়াকর্মের সম্মুখীন হলে ভদ্রভাবে পাশ কেটে যাওয়া। (সুরা ফুরকান-৭২)
১২) আল্লাহর নিদর্শনাবলীর আলোচনা করা হলে বধিরের মতো আচরণ না করা। (সুরা ফুরকান-৭৩)
১৩) স্ত্রী-সন্তানের মাঝে চোখের শীতলতা চেয়ে দোয়া করা। (সুরা ফুরকান-৭৪)

উপর্যুক্ত ১৩ গুণে যারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হবেন, তাঁদের কি পুরস্কার দেওয়া হবে, সে ঘোষণা দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন,
‘তাদের ধৈর্য্য ধারণের বিনিময়ে জান্নাতে কক্ষসমূহ দেওয়া হবে এবং সেখানে তাদের অভিবাদন ও সালাম জানানো হবে। সেখানে তারা চিরকাল বসবাস করতে থাকবে। অবস্থান ও আবাসস্থল হিসেবে তা কতই না চমৎকার! (সুরা ফুরকান ৭৫-৭৬)

আল্লাহ তাআলা আমাদের এসব গুণাবলিতে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আসুন নিজে জানি, জেনে আমল করি এবং অন্যকে জানাই।।
©️

19/04/2023

ও আচ্ছা ভুলটা আমারই,আমি ভেবেছিলাম কোরআনের কথা থেকে সবাই উপদেশ গ্রহণ করবে।কিন্তু আল্লাহ বলেই দিয়েছেন,যারা বিবেক বুদ্ধি সম্পন্ন,শুধু তারাই এই কোরআনের কথাগুলো থেকে উপদেশ গ্রহণ করে।
(সূরা রা'দ-১৯)

আল্লাহর দেয়া একটা উপদেশ দেখি,

তোমরা যখন ঋণ দেওয়া-নেওয়া করো,তা লিখে রাখো লেখক বা স্বাক্ষী রেখে ন্যায় ভাবে।আর ঋণ গ্রহণকারীর কঠিন পরিস্থিতিতে তার পরিশোধের সময় বাড়িয়ে দিবে।[বাকারা ২৮২/২৮০]

আমরা এত সুন্দর উপদেশ জানতে বা পালনে জোড় না দিয়ে,তা কেন সুর করে শিখায় সবাই ব্যাস্ত?

শুধু তেলাওয়াত করে আল্লাহর উপদেশ ঢেকে দিয়ে কিভাবে আপনি আল্লাহর হুকুম কায়েম করবেন?

এই জন্যই আল্লাহ বলছেন,তোমাদের পূর্ব ও পশ্চিম দিকে মুখফেরানতে কল্যান নেই,কল্যান আছে সালত প্রতিষ্ঠায়।(সুরা বাকারা) আর ততক্ষন তুমি সালাতে দাঁড়াবে না যতক্ষণ না তুমি বুজতে পারছো,তুমি কি বলছো।(সুরা নিসা আয়াত ৪৩)

আর আমাদের কাছে এই কথাগুলো লুকিয়ে বলা হয়,
চুরি করুন,ডাকাতি করুন বাটপারি করুন কিন্তু নামাজ পড়ুন৷কারন,নামাজ বেহেসতের চাবি৷সারাজীবন আকাম কুকাম করে বেড়াবেন সমস্যা নাই৷শেষ বয়সে এসে একটা মসজিদ,অথবা মাদ্রাসা নির্মান করে যাবেন অথবা একটা সন্তানকে হাফেজ বানাবেন৷তাহলে জান্নাত কনফার্ম। জান্নাত আর কেউ আপনার থেকে কেড়ে নিতে পারবেনা ৷
কিন্তু এভাবে জান্নাত প্রাপ্তির প্রতিশ্রুতি আল্লাহ কই দিয়েছেন?

অন্যের টাকা মেরে দিয়েছেন,ঘুষ,খেয়ে দুর্নিতী করে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন?কোন সমস্যা নাই .......
হাল্কা কিছু টাকা ব্যায় করে স্বামী স্ত্রী দুজনই হজ্ব করে আসুন৷নিষ্পাপ শিশুর মত পাপমুক্ত হয়ে যাবেন৷আবার আলহাজ্ব নামের টাইটেল পাবেন,উপরন্তু ইসলামি অনুষ্টানে সভাপতি হওয়ারও সম্ভাবনা বেশি৷এছাড়া আশি বছরের গুনাহ মাপের দোয়া তো আছেই।

এতিমকে গলা ধাক্কা দিয়েছেন,তার সম্পদ আত্বসাত করেছেন?কোন সমস্যা নাই,,,,,,আল্লাহর ওয়াস্তে মাদ্রাসা নির্মানে 50 বস্তা সিমেন্ট দিন৷নুরের টুপি মাথায় পরিয়ে বিনা হিসেবে জান্নাত৷তাছাড়া"সুবাহানাল্লাহ"পড়ে সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ গুনাহ মাপের সুযোগ তো আছেই।

এইসবই বর্তমান যুগের মৌলিক ইসলামি ধ্যান ধারনা।
মুসলমানেরা কুরআনকে শুধুমাত্র নামাজে পড়ার মন্ত্র হিসেবেই গ্রহণ করেছে।জিবন বিধান হিসেবে নয়।
এছাড়া প্রতি হরফে দশ নেকি পাওয়ার জন্য তেলাওয়াত করে খতম করে আর হাফেজগণ জান্নাতের টিকিট হিসেবে মুখস্থ করে!!

অথচ আল্লাহ কিতাব পাঠিয়েছেন কিতাবে বর্ণিত আদেশ গুলো পালন করতে এবং যা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে তা থেকে বিরত থাকতে।

মোল্লারা কুরআনকে মসজিদের বাইরে কোন কাজেই ব্যবহার করতে চায় না।তাই বর্তমান প্রজন্ম জানেই না কুরআন তাকে সব ক্ষেত্রে পথ নির্দেশনা দিতে পারে।তারা শুধু জানে কুরআনের সুরা একেকটা মন্ত্র যা বিয়ে,কুরবানি, জন্ম,মিত্যু,দোয়াতে মুখস্থ পড়তে হয়।আর সে শুধু জানে নামাজ পড়তে গেলে কোরআনের কিছু সূরা মুখস্ত করতে হবে।ব্যাস!এটুকুই,এর বাইরে কুরআনের আর কোনো ব্যবহার নেই।

আর শুধু কোরআনকে জীবন বিধান হিসেবে মেনে নিলে ধর্মের দোকানদারদের আর ব্যবসা টিকেনা।তাই তারা কোরআনকে একমাত্র জীবন বিধান হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারে না।

আমি তোমাদের কাছে পাঠিয়েছি কুরআন যা বিশ্বাসীদের জন্যে প্রশান্তি ও রহমত স্বরুপ কিন্তু যারা ক্ষমতার অপব্যবহারকারী,জুলুম বা অবিচারকারী,সীমালঙ্গণ কারী,পাপ কিংবা পাপাচারী তাদের তো এই কুরআন কেবল ক্ষতিই বৃদ্ধি করে চলেছে।(সূরা বানী ইসরাঈল-৮২)

Collected

খলিফা হারুন অর রশিদ পানি পান করতে যাবেন, গ্লাস ঠিক ঠোঁটের কাছে নিয়েছেন, এমন সময় হযরত বহলুল (রহঃ) বললেন, "আমিরুল মুমিনীন!...
16/04/2023

খলিফা হারুন অর রশিদ পানি পান করতে যাবেন, গ্লাস ঠিক ঠোঁটের কাছে নিয়েছেন, এমন সময় হযরত বহলুল (রহঃ) বললেন, "আমিরুল মুমিনীন! একটু থামুন। পানি পান করার আগে আমার একটি প্রশ্নের উত্তর দিন।"

খলিফা বললেন, "বলো কি জানতে চাও?"

