Al Hujjat Foundation

Call Website Contact the place of worship

Al Hujjat Foundation Welcome to Al Hujjat Foundation's official page. Website: www.alhujjatbd.com

🥀 রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শাহাদাতের পর হযরত ফাতিমা যাহরা (সা.)শোক, বেদনা ও সত্যের পক্ষে এক অবিচল অবস্থানبِسْمِ اللَّهِ الرَ...
13/08/2026

🥀 রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শাহাদাতের পর হযরত ফাতিমা যাহরা (সা.)
শোক, বেদনা ও সত্যের পক্ষে এক অবিচল অবস্থান
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
ইসলামের ইতিহাসে এমন কিছু শোক আছে, যা কেবল একজন প্রিয়জনকে হারানোর শোক নয়—বরং যার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি যুগের অবসান, একটি উম্মাহর ভবিষ্যৎ এবং সত্য ও ন্যায়ের প্রশ্ন।
রাসূলুল্লাহ হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর ইন্তেকালের পর তাঁর প্রাণপ্রিয় কন্যা, খাতুনে জান্নাত হযরত ফাতিমা যাহরা (সা.)-এর জীবনে নেমে এসেছিল এমনই এক গভীর বেদনার অধ্যায়।
ইবনে শাহর আশুবের আল-মানাকিব-এ তাঁর সেই অবস্থার বর্ণনা এসেছে—
ما زالت بعد أبيها معصبة الرأس، باكية العين، محترقة القلب
অর্থাৎ, পিতার ইন্তেকালের পর তিনি শোকাচ্ছন্ন অবস্থায় থাকতেন; তাঁর চোখ ছিল অশ্রুসিক্ত এবং হৃদয় ছিল বেদনায় দগ্ধ।
📚 আল-মানাকিব, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩৬২।
🥀 এ শোক কি কেবল একজন কন্যার পিতৃহারা হওয়ার শোক ছিল?
নিঃসন্দেহে রাসূলুল্লাহ (সা.) ছিলেন ফাতিমা (সা.)-এর পিতা। কিন্তু তিনি শুধু তাঁর পিতা ছিলেন না—তিনি ছিলেন আল্লাহর রাসূল, তাঁর শিক্ষক, তাঁর আশ্রয় এবং সমগ্র মানবজাতির জন্য রহমতের নবী।
তাই রাসূল (সা.)-এর বিদায় ফাতিমা (সা.)-এর কাছে ছিল একই সঙ্গে পিতৃহারা হওয়ার বেদনা এবং নবুওয়তের যুগের সমাপ্তির এক অসহনীয় অনুভূতি।
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবদ্দশাতেও তাঁর পরিবার শান্ত ও সংকটমুক্ত জীবন কাটায়নি। বদর, উহুদ, খায়বার, হুনাইন—একের পর এক সংঘাত, ইসলামবিরোধী ষড়যন্ত্র এবং নবী (সা.)-কে ঘিরে শত্রুতার সাক্ষী ছিলেন ফাতিমা (সা.)।
কিন্তু রাসূল (সা.)-এর বিদায়ের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
যে বিরোধ ও ক্ষোভ এতদিন চাপা ছিল, তা নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার মধ্যে প্রকাশ পেতে শুরু করে। আর সেই সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে এসে দাঁড়ায় রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আহলে বাইত।
💔 “হে আমার পিতা! আপনার পরে আমি একাকী…”
নিজের অসহনীয় বেদনা নিয়ে হযরত ফাতিমা যাহরা (সা.) কখনো তাঁর পিতার কবরের কাছে গিয়ে হৃদয়ের কথা ব্যক্ত করতেন।
তাঁর নামে বর্ণিত হয়েছে—
يا أبتاه بقيت و الهةً و حيرانةً فريدة، قد انخمد صوتي و انقطع ظهري و تنغص عيشي
অর্থের সারমর্ম—
“হে আমার প্রিয় পিতা! আপনার পরে আমি একাকী ও দিশেহারা হয়ে পড়েছি। আমার কণ্ঠ যেন স্তব্ধ হয়ে গেছে, আমার শক্তি ভেঙে পড়েছে এবং জীবনের স্বাদ আমার কাছে তিক্ত হয়ে গেছে।”
📚 আল-মানাকিব, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩৬২।
এই কথাগুলো শুধু একজন কন্যার কান্না নয়। এগুলো এমন এক মানুষের হৃদয়ের ভাষা, যিনি নিজের চোখের সামনে অত্যন্ত দ্রুত বদলে যেতে থাকা একটি সমাজকে দেখছিলেন।
🥀 তাঁর অশ্রুর পেছনে ছিল উম্মাহর ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ
প্রশ্ন আসতে পারে—
কেন ফাতিমা যাহরা (সা.) এত কাঁদতেন?
কেন তাঁর হৃদয় এত অস্থির ছিল?
কেন রাসূল (সা.)-এর বিদায়ের পর তাঁর জীবন এত দ্রুত শোকে আচ্ছন্ন হয়ে গেল?
