14/05/2026
পুরুষোত্তম মাসে এই ৩৩ টি কাজ অবশ্যই করুন। কার্তিক মাসের থেকেও হাজার গুন বেশি মাহাত্ম্য। 🙏
📍 পুরুষোত্তম মাসের গুরুত্বপূর্ণ নিয়মসমূহ:
১. ব্রহ্ম মুহূর্তে জাগরণ: সকালে ব্রহ্ম মুহূর্তে জাগা উচিত। ব্রহ্ম মুহূর্ত ভোর ৪:০০ টা থেকে ৪:৫৮ মিনিট পর্যন্ত হয়। অর্থাৎ সকাল ৪টেয় জেগে যাওয়া উচিত।
২. প্রাতঃক্রিয়া ও পূজা: প্রাতঃক্রিয়া সেরে নিজের মঙ্গল আরতি, পূজা এবং যে হরিনাম জপ হয় তা করা উচিত।
৩. নাম জপ: আপনারা সবাই বৈষ্ণব, সবাই ভক্ত। যারা হরিনাম জপ করেন না (হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র), অন্তত এই পুরুষোত্তম মাসে এই মন্ত্র জপ করা উচিত।
৪. জপ সংখ্যা বৃদ্ধি: যারা ১৬ মালা জপ করেন, তাদের ২৫ মালা, ৩৩ মালা বা ৬৪ মালা—অর্থাৎ আরও বাড়ানো উচিত। বিশেষ করে ৩৩ মালার জপের মহিমা অনেক।
৫. আচার্যদের প্রার্থনা: এই মাসে বিশেষ রূপে ভগবানের কাছে প্রার্থনা করতে হয় এবং এই প্রার্থনা আচার্যদের শ্লোকের মাধ্যমে করা উচিত।
৬. জয় রাধা মাধব: ঠাকুর ভক্তিবিনোদ যেমন লিখেছেন—নিয়ম করা উচিত যে সকালে উঠে আমরা 'জয় রাধা মাধব' গাইব।
৭. চৌরাষ্টকম পাঠ: দুপুরে 'চৌরাষ্টকম' গাইবেন, তাতেও পুরুষোত্তমের মহিমা বলা হয়েছে।
৮. অষ্টকম পাঠ: সন্ধ্যায় বা দিনে একবার 'নন্দনন্দন অষ্টকম', 'শ্রী জগন্নাথ অষ্টকম' বা 'শচীসুত অষ্টকম'—এই তিনটি অষ্টকমের মধ্যে যেকোনো একটি আমরা গাইব।
৯. বিশেষ মন্ত্র জপ: দিনে ৩৩ বার এক সময়ে এই মন্ত্রটি পুনরাবৃত্তি করা উচিত:
"গোবর্ধনধরং বন্দে গোপালং গোপারূপিণম্। গোকুলোৎসবমীশানং গোবিন্দং গোপিকাপ্রিয়ম্।।"
এবং সাথে ভগবানের সম্মুখে ৩৩ বার প্রনাম। ( পুরুষদের দন্ডবৎ, মাতাজিদের পঞ্চাঙ্গ প্রনাম)
১০. গীতা পাঠ: ভগবদ্গীতার ১৫তম অধ্যায়ের (পুরুষোত্তম যোগ) পাঠ করা উচিত। এর শ্লোকগুলো বোঝার মতো সুন্দর, যা পাঠ করলে কথা শোনার সময় বড় আনন্দ আসবে।
১১. ব্রহ্ম স্তুতি: ভাগবতমের দশম স্কন্ধের ১৪তম অধ্যায়—'ব্রহ্ম স্তুতি', যা ব্রহ্মা ভগবান কৃষ্ণকে করেছেন (তা পাঠ করা)।
১২. সরল জীবন: 'সিম্পল লিভিং হাই থিংকিং'। নিজের জীবনযাত্রা সহজ করে দেওয়া উচিত এবং বিচার বা চিন্তা উন্নত রাখা উচিত।
১৩. মিতাহার: খাবারে কেবল ফলার বা খাবার সীমিত করা উচিত। যতটা খান, তার চেয়ে কমানোর চেষ্টা করুন।
১৪. আলস্য ত্যাগ: ৫ বার খেলে ৪ বার খান, ৩ বার খেলে ২ বার। উদ্দেশ্য হলো যাতে আলস্য না আসে, ঘুম না আসে। তপস্যার নামে দিনভর শুয়ে থাকার চেয়ে একটু খেয়ে ভজন করাই শ্রেয়।
১৫. ব্রহ্মচর্য পালন: পুরুষ হোক বা স্ত্রী, এই মাসে ব্রহ্মচর্য ব্রত পালন করা।
১৬. নিষ্কাম কর্ম: যে কাজই করবেন তা যেন কেবল কৃষ্ণের জন্য হয় (ব্যবসায়াত্মিকা বুদ্ধি)।
১৭. আধ্যাত্মিক প্রগতি: অন্য কাজের জন্য কম প্রচেষ্টা করা এবং যাতে ভক্তিতে প্রগতি হয় সেই কাজে বেশি পরিশ্রম করা।
