★ ওয়াহেদপুর গিরিধামের সংক্ষিপ্ত পরিচয় ★
° প্রায় পাঁচশত বৎসর পূর্বে ঢাকা মহানগরীর দক্ষিণাংশে গেন্ডারিয়া তে এক ব্রাহ্মণ বংশে জন্মগ্রহন করেন ব্রহ্মানন্দ গিরি।
ব্রহ্মানন্দের পিতৃদেব ছিলেন হেরম্ভ গিরি, ব্রহ্মানন্দ গিরি ছিলেন বেদ পরায়ণ সাত্ত্বিক ব্রাহ্মণ তিনি ছিলেন তন্ত্রজ্ঞ মহাপুরুষ।
তিনি কামাখ্যা পীঠে 'তারা মন্ত্র' বিদ্যা সাধনায় সিদ্ধিলাভ করেন। তিনিই ঢাকার রমনা কালীবাড়ির প্রতিষ্ঠাতা।
ব্রহ্মাননন্দের
পরবর্তী পুরুষ কন্ঠি গিরি। কন্ঠি গিরির তৃতীয় পুরুষক্রমে অবতীর্ণ হন শ্রী শ্রী সংযোগানন্দ গিরি (তবে এ বিষয় নিয়ে একটু মতান্তর আছে)।
ব্রহ্মনন্দ নাকি পরের জন্মে নিগমানন্দ সরস্বর্তী ছিলেন। নিগমানন্দ সাধকের কিছু বইয়ে এ ভাবে লেখা আছে ব্রহ্মনন্দ গিরির শেষ সময় তার এক শিষ্যের কাছে তার মেয়ে রাখে এবং বললেন আমার মত (ব্রহ্মনন্দ) তান্ত্রিকের সাথে যেন মেয়ে বিয়ে দেওয়া হয়।
তার পর ব্রহ্মানন্দ গিরি দেহ ত্যাগ করার কিছু দিন পর সংযোগানন্দ গিরির সাথে ব্রহ্মানন্দ গিরির শিষ্য দেখা হয় এবং ব্রহ্মনন্দ বিষয় বিস্তার ঘটনা বলে, তার পর সংযোগনন্দ গিরি এ বিয়েতে রাজি হয়।
শ্রী শ্রী সংযোগানন্দ গিরির বাল্য নাম ছিল শ্রী রামনন্দ গিরি। শ্রী শ্রী সংযোগানন্দ গিরি কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত তন্ত্র ও শক্তি সাধনার পীঠস্থান কুমিল্লা জেলায় অন্তস্তর্গত দেবিদ্বার উপজেলাস্থ ওয়াহেদপুর গিরিধামে তাঁরই স্মৃতি বহণ করে আসছে তার বংসদররা। তিনি ময়নামতি পর্বত গুহায় শক্তি সাধনায় নিমগ্ন হন।
সেখান থেকে ঢাকা জেলার (বর্তমানে কিশোরগঞ্জ জেলা) চর সিন্দুর নিকটবর্তী সাধার চর গ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে শিষ্য সংযোগ সাধন ভজন শুরু করেন এবং সেখানে থেকেই সংযোগানন্দের নাম সৃষ্টি অর্থাৎ শিষ্যের সংযোগে যে আনন্দ তাহাই সংযোগানন্দ।
বর্তমান ওয়াহেদপুর গ্রামটি ছিল তৎকালে নির্জণ এক বনভূমি ও প্রত্যন্ত অঞ্চল। এ নির্জণ স্থান বেছে নিয়ে বকুল তলায় বাকসিদ্ধি লাভ করেন শ্রী শ্রী সংযোগানন্দ গিরি।
সাধনায় তিনি লাভ করেছিলেন চিন্ময়ী মহাশক্তিকে, যে শক্তি বিশ্বব্রহ্মান্ডে জলে স্থলেঅন্তরীক্ষে সর্বত্র বিরাজমান।
বর্তমানে ওয়াহেদপুর গ্রামের বকুল তলায় পরম তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত লাভ করে এবং জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকলেই এ পরম তীর্থস্থানে আগমন করে সাধন ভজন করে আত্মতৃপ্তি লাভ করেন।
১৯৪১ সালে শ্রী শ্রী সংযোগানন্দ গিরি স্মৃতি সংসদ প্রতিষ্ঠিত হয়।স্মতি সংসদের উপদেষ্টা কমিটি ও কার্যকারী নির্বাহী কমিটি দ্বারা গিরিধামের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।
বর্তমানে গিরিধামে দূর্গা মন্দির, শিব মন্দির, স্মৃতি মন্দির, শীতলা মন্দির, সমাধি মন্দির, উৎসব চলাকালীন চিকিৎসালয় ও লাইব্রেরী রয়েছে সবকিছুই ব্যাক্তিগত অথ্যায়নে পরিচালিত হচ্ছে।
প্রতি বংসর ওয়াহেদপুর গিরিধামে জগদ্বাত্রি পূজা, বাসন্তী পূজা কালী পূজা, শিতলা পূজা, শিব পূজা, ভাদ্র অমাবশ্যায় মায়ের পূজা হয়ে থাকে।
বাংলাদেশে প্রায় ঝায়গাতে যেমন ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, নরসিংদী, ভৈরব, ইত্যাদি প্রতি সাপ্তাহে উপসনা হয়। এ ছাড়া প্রতি বৈশাখী বুদ্ধ পূর্ণিমায় মহাসমারোহে তিন দিনব্যাপী বিভিন্ন পুজা ও অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উৎসব পালিত হয়ে থাকে।
যাতায়াত - সিলেট টু কমিল্লা মহাসড়ক রোড। দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গেইট থেকে সিএনজি/রিক্সা যোগে ওয়াহেদপুর গোঁসাই বাড়ি।