Chillax Zone BD

Chillax Zone BD Discover Chill Products
just Scroll. Smile. Vibe & Buy :)

Don’t be fooled…The finish line isn’t the moon of Eid.The finish line is the momentyour eyes close for the last time…and...
20/03/2026

Don’t be fooled…
The finish line isn’t the moon of Eid.

The finish line is the moment
your eyes close for the last time…
and your heart still holds Imaan.

17/03/2026

রমাদানে সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ কী ছিল? সন্ধ্যা পর্যন্ত না খেয়ে থাকা?
না। সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল, অভ্যাসগুলো ছাড়া। বছর জুড়ে যত খারাপ অভ্যাস আমরা গড়েছি, সেগুলো থেকে এক মাস লাগাতার বিরত থাকার সংগ্রাম করা।
হোক সেটা গান শোনা, মানুষের বদনাম করা, হারাম কিছু দেখা, কিংবা হারাম খাওয়া। পেটের ক্ষুধার চেয়েও মনের এই ক্ষুধাকে নিয়ন্ত্রণ করাটাই আসল লড়াই।
আসলে রমাদান আমাদের শেখাতে আসে যে, আমরা চাইলে পারি। যে হাতটা গত ১১ মাস হারামের দিকে অনায়াসেই বাড়ত, সেই হাতটা রমাদানে থমকে দাঁড়িয়েছে। এটাই তো বিজয়ের শুরু।
জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) একটি চমৎকার কথা বলতেন—
"তুমি যখন রোজা রাখবে, তখন যেন তোমার কান, চোখ এবং জিহ্বাও মিথ্যে আর পাপাচার থেকে রোজা রাখে। তোমার রোজার দিনে যেন একটা গাম্ভীর্য থাকে। আর তোমার সাধারণ দিন আর রোজার দিন যেন এক না হয়ে যায়।" (ইবনুল মুবারক, কিতাবুজ জুহদ: ১৩০৮)
তাই রমাদান বিদায় নিলেও সেই লড়াইটা যেন থেমে না যায়। রমাদানে যদি আমরা পছন্দের সিনেমা না দেখে থাকতে পারি, তবে বাকি দিনগুলোতে কেন পারব না? যদি রমাদানে সারাদিন গিবত ছাড়া কাটাতে পারি, তবে কেন সারা বছর অন্যকে নিয়ে পড়ে থাকব?
রমাদান আসলে আমাদের দেখিয়ে দেয় যে আমাদের সীমাবদ্ধতাগুলো কেবল আমাদের মনের ভুল ছিল। এই অভ্যাস পরিবর্তনের জয়যাত্রা যেন ঈদের পরেও অব্যাহত থাকে।

লিখেছেন: মহিউদ্দিন রূপম

16/03/2026

#আজকের_তারাবীহ

#রামাদান_২৭

৭৮। সূরা নাবা

কাফিররা আখিরাতের যৌক্তিকতা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও হাসিঠাট্টা করত। সূরা নাবা'য় আল্লাহর বিভিন্ন সৃষ্টিরাজি ভূমি, পাহাড়, জোড়া জোড়া সৃষ্টি, রাত, দিন, আকাশ, সূর্য, মেঘ, বৃষ্টি ইত্যাদির উপকারিতা বর্ণিত হয়। আল্লাহ এসব সৃষ্টি করেছেন, কিয়ামাতের পর সকলকে পুনরুত্থিত করাও তাঁর জন্য সহজ। কিয়ামাতের দিন শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হবে, আসমানের দরজাগুলো খুলে যাবে, পাহাড়গুলো মরীচিকার মতো উড়ে যাবে। ফেরেশতারা সারিবদ্ধভাবে বিচারের মাঠে আসবেন, কাফিররা মাটিতে মিশে গিয়ে হলেও আসন্ন আযাব থেকে বাঁচতে চাইবে। আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কেউ শাফায়াত করতে পারবে না, আর শাফায়াতকারীরা শুধু সঠিক কথাই বলবে। জাহান্নাম ওঁত পেতে আছে কাফিরদের জন্য। যেখানে অনন্তকাল ধরে তারা কেবল তপ্ত পানি ও রক্ত-পুঁজ পান করবে। আর মুত্তাকীদের জন্য থাকবে জান্নাতি উদ্যান, সঙ্গী, খাদ্য ও পানীয়। কোনো মিথ্যা ও অসার কথা তাদের বিনোদনের অংশ হবে না।

৭৯। সূরা নাযিআত

সূরা নাযিআতে কিয়ামাতের আকস্মিকতা ও কাফিরদের অপ্রস্তুত অবস্থায় পুনরুত্থানের বর্ণনা দেয়া হয়। ফিরআউনের ঔদ্ধত্যের করুণ পরিণতি থেকে শিক্ষা নিতে বলা হয়েছে। আল্লাহ সুউচ্চ আসমান, রাত, দিন, পৃথিবী, তৃণ, পাহাড়ের মতো বিশাল বিশাল জিনিস বানিয়েছেন যাতে মানুষ ও পশু তা থেকে উপকার পায়। তিনি তাহলে কেন আখিরাতে পুনঃসৃষ্টি করতে অক্ষম হবেন? দুনিয়াকে প্রাধান্যদাতাদের ঠিকানা জাহান্নাম। আর আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোকে যারা ভয় করে চলেছে, তাদের ঠিকানা জান্নাত। কিয়ামাতের নির্দিষ্ট সময় জানানো রাসূল (সাঃ) এর দায়িত্ব নয়। পুনরুত্থানের পর মনে হবে দুনিয়ার জীবন এক সকাল বা এক বিকালের সমান ছিল।

৮০। সূরা আবাসা

রাসূল (সাঃ) কয়েকজন বড় কুরাইশ নেতাকে ইসলামের দাওয়াহ দিচ্ছিলেন এই আশায় যে তারা মুসলিম হলে ইসলামের বড় খেদমত করবে। এমনসময় এক অন্ধ সাহাবি (রাঃ) রাসূলের (সাঃ) কাছে এসে কিছু একটা জানতে চান। কথায় ছেদ পড়ায় রাসূল (সাঃ) একটু বিরক্ত হন। সূরা আবাসা নাযিল করে আল্লাহ জানিয়ে দেন যে ইসলাম ওইসকল অহংকারী নেতার মুখাপেক্ষী নয়। পাকপবিত্র মুসলিমের দুনিয়াবি প্রতিপত্তি কম হলেও আল্লাহর নিকট তার গুরুত্বই বেশি। আল্লাহ স্মরণ করিয়ে দেন মানুষকে কত তুচ্ছ বস্তু থেকে সৃষ্টি করে ক্রমান্বয়ে মৃত্যু ও পুনরুত্থানের দিকে নেয়া হয়। কত বিস্ময়করভাবে ভূমি থেকে খাদ্য দেয়া হয়। তারপরও কী করে অহংকার করে! কিয়ামাতের দিন মানুষ নিজের ভাই, বাপ, মা, জীবনসঙ্গী ও সন্তান থেকে পালানর চেষ্টা করবে। কেউ জান্নাত পেয়ে খুশি হবে। কাফির-পাপাচারীরা জাহান্নাম পেয়ে হতাশ হবে।

৮১। সূরা তাকভীর

সূরা তাকভীরে কিয়ামাতের সময়ে দুনিয়ার ভয়াবহ অবস্থা বর্ণনা করা হয়। মানুষ তার দামী দামী সম্পদের কথা ভুলে যাবে। যেসব কন্যাসন্তান জীবিত প্রোথিত করা হয়েছিল, পুনরুত্থানের পর তাদেরকে অভিযোগ দায়ের করার সুযোগ দেয়া হবে। তারপর রাসূলের (সাঃ) নবুওয়তের সত্যতার সাক্ষ্য দেয়া হয়। জ্যোতিষীরা শয়তানদের দ্বারা খবরাখবর আনিয়ে টাকার বিনিময়ে মানুষকে জানায়। অন্যদিকে রাসূলের (সাঃ) কাছে পবিত্র ফেরেশতা ওয়াহী নিয়ে আসেন এবং তিনি তা বিনা পারিশ্রমিকে প্রচার করেন।

৮২। সূরা ইনফিতার

সূরা ইনফিতারের শুরুতেও কিয়ামাতের বর্ণনা দেয়া হয়। মানুষকে সুচারুভাবে সৃষ্টিকারী আল্লাহ কিয়ামাত ঘটাতে অক্ষম হবেন, এমনটা ভাবা নিতান্তই বোকামি। কিরামান কাতিবীন আমাদের আমলনামা লিখছেন। আখিরাতে সবাই তার কাজের খতিয়ান বুঝে পাবে। সেদিন রাজত্ব হবে শুধুই আল্লাহর, কেউ কারো কোনো উপকার করতে পারবে না।

৮৩। সূরা মুতাফফিফীন

নিজ হক কড়ায়গণ্ডায় বুঝে নেওয়া এবং অন্যের হক আদায়ের সময় ঠকানোর স্বভাবকে নিন্দা করা হয়েছে সূরা মুতাফফিফীনের (আরেক নাম 'তাতফীফ') শুরুতে। বদ আমলকারীর আমলনামা রাখা হবে সিজ্জীন নামক কারাগারে, আর নেক আমলকারীর আমলনামা থাকবে ইল্লিয়্যীন নামক স্থানে। আখিরাতে তারা কস্তুরীর আবরণে ঢাকা সুপেয় পানীয়, তাসনীম ঝর্ণা, হেলান দিয়ে বসার জায়গা পাবে। দুনিয়াতে যে কাফিররা তাদের নিয়ে হাসিঠাট্টা করত, তাদের পরিণতি দেখে জান্নাতিরা সেদিন উল্টো তাদেরকেই ঠাট্টা করবে।

