Hazrat Shah Sufi Amanat Khan Dargah

Hazrat Shah Sufi Amanat Khan Dargah This is a place to find spiritual happiness and to learn about the history of Sufism

Hazrat Shah Sufi Amanat Khan (may Allah be pleased) was a famous sufi of the Naqshbandi Mujaddedi order, a descendant of the holy prophet,and a Khalifa of Hazrat Abdur Rahim Shahid (may Allah be pleased) of Laxmibazar, Dhaka. The great sufi breathed his last breath on 1187 HIJRI and was buried at his own khanqah at Laldighi East Chittagong, Bangladesh. Currently we the descendants are in charge of the Dargah complex and it’s day to day affairs.

আজ ৯ই রবিউল আওয়াল, ইমামে রব্বানী হযরত মুজাদ্দিদ আলফে সানী (রা.) এর পুত্র ও গদিনশীন উরওয়াতুস উসকা, কাইউমে সানী ইমাম হযরত...
24/08/2026

আজ ৯ই রবিউল আওয়াল, ইমামে রব্বানী হযরত মুজাদ্দিদ আলফে সানী (রা.) এর পুত্র ও গদিনশীন উরওয়াতুস উসকা, কাইউমে সানী ইমাম হযরত খাজা মুহাম্মদ মাসুম ফারুকী সিরহিন্দী হানাফী (রা.)-এর পবিত্র বার্ষিক ওরশ শরীফ। ভারতের পাঞ্জাবে অবস্থিত সিরহিন্দ শরীফে মহাসমারোহে উদযাপিত হচ্ছে।
কুতুবুল আকতাব হযরত শাহ সূফী আমানত খান (র.)-এর দরবার শরীফে খানকাহ আমানতীয়া নকশবন্দীয়া মোজাদ্দেদীয়ায় আজ ফাতিহা শরীফ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

হুজুর পাক (সঃ) এর শ্রুতিগত প্রখরতাহুজুর আকরম (সঃ) এর শ্রবণ-শক্তি সম্পর্কে এক হাদীছে বর্ণনা এসেছে- "আমি ঐ সমস্ত জিনিস দেখ...
21/08/2026

হুজুর পাক (সঃ) এর শ্রুতিগত প্রখরতা

হুজুর আকরম (সঃ) এর শ্রবণ-শক্তি সম্পর্কে এক হাদীছে বর্ণনা এসেছে- "আমি ঐ সমস্ত জিনিস দেখতে পাই, যা তোমরা দেখতে পাওনা। আর আমি ঐ সমস্ত ধ্বনি শুনতে পাই যা তোমরা শুনতে পাওনা। আমি আকাশের আতইয়াত (ঊর্ধজগতের এক বিশেষ প্রকারের ধ্বনি) ও শুনতে পাচ্ছি। উটের পালানের (গদির কাঠ) আওয়ায, খালি পাকস্থলীর আওয়ায। (দুঃখ কষ্টে পড়ে উট যে আওয়ায করে বা এজাতীয় অন্যান্য আওয়াযকে আতীতা বলা হয়)। নবী করীম (সঃ) বলেছেন, আকাশও আওয়ায করার উপযোগী। কেননা নভোমন্ডলে অর্ধহাত (বা এক বর্ণনায় আছে চার আঙ্গুল) জায়গাও এরূপ নেই যেখানে ফেরেশতাগণ সেজদা করেনা। এক বর্ণনায় আছে, আকাশের অগণিত ফেরেশতা কেউ সেজদারত আবার কেউ কিয়ামরত অবস্থায় রয়েছে। সীরাতের কিতাবসমূহে নবী করীম (সঃ) এর শ্রবণ-শক্তি সম্পর্কে পুরোপুরি বর্ণনা এবং তার যথাযথ অবস্থা আলোচনা করা হয় নি। তবে হাঁ 'জামে সগীর' কিভাবে এতটুকু বর্ণনা আছে যে, হুজুর আকরম (সঃ) এর শ্রবণক্ষমতা অত্যন্ত পরিপূর্ণ ছিলো।

উৎস: মাদারেজুন নবুওয়াত
লিখক: হযরত শাহ আবদুল হক মোহাদ্দিসে দেহলভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি

৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি | ২৩ আগস্ট ২০২৬উরসে কাইয়ূমে সানীসমগ্র বিশ্ববাসীকে উরসে কাইয়ূমে সানীর মুবারকবাদ।শাহজাদা ও উত্...
20/08/2026

৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি | ২৩ আগস্ট ২০২৬

উরসে কাইয়ূমে সানী

সমগ্র বিশ্ববাসীকে উরসে কাইয়ূমে সানীর মুবারকবাদ।

শাহজাদা ও উত্তরসূরি ইমামুর রব্বানী, ইমামুল হুদা, সিরাজুল আউলিয়া, উরওয়াতুল উসকা হযরত খাজা মুহাম্মদ মা‘সুম সারহিন্দী ফারুকী কুদ্দিসা সিররুহুল আজিজ

আল্লাহর কাছে রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নাম: হযরত এরবায ইবনে সারিয়াহ (রাঃ)-এর রেওয়ায়েতে, রসূলে করীম (সাঃ) বলেনঃ আল্লাহর কাছে আম...
18/08/2026

আল্লাহর কাছে রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নাম: হযরত এরবায ইবনে সারিয়াহ (রাঃ)-এর রেওয়ায়েতে, রসূলে করীম (সাঃ) বলেনঃ আল্লাহর কাছে আমার নাম তখন থেকে "খাতামুন্নাবিয়ীন" লিখিত ছিল, যখন আদম (আঃ) রুহবিহীন মৃত্তিকা নির্মিত দেহে অবস্থান করছিলেন। আমি তোমাদেরকে আমার সূচনালগ্নের কথা বলছি; আমি হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর এই দোয়ার প্রতীক-

ربنا وابعث فيهم رسولا منهم يتلوا عليهم اياتك -

: পরওয়ারদেগার। তাদের মধ্যে একজন মহান রসূল প্রেরণ করুন, যিনি তাদের কাছে আপনার আয়াতসমূহ পাঠ করবেন।" এরপর হযরত ঈসা (আঃ) আমার সম্পর্কে এই বলে সুসংবাদ দেন-

یا بنی اسرائيل انى رسول الله اليكم مصدق لما بين يدى من التوراة

و مبشرا برسول ياتي من بعدی اسمه احمد -

: হে বনী ইসরাঈল! আমি তোমাদের প্রতি প্রেরিত আল্লাহর রসূল। আমি আমার সম্মুখস্থ কিতাব তওরাতের সত্যায়নকারী এবং আমি একজন রসূলের সুসংবাদদাতা, যিনি আমার পরে আগমন করবেন। তাঁর নাম হবে আহমদ।" এরপর আমার শ্রদ্ধেয়া জননীর স্বপ্নও আমার আগমনের সংবাদ দেয়, যাতে তিনি দেখেন যে তাঁর মধ্য থেকে একটি নূর চমকে উঠল, যার কারণে তাঁর দৃষ্টির সামনে শাম মুলুকের সকল রাজপ্রাসাদ আলোকোদ্ভাসিত হয়ে উঠল।

তওরাতের সাক্ষ্য: তওরাতের পঞ্চম সফর দ্বিতীয় খণ্ডে লিখিত আছে সত্তর জন ইহুদী আলেম কয়েকটি বাক্যের বিষয়বস্তু সম্পর্কে ঐকমত্য ব্যক্ত করেছেন।

বাক্যগুলোর তরজমা নিম্নরূপ:

অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা হযরত মূসা (আঃ) কে সম্বোধন করে বলেন, নিশ্চয়ই আমি বনী ইসরাঈলের জন্যে তাদের ভাইদের মধ্য থেকেই একজন নবী প্রতিষ্ঠিত করব, যে তোমার অনুরূপ হবে। অতঃপর আমার কালাম তার মুখে জারি করব। সে তাদেরকে তাই বলবে, যা আমি আদেশ করব। সে আমার নামে যে সকল কথা বলবে, সেগুলো যে অমান্য করবে, আমি তাকে অবশ্যই শান্তি দিব।"

এ সকল বাক্য থেকে তওরাতের সাক্ষ্য এভাবে বুঝা যায় যে এই উক্তি থেকে প্রতিশ্রুত পয়গম্বরের দুটি বিশেষগুণ বুঝা যায়। এগুলো কেবল আমাদের পয়গম্বর মোহাম্মদ (সাঃ)-এর মধ্যেই পাওয়া যায়, অন্য কারও মধ্যে নয়। প্রথম গুণ এই যে প্রতিশ্রুত পয়গম্বর ইয়াকূব (আঃ)-এর সন্তান বনী ইসরাঈলের মধ্য থেকে হবেন না। কেননা, "তাদের ভাইদের মধ্য থেকে" বলা হয়েছে এবং "তাদের" অর্থ হচ্ছে বনী ইসরাঈল। সুতরাং "তাদের ভাই"-এর অর্থ হবে তাদের চাচাত ভাই অর্থাৎ, হযরত ইসমাঈল (আঃ)-এর সন্তান। বলাবাহুল্য, ইসমাঈল (আঃ)-এর সন্তানদের মধ্যে আমাদের পয়গম্বর মোহাম্মদ মুস্তফা (সাঃ) ছাড়া কারও মধ্যে নবুয়তের চিহ্ন ও আলামত প্রকাশ পায়নি।

দ্বিতীয় গুণ এই যে প্রতিশ্রুত পয়গম্বর হযরত মূসা (আঃ)-এর অনুরূপ দৃঢ়চেতা, শৌর্য-বীর্যশালী এবং শরীয়তধারী হবেন। এ থেকেও একথা পরিস্ফুট যে মূসা (আঃ)-এর পরে মোহাম্মদ রসূলুল্লাহ (সাঃ) ছাড়া কোন শৌর্য-বীর্যশালী ও শরীয়তধারী পয়গম্বর প্রেরিত হননি। যদি খৃস্টানরা দাবি করে যে প্রতিশ্রুত পয়গম্বর হচ্ছেন হযরত ঈসা (আঃ), তবে এর জওয়াব এই যে "তাদের ভাই" শব্দ এ দাবির বিপক্ষে। কেননা, হযরত ঈসা (আঃ) বনী ইসরাঈলেরই একজন ছিলেন। এছাড়া হযরত ঈসা (আঃ) শরীয়তধারী পয়গম্বর নন। কেননা, ইঞ্জীলে স্বয়ং তাঁর এই উক্তি বর্ণিত আছেঃ আমি মূসা (আঃ)-এর শরীয়তে পরিবর্তন সাধন করতে আগমন করিনি; বরং তাকে পূর্ণতা দান করতে আগমন করেছি।

ফারান: তওরাতের উপসংহার অধ্যায়ে একটি আয়াত লিখিত আছে, যার আরবী তরজমা এই:

جاء الله من سينا وأشرف على ساعير واستعين على جبا فاران .