এর উত্তর তাঁর নিজের বক্তব্যের মধ্যেই পাওয়া যায়।
উম্মে সালামা (রা.) তাঁর অবস্থা জানতে চাইলে হযরত ফাতিমা (সা.)-এর নামে বর্ণিত বক্তব্যে এসেছে—
أصبحت بين كمد و كرب، فقد النبيّ و ظلم الوصي...
অর্থাৎ—
“আমি আজ গভীর শোক ও যন্ত্রণার মধ্যে আছি। একদিকে আমি নবীকে হারিয়েছি, অন্যদিকে তাঁর ওয়াসি/উত্তরসূরির প্রতি সংঘটিত অন্যায় প্রত্যক্ষ করছি…”
এরপর বর্ণনায় তিনি বদর ও উহুদের পুরোনো বিদ্বেষের কথাও উল্লেখ করেন, যা তাঁর ভাষায় কিছু মানুষের অন্তরে সুপ্ত ছিল।
📚 মানাকিব ইবনে শাহর আশুব, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২২৫।
⚔️ শোক তাঁকে সত্যের প্রশ্নে নীরব করেনি
এখানেই হযরত ফাতিমা যাহরা (সা.)-এর জীবনের এই অধ্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
তিনি ছিলেন শোকাহত—কিন্তু সত্যের প্রশ্নে নিষ্ক্রিয় ছিলেন না।
তিনি ছিলেন পিতৃহারা—কিন্তু ন্যায়বিচারের প্রশ্নে নীরব ছিলেন না।
তাঁর হৃদয় ছিল বেদনায় ভারাক্রান্ত—তবুও তিনি আমীরুল মুমিনীন হযরত আলী (আ.)-এর অধিকার এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর রেখে যাওয়া দ্বীনি আদর্শের পক্ষে নিজের অবস্থান প্রকাশ করেছেন।
তাঁর কাছে বিষয়টি শুধু পরিবার বা ব্যক্তিগত অধিকারের প্রশ্ন ছিল না; এর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল ইসলামের ভবিষ্যৎ, নেতৃত্ব, ন্যায় এবং রাসূল (সা.)-এর রেখে যাওয়া আদর্শের সংরক্ষণ।
এই কারণেই ফাতিমা (সা.)-এর অশ্রুকে শুধু ব্যক্তিগত শোক হিসেবে দেখলে তাঁর জীবনের এই অধ্যায়ের গভীরতা সম্পূর্ণভাবে উপলব্ধি করা যায় না।
🕯️ খুব অল্প সময়—কিন্তু ইতিহাসের জন্য এক অনন্ত বার্তা
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের পর হযরত ফাতিমা যাহরা (সা.) খুব বেশি দিন এই পৃথিবীতে ছিলেন না। ঐতিহাসিক বর্ণনায় তাঁর পরবর্তী জীবনকাল নিয়ে বিভিন্ন মত পাওয়া যায়।
কিন্তু সময় যত অল্পই হোক—সেই সময়ের প্রতিটি অধ্যায় মুসলিম ইতিহাসে গভীর তাৎপর্য বহন করে।
তিনি আমাদের শিখিয়েছেন—
শোকের মধ্যেও সত্যকে আঁকড়ে ধরা যায়।
ব্যক্তিগত বেদনার মধ্যেও উম্মাহর ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করা যায়।
অন্যায়ের সামনে নীরব না থেকেও মর্যাদা, ধৈর্য ও ঈমান অক্ষুণ্ণ রাখা যায়।
ফাতিমা যাহরা (সা.) তাই শুধু রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শোকাহত কন্যা নন; তিনি সত্য, ন্যায়, আত্মমর্যাদা, ত্যাগ এবং আহলে বাইতের প্রতি আনুগত্যের এক চিরন্তন প্রতীক।
🥀 শেষ সালাম
السَّلَامُ عَلَيْكِ يَا بِنْتَ رَسُولِ اللَّهِ
সালাম আপনার প্রতি, হে আল্লাহর রাসূলের প্রিয় কন্যা।
সালাম আপনার অশ্রুসিক্ত নয়নের প্রতি।
সালাম আপনার বেদনায় দগ্ধ হৃদয়ের প্রতি।
সালাম আপনার ধৈর্য, সাহস ও সত্যের পক্ষে অবিচল অবস্থানের প্রতি।
হে সাইয়্যিদাতুন নিসা ফাতিমাতুয যাহরা (সা.),
কিয়ামত পর্যন্ত আপনার মজলুমিয়্যাতের স্মৃতি সত্য ও ন্যায়ের অনুসারীদের হৃদয়ে জীবন্ত থাকুক।
🥀 اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَىٰ مُحَمَّدٍ وَآلِ مُحَمَّدٍ 🥀
✒️ সূত্র
Al-Manaqib / Manaqib Aal Abi Talib — খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩৬২।
Al-Manaqib — খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩৬২।
Ibn Shahr Ashub, Al-Manaqib — খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২২৫।
Ayatullah Naser Makarem Shirazi, Fatima az-Zahra’, The World's Most Outstanding Lady, “Fatimah (s.a.) After the Prophet’s Death”, Al-Islam.org।
اللَّهُمَّ الْعَنْ مَنْ ظَلَمَ فَاطِمَةَ الزَّهْرَاءَ (سَلَامُ اللَّهِ عَلَيْهَا)
🥀 ইয়া যাহরা (সা.) 🥀