৮৪। সূরা ইনশিক্বাক্ব

সূরা ইনশিক্বাক্ব ক্বিয়ামাতের বর্ণনা দিয়ে শুরু হয়। যাদের আমলনামা সেদিন ডানহাতে দেওয়া হবে, তারা সন্তুষ্টচিত্তে জান্নাতে তাদের নেককার পরিবার পরিজন নিয়ে থাকবে। আর ঈমান না আনা, সিজদা না করা যাদের আমলনামা পেছন দিক থেকে দেওয়া হবে, তারা মৃত্যু কামনা করবে। দুনিয়ায় তারা পরিবার নিয়ে খুব সুখেশান্তিতে ছিল, এখন জাহান্নামের উত্তাপে থাকবে।

৮৫। সূরা বুরুজ

যারা মুমিনদেরকে তাদের ইসলামের কারণে অত্যাচার করে, অতঃপর তাওবাহ না করে মারা যায়, তাদের দুর্ভোগের কথা বলা হয়েছে সূরা বুরুজে। অন্যদিকে মুমিনদের দুনিয়াবি দৃষ্টিতে পরাজিত মনে হলেও তাদের জান্নাতপ্রাপ্তিই বড় বিজয়। এ প্রসঙ্গে একটি ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করা হয়। জনৈক কাফির রাজার এক জাদুকর ছিল। জাদুকরটি মৃত্যুর আগে এক বালককে তার বিদ্যা শিখিয়ে দেয়। বালকটি একই সময়ে এক মুসলিম দরবেশেরও সন্ধান পায় এবং তার ধর্মের সত্যতা বুঝতে পারে। রাজা বালকটিকে নানাভাবে হত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। বালকটি প্রস্তাব দেয় রাজা যেন এক উন্মুক্ত ময়দানে জনসমক্ষে "এই বালকের রবের নামে" বলে তীর মেরে বালককে হত্যা করে। এতে সত্যিই বালকটি মারা যায় এবং তা দেখে সমবেত দর্শকেরা মুসলিম হয়ে যায়। রাজা ক্রোধান্ধ হয়ে সকলকে আগুনে ফেলে হত্যা করে। অনুরূপভাবে ফিরআউন ও সামুদ বাহিনীর কথাও বলা হয়।

৮৬। সূরা ত্বরিক্ব

সূরা ত্বরিক্বে উজ্জ্বল নক্ষত্রের শপথ করে মানুষের সৃষ্টির উপমা দিয়ে আখিরাতের পুনঃসৃষ্টির বাস্তবতা দেখান হয়। কাফিরদের ষড়যন্ত্র ও তার বিপরীতে আল্লাহর কৌশলের কথা বলা হয়। ষড়যন্ত্রকারী কাফিরদের কিছু কালের জন্য তাদের অবস্থার ওপর ছেড়ে দিতে বলা হয়।

৮৭। সূরা আ'লা

সূরা আ'লা-তে আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করতে বলা হয়। তিনি সবকিছু সৃষ্টি করে পরিমিতি দান করেছেন। দুনিয়াবি জিনিসের জৌলুস অস্থায়ী। কুরআনের উপদেশ গ্রহণ না করলে আখিরাতের স্থায়ী শাস্তিতে জীবন্মৃত অবস্থায় থাকতে হবে। পবিত্রতা অর্জনকারী; যিকিরকারী ও সালাত আদায়কারীরা সফল। তাই দুনিয়ার ওপরে আখিরাতকে প্রাধান্য দিতে হবে।

৮৮। সূরা গাশিয়াহ

সূরা গাশিয়ার শুরুতে আখিরাতে কাফিরদের বিপর্যস্ত চেহারা, তাদের প্রাপ্য তপ্ত পানীয় ও কাঁটাদার খাদ্যের কথা বলা হয়। নেককারদের সজীব চেহারা, প্রাপ্য জান্নাত, প্রস্রবণ, আসন, কার্পেটের বর্ণনা দেওয়া হয়। জীবজন্তু, আকাশ, পাহাড়, ভূমি নিয়ে গবেষণা করে আখিরাতের বাস্তবতা ভাবতে বলা হয়। কাউকে জবরদস্তি ঈমান আনানো তো রাসূলের (সাঃ) দায়িত্ব নয়।

৮৯। সূরা ফাজর

সূরা ফাজর-এ আদ, সামুদ ও ফিরআউনের মতো শক্তিশালী জাতিসমূহের পরিণতির কথা বলা হয়। আল্লাহ মানুষকে প্রাচুর্য ও সংকট দিয়ে পরীক্ষা করেন। ইয়াতীম, মিসকীন ও হকদারকে সঠিকভাবে প্রাপ্য দিতে বলা হয়। এ ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে। সেদিন আফসোস কোনো কাজে আসবে না। আল্লাহ সেদিন এমন শাস্তিতে পাকড়াও করবেন, যা কেউ কোনোদিন করেনি। আল্লাহর নেককার বান্দারা প্রশান্ত আত্মা নিয়ে জান্নাতে যাবে।

৯০। সূরা বালাদ

সূরা বালাদ -এ সেসব মানুষকে তিরস্কার করা হয়েছে যারা নিজ শক্তি সম্পদ ইচ্ছামত খরচ করে, আল্লাহকে ভয় করে না। মানুষকে আল্লাহ ভালো-খারাপ দুটি পথই দেখিয়েছেন। দাসমুক্তি, দানসদকা, ইয়াতীম, আত্মীয়, মিসকীনের হক আদায়, ঈমান আনা, সবর করার কঠিন পথটি বেছে নিলে ডানদিকের দল (জান্নাতি) হওয়া যাবে। আর কাফিররা হলো বামদিকের দল (জাহান্নামি)।

৯১। সূরা শামস

সূরা শামস-এ বিভিন্ন বস্তুর কসম করে আল্লাহ বলেন যে তিনি মানুষকে ভালো-মন্দের জ্ঞান দিয়েছেন। যে আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে, সে সফলকাম। যে একে গুনাহের দ্বারা ধ্বংস করে, সে ব্যর্থ। সামুদ জাতির অবাধ্যতা ও পরিণতির কথা জানানো হয়। মানুষ কোনো জায়গা জয় করলে পাল্টা আক্রমণের ভয় থাকে, আল্লাহর এমন কোনো ভয় নেই।

৯২। সূরা লাইল

সূরা লাইল-এ শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে দানশীলতা দেখাতে বলা হয়েছে, কৃপণতা করতে নিষেধ করা হয়েছে। যে দান করে, আল্লাহকে ভয় করে, ইসলাম মেনে চলে, সে জান্নাতি। যে কৃপণতা করে, বেপরোয়া ভাব দেখায়, ইসলাম মানে না, জাহান্নামে দগ্ধ হওয়ার সময় তার সম্পদ কোনো কাজে আসবে না।

৯৩। সূরা দুহা

নবুয়তের শুরুর দিকে রাসূল (সাঃ)-কে বিশ্রাম দিয়ে বেশ কিছুদিন ওয়াহী আসা বন্ধ থাকায় আবু লাহাবের স্ত্রী কটাক্ষ করে যে, আল্লাহ রাসূলকে (সাঃ) ত্যাগ করেছেন। সূরা দুহায় আল্লাহ জানান যে তিনি রাসূলকে (সাঃ) ত্যাগ করেননি। ইয়াতীম, পথ সম্পর্কে অনবহিত ও নিঃস্ব মুহাম্মাদকে (সাঃ) তো আল্লাহ এমনিতেও আশ্রয়, ইসলামের জ্ঞান ও সচ্ছলতা দিয়েছেন। ইয়াতীম ও সাহায্যপ্রার্থীকে ফিরিয়ে না দেয়ার হুকুম করা হয়, আল্লাহর নিয়ামাতের কথা প্রচার করতে বলা হয়।

৯৪। সূরা ইনশিরাহ

সূরা ইনশিরাহ-তে বলা হয়, রাসূলের (সাঃ) কাছে নবুওয়তের দায়িত্ব প্রথমে কঠিন মনে হলেও পরে আল্লাহ তা সহজ করে দিয়েছেন, তাঁর মর্যাদা সমুচ্চ করেছেন। কষ্টের সাথেই স্বস্তি আছে। দৈনন্দিন কাজকর্ম থেকে অবসর হলেই নফল ইবাদাতে মনোযোগী হতে বলা হয়।

৯৫। সূরা তীন

সূরা তীনে বলা হয়, মানুষ সর্বোত্তম আকৃতিতে সৃষ্টি হওয়ার পর বার্ধক্যে বা পাপাচারের মাধ্যমে শারিরীক ও আত্মিকভাবে নীচু হয়ে যায়। কিন্তু ঈমানদার ও নেক আমলকারীরা যেমন জানে দুনিয়ার বার্ধক্য ক্ষণস্থায়ী, তেমনি আখিরাতে তাদের জন্য প্রতিদানও ভালো।