এখানে সিনা অর্থ মূসা (আঃ)-এর তুরে-সিনা। "সায়ীর" প্রাচীন শামদেশের পবর্তমালার একটি স্থান, যেখানে ঈসা (আঃ) অবস্থান করতেন। ফারান অর্থ মক্কার পাহাড়, যেখানে মহানবী (সাঃ)-এর নূর উদিত হয়।

ফারান পর্বতের বক্তা: তওরাত হযরত হাবকূক (আঃ)-এর এই বর্ণনার সত্যায়ন করেছে যে পরওয়ারদেগার ফারানের পর্বতমালা থেকে বর্ণনাশক্তি নিয়ে আগমন করলেন, তখন আহমদ নামের তসবীহে আকাশ মুখরিত হয়ে গেল। তাঁর উম্মতের ক্ষমতা জলে ও স্থলে উভয় জায়গায় সমান হবে। তিনি একটি নতুন গ্রন্থ নিয়ে আগমন করবেন, যার পরিচিতি হবে বায়তুল-মুকাদ্দাসের উৎসবের পর।

তওরাতে মহানবীর উল্লেখ: হযরত শোয়ায়ব (আঃ)-এর কালামে আছেঃ আমি দুজন আরোহীকে দেখলাম, যাঁদের নূরে পৃথিবী উজ্জ্বল হয়ে গেল। তাঁদের একজন ছিল খচ্চর আরোহী এবং অপরজন উষ্ট্রারোহী। খচ্চর আরোহী ছিলেন হযরত ঈসা (আঃ) এবং উষ্ট্রারোহী আমাদের মহানবী (সাঃ)। তিনি আরও বলেনঃ হে আমার সম্প্রদায়। আমি একটি নূরানী মুখমণ্ডল উটের উপর সওয়ার দেখেছি। তিনি আলো বিকিরণে চন্দ্রের অনুরূপ ছিলেন। বনী ইসরাঈলের নামে প্রদত্ত হযরত মূসা (আঃ)-এর উপদেশাবলীর মধ্যে আছেঃ শীঘ্রই তোমাদের ভাইদের মধ্য থেকে একজন নবী আসবেন। তোমরা সকলেই তাঁকে সত্য বলে বিশ্বাস করবে এবং তাঁর কথা শুনবে।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন, আমাদের নবী (সাঃ)-এর নাম তওরাতে এভাবে বিদ্যমান ছিল-

احمد الضحوك القتال يركب البعير ويلبس الشملة يحتوى

بالكسرا سيفه على عاتقه

ضحوك শব্দের অর্থ এই যে তিনি সর্বদা হাস্যরত দৃষ্টিগোচর হবেন, ভদ্র হবেন এবং যে কেউ তাঁর সামনে আসবে, তাতে তাঁর মন সংকুচিত হবে না। কখনও হাসতে হাসতে তাঁর শেষ দাঁতগুলো প্রকাশ পেয়ে যাবে। হুযুর (সাঃ) এরশাদ করেনঃ কৌতুক আমিও করি; কিন্তু কেবল সত্য কথাই বলি। একদিন তিনি এক বৃদ্ধাকে বললেনঃ বৃদ্ধা নারীরা জান্নাতে যাবে না। একথা শুনে বৃদ্ধা কাঁদতে লাগল। হুযুর (সাঃ) বললেনঃ বৃদ্ধারা তখন পর্যন্ত জান্নাত যবে না, একথার অর্থ হচ্ছে, জান্নাতে যাওয়ার সময় কেউ বৃদ্ধা থাকবে না, কুমারী বালিকা হয়ে যাবে। এটা যেন আল্লাহ তাআলার এই উক্তির প্রতি ইঙ্গিত -

فيما رحمة الله لنت لهم ولو كنت فظا غليظا القلب لا تفظوا من حولك .

: আল্লাহর রহমতেই আপনি তাদের জন্যে নম্র হয়েছেন। যদি রূঢ়ভাষী ও কঠোর মনা হতেন, তবে তারা আপনার কাছেও ঘেঁষত না।

قتال -এর অর্থ এই যে হুযুর (সাঃ) খোদাদ্রোহীদের বিরুদ্ধে জেহাদে উৎসাহী

হবেন।

سیفه على عاتقه

-এর অর্থ এই যে তিনি স্বকীয় বীরত্ব ও শৌর্যবীর্যের কারণে সর্বদা সাথে তরবারি বহন করবেন এবং নফসের বিরুদ্ধেও জেহাদ উৎসাহিত করবেন। হযরত আলী (রাঃ) বলেন: যখন তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়ে যেত, তখন আল্লাহর রসূল (সাঃ) শত্রুপক্ষের খুবই কাছে থাকতেন।

যবুরের সাক্ষ্য: যবুর কিতাবে হযরত দাউদ (আঃ) থেকে বর্ণিত আছে-

الهم ابعث مقيم السنة بعد الخترة .

: হে আল্লাহ, শরীয়তবিহীন সময়ের পরে কোন সুন্নাহ প্রতিষ্ঠাকারীকে প্রেরণ করুন। দাউদ (আঃ)-এর পর তওরাতের সুন্নাহ ও শরীয়ত প্রতিষ্ঠাকারী কোন পয়গম্বর আমাদের নবী করীম (সাঃ) ছাড়া কেউ হননি। কেননা, ঈসা (আঃ) তওরাতের সুন্নতের অনুগামী ছিলেন, শরীয়তবিহীন যমানার পর একে পূর্ণতাদানকারী ও প্রতিষ্ঠাকারী ছিলেন না।

ইঞ্জীলের সাক্ষ্য : ইঞ্জীলে হযরত ঈসা (আঃ) এরশাদ করেন, আমি অচিরেই তোমাদের পরওয়ারদেগারের দিকে চলে যাব এবং "ফার্কেলীত" আগমন করবেন। তিনি আমার সম্পর্কে সত্য সাক্ষ্য দিবেন, যেমন আমি তাঁর সম্পর্কে সত্য সাক্ষ্য দিয়েছি। ফার্কেলীত প্রত্যেক বিষয় বিস্তারিত বর্ণনা করবেন। এখানে উদ্দেশ্য আমাদের পয়গম্বর (সাঃ)। ফার্কেলীত শব্দটি আহমদ শব্দের প্রায় সমার্থক। ইউহজ্জান্নার ইঞ্জীল অনুযায়ী এর অর্থ মানুষের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। হযরত ঈসা (আঃ)-এর মাধ্যমে অত্যন্ত বিশুদ্ধরূপে জানা গেছে যে তিনি মোহাম্মদে-আরবী (সাঃ)-এর দ্বীন সম্পর্কে সুসংবাদ দিয়েছেন এবং মোহাম্মদ (সাঃ) সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি তার পরে আসবেন। হাওয়ারীরা যখন এই সুসংবাদ অবগত হয়, তখন তারা তা বিশ্বাস করে নেয়।

প্রাচীন গ্রন্থসমূহে মহানবী (সাঃ)-এর উল্লেখ: হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) বলেন: হুযুর (সাঃ)-এর আলোচনা প্রাচীন গ্রন্থসমূহে নিম্নোক্ত ভাষায় করা হয়েছেঃ তিনি আল্লাহর বান্দা, তাওয়াক্কুলকারী এবং মনোনীত। তিনি কঠোর স্বভাব ও কঠোর মনের অধিকারী নন। তিনি বাজারে চলাফেরা করবেন না এবং মন্দের জওয়াবে মন্দ ব্যবহার করবেন না; বরং ক্ষমা ও মার্জনা করবেন। তিনি জীবনপথের সমস্ত কুপ্রথা ও অসমতা খতম করবেন এবং সাক্ষ্য দিবেন যে আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই।

হযরত আতা ইবনে ইয়াসার (রাঃ) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমরকে (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, তওরাতে রসূলে করীম (সাঃ)-এর কি কি গুণাবলী আছে? তিনি এ প্রশ্নের জবাবে: কোরআন পাকের এই আয়াত তেলাওয়াত করলেন:

يا ايها النبي انا ارسلناك شاهدا ومبشرا ونذيرا

হে নবী, আমি আপনাকে প্রত্যক্ষকারী, সুসংবাদদাতা, খোদায়ী শাস্তির ব্যাপারে সতর্ককারী এবং উম্মতসমূহের আশ্রয়স্থল করে প্রেরণ করেছি। আপনি ছাড়া এমন কোন বান্দা ও রসূল নেই, যাঁর নাম আমি মুতাওয়াক্কিল (তাওয়াক্কুলকারী) রেখেছি। আপনিই এমন সত্তা, যে কঠোর স্বভাব ও কঠোরপ্রাণ নয়, যে বাজারে বাজারে অযথা ঘুরাফেরা করে না এবং মন্দের জওয়াবে মন্দ করে না। বরং ক্ষমা ও মার্জনা করে। আমি আপনাকে ইবরাহিমী মিল্লাতের উপর প্রতিষ্ঠিত করেছি, যাতে মানুষ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু বলে। আপনার বরকতে আমি বধিরদের কান খুলে দিয়েছি, অন্ধকে চক্ষু দান করেছি এবং অন্তরের উপর থেকে কুফরীর যবনিকা সরিয়ে দিয়েছি।

মহানবী (সাঃ)-এর চিত্র ইহুদী আলেমগণের কাছে: হযরত জুবায়র ইবনে

মুতয়িম (রাঃ) বলেন: যখন আমাদের রসূল (সাঃ) প্রেরিত হলেন, তখন তাঁর উপর কোরায়শদের অত্যাচার আমার মোটেই ভাল লাগেনি। তাই আমি সিরিয়ার দিকে চলে। যেতে মনস্থ করলাম। যখন আমি ইহুদী একটি উপাসনালয়ে পৌছলাম, তখন সেখানকার সন্ন্যাসীরা তাদের সরদারকে আমার আগমনের সংবাদ দিল। সরদার তাদেরকে তিনদিন পর্যন্ত আমাকে আপ্যায়ন করার আদেশ দিল। তিনদিন পর সরদার আমাকে ডেকে বলল: তুমি কি হেরেমের অধিবাসী? আমি বললামঃ হ্যাঁ। সে বললঃ যে ব্যক্তি নবুয়ত দাবি করেছেন, তাকে চিন? আমি বললাম: হ্যাঁ। অতঃপর সে আমার হাত ধরল এবং আমাকে উপসানালয়ের অভ্যন্তরে নিয়ে গেল। উপাসনালয়ের ভিতরে অনেক চিত্র রাখা ছিল। সে বলল: দেখ তো এসব চিত্রের মধ্যে সেই নবীর চিত্র তোমার নযরে পড়ে কিনা? আমি অনেক ঘুরেফিরে দেখলাম। কিন্তু আমাদের নবী (সাঃ)-এর চিত্র কোথাও দৃষ্টিগোচর হল না। এরপর সে আমাকে একটি বড় উপাসনালয়ে নিয়ে গেল। সেখানে আরও বেশী চিত্র রক্ষিত ছিল। সে বলল: খুব ভাল করে দেখ, এখানে তাঁর চিত্র আছে কিনা? যখন আমি গভীর দৃষ্টিপাত করে দেখলাম, তখন হুযুর (সাঃ)-এর একটি প্রতিকৃতি দেখতে পেলাম। এর সাথে হযরত আবু বকর (রাঃ)- এর প্রতিকৃতিও দেখলাম, যিনি হুযুর (সাঃ)-এর কাঁধ ধরে রেখেছিলেন। সরদার আমাকে জিজ্ঞাসা করল : তুমি কি হযরত আবু বকরের প্রতিকৃতি দেখেছ? আমি বললাম, হ্যাঁ। এরপর আমি মনে মনে বললামঃ আমি প্রতিকৃতি শনাক্ত করব না; বরং জানতে চাইব সে কি বলে। সরদার হুযুর (সাঃ)-এর প্রতিকৃতির দিকে ইশারা করে বলল: এটি নবীর প্রতিকৃতি। আমি বললামঃ হ্যাঁ, আমি আল্লাহর নামে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে ইনিই তিনি। সে-ও বললঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে ইনি তোমাদের পয়গম্বর। তাঁর পরে রয়েছে তাঁর খলিফার প্রতিকৃতি। অতঃপর সে হযরত আবু বকরের প্রতিকৃতির দিকে ইশারা করল। আমি বললামঃ এ প্রতিকৃতির অনুরূপ কোন কিছু আমি কখনও দেখিনি। সরদার বলল: তুমি কি আশংকা কর যে শত্রুরা তাকে মেরে ফেলবে? আমি বললামঃ আমার তো ধারণা এই যে এ পর্যন্ত মক্কাবাসীরা তাঁকে হত্যা কাজটি সমাপ্ত করে ফেলেছে। সরদার আল্লাহর কসম খেয়ে বলল: মক্কাবাসীরা তাঁকে নয়; বরং তিনি মক্কাবাসীদেরকে পরাভূত করবেন, যারা তাঁকে হত্যা করার ইচ্ছা করবে। রব্বুল-ইযযত সর্বাবস্থায় তাঁকে বিজয়ী করবেন।

উৎস: শাওয়াহেদুন নবুওত
মূল লিখক: আল্লামা আবদুর রহমান জামী নক্বশেবন্দী রহমাতুল্লাহি আলাইহি
অনুবাদক: মাওলানা মুহিউদ্দীন খান

৩রা রবিউল আউয়াল,খাজায়ে খাজেগান, নক্বশায়ে নক্বশবন্দ, ইমামুত ত্বরীকত, গাউসুল খালক ওয়াল খলিফা হযরত সাইয়্যেদ খাজা বাহাউদ্দিন...
17/08/2026

৩রা রবিউল আউয়াল,
খাজায়ে খাজেগান, নক্বশায়ে নক্বশবন্দ, ইমামুত ত্বরীকত, গাউসুল খালক ওয়াল খলিফা হযরত সাইয়্যেদ খাজা বাহাউদ্দিন মুহাম্মদ নক্বশেবন্দ আল-বুখারী (রঃ) এর বেসাল দিবস।
---------------------------★--------------------------

আফদ্বালুল উম্মাত, ইমামুস সিদ্দিকীন, আমিরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যেদুনা আবু বকর সিদ্দিক (রা.) এর মাধ্যমে সিলসিলায়ে নক্বশেবন্দীয়া'র সূচনা। হযরত সাইয়্যেদুনা আবু বকর সিদ্দিক (রা.) এর পর তাঁর প্রভাবাদিন কিছু আধ্যাত্মিক শিক্ষা দ্বারা ৭ জন বড় বড় আউলিয়ার মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে এই ত্বরীকা (যদিও তখন নক্বশেবন্দীয়া ত্বরীকার নাম 'ত্বরীকায়ে তাইফুরীয়া' "ত্বরীকায়ে খাজেগানে আউলিয়া" প্রমুখ।

এই ৭ ব্যক্তির আধ্যাত্মিক মর্যাদা এতই সুউচ্চ
ছিল যে, তৎকালীন সকল আউলয়াগণ তাঁদেরকে নেতা হিসেবে মেনে নিয়েছেন। এই ৭ জনের মধ্যে প্রথম ইমাম ছিলেন খাজা আব্দুল খালেক গেজদাওয়ানী (রা.) এবং সপ্তম ইমাম ছিলেন সাইয়্যেদুনা খাজা বাহাউদ্দিন নক্বশেবন্দ বুখারী (রা.)। অবশেষে সপ্তম ইমাম তথা সাইয়্যেদ খাজা বাহাউদ্দিন নক্বশেবন্দ বুখারী (রা.)
এর নামানুসারে এই ত্বরীকা নক্বশেবন্দীয়া ত্বরীকা নামে পরিচিতি লাভ করে এবং আজ পর্যন্ত এই নামেই প্রসিদ্ধ।

কথিত আছে, খাজা বাহাউদ্দীনের জন্মের অনেক আগেই তৎকালীন প্রসিদ্ধ আলেম মোহাম্মদ বাবা সাম্মাসী ভবিষ্যত বাণী করেছিলেন, কাসরে আরেফানে এমন একজন জন্মগ্রহণ করবে যে শরিয়ত ও ত্বরীকতের খ্যাতিমান ইমাম হবে। এমন কি তিনি শেখ বাহাউদ্দিনের পিতাকে এও বলেছিলেন, তোমার ঘরেই জন্মাবে সেই গৌরবময় সন্তান যে আমার সিলসিলাকে আলোকিত করবে।

কথা মতো জন্মের তৃতীয় দিন বাহাউদ্দিনকে কোলে নিয়ে তার পিতা সাম্মাসীর দবরাবে হাজির হন। সাম্মাসী শিশুটিকে কোলে নিয়ে তার মুরিদ ও খলিফা আমীর কোলাল (রা.) কে বলেন, ‘এ শিশু পুত্র সম্পর্কে তোমার প্রতি আমার হুকুম হল- তুমি এর আধ্যাত্মিক শিক্ষার ভার গ্রহণ করবে। এর তালিম ও তরবিয়তের ব্যবস্থা এবং একে বেলায়েতের শীর্ষস্থানে পৌঁছে দিবে।’

একদিন বাহাউদ্দিন তার পীর সাম্মাসীর সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। পথে মুখ ঢেকে জনৈক ব্যক্তি তাঁর সাথে কথা বলতে চাইলো। কিন্তু তিনি তা আমলে নিলেন না। সোজা পীরের দরবারে হাজির হলেন।