Every meal shared is a reminder of Karbala's everlasting message of faith, sacrifice, and humanity. 🏴Al-Hujjat Foundatio...
06/08/2026

Every meal shared is a reminder of Karbala's everlasting message of faith, sacrifice, and humanity. 🏴
Al-Hujjat Foundation proudly served Tabarruk on the occasion of Arbaeen in the love of Imam Hussain (A.S.).
May we continue to serve with sincerity and keep the spirit of Karbala alive. ❤️

 # 🌹 In Loving Memory of Hujjatul Islam wal Muslimeen Maulana Syed Habib Reza Hussaini **إِنَّا لِلّٰهِ وَإِنَّا إِلَيْه...
22/07/2026

# 🌹 In Loving Memory of Hujjatul Islam wal Muslimeen Maulana Syed Habib Reza Hussaini

**إِنَّا لِلّٰهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ**

Today marks one year since our beloved Advisor, Hujjatul Islam wal Muslimeen Maulana Syed Habib Reza Hussaini, departed from this temporary world to return to His Creator.

Time has passed, yet the pain of his loss remains as profound as ever. The void left by his departure can never truly be filled, but his legacy of knowledge, sincerity, humility, and unwavering devotion to the Holy Prophet (S.A.W.W.) and the Ahlulbayt (A.S.) continues to illuminate our path.