৯৬। সূরা আলাক্ব

সূরা আলাক্ব এর প্রথম ৫ আয়াত হলো প্রথম নাযিলকৃত ওয়াহী। এতে মানুষের স্রষ্টা ও তাকে অজানা জিনিস শিক্ষাদাতা আল্লাহর নামে পড়তে বলা হয়। পরের আয়াতগুলোতে আবু জাহল সম্পর্কে বলা হয়, যে মক্কায় তার প্রভাবশালীত্ব ও সম্পদের কারণে ঠাটবাট দেখিয়ে হুমকি দিত রাসূলকে (সাঃ) কাবার প্রাঙ্গনে সেজদা দিতে দেখলে ঘাড়ে পাড়া দিয়ে দেবে। আল্লাহ জানিয়ে দেন তিনি সবই দেখছেন। সে তার লোকলস্কর ডাকলে আল্লাহও জাহান্নামের ফেরেশতাদের ডেকে আবু জাহলকে হেঁচড়ে নিয়ে যাবেন। রাসূল (সাঃ) যেন তার কথাকে গুরুত্ব না দিয়ে বরং সেজদার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে থাকেন।

৯৭। সূরা ক্বদর

সূরা ক্বদরে লাইলাতুল ক্বদর সম্পর্কে বলা হয় যাতে কুরআন নাযিল হয়েছে এবং এর মর্যাদা হাজার মাস থেকে বেশি। এ রাতে ফেরেশতাগণ অবতীর্ণ হন এবং ফজর পর্যন্ত শান্তি বিরাজ করে।

৯৮। সূরা বাইয়্যিনাহ

সূরা বাইয়্যিনাহ-তে বলা হয়, সুস্পষ্ট প্রমাণ আসমানী কিতাব নিয়ে রাসূল (সাঃ) আগমন করে এক আল্লাহর ইবাদাত, সালাত কায়েম ও যাকাত প্রদানের হুকুম দিচ্ছেন। আহলে কিতাব ও মুশরিকরা কুফরি করতে থাকলে তারা হবে নিকৃষ্ট সৃষ্টি। ঈমানদার ও নেক আমলকারীরা সৃষ্টির সেরা, তারা অনন্তকাল জান্নাতে থাকবে।

৯৯। সূরা যিলযাল

সূরা যিলযালে বলা হয়, কিয়ামাতের দিন পৃথিবী প্রবলভাবে কম্পিত হয়ে ভেতরের বোঝা বের করে দিয়ে তার ওপর সংঘটিত ভালো খারাপ কাজগুলোর ব্যাপারে আল্লাহর আদেশে সাক্ষ্য দিতে শুরু করবে। অণু পরিমাণ সৎ-অসৎ কর্মেরও বিচার হবে।

১০০। সূরা আদিয়াত

মালিকের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও আরবে সুপরিচিত যুদ্ধ ঘোড়ার শপথ করে সূরা আদিয়াতে মানুষের রব্বের প্রতি তার অকৃতজ্ঞতার কথা বলা হয়। কারণ সে বিচারদিবসের ব্যাপারে গাফেল হয়ে ধনসম্পদ-প্রতিপত্তির প্রতি চরম আসক্ত।

১০১। সূরা ক্বারিয়াহ

সূরা ক্বারিয়াহ-তে বলা হয়, কিয়ামাতের দিন পাহাড়গুলো ধুনিত পশমের মতো উড়ে যাবে। শেষবিচারে নেক আমলের পাল্লা ভারি হলে সন্তোষজনক জীবনলাভ হবে। আর পাল্লা হালকা হলে হাওয়িয়া জাহান্নাম হবে আশ্রয়।

১০২। সূরা তাকাসুর

মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত একে অন্যের সাথে সম্পদ ইত্যাদির আধিক্যের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকাকে সূরা তাকাসুরে তিরস্কার করা হয়। বিচারদিনে জাহান্নাম প্রত্যক্ষ করলে তাদের এই প্রতিযোগিতার অসারতা উপলব্ধি হবে।

১০৩। সূরা আসর

সূরা আসরে ক্রমহ্রাসমান সময়ের শপথ করে বলা হয়- ঈমানদার, নেক আমলকারী, সত্য ও ধৈর্যের দাওয়াহ দানকারী ব্যতীত সকল মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত।

১০৪। সূরা হুমাযাহ

কোনো ব্যক্তির জ্ঞাতসারে ও অজ্ঞাতসারে তার অপ্রয়োজনীয় নিন্দা-সমালোচনা করা এবং অযথা সম্পদ জমা করাকে নিন্দা করা হয়েছে সূরা হুমাযাহ-তে। এমন কাজের প্রতিদান হলো হুতামা জাহান্নামের আগুন যা স্তম্ভের মতো বিশাল।

১০৫। সূরা ফীল

সূরা ফীলের প্রেক্ষাপট হলো, ইয়ামানের বাদশাহ আবরাহা এক আলিশান গীর্জা বানিয়ে মক্কার বদলে সেখানে হাজ্জ করতে বলে। মূর্তিপূজক হলেও কাবার ব্যাপারে আত্মমর্যাদাশালী আরবরা সেই গীর্জার কিছু ক্ষতিসাধন করে আসে। ক্রোধান্বিত আবরাহা বিরাট সেনাবাহিনী নিয়ে কাবা ধ্বংস করতে অগ্রসর হয়, যেখানে সে হাতির পিঠে সওয়ার ছিল। আরবদের তখন বলার মতো কোনো সামরিক শক্তি ছিল না। তারা কাবার ভেতরকার দেবদেবীর মূর্তিগুলোকে ভুলে গিয়ে দিনরাত আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানায়। প্রস্তরবাহী পাখি পাঠিয়ে আবরাহার বাহিনীকে আল্লাহ ধ্বংস করে দেন। সে সময়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুশরিকদেরকে এক আল্লাহর ইবাদাত করতে বলা হয়।

১০৬। সূরা ক্বুরাইশ

সূরা ক্বুরাইশেও এই বংশটির প্রতি এক আল্লাহর নিয়ামাত স্মরণ করানো হয়। আল্লাহর ঘরের খাদেম হওয়ার কারণেই ডাকাতসংকুল আরবে তারা নিরাপদে ব্যবসা কাফেলা নিয়ে চলাফেরা করত, ইয়ামান ও শামে আসাযাওয়া করত। অতএব তারা যেন এ ঘরের রব্বের ইবাদাত করে।

১০৭। সূরা মা'উন

সূরা মা'উনে মুনাফিক্বদের (কোনো মুফাসসিরের মতে কাফিরদের) আচরণ সম্পর্কে বলা হয়। তারা ইয়াতীমদের গলাধাক্কা দেয়, মিসকীনদের খাবার দিতে উৎসাহ দেয় না, সালাতে অমনোযোগী, লোক দেখাতে সালাত পড়ে, প্রতিবেশীরা যেসব ছোটখাটো জিনিস একে অন্যের থেকে প্রয়োজনে নিয়েই থাকে (থালাবাসন, দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় তৈজসপত্র), তাও দিতে চায় না।

১০৮। সূরা কাউসার

রাসূল (সাঃ) এর সকল পুত্রসন্তান মারা যাওয়ার পর কাফিররা তাঁকে শিকড়কাটা (আবতার) বলে উপহাস করতে থাকে। ভাবে যে রাসূলের মৃত্যুর পর তাঁর দাওয়াতের প্রভাব শেষ হয়ে যাবে। আল্লাহ সূরা কাউসারে জানিয়ে দেন তাঁর শত্রুরাই শেকড়কাটা। এছাড়া রাসূলকে (সাঃ) হাউজে কাউসারের মতো বিরাট নিয়ামাত দেয়ার কথাও বলা হয়, যেখান থেকে আখিরাতে তিনি উম্মতদের পানি পান করাবেন।

১০৯। সূরা কাফিরূন

মক্কার কাফিররা একটি ধর্মনিরপেক্ষ প্রস্তাব নিয়ে আসে যে, বছরের একটা সময়ে মুসলিমরা দেবদেবীর উপাসনা করুক আর আরেকটা সময়ে মুশরিকরা এক আল্লাহর উপাসনা করুক। সূরা কাফিরূনে তাদের এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার হুকুম নাযিল হয়। বলে দেয়া হয়- কাফিররা তাদের বাতিল ধর্ম নিয়ে পড়ে থাকুক, আমরা সত্য দ্বীন ইসলামের ওপর সন্তুষ্টচিত্তে প্রতিষ্ঠিত থাকব।

১১০। সূরা নাসর

আরব উপদ্বীপের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ মুসলিমদের মক্কা আক্রমণের পরিণতি দেখার অপেক্ষায় ছিল। আল্লাহর সাহায্যে মক্কা বিজয় হওয়ার পর দলে দলে সকলে ইসলাম গ্রহণ করে। দুনিয়ায় রাসূল (সাঃ) এর মিশন সফল হয়ে মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসে। সূরা নাসর-এ তাঁকে বলা হয় আল্লাহর তাসবীহ পাঠ, তাঁর প্রশংসা ও ইস্তিগফারে লিপ্ত থাকতে। নেক আমল করার পর তাই মুসলিমদের দায়িত্ব হলো আল্লাহ তাওফিক দিয়েছেন বলে তাঁর প্রশংসা করা এবং নিজ কাজের ভুলত্রুটির জন্য ইস্তিগফার করা।