সাম্মাসী বললো, ‘পথে তোমার সাথে যার সাক্ষাত হল তাঁর সাথে কথা বল নাই কেন? তিঁনি ছিলেন হজরত খিজির (আ.)।’ উত্তরে বাহাউদ্দিন বললেন, ‘হুজুর আমি আপনার কাছে আসছিলাম, এজন্য অন্য কোন দিকে লক্ষ্য করিনি।’ মুর্শিদের প্রতি এই ভক্তি দেখে সাম্মাসী মুগ্ধ হলেন।

হযরত খাজা বাহাউদ্দিন মোহাম্মদ নকশবন্দ (রা.) স্বপ্নযোগে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং আরীফ বিল্লাহ, মাহবুব-ই-সামদানী হযরত খাজা আব্দুল খালেক গাজদাওয়ানী এর নিকট হতে ফয়েজ ও বরকত এবং বেলায়েত এর উচ্চ মযাদা লাভ করেন।

মাকাসাতীম আমর-হ দর কুয়ে তু
শায়আল্লাহ আয্জিমালে কুদিয়ে’-তু ;
দাস্ত বাক্শা জানিব যানবীলে মা
আফরী কর দাস্ত ও বিরুয়ে তু;

আমলের দিক হতে দরিদ্রের বেশে,
তোমার দুয়ারে আজ দাঁড়ালাম এসে।
দয়া কর, জাহের কর দীদারে জামাল,
তোমারই অনুকম্পা যাচে মিসকিনের হাল।
শতমুখী প্রশংসা প্রভু, কি যে রহমত তোমার।
কি খুবসুরত, কি মধুর তোমার দীদার।

আল ফাতিহা।

আল্লাহ পাক এই মহান সাখসিয়াতের রুহানী ফয়ুজাত আমাদের নসীব করুন। আল্লাহুম্মা আমিন।

হযরত মোজাদ্দেদ আলফেসানী রহমাতুল্লাহি আলাইহির পবিত্র ওরস মোবারকের ২০১৬ সালের সারহিন্দ শরিফের কিছু হৃদয়ছোঁয়া স্মৃতি।
12/08/2026

হযরত মোজাদ্দেদ আলফেসানী রহমাতুল্লাহি আলাইহির পবিত্র ওরস মোবারকের ২০১৬ সালের সারহিন্দ শরিফের কিছু হৃদয়ছোঁয়া স্মৃতি।

আজ হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রোহীমাহুল্লাহ-এর ওফাত দিবস (উরস মোবারক)। উম্মাতে মুসলিমার ঈমান ও সুন্নাহ পুনরুজ্জীবনের এক আ...
11/08/2026

আজ হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রোহীমাহুল্লাহ-এর ওফাত দিবস (উরস মোবারক)। উম্মাতে মুসলিমার ঈমান ও সুন্নাহ পুনরুজ্জীবনের এক আলোকবর্তিকা, দ্বিতীয় সহস্রাব্দের মহান সংস্কারক (মুজাদ্দিদ) হযরত শেখ আহমদ সেরহিন্দ (রহ.)-এর জীবন ও সংগ্রামের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস নিচে তুলে ধরা হলো:
জীবনী ও সংস্কার আন্দোলন
জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবন: ১৫৬৪ খ্রিস্টাব্দে (৯৭১ হিজরী) ভারতের পাঞ্জাবের 'সেরহিন্দ' গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শেখ আহমদ সেরহিন্দ (রহ.)। শৈশব থেকেই অত্যন্ত মেধাবী এই মহাপুরুষ কুরআন, হাদিস, তাফসির ও তাসাউফ শাস্ত্রে অগাধ পণ্ডিত্য অর্জন করেন।
দীন-ই-ইলাহির বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক সংগ্রাম: সম্রাট আকবর যখন ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের পরিপন্থী 'দীন-ই-ইলাহি' নামক মনগড়া ধর্ম প্রবর্তন করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছিল, তখন শেখ আহমদ সেরহিন্দ (রহ.) সত্যের ঝাণ্ডা তুলে ধরেন। রাজকীয় ভয়ভীতি উপেক্ষা করে তিনি ইসলামের খাঁটি আকীদাহ ও সুন্নাহর পক্ষে শক্ত অবস্থান নেন।
কারাবরণ ও দ্বীনের বিজয়: আকবরের পর সম্রাট জাহাঙ্গীর ক্ষমতা গ্রহণ করলে দরবারের কিছু স্বার্থান্বেষী মহল শেখ আহমদ সেরহিন্দ (রহ.)-কে গোয়ালিয়র দুর্গে বন্দি করে। দুই বছরেরও বেশি সময় তিনি কারারুদ্ধ থাকেন, কিন্তু দ্বীনের নীতি থেকে একচুলও সরে আসেননি। পরবর্তীতে সম্রাট জাহাঙ্গীর তাঁর ভুল বুঝতে পেরে তাঁকে সসম্মানে মুক্ত করেন এবং তাঁর অনুগত শিষ্যে পরিণত হন।
কেন তিনি 'মুজাদ্দিদে আলফে ছানী'? বিশ্বখ্যাত আলেম ও সূফী হযরত মোল্লা আলী কারী (রহ.) সহ তৎকালীন শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কেরাম তাঁকে "দ্বিতীয় সহস্রাব্দের সংস্কারক" বা মুজাদ্দিদে আলফে ছানী উপাধিতে ভূষিত করেন। হিজরী দ্বিতীয় সহস্রাব্দের সূচনালগ্নে পুরো ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলামের প্রকৃত রূপ ফিরিয়ে আনতে তাঁর ভূমিকা ছিল অনবদ্য।
মাকতুবাত শরীফ: তাঁর রচিত চিঠিগুলোর সংকলন 'মাকতুবাত-ই-ইমাম রব্বানী' তাসাউফ, সুন্নাহর অনুসরণ এবং ইসলামি আকীদার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হয়।
হিজরী ১০৩৪ হিজরীর ২৮ সফর (১৬২৪ খ্রিস্টাব্দ) এই মহান অলী ও সংস্কারক এই নশ্বর পৃথিবী ত্যাগ করেন।
আজকের এই দিনে পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালার দরবারে প্রার্থনা—তিনি যেন এই মহান সংস্কারকের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করেন এবং আমাদের তাঁর রেখে যাওয়া সুন্নাহভিত্তিক জীবনের পথ অনুসরণের তৌফিক দান করেন। আমিন।

নক্বশেবন্দীয়া মোজাদ্দেদীয়া তরীকার সুলুক(আল্লাহ্ তা'য়ালা নৈকট্য অর্জনের রাস্তায় চলাকে সুলুক বলা হয়)এই তরীকার সুলুকঃদশ লতি...
10/08/2026

নক্বশেবন্দীয়া মোজাদ্দেদীয়া তরীকার সুলুক

(আল্লাহ্ তা'য়ালা নৈকট্য অর্জনের রাস্তায় চলাকে সুলুক বলা হয়)

এই তরীকার সুলুকঃ

দশ লতিফাসহ ২৯ দায়রা তায় করাকে এই তরীকার সুলুক বলা হয়। সংক্ষিপ্ত মারিফাত বিস্তারিত হওয়া এবং দলিল মারিফাত কাশফি হওয়াই সুলুক তায় করার উদ্দেশ্য। বাতিল মা'বুদসমূহের ইবাদত হতে মুক্তি হাসিল করা ও শরীয়াতের আহকাম আসানীর সাথে আদায় করার উদ্দেশ্যে নফস আম্মারাকে পাক করা ও সুলুক তায় করার উদ্দেশ্য লিখেছেন। হযরত মুজাদ্দেদে আলফে ছানী (রাঃ) হতে প্রচলিত নক্শ বন্দিয়া তরিকাকে নক্শ বন্দিয়া মুজাদ্দেদিয়া তরীকা বলা হয়। তাঁর মত অনুযায়ী আব, আতস, খাক, বাদ ও নফস এবং বলব, রূহ, সের, খফি আখফা এই দশ লতিফার দ্বারা মানুষ তৈরী করা হয়েছে। তন্মধ্যে আব, আতস, খাক, বাদ ও নফস এই পাঁচ লতিফাকে আলমে খলক এবং কলব, রূহ, সের, খফি ও আখফা এই পাঁচ লতিফাকে আলমে আমর বলা
হয়। এই তরীকার বুজর্গানেকিরাম তালিবিনকে প্রথম কলব হতে ছবক দেয়া শুরু করেন। লতিফায়ে কলব বাম দুধের দুই আঙ্গুল নিচে। যিকিরের নিয়ম এই যে, দুই জানু হয়ে বসে জিহ্বাকে উপরের তালুর সাথে লাগিয়ে রাখবে এবং কলবকে দুনিয়াবী সকল খেয়াল হতে মুক্ত করে শুধুমাত্র আল্লাহকে হাজির জেনে খেয়ালের সাথে কলবের মধ্যে আল্লাহ্ আল্লাহ্ যিকির করবে এবং খাইতে, শুইতে ও অন্যান্য সময় সর্বদা উক্ত মুকামে যিকির করতে থাকবে। এছাড়াও নির্জনে বসে বর্ণিত নিয়মে এই কলবি যিকির হিসাব করে তসবিহ দ্বারা প্রত্যহ কমপক্ষে পঁচিশ হাজার বার আদায় করবে। এভাবে যিকির করতে করতে সেখানে যিকির জারি হয়ে কলব ফানা হয়ে যাওয়াই এই মুকামের সবক পূর্ণ হওয়া নিশান। এ স্থান হতে চার কার্য জরুরী হয়ে পড়ে- ১) তাহাজ্জুদ নামায, ২) ইশরাক নামায, ৩) অজিফা ও ৪) মুরাকাবা।