বহলুল (রহঃ) বললেন, "মনে করুন আপনি প্রচন্ড তৃষ্ণার্ত হয়ে এমন মাঠে আছেন যেখানে পানি নাই। পিপাসায় আপনার প্রাণ ওষ্ঠাগত। এমন অবস্থায় আপনি এক গ্লাস পানির জন্য কতটা মূল্য ব্যয় করবেন?"

খলিফা বললেন, "যেহেতু পানি না পেলে আমার মৃত্যু হবে তাই আমার পুরো সম্পত্তিও ব্যয় করে দিতে পারবো।"

হযরত বহলুল (রহঃ) বললেন, "ঠিক আছে এবার বিসমিল্লাহ বলে পানি পান করেন।"

খলিফা পানি পান করলেন। এবার হযরত বহলুল (রহঃ) বললেন, "আমার আর একটি প্রশ্ন আছে।"

খলিফা বললেন, "বলো।"

বহলুল (রহঃ) বললেন, "এই পানি যদি আপনার শরীর থেকে না বের হয়, পেটেই জমা থাকে। প্রসাব বন্ধ হয়ে যায়, সেই পানি বের করবার জন্য কত টাকা ব্যয় করবেন?"

-প্রসাব বন্ধ হলে তো আমি সহ্য করতে পারবো না। মারা যাবো। জীবন বাঁচাতে একজন ডাক্তার যতটা চায় ততটাই দিবো। আমার পুরো রাজত্ব চাইলেও দিয়ে দিবো।"

হযরত বহলুল (রহঃ) বললেন, তাহলে বোঝা গেল আপনার পুরো রাজত্ব এক গ্লাস পানির দামের সমানও নয়। মাত্র এক গ্লাস পানি পান করতে বা বের করতে আপনি পুরো রাজত্বও দিয়ে দিতে চান। তাহলে কত গ্লাস পানি নিয়মিত পান করেন আর বের করেন, এটা একটু ভাবেন আর এই নেয়ামত যিনি দিয়েছেন তার শুকরিয়া আদায় করেন।"

শরীর থেকে পানি বের করার জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় যে অঙ্গ তাহলো কিডনি। করাচির এক ডাক্তারকে (কিডনি বিশেষজ্ঞ) একবার একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন, "বিজ্ঞান এখন এতো উন্নত, আপনারা একজনের কিডনি অন্যের শরীরে প্রতিস্থাপন করেন তাহলে কৃত্রিম কিডনি তৈরি করতে পারছেন না কেন?"

ডাক্তারের উত্তরটি ছিলো খুবই আশ্চর্যজনক!

তিনি বলেছিলেন, "সায়েন্সের এই উন্নতি সত্ত্বেও কৃত্রিম কিডনি তৈরি করা খুব কঠিন। কারণ আল্লাহ তায়ালা কিডনির ভেতরে যে চালনি যুক্ত করেছেন তা খুব সুক্ষ্ম এবং পাতলা। এখনো পর্যন্ত এমন যন্ত্র আবিষ্কার হয়নি যা এমন সুক্ষ্ম ও পাতলা চালনি তৈরি করতে পারে। আর যদি কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে চালনি তৈরি করাও হয় তবুও কিডনির ভেতর এমন একটি জিনিস আছে যা তৈরি করা আমাদের ক্ষমতার বাইরে। জিনিসটি হলো একটি মস্তিষ্ক (sensor)। এই মস্তিষ্ক ফায়সালা করে যে, এই মানুষের শরীরে কতটুকু পানি রাখা চাই আর কতটুকু ফেলে দেওয়া চাই। তার ফায়সালা শতভাগ সঠিক হয়।
ফলে আমরা যদি কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে কৃত্রিম কিডনি তৈরি করেও ফেলি, তবুও আমরা এতে মস্তিষ্ক তৈরি করতে পারবো না, যা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন প্রতিটি মানুষের কিডনিতে সৃষ্টি করেছেন।"

পানি পান এবং নিষ্কাশনের প্রক্রিয়াটি খুব করে মনে পড়ে যখন সূরা যারিয়াতের ২১ নং আয়াত পড়ি। সেখানে মহান রব বলেছেন-

"তোমরা কি নিজেদের সত্ত্বা নিয়ে কখনো চিন্তা করে দেখেছো?"
(Collected)

30/01/2023

"নিশ্চয় আল্লাহ জালিমদের পছন্দ করেন না।"

সুরা শূরা আয়াত ৪০ এ আল্লাহ জোর দিয়ে বলছেন নিশ্চয়ই আল্লাহ জালিমদের পছন্দ করেন না মানে যারা জুলুম করে।জুলুম করা বলতে আপনি কি বোঝেন?

পণ্য আগের দামে কিনে স্টক করে দাম বাড়ার অজুহাতে পুরনো দামে কেনা পণ্য নতুন দামে বিক্রয় জুলুম।ডক্টর অহেতুক টেস্ট ও মেডিসিন প্রেসক্রাইব করল কেননা আপনি বুঝেন না তাই,এটা জুলুম।বাড়িওয়ালাকে বললেন বাসার সম্যসা কিন্তু উনি দির্ঘদিন সমাধান না করে ভাড়া উওলোন,বিদ্যুৎতের বিল বা অন্য বিল ভাড়াটিয়ার উপর থেকে আদায় করা জুলুম।আপনি রিকশাওয়ালাকে এক জায়গার কথা বলে নামলেন আরও সামনে কিংবা ঝড় বৃষ্টিতে রিকশা ওয়ালা ভাড়া বেশি চাওয়া,সবজি বিক্রেতার কাছ থেকে কম দামে জিনিষ নিয়ে নেয়া যেহেতু আপনি পাওয়ারফুল তাই,সমাজে যিনি নরম বা না করতে পারেন না তার উপর সব কিছু চাপিয়ে দেয়া কিংবা সত্য না জানিয়ে মিথ্যা বলে কারো কাছ থেকে কোন ফায়দা নেয়া-এ সকল কাজই জুলুম।

আল্লাহ কোরআনে অসংখ্য জায়গায় বলেছেন "তিনি জুলুমকারীদের পছন্দ করেন না তাদের শাস্তির কথা বলেছেন।" (সুরা আশ্ শূরা আয়াত ৪২)

"শুধু তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে যারা মানুষের প্রতি জুলুম করে"

