13/05/2022
কেউ কেউ বলে, পবিত্র জুমুয়ার দিন একটি রোযা রাখা মাকরূহঃ
জুমুয়ার দিন একটি রোযা রাখা নিষেধ হওয়ার ব্যাপারে শরীয়তসম্মত কোন কারণ পাওয়া যায় না। তাহলে কেনো জুমুয়ার দিন ১টি রোযা রাখা মাকরূহ হবে? মূলত জুমুয়ার দিন ১টি রোযা রাখা শুধু জায়িযই নয় বরং খাছ সুন্নতে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সুন্নতে ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম ও সুন্নতে হযরত ইমাম মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ!
তবে কেহ কেহ বিনা তাহক্বীক্বে বিপরীত বলে থাকে যা ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাদের বিরোধী হওয়ার কারণে সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাজ্য। যেমন-
পবিত্র জুমুয়ার দিন রোযা রাখার ব্যাপারে ফিক্বাহর কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে –
وَكَرِهَ بَعْضُهُمْ صَوْمَ يَوْمِ الْـجُمُعَةِ بِاِنْفِرَادِهٖ، وَكَذَا يَوْمُ الْاِثْنَيْنِ، وَالْـخَمِيْسِ، وَقَالَ عَامَّتُهُمْ إنَّهٗ مُسْتَحَبٌّ لِأَنَّ هٰذِهِ الْأَيَّامَ مِنَ الْأَيَّامِ الْفَاضِلَةِ فَكَانَ تَعْظِيْمُهَا بِالصَّوْمِ مُسْتَحَبًّا، وَيُكْرَهُ صَوْمُ يَوْمِ السَّبْتِ بِاِنْفِرَادِهٖ، لِأَنَّهٗ تَشَبُّهٌ بِالْيَهُوْدِ
অর্থ: কেউ কেউ পবিত্র জুমুয়ার দিন আলাদাভাবে রোযা রাখা মাকরূহ বলেছে। অনুরূপভাবে ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ এবং ইয়াওমুল খমীছও আলাদাভাবে রোযা রাখা মাকরূহ বলেছে। তবে সর্বসম্মতিক্রমে উক্ত দিন সমুহে আলাদা আলাদাভাবে রোযা রাখা মুস্তাহাব। কেননা উক্ত দিন সমূহ বিশেষভাবে ফযীলতপূর্ণ দিন। সুতরাং উক্ত দিন সমূহকে তাযীম করে সে দিনে রোযা রাখা মুস্তাহাব। আর সাবতের দিন (শনিবার) আলাদাভাবে একটি রোযা রাখা ইহুদীদের সাথে তাশাব্বুহ হওয়ার কারণে মাকরূহ হবে। (বাদায়েউচ্ছনায়ে ফী তারতীবিশ শারায়ে ৪/১৫৫)
আর ইয়াওমুস সাবত বা শনিবার ১টি রোযা রাখা মাকরূহ হওয়ার ব্যাপারে কিতাবে উল্লেখ আছে-
وَيُكْرَهُ صَوْمُ يَوْمِ السَّبْتِ بِاِنْفِرَادِهٖ، لِأَنَّهٗ تَشَبُّهٌ بِالْيَهُوْدِ
আর সাবতের দিন (শনিবার) আলাদাভাবে একটি রোযা রাখা ইহুদীদের সাথে তাশাব্বুহ হওয়ার কারণে মাকরূহ হবে। (বাদায়েউচ্ছনায়ে ফী তারতীবিশ শারায়ে ৪/১৫৫)
কাজেই, যারা পবিত্র জুমুয়ার দিনে একটি রোযা রাখাকে মাকরূহ বলে এবং এর স্বপক্ষে যে দুই একটি দলীল পেশ করে থাকে তা অসংখ্য অগণিত ছহীহ হাদীছ শরীফ ও নির্ভরযোগ্য ফিক্বাহ ও ফতওয়ার কিতাবের বর্ণনার খিলাফ বা বিপরীত হওয়ার কারণে মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। বরং সম্পূর্ণরূপেই বাতিল ও পরিত্যাজ্য।
পবিত্র জুমুয়ার দিন রোযা রাখার ব্যাপারে বিশ্ববিখ্যাত ফিক্বাহর কিতাব সমূহে শরয়ী ফায়সালা এভাবে এসেছে –
وَمِنْهُ صَوْمُ يَوْمِ السَّبْتِ بِاِنْفِرَادِهٖ لِلتَّشَبُّهِ بِالْيَهُوْدِ بِـخِلَافِ صَوْمِ يَوْمِ الْـجُمُعَةِ فَإِنَّ صَوْمَهٗ بِاِنْفِرَادِهٖ مُسْتَحَبٌّ عِنْدَ الْعَامَّةِ
অর্থ: মাকরূহ রোযা সমূহের মধ্যে অন্যতম একটি হলো আলাদা ভাবে সাবতের দিন (শনিবার) রোযা রাখা। কারণ তাতে ইহুদীদের সাথ তাশাব্বুহ হয়। তবে জুমুয়ার দিনে আলাদা ভাবে রোযা রাখা মাকরুহ নয়। কেননা সর্বসম্মতিক্রমেই পবিত্র জুমুয়ার দিন এককভাবে রোযা রাখা মুস্তাহাব। (বাহরুর রায়েক শরহে কানযুদ্দাকায়েক ২/২৭৮)