১১১। সূরা লাহাব

রাসূল (সাঃ) মক্কার লোকদের জরুরি ভিত্তিতে ডেকে এনে তাওহীদের দাওয়াহ দেন। তাঁর চাচা আবু লাহাব রেগে গিয়ে তাঁর ধ্বংসের বদদোয়া দেয় (আগুনের মতো উজ্জ্বল গায়ের রঙ হওয়ায় তাকে আবু লাহাব ডাকা হতো)। আল্লাহ সূরা লাহাব (অপর নাম সূরা মাসাদ)-এ আবু লাহাব ও তার কৃতকর্মের ধ্বংসের কথা বলেন। বদর যুদ্ধের কিছুদিন পর সে কোনো এক ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। কয়েকদিন পড়ে থাকা লাশে পচন ধরলে তাকে দূর থেকে লাঠি দিয়ে ঠেলে কবরে ফেলা হয়। তার সম্পদ ও সন্তান কোনো কাজেই এলো না। সে ও তার স্ত্রী দুজনই আগুনে (লাহাব) পুড়বে। কারণ তার স্ত্রীও রাসূল (সাঃ)-কে কষ্ট দিতে নানা কূটচাল করত। তার গয়না পরা গলা জাহান্নামে মোটা রশির বেড়িতে বাঁধা থাকবে।

১১২। সূরা ইখলাস

কিছু কাফির জিজ্ঞেস করত আল্লাহর বংশ পরিচয় কী, তিনি দেখতে কেমন ইত্যাদি। সূরা ইখলাসে জানিয়ে দেওয়া হয় আল্লাহ এক ও অমুখাপেক্ষী (আহাদ ও সামাদ শব্দ দুটি বিশাল ব্যাখ্যাপূর্ণ, এক শব্দে অনুবাদ হয় না)। তিনি জন্ম দেন না ও জন্ম নেননি। কোনো কিছুই তাঁর সমকক্ষ বা সদৃশ নয়। মানুষ যতরকম কল্পনা করতে পারে, আল্লাহ তার কোনোটির মতোই নন।

১১৩-১১৪। সূরা ফালাক্ব ও সূরা নাস

রাসূল (সাঃ) এর ওপর ইয়াহুদীরা একবার শক্তিশালী জাদু করে। ওয়াহীতে তার প্রভাব না পড়লেও রাসূলের (সাঃ) মানবীয় জীবনে তার কিছু প্রভাব দেখা যায়। তাঁর মনে হতো কোনো একটা কাজ তিনি করেছেন, কিন্তু আসলে তা করা বাকি আছে। একবার তিনি ঘুমন্ত থাকা অবস্থায় দুজন ফেরেশতা স্বপ্নে তাঁর মাথা ও পায়ের কাছে বসে কথোপকথনের ভঙ্গিতে জাদুকর, কী দিয়ে জাদু করা হয়েছে, জাদুর বস্তু কোথায় লুকানো আছে, কীভাবে তা নষ্ট করতে হবে- তা বলে দেন। এরপর সূরা ফালাক্ব ও সূরা নাস নাযিল হয়। এ সূরা দুটি বিশেষ করে জাদুটোনার বিরুদ্ধে ঝাড়ফুঁকে ব্যবহৃত হয়। আল্লাহর যে কোনো সৃষ্টি দ্বারা ক্ষতি, জাদুকরের জাদু, হিংসুকের হিংসা, কুমন্ত্রণাদাতা শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাওয়া হয়।

[সমাপ্ত]

ঈদুল ফিতরের করনীয় ও বর্জনীয়
15/03/2026

ঈদুল ফিতরের করনীয় ও বর্জনীয়

15/03/2026

#আজকের_তারাবীহ

#রামাদান_২৬

৬৭। সূরা মুলক

সূরা মুলকে বলা হয় আল্লাহ মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন মানুষের নেক আমলের পরীক্ষা নিতে। তিনি নিখুঁতভাবে আসমান সৃষ্টি করেছেন। তাঁরই সৃষ্ট জাহান্নাম ও জান্নাতে এর অধিবাসীরা কী অবস্থায় থাকবে তা বর্ণিত হয়। তিনি শুধু স্রষ্টাই নন, গোপন-প্রকাশ্য সবকিছুর ব্যাপারে জ্ঞানীও। তিনিই পশুপাখিকে আমাদের বশ করে দিয়েছেন যাতে আমরা এ থেকে উপকৃত হই। দিয়েছেন শ্রবণ, দর্শন ও চিন্তাশক্তি। তিনি যদি এসব রিযক বন্ধ করে দেন বা ভূগর্ভস্থ পানি আমাদের নাগালের বাইরে নামিয়ে দেন, তাহলে কে আছে যে তা পুনরায় এনে দেবে? তিনিই যদি আচমকা আযাব দেন, তা ঠেকানোর কেউ নেই। রাসূল (সাঃ) এবং মুমিনরা যদি মরেই যায়, তাহলেও কাফিরদের যে পাওনা আযাব- তা কি কেউ ঠেকাতে পারবে? যে দ্বীনের পথে চলে সে সোজা হয়ে চলা ব্যক্তির মতো, আর বেদ্বীনরা মুখে ভর দিয়ে চলা ব্যক্তির মতো। কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাবে দ্বীনদার ব্যক্তিই।

৬৮। সূরা ক্বলাম

রাসূলকে (সাঃ) উন্মাদ বলে কাফিররা যে অপবাদ দিত, সূরা ক্বলামে তা খণ্ডন করে বলা হয় রাসূল (সাঃ) চরিত্রের সর্বোচ্চ স্তরে আছেন। তাঁর বিরোধিতাকারী কাফিররাই তো বরং নিন্দুক, চোগলখোর, কৃপণ এরকম মন্দ চরিত্রের। শেষবিচারের অস্তিত্ব না থাকা মানে ভালো-খারাপ সবার পরিণতি একই মৃত্যু।

একদল লোকের উপমা দেওয়া হয় যারা নিজেদের শস্যক্ষেত্র নিয়ে বড়াই করত। যেদিন ফসল কাটতে আসলো তার আগের রাতে এক উপদ্রব হানা দিয়ে ফসল ধ্বংস করে দেয়। তারা দেখে ভাবে ভুলপথে চলে এসেছে। পরে নিজেদের অহংকারের কথা স্মরণ করে তাওবাহ করে।

কিয়ামাতের দিন আল্লাহ তাঁর পায়ের গোছা (যেমন 'পা' তাঁর শানের উপযোগী, সেরকম পা। এর আকৃতি-প্রকৃতি আমাদের অজানা) উন্মুক্ত করবেন। খাঁটি মুমিনরা সেজদায় লুটিয়ে পড়বে। আর যারা লোক দেখাতে সালাত পড়ত, তাদের পিঠ শক্ত হয়ে থাকবে, সেজদা করতে না পেরে অপমানিত হবে।

ইউনুস (আঃ) যেভাবে আল্লাহর হুকুম আসার আগেই কওমকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন, রাসূলকে (সাঃ) তেমনটা করতে মানা করা হয়।

৬৯। সূরা আল-হাক্বক্বাহ
সূরা আল-হাক্বক্বাহ'তে কিয়ামাতকে এক অবশ্যম্ভাবী ব্যাপার বলা হয়েছে, যা আদ, সামুদ, কওমে লূত, ফিরআউন ও কওমে নূহ অস্বীকার করে আযাবে পাকড়াও হয়। কিয়ামাত দিবসের ভয়াবহ বর্ণনা দেয়া হয়। যার আমলনামা ডান হাতে দেয়া হবে সে খুশিতে সবাইকে তা দেখাবে। আর যার আমলনামা বাম হাতে দেয়া হবে, সে আফসোস করবে মৃত্যুই যদি শেষ পরিণাম হতো! সে দুনিয়ায় দানসদকা করত না, আজ জাহান্নামে তার খাদ্য হবে পুঁজের মতো পানি গিসলীন। মানুষের দেখা না-দেখা সমস্ত কিছুর কসম করে আল্লাহ বলেন কুরআন কোনো কবি বা জ্যোতিষীর বাণী নয়। রাসূল (সাঃ) যদি নিজে বানিয়ে এসব কথা আল্লাহর নামে চালাতেন, তাহলে আল্লাহই তাকে শাস্তি দিতেন।

৭০। সূরা মাআরিজ

কাফিররা যে প্রতিশ্রুত আযাব নিয়ে আসতে বলে টিটকারি দিত, তার জবাব দিয়ে সূরা মাআরিজ শুরু হয়। তারা ভাবছে এটা অসম্ভব, অথচ আল্লাহর সময়ের হিসেবে এটি নিকটে। সেদিন আসমান জমিনের চেহারাই পাল্টে যাবে। পাপাচারী, কৃপণ মানুষেরা নিজের বন্ধু, স্ত্রী, পুত্র, খান্দান সবকিছু মুক্তিপণ হিসেবে দিয়ে হলেও নিজে বাঁচতে চাইবে। কিন্তু যারা নামাযি, যাকাত-সদকা দাতা, আখিরাত বিশ্বাসী, ব্যভিচার করে না, আমানত রক্ষাকারী, সত্যবাদী- তারা নিরাপদ থাকবে।

কুরাইশ কাফিররা রাসূল (সাঃ) এর কাছে আসত তাঁর কথা নিয়ে উপহাস করার জন্য। মুসলিমদের আগে তারা জান্নাতে যাবে- তাদের এমন দাবি খণ্ডন করে তাদের অপমানের দৃশ্য চিত্রিত হয়।