As the respected Advisor of Al Hujjat Foundation, Maulana Syed Habib Reza Hussaini was far more than a scholar. He was a compassionate mentor, a spiritual guide, a fatherly figure, and a source of wisdom whose words inspired countless hearts to remain steadfast upon the path of truth.

The Holy Imams (A.S.) have taught us that the departure of a true scholar is not merely a personal loss, but a loss for the entire Ummah.

> **"When a scholar passes away, an irreparable crack appears in the structure of the community—a void that no one can fill."**
> **— Imam Ja'far al-Sadiq (A.S.)**

On this first death anniversary, we humbly request all believers, friends, students, and well-wishers to remember him in their prayers, recite **Surah Al-Fatiha**, offer **Salawat upon Muhammad and Aal-e-Muhammad (S.A.W.W.)**, and dedicate the reward to his blessed soul.

May Almighty Allah (SWT), through the intercession of Muhammad and Aal-e-Muhammad (S.A.W.W.), forgive his shortcomings, elevate his ranks among His righteous servants, grant him the highest station in **Jannatul Firdaus**, and reunite him with the Holy Prophet (S.A.W.W.), Lady Fatima al-Zahra (S.A.), Amirul Mu'minin Imam Ali (A.S.), Imam Hasan (A.S.), Imam Hussain (A.S.), and the Pure Ahlulbayt (A.S.) whom he loved and served throughout his life.

Though he is no longer physically among us, his teachings, character, and service to Islam will continue to inspire generations to come.

**"Indeed, the righteous never truly depart; they live on through the knowledge they leave behind, the lives they transform, and the prayers of those who remember them."**

**Al Hujjat Foundation**

-———————————————————————

# 🌹 শ্রদ্ধাঞ্জলি ও দোয়ার আবেদন

**إِنَّا لِلّٰهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ**

আজ আমাদের শ্রদ্ধেয় উপদেষ্টা, হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন মাওলানা সৈয়দ হাবিব রেজা হোসাইনী -এর প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী।

দেখতে দেখতে একটি বছর অতিবাহিত হয়ে গেল। সময় হয়তো সামনে এগিয়ে যায়, কিন্তু একজন সত্যনিষ্ঠ আলেম, আধ্যাত্মিক অভিভাবক ও আহলুলবায়ত (আ.)-এর নিবেদিতপ্রাণ খাদেমকে হারানোর বেদনা কখনো মুছে যায় না। তাঁর শূন্যতা আজও আমাদের হৃদয়ে গভীরভাবে অনুভূত হয়।

আল হুজ্জাত ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা হিসেবে তিনি কেবল একজন আলেম ছিলেন না; তিনি ছিলেন একজন স্নেহময় অভিভাবক, প্রজ্ঞাবান পথপ্রদর্শক, আদর্শ শিক্ষক এবং অসংখ্য মানুষের ঈমান, নৈতিকতা ও আহলুলবায়ত (আ.)-এর ভালোবাসার পথে অনুপ্রেরণার উৎস।

তাঁর সমগ্র জীবন ছিল ইলম, তাকওয়া, বিনয়, ইখলাস এবং রাসূলুল্লাহ (সা.আ.ওয়া.) ও আহলুলবায়ত (আ.)-এর প্রতি সীমাহীন ভালোবাসার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

ইমাম জাফর আস-সাদিক (আ.) ইরশাদ করেন—

> **"যখন কোনো আলেম ইন্তেকাল করেন, তখন উম্মাহর কাঠামোতে এমন এক ফাটল সৃষ্টি হয়, যা আর কেউ পূরণ করতে পারে না।"**

এই প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা সকল মুমিন, শুভাকাঙ্ক্ষী, ছাত্র এবং তাঁর ভক্তদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানাই— তাঁর রূহের মাগফিরাতের উদ্দেশ্যে সূরা ফাতিহা তিলাওয়াত করুন, মুহাম্মদ ও আলে মুহাম্মদ (সা.আ.ওয়া.)-এর প্রতি সালাওয়াত প্রেরণ করুন এবং তাঁর জন্য দোয়া করুন।