যেই সমাজে জুলুমকারী বেশি,সেই সমাজকে আল্লাহ সৎ পথে পরিচালিত করেন না কিন্তু আমাদের সমাজে ব্যাবসায়ী,ডাক্তার,বাড়ীওয়ালা সবাই সুযোগ পেলে জুলুম করে যদিও সবাই আল্লাহ,রাসুলকে ও কুরআনকে বিশ্বাস করে।এই কথাগুলোই আল্লাহ বলছেন সুরা আল ইমরানের ৮৬ নাম্বার আয়াতে।যতদিন আমরা সকল হাদিস বাদ দিতে না পারবো ততদিন কুরআনের কথা আমাদের কাছে আসবে না।

আল্লাহ কীভাবে সৎপথে পরিচালিত করবেন সেই সম্প্রদায়কে,যারা ঈমান আনয়নের পর ও রাসূলকে সত্য বলে সাক্ষ্য দান করার পর এবং তাদের নিকট স্পষ্ট নিদর্শন আসবার পর আবার কুফরি করে।আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না’।(সূরা আলে ইমরান:৮৬)

আল্লাহ জুলুমকারীদের যন্ত্রণাদায়ক আযাবের কথা বলছেন কিন্তু আমাদের হুশ নাই কেননা এই কথা আমাদের পছন্দের কোন ধর্মীয় বক্তাতো বলেন নি।
বরং তারা জুলুমকারীদের প্রতি আল্লাহর দেয়া বিধান লুকায়।তাই আল্লাহ সুরা মায়েদায় বলছেন,তারাই কাফির ও জালিম যারা আল্লাহর বিধান অনুসারে ফায়সালা করে না।

আপনি এই শাস্তির কথা শুনে ও জুলুম চালিয়ে গেলেন।জ্বি,আপনাকেই আল্লাহ বলছে।তার চেয়ে জালিম আর কে,যাকে আল্লাহর বাণী দ্বারা উপদেশ দেয়া হয় তা থেকে সে মুখ ফিরিয়ে নেয়?

আমাদের কোরআনের কথা জানার আগ্রহ নেই বরং আমরা মারামারি করবো নামাজে হাত কই বাধবো?
এই জায়গায় মাখরাজ,টান ঠিক আছে কিনা তা নিয়ে।আমরা যদি একবার জেনে যাই নবীর কোন সুন্নত নেই,সুন্নত হলো আল্লাহর যা সকল নবী অনুসরণ করেছেন,নবীর সুন্নতের নামে সকল ইবাদত মিথ্যা,তাহলে সকলে আমরা কোরআনের দিকে ফিরবো।কিন্তু তা কি শয়তান হতে দিবে? বা যারা নবীর সুন্নত শিখিয়ে ব্যবসা করে খায় তারাই তো আপনাকে কুরআনের কথা জানতে দিবে না সবার আগে।যারা সত্য লুকায় বা মানুষকে সত্য জানতে দেয় না তারাও জুলুমকারী।

এই জুলুমকারীরাই সমাজে ভালো কাজের উপদেশ দেয় কিন্তু নিজে তার অধিনস্ত সকলকে জুলুম করে।এটাই আল্লাহর কাছে ক্রোধের বিষয় যে,যা মানুষ বলে তা করে না।সুরা সাফ আয়াত ৩ আল্লাহ বলছেন,

"আল্লাহর দৃষ্টিতে এটা অত্যন্ত নিন্দনীয় ব্যাপার যে, তোমরা বলবে এমন কথা যা তোমরা কর না।"

আল্লাহর কাছে কি নিন্দনিয় তা আমরা কেয়ার করি না কেননা কোরআনে লেখা আল্লাহর এই স্পষ্ট আয়াতের চেয়ে আমাদের যা কোরআনে নেই (দাজ্জাল,শেষ জামানা
,কেয়ামতের আলামত,কবরের আজাব)তার উপর বিশ্বাস অনেক বেশি।তাই আল্লাহ বলেন (সুরা কাসাস আয়াত ৫৬)

"তুমি চাইলেও কাউকে সৎপথে আনতে পারবে না।তবে যে ইচ্ছে করে আল্লাহ তাকে সৎপথে আনেন।আর তিনি ভালো করেই জানেন,কারা সৎপথ অনুসরণ করতে চায়।"

12/01/2023
03/01/2023

ধর্মান্ধ চেনার সহজ উপায় হলো মানব রচিত গ্রন্থের পক্ষে দাঁড়িয়ে কুরআনের বিরুদ্ধে প্রশ্ন উত্থাপন ও কুরআনকে অস্পষ্ট সন্দেহজনক প্রমান করার চেষ্টা করা।অমুক হতে বর্ণিত,তমুক হতে বর্ণিত ব্যক্তির কথা তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলেও আল্লাহ হতে কি বর্ণিত তা জানা নাই।তাই আল্লাহ প্রশ্ন করেছেন, হাদিস বর্ণনাকারি হিসেবে আল্লাহর চাইতে আর কে সত্যবাদী?এরপর তোমরা কোন কিতাবে বিশ্বাস করবে?তোমাদের কাছে কি অন্য কোন কিতাব আছে যাতে তোমাদের যা পছন্দ তোমরা তাই পাও?(সুরা ৪৫ আয়াত ৬)

কুরআন সমস্ত মানুষের জন্য প্রকৃত জ্ঞানের সমষ্টি এবং যারা দৃঢ় বিশ্বাস রাখে, তাদের জন্য পথনিদেশ ও রহমত।(সুরা জাসিয়াহ,আয়াত ২০)
[জ্ঞানের সমষ্টি?আমাদের জ্ঞান তো হাদিস,নেকি আর খতমে আর তেলাওয়াত সহীত আটকে গেছে]

নিশ্চয় আমি তোমাদের প্রতি এক কিতাব নাযিল করেছি,যাতে তোমাদের জন্য উপদেশ রয়েছে,তবুও কি তোমরা বুঝবে না?(সুরা আম্বিয়া আয়াত ১০)
[না বুজবো না,আমরা হুজুর ভাড়া করে দ্রুত কুরআন খতম করে সোয়াব কামাবো,আমার বাপ,দাদা আশে পাশের সবাই তাই করে,সো আমিও তাই করবো।]

কুরআন উপদেশ গ্রহণের জন্য সহজ।আমি কুরআন কে সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য,
উপদেশ গ্রহণ করার কেউ আছে কি?(সুরা ৫৪: আয়াত ১৭,২২,৩২,৪০)
[কি বলে,কুরআন বুজা কঠিন,আরবি ব্যকরন জানা লাগবে,হাদিস লাগবে,না হলে আমি কি পড়িয়ে মাদ্রাসা ব্যাবসা চালাবো?হাফেজ,আল্লামা,আলেম, মাওলানা,মুফতি,মুহাদ্দিস টাইটেল আর র‍্যাংক কিভাবে দিব?]

