19/05/2026
সুন্নি পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি নয়, দরকার পারস্পরিক সম্মান
ইসলাম একটি শান্তি, ভ্রাতৃত্ব ও সহনশীলতার ধর্ম। মুসলমানদের মূল পরিচয় হলো—আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস করা এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর প্রতি ঈমান আনা। একজন ব্যক্তি যদি মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করে এবং ইসলামের মৌলিক আকিদা বিশ্বাস করে, তাহলে তাকে মুসলমান বলা হয়, যদিও তার আমলে কিছু ঘাটতি থাকতে পারে। নামাজ ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত, মুসলমানের ঘরে জন্মগ্রহণ করে নামাজ না পড়লেও আমরা তাকে মুসলমান বলি।
তেমনি “সুন্নি” শব্দের অর্থ হলো—যারা নবী করীম ﷺ-এর সুন্নত বা আদর্শকে মানে এবং অনুসরণ করে। সুন্নি কোনো আলাদা জাতি বা গোষ্ঠীর নাম নয়। যারা কুরআন ও সুন্নাহকে সত্য বলে বিশ্বাস করে এবং রাসূল ﷺ-এর আদর্শকে গ্রহণ করে, তারাই সুন্নি হিসেবে পরিচিত।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, আমাদের সমাজে কিছু কিছু দল বা গোষ্ঠী অন্য মুসলমানদের সহজেই “বেদাতি”, “মাজার পূজারী” ইত্যাদি বলে অপবাদ দেয়। ইসলামে কাউকে কটূক্তি করা, বিভেদ সৃষ্টি করা হত্যার চেয়েও জঘন্যতম অপরাধ। তবে কেউ যদি বাতিল আকিদা পোষণ করে সংশোধনের উদ্দেশ্যে সত্য কথা বলা উত্তম জিহাদ।
আমাদের মনে রাখতে হবে, মুসলিম হতে হলে অবশ্যই নবী করীম ﷺ-এর প্রতি ঈমান ও ভালোবাসা থাকতে হবে। তাঁর সুন্নতকে সম্মান করতে হবে এবং ইসলামের আদর্শ অনুযায়ী চলার চেষ্টা করতে হবে। তাই সমাজে বিভেদ নয়, বরং ঐক্য, সহনশীলতা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখাই একজন প্রকৃত মুসলমানের দায়িত্ব।