Ummul-Umam

Ummul-Umam তিনি যামানার লক্ষ্যস্থল ওলী আল্লাহ স?

মহান আল্লাহ পাক এবং উনার মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা- এই পঞ্চদশ হিজরী শতকে যামানার খাছ লক্ষ্যস্থল হিসেবে যমীনে পাঠিয়েছেন একজন আখাছছুল মহিলা ওলীআল্লাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে। যিনি নিঃসন্দেহে ক্বায়িম মাক্বামে উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!

যামানার সকল মহিলাদের উচিত হিদায়েত পাওয়ার উদ্দেশ্যে উনার সহবত গ্রহন করা এবং সহবত গ্রহন করে নিজেকে আল্লাহ ওয়ালী হিসেবে গড়ে তুলে দুই যাহানে সাফল্য অর্জন করার কোশেশে নিয়োজিত থাকা।

04/12/2025

সব গুনাহের মূল কারণ-
"লোভ"

মহান আল্লাহ পাক সূরা লুকমান শরীফের ১৬ নং আয়াত শরীফে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন,  “তারা (মহান আল্লাহ পাক) উনার সৃষ্টির অন...
05/06/2023

মহান আল্লাহ পাক সূরা লুকমান শরীফের ১৬ নং আয়াত শরীফে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, “তারা (মহান আল্লাহ পাক) উনার সৃষ্টির অনুরূপ বা সাদৃশ্য তৈরী করে মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে শরীক করেছে।” নাউযুবিল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, “আপনার রব তায়ালা তিনি যা ইচ্ছা এবং যা পছন্দ তাই সৃষ্টি করেন। (সৃষ্টির সাদৃশ্য তৈরীর ব্যাপারে) তাদের জন্য কোন ইখতিয়ার বা ইচ্ছা,স্বাধীনতা দেয়া হয়নি। মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র এবং তারা যা শরীক করে তিনি তা থেকে উর্ধ্বে।” [সূরা ক্বছাছ শরীফ-৬৮]
এখানে মহান আল্লাহ পাক তিনি খলক্ব (সৃষ্টি) দ্বারা প্রাণীকে বুঝিয়েছেন, কারণ মহান আল্লাহ পাক তিনি প্রাণীকে এমনভাবে তৈরী করেছেন যে, কেউ আকৃতি তৈরী করতে পারলেও প্রাণ দিতে পারবে না, তাই আকৃতি (যা সাদৃশ্য) তৈরী করার ইখতিয়ার কাউকেই দেননি। অথচ মানুষ সৃষ্টির সাদৃশ্য তৈরী করে মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে শরীক করে যাচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ!
তিনি আসমান সমূহ এবং যমীন যথাযথভাবে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদেরকে ছুরত বা আকৃতি দান করেছেন। অতঃপর তিনি তোমাদেরকে উত্তম ছুরত বা আকৃতি দান করেছেন। আর উনার কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন। [সূরা তাগ্বাবুন শরীফ-৩]
তাহলে ছবি কি আকৃতি নয়? ছবি সৃষ্টির সাদৃশ্য নয় কি? কাফের ব্যতীত কোন মুমিন কি অস্বীকার করতে পারবে? পারবে কি প্রাণীর ছবির মধ্যে প্রাণ দিতে? তাহলে কেন যা করতে নিষেধ করা হয়েছে তা করে অবাধ্য হচ্ছে? শিরক করছে?
হাদীস শরীফে এসেছে, যারা প্রাণীর ছবি তৈরী করবে, ক্বিয়ামতের দিন তাদেরকে কঠিন শাস্তি দেয়া হবে এবং তাদেরকে বলা হবে তাদের তৈরীকৃত প্রাণীর ছবির মধ্যে প্রাণ দিতে, মানুষ তা পারবে না। তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদের তৈরীকৃত প্রত্যেকটি প্রাণীর ছবিকে প্রাণ দিয়ে তাদেরকে হুকুম করবেন, প্রত্যেক ছবি তৈরীকারীকে শাস্তি দিতে। (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ, পৃঃ ৮৮০, মুসলিম শরীফ ২য় জিঃ, পৃঃ ২০১)
এজন্য, পবিত্র হাদীস শরীফে এসেছে, হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঘরে ছবি রাখতে নিষেধ করেছেন এবং উহা তৈরি করতেও নিষেধ করেছেন। [তিরমিযী শরীফ]
মহান আল্লাহ পাক তিনি সূরা হাশর শরীফ-এর ৭নং আয়াত শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন, “রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তোমাদের জন্য যা নিয়ে নিয়ে এসেছেন তা গ্রহণ করো আর যা থেকে নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো। আর মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি কঠিন শাস্তিদাতা।” অর্থাৎ “রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিষেধাজ্ঞা যারা অমান্য করবে, তাদেরকে কঠিন শাস্তি দেয়া হবে”
এখন ফিকিরের বিষয় হলো, “ক্বিয়ামতের দিন তাদেরকে কঠিন শাস্তি দেয়া হবে”
মনে করেন, দুনিয়াতেই যদি কাউকে চার, পাঁচজন মিলে শাস্তি দেয়, তখন তার অবস্থা কিরূপ হয়? তাহলে পরকালে তার ছবির সংখ্যা অনুপাতে তার শাস্তির অবস্থা কিরূপ হবে? আর পরকালে যাকে জাহান্নামে সবচেয়ে কম শাস্তি দেয়া হবে, তার পায়ে আগুনের জুতা পরানো হবে, এতে করে তার মাথার মগজ টগবগ করে ফুটতে থাকবে। তাহলে যাকে কঠিন শাস্তি দেয়া হবে তার অবস্থা কিরূপ হবে?
আক্বল থাকলে এবং পরকালের ভয় থাকলে বিষয়টি ফিকির করুন।
পরকালের শাস্তির ভয় করা ব্যতীত কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারে না। আর প্রকৃত মুমিন এতো বড় শিরকী গুনাহে লিপ্ত হতে পারে না, যা মহান আল্লাহ পাক উনার শামিল হয়ে যায়। তাই এতো বড় শিরকী গুনাহ থেকে সকলেই সাবধান!
কারণ, মহান আল্লাহ পাক তিনি শরীক সম্পর্কে আরো ইরশাদ মুবারক করেন, “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার সাথে শরীক করার গুনাহ ক্ষমা করেন না। এছাড়া অন্যান্য গুনাহ যাকে ইচ্ছা তাকেই ক্ষমা করেন। যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে শরীক করে অবশ্যই সে বড় গুনাহ করে।” (সূরা নিসা শরীফ - ৪৮)
এখন যারা শিরকী গুনাহে লিপ্ত রয়েছে তারা কি ক্ষমা প্রাপ্ত হবে?
মহান আল্লাহ পাক তিনি শরীক সম্পর্কে আরো ইরশাদ মুবারক করেন, “ নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে শরিক করবে, অবশ্যই মহান আল্লাহ পাক তিনি তার জন্য জান্নাত হারাম করেছেন আর তার আশ্রয়স্থল হচ্ছে জাহান্নাম। এসব যালিমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই।” (সূরা মায়িদা শরীফ – ৭২)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন,
এরাই হচ্ছে ঐ সব লোক যারা হিদায়েত উনার বিনিময়ে গোমরাহীকে খরিদ করে এবং ক্ষমার পরিবর্তে শাস্তিকে গ্রহণ করে অতঃপর তারা কিভাবে জাহান্নামের আগুন সহ্য করবে? (সুরা বাক্বারা শরীফ- ১৭৫)