জুমুয়ার দিন রোযা রাখার স্বপক্ষে অসংখ্য অগণিত ছহীহ ও নির্ভরযোগ্য দলীল বিদ্যমান রয়েছে। তন্মধ্য হতে কিছু দলীল নিম্নে পেশ করা হলো-
পবিত্র জুমুয়ার দিন রোযা রাখার ফযীলত সম্পর্কে মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে
عَنْ حَضْرَتْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ رَضِيْ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ صَامَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ كَتَبَ اللهُ لَهٗ عَشَرَةَ أَيَّامٍ عَدَدَهُنَّ مِنْ أَيَّامِ الْاٰخِرَةِ لَايُشَاكِلُهُنَّ أَيَّامُ الدُّنْيَا
অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি পবিত্র জুমুয়ার দিন একটি রোযা রাখবে, মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি তাকে দশ দিনের (দুনিয়াবী দশ হাজার বছর) রোযার ফযীলত দান করবেন। যে দশ দিন হবে পরকালীন দশ দিন, যা দুনিয়াবী দিন সমূহ নয়। (শুয়াবুল ঈমান, ফাদ্বায়িলুল আওক্বাত)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ عَلِيٍّ كَرَّمَ اللهُ وجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ صَامَ يَوْمَ الْـجُمُعَةِ صَبْرًا وَاِحْتِسَابًا أُعْطِيَ عَشَرَةَ أَيَّامٍ غُرٍّ زُهْرٍ لَاتُشَاكِلُهُنَّ أَيَّامُ الدُّنْيَا
অর্থ: হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি বর্ণনা করেন, নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি ধৈর্যের সাথে ও খুলুছিয়াতের সাথে পবিত্র জুমুয়ার দিন একটি রোযা রাখবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে পরকালীন দশ দিন (দুনিয়াবী দশ হাজার বছর) রোযা রাখার ফযীলত দান করবেন। (তাফসীরে রুহুল বয়ান, তাফসীরে হাক্কী, ফয়জুল ক্বদীর শরহে জামেউছ ছগীর, আত তাইসীর বি শরহে জামিয়িছ ছগীর)
উল্লেখ্য যে, পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার পবিত্র আয়াত শরীফ দ্বারা প্রমাণিত যে, পরকালীন একদিন হলো দুনিয়াবী এক হাজার বছরের সমান। সুতরাং দশ দিন হচ্ছে দশ হাজার বছরের সমান। কাজেই কোন ব্যক্তি যদি পবিত্র জুমুয়ার দিন একটি রোযা রাখে মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলমীন তিনি তাকে দশ হাজার বছর রোযা রাখার ফযীলত দান করবেন। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র জুমুয়ার দিন রোযা রাখা সম্পর্কে অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফে আরো বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَبِـىْ سَعِيْدٍ الْـخُدْرِيِّ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ أَنَّهٗ سَـمِعَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ خَـمْسٌ مَنْ عَمِلَهُنَّ فِيْ يَوْمٍ كَتَبَهُ اللهُ مِنْ أَهْلِ الْـجَنَّةِ مَنْ صَامَ يَوْمَ الْـجُمُعَةِ وَرَاحَ إِلَى الْـجُمُعَةِ وَشَهِدَ جَنَازَةً وَأَعْتَقَ رَقَبَةً وَعَادَ مَرِيْضًا
অর্থ: হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছেন, তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি পাঁচটি আমল করবে মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি তার জন্য সম্মানিত জান্নাতকে অবধারিত করে দেন। ১। যে ব্যক্তি পবিত্র জুমুয়ার দিন রোযা রাখবেন ২। ছলাতুল জুমুয়া আদায় করবেন ৩। কারো জানাযায় শরীক থাকবেন ৪। কোন গোলাম আজাদ করবেন ৫। রোগীর সেবা করবেন। সুবহানাল্লাহ! (ইবনু হিব্বান, আবু ইয়ালা)
