বাংলা মায়ের এক শ্রেষ্ঠ সন্তান অখন্ডমন্ডলেশ্বর শ্রী শ্রীমত স্বামী স্বরুপানন্দ পরমহংসদেব মানব সভ্যতার এক অমূল্য সম্পদ। বিস্ময়কর বহূমুখী প্রতিভার অধিকারী প্রচার-বিমুখ এই মহামানব মানুষের কল্যানে যে পথ দেখিয়ে গেছেন তা একদিকে যেমন যুগ সঞ্চিত বহূ জটিল সমস্যার সমাধান করেছে তেমনি যুগ যুগ ধরে মানব সমাজকে দেখিয়ে যাবে প্রকৃত মনুষত্য বিমন্ডিত অগ্রগমনের পথ।
এই মহামানবের জন্ম বাংলাদেশের চাঁদপুর শহরে ১৮৯৩ইং সনে
ডিসেম্বরের শেষ মঙ্গলবারে তদানীন্তন বাংলার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে। শৈশব হতেই তার মাঝে কিছু কিছু অসাধারন গুন পরিলক্ষিত হয়। নিজের মধুর ব্যবহার অবিচল সসত্যনিষ্ঠা এবং সংকল্পের দৃঢ়তা তাঁকে শৈশবেই সমবয়সীদের প্রিয় নেতায় পরিনত করেছিল। তাঁর বাল্য নাম ছিল বঙ্কিম চন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়। পিতা-সতীশ চন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায় ছিলেন সাধক কবি হিসেবে সূধী মহলে সম্মানিত ব্যক্তিত্ব। মাতা-মমতা দেবী, বহূ বহূ সাধক -সজ্জন অনাথের সেবা দানকারী মমতার জীবন্ত বিগ্রহ। পিতামহ-হরিহর গঙ্গোপাধ্যায় সাধু সজ্জনগনের নিত্য,আতিথ্য প্রদানকারী গাহস্থ্য সাধনার প্রমুর্ত্ত বিগ্রহ যাকে মহাত্মা ভোলানন্দ গিরি মহারাজ, "কলির বলিষ্ঠ "উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
এই প্রচার বিমূখ মহাজীবনের ব্যক্তি জীবন সম্পর্ক্যে অতি অল্পঈ জানা যায়। জনশ্রুতি এই চাঁদপুরে স্কুলের শিক্ষা সমাপন করে ঢাকাতে আসেন। কলেজের শিক্ষা সমাপনান্তে উচ্চ শিক্ষা গ্রহনের জন্য বিলাত যাবার জন্য যখন সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন এমত অবস্থায় তিনি জগতহিতে দেশমাতৃকার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। এর বেশ পরে তাঁর লোকহিত ব্রত সন্যাসী রুপে আবির্ভাব।
শ্রী শ্রী স্বরুপানন্দ বলতেন, ঘুমন্ত দেশবাসীকে জাগানোই আমার কাজ। এই কাজ তিনি আজীবন করে গেছেন। তিনি বলতেন,আমি বীর্যময় মহদ্দর্মের উদগাতা,আমি শক্তিরুপের উপাসক, আমি পৌরষের প্রদীপ্ত সাক্ষর, আমি আজীবন আমরন তোমাদের অন্তরে শক্তিরঈ সঞ্চার করিব। সারাটি জীবন ব্যাপে কঠোর শ্রমের দৃষ্টান্ত। কল্যান অসংখ্য জনের কাছে ধারাবাহিক পত্র লিখন। শত-সহস্র মঞ্চ ভাষন দান।শত শত কবিতা রচনা।সংগীত পরিবেশন। তিনি জাতিকে জীবন গঠনের এক স্থায়ী প্রেরনা প্রদান করে গেছেন এক মহামুল্যবান বিশাল সাহিত্য রচনা করে। আলস্যকে তিনি সমাজের প্রধান শত্রু হিসাবে চিহ্নিত করেন। তাঁর সুস্পষ্ট ঘোষনা "আলস্যঈ তোমাকে ভিখারি করিবে" সমাজে এই সর্বনাসা ব্যাধি দুর করার জন্য তিনি প্রবর্তন করেন"অভিক্ষা"।