লতিফায়ে রূহ ডান দুধের দুই আঙ্গুল নিচে। লতিফায়ে সের বাম দুধের দুই আঙ্গুল উপরে সামান্য সিনার দিকে। লতিফায়ে খফি ডান দুধের দুই আঙ্গুল উপরে সামান্য সিনার দিকে। লতিফায়ে আখফা সিনার মধ্যভাগে। লতিফায়ে নফস কপালের মধ্যভাগে। এই সমস্ত মুকামে কলবের নিয়ম অনুযায়ী যিকির করবে। লতিফায়ে সুলতানুল আজকার এর মুকাম সমস্ত শরীর। এই সবকে মাথা হতে পা পর্যন্ত সমস্ত শরীরের দিকে খেয়াল করে পূর্বের নিয়মে আল্লাহ্ আল্লাহ্ যিকির করবে। অল্প সময়ের মধ্যে আল্লাহর ফজলে সারা শরীরের পশমে পশমে আল্লাহর পবিত্র নাম জারি হয়ে যাবে। এই স্থানে আব, আসত, খাক, বাদ এই চার লতিফা এক হয়ে যায়। এই দশ লতিফার এক এক লতিফা এক হলে সাত হাজার পর্দা এক হয়ে যায়। সুলতানুল আজকার এক লতিফা হিসাবে প্রত্যেক লতিফায় দশ হাজার করে সত্তর হাজার পর্দা একার হয়ে যায়।

তারপর মুরাকাবা আরম্ভ হবে। মুরাকাবা তারাকুব শব্দ হতে এসেছে। তার অর্থ ইন্ডিজারী। মুরাকাবা অবস্থায় আল্লাহপাকের ফয়েজ রহমতের ইন্তিজারী করা হয় বলেই তাকে মুরাকাবা বলা হয়। প্রথম মুরাকাবার নাম মুরাকাবায়ে আহাদ্দিয়াত। তার নিয়ত হলো- ফয়েজ মি আইয়াদ, আজ জাতেক জামে জমিয়ে সেফাতান্তে; ওয়ামানাজ্জাহ্ আজ্জ জমিয়ে নুকসানাত বর লতিফায়ে কলব বয়ায়ে মুর্শিদিমান।

সকাল বিকাল দুই বেলা হালকার সময় এ নিয়ত পাঠ করে বসবে। কিছু সময় মুর্শিদের ধ্যান করে তারপর তা ত্যাগ করে আল্লাহপাকের ধ্যান করবে। অস্থির লাগলে কিছু সময় লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু অথবা আল্লাহ্ আল্লাহ শব্দের খেয়ালি যিকির করবে। হালকাতে অনেক সময় পর্যন্ত খতরা না আসা বা কম আসাই মুরাকাবা পূর্ণ হওয়ার নিশান। খতরা বহু রকম আছে তন্মধ্যে তিন প্রকার খতরা আছে যা দূরীভূত করা নিতান্তই জরুরী।

খতরায়ে কলবি ও খতরায়ে নফসি। খতরায়ে কলবির দাওয়া অত্যাধিক যিকির করা, নিন্দ্রাকালে কিংবা জাগ্রত অবস্থায় কোন মুহূর্তে আল্লাহ্পাকের যিকির হতে গাফিল না থাকা।

অপর লোক হতে দূরে থাকো ও অর্ধেক পেট খাদ্য খাওয়া। খতরায়ে নফছির দাওয়া দম বন্ধ রেখে অতিরিক্ত নফিইসবাত আদায় করা এবং প্রত্যেক কাজে নফসের বিরুধিতা করা ও মনে মনে যিকরে খফির সাথে রোনাজারি করা এবং প্রত্যেক মুকােেমর সম্বন্ধ হিসাবে মুরাকাবা করা।

হজরত শাহ্ সূফী আমানত খান (র.) এর খলিফা হজরত শাহ্ সূফী মুহাম্মদ দায়েম (র.)আল্লাহতালার মকবুল বান্দা হজরত শাহ সূফী বখতেয়ার ...
09/08/2026

হজরত শাহ্ সূফী আমানত খান (র.) এর খলিফা হজরত শাহ্ সূফী মুহাম্মদ দায়েম (র.)

আল্লাহতালার মকবুল বান্দা হজরত শাহ সূফী বখতেয়ার মাহী সওয়ার (র.) সুদূর আরব দেশ থেকে অলৌকিক শক্তিবলে চট্টগ্রাম এসেছিলেন। তিনি সাগরের জীব মাছের পিঠে চড়ে এখানে আগমন করেছেন বলে তাঁর এমন নামকরণ হয়েছে। এদেশে আগমনের পরে তিনি কালুরঘাট ব্রীজের নিকটবর্তী হালদার তীরে কিছুকাল অবস্থান গ্রহণ করেন। অতঃপর সন্দ্বীপের রূহানী নামক স্থানে এসে তিনি বসতি স্থাপন করেন। চট্টগ্রামের অদূরে বঙ্গোপসাগরের বুক চিড়ে সন্দ্বীপ, বহু শতাব্দী ধরে বিরাজ করছে এক খন্ড মানুষের বাসোপযোগী দ্বীপ হিসেবে। যুগ যুগ ধরে সাগরের হিংস্র থাবা পড়েছে এই ক্ষুদ্র দ্বীপের উপর। কিন্তু মানুষের সাথে এ দ্বীপের আত্মিক সম্পর্ক ছিলো বড়ই উদার। তাই ঝড়-ঝঞ্ঝাতেও তাঁরা আঁকড়ে থেকেছে জন্মভূমির মাটি। সৈয়দ জিয়া শাহ্ এবং সৈয়দ জাহান শাহ্' নামে তাঁর ঔরশজাত দুটি সন্তান ছিলো। ইসলাম প্রচারের নিমিত্তে সৈয়দ জাহান শাহ্ মালয়েশিয়া গিয়ে ফিরে আসেননি। তথায় তাঁর সমাধি বিদ্যমান। অপর পুত্র সৈয়দ জিয়া শাহ্, সূফী মুহাম্মদ দায়েম (র.) এর পূর্ব পুরুষ ছিলেন। চট্টগ্রাম শহরে শাহ্ সূফী আমানত খান (র.) এর আদালত সংক্রান্ত অলৌকিকত্ব প্রকাশ হয়ে পড়লে তাঁর ছোঁয়া বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের মনে প্রভাব ফেলে। বাল্যকালে সূফী মুহাম্মদ দায়েম রীতিমতো পাঠ্যাভ্যাসে ব্যস্ত ছিলেন। কিন্তু ইসলামাবাদের এই সূফীর সুখ্যাতি তাঁর মনে অশেষ কৌতূহলের সৃষ্টি করে। একবার এ স্বনামধন্য সূফীকে দেখার বাসনা, সাক্ষাত লাভের স্পৃহা তাঁর মনে জাগলো। এরপর থেকে হজরত (র.) এর জন্যে সামান্য দুর্বলতা এবং ঔৎসুক্য তাঁর মনে ছায়া ফেলে। তদীয় বাসস্থান ফেনী ও চট্টগ্রাম জেলার মধ্যবর্তী ধুম এর পার্শ্ববর্তী খাইয়ারা এলাকার কোমল মাটি থেকে তাঁর মন আকর্ষিত হলো সবুজ বনানী ঘেরা চট্টগ্রামের খানকাহ্ আমানতিয়ার পানে। প্রিয়তমকে মূহূর্তের জন্যে না দেখলে প্রেমাস্পদের যেমন অবস্থা হয় তাঁর মন তেমন ভাবে ছটফট করতে থাকে। তিনি সহসা উদভ্রান্তের মতো গৃহ ত্যাগ করলেন।

হৃদয়ে প্রস্ফুটিত এক অদেখা অচেনা জ্যোতির্ময় পুরুষের মোবারক চেহারা। মাদ্রাসার কিতাবে যা কিছু নেই তার সবই যেন আত্মিক জগতে রয়ে গেছে। চট্টগ্রাম শহরে এসে অনেক খোঁজ করলেন। কিন্তু নিজেকে আত্মগোপন করে চলতেন বলে শাহ্ সূফী আমানত খান (র.) এর সন্ধান পাওয়া খুব সহজ ব্যাপার ছিলো না। এতবড় একজন মহান দরবেশ হয়েও তিনি অত্যন্ত সাধারণভাবে জীবন যাপন করতেন।

ভক্তদের নিয়ে আসর জাঁকিয়ে বসে নিমন্ত্রণ গ্রহণ করা তাঁর আদত ছিলো না বলেই তৎকালীন ধনী লোকদের আসরে তাঁকে খুঁজে পাওয়া যেতনা। জুমা মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে সূফী মুহাম্মদ দায়েম সত্যের সন্ধান পেলেন। হজরত (র.) একজন জেদী পুরুষ পেয়ে দৃঢ়ভাবে আলিঙ্গন করলেন এল মারিফাতের অঙ্গনে নতুন এক পথিককে। এ আলিঙ্গন বুঝি আশেকের সাথে মাশুকের আলিঙ্গন।

