07/03/2026
"ওই যে ওখানে হ্যাঁ ঠিক ওখানেই আবু জাহেল মারা যাবে,
ওতবা ওখানে,
শায়বা ওখানে,
আর ওয়ালিদ সে তো ঠিক এখানেই মরবে"
১৬ ই রমজান ২য় হিজরি, সন্ধ্যার পর ৩১৩ জন বীর মুজাহিদদের নিয়ে বদর প্রান্তরে উপস্থিত হুজুরে পাক (দ.)। ময়দানের ঠিক কোন জায়গায় কোন কাফিরের মৃত্যু ঘটবে এই আগাম সংবাদই দিচ্ছিলেন তিনি।
পরদিন ১৭ ই রমজান ২য় হিজরি মোতাবেক ৬২৪ খ্রিস্টাব্দ, পূর্ব দিগন্তে লাল রক্তিম আভা ছড়িয়ে প্রতিদিনের মতো আজও সূর্য উঁকি দিচ্ছে, তবে আজকের সূর্য হতে চলেছে এক মহা-সন্ধিক্ষণের সাক্ষী।
রাসুল (দ.) সাহাবিদের সাড়িবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে রণকৌশল শিক্ষা দিচ্ছিলেন। এমন সময় দেখতে পেলেন সাওয়াদ নামক এক সাহাবি লাইনচ্যুত হয়ে রয়েছেন। তখন তিনি হাতের তীর দিয়ে তার পেটে সামান্য খোঁচা দিয়ে বললেন, "লাইনে দাঁড়াও"। তখন সেই সাহাবি বলে উঠলেন "ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি অকারণে আমাকে কষ্ট দিয়েছেন, আমাকে এর প্রতিশোধ নিতে দিন"। চারিদিকে তখন পীন-পতন নীরবতা। সকলে তো ভয়ে একেবারে জমে গিয়েছেন, আরে এ লোক বলে কী! সরকারে পাক থেকে এ প্রতিশোধ নেবে! কেউ কেউ তো আবার রাগে ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন। কিন্তু নবি তো দয়ার সাগর, তিনি তার পেট মোবারাকের জামাটুকু তুলে বললেন, "নাও সাওয়াদ, তোমার প্রতিশোধ নাও"। কিন্তু এ কী! সাওয়াদ (রা.) হুজুর (দ.) কে খোঁচা দিবেন তো দূরের কথা তিনি তার পেট মোবারাক জড়িয়ে ধরে চুমু খেতে লাগলেন। হুজুর (দ.) তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, "সাওয়াদ এমনটা কেন করলে?" তিনি বললেন," ইয়া রাসুলাল্লাহ! জীবন মরণের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি, যদি শাহাদাতের সুধা পান করে ফেলি তবে আপনার নুরানি শরীরের খুশবুটুকু হয়তো আর পাব না, তাই আপনাকে একটাবার ছুয়ে দেখার জন্য এই অজুহাতটুকু বানানো"।। সুবহানাল্লাহ!! মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েও সাহাবাদের ইশকে রাসুল কতটা প্রখর ছিল। বদর যুদ্ধ থেকে এর চেয়ে বড় শিক্ষা আমাদের আর কী হতে পারে?
শুরু হল তুমুল যুদ্ধ। প্রথমে মল্লযুদ্ধ ও পরে সমষ্টিযুদ্ধ, মুসলমানদের সাহায্যার্থে অবতীর্ণ হলো পাঁচ হাজার ফেরেস্তা। কুরাইশরা তাদের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিবর্গদের হারালো আর মুসলমানদের বিজয় নিশান যেন আকাশ জুড়ে ছেয়ে গেল। হক্ব বাতিলের মাঝে প্রথম সংঘর্ষেই সমুচিত জবাব দিল মুসলমানরা।
তবে এ কী! এই যে হ্যাঁ, রাসুল (দ.) তো ঠিক এখানটাতেই বলেছিলেন। যে স্থানটুকু চিহ্নিত করে রাসুল (দ.) যে কাফেরের মৃত্যু সংবাদ দিয়েছিলেন তাকে ঠিক সেখানেই পাওয়া গেল। আল্লাহু আকবার!! আর মূর্খরা বলে হুজুর নাকি গায়েব জানতেন না। এছাড়া এ যুদ্ধে হুজুরে পাকের আরো অনেক মুজিযা প্রকাশিত হয়, যেমন- থুথু দিয়ে কাটা হাত লাগিয়ে দেয়া, চোখ ভালো করে দেয়া, খেজুর ডালকে তরবারিতে রূপান্তর করা ইত্যাদি। সুবহানাল্লাহ!
আর আজ সেই মহান ঐতিহাসিক বদর দিবস। বদর যুদ্ধে শহিদ সকল সাহাবিদের রুহের মাগফিরাত কামনা করি, আল্লাহ তাদের জান্নাতুল ফেরদৌসের উচ্চ মক্কাম দান করুন। তাঁদের উসিলায় আমাদেরকে কবুল করে নিন। আমিন।।।
✒️মুহাম্মদ ছাব্বিরুল ইসলাম (শিহাব)