৭১। সূরা নূহ

নূহ (আঃ) এর দাওয়াতি কার্যক্রমের কথা এসেছে সূরা নুহ-এ। তিনি তাঁর কওমকে দিনেরাতে, প্রকাশ্যে-গোপনে, সবরকমে তাওহীদের দাওয়াত দেন। আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার করলে তিনি দুনিয়াবি সম্পদও বাড়িয়ে দেবেন। তিনি মানুষকে মাটি থেকে সৃষ্টি করে আবার তাতেই ফিরিয়ে নেবেন। অবশেষে তাদের মাঝে যখন ঈমান আনার মতো আর কেউ বাকি থাকল না, নূহ (আঃ) ঈমানদারদের নাজাত ও কাফিরদের ধ্বংস কামনা করে দু’আ করলেন।

৭২। সূরা জ্বীন

রাসূলের (সাঃ) নিকট কুরআন শুনে জ্বীনদের একটি দল ঈমান এনে নিজ জাতির নিকট গিয়ে কীভাবে ঈমানের দাওয়াত দেয়, তা বর্ণিত হয়েছে সূরা জ্বীন এ। এ পর্যন্ত তাদের মাঝেও আল্লাহ সম্পর্কে অনেক শির্কি বিশ্বাস ছিল। তারা ভেবেছিল এত মানুষ আর জ্বীন যেহেতু এগুলো বিশ্বাস করছে, এগুলো সত্যিই হবে হয়তো। এছাড়া আরবরা বনজঙ্গলে গেলে সেখানকার জ্বীনদের কাছে আশ্রয় চাইত। এতে জ্বীনেরা আরো অহংকারী হয়ে উঠেছিল। দুষ্ট জ্বীনদের থেকে ওয়াহীকে রক্ষা করতে আসমানের দ্বারগুলোতে প্রহরা বসতে দেখেই তারা ধারণা করেছিল কিছু একটা ঘটতে চলেছে। এভাবে অনেক জ্বীন মুসলিম হলো। এ ঘটনার দৃষ্টান্ত দিয়ে মক্কার মুশরিকদেরও ঈমান আনতে বলা হয়। তাহলে তাদের দুনিয়াবি অভাবও মিটিয়ে দেয়া হবে।

৭৩। সূরা মুযযাম্মিল

নবুওয়ত প্রাপ্তির পর চরম মানসিক চাপে রাসূল (সাঃ) চাদর আবৃত করে শুয়ে ছিলেন। সূরা মুযযাম্মিলে তাঁকে প্রীতিভরে ডেকে তুলে তাহাজ্জুদ পড়তে বলা হয়। এর সময় ও ফজিলত বলে দেওয়া হয়। কাফিররা আখিরাতে কী পরিণাম ভোগ করবে তা বলা হয় এবং ফিরআউনের অবাধ্যতা ও পরিণামের দৃষ্টান্ত দেওয়া হয়। সূরার শেষে সফর, যুদ্ধ ইত্যাদি পরিস্থিতি উল্লেখ করে তাহাজ্জুদের বিধান শিথিল করে সহজতা দান করা হয়। সালাত, যাকাত ও সদকা করতে উৎসাহ দেওয়া হয়।

৭৪। সূরা মুদ্দাস্সির

সূরা মুদ্দাস্সিরের শুরুতে বলা হয় মানুষকে আখিরাত সম্পর্কে সতর্ক করতে, আল্লাহর মহত্ত্ব ঘোষণা করতে, শারীরিক সহ সবরকম পবিত্রতা গ্রহণ করতে, উপহার দিয়ে বিনিময় পাওয়ার লোভ না রাখতে।

কাফিররা কুরআনকে কবিতা, জ্যোতিষীর কথা ইত্যাদি কিছু বলেই সন্তুষ্ট হতে পারছিল না। কারণ অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন তা তারাও বুঝতে পারছিল। ধনকুবের ওয়ালীদ বিন মুগীরা অনেক ভাবনাচিন্তা করে বলে কুরআনকে যাদুকরের কথা বলে আখ্যা দিতে। তাকে এ সূরায় রূঢ় তিরস্কার করে আখিরাতের ভয়ংকর পরিণতি জানানো হয়।

জাহান্নামে মাত্র ১৯ জন প্রহরী আছে শুনে কাফিররা ঠাট্টা করে। জানিয়ে দেওয়া হয় এরা ১৯ জন শক্তিশালী ফেরেশতা, তাই শক্তিতে পরাস্ত করা যাবে ভেবে খুশি হওয়ার কিছু নেই। এছাড়া আহলে কিতাবদের কিতাবেও এ সংখ্যাটির ইঙ্গিত আছে, ফলে তারা বুঝতে পারবে এটি আল্লাহরই বাণী।

জান্নাতিরা জাহান্নামিদের ডেকে জানতে চাইবে কীসে তাদের আগুনে নিয়ে আসলো। তারা বলবে তারা বেনামাজি ছিল, মিসকীনদের খাবার দিত না, অসার কথাবার্তা বলত এবং আখিরাতে অবিশ্বাসী ছিল। আল্লাহর বাণী থেকে এরা এমনভাবে মুখ ফিরিয়ে নেয় যেভাবে সিংহ থেকে বন্য গাধা পালায়।

৭৫। সূরা ক্বিয়ামাহ

সূরা ক্বিয়ামাহ-তে কিয়ামাত এবং নফসে লাওয়ামার (অর্থাৎ, যে নফস ন্যায় ও ভালো কাজ করলেও নিজেকে তিরস্কার করে যে, তা বেশি করে কেন করেনি। আর অন্যায় ও মন্দ কাজ করলেও তিরস্কার করে যে, কেন তা থেকে বিরত থাকেনি?) কসম করে বলা হয়েছে কিয়ামাত সত্য। এর কয়েকটি আলামত বলা হয়েছে। মানুষকে আল্লাহ এক বিন্দু শুক্র থেকে বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করিয়ে পূর্ণাঙ্গ মানুষ বানান। তিনিই চাইলে আখিরাতে এদের আঙুলের ডগাসহ একইরকমভাবে পুনঃসৃষ্টি করতে পারেন। সেদিন মানুষকে তার কৃতকর্ম দেখানো হবে। বরং নিজের পাওনা কি জান্নাত না জাহান্নাম, তা নিজেই ভালো বুঝতে পারবে।

রাসূল (সাঃ) কুরআন মুখস্থ করার জন্য যেন ব্যস্ত না হন, সে কথা বলা হয়েছে। কুরআন সংরক্ষণ করানো ও ব্যাখ্যা জানানো আল্লাহরই দায়িত্ব।

৭৬। সূরা দাহর

সূরা দাহর-এ (আরেক নাম সূরা ইনসান) মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয়া হয় যে, সে একসময় বলার মতো কোনো কিছুই ছিল না। ক্রমে বীর্য থেকে সে পূর্ণাঙ্গ মানুষ হয়েছে।

জান্নাতিদের কতিপয় বৈশিষ্ট্য ও প্রাপ্য বর্ণিত হয়েছে। তারা ওয়াদা পূর্ণ করে, কেবলমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় মিসকীন, ইয়াতীম ও কয়েদীদের খাবার খাওয়ায়। তারা জান্নাতে পাবে রেশমি কাপড়, আরামদায়ক নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া, হেলান দেয়ার সুউচ্চ বসার জায়গা, আয়ত্তাধীন ফল, রূপা ও স্ফটিকের পানপাত্র, আদা মেশানো এক জাতের পানীয়, সালসাবীল নামক এক প্রস্রবণ, চিরকিশোর খাদেম, রূপার কাঁকন।

কাফিরদের পক্ষ হতে আসা বিরোধিতাকে পাত্তা না দিয়ে তাসবীহ পাঠ, তাহাজ্জুদ আদায় ইত্যাদি ইবাদাতে রত থাকতে রাসূলকে (সাঃ) নির্দেশ দেওয়া হয়।

৭৭। সূরা মুরসালাত

সূরা মুরসালাতে আকর্ষণীয় বাচনভঙ্গি দিয়ে কিয়ামাতের সত্যতা ঘোষণা করা হয়। মানুষকে শুক্রবিন্দু থেকে ক্রমান্বয়ে পূর্ণাঙ্গ করা হয়, জমিনে একইসাথে সজীব ও নির্জীব বস্তু থাকে, এগুলোর স্রষ্টা আল্লাহ আখিরাতের পুনরুত্থান ঘটাবেন। অস্বীকারকারীদের জন্য সেদিন বড় দুর্ভোগ। জাহান্নামে ছায়া থাকবে না। বিশাল অগ্নিস্ফুলিঙ্গ দেখে মনে হবে হলুদ রঙয়ের উট। কোনো অজুহাত দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। আর মুত্তাকীদের জন্য থাকবে জান্নাতি ছায়া, প্রস্রবণ ও ফলমূল।


14/03/2026

#আজকের_তারাবীহ

#রামাদান_২৫

৫৮। সূরা মুজাদালাহ

সূরা মুজাদালাহ'র শুরুতে জাহিলি যুগের একটি তালাক রীতি 'যিহার' এর অসারতা এবং যিহার করে ফেললে এর কাফফারার বিধান আলোচিত হয়।

কাফির-মুনাফিকরা মুসলিমদের সাথে শান্তিচুক্তির পরও নিজেদের মাঝে কানাকানি করে ষড়যন্ত্র করত। আল্লাহ তা উন্মোচন করে দেন। মুসলিমদের নিজেদের মাঝে কানাকানি করে কথা বলা সংক্রান্ত আদব-শিষ্টাচার বর্ণিত হয়েছে।