সূফী মুহাম্মদ দায়েম (র.) তাঁর মুর্শিদ শাহ্ সূফী আমানত খান (র.) এর খেদমতে দীর্ঘ বারো বৎসর কাটান। আত্মিক উন্নতির প্রসারের ফলে তাঁর অন্তরের পর্দাগুলো উন্মুক্ত হয়ে গিয়েছিলো। হজরত (র.) এজন্যে তাঁকে খুবই স্নেহ করতেন। তাঁর আধ্যাত্মিক উৎকর্ষতার জন্যে তিনি মুর্শিদের প্রিয়পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন। একদিন ফজর নামাজের শেষে মুরীদান পরিবেষ্টিত হয়ে হজরত (র.) আধ্যাত্মিক আলাপ আলোচনায় মগ্ন ছিলেন, মাঝে মধ্যে তিনি তাঁদের কাছে আত্মিক জগতের নানা ঘটনা উল্লেখ করছিলেন। অন্তর দৃষ্টিতে একটি ঘটনা প্রত্যক্ষ করে তিনি বললেন, 'দুই ক্রোশ দূরত্বের মধ্যে এক বৃদ্ধা লাউ গাছের লতা থেকে লাউ ছিড়ে নিচ্ছে। বৃদ্ধা এই ভোরে সন্তানকে মায়ের কোল থেকে কেড়ে নিয়ে যাচ্ছে।' সূফী মুহাম্মদ দায়েম (র.) স্বীয় আধ্যাত্মিক উৎকর্ষতার কারণে এ ঘটনা অন্তর দৃষ্টিতে প্রত্যক্ষ করতে পারলেন। তিনি সহসা বলে উঠলেন 'এই বুড়ি। লাউ আমার হাতে দে!' অমনি আল্লাহ্ তাআলার কুদরতে বৃদ্ধার পথ রোধ হয়ে মুহূর্তেই তাঁর হাতে লাউটি এসে পড়ে। লাউ হাতে নিয়ে দায়েম (র.) অতঃপর বললেন, 'এই লাউ! তুমি মায়ের কাছে ফিরে যাও।' লাউটি অতঃপর আচানক গাছের লতায় গিয়ে লেগে গেলো। এ অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে হজরত (র.) অত্যন্ত অগ্নিশর্মা হলেন এবং অনেকক্ষণ চুপ থেকে আল্লাহপাকের ফয়সালার প্রতীক্ষা করতে থাকলেন। অতঃপর দায়েমের কাছ থেকে সমস্ত আধ্যাত্মিক নেয়ামত কেড়ে নিলেন।

হজরত শাহ্ সূফী আমানত খান (র.) শিষ্যের এহেন কার্য দেখে তীব্র ভাষায় ভর্ৎসনা করে বললেন', এটা আদবের পরিপন্থী, এক্ষুনি এখানে থেকে নিষ্ক্রান্ত হও।' সূফী মুহাম্মদ দায়েম (র.) স্বীয় কৃতকার্যের জন্য লজ্জিত হয়ে ক্ষমা ভিক্ষে চাইলেন। কিন্তু হজরত (র.) এর ক্ষোভ কিছুতেই প্রশমিত হলো না বরঞ্চ উপস্থিত অন্যান্য মুরীদগণ ও তাঁর জন্যে সুপারিশ করতে সাহস করলেন না। অনন্যোপায় হয়ে নিজের ভুলের মাশুল কাঁধে নিয়ে তিনি খানকাহ্ শরীফ থেকে নিষ্ক্রান্ত হলেন। সূফী মুহাম্মদ দায়েম (র.) স্বীয় মুর্শিদের ক্ষমা লাভে ব্যর্থ হয়ে উন্মাদ প্রায় অবস্থায় লক্ষ্মী বাজার মিয়া ছাহেবের ময়দানে ছুটে গেলেন। খানকাহ শরীফে হজরত আবদুর রহিম শহীদ (র.) এর ভ্রাতুষ্পুত্র হজরত শাহ্ সূফী নাজমুদ্দীন (র) এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে কান্নাকাটি করলেন। হজরত দয়া পরবশ হয়ে সূফী ছাহেবকে বিহারের পাটনা যেতে পরামর্শ দিলেন। পাটনার মিথন ঘাট দরবার শরীফে তখন আধ্যাত্মিক জগতের প্রাণ পুরুষ হজরত শাহ্ সূফী মুনএম পাক বাচ (র) সমাসীন ছিলেন। হজরত শাহ্ সূফী আমানত খান (র.) এর সাথে অত্যন্ত অন্তরঙ্গ সৌহার্দ্যতার কারণে তিনি গভীর রূহানী বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন বিধায় হজরতের ক্রোধ প্রশমিত করার জন্যে সেই মাহেন্দ্রক্ষণে তিনিই উপযুক্ত ছিলেন। অতঃপর তাঁর আত্মিক উৎকর্ষতাকে চরম রূপ দেবার তাগিদে তিনি বিভিন্ন দরবেশের কাছে তাঁদের শিষ্যত্ব লাভের চেষ্টা করলেন। কিন্তু প্রত্যেকেই তাঁকে এ বলে ফিরিয়ে দিলেন যে, 'বাবা আমানতকা খেয়ানত হামছে না হোগা।' ভারতবর্ষের স্বনাম ধন্য সূফীদের খানকাহ সমূহে ঘুরে ঘুরে তিনি সামান্য আশ্রয় লাভের জন্যে পাগলপ্রায় হলেন। অবশেষে বিহারের ফুলওয়ারী শরীফে হজরতে নেয়ামত উল্লাহ (র.) এর কাছে গেলে তিনি শাহ্ আমানত (র) এর বিশিষ্ট মুরীদ হিসেবে তাঁকে অফুরন্ত ফয়েজ দান করেন। কিন্তু শিষ্যত্বে বরণ করতে অস্বীকৃতি জানান। এভাবে পথ চলতে চলতে একদিন পাটনায় মিথন ঘাট নামক স্থানে হজরত মুনএম পাক্ বাচের দরবারে গিয়ে পৌঁছেন তিনি।

চেপে রাখতেন, তথ্যাপি কারো জানতে বাতী ছিলোনা যে, হাদি শাহ আমানতের প্রধানতম শিষ্য। শিষ্যত্ব গ্রহণের জন্যে সায়েম (র.) এখানে ও প্রার্থনা জানান। কিন্তু মুনাম পাহ্ ব্যাচ (ব.) বললেন, 'ভাই আমার চাইতে অনেক উচ্চ গোপানে আসীন। তুমি বরং একদিন এখানে থেকে পরদিন চলে যাও সেখানে। লায়েম (র.) বুঝতে পারলেন ব্যাপারটা রূহানী জগতে জানাজানি হয়ে গেছে। অগত্যা তিনি বলেই ফেললেন, 'আমার জন্যে সেখানে যাওয়া নিষেধ আছে। মুনএম পাত বাঙ (র.) তাঁকে আশ্বাস দিয়ে বললেন 'আমি পাঠাচ্ছি তুমি যাও।' পরদিন ভোরে উঠে সুফী মুহাম্মদ সায়েম (র.) পাটনা ত্যাগ করলেন, সাথে নিয়ে চললেন অগণিত বুজুর্গের বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বরকত ও নেয়ামত।

একদিন সন্ত্রস্ত ও ভীত পদক্ষেপে সূফী মুহাম্মদ দায়েম (র.) পীর ছাহেবের খানকাহ শরীফে ঢুকে দেখতে পেলেন হজরত সামান্য অসুস্থতার কারণে শয্যাশায়ী। হজরত শাহ্ সূফী আমানত খান (র.) এর শয্যাপাশে একখানা খালে নানারকমের ফলমূল সাজানো রয়েছে। তিনি শান্ত কন্ঠে দায়েমকে বললেন, 'তোমার ভাইকে নিয়ে ফলগুলো খেয়ে ফেলো।' (এখানে ভাই বলতে হজরতের একমাত্র পুত্র শাহজাদা আনোয়ার গানকে বুঝানো হয়েছে) কাউকে আশে-পাশে দেখতে না পেয়ে তিনি একাই সমস্ত ফল খেয়ে ফেললেন। এতে পীর ছাহেব মৃদু হেসে তাঁকে আলিঙ্গনাবদ্ধ করে সমস্ত বাতেনী নেয়ামত পুনরায় ফিরিয়ে দিয়ে বললেন 'আল্লাহ চাহেতো সে ভিন্নভাবে পাবে।' সূফী মুহাম্মদ দায়েম বুঝতে পারলেন তাঁকে বাস্তবিকই ক্ষমা করা হয়েছে। এ ঘটনার পরে হজরত মুনএম পাক বাচের প্রতি তাঁর অন্তর কৃতজ্ঞতায় ভয়ে গেলো। খানকাহ্ আমানতিয়ার প্রধান শিষ্যের লুপ্ত মর্যাদা ফিরে পেয়ে সূফী মুহাম্মদ দায়েম (র.) পীর ছাহেবের খেদমতে খানকাহ শরীফে অবস্থান করে কঠোর রিয়াজত এবং মোশাহেদায় মগ্ন রইলেন। তাঁর অসাধারণ প্রতিভার কারণে মুর্শিদের কৃপা দৃষ্টি তাঁর উপর পতিত হলে তিনি মা'রিফারের উচ্চতর নিসবত হাসিলে সক্ষম হন। এর কিছুদিন পরেই হজরত (র.) তাঁকে কাদেরীয়া, চিশতীয়া, মুজাদ্দেদীয়া এবং মাদারীয়া তরীকার খেলাফাত প্রদান করেন। এরপর থেকে হজরত (ব.) এর অফুরন্ত ফয়েজ ও ঐশী করুণার ধারা তাঁর প্রতি বর্ষিত হতে থাকলো। হজরত মুনএম পাক্ বাচ (র.) অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে ব্যাপারটা উপলব্ধি করলেন। হজরত শিষ্য পরিবেষ্টিত হয়ে আধ্যাত্মিক আলোচনায় মগ্ন ছিলেন। অকস্মাৎ সরবে বলে উঠেন 'বাঙ্গাল ছে এক শেরে নারা আ রাহে হ্যায়। ওহ্ মুনএম কা ছব খাজানা লে জায়েগা।' সূফী মুহাম্মদ দায়েম (র.) যদিও এতদিন সকলের কাছে আসল ঘটনা
তিনি খানকাহ শরীফে অবস্থান করে ধীরে ধীরে আধ্যাত্মিক সাধনার চরম সোপানে উপনীত হতে থাকলেন।

