16/07/2026
১৬ই জুলাই;আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক রক্তিম মাইলফলক
আজ ১৬ জুলাই। ঐতিহাসিক জুলাই শহীদ দিবস। আমাদের জাতীয় ইতিহাসের পাতায় এই দিনটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের অবিচল প্রতিরোধের এক অনন্য আখ্যান। বৈষম্য ও ফ্যাসিবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়ানোর যে সাহসিকতার নজির এই দিনে স্থাপিত হয়েছিল, তা যুগ যুগ ধরে নিপীড়িত মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার বাতিঘর হয়ে থাকবে।
২০২৪ সালের এই দিনে শহীদ আবু সাঈদসহ যে সকল বীর প্রাণ উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের সেই অকুতোভয় সাহসিকতা ছিল দীর্ঘ দেড় দশকের স্বৈরাচারের লৌহকঠিন শৃঙ্খল ভাঙার প্রথম সোপান।শহীদ আবু সাঈদের গুলির মুখে দাঁড়িয়ে দুই হাত প্রসারিত করে অকুতোভয় দাঁড়িয়ে থাকার সেই দৃশ্য পৃথিবীর সব বিপ্লবীদের যুগ যুগ ধরে প্রেরণা যোগাবে।
আজ আমরা তাঁদের গভীর শ্রদ্ধা ও বিনম্রচিত্তে স্মরণ করছি। মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি—তিনি যেন শহীদদের শাহাদাত কবুল করেন, তাঁদের জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্যধারণ করার তৌফিক দান করেন।
জুলাই বিপ্লব ছিল দীর্ঘ দুঃশাসনের বিরুদ্ধে গণমানুষের ফুঁসে ওঠা এক রুদ্ররোষ। এই বিপ্লব আমাদের নতুন করে শিখিয়েছে যে, অশুভ শক্তির দম্ভ যত বড়ই হোক না কেন, ঈমানি দৃঢ়তা ও জনগণের ঐক্যের শক্তির কাছে তা পরাজিত হতে বাধ্য। ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত এই বিজয়ের পর আমাদের মূল দায়িত্ব হলো—সেই মহান ত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করা। শহীদদের আত্মত্যাগের প্রধান লক্ষ্য ছিল একটি ইনসাফপূর্ণ, বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ কায়েম করা।
শহীদদের রক্তে অর্জিত এই স্বাধীনতাকে যদি আমরা সুশাসনভিত্তিক ও কল্যাণকামী রাষ্ট্রের রূপরেখায় উন্নীত করতে না পারি, তবে ইতিহাসের কাছে আমরা অপরাধী হয়ে থাকব। তাই আসুন, সংকীর্ণতা ও বিভেদ ভুলে গিয়ে মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে, ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে আমরা অবিচল থাকি।
ইনকিলাব জিন্দাবাদ