আল্লাহ মানুষকে জাজ করবেন তার সৎকর্ম দ্বারা কোন র‍্যাংক দ্বারা নয়।তাও আল্লাহ কুরআনে বলে দিয়েছেন,যারা আমার সাক্ষাৎ কামনা করে তারা যেন সৎকর্ম করে।এই দেখেন আমার ফোনে।

[এই ফোন,ইন্টারনেট হারাম,এগুলো ইহুদা নাসারাদের তৈরি।এগুলো যারা ব্যবাহার করে তারা জাহান্নামি।]

আল্লাহ কোন ব্যক্তিকে হারাম বলার বা শাস্তির বিধান দেওয়ার অধিকার দেননি বরং আল্লাহ ব্যক্তিকে
অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন আর বলেছেন, বিধান দেবার ক্ষমতা শুধু আল্লাহর। (সুরা ইউসুফ আয়াত ৪০,সুরা আল মুমিনুল,আয়াত ৩৪)

বল-তোমরা কি ভেবে দেখেছ আল্লাহ যে রিযক তোমাদের জন্য পাঠিয়েছেন, তোমরা তার কতক গুলোকে হারাম আর কতককে হালাল করে নিয়েছ। বল,আল্লাহ কি তোমাদেরকে এর অনুমতি দিয়েছেন? না তোমরা আল্লাহর উপর মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছ(সুরা ১০,আয়াত ৫৯)

আর তোমাদের জিহবা দ্বারা বানানো মিথ্যার উপর নির্ভর করে বলো না যে,এটা হালাল এবং এটা হারাম, আল্লাহর উপর মিথ্যা রটানোর জন্য। নিশ্চয় যারা আল্লাহর উপর মিথ্যা রটায়, তারা সফল হবে না।
(সুরা নাহল,আয়াত ১১৬)

কিন্তু আমরা অন্ধভাবে ব্যক্তিকে অনুসরন ও তার দেয়া বিধানকে বাস্তবায়ন করতে যেয়ে ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য থেকে দূরে সরে গিয়ে,আমাদের জীবন জটিল করে ফেলেছি।

ব্যক্তির বক্তব্য না শুনে,আল্লাহ কি বলছে তা শুনুন
ব্যক্তি বলছে,তিন জুম্মা জামাতে না পড়লে আপনি মুমিন থাকবেন না আর আল্লাহ কুরআনে বলছেন,
আপনি দুনিয়ায় বুকে নম্রভাবে চলাফেরা না করলে আপনি প্রকৃত মুমিন নন।আপনি যদি প্রতিশ্রুতি বা ওয়াদা রক্ষা না করেন তাহলে আপনি মুমিন থাকবেন না।"যারা দুনিয়াতে নম্রভাবে চলে তারাই মুমিন"
(সুরা লুকমান আয়াত ১৮)

ব্যক্তি আপনাকে নামাজ দিয়ে মুমিনের লিস্ট থেকে বাদ দিল আর ব্যক্তির বিধান শুনতে গিয়ে আপনার জানা হলো না,আল্লাহ কাদের মুমিনের লিস্ট থেকে বাদ দিয়েছেন।এজন্য আল্লাহ,

আল্লাহর কথা বলে যারা টাকা নেয়,তাদের অনুসরন করতে নিষেধ করেছেন,কেননা তাদের কাছ থেকে আপনি সরল সঠিক পথের সন্ধান পাবেন না।এখন আবার আপনি আল্লাহর এই কথাকে ডিফেন্ড করবেন আবেগ দিয়ে।হুজুরা টাকা নিলেই দোষ,জ্বী তাহলে এই আয়াতটা আপনার জন্য

আর যারা আমার আয়াতসমূহকে ব্যর্থ করে দেয়ার চেষ্টা চালায়, তাদেরই জন্য রয়েছে কঠোর পীড়া দায়ক আযাব।( সুরা আস সাবাহ,আয়াত ৫)

কিন্তু এই আয়াতকে পাশ কাটিয়ে আপনি ঝগড়া করবেন,ওই মিয়া আপনি নিরুৎসাহিত করতেসেন!তাই আল্লাহ বলেছেন,আমি সব বিস্তারিত বলার পরও মানুষ তর্ক প্রিয়।

আর আমি এই কুরআনে মানুষের জন্য সকল প্রকার
উপমা বিস্তারিত বর্ণনা করেছি। আর মানুষ সবচেয়ে বেশি তর্ককারী। সুরা আলকাহাফ আয়াত ৫৪

যারা মনোনিবেশ সহকারে কথা শুনে, অতঃপর যা উত্তম, তার অনুসরণ করে। তাদেরকেই আল্লাহ সৎপথ প্রদর্শন করেন এবং তারাই বুদ্ধিমান।"
(Az-Zumar 39: Verse 18)আর এটা বরকতময় উপদেশ, যা আমি নাযিল করেছি। তবুও কি তোমরা তা অস্বীকার করবে?(সুরা আল আম্বিয়া আয়াত ৫০)

03/01/2023

কুরআন না দেখে হাদিস তালাস,পৃথিবী থেকে কুরআন উঠে যাবার আলামত।আমাদের ছেলে মেয়েরা এক ওয়াক্ত নামাজ মিস করলে কি শাস্তি তা জানলে ও,কাউকে মিথ্যা দোষারোপ করলে কি শাস্তি আল্লাহ ঘোষণা করেছেন তা জানা নাই।

স্রেফ অনুমানের ভিত্তিতে,অন্যের কান কথায় প্ররোচিত হয়ে কাউকে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া ইসলামে জঘন্য অপরাধ।ইসলামে কারো সম্মানহানি করার অধিকার অন্যের নেই।ইসলামে মিথ্যা দোষারোপের সুযোগ নেই।এটা ঘৃণিত ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।আল্লাহ বলেন,তোমরা মিথ্যা কথন থেকে দূরে থাকো(সূরা হাজ্জ ২৩)

আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন,‘যারা বিনা অপরাধে বিশ্বাসী পুরুষ ও নারীদের কষ্ট দেয়,তারা মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের বোঝা বহন করে,(সুরা আহযাব,৮৫)।

আমাদের আলোচনায় ও কাজে কোরআন নেই।আছে ধর্মকে জোড় করে চাপিয়ে দেওয়ায় মানসিকতা।আল্লাহ যেখানে বলছেন,"দীনের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি কিংবা বাধ্যবাধকতা নেই।"সেখানে আপনি কে বাধ্য করার?(সুরা বাকারা,আয়াত২৫৬)

শিক্ষিত শ্রোতা শিক্ষিত বক্তা তৈরি করে আর তারা অশিক্ষিত শ্রোতার মধ্যে শিক্ষিত লেবাস ধরে উগ্রতা ছড়ায় কথায় কথায় নবীর জন্য জিবন দিয়ে।তাই তাদের ভক্তরা কোথাও নবীর অবমাননা শুনলেই সেই এলাকার সবাইকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে,ঘরবাড়ি ভাংচুর করে,পুড়িয়ে দেয় আর লুটতরাজ করে।

"উহারা যা বলে তা আমি জানি,তুমি তাদের উপর জবরদস্তিকারী নও;সুতরাং যে আমার শাস্তি কে ভয় করে তাকে উপদেশ দান কর কুরআনের সাহায্যে।"(সুরা কাফ্45)

আল্লাহ্ রাসুল কে নির্দেশ দিতেছেন,কুরআনের সাহায্যে উপদেশ দিতে।রাসুল কি আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে নিজস্ব বানী দিয়ে উপদেশ দিয়েছিলেন,যার সংখ্যা লক্ষাধিক?আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করার ক্ষমতা রাসুলের ছিলনা (39:13-14)