আধ্যাত্মিক কর্মকান্ডে চরম উৎকর্ষতা এবং হজরত মুত্রম পাক (র.) প্রদত্ত ফয়েজের ফলগুধারায় অভিষিক্ত সূফী মুহাম্মদ দায়েমের উচ্চতম মাকামে উপনীত হওয়ার ঘোষণা দিয়ে স্বীয় মুর্শিদ হজরত শাহ্ সূফী আমানত খান (র.) কিছুদিন পর তাঁকে নির্জনে ডেকে খানকাহ্ শরীফের পশ্চিমে অবস্থিত পুস্করিণীতে (বর্তমানে লালদীঘি) যেতে আদেশ করলেন। এ কথা শুনার পর থেকে তাঁর অন্তরে প্রিয়তমের বিচ্ছেদের সুর বেজে উঠে। তিনি বুঝতে পারলেন এবার খানকাহ্ শরীফের মায়া ত্যাগ করে একাকী সাধনার জগতে প্রবেশ করতে হবে। পীর ছাহেবের কথানুযায়ী সূফী মুহাম্মদ দায়েম (র.) সেখানে গিয়ে দেখতে পেলেন পীর ছাহেব তাঁর জন্যে অপেক্ষা করছেন। অবশেষে তাঁকে পানিতে নামতে আদেশ করলেন। সূফী ছাহেব মুর্শীদের নির্দেশে পানিতে নামলেন। হজরত আদেশ করলেন, 'মার ডুব উঠ আজিমপুর।' পীর ছাহেবের নির্দেশে ডুব দিয়ে পানি থেকে মাথা উঠিয়ে বুঝতে পারলেন এটাই আজিমপুর। ১৭৫৯ সনে তিনি লালবাগের কেল্লার পশ্চিমে আমলীগোলা খান মোহাম্মদের মসজিদে অবস্থান করেন। ক্রমে ভক্তের সংখ্যা বেড়ে যেতে থাকলে তিনি ১৭৬২ সনে একটি কাঁচা মসজিদ নির্মাণ করেন। পরবর্তীকালে ১৭৬৯ সনে ভক্তরা ঐ মসজিদ পাকা করে দেন। এরপর থেকে স্বীয় পীর ছাহেবের পক্ষ থেকে তিনি মিয়া ছাহেবের ময়দানে হাজিরা দিতে থাকেন।

হজরত শাহ্ সূফী মুহাম্মদ দায়েম (র.) তাঁর পীর ছাহেবের মাধ্যমে বিভিন্ন তরীকার বুজুর্গগণের রূহানী ফয়েজ অর্জন করেন। আজিমপুরে হজরত একটি মাদ্রাসা স্থাপন করলেন এবং ঐ স্থানের চারিদিকে চিহ্ন দিয়ে দায়রাবদ্ধ করা হলো। পরবর্তীতে ঐ মাদ্রাসা শরীয়ত এবং মা'রিফাত শিক্ষা দানের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠে। চট্টগ্রামস্থ বাকলিয়া নিবাসী মৌলানা আবদুল আলী উক্ত মাদ্রাসায় শিক্ষা লাভ করেছেন। তিনি বিশেষ কারণ ছাড়া দায়রার গন্ডির বাইরে যেতেন না। আজিমপুর মহল্লায় তাঁর খানকাহ্ শরীফে চিরজীবন অতিবাহিত করে ১২১৪ হিজরীতে সূফী মুহাম্মদ দায়েম (র.) বেসালে হাকিকী লাভ করেন। বর্তমানে আজিমপুরস্থ বড় দায়রা শরীফে তাঁর সমাধি বিদ্যমান।

হজরত সূফী মুহাম্মদ দায়েম (র.) এর ওফাতের সময় তাঁর বড় ছাহেবজাদা হজরত শাহ্ সূফী আহমদ উল্লাহর (র.) বয়স মাত্র ১৪ বৎসর এবং ছোট ছাহেবজাদা হজরত শাহ সূফী লাক্বীতুল্লাহর (র.) বয়স মাত্র ৯ বৎসর ছিলো। হজরত তদীয় জামাতা এবং প্রধান খলিফা হজরত রৌশন আলী (র.) এর উপর ছাহেবজাদা দ্বয়ের যাবতীয় তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব অর্পণ করে যান।

কিতাব: হজরত শাহ্ সূফী আমানত খান (র)
লিখক: আমানউদ্দীন মুহাম্মদ আজীম খান আবদুল্লাহ

রুমাল হলো আজব সাম্পানআধ্যাত্মিক উৎকর্ষতা লাভের পর চট্টগ্রাম শহরে এসে হজরত শাহ্ সূফী আমানত খান (র.) নবী করিম (স.) এর সুন্...
08/08/2026

রুমাল হলো আজব সাম্পান

আধ্যাত্মিক উৎকর্ষতা লাভের পর চট্টগ্রাম শহরে এসে হজরত শাহ্ সূফী আমানত খান (র.) নবী করিম (স.) এর সুন্নত পালন এবং হালাল উপার্জনের তাগিদে চট্টগ্রামস্থ আদালতে সরকারী চাকুরি গ্রহণ করেন। তার চাকুরি সম্পর্কে বিভিন্ন লেখক বিভিন্ন মতামত পোষণ করেছেন। কারো মতে তিনি ছিলেন হাকিম ছাহেবের চাপরাশী। কারো মতে আদালতের মীর দপ্তরী। আবার অনেকে মত প্রকাশ করেন হজরত হাকিম ছাহেবের পাখা টানতেন। সে যাই হোক্ তখন মহেশখালীর একজন লোকের মুকদ্দমা বিচারাধীন ছিলো.। যার মামলার জের টানতে গিয়ে অবশেষে এ সূফীর আধ্যাত্মিকতা জনসাধারণের কাছে প্রকাশ হয়ে পড়ে।

ব্যবসায় বাণিজ্যের জন্যে চট্টগ্রাম তখন থেকেই বেশ সুখ্যাত ছিলো। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আগত ব্যবসায়ীদের জন্যে চট্টগ্রাম ছিলো পণ্য বেচাকেনার মূল কেন্দ্র। চট্টগ্রাম জেলার মহেশখালী থেকে আগত লোকটি বাজার শেষে ফিরতি পথে উকিলের সাথে দেখা করে। কথার ফাঁকে লোকটি মুকদ্দমার শুনানির তারিখের খোঁজ খবর নিতে চেষ্টা করে। উকিল জানিয়ে দিলো পরদিনই মুকদ্দামার শুনানির তারিখ। এবার তার চমক ভাঙ্গার পালা। নিজেকে অত্যন্ত বিপন্ন মনে করে স্নান দৃষ্টি তুলে ধরে উকিলের দিকে। মুকদ্দমার প্রয়োজনীয় নথি-পত্র বাড়িতেই রয়ে গেছে। তাছাড়া অনেক দিনের পুরনো মামলা বলে তার কোন ধারণা হওয়া স্বাভাবিক ছিলোনা যে একেবারে অকস্মাৎ ই তারিখ পড়ে যাবে। সে অত্যন্ত বিচলিত হলো এবং যথাসময়ে তাকে সংবাদ না দেয়ার জন্যে উকিলকে ভর্ৎসনা করলো। উকিল ছাহেব আমতা আমতা করে নিজের ভুল স্বীকার করে নেন। তবে তাকে কথা
দিলেন যে পরদিন অবশ্যই তিনি নিজে গিয়ে হাকিম ছাহেবের কাছ হতে কিছুদিনের সময় চেয়ে নেবেন। কিন্তু উকিলের আবেদন না মনজুর হলো। লোকটির কাকুতি মিনতিতে কোন ফলোদয় হলোনা। হাকিম ছাহেব যুক্তি দেখালেন এতদিনের পুরনো মামলা আর ফেলে রাখা যায়না। মাত্র এক দিনের সময় দিয়ে তিনি জানিয়ে দিলেন, কালকের পরদিন অবশ্যই মুকদ্দমার শুনানি হয়ে যাবে। তখনকার দিনে সুদূর মহেশখালী থেকে একই দিনে গিয়ে ফিরে আসা কল্পনা ছাড়া কিছু নয়। যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম সাম্পান। আর এতে করে যাওয়া আসা মানে বেশ কদিনের ব্যাপার।

মাত্র একদিন সময় পেয়ে লোকটির চোখ ফেটে জল গড়িয়ে পড়ে। এ মুকদ্দমায় হেরে গেলে তাকে এতোদিনের কষ্টার্জিত সহায় সম্বল হারিয়ে পথে বসতে হবে।

