11/12/2023
ম্যাট্রিক্স অর্থনৈতিক সিস্টেম চায় কনজিউমার ক্লাস আরো বেশি এবং আরো বেশি প্রোডাক্ট কিনতে থাকুক। টেকনোলজি প্রোডাক্টস তাদের সিস্টেম সচল রাখার গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।
আপনি লক্ষ্য করলে দেখবেন হাতের ফোনটা ২ বছর পার হলেই এমন অবস্থা হয় যে সেটা আর চালানো যায়না। ৫ বছর আগের ১জিবি বা ৫১২মেগাবাইট র্যামের ফোন গুলায় শুধু ম্যাসেঞ্জার,ফেসবুক,ইমো ইন্সটল করলেই এ্যাপ্লিকেশন ইন্সটলেশন স্পেস ফুল হয়ে যায়। ৫ বছর আগে ফেসবুকের সাইজ ছিল ৩০ মেগাবাইট এখন সেটার সাইজ ১০০+ মেগাবাইট। ইন্সটল হওয়ার পর টোটাল অর্ধগিগাবাইট স্পেস দখল করে ফেলে ফেসবুক। চার-পাঁচ বছর আগে ক্রোম ফায়ারফক্সের সাইজ ছিল ২৫-৩০ এমবি। এখন সেসব ব্রাউজারের আকার ১৫০+ এমবি। ২০০ মেগাবাইটের ব্রাউজারও আছে। ইন্সটল করার পর এগুলোর টোটাল ইউজড স্পেস ৬০০ মেগাবাইট ছাড়ায়। এখন চিন্তা করে দেখুন কিভাবে এসব অ্যাপ ৫১২ এমবি র্যামের ফোনে ব্যবহার করবেন! এখানেই ক্যাপিটালিজম/ম্যাট্রিক্স সিস্টেম! আপনাকে বাধ্য হয়েই ওই ফোনটা ফেলে দিয়ে আপডেটেড হাইয়ার হার্ডওয়্যার রিসোর্স এর ফোন কিনতে হবে। ওরা ইচ্ছা করেই এপ্লিকেশন এর সাইজ বাড়াচ্ছে আপডেটের নামে। আর আপনি ভাব মারাতে গিয়ে হোক কিংবা প্রয়োজনের খাতিরে হোক আপনার ব্যবহার্য জিনিস বাতিল করে সদ্য মার্কেটে আসা প্রোডাক্ট কিনে আনছেন। এক্ষেত্রে আসলে আপনার ডিভাইসের হার্ডওয়্যার প্রতিনিয়ত ডাউন হচ্ছে না বরং ওরা অধিকতর শক্তিশালী হার্ডওয়্যার এর উপযোগী সফটওয়্যার রিলিজ করছে। তাই যখন আপনার ডুয়েল কোর ফোনে অ্যাপস আপডেট করছেন তখন সেটা রান করতে soc এর ওভারস্ট্রেস হচ্ছে, স্লো হচ্ছে, হ্যাং হচ্ছে। এটাকে আপডেট অথবা ডেভেলপমেন্ট বলেনা। ডেভেলপমেন্ট হচ্ছে এক্সিস্টিং মেশিনে ঐ সফটওয়্যারকে আকার না বাড়িয়ে আরো বেশি অপটিমাইজড করা, পাওয়ার এফিসিয়েন্ট করা,সাইজ আরো ছোট করা। এই কাজটাই করে লিনাক্স বেজড ডিস্ট্রোগুলো। কিন্তু এন্ড্রয়েড লিনাক্স বেজড হওয়া সত্ত্বেও এটার নিয়ন্ত্রণ পুঁজিবাদী গুগলের হাতে। এজন্য এন্ড্রয়েড সবচেয়ে নিম্নমানের ওএস। এখন কিভাবে আপনি আপনার ৫-৬ বছর আগের ডিভাইস কোন ল্যাগ বা হ্যাং ছাড়াই ব্যবহার করবেন?