আল্লহ কোরআন সম্পর্কে বলছেন"এমন এক কিতাব, বিশদভাবে বিবৃত হয়েছে এর আয়াতসমূহ জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য।(হা মীম আস-সাজদা 3)

মানুষ শোনা কথা বিশ্বাস করে অবলীলায়!কিন্তু আল্লাহ বলছেন সুস্পষ্টভাবে,সেটা কিছুতেই বিশ্বাস করে না!কুরআন বিশদভাবে বর্ণনাকৃত/তাফসিরকৃত কিতাব।এর জন্য আর কোন কিতাবের প্রয়োজন নাই।

"সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাস করে না। ফলে তারা শোনে না।"(হামীম আস সাজদা:4)

আল্লাহ তাঁর কিতাবকেই সুসংবাদদাতা এবং সতর্ক কারী হিসেবে ঘোষণা করেছেন এখানে।আল্লাহর কথা যারা বিশ্বাস করে না,তারা বধির মূক ও অন্ধ সুতরাং তারা ফিরবে না। (বাকারা: 8)

নবী-রসুলদের দায়িত্ব ছিল মানুষের সামনে ন্যায়-অন্যায়, সত্য-মিথ্যা আলাদা করে দেওয়া।এরপর ন্যায়পথে যারা চলতে চায় তাদেরকে নিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা।স্বভাবতই সেই নবীর প্রতি ঈমান আনয়নের পর প্রতিটি মোমেনের উপরও এই একই ঐশী দায়িত্ব অর্পিত হয়।সেই মোমেনদের দায়িত্ব কী,তারা কেন শ্রেষ্ঠ জাতি সেটা আল্লাহ পবিত্র কোর’আনে জানিয়ে দিয়েছেন।তিনি বলেছেন,“ তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি।মানবজাতির মধ্য থেকে তোমাদের উত্থান ঘটানো হয়েছে এই জন্য যে তোমরা মানুষকে ন্যায়কাজের আদেশ করবে,অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখবে এবং আল্লাহর উপর ঈমান রাখবে।” [সুরা ইমরান ১১০]

কিন্তু যে সকল কথিত আলেম-ওলামারা ধর্মব্যবসা করেন তাদের পক্ষে এইভাবে সত্য ও মিথ্যাকে আলাদা করে দেওয়া এবং মিথ্যার বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব হয় কি? কস্মিনকালেও না। এর কারণ তারা একটি শ্রেণির কাছে আত্মবিক্রয় করেছেন।এটা চিরকাল হয়ে এসেছে যে, কোনো শাসক যখন অন্যায় করেন তখন সঙ্গে সঙ্গে সেই অন্যায়ের সমর্থনে বা নিজ দায়মুক্তির জন্য আইনও তৈরি করেন।সেই আইন তৈরি করে দেন আইন পরিষদের সদস্যরা।আর আমরা না বুঝে পড়ে,অহেতুক প্রশ্ন করে কোরআনকে জটিল,ব্যাখ্যা ছাড়া,অস্পষ্ট প্রমাণে করে নিজেদের কোরআন বিমূখ করে রাখছি।

21/11/2022

🌹
কোরআন স্বয়ংসম্পূর্ণ ও পরিপূর্ণ গ্রন্থ,
এতে কোনো সন্দেহ তো নাই ই,
বরং সন্দেহ রাখা অবশ্যই দোষনীয়।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

বিজ্ঞানের ধর্মটাই হচ্ছে
আসল ধর্ম,
যা' সবার কাছেই এক।
আর ' বিজ্ঞানের ধর্মই মানুষকে
পরস্পরের কাছে টেনে এনেছে।
কিন্তু, আমাদের তথাকথিত
ধর্ম
মানুষের হানাহানি বাড়িয়ে দিয়েছে।

তবে কোরআন যদি
প্রতিদিন অর্থসহ পড়ে দেখ,
তাহলে দেখবে --
কোরআন প্রতিটি জায়গাতেই
শুধু বিজ্ঞানেরই সাপোর্ট দিচ্ছে।
সূরা ইয়াসিনে '
পরিষ্কারভাবেই আছে - "উয়াল কুরানুল হাকিম।"
অর্থাৎ - বিজ্ঞানভরা কোরআনের কসম।
এরপরেও অনেকে তর্ক করতে উদ্যত হয়।
ধিক তাদের।
মুসলমান হিসাবে নয়,
একজন সত্যিকারের পড়ুয়া ও পাঠক হিসাবে।
সেজন্য - আমি হজরত মোহাম্মদ (সাঃ) এবং কোরআনের সচেতন ভক্ত।

আল-কোরআন এনেছেন
আরব দেশের
সত্যবাদী নামে প্রতিষ্ঠিত -
হজরত মোহাম্মদ (সাঃ)।
তবে ইসলাম ধর্মের
অন্যান্য বইগুলো কিন্তু
- তিনি আনেননি।
কোরআন কি অপরিপূর্ণ গ্রন্থ?
যে - কোরআনের পূর্ণতা আনতে
অন্য কিতাবের দরকার?
=================================

15/11/2022

********কোরানে নবীদের দোয়া********

১। আদম (আঃ:) এর দোয়া।***সুরা আরাফ আয়াত ২৩ ***

قَالَا

***رَبَّنَا ظَلَمْنَٓا اَنْفُسَنَا٠۟ وَاِنْ لَّمْ تَغْفِرْلَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُوْنَنَّ مِنَ الْخٰسِرِيْنَ٢٣***

বাংলা অনুবাদঃ তারা উভয়ে বললঃ

***হে আমাদের পালনকর্তা আমরা নিজেদের প্রতি জুলম করেছি।যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি অনুগ্রহ না করেন, তবে আমরা অবশ্যই অবশ্যই ধ্বংস হয়ে যাব।***

বাংলা উচ্চারণঃ ২৩। ক্ব-লা-

***রব্বানা-জ্বলামনা---আং~ফুসানা ওয়াইল্লাম তাগফিরলানা-ওয়াতারহামনা
-লানাকূনান~না মিনাল খ-সিরী---ন।***

২। নুহ (আ:) এর দোয়া।*** সুরা নুহ আয়াত ২৮***

رَبِّ اغْفِرْ لِىْ وَلِوَالِدَىَّ وَلِمَنْ دَخَلَ بَيْتِىَ مُؤْمِنًا وَّلِلْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمُؤْمِنٰتِ٠ؕوَلَا تَزِدِ الظّٰلِمِيْنَ اِلَّا تَبَارًا ٢٨ؓ
বাংলা অনুবাদঃ হে আমার পালনকর্তা!আপনি আমাকে,আমার পিতা-মাতাকে,
যারা মুমিন হয়ে আমার গৃহে প্রবেশ করে-তাদেরকে এবং মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী দেরকে ক্ষমা করুন এবং যালেমদের কেবল ধ্বংসই বৃদ্ধি করুন।

বাংলা উচ্চারণঃ ২৮।রব্বিগফিরলী- ওয়া লিওয়া-লিদাইয়্যা ওয়া লিমাং~~ দাখলা বাইতিয়া মু’মিনাওঁ~ ওয়া লিলমু’মিনী-না ওয়ালমু’মিনা-তি,ওয়ালা-তাঝিদিজ্জ্বা-লিমী-না ইল্লা-তাবা-র।

