22/05/2026
ইমাম ইবনুল জাওযি (রহ.) বলেছেন, "আমি দীর্ঘ সময় নফসের সাথে লড়াই করেছি; কখনো আমি জিতি, কখনো নফস জিতে যায়।
একদিন একান্তে নফসকে বললাম, ধিক্কার তোমাকে! যদি তুমি সন্দেহযুক্ত পথে সম্পদ জমা করো, তবে কি নিশ্চিত যে তুমিই তা ভোগ করবে?
নফস বলল, না।
আমি বললাম, তবে মৃত্যুর সময় এটিই হবে তোমার বড় কষ্ট যে, ভোগ করবে অন্য কেউ আর গুনাহের বোঝা বইবে শুধু তুমি!" ( সূত্র: সইদুল খাতির)
নফস হলো মানুষের হৃদয় এবং রবের মাঝখানে এক বিশাল দেয়াল। নফসকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিশুদ্ধ করা ছাড়া আল্লাহর সন্তুষ্টি বা পরকালের মুক্তি সম্ভব নয়।
আল্লাহ তা’আলা বলেন,
"শপথ নফসের এবং যিনি তাকে সুবিন্যস্ত করেছেন... যে নিজেকে শুদ্ধ করল সেই সফল হলো, আর যে নিজেকে কলুষিত করল সে ব্যর্থ হলো।" (সূরা শামস: ৭-১০)
ব্যক্তির সংশোধনই জাতির সংশোধন। আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা ততক্ষণ পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ তারা নিজেরা নিজেদের অবস্থা (নফস) পরিবর্তন না করে।
আজ যারা দ্বীনের পথে চলেন, তাদের মধ্যেও অনেকের পদস্খলন ঘটছে। এর কারণ, নিজেকে গড়ার চেয়ে অন্যকে গড়ায় আমরা বেশি ব্যস্ত। অথচ যে নিজেকে গড়তে পারে না, সে অন্যকে গড়বে কীভাবে?
আল্লাহ সাতটি শপথ করে বলেছেন, যে নিজেকে শুদ্ধ করবে, সেই সফল হবে। আর এই শুদ্ধির পুরস্কার হলো চিরস্থায়ী জান্নাত।
নফস কলুষিত হওয়ার লক্ষণগুলো কী কী?
১. ছোট হোক বা বড়, গুনাহ করার পর যদি মনে খটকা না লাগে, তবে বুঝবেন নফস অসুস্থ। মুমিন ব্যক্তি ছোট গুনাহকেও পাহাড়ের মতো ভয় পায়।
২. ইবাদতের স্বাদ হারিয়ে ফেলা। ফজর সালাতের চেয়েও যখন ঘুম ও লেপের উষ্ণতা বেশি মিষ্টি মনে হয়, তখন বুঝবেন নফসের জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।
৩. তিলাওয়াত, যিকির বা দ্বীনি আলোচনার চেয়ে দুনিয়ার গল্প, হাসি-ঠাট্টা, গীবত বা টাকা-পয়সার চিন্তায় ডুবে থাকা।
নফসকে পরিশুদ্ধির ৫টি কার্যকর পদক্ষেপ:
১. নফসের স্তর নির্ণয় করার চেষ্টা করা। কুরআন অনুযায়ী নফস তিন প্রকার:
নফসে আম্মারা: যা কেবল মন্দের আদেশ দেয়। (সূরা ইউসুফ: ৫৩)
নফসে লাউওয়ামা: যা ভুল করলে নিজেকে ধিক্কার দেয়। (সূরা কিয়ামাহ: ২)
নফসে মুতমাইন্না: যা আল্লাহর স্মরণে শান্ত থাকে। (সূরা ফজর: ২৭-৩০)
২. "আমি অনেক বড় দ্বীনদার" এই অহংকার ছেড়ে নিজের দোষগুলো চিহ্নিত করে নিজেকে সংশোধন করা।
৩. আল্লাহর পথে নিজেকে পরিচালিত করতে মনের বিপরীতে গিয়ে নফসের সাথে যুদ্ধ করা।
৪. ধৈর্য ও বিনয়ের মতো গুণগুলো বারবার অনুশীলনের মাধ্যমে স্বভাবে পরিণত করা।
৫. আল্লাহর কাছে নিজের মুখাপেক্ষিতা প্রকাশ করা এবং এই দোয়া করা,
اَللّٰهُمَّ آتِ نفسي تَقْوَاهَا ، وَزَكِّهَا أَنْتَ خَيْرُ مَنْ زَكَّاهَا ، أَنْتَ وَلِيُّهَا وَمَوْلَاهَا
বাংলা উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা আ-তি নাফসী তাক্বওয়া-হা-, ওয়া যাক্কিহা- আন্তা খইরু মান যাক্কা-হা-, আন্তা ওয়ালিইয়্যুহা- ওয়া মাওলা-হা-।
অর্থ:
"হে আল্লাহ! আমার নফসকে তার তাকওয়া (আল্লাহভীতি) দান করুন এবং তাকে পরিশুদ্ধ করুন। আপনিই তো তার সর্বোত্তম পরিশোধনকারী। আপনিই তার অভিভাবক এবং তার মালিক।"
-- আরবি থেকে অনূদিত
Salman Farsi