তারাই ঐ সমস্ত লোক যারা গোমরাহীকে হিদায়েতের বিনিময়ে ক্রয় করে নিয়েছে। তাই তারা তাদের ব্যবসায় লাভবান হয়নি এবং তারা হিদায়েতপ্রাপ্ত হয়নি। (সুরা বাক্বারা শরীফ- ১৬)
এরাই তারা যারা আখিরাতের বিনিময়ে দুনিয়াবী যিন্দেগীকে ক্রয় করে বা গ্রহণ করে, তাদের জন্য (জাহান্নামের) আযাব হালকা করা হবে না এবং তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না। (সুরা বাক্বারা শরীফ- ৮৬)
নিশ্চয়ই যারা আমার আয়াত শরীফ মিথ্যারোপ করবে এবং এ ব্যাপারে অহংকার/ঔদ্ধত্য প্রকাশ করবে; তাদের জন্য আসমানের দরজা খোলা হবেনা এবং তারা জান্নাতেও প্রবেশ করবে না, সুচের ছিদ্র দিয়ে উট প্রবেশ না করা পর্যন্ত। এভাবেই আমি অপরাধীদের প্রতিদান দিয়ে থাকি। (আ’রাফ শরীফ-৪০)
মহান আল্লাহ পাক তিনি সূরা বাক্বারা শরীফ উনার শুরুতে ইরশাদ মুবারক করেন, “মুত্তাকীদের জন্য হিদায়েত।” অর্থাৎ যারা মুত্তাক্বী (মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করেন) উনারাই হেদায়েত লাভ করেন। কারণ, উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার ভয়ে সমস্ত প্রকার কুফরী, শিরকী, বেদয়াতে সাইয়্যিয়াহ, বেশরাহ, নাফরমানীমূলক হারাম-নাজায়েয কাজ থেকে বেঁচে থাকেন।

১। রোযা রেখে টুথপেস্ট, দাঁতের মাজন, কয়লা বা ছাই ইত্যাদি দ্বারা দাঁত মাজলে রোযা মাকরূহ হবে। তবে যদি মাজনের সামান্য পরিমাণ...
06/04/2023

১। রোযা রেখে টুথপেস্ট, দাঁতের মাজন, কয়লা বা ছাই ইত্যাদি দ্বারা দাঁত মাজলে রোযা মাকরূহ হবে। তবে যদি মাজনের সামান্য পরিমাণ ভিতরে চলে যায়, তাহলে পবিত্র রোযা ভঙ্গ হবে এবং ক্বাযা করা ওয়াজিব হবে, কাফফারা আদায় করতে হবে না। (ফতওয়ায়ে আলমগীরী)

২। রোযা অবস্থায় নাকে পানি দিয়ে উপরের দিকে টান দেয়া ও কুলি করার সময় গড়গড়া করার হুকুম নেই। বরং নিষেধ রয়েছে। (সমূহ ফিক্বহর কিতাব)

৩। রোযা রেখে মুখের থুথু বারবার না ফেলে গিলে ফেললে রোযার কোনো ক্ষতি হবে না। (আলমগীরী)

৪। রোযা অবস্থায় সন্তানকে দুধ খাওয়ালে মায়ের রোযা ভঙ্গ হবে না, এমন কি ওযুও ভঙ্গ হবে না। (আলমগীরী)

৫। রোযা রাখা অবস্থায় চোখে ওষুধ বা সুরমা দিলে রোযা ভঙ্গ হবে না। এমনকি যদি ওষূধের স্বাদ গলায় অনুভব হয় বা সুরমার রং যদি থুথুর সাথে দেখা দেয়, তাতেও রোযা ভঙ্গ হবে না। (আলমগীরী, মাবছূত, আইনুল হেদায়া)

৬। রোযা রেখে দিনে ঘুমালে এবং ঘুমের মধ্যে গোসল ফরয হলে, রোযার কোনো ক্ষতি হবে না। (আলমগীরী)

৭। রোযা রাখা অবস্থায় স্বপ্নে কিছু পান করলে বা খেলে রোযা ভঙ্গ হবে না। আর জাগ্রত অবস্থায় ভুলে পেট ভরে পানাহার করলেও রোযা ভঙ্গ হবে না। তবে অবশ্যই রোযার কথা স্মরণ হওয়ার সাথে সাথেই পানাহার থেকে বিরত থাকতে হবে। রোযার কথা স্মরণ হওয়ার পরও যদি সামান্য খাদ্য বা পানীয় গিলে ফেলে, তবে রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে। এতে শুধু উক্ত রোযা কাযা আদায় করতে হবে, কাফফারা দিতে হবে না। (দুররুল মুখতার, শামী)
🌐 visit: ummulumam.com

05/03/2023

মিশকাত শরীফ”-এর ১১৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে- ﻋﻦ ﺣﻀﺮﺕ ﻋﻠﻰ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺍﺫﺍ ﻛﺎﻧﺖ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ ﻓﻘﻮﻣﻮﺍ ﻟﻴﻠﻬﺎ ﻭﺻﻮﻣﻮﺍ ﻳﻮﻣﻬﺎ ﻓﺎﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻳﻨﺰﻝ ﻓﻴﻬﺎ ﻟﻐﺮﻭﺏ ﺍﻟﺸﻤﺲ ﺍﻟﻰ ﺍﻟﺴﻤﺎﺀ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ ﻓﻴﻘﻮﻝ ﺍﻻ ﻣﻦ ﻣﺴﺘﻐﻔﺮ ﻓﺎﻏﻔﺮﻟﻪ ﺍﻻ ﻣﻦ ﻣﺴﺘﺮﺯﻕ ﻓﺎﺭﺯﻗﻪ ﺍﻻ ﻣﺒﺘﻠﻰ ﻓﺎﻋﺎﻓﻴﻪ ﺍﻻ ﻛﺬﺍ ﺍﻻ ﻛﺬﺍ ﺣﺘﻰ ﻳﻄﻠﻊ ﺍﻟﻔﺠﺮ . ﺭﻭﺍﻩ ﺍﺑﻦ ﻣﺎﺟﻪ .
অর্থ: “হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত , নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, যখন অর্ধ শা’বান তথা শবে বরাতের আগমন ঘটে তখন ওই রাতে তোমরা ইবাদত-বন্দেগী করে জাগ্রত থাকবে এবং দিবাভাগে রোযা রাখবে। কেননা, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক ওই শবে বরাতে সূর্যাস্তের সাথে সাথেই পৃথিবীর আকাশে রহমতে খাছ নাযিল করেন এবং ঘোষণা করতে থাকেন, কোন ক্ষমাপ্রার্থনাকারী আছ কি? যাকে আমি ক্ষমা করে দিব। কোন রিযিক প্রার্থনাকারী আছ কি? যাকে আমি অপরিমিত রিযিক দিয়ে দিব এবং কোন বিপদে বিপন্ন ব্যক্তি আছ কি? যাকে আমি বিপদ থেকে মুক্ত করে দিব। সাবধান! সাবধান! এভাবেই মহান আল্লাহ পাক ফজর পর্যন্ত ডাকতে থাকেন।” (দলীলঃ ইবনে মাজাহ ১/১৪৪: হাদীস ১৩৮৮, ইবনে হিব্বান: হাদীস ১৩৮৮, বায়হাকী শুয়াবুল ঈমনি ৫/৪৫৪: হাদীস ৩৮২২, মিশকাতুল মাসাবীহ ২/২৪৫ : হাদীস ১২৩৩, দায়লামী শরীফ ১/২৫৯: হাদীস ১০০৭, তারগীভ ওয়াত তারহীব ২/৭৫: হাদীস ১৫৫, বায়হাক্বী – ফযায়েলে ওয়াক্ত ১/১২২ : হাদীস ২৪, জামেউস সগীল লি সুয়ুতী : হাদীষ ১৬৬৫, মিসবাহুল জুজাহ : হাদীস ৪৯১, কানযুল উম্মাল ১২/৩১৪ : ৩৫১৭৭, উমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারী ১১/৮২, মাওয়াহেবে লাদুন্নিয়াহ ৩/৩০০, মিরকাত ৩য় খ-, ১৯৫-১৯৬, মিরয়াতুল মানাজিহ ৩য় খ- ২৯৩-২৯৪-২৯৫, লুময়াত, আশয়াতুল লুময়াত ৪/২১২)