৩। ইব্রাহিম (আঃ) এর দোয়া।***সুরা ইব্রাহিম আয়াত ৪০***

رَبِّ اجْعَلْنِىْ مُقِيْمَ الصَّلٰوةِ وَمِنْ ذُرِّيَّتِىْ٠ۗۖ رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَۤاءِ٤٠

বাংলা অনুবাদঃ হে আমার পালনকর্তা, আমাকে নামায কায়েমকারী করুন এবং আমার সন্তানদের মধ্যে থেকেও। হে আমাদের পালনকর্তা, এবং কবুল করুন আমাদের দোয়া।

বাংলা উচ্চারণঃ ৪০।রব্বিজ্আলনী
-মুক্বী-মাছছালা-তি ওয়ামিং~যুররিয়্যাতী,
রব্বানা-ওয়া তাক্বব্বাল দু‘আ----ই।

৪। ইউনুস (আ:) এর দোয়া।***সুরা আম্বিয়া আয়াত ৮৭***

وَذَا النُّوْنِ اِذْ ذَّهَبَ مُغَاضِبًا فَظَنَّ اَنْ لَّنْ نَّقْدِرَ عَلَيْهِ فَنَادٰى فِى الظُّلُمٰتِ اَنْ لَّٓا اِلٰهَ اِلَّٓا اَنْتَ سُبْحٰنَكَ٠ۗۖ اِنِّىْ كُنْتُ مِنَ الظّٰلِمِيْنَ٨٧ۚۖ

বাংলা অনুবাদঃ এবং মাছওয়ালার কথা স্মরণ করুন তিনি ক্রুদ্ধ হয়ে চলে গিয়েছিলেন,অতঃপর মনে করেছিলেন যে, আমি তাঁকে ধৃত করতে পারব না। অতঃপর তিনি অন্ধকারের মধ্যে আহবান করলেনঃ

***তুমি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; তুমি নির্দোষ আমি গুনাহগার।***

বাংলা উচ্চারণঃ ৮৭। ওয়া যান্নূ-নি ইয যাহাবা মুগ-দ্বিবাং~ ফাজান~না আল্লান~ নাক্বদির ‘আলাইহি ফানা-দা- ফিজ জুলুমা-তি আল

*** লা--- ইলা-হা ইল্লা--- আং~~তা সুবহা-নাকা, ইন~নী- কুং~~তু মিনাজ্জ্বা-লিমী---ন।***

৫। আইয়ুব (আ:) এর দোয়া। ***সুরা আম্বিয়া আয়াত ৮৩,৮৪***

وَاَيُّوْبَ اِذْ نَادٰى رَبَّهٗٓ اَنِّىْ مَسَّنِىَ الضُّرُّ وَاَنْتَ اَرْحَمُ الرّٰحِمِيْنَ٨٣ۚۖ

বাংলা অনুবাদঃ এবং স্মরণ করুন আইয়্যুবের কথা, যখন তিনি তাঁর পালনকর্তাকে আহবান করে বলেছিলেনঃ

***আমি দুঃখকষ্টে পতিত হয়েছি এবং আপনি দয়াবানদের চাইতেও সর্বশ্রেষ্ট দয়াবান।***

বাংলা উচ্চারণঃ ৮৩। ওয়া আইয়্যূবা ইয না-দা- রব্বাহূ---

***আন~নী- মাচ্ছানিয়াদ্ব দ্বুররু ওয়া আং~~তা আরহামুর র-হিমী---ন।***

فَاسْتَجَبْنَا لَهٗ فَكَشَفْنَا مَا بِهٖ مِنْ ضُرٍّ وَّاٰتَيْنٰهُ اَهْلَهٗ وَمِثْلَهُم مَّعَهُمْ رَحْمَةً مِّنْ عِنْدِنَا وَذِكْرٰى لِلْعٰبِدِيْنَ٨٤

বাংলা অনুবাদঃ অতঃপর আমি তাঁর আহবানে সাড়া দিলাম এবং তাঁর দুঃখকষ্ট দূর করে দিলাম এবং তাঁর পরিবরাবর্গ ফিরিয়ে দিলাম, আর তাদের সাথে তাদের সমপরিমাণ আরও দিলাম আমার পক্ষ থেকে কৃপাবশতঃ আর এটা এবাদত কারীদের জন্যে উপদেশ স্বরূপ।

বাংলা উচ্চারণঃ ৮৪। ফাস
তাজাব্না- লাহূ- ফাকাশাফ্না- মা- বিহী- মিং~~ দ্বুররিওঁ~ ওয়াআ-তাইনা-হু আহলাহূ- ওয়া মিছ্লাহুম~ মা‘আহুম রহমাতাম~ মিন ‘ইং~~দিনা- ওয়া যিকর- লিল‘আ-বিদী---ন।

৬। জাকারিয়া (আ:) এর দোয়া।***সুরা আম্বিয়া আয়াত ৮৯***

وَزَكَرِيَّٓا اِذْنَادٰى رَبَّهٗ رَبِّ لَاتَذَرْنِىْ فَرْدًا وَّاَنْتَ خَيْرُ الْوٰرِثِيْنَ٨٩ۚۖ

বাংলা অনুবাদঃ এবং যাকারিয়ার কথা স্মরণ করুন, যখন সে তার পালনকর্তাকে আহবান করেছিল;

***হে আমার পালনকর্তা আমাকে একা রেখো না। তুমি তো উত্তম ওয়ারিস।***

বাংলা উচ্চারণঃ ৮৯। ওয়া যাকারিয়্যা--- ইয না-দা- রব্বাহূ

***রব্বি লা-তাযারনী- ফারদাওঁ~ ওয়া আং~~তা খইরুল ওয়া-রিছী---ন।***

৭। ইয়াকুব (আ:) এর দোয়া।*** সুরা ইউসুফ আয়াত ৮৬,৮৭***

قَالَ اِنَّمَٓا اَشْكُوْا بَثِّىْ وَحُزْنِىْٓ اِلَى اللّٰهِ وَاَعْلَمُ مِنَ اللّٰهِ مَالَاتَعْلَمُوْنَ٨٦

বাংলা অনুবাদঃ তিনি বললেনঃ

***আমি তো আমার দুঃখ ও অস্থিরতা আল্লাহর সমীপেই নিবেদন করছি এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে আমি যা জানি, তা তোমরা জান না।***

বাংলা উচ্চারণঃ ৮৬। ক্ব-লা

***ইন~নামা--- আশকূ- বাচ্ছী- ওয়া হযনী--- ইলাল্লা-হি ওয়া আ‘লামু মিনাল্লা-হি মা-লা- তা‘লামূ---ন।***

يٰبَنِىَّ اذْهَبُوْا فَتَحَسَّسُوْا مِنْ يُّوْسُفَ وَاَخِيْهِ وَلَا تَايْئَسُوْا مِن رَّوْحِ اللّٰهِ٠ؕ اِنَّهٗ لَايَايْئَسُ مِنْ رَّوْحِ اللّٰهِ اِلَّا الْقَوْمُ الْكٰفِرُوْنَ٨٧