মজলিসে বসা, অন্যদের জায়গা করে দেয়া, আমিরের নির্দেশে প্রয়োজনে একজন উঠে গিয়ে আরেকজনকে বসানো সংক্রান্ত বিধান বর্ণিত হয়েছে।

মুনাফিকরা রাসূল (সাঃ) এর সাথে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলার নাম করে তাঁর সময়ক্ষেপণ করত। এভাবে সময় চাওয়ার আগে সদকা করার হুকুম করা হয়। ফলে সাহাবাগণ তো তা পালন করেন, মুনাফিকরা খরচের ভয়ে রাসূলের সময় নষ্ট করা ছেড়ে দেয়।

মুনাফিকরা কাফিরদের সাথে বন্ধুত্ব রাখে। তারা এ দলেরও নয়, সে দলেরও নয়। এদেরকে বলা হয়েছে হিযবুশ শয়তান বা শয়তানের দল। আল্লাহ ও রাসূলের বিরুদ্ধাচারী যদি পিতা, পুত্র বা ভাইও হয়, তবুও মুমিনরা তাদের সাথে বন্ধুত্ব রাখেন না। এঁরা আল্লাহর দল বা হিযবুল্লাহ।

৫৯। সূরা হাশর

সূরা হাশর নাযিল হয় ইহুদী গোত্র বনু নাযিরের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে। শান্তিচুক্তি সত্ত্বেও তারা রাসূলকে (সাঃ) হত্যাচেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। তাদেরকে মদীনা থেকে নির্বাসনে যেতে আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। মুনাফিকদের সহযোগিতার আশ্বাস পেয়ে ডেডলাইনের পরও তারা রয়ে যায়। মুসলিমরা তাদের দূর্গ অবরোধ করে আত্মসমর্পণে বাধ্য করেন। অবরোধের উদ্দেশ্যে মুসলিমরা কিছু গাছ কাটেন। অনেকে ভেবেছিলেন কাজটা ঠিক হয়নি। আল্লাহ জানিয়ে দেন এমন প্রয়োজনের মুহূর্তে গাছ কাটা দোষের নয়। এছাড়া বনু নাযিরের ফেলে যাওয়া সম্পদ ফাই হিসেবে মুসলিমদের হস্তগত হয়। জিহাদ করে অর্জিত হয় গনিমত, আর আক্রমণ ছাড়াই হস্তগত সম্পদ ফাই। ফাই বণ্টনের বিধান বর্ণিত হয়।

মুনাফিকদের স্বভাব উন্মোচন করা হয়। তারা বনু নাযিরকে আশ্বস্ত করেছিল মুসলিমরা আক্রমণ করলে তারা প্রতিরোধ করবে বলে। কিন্তু শেষে কোনো সাহায্য করেনি। এরা অত্যন্ত ভীতু একটা জাতি। শয়তান যেভাবে মানুষকে দুনিয়াবি লোভ দেখিয়ে কাফির বানিয়ে তাদের ছেড়ে চলে যায়, মুনাফিকরাও এমন। এদের বাইরে থেকে দেখতে মনে হয় ঐক্যবদ্ধ, আসলে তাদের নিজেদের মাঝে অনেক বিরোধ। আখিরাতে এরা কাফিরদের সাথে জাহান্নামি হবে।

মুমিনদের উচিত আল্লাহকে ভয় করে, তাঁর আদেশ নিষেধ মেনে চলা এবং পরকালের জন্য কী সঞ্চয় পাঠাচ্ছে তা নিয়ে চিন্তা করা।

শেষ তিন আয়াতে আল্লাহর অনেকগুলো গুণবাচক নাম উল্লেখ করে শেষ হয় এ সূরাটি।

৬০। সূরা মুমতাহিনা

সূরা মুমতাহিনা নাযিল হয় হুদায়বিয়া সন্ধি ও মক্কা বিজয়ের মাঝামাঝি সময়ে। কাফিররা ততদিনে সন্ধি ভেঙে ফেলেছে আর রাসূল (সাঃ) মক্কা আক্রমণের গোপন প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মক্কার এক গায়িকা ইসলাম গ্রহণ না করে মদীনায় এসে আর্থিক সাহায্য চায়। কারণ মক্কায় এখন আর গানের আসর জমার অবস্থা নেই। রাসূল (সাঃ) তাকে সাহায্য দিয়ে বিদায় করেন। বদর যুদ্ধে অংশ নেওয়া এক সাহাবি হাতিব (রাঃ)। তিনি ইয়ামান থেকে মক্কায় এসেছিলেন, পরে মদীনায় হিজরত করেন। কিন্তু তাঁর পরিবার রয়ে যায় মক্কায়। অন্য সাহাবাদের যেসব আত্মীয় মক্কায় রয়ে গিয়েছিলেন, তাঁদের ভরসা ছিল যে আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণে কুরাইশ কাফিররা তাঁদের আত্মীয়দের ক্ষতি করবে না। হাতিবের (রাঃ) সেই সুবিধা ছিল না। তিনি ভাবলেন আল্লাহ তো মক্কা বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েই দিয়েছেন। এখন তিনি যদি সেই গায়িকার হাতে চিঠি দিয়ে মক্কাবাসীদেরকে আক্রমণের খবর জানিয়ে দেন, তাহলে তাঁরা হয়তো তাঁর আত্মীয়দের ক্ষতি করবে না। আল্লাহ ওয়াহী নাযিল করে জানিয়ে দেন সেই নারী চিঠি নিয়ে কোথায় পৌঁছেছে। তাকে ধাওয়া করে চিঠি ছিনিয়ে নেয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর হাতিব (রাঃ) স্বীকার করেন। তাঁকে আল্লাহ মাফ করে দেন।

সেইসাথে যুদ্ধরত কাফিরদের সাথে এরকম বন্ধুত্বের ভয়াবহতা আলোচিত হয়। ইবরাহীম (আঃ) কীভাবে তাঁর কাফির আত্মীয়দের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ ও শত্রুতা ঘোষণা করেছিলেন, তা বর্ণিত হয়। এই আদর্শ অনুসরণ করলে আশা করা যায় কিছু কাফিরকে ঈমান আনিয়ে আল্লাহ মুমিনদের বন্ধু বানিয়ে দিবেন। আর যেসব কাফির যুদ্ধরত নয়, তাদের সাথে সদাচারের অনুমতি দেয়া হয়।

হুদায়বিয়ার একটি শর্ত ছিলো কোনো ব্যক্তি মক্কা থেকে মদীনায় গেলে তাকে মক্কায় ফিরিয়ে দিতে হবে। নারীরা এ শর্তের আওতার বাইরে। তাদের কেউ ঈমান আনার দাবি করে মদীনায় আসলে তাদের যাচাই করা, কাফির স্বামীর সাথে মুমিন নারীর বিবাহবিচ্ছেদের বিধান জানানো হয়। এছাড়া কাফির নারীদের সাথে মুসলিম পুরুষদের যেসব বিবাহ বহাল ছিল, সেগুলো বাতিল ঘোষিত হয়।

৬১। সূরা সফ

সূরা সফ এর শুরুতে কথা ও কাজে মিল রাখার গুরুত্ব আলোচিত হয়।

আল্লাহর রাস্তায় সীসাঢালা প্রাচীরের মতো জিহাদ করার ফযিলত বর্ণিত হয়। জানমাল দিয়ে জিহাদ করা এমন এক ব্যবসা, যা দ্বারা মাগফিরাত পাওয়া যায়, আখিরাতের আযাব থেকে বাঁচা যায়।

বনী ইসরাইলীরা মূসা (আঃ) এর সাথে যে দুর্ব্যবহার করত, তার ফলে আল্লাহ তাদের অন্তর বক্র করে দেন। ফলে পরবর্তী নবীর ওপর তারা ঈমান আনতে পারেনি।

কাফিররা ফুঁ দিয়ে আল্লাহর নূর নিভিয়ে দিতে চায়। কিন্তু আল্লাহ তাঁর নূরকে উদ্ভাসিত করবেন।

ঈসা (আঃ) তাঁর হাওয়ারী (সাহাবি)-গণকে জিজ্ঞেস করেন কারা আল্লাহর রাস্তায় সাহায্যকারী হবে। তাঁরা আনসারুল্লাহ (আল্লাহর রাস্তায় সাহায্যকারী) হওয়ার ওয়াদা করেন। এ ঘটনা বলে মুমিনদের জিহাদে উদ্বুদ্ধ করা হয়। কাফিররা অপছন্দ করলেও আল্লাহ এ দ্বীনকে বিজয়ী করে ছাড়বেন।

৬২। সূরা জুমুআহ

সুরা জুমুআতে রাসূল (সাঃ) এর আগমনের হিকমত এবং সমগ্র মানবজাতির উপর তাঁর নবুওয়তের কথা বলা হয়। কিতাবের জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও যেসব ইহুদী খ্রিষ্টান ঈমান আনছে না, তাদেরকে কিতাব বহনকারী গাধার সাথে তুলনা করা হয়।

ইহুদীরাই আল্লাহর প্রিয়বান্দা হলে নিজেদের মৃত্যু কামনা করে দেখাক। কিন্তু নিজেদের কুফরির ব্যাপারে জানা থাকায় তা তারা করবে না।

জুমুআর সালাতে দ্রুত আসা এবং খুতবার সময় অন্য কাজে ব্যস্ত না থেকে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনার হুকুম করা হয়।