স্থলে ও পানিতে যত বিপর্যয় তা কেবল মানুষের কৃতকর্মেরই ফল।এ প্রসঙ্গে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তি...
18/05/2022

স্থলে ও পানিতে যত বিপর্যয় তা কেবল মানুষের কৃতকর্মেরই ফল।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

ظَهَرَ الْفَسَادُ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِي النَّاسِ لِيُذِيْقَهُمْ بَعْضَ الَّذِيْ عَمِلُوْا لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُوْنَ

অর্থ: স্থলে ও পানিতে যত বিপর্যয় বালা মুছিবত ছড়িয়ে পড়ে তা কেবল মানুষের কৃতকর্মেরই ফল। মহান আল্লাহ পাক তাদেরকে তাদের কর্মের শাস্তি আস্বাদন করাতে চান, যাতে তারা ফিরে আসে। (পবিত্র সূরা রুম শরীফ পবিত্র আয়াত শরীফ ৪১)

অর্থাৎ মানুষের অন্যায় আচরণের কারণে মহান আল্লাহ পাক উনার অবাধ্যতা এবং নাফরমানির দরুণই আজ পৃথিবীর সর্বত্র অশান্তি, আযাব-গযব বিরাজ করছে এবং চতুর্দিকে বিপদের ঘনঘটা দেখা দিয়েছে। নাউযুবিল্লাহ!

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

ﻋَﻦْ حَضْرَتْ اِﺑْﻦِ ﻋَﺒَّﺎﺱٍ رَﺿِﻲَ اللهُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ عَنْهُ ﻗَﺎﻝَ ﻗَﺎﻝَ رَﺳُﻮْﻝُ اللهِ ﺻَﻠَّﻰ اللهُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ وَﺳَﻠَّﻢَ ﺧَﻤْﺲٌ ﺑِﺨَﻤْﺲٍ، ﻗَﺎﻟُﻮْﺍ ﻳَﺎ رَﺳُﻮْﻝَ اللهِ وَﻣَﺎ ﺧَﻤْﺲٌ ﺑِﺨَﻤْﺲٍ؟ ﻗَﺎﻝَ ﻣَﺎ ﻧَﻘَﺾَ ﻗَﻮْمٌ ﺍﻟْﻌَﻬْﺪَ اِﻻَّ ﺳُﻠِّﻂَ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﻋَﺪُوُّﻫُﻢْ .وَﻣَﺎ ﺣَﻜَﻤُﻮْﺍ ﺑِﻐَﻴْﺮِ ﻣَﺎ اَﻧْﺰَﻝَ اللهُ ﺇﻻَّ ﻓَﺸَﺎ ﻓِﻴْﻬِﻢُ ﺍﻟْﻔَﻘْﺮُ وَﻻَ ﻇَﻬَﺮَتْ ﻓِﻴْﻬِﻢُ ﺍﻟْﻔَﺎﺣِﺸَﺔُ اِﻻَّ ﻓَﺸَﺎ ﻓِﻴْﻬِﻢُ ﺍﻟْﻤَﻮْتُ وَﻻَ ﻃَﻔَّﻔُﻮﺍ ﺍﻟْﻤِﻜْﻴَﺎﻝَ اِلَّا ﻣُﻨِﻌُﻮﺍ ﺍﻟﻨَّﺒَﺎتَ واُﺧِﺬُوْﺍ ﺑِﺎﻟﺴِّﻨِﻴْﻦَ وَﻻَ ﻣَﻨَﻌُﻮْﺍ ﺍﻟﺰَّﻛَﺎﺓَ اِلَّا ﺣُﺒِﺲَ ﻋَﻨْﻬُﻢُ ﺍﻟْﻘَﻄْﺮُ

অর্থ: হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, পাঁচটি বস্তু পাঁচটি বস্তুর কারণে হয়ে থাকে’। কোনো জাতি ওয়াদা ভঙ্গ করলে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদের উপরে তাদের শত্রুকে প্রবল করে দেন। মহান আল্লাহ পাক উনার নাজিলকৃত বিধানের বাইরে বিধান দিলে তাদের মধ্যে অভাব অনটন বৃদ্ধি পায়। কোনো সম্প্রদায়ের মধ্যে বেপর্দা-বেহায়াপনা, অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়লে তাদের মধ্যে মহামারী ছড়িয়ে পড়ে। কেউ মাপে বা ওজনে কম দিলে তাদের জন্য খাদ্যশস্যের উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। কোন সম্প্রদায় যাকাত দেয়া বন্ধ করলে তাদের প্রতি বৃষ্টি বন্ধ করে দেয়া হয় অর্থাৎ অনাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টি দেখা দেয়।’ (দায়লামী শরীফ, মু’জামুল কবীর)।

উল্লেখিত পবিত্র হাদীছ শরীফে আজাব গযব নাযিলের কারণ হিসেবে পাঁচটি বিষয় বর্ণনা করা হয়েছে। তবে বিস্তারিতভাবে বললে বলতে হয় সমাজে আজাব, গযব ও মহামারী আসার কারণ হচ্ছে-

পাপের সীমা ছাড়িয়ে গেলে।

বেদ্বীনি কার্যকলাপের ফলে।

ব্যভিচার বৃদ্ধি পেলে।

অন্যায় কাজে বাধা না দেয়ার ফলে।

অন্যায়ভাবে হত্যা করা হলে।

দুনিয়াপ্রীতি বৃদ্ধি পেলে।

ধনীরা কৃপণ হলে।

যখন কোনো জাতির মধ্যে মাপ-জোপে কারচুপি করা হয়।

হালাল রিযিক তালাশ বাদ দিয়ে হারাম রিযিক তালাশ করলে। অন্যের ধন-সম্পত্তির দিকে বদ নজর, ন্যায়বিচার না করে, অন্যায়কে প্রশ্রয় দিলে, যুলুম-অত্যাচার, চুরি-ডাকাতি, মিথ্যাচার, যিনা-ব্যভিচার, মুনাফিকী, দম্ভ প্রদর্শন ও ছল-চাতুরী করলে, অন্যের ধন-সম্পত্তি ও অধিকার হরণ করলে ইত্যাদি কুকর্ম থেকে থেকে বিরত না থাকলে মহান আল্লাহ পাক তিনি বান্দাকে শাস্তি প্রদান করেন। তখন তাদের মধ্যে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, দ্রব্য সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি পায়, কষ্ট-পরিশ্রম বেড়ে যায় এবং কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অত্যাচার উৎপীড়ন চাপিয়ে দেয়া হয়।

শরয়ী ওজর ব্যতীত আলস্যবশতঃ জামায়াত ত্যাগ করা কবীরা গুনাহঃ শরয়ী ওজর ব্যতীত পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের জামায়াত তরক করা ও জুমুয়া না...
15/05/2022