বাংলা অনুবাদঃ বৎসগণ! যাও, ইউসুফ ও তার ভাইকে তালাশ কর এবং আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহর রহমত থেকে কাফের সম্প্রদায়, ব্যতীত অন্য কেউ নিরাশ হয় না।

বাংলা উচ্চারণঃ ৮৭। ইয়া-
বানিয়্যায্হাবূ- ফাতাহাচ্ছাসূ- মিইঁ~ ইয়ূ-সুফা ওয়া আখী-হি ওয়ালা-তাইআসূ- মির রওহিল্লা-হি, ইন~নাহূ- লা-ইয়াইআসু মির রওহিল্লা-হি ইল্লাল ক্বওমুল কা-ফিরূ---ন।

৮। ইউসুফ (আ:) এর দোয়া।***সুরা ইউসুফ আয়াত ১০১***

رَبِّ قَدْ اٰتَيْتَنِىْ مِنَ الْمُلْكِ وَعَلَّمْتَنِىْ مِنْ تَاْوِيْلِ الْاَحَادِيْثِ٠ۚ فَاطِرَ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ٠ۨ اَنْتَ وَلِىّٖ فِى الدُّنُيَا وَالْاٰخِرَةِ٠ۚ تَوَفَّنِىْ مُسْلِمًا وَّاَلْحِقْنِىْ بِالصّٰلِحِيْنَ١٠١

বাংলা অনুবাদঃ হে পালনকর্তা আপনি আমাকে রাষ্ট্রক্ষমতাও দান করেছেন এবং আমাকে বিভিন্ন তাৎপর্য সহ ব্যাখ্যা করার বিদ্যা শিখিয়ে দিয়েছেন। হে নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলের স্রষ্টা, আপনিই আমার কার্যনির্বাহী ইহকাল ও পরকালে। আমাকে ইসলামের উপর মৃত্যুদান করুন এবং আমাকে স্বজনদের সাথে মিলিত করুন।

বাংলা উচ্চারণঃ ১০১। রব্বি ক্বদ আ-তাইতানী- মিনাল মুলকি ওয়া ‘আল্লামতানী- মিং~~ তা’বী-ইলিল আহা-দী-ছি, ফা-ত্বিরছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদ্বি, আং~~তা ওয়ালিয়্যী- ফিদ দুনিয়া-ওয়াল আ-খিরতি, তাওয়াফফানী- মুসলিমাওঁ~ ওয়া আলহিক্বনী- বিছছা-লিহী---ন।

৯। শোয়াইব (আ:) এর দোয়া ।***সুরা আরাফ আয়াত ৮৯***

قَدِ افْتَرَيْنَا عَلَى اللّٰهِ كَذِبًا اِنْ عُدْنَا فِىْ مِلَّتِكُمْ بَعْدَ اِذْ نَجّٰنَا اللّٰهُ مِنْهَا٠ؕ وَمَا يَكُوْنُ لَنَٓا اَنْ نَّعُوْدَ فِيْهَٓا اِلَّآ اَنْ يَّشَاۤءَ اللّٰهُ رَبُّنَا٠ؕ وَسِعَ رَبُّنَا كُلَّ شَيْءٍ عِلْمًا٠ؕ عَلَى اللّٰهِ تَوَكَّلْنَا٠ؕ رَبَّنَا افْتَحْ بَيْنَنَا وَبَيْنَ قَوْمِنَا بِالْحَقِّ وَاَنْتَ خَيْرُ الْفٰتِحِيْنَ٨٩

বাংলা অনুবাদঃ আমরা
আল্লাহর প্রতি মিথ্যা অপবাদকারী হয়ে যাব যদি আমরা তোমাদের ধর্মে প্রত্যাবর্তন করি, অথচ তিনি আমাদেরকে এ থেকে মুক্তি দিয়েছেন। আমাদের কাজ নয় এ ধর্মে প্রত্যাবর্তন করা, কিন্তু আমাদের প্রতি পালক আল্লাহ যদি চান। আমাদের প্রতিপালক প্রত্যেক বস্তুকে স্বীয় জ্ঞান দ্বারা বেষ্টন করে আছেন। আল্লাহর প্রতিই আমরা ভরসা করেছি।

***হে আমাদের প্রতিপালক আমাদের ও আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে ফয়সালা করে ছিল যথার্থ ফয়সালা।আপনিই শ্রেষ্টতম ফসলা ফয়সালাকারী।***

বাংলা উচ্চারণঃ ৮৯। ক্বদিফ্ তারইনা- ‘আলাল্লা-হি কাযিবান ইন ‘উদনা- ফী- মিল্লাতিকুম~ বা‘দা ইয নাজ্জা-নাল্লা-হু মিনহা
- ওয়া মা-ইয়াকূ-নু লানা---আন
~না‘উ-দা ফী-হা--- ইল্লা---
আইঁ~ইয়াশা---আল্লা-হু

***রব্বুনা ওয়া সি‘আ রব্বুনা কুল্লাশাইয়িন ইলমা,আলাল্লা-হি তাওয়াক্কালনা রব্বানা ফতাহ বাইনানা ওয়া বাইনাক্বওমিনা
-বিল হাক্বক্বি ওয়া আং~তা খইরুল ফা-তিহী---ন।***

১০। মুসা (আঃ) এর দোয়া।*** সুরা ত্বহা আয়াত ২৫-২৮***

قَالَ رَبِّ اشْرَحْ لِىْ صَدْرِىْ٢٥ۙ

বাংলা অনুবাদঃ মূসা বললেনঃ

***হে আমার পালনকর্তা আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন।***

বাংলা উচ্চারণঃ ২৫। ক্ব-লা রব্বিশরহ্ লী- ছদরী।

وَيَسِّرْ لِىْٓ اَمْرِى٢٦ۙ

বাংলা অনুবাদঃ এবং আমার কাজ সহজ করে দিন।

বাংলা উচ্চারণঃ ২৬। ওয়া ইয়াসসিরলী--- আমরী-।

وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِّنْ لِّسَانِىْ٢٧ۙ

বাংলা অনুবাদঃ এবং আমার জিহবা থেকে জড়তা দূর করে দিন।

বাংলা উচ্চারণঃ ২৭। ওয়াহলুল ‘উক্বদাতাম~ মিল্লিসা-নী-।

يَفْقَهُوْا قَوْلِىْ٢٨ۜ

বাংলা অনুবাদঃ যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে।

বাংলা উচ্চারণঃ ২৮। ইয়াফক্বহূ- ক্বওলী-।

১১। আমাদের নবী হযরত মোহাম্মদ (সা:) এর দোয়া।***সুরা বাকারার আয়াত ২০১***

وَمِنْهُمْ مَّنْ يَّقُوْلُ رَبَّنَٓا اٰتِنَا فِى الدُّنْيَا حَسَنَةً وَّفِى الْاٰخِرَةِ حَسَنَةً وَّقِنَا عَذَابَ النَّارِ٢٠١

বাংলা অনুবাদঃ আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে-

***হে পরওয়ারদেগার! আমাদিগকে দুনয়াতেও কল্যাণ দান কর এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান কর এবং আমাদিগকে দোযখের আযাব থেকে রক্ষা কর।***

