25/05/2026
📚শিবভক্ত ও বিষ্ণুভক্ত
পুরাণ অনুযায়ী হিরণ্যকশিপু শিবভক্ত ছিলেন এবং তাহার পুত্র প্রহ্লাদ বিষ্ণুভক্ত ছিলেন। তাদের বিষয়ে পুরাণে উল্লেখিত কিছু কথা তোলে ধরছি, ইচ্ছা হলে পড়ে নিন।
হিরণ্যকশিপু মহাদেবকে পূজা করে প্রসন্ন করেন বরপ্রাপ্ত করেন এবং তিনি মহাদেবের ভক্ত হন। তাহার স্ত্রী কল্যাণীর গর্ভ হইতে প্রহ্লাদ জন্মগ্রহণ করেন। প্রহ্লাদকে গুরুকুলে পাঠানো হলো এবং বেদাদি শাস্ত্র অধ্যয়ন করিয়া গুরুর সহিত পিতার নিকট আসেন। পিতা প্রহ্লাদকে জিজ্ঞাসা করিলেন গুরু কি বিদ্যা দিয়েছে তা বলার জন্য। তারপর প্রহ্লাদ বলা শুরু করেন–
যো বৈ সর্ব্বোপনিষদামর্থ: পুরুষ ঈশ্বরঃ।
তং বৈ সর্ব্বগতং বিষ্ণুং নমস্কৃত্বা ব্রবীমি তে।। ১৭
প্রহলাদ বলিলেন, -যিনি সর্ব্বোপনিষদের অর্থ পুরুষ ঈশ্বর, আমি সেই সর্ব্বগত বিষ্ণুকে নমস্কার করিয়া আপনাকে বলিতেছি।
ইতি বিষ্ণুস্তুতিং শ্রুত্বা দৈত্যরাজ বিস্ময়ান্বিতঃ।
উবাচ তং গুরুং রোষাৎ কিং ত্বয়োক্তং মমাত্মজে । ১৮
মমাত্মজন্য দুর্বৃদ্ধে হরিসংস্তবমীদৃশম্।
কিমর্থমুক্তবান্ জাড্যমকাৰ্য্যং ব্রাহ্মণোচিতম্ ॥১৯
অশ্রাব্যং মদমিত্রস্য স্তবমেতং মমাগ্রতঃ।
বালেনাপি কৃতং তেতত্ত্বৎপ্রাসাদাদ্বিজাধম ॥ ২০
ইত্যুক্ত্বা পরিতো বীক্ষ্য দৈত্যরাট্ ক্রোধমূর্ছিতঃ
উবাচ দৈত্যমেকন্তু বন্ধয়ৈনং দ্বিজাধমম্ ॥ ২১
দৈত্যরাজ পুত্রমুখে এবংবিধ বিষ্ণু-স্তুতি শুনিয়া বিস্মিত হইল এবং কোপভরে গুরুকে বলিল, -দুর্বুদ্ধে! তুমি আমার পুত্র প্রহ্লাদকে এ কি বলিয়াছ? আমার তন-য়ের নিকট ঈদৃশ অকার্য্য জাড্য বিষ্ণুস্তব কি জন্য কীর্ত্তন করিয়াছ? হে বিপ্র! ইহা কি উচিত হইয়াছে? হে দ্বিজাধম! প্রহ্লাদ বালক হইয়াও যে আমার সম্মুখে অশ্রাব্য মদীয় শত্রুর স্তব কবিয়াছে, ইহ। তোমারই জন্য ঘটিয়াছে। দৈত্যপতি এইরূপ কহিয়া সর্বদিকে দৃষ্টিনিক্ষেপপূরক ক্রোধে মুচ্ছিত হইল, এবং জনৈক দৈত্যকে বলিল,-এই দ্বিজাধমকে বন্ধন কর।
তদন্তর প্রহ্লাদ বলেন গুরুদেব নির্দোষ, তিনি আমাকে এই শিক্ষা দেননি, হরির কৃপায় আমি এই শিক্ষা পেয়েছি। তাঁকে মুক্ত করুন। একথা শুনে গুরুকে মুক্ত করে দেন। কিন্তু বলেন –
মামেবার্চ্চয় গোবিন্দং ত্যজ শত্রুং দুরাসদম্। ২৭
দূরাসদ শত্রু গোবিন্দকে ত্যাগ করিয়া আমারই পূজা করো।
একথা তিনি এজন্যই বলেছেন, কারণ তিনি- 'স ত্রৈলোক্যেশ্বরোঽভবৎ' ৭। ত্রিলোকের ঈশ্বর হইয়াছিলেন, শিবের বরের সাহায্যে।
তারপর বলেন- অথবা–
অথবা শঙ্করং দেবং রুদ্রং লোকগুরুং প্রভুম্।
অক্ষয়স্ব সুরাধ্যক্ষং সর্ব্বৈশ্বর্য্যপ্রদং শিবম্ ॥ ২৮
ত্রিপুণ্ড্রধারণং কৃত্বা ভস্মনা দৈত্যপুজিতম্।
পূজয়িত্বা মহাদেবং পাশুপত্যোক্তমার্গতঃ ॥২৯
লোকগুরু রুদ্র সর্ব্বৈ-শ্বর্য্যপ্রদ শিব প্রভু শঙ্কর দেবকে পূজা কর। তুমি পাশুপত্য পথে ভস্ম দ্বারা ত্রিপুণ্ড্র ধারণ করিয়া দৈত্যপূজিত মহাদেবের অর্চ্চনা কর।
পুরোহিতও প্রহ্লাদকে বুঝাইলেন– তুমি পিতার এই বাক্যই পালন কর। মানবগণের পক্ষে রুদ্র হইতে সর্বপ্রদ অন্য কোন পরতর দেবতা নাই। তোমার পিতা তাঁহারই প্রসাদে ঈশ্বর হইয়াছেন।
এসব শুনে প্রহ্লাদ জবাবে বিবিধ কিছু বলতে বলতে বলেন–
স্বর্গে দেবোত্তম বিভু [নারায়ণ বা বিষ্ণু] ব্রহ্মা ও শঙ্করকে সৃষ্টি করিয়াছেন। তাঁহার আদেশ পুরস্কৃত করিয়াই ব্রহ্মা ও শঙ্কর বর্তমান রহিয়াছেন। বিষ্ণু মহান ইত্যাদি ইত্যাদি।
তারপর বলেন– আমার সম্মুখে এ কি বলিতে-ছেন? আমি সেই সর্ব্বপালক সর্ব্বেশ্বর দেব হরিকে পরিত্যাগ করিয়া 'কথং পাষণ্ডমাশ্রিত্য পূজয়ামি চ শঙ্করমহ। ৪৪। পাষণ্ডপথের আশ্রয়ে শঙ্করের পূজা করিব?
তারপরের নৃসিংহ অবতারাদির কাহিনী আসে ক্রমান্বয়ে। লক্ষণীয় বিষয় শিবভক্ত বিষ্ণুকে শত্রু বলিলেন আবার বিষ্ণুভক্ত শঙ্করপূজার একটি মতকে পাষণ্ডপথ বলিলেন।
©️পুরাণ বিমর্শ