মহান আল্লাহ তাআলা যেন মুহাম্মদ ও আলে মুহাম্মদ (সা.আ.ওয়া.)-এর ওসিলায় তাঁর সকল ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করে দেন, তাঁর মর্যাদা আরও উচ্চে উন্নীত করেন, তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউসের সর্বোচ্চ স্থানে অধিষ্ঠিত করেন এবং তাঁকে রাসূলুল্লাহ (সা.আ.ওয়া.), হযরত ফাতিমাতুয যাহরা (সা.), আমীরুল মু’মিনীন ইমাম আলী (আ.), ইমাম হাসান (আ.), ইমাম হুসাইন (আ.) এবং পবিত্র আহলুলবায়ত (আ.)-এর সান্নিধ্যে স্থান দান করেন— যাঁদের ভালোবাসা ও খেদমতে তিনি তাঁর সমগ্র জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।

তিনি আজ আমাদের মাঝে শারীরিকভাবে উপস্থিত না থাকলেও তাঁর ইলম, চরিত্র, আদর্শ ও সেবার উত্তরাধিকার যুগের পর যুগ আমাদের পথ দেখাবে, ইনশাআল্লাহ।

**"সৎকর্মশীল মানুষ কখনো প্রকৃত অর্থে বিদায় নেন না; তাঁদের রেখে যাওয়া ইলম, আদর্শ এবং মানুষের অন্তরে জাগ্রত ঈমানের মধ্য দিয়েই তাঁরা চিরজীবী হয়ে থাকেন।"**

**আল হুজ্জাত ফাউন্ডেশন**

কারবালার পরবর্তী ইতিহাস!! ইয়াযীদের দরবারে হযরত জয়নাব (সা.)-এর ঐতিহাসিক ভাষণের সারসংক্ষেপ:কারবালার হৃদয়বিদারক ট্র্যাজে...
18/07/2026

কারবালার পরবর্তী ইতিহাস!!

ইয়াযীদের দরবারে হযরত জয়নাব (সা.)-এর ঐতিহাসিক ভাষণের সারসংক্ষেপ:

কারবালার হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডির পর আহলুল বাইত (আ.)-এর নারী ও শিশুদের বন্দী অবস্থায় কুফা হয়ে দামেস্কে ইয়াযীদ ইবনে মুয়াবিয়ার দরবারে উপস্থিত করা হয়। সেখানে ইয়াযীদ অহংকারের সঙ্গে এমন কবিতা আবৃত্তি করে, যার মাধ্যমে সে প্রকাশ্যে বদর যুদ্ধে নিহত তার মুশরিক পূর্বপুরুষদের প্রতিশোধ নেওয়ার কথা ঘোষণা করে এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র বংশধরদের শাহাদাতে আনন্দ প্রকাশ করে।
এমন সংকটময় মুহূর্তে, ইমাম আলী (আ.) ও হযরত ফাতিমা যাহরা (সা.)-এর কন্যা, কারবালার মহান বীরাঙ্গনা হযরত জয়নাব (সা.) দৃঢ়চিত্তে দাঁড়িয়ে এক ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন, যা অত্যাচারের বিরুদ্ধে সত্যের চিরন্তন ঘোষণা হিসেবে ইতিহাসে অমর হয়ে আছে।
তিনি ইয়াযীদকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, পাপের ধারাবাহিকতা মানুষের অন্তরকে এমন পর্যায়ে পৌঁছে দেয়, যেখানে সে আল্লাহর নিদর্শন অস্বীকার করে এবং সত্যকে উপহাস করতে শুরু করে। তিনি বলেন, ক্ষমতা ও সাময়িক বিজয় কখনোই আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রমাণ নয়; বরং অনেক সময় তা জালিমদের জন্য একটি অবকাশ, যাতে তারা নিজেদের পাপ আরও বৃদ্ধি করে এবং পরিণামে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হয়।
এরপর তিনি কুরআনের সূরা আলে ইমরানের ১৭৮ নম্বর আয়াতের মর্মার্থ স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন যে, আল্লাহ অবকাশ দেন, কিন্তু জালিমদের পরিণতি অত্যন্ত লাঞ্ছনাকর।
হযরত জয়নাব (সা.) ইয়াযীদকে তার প্রকৃত পরিচয়ও স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, "হে মুক্তিপ্রাপ্তদের সন্তান!"—মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ (সা.) যাদের মহানুভবতার সঙ্গে ক্ষমা করে মুক্তি দিয়েছিলেন, ইয়াযীদ তাদেরই বংশধর। অথচ আজ সেই ব্যক্তি নবী (সা.)-এরই কন্যাদের বন্দিনী করে নগর থেকে নগরে প্রদর্শন করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন—এটাই কি ন্যায়বিচার?
তিনি ইয়াযীদের সেই নির্মম আচরণেরও তীব্র নিন্দা করেন, যখন সে শহীদ ইমাম হুসাইন (আ.)-এর পবিত্র মস্তকের প্রতি অবমাননাকর আচরণ করছিল এবং বদরের প্রতিশোধ নেওয়ার অহংকার প্রকাশ করছিল।
হযরত জয়নাব (সা.) ঘোষণা করেন যে, আহলুল বাইত (আ.)-এর শাহাদাত কখনো তাদের অপমান নয়; বরং এটি তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে। প্রকৃত অপমান ও লাঞ্ছনা জালিমদের জন্য নির্ধারিত, যারা আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের রক্ত ঝরিয়েছে।
তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, অচিরেই ইয়াযীদ আল্লাহর আদালতে উপস্থিত হবে, যেখানে রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজেই অভিযোগকারী হবেন এবং মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তাদের কর্মের সাক্ষ্য দেবে। তখন জালিমদের প্রকৃত পরিণতি প্রকাশ পাবে এবং তারা নিজেদের কর্মের জন্য অনুতপ্ত হবে।
তিনি আল্লাহর দরবারে আহলুল বাইত (আ.)-এর ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন এবং অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের আবেদন জানান। একই সঙ্গে কুরআনের সূরা আলে ইমরানের ১৬৯ নম্বর আয়াতের আলোকে ঘোষণা করেন যে, আল্লাহর পথে যারা শহীদ হয়েছেন, তারা মৃত নন; বরং তারা তাদের প্রতিপালকের নিকট জীবিত এবং তাঁর পক্ষ থেকে রিযিকপ্রাপ্ত।
ভাষণের শেষাংশে তিনি অবিচল ঈমানের সঙ্গে ঘোষণা করেন যে, ইয়াযীদ যত ষড়যন্ত্রই করুক না কেন, আহলুল বাইত (আ.)-এর স্মৃতি, মর্যাদা ও সত্যের আলো কখনো নিভে যাবে না। জুলুম সাময়িকভাবে বিজয়ী মনে হলেও ইতিহাস ও আল্লাহর বিচারে চূড়ান্ত বিজয় সর্বদা সত্য ও ন্যায়েরই হবে।
পরিশেষে হযরত জয়নাব (সা.) আল্লাহ তাআলার প্রশংসা ও শুকরিয়া আদায় করেন এবং জান্নাতের যুবকদের নেতা ইমাম হুসাইন (আ.) ও কারবালার সকল শহীদের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করার জন্য মহান আল্লাহর নিকট দোয়া করেন।

তথ্যসূত্র: Balaghatun Nisa — আবুল ফযল আহমদ ইবনে আবি তাহির (২০৮–২৮০ হিজরি); পরবর্তীতে al-islam.org-এ সংরক্ষিত।