শরয়ী ওজর ব্যতীত আলস্যবশতঃ জামায়াত ত্যাগ করা কবীরা গুনাহঃ
শরয়ী ওজর ব্যতীত পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের জামায়াত তরক করা ও জুমুয়া না পড়ে যোহর আদায় করা বা জুমুয়ায় না এসে ঘরে বসে যোহর আদায় করা হারাম, কবীরা গোণাহ ও কুফরী।

এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ করেন,

حَافِظُوْا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطٰى

অর্থ : (হে ঈমানদাররা!) তোমরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের হেফাজত কর। বিশেষ করে মধ্যবর্তী সময়ের নামায। (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২৩৮)

পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন-

مَنْ سَمِعَ النِّدَآءَ فَلَمْ يَأْتِ فَلَا صَلاَةَ لَهٗ إِلَّا مِنْ عُذْرٍ وَفِيْ رِوَايَةٍ عَنْ حَضْرَتْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ اٰمُرَ فِتْيَتِىْ أَنْ يَّـجْمَعُوْا حُزَمَ الْـحَطَبِ ثُمَّ اٰمُرَ بِالصَّلاَةِ فَتُقَامَ ثُمَّ أُحَرِّقَ عَلٰى أَقْوَامٍ لَا يَشْهَدُوْنَ الصَّلَاةَ

অর্থ: “যারা আযান শুনল, কিন্তু উত্তর দিল না, তাদের নামায হবে না। তবে শরয়ী ওযর থাকলে ভিন্ন কথা।” হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে অন্য বর্ণনায় বর্ণিত রয়েছে যে, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমার ইচ্ছা হয়, আমার যুবক শ্রেণীদেরকে আদেশ দেই, যেন তারা আগুন জ্বালানোর কাঠ সংগ্রহ করে তারপর নামায আদায় করার নির্দেশ দেই, অতঃপর জামাত শুরু হয়ে গেলে যারা মসজিদে জামায়াত সহকারে নামায পড়তে উপস্থিত হবে না, তাদের ঘরগুলো জ্বালিয়ে দেই।” (তিরমিযীর হাশিয়া আরফুশ শযী : ১/৫২, হাদীস নং ২১৭)

ইমাম তিরমিযী রহমতুল্লাহি আলাইহি উক্ত হাদীছ শরীফখানা হাসান এবং ছহীহ বলেছেন। তিনি আরও বলেন, “অগণিত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের থেকে এই বর্ণনাও রয়েছে যে, যারা ওযর ব্যতীত আযানের পরে জামায়াতে শরীক হবে না, তাদের নামায হবে না।”

সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে প্রত্যেক আক্বেল, বালেগ, সুস্থ পুরুষের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামায বা জামায়াত আদায় করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা বা ওয়াজিবের নিকটবর্তী।

এ প্রসঙ্গে “জাওহারাতুন নাইয়ারাহ” কিতাবের ১ম খন্ডের ৭৫ পৃষ্ঠায় উল্লখে আছে-

اَلْـجَمَاعَةُ سُنَّةٌ مُّؤَكَّدَةٌ اَىْ قَرِيْبَةٌ مِّنَ الْوَاجِبِ.

অর্থ: “জামায়াতে নামায পড়া সুন্নতে মুয়াক্কাদা। র্অথাৎ ওয়াজিবের নিকটবর্তী।”

“মারাকিউল ফালাহ্” কিতাবের ১৯১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-

وَالصَّلَوةُ بِالْـجَمَاعَةِ سُنَّةٌ فِى الْاَصَحِّ مُّؤَكَّدَةٌ شَبِيْهَةٌ بِالْوَاجِبِ فِى الْقُوَّةِ.

অর্থ: “জামায়াতে নামায আদায় করা সুন্নত। অধিক ছহীহ্ মতে সুন্নতে মুয়াক্কাদা যা শক্তিতে ওয়াজিবের সাদৃশ্য রাখে।”

“নূরুল হিদায়া” কিতাবের ১ম খন্ডের ১০০ পৃষ্ঠায় উল্লখে আছে-

جماعت سنت مؤکدہ ھے قریب واجب کے.

অর্থ: “জামায়াতে নামায পড়া সুন্নতে মুয়াক্কাদা যা ওয়াজিবের নিকটবর্তী।”

আর সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে পবিত্র জুমুয়ার নামায আদায় করা হচ্ছে ফরযে আইন। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ করেন-

يَآ أَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْاۤ إِذَا نُوْدِيَ لِلصَّلَاةِ مِنْ يَّوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلٰى ذِكْرِ اللهِ

অর্থ: “হে ঈমানদাররা! যখন জুমুয়ার দিনে তোমাদেরকে নামাযের জন্য ডাকা হয়, তখন তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার যিকিরের দিকে ধাবিত হও।” (পবিত্র সূরা জুমুয়া শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৯)

সমস্ত ফক্বীহগণ এ আয়াতে কারীমা দ্বারা পবিত্র জুমুয়ার নামায পড়া ফরযে আইন প্রমাণ করেছেন।

নিম্নে তাফসীর শরীফ, হাদীছ শরীফ ফিকাহ ও ফতওয়ার কিতাব থেকে জুমুয়ার নামায পড়া ফরযে আইন ও তার দলীল পেশ করা হলো।

اِعْلَمْ أَنَّ صَلٰوةَ الْـجُمُعَةِ مِنْ فُرُوْضِ الْأَعْيَانِ فَيَجِبُ عَلٰى مَنْ جَمَعَ الْعَقْلَ وَالْبُلُوْغَ وَالْـحُرِّيَّةَ وَالذُّكْرَانَ وَالْإِقَامَةَ إِذَا لَـمْ يَكُنْ لَهٗ عُذْرٌ فَمَنْ تَرَكَهَا اِسْتَحَقَّ الْوَعِيْدَ

অর্থ: জেনে রাখ যে, পবিত্র জুমুয়ার নামায পড়া ফরজে আইন। সুতরাং বুদ্ধিমান, বয়ঃপ্রাপ্ত, স্বাধীন, পুরুষ, মুকীম এবং যাদের শরীয়তসম্মত কোন ওজর নেই তাদের প্রতি পবিত্র জুমুয়ার নামায পড়া ফরজে আইন। যে এটা তরক করবে সে কঠিন শাস্তির উপযুক্ত হবে। (তাফসীরে খাযেন, তাফসীরে বাগবী)

صَلَوةُ الْجُمُعَةِ فَرِيْضَةٌ مُحْكَمَةٌ جَاحِدُهَا كَافِرٌ بِالْاِجْمَاعِ

অর্থ: “পবিত্র জুমুয়া উনার নামায পড়া ফরজে আইন। এটার অস্বীকারকারী বা বাধাপ্রদানকারী কাফির, এতে সকলেই একমত। (আইনী ফী শরহে বুখারী)

اِعْلَمْ أَنَّ الْجُمُعَةَ فَرِيضَةٌ مَـحْكَمَةٌ بِالْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ وَالْإِجْمَاعِ ويَكْفُرُ جَاحِدُهَا

অর্থ: স্মরণ রাখ যে, পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র সুন্নাহ শরীফ ও ফিক্বাহর বর্ণনা দ্বারা জুমুয়ার নামায পড়া ফরজে আইন প্রমাণিত হয়েছে। যে এটা অস্বীকার করবে সে কাফির হবে। (ফাতহুল ক্বাদীর)

اِعْلَمْ أَنَّ الْجُمُعَةَ فَرِيضَةٌ مَحْكَمَةٌ لَا يَسَعُ تَرْكُهَا وَيَكْفُرُ جَاحِدُهَا تَثْبُتُ فَرْضِيَّتُهَا بِالْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ وَإِجْمَاعِ الْأُمَّةِ

অর্থ: অবগত হও যে, জুমুয়ার নামায পড়া ফরজে আইন। এটা ত্যাগ করার চেষ্টা করবেনা। এটা অস্বীকারকারী কাফির হবে। এটা পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র সুন্নাহ শরীফ ও পবিত্র ইজমা শরীফ উনাদের বর্ণনা দ্বারা প্রামণিত। (কিফায়া, দুররুল মোন্তাকা)

هِيَ فَرْضٌ عَيْنٌ يَكْفُرُ جَاحِدُهَا لِثُبُوْتِـهَا بِالدَّلِيْلِ الْقَطْعِيِّ.