১৮. জাগতিক কাজ বর্জন: মাসির বাড়ি যাওয়া বা এখানে-ওখানে যাওয়া এই মাসে কমিয়ে দিন এবং ভক্তির কাজ বাড়িয়ে দিন।
১৯. অগ্রাধিকার: শারীরিক প্রয়োজন সীমিত করে আধ্যাত্মিক প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
২০. সংকল্প প্রকাশ: নিজের সংকল্প গুরুর সামনে বা ভক্তদের সামনে প্রকাশ করা উচিত। কাগজে লিখে সবাইকে দেখিয়ে বেড়ানো উচিত নয়, তাহলে পরের দিনই ওটা বন্ধ হয়ে যাবে।
২১. প্রিয় বস্তু ত্যাগ: নিজের কোনো প্রিয় বস্তু, খাবার বা দিনচর্যার কোনো একটি অঙ্গ ত্যাগ করা উচিত। যেমন—"আজ থেকে আমি করলা ত্যাগ করলাম।"
২২. ধামবাস: এই মাসে ৩০ দিন ভগবানের ধামে বাস করা উচিত। সম্ভব না হলে ইসকন মন্দিরে বেশি বেশি যাওয়া উচিত এবং ভক্তদের সঙ্গে সঙ্গ করা উচিত।
২৩. পুষ্প অর্পণ: ভগবানকে নিত্য তুলসী দল এবং পদ্ম ফুল অর্পণ করা উচিত। না পেলে স্মরণ করেও এটি করা যায়।
সম্ভব হলে ৩৩ প্রকার পুস্প এবং ৩৩ টা তুলসী ভগবানের চরনে অর্পন করুন।
২৪. ক্রোধ বর্জন: ক্রোধ ত্যাগ করার চেষ্টা করুন এবং যে পরিস্থিতি উত্তেজিত করে তোলে তা থেকে বাঁচা উচিত।
২৫. বৈষ্ণব অপরাধ: বৈষ্ণব অপরাধ থেকে পূর্ণরূপে বাঁচার চেষ্টা করুন।
২৬. গ্রন্থ বিতরণ: গীতা, ভাগবত বা পুরুষোত্তমের কথা আছে এমন বই বেশি করে বিতরণ করুন। আমাদের আচার্যরা এই গ্রন্থগুলোর জন্য অনেক পরিশ্রম করেছেন।
২৭. প্রসাদ সেবা: বৈষ্ণবদের সেবা করা এবং তাদের প্রসাদ খাওয়ানো উচিত।
২৮. শ্রবণ ও শুদ্ধিকরণ: হরি কথা দিয়ে নিজের শুদ্ধিকরণ করুন। রোজ নিয়ম করে কথা শোনা উচিত এবং তার সময়সীমা বাড়ানো উচিত।
২৯. পরিক্রমা: ধাম পরিক্রমার বিশেষ গুরুত্ব আছে। সম্ভব না হলে ইসকন মন্দিরে বা নিজের ঘরের মন্দির বা তুলসী গাছকে ৩৩ বার পরিক্রমা করুন কীর্তন করতে করতে।
৩০. মন্দির মার্জনা: অন্তত নিজের ঘরের মন্দির রোজ পরিষ্কার রাখুন। এই মাসে মন্দিরকে ঝকঝকে রাখুন (গুন্ডিচা মার্জন)।
৩১. পবিত্র স্নান: পবিত্র নদীতে রোজ স্নান করা উচিত। গঙ্গার ৩৩ বার ডুব দেওয়ার মাহাত্ম্য রয়েছে। সম্ভব না হলে এই শ্লোকটি বলে স্নান করলে সব নদীর ফল পাওয়া যাবে:
"গঙ্গে চ যমুনে চৈব গোদাবরি সরস্বতি। নর্মদে সিন্ধু কাবেবি জলেঽস্মিন্ সন্নিধিং কুরু।।" ৩৩ বার মাথায় জল ঢালতে পারেন।
৩২. দীপ দান: নিত্যরূপ রাধা ও কৃষ্ণকে দীপ (প্রদীপ) অর্পণ করবেন। সম্ভব হলে ৩৩ প্রদীপ অর্পন করুন।
৩৩. বৈষ্ণব ভোজন: সংকল্প শেষে বৈষ্ণবদের ডাকুন এবং ঘি দিয়ে তৈরি খাবার বা ভেট অর্পণ করুন। রোজ না পারলে ৩৩ দিনের ভোজন একদিনে করাতে পারেন।
#পুরুষোত্তম_ব্রত_পালনের_মহিমা #পুরুষোত্তম_ব্রত_পালন_না_করলে_কি_হতে_পারে #পুরুষোত্তম_ব্রতে_কি_কি_পালনীয় #পুরুষোত্তম_ব্রত #পুরুষোত্তম_ব্রত_মাহাত্ম্য #পুরুষোত্তম