বাংলা উচ্চারণঃ (২০১) ওয়া মিনহুম~ মাইঁ~ ইয়াক্বূ-লু

***রব্বানা--- আ-তিনা-ফিদদুনইয়া
-হাসানাতাওঁ~ ওয়াফিল আ-খিরতি হাসানাতাওঁ~ ওয়া ক্বিনা- ‘আযা-বান~না---র।***

06/10/2022

উহুদের যুদ্ধের শেষদিক।

মুসলিম বাহিনী ছত্রভঙ্গ।

উহুদ পর্বতের পশ্চিম পাশের একটা টিলার ওপর বসিয়ে দেয়া পঞ্চাশজন তীরন্দাজের বাহিনী ছিন্নভিন্ন খালিদ ইবন ওয়ালিদের ঘোড়সওয়ারদের হামলায়।

একটু আগেই শহীদ হয়েছেন মুসআ'ব ইবন উমাইর, দেখতে তিনি ছিলেন নবীজীর(সা)ই মত। যুদ্ধের ময়দানে গুজব রটে গেছে, মুহাম্মাদ(সা) শহীদ হয়ে গেছেন।

বিশৃঙ্খলা ঘিরে ফেললো মুসলিম বাহিনীকে। হযরত হামযা ইবন আব্দিল মুত্তালিব(রা) শহীদ হয়ে গেলেন ওয়াহশীর বর্শায়। তলপেট এফোড় ওফোঁড় হয়ে যাবার পরেও তিনি জাহান্নামে পাঠালেন সামনে থাকা আল্লাহর দুশমনকে।

আল্লাহর রাসুল(সা) সম্পুর্ন অরক্ষিত হয়ে গেলেন। ক্বুরাঈশদের প্রতিটি দল আলাদা আলাদা ভাবে তার ওপর আঘাত হানতে এগোচ্ছিল হায়েনাদের মতই।
প্রথম রুখে দাড়ালেন আলী আসাদুল্লাহ (রা) ইবন আবী তালিব।
একাই একশো হয়ে একের পর এক ছুটে আসা ক্বুরাঈশ দলগুলোর সাথে লড়তে থাকলেন তিনি।
আবু দুজানা(রা), আবু বাক্বর সিদ্দীক(রা), উমার ফারুক(রা) রা নবীজী(সা) জীবিত জানতে পেরে ছুটে আসতে থাকলেন তার দিকে, কিন্তু শত্রুরা ছিল আরো কাছে।

সাতজন যুবক সাহাবী নবীজী(সা)কে ঘিরে ধরলেন নিজেদের শরীর দিয়ে, যেন কোন তীর না লাগে। একে একে শহীদ হয়ে গেলেন সবাই।
ইবন কামিয়ার তলোয়ার রাসুলের(সা) মাথার ওপর নেমে আসার সময় আঘাত ঠেকাতে হাত বাড়িয়ে দিলেন তালহা(রা) ইবন উবায়দুল্লাহ। হাতের আঙ্গুলগুলো কেটে পড়ে গেল। দ্বিতীয়বার আঘাত হানলো ইবন কামিয়া, এবারে অন্য হাত বাড়িয়ে দিলেন আগে থেকেই ক্ষতবিক্ষত তালহা(রা)।
বাকি হাতটার আঙ্গুলগুলোও কেটে পড়ে গেল। এরচেয়েও ভয়ের কথা, তলোয়ারের আঘাত এসে লাগলো নবীজী(সা)র শিরস্ত্রাণে।
রক্তে ভেসে গেল তার পবিত্র মুখ।

ততক্ষনে একে একে ফিরে আসতে শুরু করলেন যুবাইর ইবনুল আওয়াম(রা), মিক্বদাদ ইবন আমর(রা), আবু দুজানার(রা) মত বীরেরা, কিন্তু ততক্ষণে যথেষ্ট দেরি হয়ে গেছে।
তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলে ক্বুরাঈশদের ফিরিয়ে দিতে লাগলেন মুসলিম বীরেরা। এমন সময় উবাই ইবন খালাফ এগিয়ে এসে আল্লাহর নবী(সা)কে ডুয়েলের আহবান জানিয়ে হত্যার হুমকি দিল।
আহত, ক্লান্ত আল্লাহর নবী(সা) বললেন, আল্লাহ চাইলে আমিই তোমাকে হত্যা করবো।
সাহাবী(রা) নবীজী(সা)কে ঘিরে ধরলেন। আহত অবস্থায় কোনভাবেই তাকে লড়াইয়ে নামতে দেয়া যাবে না।
আলী(রা), উমার(রা), যুবাইর(রা) এর মত বাঘা বাঘা বীরেরা বললেন, আল্লাহর রাসুল(সা), আপনি চাইলে আমরা তার মুকাবিলা করবো!! তবু আপনি এই অবস্থায় যাবেন না।

নবীজী(সা) হঠাত ভয়ংকরভাবে গা ঝাড়া দিয়ে উঠলেন। তার চারপাশে থাকা সাহাবী(রা) এমনভাবে ছিটকে সরে গেলেন যেন কোন উট নড়ে উঠলে তার পিঠে বসা মাছিরা ছিটকে পড়ে।
উবাই ইবন খালাফ নিজের ঘোড়া নিয়ে আল্লাহর রাসুল(সা)কে হত্যা করার জন্য আগালো। এই ঘোড়াটাকে সে কিনেছিল শুধু রাসুল(সা)কে এটার পিঠে চড়ে আঘাত করার জন্য।

উবাই কাছে এসে বর্শার আঘাত হানতেই রাসুলুল্লাহ(সা) ক্ষিপ্রগতিতে সরে গিয়ে তার আঘাত ব্যর্থ করে দিলেন, প্রায় একই সময়ে তিনি নিজের বর্শা দিয়ে উবাইয়ের ঘাড়ে সামান্য আঘাত হানলেন।

উবাইয়ের অন্তরাত্মা কেপে উঠলো। তার মনে হল, সে আর বাচবে না।
ঘোড়া ঘুরিয়ে সে পালিয়ে গেল।
উহুদ যুদ্ধের শেষে ক্বুরাঈশরা মক্কায় ফেরার আগেই তার মৃত্যু হল।
মুস্তাফা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধু দয়ালুই ছিলেন না, বরঞ্চ শত্রুর মুখোমুখি দাড়িয়ে থাকা অবস্থায় তিনি ছিলেন এক নির্ভীক বীর।
কিংবদন্তীসুলভ শারীরিক সামর্থ্য থাকার পরেও তিনি তা খুব একটা প্রকাশ করতেন না, কারন তিনি তার চেয়েও বেশি দয়া আর ভালোবাসা নিয়ে এসেছিলেন।

কিন্তু অন্যায়ের মোকাবিলায় তার নম্র স্বভাব কখনো তাকে বাধা দেয় নি, বরঞ্চ, লড়াইয়ের ময়দানে তাকে সবসময় দেখা গেছে নির্ভীক সৈনিক আর অবিচল এক সেনাপতি হিসেবেই।

#আমার_নবী
#মাহে_রবিউল_আউয়াল
Mohammad Sajal

Address

Dhaka
1000

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Hikmah In Islam posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Hikmah In Islam:

Share