৬৩। সূরা মুনাফিকুন

সূরা মুনাফিকুনে মুনাফিকদের স্বভাব বর্ণিত হয়। তারা ঈমান আনার মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়। ঠেকনা/ঠেস দেওয়া কাঠের মতো অন্যের ওপর নির্ভর করে। যেকোনো কোলাহলকে নিজেদের বিরুদ্ধে মনে করে। তাদের কথা খুব আকর্ষণীয় মনে হয়।

বনু মুস্তালিক যুদ্ধ জয়ের পর কুয়া থেকে পানি তোলা নিয়ে বিরোধের জের ধরে মুহাজির-আনসার হাতাহাতি লাগার উপক্রম হয়। রাসূল (সাঃ) তা মিটিয়ে দেন। গনিমতের লোভে জিহাদে আসা মুনাফিকরা এ সুযোগ নিয়ে আনসারদের ভেতর জাতিয়তাবাদী চেতনা উস্কে দিতে চেষ্টা করে। সাহাবি যায়দ বিন আরকাম (রাঃ) তা রাসূল (সাঃ)-কে জানিয়ে দেন। তিনি (সাঃ) জিজ্ঞাসাবাদ করলে মুনাফিকরা জোরেশোরে অস্বীকার করে। আল্লাহ আয়াত নাযিল করে অভিযোগের সত্যতা জানিয়ে দিয়ে মুনাফিকদের তিরস্কার করেন।

হায়াত বাকি থাকতেই নেক আমল ও দানসদকা করার জন্য বলা হয়। সন্তানসন্ততি ও সম্পদের টানে পড়ে কেউ যেন দ্বীন থেকে গাফেল না হয়।

৬৪। সূরা তাগাবুন

সূরা তাগাবুনের শুরুতে সৃষ্টিজগতে আল্লাহর সর্বব্যাপী জ্ঞান ও ক্ষমতার বর্ণনা এবং পূর্ববর্তী জাতিসমূহের অবাধ্যতার কথা বলে কিয়ামাতের সত্যতা ঘোষিত হয়। সেদিন একদল লোক আরেকদলকে দেখে আক্ষেপ করবে।

কোনো বিপদআপদ আল্লাহর হুকুম ছাড়া আসে না, তাই ধৈর্য ধরে দ্বীনের ওপর থাকতে হবে।

পরিবার পরিজন হলো পরীক্ষাস্বরূপ। তারা যদি আল্লাহর নাফরমানি করতে উদ্বুদ্ধ করে, তাহলে তারা শত্রুর মতো। তবে তাওবাহ করে শুধরে গেলে ভিন্ন কথা।

আল্লাহর রাস্তায় দানসদকায় উৎসাহিত করে একে উত্তম ঋণ বলা হয়, যা আল্লাহ বহুগুণ বাড়িয়ে ফেরত দেবেন।

৬৫। সূরা ত্বালাক

সূরা ত্বালাকের বিষয়বস্তু হলো তালাক, ইদ্দত, ইদ্দতকালীন স্বামীর ঘরে থাকা, ঈদ্দতকারিণীর ভরণপোষণ, স্বামী গরীব হলে সেক্ষেত্রে ভরণপোষণের নিয়ম, সাক্ষী রাখা, সত্য সাক্ষ্য দেওয়া ইত্যাদি হুকুম আহকাম। সকল ক্ষেত্রে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করতে বলা হয়। তাহলে আল্লাহ সমাধানের পথ খুলে দেবেন এবং ধারণাতীত উৎস থেকে রিযক দেবেন।

৬৬। সূরা তাহরীম

সূরা তাহরীম নাযিল হয় রাসূল (সাঃ) এর একটি কসমের ভিত্তিতে। রাসূল (সাঃ) স্ত্রীদের ঘরে ঘরে যাচ্ছিলেন। যায়নাব (রাঃ) তাঁকে এক জাতের মধু খেতে দেন। পরে তিনি আয়িশা (রাঃ) ও হাফসা (রাঃ) এর ঘরে গেলে দুজনই তাঁর মুখ থেকে দুর্গন্ধ আসার কথা বলেন। রাসূলের (সাঃ) দুর্গন্ধ খুব অপছন্দের। তিনি আর কখনো মধু না খাওয়ার কসম করেন। এটা যেন আর কাউকে না জানানো হয়, তা বলে দেন। কারণ যায়নাব (রাঃ) জানলে কষ্ট পাবেন। কিন্তু হাফসা (রাঃ) এটি আয়িশা (রাঃ)-কে বলে দেন। এই বলে দেওয়ার ঘটনা আবার রাসূল (সাঃ) জানতে পারেন। কিন্তু হাফসা (রাঃ) লজ্জা পাবেন বলে চুপ থাকেন।

আল্লাহ আয়াত নাযিল করে রাসূলকে (সাঃ) সেই অপ্রয়োজনীয় কসমের কাফফারা আদায় করতে বলেন। আর নবীপত্নীদেরকে নসিহত করেন।

মুমিনদেরকে পরিবার পরিজন মিলে ইবাদাত করে সকলে জাহান্নাম থেকে বাঁচতে বলা হয়। এ মর্মে কয়েকজন নারীর কথা বলা হয়, যারা বিভিন্নরকম। একদিকে লূত (আঃ) ও নূহ (আঃ) এর স্ত্রীদ্বয়, যারা ছিলো নেক লোকের পাপাচারী স্ত্রী। আরেকদিকে আসিয়া (আঃ) যিনি ছিলেন পাপাচারী লোকের নেক স্ত্রী। আর মারইয়াম (আঃ) যিনি সতীত্ব রক্ষা করেন এবং অলৌকিকভাবে ঈসা (আঃ) এর মা হন।


13/03/2026

#আজকের_তারাবীহ

#রামাদান_২৪

৫১। সূরা যারিয়াত, আয়াত ৩১ থেকে ৬০

কওমে লূত, ফিরআউন, আদ, সামূদ এবং কওমে নূহের অবাধ্যতা, বর্তমানের কাফিরদের সাথে তাদের সাদৃশ্য ও পরিণাম বর্ণিত হয়েছে।

আসমান-জমিন এবং জোড়ায় জোড়ায় বস্তু সৃষ্টিকারী এক আল্লাহর ইবাদাত করতে এবং তাঁর সাথে শরীক না করতে হুকুম করা হয়।

পূর্বের ও বর্তমানের কাফিররা নিজ নিজ যুগের নবীদের উন্মাদ, যাদুকর ইত্যাদি অপবাদ দেয়। এদের সকলেরই শাস্তির পালা এসেছে বা আসবে।

জ্বীন ও মানুষকে একমাত্র আল্লাহর ইবাদাতের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। আল্লাহ আমাদের কাছে রিয্ক চান না, তিনি নিজেই রিয্কদাতা।

৫২। সূরা তূর

সূরা তূরে বিভিন্ন বস্তুর কসম করে আসন্ন অবশ্যম্ভাবী আযাবের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। কাফিরদের শাস্তির কথা বলা হয়েছে। জান্নাতে মুত্তাকী এবং তাদের অনুগামী সন্তান সন্ততির মধুর পুনর্মিলন, বাসস্থান, পানাহার, বসার জায়গা, সঙ্গী ও খুনসুটির বর্ণনা দেওয়া হয়। পৃথিবীর ভয়ের জীবন থেকে এই নিরাপদ জীবনে আনায় তারা আল্লাহর শোকরগুজার হবে।

কাফিররা রাসূল (সাঃ)-কে কবি বলে যে অপবাদ দিত, সে ব্যাপারে তাদের বুদ্ধিমত্তার কাছেই প্রশ্ন রাখা হয়েছে। কারণ স্বভাষী হিসেবে তারা স্পষ্টতই বুঝতে পারছিল কবিদের স্বরচিত কথাবার্তা এরকম হয় না। কাফিরদের নানাবিধ অক্ষমতার কথা একে একে উল্লেখ করার পাশাপাশি আল্লাহর বড়ত্বকে স্পষ্ট করা হয়। ফেরেশতারা আল্লাহর কন্যা, আর তাদের নিজেদের পছন্দ পুত্রসন্তান- এরকম হাস্যকর আকিদাকে তিরস্কার করা হয়। মু’জিযা দেখার আবদার করলেও এরা যে সেগুলোকে প্রাকৃতিক কোনো ব্যাখ্যা দিয়ে এড়িয়ে যাবে, তা উল্লেখ করা হয়। আসন্ন আযাবের অপেক্ষায় তাদেরকে ছেড়ে দিতে বলা হয়। ইবাদাত ও তাসবীহ পাঠ করে আত্মিক শক্তি লাভ করার নিয়ম জানানো হয়, যাতে এসব যন্ত্রণা মোকাবেলা সহজ হয়।

৫৩। সূরা নাজম

সূরা নাজমে নক্ষত্রের (যা দেখে মানুষ পথ চেনে) কসম করে বলা হয়েছে রাসূল (সাঃ) পথভ্রষ্ট নন। জিবরীল (আঃ) তাঁর নিকট ওয়াহী নিয়ে আসার দৃশ্য বর্ণিত হয়। জীবরীলকে রাসূল (সাঃ) দু’বার তাঁর প্রকৃত আকৃতিতে দেখেছেন। একবার ওয়াহী আনার সময়, আরেকবার মিরাজে সিদরাতুল মুনতাহা নামক কুল গাছের নিকটে। এছাড়াও মিরাজের রাতে রাসূলকে (সাঃ) আরও অনেক বড় বড় নিদর্শন দেখানো হয়েছে।