অর্থ: পবিত্র জুমুয়ার নামায পড়া ফরজে আইন। এটাকে অস্বীকার করলে কাফির হবে। যেহেতু এটা দলীলে কেতয়ী বা অকাট্ট দলীল দ্বারা প্রমাণিত। (দুররুল মুখতার)

তাই সম্মানিত শরীয়ত জুমুয়ার নামায তরককারীর ব্যাপারে কঠিন শাস্তির কথা উল্লেখ করেছে।

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে-

عَنْ حَضْرَتْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ لَيَنْتَهِيَنَّ أَقْوَامٌ عَنْ وَدْعِهِمُ الْجُمُعَاتِ أَوْ لَيَخْتِمَنَّ اللهُ عَلٰى قُلُوْبِهِمْ ثُمَّ لَيَكُوْنَنَّ مِنَ الْغَافِلِيْنَ.

অর্থ: “হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই (অবজ্ঞা করে বা বিনা ওজরে) যে সম্প্রদায় জুমুয়ার নামায থেকে ফিরে থাকে, তাদের ক্বলবে মহান আল্লাহ পাক তিনি নিশ্চয়ই মহর মেরে দেবেন। অতঃপর তারা অবশ্যই গাফিলদের অর্ন্তভুক্ত হয়ে যাবে।” নাউযুবিল্লাহ! (মুসলিম শরীফ ও বজলুল মজহুদ পৃষ্ঠা ১৫৩)

عَنْ حَضْرَتْ أَبِى الْجَعْدِ الضَّمْرِىِّ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ وَكَانَتْ لَهٗ صُحْبَةٌ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ تَرَكَ ثَلاَثَ جُمَعٍ تَهَاوُنًا بِهَا طَبَعَ اللهُ عَلٰى قَلْبِهٖ

অর্থ: হযরত আবু জাদি জুমরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু একজন ছাহাবী ছিলেন। তিনি বর্ণনা করেন যে, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি (অবজ্ঞা করে বা বিনা ওজরে) পরপর তিন জুমুয়া ছেড়ে দেয় অর্থাৎ না পড়ে তবে মহান আল্লাহ পাক তার ক্বলবের উপর মহর মেরে দিবেন। (আবু দাউদ ১ম জিঃ ১৫৮ পৃষ্ঠা)

অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বলা হয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

مَنْ تَرَكَ الْـجُمُعَةَ مِنْ غَيْرِ ضَرُورَةٍ كُتِبَ مُنَافِقًا فِيْ كِتَابٍ لَا يُـمْحٰى وَلَا يُبَدَّلُ

অর্থ: যে ব্যক্তি বিনা ওজরে পবিত্র জুমুয়ার নামায তরক করে, তার নাম মুনাফিকের তালিকায় লিখিত হবে। এটা অপরিবর্তনীয়। নাউযুবিল্লাহ! (মসনদে শাফেয়ী)

অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফে আরো বলা হয়েছে, কেউ বিনা কারণে তিন জুমুয়া পরিত্যাগ করলে সে মুনাফিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। নাউযুবিল্লাহ!

হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, তিনি ঐ ব্যক্তি সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হয়েছিলেন, যে ব্যক্তি দিনে রোযা রাখে ও রাত্রিতে তাহাজ্জুদ পড়ে কিন্তু জামায়াত ও পবিত্র জুমুয়ায় উপস্থিত হয় না। তার উত্তরে তিনি বলেছেন যে, উক্ত ব্যক্তি দোযখে তথা জাহান্নামে যাবে। নাউযুবিল্লাহ!

উপরোক্ত দলীল-আদিল্লাহ দ্বারা এটা স্পষ্টই প্রমাণিত হলো যে, পবিত্র জুমুয়ার নামায পড়া ফরজে আইন। এটা অস্বীকার করলে কাফির হবে এবং বিনা ওজরে আলস্যবশতঃ ত্যাগ করলে কবীরা গুণাহ হবে।

বিশেষ করে, পৃথিবীর সমস্ত পবিত্র মসজিদ মহান আল্লাহ পাক উনার ঘর। সেটা তো রহমত, বরকত, শান্তি, নিরাপত্তা এবং অধিক পরিমাণে ছওয়াব লাভ করার স্থান। মসজিদে নামায আদায় করার দ্বারা মহান আল্লাহ পাক তিনি সন্তুষ্ট হন। আর মসজিদে না যাওয়া, জামাতবদ্ধভাবে নামায না পড়ার কারণে মহান আল্লাহ পাক তিনি অসন্তুষ্ট হন।

উল্লেখ্য শরয়ী ওজর ব্যতিত পবিত্র মসজিদ থেকে বিরত থাকা তথা পবিত্র মসজিদে না আসা যদি কাট্টা কুফরী হয়, তাহলে পবিত্র মসজিদে যেতে বাধা দিলে, প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে, নিরুৎসাহিত করলে, অবশ্যই তা কাট্টা কুফরী হবে।

যেমন এ প্রসঙ্গে ‘আবূ দাউদ শরীফ’ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে-

عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُوْدٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ حَافِظُوْا عَلٰى هٰؤُلاَءِ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ حَيْثُ يُنَادٰى بِهِنَّ فَإِنَّهُنَّ مِنْ سُنَنِ الْهُدٰى وَإِنَّ اللهَ شَرَعَ لِنَبِيِّه صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُنَنَ الْهُدٰى وَلَقَدْ رَأَيْتُنَا وَمَا يَتَخَلَّفُ عَنْهَا إِلَّا مُنَافِقٌ بَيِّنُ النِّفَاقِ وَلَقَدْ رَأَيْتُنَا وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيُهَادَى بَيْنَ الرَّجُلَيْنِ حَتّٰى يُقَامَ فِى الصَّفِّ وَمَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا وَلَهٗ مَسْجِدٌ فِىْ بَيْتِه وَلَوْ صَلَّيْتُمْ فِىْ بُيُوْتِكُمْ وَتَرَكْتُمْ مَسَاجِدَكُمْ تَرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَوْ تَرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَكَفَرْتُمْ.وَفِيْ رِوَايَةِ مُسْلِمٍ لَضَلَلْتُمْ.

