06/05/2024
🔴🔴🔴শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা-🔴🔴🔴
______দ্বিতীয় অধ্যায় -২৮ শ্লোক ______
অব্যক্তাদীনি ভূতানি ব্যক্তমধ্যানি ভারত। অব্যক্তনিধনান্যেব তত্র কা পরিদেবনা ॥
_____________অনুবাদ ______________
হে ভারত! সমস্ত প্রাণী জন্মের পূর্বে অপ্রকট ছিল, মৃত্যুর পরও অপ্রকট হয়ে যায়, কেবল মধ্যবর্তী সময়েই প্রকটিত থাকে। এই পরিস্থিতিতে বিলাপ কিসের?
______________ভাবার্থ -________________
শ্রীভগবান্ সর্ব্বপ্রকারে আত্মার অশোচ্যত্ব প্রতিপাদন করিয়া বর্তমানে ভৌতিক শরীরের জন্যও যে শোক করা অনুচিত, তাহা বলিতেছেন।
🍏 জন্মের পূর্ব্বে এই ভূতময় শরীর অনুপলব্ধ থাকে। জন্মের পর মৃত্যুর পূর্ব্ব পর্য্যন্ত শরীরের উপলব্ধি হয়, কিন্তু মরণান্তে পুনরায় এই শরীরের অনুপলব্ধি হইয়া থাকে। এইরূপ অনিত্য শরীরের বিনাশে শোক করার কারণ মোহ ও অজ্ঞান ব্যতীত আর কিছুই নহে।
🍊 সদ্বাদিগণের মতে মৃদাদি সরূপে দ্রব্যে কম্বুগ্রীবা যোগ হইলে ঘটের উৎপত্তি হয়, তাহা ভঙ্গে কপালাদি অবস্থাকে ঘটের বিনাশ বলা হয়। কিন্তু সদ্ দ্রব্য মৃত্তিকা কিন্তু সর্ব্বদা স্থায়ী।
★ শ্রীভগবান্ পরাশর ও বলেন, মহী ঘটত্বপ্রাপ্ত হয়, তাহা ভঙ্গে কপাল, তাহা চূর্ণে পরিণত হইলে অণু। সেইরূপ শরীরের নামরূপ প্রথমে অব্যক্ত থাকে, মধ্যে নাম ও রূপ বিশিষ্ট হইয়া ব্যক্ত হয়, কিন্তু শরীর-আরম্ভক ভূতসমূহ সর্ব্বদা থাকে, সুতরাং ভূতসমূহ স্থায়ী বলিয়া শরীর নিমিত্ত শোক অকারণ।
🔴 কেহ বলেন-যাহার আদিতে সত্তা ছিল না, অন্তেও সত্তা থাকিবে না, তাহার মাধ্যিক সত্তাও নাই, বিচার করা হউক, যেমন স্বপ্নে রথাশ্বাদি দেখা গেলেও তাহা মিথ্যাভূত, জাগ্রত অবস্থায় স্বপ্নে দৃষ্ট-বিষয় দেখা যায় না বলিয়া কেহ তজ্জন্য শোক করে না। অবশ্য এইমত সাধুসম্মত নহে। ইহা নিন্দনীয় কারণ ইহা স্বীকার করিলে বৈদিক অসৎকার্য্যবাদের আপত্তি ঘটে, যাহা হউক, উভয় মতেই দেহ-বিনাশহেতু শোক করা উচিত নহে, ইহা স্বীকৃত।
শ্রীভাগবতে শ্রীযম ও বলিয়াছেন,-
"যত্রাগতস্তত্র গতং মনুয়াম্"
(৭।২।৩৭) অর্থাৎ যে অজ্ঞাত স্থান হইতে মনুষ্যের উদ্ভব, পুনরায় সেই স্থানেই যাইতেছে।
ভারতেও পাওয়া যায়,-
'অদর্শনাদিহায়াতঃ পুনশ্চাদর্শনং গতঃ'
অর্থাৎ অদর্শন হইতে এখানে আসিয়াছে, পুনরায় অদর্শনে চলিয়া গিয়াছে। অতএব সে তোমার নয়, তুমিও তাহার নহ, বৃথা কেন পরিতাপ করিতেছ?
🍏 মূল কথা; জীবসমূহ পরমেশ্বর হইতে উদ্ভূত বলিয়া, তাহার অধীন।
দৈবাধীনং জগৎ সর্ব্বং'।
' শ্রুতিতে পাওয়া যায়,
'যথাগ্নেঃ ক্ষুদ্রা বিস্ফুলিঙ্গা ব্যুচ্চরস্তি'
অর্থাৎ যেমন অগ্নি হইতে স্ফুলিঙ্গসমূহ বহির্গত হয়।
🍎 শ্রীচৈতন্যভাগবতেও পাওয়া যায়, শ্রমহাপ্রভু শ্রীবাসের মৃতপুত্রমুখে বলাইয়াছেন,-
মৃত-শিশু-প্রতি প্রভু বলেন বচন।
"শ্রীবাসের ঘর ছাড়ি' যাও কি কারণ?"
শিশু বলে "প্রভু, যেন নির্ব্বন্ধ তোমার।
অন্যথা করয়ে শক্তি আছয়ে কাহার?"
ইত্যাদি-
সুতরাং মৃত ব্যক্তির জন্য শোকের কারণ মায়ামোহ ব্যতীত আর কিছুই নহে। ইহাই শ্রীভগবান্ নানা উপদেশচ্ছলে জানাইলেন। ২৮।
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।