লাত, মানাত, উযযা দেবীকে কাফিররা আল্লাহর কন্যা বলত। তাদের এ শির্কি বিশ্বাস খণ্ডন করে বলা হয় এগুলো অস্তিত্বহীন সত্ত্বা, তাদের বাপদাদার রাখা কাল্পনিক কিছু নাম মাত্র। ফেরেশতাদেরও তারা কল্পিত মেয়েলি নামে ডাকে। দেবদেবীদের তারা আল্লাহর নিকট সুপারিশকারী ভাবে, অথচ সম্মানিত ফেরেশতারাও এরকম সুপারিশের অধিকার রাখেন না।

দুনিয়ার জীবনকে সবকিছু মনে করা ব্যক্তিদের চিন্তার সীমাবদ্ধতা দেখানো হয়েছে। কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা, কদাচিৎ ভুল করা মুমিনদের ক্ষমার ঘোষণা দেওয়া হয়। আত্মপ্রশংসা করতে নিষেধ করা হয়।

মানুষ যা চায় তা-ই পাবে না। সে যা কর্মপ্রচেষ্টা করবে, তার প্রতিদানই পাবে। আখিরাতে সব কাজের প্রতিফল দিয়ে দেওয়া হবে।

হাসি-কান্নার উপলক্ষ দান, জীবন-মৃত্যু দান, তুচ্ছ পানি হতে নারী-পুরুষ সৃষ্টি, পূর্বেকার অবাধ্য জাতিসমূহের ধ্বংস আল্লাহই ঘটান। একদল কাফির শি'রা নামক এক বিশাল নক্ষত্রের পূজা করে, সেই নক্ষত্রের মাবুদও আল্লাহ। অতএব হাসিঠাট্টা ও অহংকার ত্যাগ করে আল্লাহর আযাবের ভয় ও দয়ার আশায় ক্রন্দন এবং সেজদা করতে হবে।

৫৪। সূরা ক্বমার
সূরা ক্বমারের শুরুতে চাঁদ দ্বিখণ্ডিত করার মু’জিযার কথা উল্লেখ করা হয়। এর সংঘটন কিয়ামাত নিকটবর্তী হওয়ার আলামত। তা দেখেও কাফিরদের ঈমান না আনাকে তিরস্কার করা হয়। এর আগেও কিতাবের জ্ঞানগর্ভ বাণী শুনেও তারা কুফরে অটল থেকেছে। কিয়ামাত দিবসের ভয়াবহতা দেখে তারা বিমূঢ় হয়ে যাবে।

কওমে নূহ, আদ, সামূদ, কওমে লূত ও ফিরআউনের অবাধ্যতা ও পরিণাম বর্ণিত হয়। মু’জিযা দেখেও তারা কীভাবে কুফরি করত, তা বলা হয়। এখনকার কাফিররা তো তাদেরই একটা দল, শক্তিতেও তাদের চেয়ে কম। এদের জন্য দুনিয়ার আযাব তো আছেই, সেই সাথে আছে আখিরাতের ভয়াবহতা। আল্লাহ কুরআনকে উপদেশ গ্রহণের জন্য সহজ করে দিয়েছেন। অতএব আছে কি কেউ উপদেশ গ্রহণ করার?

৫৫। সূরা আর-রহমান

সূরা আর-রহমানে জ্বীন ও মানুষের প্রতি দয়াময় আল্লাহর বিবিধ নিয়ামাতের কথা স্মরণ করানো হয়েছে যেগুলো অস্বীকারের উপায় নেই। কুরআন শিক্ষা দান, মাটি থেকে মানুষ ও আগুন থেকে জ্বীন সৃষ্টি, ভাবপ্রকাশের ক্ষমতা, চাঁদ, সূর্য, বৃক্ষ, আকাশ, জমিন, ফলমূল, ফসল, উদয়াচল, অস্তাচল, সাগরতলের দ্রব্যাদি ও তাতে চলমান যান।

আল্লাহ ছাড়া এ সবই ধ্বংস হবে। মানুষ ও জ্বীন এই দুই ওজনদার সৃষ্টিকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। কিয়ামাত সংঘটন জাহান্নামের ভেতর কাফিরদের ছুটোছুটির ভয়াল চিত্র আঁকা হয়।

মুত্তাকীদের জন্য জান্নাতে রাখা একাধিক উদ্যান, প্রস্রবণ, এগুলোতে বিদ্যমান ফলমূল, কার্পেট, বসার জায়গা এবং পূর্বে কেউ স্পর্শ করেনি এমন পবিত্র সঙ্গীর বর্ণনা দেওয়া হয়।

৫৬। সূরা ওয়াক্বিয়া

সূরা ওয়াক্বিয়া'য় বলা হয় অবশ্যম্ভাবী কিয়ামাত সবকিছুকে উঁচুনিচু করে দেবে, দুনিয়ার অহংকারীরা নীচু হয়ে যাবে, অবহেলিত মুমিনরা উঁচু মর্যাদার হবে। বিচারের পর সকলে তিন দলে ভাগ হবে- ডান হাতের দল, বাম হাতের দল ও অগ্রগামী দল।

অগ্রগামীরা তাকওয়ার উঁচু পর্যায়ের লোক। তাঁদের অধিকাংশ হবেন পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে, অল্পসংখ্যক পরবর্তীদের থেকে। তাঁদের পাওনা জান্নাতের বাগান, প্রস্রবণ, ফলমূল, গোশত, পানপাত্র, পানীয়, চিরকিশোর পরিচারক, বসার জায়গা, হুর ইত্যাদির বর্ণনা দেওয়া হয়।

ডান হাতে আমলনামা পাওয়া ব্যক্তিরাও নেককার। তাঁদের অনেকে পূর্ববর্তীদের মধ্য হতে, অনেকে পরবর্তীদের মধ্য হতে। তাঁদের জান্নাতেরও বর্ণনা দেয়া হয়। নবযৌবনশীলা কুমারী প্রেমময়ী নারীদের কথা বলা হয়, যা দ্বারা দুনিয়ার নেককার নারীও বোঝানো হতে পারে, হুরও বোঝানো হতে পারে।

বাম হাতে আমলনামা প্রাপ্তরা হলো কাফিররা। তাদের প্রাপ্য জাহান্নামী কাঁটাদার গাছ ও তপ্ত পানির বর্ণনা দেওয়া হয়।

মানুষের জন্ম-মৃত্যু, ফসল উদগমন, বারিপাত সবই আল্লাহর হুকুমের অধীন। তিনি দ্বিতীয়বার সৃষ্টি করে আখিরাত কায়েম করতে পারবেন না- এটা কেমন করে কেউ বিশ্বাস করতে পারে?

জ্যোতিষীরা খবরাদি পায় নাপাক জ্বীনশয়তানদের কাছ থেকে। অথচ কুরআন নিয়ে আসেন পবিত্র ফেরেশতাগণ। এতে বর্ণিত আখিরাত সত্য। সেদিন ডানদল, বামদল, অগ্রগামী দল সবাই নিজ নিজ প্রতিদান পাবে।

৫৭। সূরা হাদীদ
সূরা হাদীদ নাযিল হয় মক্কা বিজয় করে রাষ্ট্র ক্ষমতা অধিকার করে মুসলিমদের শক্তিশালী অবস্থা চলে আসার পর। মুসলিমদেরকে দুনিয়াবিমুখ করতে আল্লাহপ্রদত্ত সম্পদ থেকে দানসদকা করার হুকুম করা হয়। এগুলো তো আল্লাহরই দেওয়া সম্পদ, তাই দান করতে কার্পণ্য করা অনুচিত। দানসদকা হলো আল্লাহকে প্রদত্ত উত্তম ঋণ, যার যথাযথ প্রতিদান তিনি দিবেন।

কিয়ামাতের দিন মুমিন নারীপুরুষদের নূর দেওয়া হবে, যা দিয়ে তারা পথ চলবে। মুনাফিকরা সেই আলো দিয়ে পথ চলতে চাইবে। কিন্তু তাদের মাঝে অন্তরাল সৃষ্টি করে মুমিনদের রহমতে রাখা হবে আর মুনাফিকদের আযাব দেয়া হবে।

মুমিনদেরকে দুনিয়ার প্রতি অনাসক্ত থাকতে বলা হয়। দুনিয়ার ভোগবিলাস তো সবুজ থেকে হলুদ হয়ে ধ্বংস হয়ে যাওয়া ফসলের মতো যার জৌলুস অস্থায়ী। আর দুনিয়ায় যা বিপদআপদ আসে, তা আমাদের সৃষ্টির আগেই তাকদিরে লেখা ছিল। তাই ভালো কিছু পেয়ে আত্মহারা হওয়া যাবে না, বিপদে পড়লে একেবারে ভেঙে পড়া যাবে না। আল্লাহর রাস্তায় দানসদকা করতে হবে। কৃপণ ও কৃপণতায় উৎসাহদাতা অহংকারীদের আল্লাহ পছন্দ করেন না।

আল্লাহ রাসূল ও কিতাব পাঠানোর পাশাপাশি তুলাদণ্ড ও লোহা নাযিল করেছেন। যাতে মুমিনরা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে এবং ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদ করে।

খ্রিষ্টান সন্ন্যাসীরা বৈরাগ্যবাদী জীবনযাপন করে আল্লাহকে খুশি করতে চাইত। কিন্তু এভাবে সাংসারিক দায়িত্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া আল্লাহর হুকুম নয়।


Address

Chittagong

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Chillax Zone BD posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share