15/12/2023
বিপদ-মুসিবত আসে রহমত হিসেবে; কিছু ক্ষেত্রে আসে শাস্তি অথবা পরীক্ষা হিসেবে।
✿ বিপদ কীভাবে নিয়ামত হতে পারে?
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যাঁর হাতে আমার জীবন, তাঁর শপথ করে বলছি! একজন মুমিনের উপর আপতিত যে কোনো ধরনের চিন্তা, পেরেশানি, কষ্ট, ব্যথা, দুর্ভাবনা— এমনকি একটি কাঁটা ফুটলেও এর মাধ্যমে আল্লাহ তার গুনাহের কাফফারা (প্রায়শ্চিত্য) করেন”। [বুখারি, আস-সহিহ: ৫৬৪১, ৫৬৪২; মুসলিম, আস-সহিহ: ২৫৭৩]
অন্য হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর শপথ করে বলছি! আল্লাহ মুমিনের জন্য যে ফয়সালাই করেন, এটা তার জন্য ভাল হয়ে দেখা দেয়। যদি ভালো কিছু তার জুটে যায়, তখন সে শুকরিয়া আদায় করে; সুতরাং তা তার জন্য কল্যাণ। আর যদি খারাপ কিছু তার ভাগ্যে জুটে যায়, তখন সে ধৈর্য ধারণ করে; ফলে সেটিও তার জন্য কল্যাণ হিসেবে পরিগণিত হয়। একমাত্র মুমিন ছাড়া কারো এ ধরনের সৌভাগ্য হয় না।’’ [মুসলিম, আস-সহিহ: ২৯৯৯]
✿ বিপদ যখন গুনাহর কারণে হয়:
ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে; তিনি বলেছেন, ‘কোনো জাতির মধ্যে আত্মসাৎ করা বৃদ্ধি পেলে সে জাতির লোকদের অন্তরে ভয়ের সঞ্চার করা হয়। কোনো জাতির মধ্যে ব্যভিচার ছড়িয়ে পড়লে সেখানে মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পায়। কোনো সম্প্রদায়ের লোকেরা পরিমাপ ও ওজনে কম দিলে তাদের রিযিক সংকোচিত করা হয়। কোনো জাতির লোকেরা অন্যায়ভাবে বিচার-ফয়সালা করলে তাদের মধ্যে রক্তপাত বিস্তৃতি লাভ করে। কোনো জাতি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলে আল্লাহ শত্রুদের তাদের ওপর চাপিয়ে দেন।’ [মালিক, আল-মুওয়াত্তা: ১৩২৩]
✿ বিপদ কীভাবে ঈমানি পরীক্ষা হয়?
কুরআনুল কারিমে আল্লাহ্ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন, ‘‘অবশ্যই আমি তোমাদের পরীক্ষা করবো—কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, সম্পদ ও জীবনের ক্ষতি এবং ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে সুসংবাদ দাও ধৈর্যশীলদের।’’ [সুরা বাকারাহ, আয়াত: ১৫৫ ]
অতএব, বিপদ কখনো নিয়ামত ও কখনো পরীক্ষা হিসেবে আসে। আবার কখনো শাস্তি হিসেবেও আসে। সুতরাং সর্বাবস্থায় আল্লাহর দিকেই ফিরে যেতে হবে এবং সবর করতে হবে—যেমনটি সূরা বাকারার ১৫৫ ও ১৫৬ নং আয়াতে বলা হয়েছে।