এদিকে যথাসময়ে আদালত ছুটি হয়ে যায়। হজরত আদালতের কাজ শেষে নিজ কুঠিরে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে দেখতে পেলেন একজন লোক পথের ধারে বসে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। তিনি ধীরে ধীরে তার কাছে গিয়ে স্নেহের কোমল হাতখানা মাথায় রাখলেন। সান্তনার প্রথম পরশ পেয়ে ধীরে ধীরে শান্ত হলো লোকটি। হাল ভাঙ্গা নাবিকের মতো অসহায় চোখ দুটোতে তার একরাশ প্রার্থনা। আদালতের সামান্য বৃত্তিজীবির এমন আন্তরিকতায় মুগ্ধ হয়ে লোকটি যুগপৎ তার কান্নার কারণ বর্ণনা 'করে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, 'আপনার সম্পত্তি গুলো কি হালাল উপায়ে অর্জন করেছেন'? লোকটি চোখ মুছে জবাব দেয়, 'আমার সম্পত্তি সম্পূর্ণ হালাল পন্থায় অর্জন করেছি'। অতঃপর হজরত তাঁকে মাগরেবের নামাজ শেষে সদরঘাটে যেতে বললেন। লোকটি ভাবে ইনি বোধ হয় হাকিম ছাহেবকে সুপারিশ করবেন আরো কিছু সময়ের জন্যে। হজরতের সৌম্যদীপ্ত নূরানী চেহারা দেখে তার চোখের পানি সহসা মিলিয়ে গেছে। যাই হোক সময় মতো লোকটি গিয়ে হাজির হয় সদরঘাট। সন্ধ্যার আগমনে সে স্থান তখন নির্জন হয়ে এসেছে। হজরত তাকে দেখে খুব প্রীত হলেন এবং শপথ করালেন মুকদ্দমার ব্যাপারে যদি তিনি তার কোন উপকার করে দেন তাহলে ঘটনার কথা যেন সে অন্য কাউকে না জানায়। এ কথা শোনার পর মুহূর্তেই লোকটির মনে এক আলোড়ন সৃষ্টি হলো। তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আদালতের চাকুরে ব্যক্তিটি সম্বন্ধে সম্পূর্ণ ধারণা পাল্টে গেলো। লোকটি সাগ্রহে রাজী হয়ে গেলো তাঁর এ কথায়। তখন হজরত নিজের শরীরে জড়ানো সাদা চাদর খানা কর্ণফুলীর পানিতে বিছিয়ে দিয়ে বললেন, 'রুমালখানায় আরোহণ করলেই ওটা একটা সাম্পানে পরিণত হবে এবং চোখ বন্ধ করলে সেটা চলতে থাকবে। সাম্পান কোথাও ঠেক্সে চোখ খুলে নেমে পড়তে হবে এবং ওই স্থানটাই বাড়ির ঘাট। নথিপত্র নিয়ে সাম্পানে চেপে আবার চোখ বন্ধ করতে হবে'। লোকটি নিজের চোখ কানকে যেন আর বিশ্বাস করাতে পারছে না। অপলক দৃষ্টে তাকিয়ে রইলো এই জ্যোতির্ময় পুরুষের দিকে। কিন্তু সময় পেরিয়ে যাচ্ছে দেখে হজরতের আদেশ মতো রুমালে চেপে চোখ বন্ধ করলো সে। অকস্মাৎ সচল হয়ে রুমালটি সাম্পান হয়ে ছুটে চলতে থাকে গভীর সমুদ্রের পানে। গাঢ় অন্ধকারে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে রইলেন অসহায় মানুষের কান্ডারী হজরত শাহ্ সূফী আমানত খান (র.)। সাম্পান খানা ঠেকতেই লোকটি চোখ খুলে হতবাক, একি দৃশ্য। সেই পরিচিত বাড়ির ঘাট। বিস্ময়ের ঘোর কাটার পূর্বেই তড়াক করে লাফিয়ে নেমে পড়ে এবং প্রয়োজনীয় দলিল পত্র নিয়ে দিব্যি সাম্পানে এসে বসলো। পূর্বাপর চোখ বন্ধ করতেই সাম্পান খানা ছুটে চলে বিদ্যুৎ গতিতে। নদী তীরে অপেক্ষমান হজরতের মুখে দীপ্তি ছড়িয়ে পড়লো। কিস্তি এসে তাঁর পায়ের কাছাকাছি ঠেকতেই লোকটি চোখ খুলে। হজরত তাকে বাক্যালাপে বিরত রেখে আবার স্মরণ করিয়ে দিলেন পূর্বের প্রতিশ্রুতির কথা। 'এ রহস্য যেন গোপন থাকে'। চাদর খানা পানি থেকে উঠিয়ে হজরত আপন মনে নিজ কুঠিরে ফিরে এলেন। কাঁদতে গিয়েও লোকটির চোখে পানি সরেনা। আত্মিক জগতের এক তীব্র সুখানুভূতিতে বিভোর হয়ে রইলো কিছুক্ষণ সে! পরদিন উকিল ছাহেবকে থমকে দিয়ে সমস্ত নথিপত্র একযোগে দাখিল করলো আদালতে। শহরের কোন এক আত্মীয়ের বাড়ীতে ভুলক্রমে নথিপত্র ফেলে এসেছিলো বলে উকিল ছাহেব কে বিশ্বাস করাতে পারলেও কিন্তু বিচক্ষণ হাকিম ছাহেবের পক্ষে ওসব কথায় বিশ্বাস আনা সম্ভব নয়। তিনি অত্যন্ত অগ্নিশর্মা হলেন। হাক ছেড়ে বললেন, 'নথিপত্র নাকি গ্রামের বাড়ীতে ফেলে এসেছিলে। তবে এখন কোথা হতে এলো?' উপরন্তু তিনি গত কালকের কাকুতি মিনতি প্রসংগ তুলে বললেন, 'তুমি অযথা মামলা পিছানোর জন্যে আদালতকে ধোঁকা দিয়েছিলে নয় কি?' লোকটি পড়লো দ্বিতীয় এক ফ্যাসাদে। আমতা আমতা করে সে হাকিম ছাহেবের রক্ত চক্ষুর দিকে একবার এবং বাইরের দিকে তাকালো আরেকবার। হঠাৎ গর্জে উঠলেন হাকিম ছাহেব 'মিথ্যা বলার শাস্তি কি জানো?' এবার আতঙ্কিত হলো সে। আত্মীয়ের বাড়ীর অজুহাতে কোন ফলোদয় না হওয়াতে ঘন ঘন তাকাতে থাকে দরজার পানে। উকিল ছাহেবের ওজর আপত্তি কোন কাজে আসছেনা আর। এখন সাহায্যের প্রয়োজন। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অপরাধ যেন এ মুহূর্তে নগণ্য অপরাধ মনে হলো হাকিম ছাহেবের কোপানলের কাছে। উকিল ছাহেব নিজের মক্কেলকে ছাড়াবার জন্যে যথেষ্ট কর্তব্য পালন করছিলেন। তিনি অনুনয় করে বললেন 'দয়া করে সত্য কথাটি বলে ফেলুন, নইলে আপনাকে মিথ্যা বলার অপরাধে সাতটি বছর কারাভোগ করতে হবে।' ক্ষণিক চিন্তা করে লোকটি করুণ স্বরে বিবৃত করলো গতকাল সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া অলৌকিক ঘটনাটি। হাকিম ছাহেবের চোখ দুটো কেঁপে উঠে থর থর করে। হঠাৎ এক ঝটকা দমকা বাতাস এসে ঘোলা আকাশটা যেন পরিষ্কার করে গেলো। ঘটনা শুনতে শুনতে তিনি আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন। বিচারকক্ষে উপস্থিত লোকজন পূর্বাপর বিস্মিত ও স্তব্দ হয়ে গেলেন। হাকিম ছাহেব এজলাস থেকে নেমে হজরত এর পদযুগল জড়িয়ে ধরে বললেন, 'হুজুর আমার দ্বারা এতদিন আপনার প্রতি যে অশোভন আচরণ করা হয়েছে তার জন্যে আমি ক্ষমা প্রার্থী। মেহেরবাণী করে আপনাকে আর আদালতে আসতে হবে না, আপনার ভরণ পোষণের দায়িত্ব আমাকে বহন করতে দিন'।

বস্তুতঃ হজরত শাহ্ সূফী আমানত খান (র.) এর চাকুরি জীবনের সেদিনই পরিসমাপ্তি ঘটে। মূলতঃ এ চাকুরি তাঁর আধ্যাত্মিক কার্যাবলীর আচ্ছাদন ছিলো। খেটে জীবিকার্জনের যে শিক্ষা বিশ্বনবী দিয়ে গেছেন তা' পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে পালন করে গেছেন সূফীরা। আল্লাহর পথে যাদের জীবন ছিলো উৎসর্গীকৃত তাদের ভরণ পোষণের জন্যে চিন্তা করতে হয়না। তিনিই হজরতকে জনসমক্ষে পরিচিত করিয়ে দেয়ার জন্যে আদালতকে উপলক্ষ হিসেবে নিয়েছিলেন। এর পর থেকে হজরতের দরবারে ভক্তগণের আনাগোনা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এতদিনকার পরিচিত 'মিয়া ছাহেব'কে নতুন ভাবে জানার সুযোগ পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ধন্য হলো। হাকিম ছাহেব হজরত এর যাবতীয় খরচ বহন করেছিলো কিনা কিংবা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জন্যে লোকটিরই বা কোন শাস্তি হয়েছিলো কিনা তা হজরতের মৌনতা অবলম্বনের কারণে অজ্ঞাত রয়ে গেছে।

উৎস: হজরত শাহ্ সূফী আমানত খান (র) জীবনী ও কারামত
লিখক: আমানউদ্দীন মুহাম্মদ আজীম খান আবদুল্লাহ

Address

Shah Amanat Dargah Sharif, East Laldighi
Chittagong
4000

Telephone

+8801987871204

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Hazrat Shah Sufi Amanat Khan Dargah posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share