عَنْ حَضْرَتْ أَبِـىْ سَعِيْدٍ الْـخُدْرِيِّ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ أَنَّهٗ سَـمِعَ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ مَنْ وَافَقَ صِيَامَهٗ يَوْمَ الْـجُمُعَةِ وَعَادَ مَرِيْضًا وَشَهِدَ جَنَازَةً وَتَصَدَّقَ وَأَعْتَقَ وَجَبَتْ لَهُ الْـجَنَّةُ
অর্থ: হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছেন, তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি পবিত্র জুমুয়ার দিন রোযা রাখবে, রোগীর সেবা করবে, কারো জানাযায় শরীক হবে, কোন দান-ছদক্বা করবে এবং কোন গোলাম আজাদ করবে তার জন্য জান্নাত ওয়াজীব হয়ে যাবে। সুবহানাল্লাহ! (ইবনু হিব্বান, আবু ইয়ালা )
উল্লেখ্য যে, উপরোক্ত প্রত্যেকটি হাদীছ শরীফ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহা সম্মানিত মহা পবিত্র ক্বওল শরীফ অর্থাৎ হাদীছ শরীফ উনার অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং মহাসম্মানিত মহা পবিত্র ক্বওলী হাদীছ শরীফ দ্বারা পবিত্র জুমুয়ার দিন রোযা রাখা জায়িয ও সুন্নত প্রমাণিত হলো।
অর্থাৎ স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই শুধুমাত্র জুমুয়ার দিনে একটি রোযা রাখার ব্যাপারে উম্মাহকে উৎসাহিত করেছেন। এখানে আগে বা পরে আরেকটি রোযা রাখার কোনো শর্তারোপ করেননি।
শুধু তাই নয়, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বয়ং নিজেই পবিত্র জুমুয়ার দিনে একটি রোযা মুবারক রেখেছেন। এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ مَسْعُوْدٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ أَنَّهٗ قَالَ مَا رَأَيْتُ النَّبِـىَّ صَلَّي اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُفْطِرُ يَوْمَ الْـجُمُعَةِ
অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জুমুয়ার দিন রোযা ছাড়তে দেখি নাই। (অর্থাৎ তিনি প্রতি জুমুয়ার দিনই রোযা রাখতেন)। সুবহানাল্লাহ! (শরহে ছহীহিল বুখারী লি ইবনে বাত্তাল)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ أَنَّهٗ قَالَ مَا رَأَيْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُفْطِرًا يَوْمَ الْـجُمُعَةِ قَطُّ
অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা তিনি বর্ণনা করেন, আমি কখনোই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জুমুয়ার দিন রোযা ছাড়তে দেখি নাই। (অর্থাৎ তিনি প্রতি জুমুয়ার দিনই রোযা রাখতেন)। সুবহানাল্লাহ! (শরহু ছহীহিল বুখারী লি ইবনে বাত্তাল)
পবিত্র হাদীছ শরীফে আরো বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ مَسْعُوْدٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ أَنَّهٗ قَالَ قَلَّمَا كَانَ يُفْطِرُ يَوْمَ الْـجُمُعَةِ
অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খুব কম সংখ্যক সময়েই জুমুয়ার দিন রোযা ছাড়তেন। সুবহানাল্লাহ! (তুহফাতুল আহওয়াজী, ফয়জুর ক্বদীর শরহে জামিউস সগীর, মিশকাতুল মাছাবীহ, বুসতানুল আহবার, মিরয়াতুল মাফাতীহ, মাছাবীহুত তানবীর)
উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহা পবিত্র ফে’ল শরীফ বা কার্য মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং মহাসম্মানিত মহাপবিত্র ক্বওলী ও ফে’লী হাদীছ শরীফ দ্বারাই শুধুমাত্র পবিত্র জুমুয়ার দিন ১টি রোযা রাখা জায়িয ও সুন্নত প্রমাণিত হলো। অর সে কারণেই হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা এবং পরবর্তী হযরত ইমাম মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম উনারা পবিত্র জুমুয়ার দিনে রোযা রেখেছেন। এর আগে বা পরে রোযা রাখার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না।
এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ أَنَّهٗ كَانَ يَصُوْمُ يَوْمَ الْـجُمُعِةِ وَيُوَاظِبُ عَلَيْهِ
অর্থ: বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, নিশ্চয়ই তিনি নিয়মিতভাবে প্রতি জুমুয়ার দিন একটি রোযা রাখতেন। (শরহে ছহীহ বুখারী লি ইবনে বাত্তাল, আল ইসতিসগারুল জামি’ লি মাযাহিবি ফুক্বাহায়িল আমছার)।
পাশাপাশি অনুসরণীয় ইমাম-মুজতাহিদ উনারাও শুধুমাত্র জুমুয়ার দিন একটি রোযা রাখা জায়িয ও সুন্নত হওয়ার ব্যাপারে মত পেশ করেছেন। যেমন এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যাগ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে-
وَقَالَ حَضْرَتِ الْاِمَامُ الْـمَالِكُ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ لَـمْ أَسْـمَعْ أَحَدًا مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ وَالْفِقْهِ مِـمَّنْ يُّقْتَدٰى بِهٖ يَنْهٰى عَنْ صِيَامِ يَوْمِ الْـجُمُعَةِ وَصِيَامُهٗ حَسَنٌ، وَقَدْ رَأَيْتُ بَعْضَ أَهْلِ الْعِلْمِ يَصُوْمُهٗ وَأُرَاهُ كَانَ يَتَحَرَّاهُ
অর্থ: হযরত ইমাম মালেক রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, কোন উলামায়ে কিরাম এবং অনুসরণীয় ফুক্বাহায়ে ইজাম কাউকেই পবিত্র জুমুয়ার দিন রোযা রাখার ব্যাপারে নিষেধ করতে শুনি নাই। সুতরাং জুমুয়ার দিন রোযা রাখাই উত্তম। বরং অনেক অনুসরণীয় উলামায়ে কিরাম উনাদেরকে আনন্দচিত্তে জুমুয়ার দিন রোযা রাখতে দেখেছি। (মুয়াত্তায়ে ইমাম মালিক, আদ্বওয়াউল বয়ান ফী ইদ্বাহিল কুরআন, শরহে ছহীহিল বুখারী লি ইবনে বাত্তাল, উমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারী, ইমালুল মুয়াল্লিম শরহে মুসলিম, আল মিনহাজ শরহে মুসলিম, শরহুন নববী আলাল মুসলিম, তুহফাতল আহওয়াজী, তাহযীবু সুনানি আবূ দাঊদ, শরহুয যারকানী আলা মুয়াত্তা)
কিতাবে আরো উল্লেখ করা হয়েছে-
وَقَالَ حَضْرَتِ الْاِمَامُ الشَّافِعِىُّ رَحْـمَةُ اللهِ عِلَيْهِ لَايُبَيِّنُ لِـىْ أَنَّهٗ نَـهٰى عَنْ صِيَامِ يَوْمِ الْـجُمُعَةِ إِلَّا عَلَى الْاِخْتِيَارِ
অর্থ: হযরত ইমাম শাফিয়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, এমন কোন বর্ণনা আমার কাছে পৌঁছেনি যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র জুমুয়ার দিন রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন, তবে যার ইচ্ছা রোযা রাখতেও পারে নাও রাখতে পারে। (শরহে ছহীহ বুখারী লি ইবনে বাত্তাল)
কিতাবে আরো উল্লেখ করা আছে-
وَأَكْثَرُ الْفُقَهَاءِ عَلَى الْأَخْذِ بِأَحَادِيْثِ الْإِبَاحَةِ لِأَنَّ الصَّوْمَ عَمَلٌ بَرٌّ
অর্থ: অধিকাংশ ফুকাহায়ে কিরাম উনারা জুমুয়ার দিন রোযা রাখা বৈধ এ বিষয়ের পবিত্র হাদীছ শরীফ গ্রহণ করে পবিত্র জুমুয়ার দিন রোযা রাখাকে জায়িয বলেছেন। কেননা রোযা একটি বিশেষ নেক কাজের অন্তর্ভূক্ত। (শরহে ছহীহ বুখারী লি ইবনে বাত্তাল)