**২৯ জিলহজ্জ — হিজরি বছরের শেষ সূর্যাস্ত** আজকের এই সূর্যাস্তের মাধ্যমে বিদায় নিচ্ছে আরেকটি হিজরি বছর। সময়ের এই নীরব প...
16/06/2026

**২৯ জিলহজ্জ — হিজরি বছরের শেষ সূর্যাস্ত**

আজকের এই সূর্যাস্তের মাধ্যমে বিদায় নিচ্ছে আরেকটি হিজরি বছর। সময়ের এই নীরব প্রহরে আমরা ফিরে তাকাই ইতিহাসের সেই অমর প্রান্তরে, যেখানে কারবালার রক্তস্নাত বালুকায় সত্য, ত্যাগ ও মানবতার সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছিল।

ইমাম হুসাইন (আ.) তাঁর পবিত্র শাহাদাতের মাধ্যমে সমগ্র মানবজাতিকে শিখিয়ে গেছেন যে, সত্য কখনো সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না এবং জুলুম ও অন্যায় কখনো সম্মান ও মর্যাদাকে পরাজিত করতে পারে না। তাঁর আত্মত্যাগ যুগে যুগে মানুষকে ন্যায়, ঈমান, স্বাধীনতা ও মানবিক মর্যাদার পথে অটল থাকার প্রেরণা জুগিয়ে আসছে।

একটি নতুন হিজরি বছরের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আমরা মহান কারবালার চেতনাকে আমাদের অন্তরে ধারণ করার অঙ্গীকার করি। আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে অবিচল থাকা, পরীক্ষার মুহূর্তে ধৈর্য ধারণ করা এবং সত্যের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার শক্তি যেন আমরা অর্জন করতে পারি।

কারবালার শিক্ষা কেবল একটি ইতিহাস নয়; এটি প্রতিটি যুগের জন্য এক জীবন্ত আহ্বান—অন্যায়ের বিরুদ্ধে সত্যের, অন্ধকারের বিরুদ্ধে আলোর এবং জুলুমের বিরুদ্ধে মানবতার বিজয়ের আহ্বান।

**"প্রতিটি দিনই আশুরা, আর প্রতিটি ভূমিই কারবালা—যখনই সত্য অন্যায়ের মুখোমুখি দাঁড়ায়।"**

🤲 মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে প্রার্থনা, তিনি যেন আমাদের ঈমানকে আরও দৃঢ় করেন, সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রজ্ঞা দান করেন, ন্যায়ের পথে চলার সাহস দান করেন এবং সর্বদা হক ও সত্যের পক্ষে অবিচল থাকার তাওফিক প্রদান করেন।

নতুন হিজরি বছর আমাদের সবার জীবনে রহমত, বরকত, শান্তি ও কল্যাণ বয়ে আনুক।

**ইয়া হুসাইন (আ.) 🏴**

Muharram is now a few days away and the caravan of Imam Hussain (as) is getting closer to karbala…..মহররম আর মাত্র কয়েক...
15/06/2026

Muharram is now a few days away and the caravan of Imam Hussain (as) is getting closer to karbala…..