অর্থ: ‘হযরত আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা সঠিকভাবে পবিত্র আযানের সাথে পবিত্রতম পাঁচ ওয়াক্ত ছলাতের প্রতি সবিশেষ নযর রাখবে। কেননা এই পবিত্রতম পাঁচ ওয়াক্ত ছলাতই হচ্ছে হিদায়াতের পথ। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য হিদায়াতের এ পথ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আমাদের (সাধারণ) ধারণা, স্পষ্ট মুনাফিক্ব ব্যতীত কেউ জামা’আত থেকে অনুপস্থিত থাকতে পারে না। আমরা তো আমাদের মধ্যে এমন লোকও দেখেছি, যারা (দুর্বলতা ও অসুস্থতার কারণে) দু’জনের উপর ভর করে (পবিত্র মসজিদে) যেতেন এবং উনাকে (সম্মানিত ছলাত উনার) কাতারে দাঁড় করিয়ে দেয়া হত। তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যার ঘরে তার পবিত্র মসজিদ (সম্মানিত ছলাত উনার স্থান) নেই। এতদসত্ত্বেও তোমরা যদি পবিত্র মসজিদে আসা বন্ধ করে দিয়ে তোমাদের ঘরেই (পবিত্র ফরয) ছলাত আদায় কর, তাহলে তোমরা তোমাদের মহাসম্মানিত নবী যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র সুন্নাত মুবারক উনাকেই বর্জন করলে। আর যদি তোমরা তোমাদের মহাসম্মানিত নবী যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র সুন্নাত মুবারক পরিত্যাগ করো, তথা তোমরা যদি মহাপবিত্রতম মসজিদে আসা বন্ধ করো- তাহলে অবশ্যই অবশ্যই তোমরা সুস্পষ্ট কুফরী করলে, তথা তোমরা কাফির/মুরতাদ হয়ে গেলে। নাউযুবিল্লাহ! (আবূ দাউদ শরীফ)

‘ছহীহ মুসলিম শরীফ’ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে, মসজিদে আসা বন্ধ করলে ‘তোমরা অবশ্যই পথভ্রষ্ট হবে’ গোমরাহ হবে, ধ্বংস হবে। নাঊযুবিল্লাহ!

কাজেই যারা মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্রতম কালামুল্লাহ শরীফ উনাদের বিরোধিতা করে এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার পবিত্রতম হাদীছ শরীফ উনাদের বিরোধিতা করার কারণেই তারা কাট্টা কাফির, মুরতাদ।

কেউ কেউ বলে, পবিত্র জুমুয়ার দিন একটি রোযা রাখা মাকরূহঃজুমুয়ার দিন একটি রোযা রাখা নিষেধ হওয়ার ব্যাপারে শরীয়তসম্মত কোন কার...
13/05/2022

কেউ কেউ বলে, পবিত্র জুমুয়ার দিন একটি রোযা রাখা মাকরূহঃ
জুমুয়ার দিন একটি রোযা রাখা নিষেধ হওয়ার ব্যাপারে শরীয়তসম্মত কোন কারণ পাওয়া যায় না। তাহলে কেনো জুমুয়ার দিন ১টি রোযা রাখা মাকরূহ হবে? মূলত জুমুয়ার দিন ১টি রোযা রাখা শুধু জায়িযই নয় বরং খাছ সুন্নতে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সুন্নতে ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম ও সুন্নতে হযরত ইমাম মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ!

তবে কেহ কেহ বিনা তাহক্বীক্বে বিপরীত বলে থাকে যা ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাদের বিরোধী হওয়ার কারণে সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাজ্য। যেমন-

পবিত্র জুমুয়ার দিন রোযা রাখার ব্যাপারে ফিক্বাহর কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে –

وَكَرِهَ بَعْضُهُمْ صَوْمَ يَوْمِ الْـجُمُعَةِ بِاِنْفِرَادِهٖ، وَكَذَا يَوْمُ الْاِثْنَيْنِ، وَالْـخَمِيْسِ، وَقَالَ عَامَّتُهُمْ إنَّهٗ مُسْتَحَبٌّ لِأَنَّ هٰذِهِ الْأَيَّامَ مِنَ الْأَيَّامِ الْفَاضِلَةِ فَكَانَ تَعْظِيْمُهَا بِالصَّوْمِ مُسْتَحَبًّا، وَيُكْرَهُ صَوْمُ يَوْمِ السَّبْتِ بِاِنْفِرَادِهٖ، لِأَنَّهٗ تَشَبُّهٌ بِالْيَهُوْدِ

অর্থ: কেউ কেউ পবিত্র জুমুয়ার দিন আলাদাভাবে রোযা রাখা মাকরূহ বলেছে। অনুরূপভাবে ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ এবং ইয়াওমুল খমীছও আলাদাভাবে রোযা রাখা মাকরূহ বলেছে। তবে সর্বসম্মতিক্রমে উক্ত দিন সমুহে আলাদা আলাদাভাবে রোযা রাখা মুস্তাহাব। কেননা উক্ত দিন সমূহ বিশেষভাবে ফযীলতপূর্ণ দিন। সুতরাং উক্ত দিন সমূহকে তাযীম করে সে দিনে রোযা রাখা মুস্তাহাব। আর সাবতের দিন (শনিবার) আলাদাভাবে একটি রোযা রাখা ইহুদীদের সাথে তাশাব্বুহ হওয়ার কারণে মাকরূহ হবে। (বাদায়েউচ্ছনায়ে ফী তারতীবিশ শারায়ে ৪/১৫৫)

আর ইয়াওমুস সাবত বা শনিবার ১টি রোযা রাখা মাকরূহ হওয়ার ব্যাপারে কিতাবে উল্লেখ আছে-

وَيُكْرَهُ صَوْمُ يَوْمِ السَّبْتِ بِاِنْفِرَادِهٖ، لِأَنَّهٗ تَشَبُّهٌ بِالْيَهُوْدِ

আর সাবতের দিন (শনিবার) আলাদাভাবে একটি রোযা রাখা ইহুদীদের সাথে তাশাব্বুহ হওয়ার কারণে মাকরূহ হবে। (বাদায়েউচ্ছনায়ে ফী তারতীবিশ শারায়ে ৪/১৫৫)

কাজেই, যারা পবিত্র জুমুয়ার দিনে একটি রোযা রাখাকে মাকরূহ বলে এবং এর স্বপক্ষে যে দুই একটি দলীল পেশ করে থাকে তা অসংখ্য অগণিত ছহীহ হাদীছ শরীফ ও নির্ভরযোগ্য ফিক্বাহ ও ফতওয়ার কিতাবের বর্ণনার খিলাফ বা বিপরীত হওয়ার কারণে মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। বরং সম্পূর্ণরূপেই বাতিল ও পরিত্যাজ্য।

পবিত্র জুমুয়ার দিন রোযা রাখার ব্যাপারে বিশ্ববিখ্যাত ফিক্বাহর কিতাব সমূহে শরয়ী ফায়সালা এভাবে এসেছে –

وَمِنْهُ صَوْمُ يَوْمِ السَّبْتِ بِاِنْفِرَادِهٖ لِلتَّشَبُّهِ بِالْيَهُوْدِ بِـخِلَافِ صَوْمِ يَوْمِ الْـجُمُعَةِ فَإِنَّ صَوْمَهٗ بِاِنْفِرَادِهٖ مُسْتَحَبٌّ عِنْدَ الْعَامَّةِ

অর্থ: মাকরূহ রোযা সমূহের মধ্যে অন্যতম একটি হলো আলাদা ভাবে সাবতের দিন (শনিবার) রোযা রাখা। কারণ তাতে ইহুদীদের সাথ তাশাব্বুহ হয়। তবে জুমুয়ার দিনে আলাদা ভাবে রোযা রাখা মাকরুহ নয়। কেননা সর্বসম্মতিক্রমেই পবিত্র জুমুয়ার দিন এককভাবে রোযা রাখা মুস্তাহাব। (বাহরুর রায়েক শরহে কানযুদ্দাকায়েক ২/২৭৮)

জুমুয়ার দিন রোযা রাখার স্বপক্ষে অসংখ্য অগণিত ছহীহ ও নির্ভরযোগ্য দলীল বিদ্যমান রয়েছে। তন্মধ্য হতে কিছু দলীল নিম্নে পেশ করা হলো-

পবিত্র জুমুয়ার দিন রোযা রাখার ফযীলত সম্পর্কে মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে

عَنْ حَضْرَتْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ رَضِيْ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ صَامَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ كَتَبَ اللهُ لَهٗ عَشَرَةَ أَيَّامٍ عَدَدَهُنَّ مِنْ أَيَّامِ الْاٰخِرَةِ لَايُشَاكِلُهُنَّ أَيَّامُ الدُّنْيَا

অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি পবিত্র জুমুয়ার দিন একটি রোযা রাখবে, মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি তাকে দশ দিনের (দুনিয়াবী দশ হাজার বছর) রোযার ফযীলত দান করবেন। যে দশ দিন হবে পরকালীন দশ দিন, যা দুনিয়াবী দিন সমূহ নয়। (শুয়াবুল ঈমান, ফাদ্বায়িলুল আওক্বাত)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ عَلِيٍّ كَرَّمَ اللهُ وجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ صَامَ يَوْمَ الْـجُمُعَةِ صَبْرًا وَاِحْتِسَابًا أُعْطِيَ عَشَرَةَ أَيَّامٍ غُرٍّ زُهْرٍ لَاتُشَاكِلُهُنَّ أَيَّامُ الدُّنْيَا

অর্থ: হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি বর্ণনা করেন, নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি ধৈর্যের সাথে ও খুলুছিয়াতের সাথে পবিত্র জুমুয়ার দিন একটি রোযা রাখবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে পরকালীন দশ দিন (দুনিয়াবী দশ হাজার বছর) রোযা রাখার ফযীলত দান করবেন। (তাফসীরে রুহুল বয়ান, তাফসীরে হাক্কী, ফয়জুল ক্বদীর শরহে জামেউছ ছগীর, আত তাইসীর বি শরহে জামিয়িছ ছগীর)

উল্লেখ্য যে, পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার পবিত্র আয়াত শরীফ দ্বারা প্রমাণিত যে, পরকালীন একদিন হলো দুনিয়াবী এক হাজার বছরের সমান। সুতরাং দশ দিন হচ্ছে দশ হাজার বছরের সমান। কাজেই কোন ব্যক্তি যদি পবিত্র জুমুয়ার দিন একটি রোযা রাখে মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলমীন তিনি তাকে দশ হাজার বছর রোযা রাখার ফযীলত দান করবেন। সুবহানাল্লাহ!

পবিত্র জুমুয়ার দিন রোযা রাখা সম্পর্কে অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফে আরো বর্ণিত রয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ أَبِـىْ سَعِيْدٍ الْـخُدْرِيِّ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ أَنَّهٗ سَـمِعَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ خَـمْسٌ مَنْ عَمِلَهُنَّ فِيْ يَوْمٍ كَتَبَهُ اللهُ مِنْ أَهْلِ الْـجَنَّةِ مَنْ صَامَ يَوْمَ الْـجُمُعَةِ وَرَاحَ إِلَى الْـجُمُعَةِ وَشَهِدَ جَنَازَةً وَأَعْتَقَ رَقَبَةً وَعَادَ مَرِيْضًا

অর্থ: হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছেন, তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি পাঁচটি আমল করবে মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি তার জন্য সম্মানিত জান্নাতকে অবধারিত করে দেন। ১। যে ব্যক্তি পবিত্র জুমুয়ার দিন রোযা রাখবেন ২। ছলাতুল জুমুয়া আদায় করবেন ৩। কারো জানাযায় শরীক থাকবেন ৪। কোন গোলাম আজাদ করবেন ৫। রোগীর সেবা করবেন। সুবহানাল্লাহ! (ইবনু হিব্বান, আবু ইয়ালা)

عَنْ حَضْرَتْ أَبِـىْ سَعِيْدٍ الْـخُدْرِيِّ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ أَنَّهٗ سَـمِعَ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ مَنْ وَافَقَ صِيَامَهٗ يَوْمَ الْـجُمُعَةِ وَعَادَ مَرِيْضًا وَشَهِدَ جَنَازَةً وَتَصَدَّقَ وَأَعْتَقَ وَجَبَتْ لَهُ الْـجَنَّةُ

অর্থ: হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছেন, তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি পবিত্র জুমুয়ার দিন রোযা রাখবে, রোগীর সেবা করবে, কারো জানাযায় শরীক হবে, কোন দান-ছদক্বা করবে এবং কোন গোলাম আজাদ করবে তার জন্য জান্নাত ওয়াজীব হয়ে যাবে। সুবহানাল্লাহ! (ইবনু হিব্বান, আবু ইয়ালা )

উল্লেখ্য যে, উপরোক্ত প্রত্যেকটি হাদীছ শরীফ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহা সম্মানিত মহা পবিত্র ক্বওল শরীফ অর্থাৎ হাদীছ শরীফ উনার অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং মহাসম্মানিত মহা পবিত্র ক্বওলী হাদীছ শরীফ দ্বারা পবিত্র জুমুয়ার দিন রোযা রাখা জায়িয ও সুন্নত প্রমাণিত হলো।

অর্থাৎ স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই শুধুমাত্র জুমুয়ার দিনে একটি রোযা রাখার ব্যাপারে উম্মাহকে উৎসাহিত করেছেন। এখানে আগে বা পরে আরেকটি রোযা রাখার কোনো শর্তারোপ করেননি।

শুধু তাই নয়, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বয়ং নিজেই পবিত্র জুমুয়ার দিনে একটি রোযা মুবারক রেখেছেন। এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ مَسْعُوْدٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ أَنَّهٗ قَالَ مَا رَأَيْتُ النَّبِـىَّ صَلَّي اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُفْطِرُ يَوْمَ الْـجُمُعَةِ

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জুমুয়ার দিন রোযা ছাড়তে দেখি নাই। (অর্থাৎ তিনি প্রতি জুমুয়ার দিনই রোযা রাখতেন)। সুবহানাল্লাহ! (শরহে ছহীহিল বুখারী লি ইবনে বাত্তাল)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ أَنَّهٗ قَالَ مَا رَأَيْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُفْطِرًا يَوْمَ الْـجُمُعَةِ قَطُّ

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা তিনি বর্ণনা করেন, আমি কখনোই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জুমুয়ার দিন রোযা ছাড়তে দেখি নাই। (অর্থাৎ তিনি প্রতি জুমুয়ার দিনই রোযা রাখতেন)। সুবহানাল্লাহ! (শরহু ছহীহিল বুখারী লি ইবনে বাত্তাল)

পবিত্র হাদীছ শরীফে আরো বর্ণিত হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ مَسْعُوْدٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ أَنَّهٗ قَالَ قَلَّمَا كَانَ يُفْطِرُ يَوْمَ الْـجُمُعَةِ

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খুব কম সংখ্যক সময়েই জুমুয়ার দিন রোযা ছাড়তেন। সুবহানাল্লাহ! (তুহফাতুল আহওয়াজী, ফয়জুর ক্বদীর শরহে জামিউস সগীর, মিশকাতুল মাছাবীহ, বুসতানুল আহবার, মিরয়াতুল মাফাতীহ, মাছাবীহুত তানবীর)

উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহা পবিত্র ফে’ল শরীফ বা কার্য মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং মহাসম্মানিত মহাপবিত্র ক্বওলী ও ফে’লী হাদীছ শরীফ দ্বারাই শুধুমাত্র পবিত্র জুমুয়ার দিন ১টি রোযা রাখা জায়িয ও সুন্নত প্রমাণিত হলো। অর সে কারণেই হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা এবং পরবর্তী হযরত ইমাম মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম উনারা পবিত্র জুমুয়ার দিনে রোযা রেখেছেন। এর আগে বা পরে রোযা রাখার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ أَنَّهٗ كَانَ يَصُوْمُ يَوْمَ الْـجُمُعِةِ وَيُوَاظِبُ عَلَيْهِ

অর্থ: বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, নিশ্চয়ই তিনি নিয়মিতভাবে প্রতি জুমুয়ার দিন একটি রোযা রাখতেন। (শরহে ছহীহ বুখারী লি ইবনে বাত্তাল, আল ইসতিসগারুল জামি’ লি মাযাহিবি ফুক্বাহায়িল আমছার)।

পাশাপাশি অনুসরণীয় ইমাম-মুজতাহিদ উনারাও শুধুমাত্র জুমুয়ার দিন একটি রোযা রাখা জায়িয ও সুন্নত হওয়ার ব্যাপারে মত পেশ করেছেন। যেমন এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যাগ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে-

وَقَالَ حَضْرَتِ الْاِمَامُ الْـمَالِكُ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ لَـمْ أَسْـمَعْ أَحَدًا مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ وَالْفِقْهِ مِـمَّنْ يُّقْتَدٰى بِهٖ يَنْهٰى عَنْ صِيَامِ يَوْمِ الْـجُمُعَةِ وَصِيَامُهٗ حَسَنٌ، وَقَدْ رَأَيْتُ بَعْضَ أَهْلِ الْعِلْمِ يَصُوْمُهٗ وَأُرَاهُ كَانَ يَتَحَرَّاهُ

অর্থ: হযরত ইমাম মালেক রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, কোন উলামায়ে কিরাম এবং অনুসরণীয় ফুক্বাহায়ে ইজাম কাউকেই পবিত্র জুমুয়ার দিন রোযা রাখার ব্যাপারে নিষেধ করতে শুনি নাই। সুতরাং জুমুয়ার দিন রোযা রাখাই উত্তম। বরং অনেক অনুসরণীয় উলামায়ে কিরাম উনাদেরকে আনন্দচিত্তে জুমুয়ার দিন রোযা রাখতে দেখেছি। (মুয়াত্তায়ে ইমাম মালিক, আদ্বওয়াউল বয়ান ফী ইদ্বাহিল কুরআন, শরহে ছহীহিল বুখারী লি ইবনে বাত্তাল, উমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারী, ইমালুল মুয়াল্লিম শরহে মুসলিম, আল মিনহাজ শরহে মুসলিম, শরহুন নববী আলাল মুসলিম, তুহফাতল আহওয়াজী, তাহযীবু সুনানি আবূ দাঊদ, শরহুয যারকানী আলা মুয়াত্তা)

কিতাবে আরো উল্লেখ করা হয়েছে-

وَقَالَ حَضْرَتِ الْاِمَامُ الشَّافِعِىُّ رَحْـمَةُ اللهِ عِلَيْهِ لَايُبَيِّنُ لِـىْ أَنَّهٗ نَـهٰى عَنْ صِيَامِ يَوْمِ الْـجُمُعَةِ إِلَّا عَلَى الْاِخْتِيَارِ

অর্থ: হযরত ইমাম শাফিয়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, এমন কোন বর্ণনা আমার কাছে পৌঁছেনি যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র জুমুয়ার দিন রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন, তবে যার ইচ্ছা রোযা রাখতেও পারে নাও রাখতে পারে। (শরহে ছহীহ বুখারী লি ইবনে বাত্তাল)

কিতাবে আরো উল্লেখ করা আছে-

وَأَكْثَرُ الْفُقَهَاءِ عَلَى الْأَخْذِ بِأَحَادِيْثِ الْإِبَاحَةِ لِأَنَّ الصَّوْمَ عَمَلٌ بَرٌّ

অর্থ: অধিকাংশ ফুকাহায়ে কিরাম উনারা জুমুয়ার দিন রোযা রাখা বৈধ এ বিষয়ের পবিত্র হাদীছ শরীফ গ্রহণ করে পবিত্র জুমুয়ার দিন রোযা রাখাকে জায়িয বলেছেন। কেননা রোযা একটি বিশেষ নেক কাজের অন্তর্ভূক্ত। (শরহে ছহীহ বুখারী লি ইবনে বাত্তাল)

জুমুয়ার দিন রোযা রাখার ব্যাপারে কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে,

إِبَاحَتُهٗ مُطْلَقًا مِّنْ غَيْرِ كَرَاهَةٍ وَرُوِيَ ذٰلِكَ عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ وَمُـحَمَّدِ بْنِ الْـمُنْكَدِرِ وَهُوَ قَوْلُ حَضْرَتِ الْاِمَامِ الْـمَالِكِ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَحَضْرَتِ الْاِمَامِ أَبِـيْ حَنِيْفَةَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَحَضْرَتِ الْاِمَامِ مُـحَمَّدِ بْنِ الْـحَسَنِ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ

অর্থ: সাধারণ ভাবে পবিত্র জুমুয়ার দিন রোযা রাখা জায়েয রয়েছে,ইহা মাকরূহ নয়। ইহা হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও মুহম্মদ ইবনে মুনক্বাদির উনাদের থেকে বর্ণিত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার দ্বারা প্রমানিত। আর ইহাই ইমাম মালেক রহমাতুল্লাহি আলাইহি, ইমামে আ’যম রহমাতুল্লাহি আলাইহি , ইমাম মুহম্মদ ইবনে হাসান রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনাদের ফতওয়া। (উমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারী)

কিতাবে আরো উল্লেখ করা হয়েছে-

وَقَالَ بَعْضُهُمْ وَاسْتَدَلَّ الْـحَنَفِيَّةُ بِـحَدِيْثِ حَضْرَتْ اِبْنِ مَسْعُوْدٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصُوْمُ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ وَقَلَّمَا كَانَ يُفْطِرُ يَوْمَ الْـجُمُعَةِ

অর্থ: অধিকাংশ ইমাম-মুজতাহিদ উনারা বলেন, হানাফী মাযহাবের ইমাম উনারা হযরত ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বর্ণিত পবিত্র হাদীছ শরীফ জুমুয়ার দিন রোযা রাখার দলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখতেন এর মধ্যে খুব কম সংখ্যকই জুমুয়ার দিন রোযা ছাড়তেন। সুবহানাল্লাহ! (উমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারী)

কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে-

وَقاَلَ حَضْرَتِ الْاِمَامُ الْـمَالِكُ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَحَضْرَتِ الْاِمَامُ أَبِـيْ حَنِيْفَةَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَحَضْرَتِ الْاِمَامُ مُـحَمَّدٌ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ بِالْإِبَاحَةِ مُطْلَقًا مِنْ غَيْرِ كَرَاهِةٍ ذَكَرَهُ الْعَيْنِـيُّ وَاِبْنُ قُدَامَةَ وَالْـحَافِظُ وَاِبْنُ الْـهُمَامِ.

অর্থ: হযরত ইমাম মালেক রহমাতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইমামে আ’যম রহমাতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইমাম মুহম্মদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনারা বলেন, পবিত্র জুমুয়ার দিন রোযা রাখা মাকরূহ নয় বরং জায়েয। এ বিষয়টি আইনি, ইবনু কুদামা, হাফিজ এবং ইবনুল হুমাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনারাও বর্ণনা করেছেন। (মিরআতুল মাফাতিহ শরহে মিশকাতুল মাসাবীহ)

অতএব, ছহীহ ও গ্রহনযোগ্য ফতওয়া হচ্ছে পবিত্র জুমুয়ার দিনে ১টি রোযা রাখা জায়িয তো অবশ্যই বরং খাছ সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত।

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Ummul-Umam posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Ummul-Umam:

Share