জুমুয়ার দিন রোযা রাখার ব্যাপারে কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে,
إِبَاحَتُهٗ مُطْلَقًا مِّنْ غَيْرِ كَرَاهَةٍ وَرُوِيَ ذٰلِكَ عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ وَمُـحَمَّدِ بْنِ الْـمُنْكَدِرِ وَهُوَ قَوْلُ حَضْرَتِ الْاِمَامِ الْـمَالِكِ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَحَضْرَتِ الْاِمَامِ أَبِـيْ حَنِيْفَةَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَحَضْرَتِ الْاِمَامِ مُـحَمَّدِ بْنِ الْـحَسَنِ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ
অর্থ: সাধারণ ভাবে পবিত্র জুমুয়ার দিন রোযা রাখা জায়েয রয়েছে,ইহা মাকরূহ নয়। ইহা হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও মুহম্মদ ইবনে মুনক্বাদির উনাদের থেকে বর্ণিত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার দ্বারা প্রমানিত। আর ইহাই ইমাম মালেক রহমাতুল্লাহি আলাইহি, ইমামে আ’যম রহমাতুল্লাহি আলাইহি , ইমাম মুহম্মদ ইবনে হাসান রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনাদের ফতওয়া। (উমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারী)
কিতাবে আরো উল্লেখ করা হয়েছে-
وَقَالَ بَعْضُهُمْ وَاسْتَدَلَّ الْـحَنَفِيَّةُ بِـحَدِيْثِ حَضْرَتْ اِبْنِ مَسْعُوْدٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصُوْمُ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ وَقَلَّمَا كَانَ يُفْطِرُ يَوْمَ الْـجُمُعَةِ
অর্থ: অধিকাংশ ইমাম-মুজতাহিদ উনারা বলেন, হানাফী মাযহাবের ইমাম উনারা হযরত ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বর্ণিত পবিত্র হাদীছ শরীফ জুমুয়ার দিন রোযা রাখার দলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখতেন এর মধ্যে খুব কম সংখ্যকই জুমুয়ার দিন রোযা ছাড়তেন। সুবহানাল্লাহ! (উমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারী)
কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে-
وَقاَلَ حَضْرَتِ الْاِمَامُ الْـمَالِكُ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَحَضْرَتِ الْاِمَامُ أَبِـيْ حَنِيْفَةَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَحَضْرَتِ الْاِمَامُ مُـحَمَّدٌ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ بِالْإِبَاحَةِ مُطْلَقًا مِنْ غَيْرِ كَرَاهِةٍ ذَكَرَهُ الْعَيْنِـيُّ وَاِبْنُ قُدَامَةَ وَالْـحَافِظُ وَاِبْنُ الْـهُمَامِ.
অর্থ: হযরত ইমাম মালেক রহমাতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইমামে আ’যম রহমাতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইমাম মুহম্মদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনারা বলেন, পবিত্র জুমুয়ার দিন রোযা রাখা মাকরূহ নয় বরং জায়েয। এ বিষয়টি আইনি, ইবনু কুদামা, হাফিজ এবং ইবনুল হুমাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনারাও বর্ণনা করেছেন। (মিরআতুল মাফাতিহ শরহে মিশকাতুল মাসাবীহ)
অতএব, ছহীহ ও গ্রহনযোগ্য ফতওয়া হচ্ছে পবিত্র জুমুয়ার দিনে ১টি রোযা রাখা জায়িয তো অবশ্যই বরং খাছ সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত।