17/08/2026
'গুরাবাদের বৈশিষ্ট্য ও দায়িত্ব'
____________________________
গুরাবা - অর্থাৎ যারা দ্বীনের প্রতি দৃঢ়তা ও আপসহীনতার কারণে সমাজে স্বাভাবিকভাবে অপরিচিত বা সংখ্যালঘু হয়ে পড়ে, তাদের জীবন ও দায়িত্বের কিছু মৌলিক বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:
*(১) শরীয়ত জানা ও জানানো*
তারা পূর্ণ শরীয়তের (অন্তত যতটুকু জানা তার জন্য ফরজ) জ্ঞান অর্জন করবে এবং নিজেদের অধীনস্থদের তথা পরিবার-পরিজন, সন্তান-সন্ততি, ও অনুসারীদেরও তা শিক্ষা দেবে।
*(২) শরীয়ত মানা ও মানানো*
তারা নিজেরা শরীয়ত মেনে চলবে এবং নিজেদের অধীনস্থদেরও শরীয়ত অনুযায়ী জীবনযাপনে অভ্যস্ত করবে।
*(৩) শরীয়তবিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকা*
ব্যক্তিগতভাবে তারা সব ধরনের শরীয়তবিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে দূরে রাখবে এবং পরিবারের সদস্য ও অধীনস্থদেরও সেসব কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করবে।
*(৪) সমাজ ও রাষ্ট্রের সংস্কারে সচেষ্ট হওয়া*
সামর্থ্য অনুযায়ী তারা শরীয়তবিরোধী কর্মকাণ্ড ও ফাসাদ থেকে সমাজ ও রাষ্ট্রকে রক্ষা করতে চাইবে। সংশোধনের চেষ্টা করবে এবং সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে ফাসাদের কারণগুলো মূলোৎপাটন করে একটি পবিত্র ও কল্যাণমুখী পরিবেশ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবে।
*(৫) সুন্নাতের ওপর আমরণ অটল থাকা*
আল্লাহার হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাতের ওপর তারা আমরণ অটল থাকবে। এ পথের ওপর অবিচল থেকে তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও শাহাদাতের মর্যাদা লাভের আশা পোষণ করবে।
*(৬) হারিয়ে যাওয়া সুন্নাত ও শরীয়তের বিধান পুনরুজ্জীবিত করা*
শরীয়তের যেসব দিক মানুষের জীবন থেকে বিলুপ্ত বা বিস্মৃত হয়েছে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যেসব সুন্নাত মানুষের মাঝে হারিয়ে গেছে - তারা সেগুলো একটা একটা করে অনুসন্ধান করে নিজের ব্যক্তি ও পরিবারে বাস্তবায়ন করবে এবং সমাজ ও রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবে। পাশাপাশি অন্য মানুষকেও সেসব শিক্ষা দেবে।
*(৭) গুরাবা হওয়ার জন্য মানসিক প্রস্তুতি*
গুরাবারা এমন একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় বসবাস করতে পারে, যেখানে দ্বীন ও ঈমানের চর্চা তাদের জন্য স্বাভাবিক বা সহজ নয়। তারা এই পরিবার ও সমাজে চলার জন্য উপযুক্ত নন। তাই তারা মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকবে যে, দ্বীনের ওপর অটল থাকার কারণে সমাজে তারা 'অনাকাঙ্ক্ষিত' বা 'অবাঞ্ছিত' বলে বিবেচিত হতে পারে।
উপরোক্ত দায়িত্বগুলো বাস্তবায়ন করতে গিয়ে জীবনে যত নিপীড়ন, বাধা বা প্রতিকূলতাই আসুক না কেন, তারা দ্বীনকে বিসর্জন দেবে না। এসব প্রতিকূলতা তাদের ঈমান ও দ্বীনের প্রতি ভালোবাসাকে দুর্বল করবে না; বরং দ্বীনের পথে তাদের দৃঢ়তা আরও বৃদ্ধি করবে।
*(৮) দ্বীনের হেফাজতের জন্য হিজরতের মানসিকতা*
"আল-ফাররূনা বি-দীনিহিম"
অর্থ: যারা নিজেদের দ্বীন নিয়ে ফিতনা থেকে পালিয়ে যায়।
এই পরিবার ও সমাজে অবস্থান করলে যদি তাদের দ্বীন ও ঈমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়, তবে তারা প্রয়োজন হলে সবকিছু ছেড়ে এমন স্থানে হিজরত করার চিন্তা করবে, যেখানে তাদের দ্বীন ও ঈমান নিরাপদ থাকবে।
তাদের আকাঙ্ক্ষা থাকবে, জীবিত থাকলে ঈসা ইবনে মারইয়াম আলাইহিস সালামের সঙ্গে সাক্ষাৎ হোক। আর যদি সেই সাক্ষাৎ না-ও হয়, তবুও তাদের মধ্যে এমন গুণাবলি থাকবে, যা ঈসা আলাইহিস সালামের সঙ্গে থাকা হাওয়ারিয়্যিনদের গুণাবলির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তারা দ্বীনের ব্যাপারে আপসহীন থাকবে, সঠিক দ্বীনের চর্চা করবে এবং জীবনের সর্বক্ষেত্রে দ্বীনের স্বীকৃতি ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবে।
______
এই যুগে গুরাবাদের বৈশিষ্ট্য, দায়িত্ব ও জীবনদর্শন সম্পর্কে যে ব্যক্তি অজ্ঞ, সে মূলত সাহাবায়ে কেরামের সীরাত ও সুরত থেকেও বেখবর।
গুরাবাদের এই পথ মূলত দ্বীনের ওপর দৃঢ়তা, সুন্নাতের অনুসরণ, ঈমানের হেফাজত এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও সত্যের ওপর অবিচল থাকার পথ। এই বিশ্বাস থেকেই তারা আশা করে যে, আল্লাহর নির্ধারিত সময়ে হক্বের বিজয়ের সঙ্গে তারা নিজেদের দায়িত্ব পালনের সুযোগ লাভ করবে এবং খলিফা মাহদী রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সঙ্গে মিলিত হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করবে।
আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে গুরাবা হিসেবে কবুল করুন এবং গুরাবা অবস্থায় দুনিয়া থেকে আল্লাহর কাছে যাওয়ার তাওফিক দান করুন, আমীন!
[ _শাইখ মামুনুর রশীদ হাফিজাহুল্লাহ' এর ইসলাহী বয়ান (১৩ আগস্ট ২০২৬) থেকে প্রাপ্ত রত্ন নিজের ভাষায় লিখিত_ ]