▪️প্রথমে একটা ফ্যাক্টরি রিসেট দিবেন।
▪️এরপরে প্লে স্টোর এবং গুগল সংক্রান্ত যেসব এপ্লিকেশন অদরকারী সেগুলো ডিজএবল করবেন। প্লে স্টোর ডিজএবল করবেন যাতে স্টক এ্যাপ আপডেট না হয়। কোনভাবেই আপডেট করবেন না স্টক এপ্লিকেশন গুলো। দূর্বল প্রসেসরে ইউজড স্পেস কম থাকা জরুরি।
▪️প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার গুলোর লাইট ভার্সন এবং সাইজে ছোট ওল্ড ভার্সন ব্যবহার করা। অফিস এপ্লিকেশন যেগুলার সাইজ ৩ বছর আগে ৩০ মেগাবাইট ছিল এখন সেগুলো ১৫০-১৯০ এমবি। সুতরাং ওল্ড ভার্সন ব্যবহার করতে হবে।
▪️যেহেতু প্লে স্টোর ডিজএবল করবেন তাহলে নতুন এপ্লিকেশন ডাউনলোড কিভাবে করবেন? এজন্য অন্য কোন মার্কেট প্লেস ব্যবহার করতে পারেন। যেমন– mobile1, 9Apps, apkmirror, Fdroid, Aptoid, Moboginie, Apkpure ইত্যাদি। আপনারা গুগল থেকেও ** .apk প্যাকেজ নামিয়ে ইন্সটল করে নিতে পারবেন। তবে হার্ডওয়্যার আর্কিটেকচার মিলিয়ে নিতে হবে। নিয়ন এআরএম৭, এক্স ৮৬ এবং ৬৪ বিট এর মধ্যে আপনার ফোনে যেটা সাপোর্টেড সেটা নামালে ইন্সটল হবে। লোএন্ডের পুরাতন ফোন ইউজেবল করতে চাইলে কাজগুলো করতেই হবে।
▪️সফটওয়্যার দরকার হলে অন্যের ফোন দিয়ে ব্লুটুথ বা শেয়ারমি দিয়ে নিয়ে নেবেন।
▪️থার্ডপার্টি এ্যাপ মার্কেট ব্যবহার করতে গেলেও খেয়াল রাখবেন হেভি এ্যাপ্লিকেশনগুলো যাতে আপডেট হয়ে না যায়। সবচেয়ে ভাল হবে কোন এ্যাপ মার্কেট ব্যবহার না করে সরাসরি গুগল সার্চ দিয়ে এপ্লিকেশন প্যাকেজ ডাউনলোড করা।
▪️ফোন এর ইন্টারনাল স্টোরেজে ব্যক্তিগত কিছু রাখবেন না। স্টোরেজ যথাসম্ভব ফাঁকা রাখা জরুরি। অনেকসময় দেখা যায় একা একাই জায়গা কমতে থাকে। এজন্য দায়ী–cache. সপ্তাহে অন্তত একবার প্রত্যেক এপ্লিকেশন এর ক্যাশ ক্লিয়ার করবেন। ক্যাশ ফাইল হচ্ছে একটা সফটওয়ার চলার কারনে জমা হওয়া কিছু ফাইল, যা পুনরায় ওই এ্যাপ্লিকেশন এ্যাক্সেসে স্পিড আপ করে। পুরাতন ফোনে সেটিং এর স্টোরেজ অপশনে গিয়ে ক্যাশ ক্লিয়ার করে নিবেন। এতে ১-২ জিবি স্পেস খালি হবে।
▪️হেভি সফটওয়্যার এর বিকল্প লাইট ভার্সন চালাবেন। ক্রোম ব্রাউজার, ফায়ারফক্স এর বিকল্প হিসাবে অপেরামিনি ব্যবহার করা যেতে পারে।
▪️ব্যাকগ্রাউন্ড এপ্লিকেশন ক্লিয়ার করবেন। র্যাম ভরে গেলেই হ্যাং করে। পুরাতন ফোনে র্যাম কম তাই ব্যাকগ্রাউন্ড এ্যাপ বন্ধ রাখবেন। যে সব এপ্লিকেশনের ব্যাকগ্রাউন্ড রানিং অত্যাবশ্যকীয় সেগুলো ব্যাটারি অপটিমাইজেশন এ গিয়ে হোয়াইট লিস্টে রাখবেন তা না হলে এ্যাপ্লিকেশনগুলো পাওয়ার সেভিং এর জন্য বন্ধ হয়ে যাবে।.▪️থার্ড পার্টি লঞ্চার ব্যবহার না করাই ভাল। সব সময় স্টক লঞ্চারে নির্ভর করা উত্তম।
▪️অনেক পুরাতন ফোনে আধুনিক এ্যাপ্লিকেশন আপডেট বন্ধ করে দিয়েছে। যেমন কিছু ফোনে দেখা যায় ইউটিউব এ্যাপ চলেনা আর। সেগুলোয় বিকল্প সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারেন যেমন স্ন্যাপটিউব, পিওরটিউবার। ফোনের ব্রাউজার কাজে লাগাতে পারেন ইউটিউব,ফেসবুক চালানোর জন্য।
▪️যতদিন না পুরাতন সফটওয়্যার ব্যবহার অনুপযুক্ত হয় ততদিন চালাতে থাকবেন। যেমন হোয়াটসএ্যাপ একটা পর্যায়ে একই ভার্সন আর চলবেই না। আবার ফেসবুকও বাধ্যতামূলক আপডেট করতে হবে। ওই অবস্থা আসার আগ পর্যন্ত চালিয়ে যাবেন।
▪️যা কিছুই হোক, কোন অবস্থাতেই যেন গুগল ও গুগল প্লে সার্ভিস আপডেট না হয়। এভাবে অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত আপনার সচল স্মার্টফোনটি ব্যবহার করে যেতে পারবেন। একইভাবে অনেক লো কনফিগারেশন এর ফোনও বহুদিন পর্যন্ত ব্যবহার চালিয়ে যেতে পারবেন।
•সংগৃহীত
•সম্পাদিত
প্রচারে- Muslim Cyber Army Bangladesh 🇧🇩
مسلمي الجيش السيبراني بنغلادش