মহররম আর মাত্র কয়েকদিন দূরে...
প্রতিটি সূর্যোদয় যেন আমাদের আরও কাছে নিয়ে যাচ্ছে সেই হৃদয়বিদারক দিনের দিকে, যখন মানবতার মুক্তির জন্য, সত্য ও ন্যায়ের জন্য ইমাম হুসাইন (আ.) তাঁর প্রিয় পরিবার ও বিশ্বস্ত সঙ্গীদের নিয়ে কারবালার পথে অগ্রসর হয়েছিলেন।
আজও ইতিহাসের সেই কাফেলার পদধ্বনি শোনা যায়...
মদিনা থেকে মক্কা, মক্কা থেকে কারবালা—
প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল ত্যাগের, ধৈর্যের এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে অবিচল থাকার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
ভাবতেই চোখ ভিজে আসে...
সেই কাফেলা ধীরে ধীরে কারবালার প্রান্তরে পৌঁছে যাচ্ছে,
আর আমাদের হৃদয়ও যেন শোকের ভারে নত হয়ে আসছে।
কত অসহায় ছিল সেই শিশুদের তৃষ্ণা,
কত গভীর ছিল জয়নাব (সা.আ.)-এর ধৈর্য,
কত মহান ছিল আব্বাস (আ.)-এর আনুগত্য,
আর কত অপরিসীম ছিল হুসাইন (আ.)-এর আত্মত্যাগ!
যখনই কারবালার কথা স্মরণ করি,
হৃদয়ের গভীর থেকে একটি দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে,
চোখের কোণে অশ্রু জমে ওঠে,
আর আত্মা যেন নীরবে আর্তনাদ করে—
"হায় হুসাইন! হায় মজলুমে কারবালা!"
এসো, এই কয়েকটি দিন নিজেদেরকে কারবালার শোক, শিক্ষা ও ভালোবাসার সাথে আরও গভীরভাবে যুক্ত করি।
কারণ কারবালা শুধু একটি ইতিহাস নয়,
কারবালা হলো সত্যের জন্য শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত অবিচল থাকার এক চিরন্তন শিক্ষা।
يا حسين 💔
هَيَّا عَلَى الْعَزَاءِ
এসো শোকের মজলিসে...
এসো হুসাইনের (আ.) গমে অশ্রু ঝরাই...
এসো কারবালার কাফেলার সাথে হৃদয়কে মিলিয়ে দিই...

Hussaini gatherings (Majalis) preserve the faith of your children.If we wish to safeguard the religion and faith of our ...
12/06/2026

Hussaini gatherings (Majalis) preserve the faith of your children.

If we wish to safeguard the religion and faith of our children, the way to do so is by holding gatherings in remembrance of Imam Husayn ibn Ali in every home and every place.

However, this should be done according to one's ability and circumstances, for:

“Allah does not burden a soul beyond its capacity.” (Qur'an 2:286)

27/03/2026

সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, আল-হুজ্জাত ফাউন্ডেশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য সৈয়দ জাহিদ হোসাইনের সম্মানিত মা এবং কাশিফ হাসানের নানী সৈয়দা ফাহমিদা হোসেন বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আমরা মহান আল্লাহ তা’আলার দরবারে আহলে বাইত (আ.)-এর ওসিলায় তাঁর দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করছি।

সকল মোমিন ভাই ও বোনদের প্রতি বিনীত অনুরোধ, তাঁর শেফার নিয়তে নিম্নোক্ত দোয়াটি অন্তত ১০ বার পাঠ করার জন্য:
“আম্মা ইউজীবুল মুযতার্রা ইযা দা’আহু ওয়া ইয়াকশিফুস সু’”
‎أَمَّن يُجِيبُ الْمُضْطَرَّ إِذَا دَعَاهُ وَيَكْشِفُ السُّوءَ

আসুন আমরা সবাই মিলে দোয়ায় শরিক হই এবং আল্লাহর রহমতের দরবারে তাঁর সুস্থতা প্রার্থনা করি।

আল্লাহ তাঁকে দ্রুত শেফা দান করুন, এলাহি আমীন।

Eid Mubarak from Al Hujjat Foundation! 🌙As we bid farewell to the blessed month of Ramadan, may the joy of Eid fill your...
20/03/2026

Eid Mubarak from Al Hujjat Foundation! 🌙

As we bid farewell to the blessed month of Ramadan, may the joy of Eid fill your heart with peace, gratitude, and endless blessings. This Eid, let’s celebrate not just with feasts but with faith, compassion, and a renewed commitment to serving humanity.

May your prayers be answered, your hearts be light, and your homes be filled with love and laughter. Let’s continue to uplift one another and spread kindness wherever we go.

Eid Mubarak!
With heartfelt prayers,
Al Hujjat Foundation

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Al Hujjat Foundation posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Al Hujjat Foundation:

Shortcuts

Share