01/05/2026
পরমারাধ্যা জগজ্জননী শ্রীশ্রীবড়মা' র ৫৬তম তিরোধান তিথিতে সৎসঙ্গ অধিবেশন কেন্দ্র-আনন্দবাজার পরিবারের শ্রদ্ধার্ঘ্য🙏🙏🙏
"... ... বড় বৌ কাছে বসে যখন খাওয়ায়, তখন টেরই পাই না কতটা খেলাম, খাওয়ার পরে টের পাই। তাই খাবার সময় বড়বৌ কাছে না থাকলে আমার খাওয়াই হয় না।
বড় বৌয়ের সঙ্গে আমার বিয়ে না হলে আমি গেছিলাম আর কি! আমার হাতে পড়ে ওকে আজীবন তাফাল কম সইতে হয়নি, কিন্তু ও বরাবর সমানে খুশি, আমার চলার পথে কোন অন্তরায় তো সৃষ্টি করেইনি বরং হাসিমুখে আমার সহায়করূপে আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। আর গিন্নীও বড় পাকা গিন্নী, বড়বৌ যেমন সুশৃঙ্খলভাবে অল্পের মধ্যে সংসার চালায়, অমন আজকাল খুব কম দেখা যায় ... ...।"
আলোচনা প্রসঙ্গে একদিন এই কথাগুলি বলছিলেন স্বয়ং পরমারাধ্য শ্রীশ্রীঠাকুর তাঁরই লীলাসঙ্গিনী পরমারাধ্যা শ্রীশ্রীবড়মা সম্পর্কে। পরমপুরুষ ও পরমাপ্রকৃতির এ এক অপূর্ব মিলন ! পূর্বের সূত্র ধরে মর্ত্যে নেমে এসে লীলার ছলে প্রশমিত করেছেন ত্রিতাপদগ্ধ মানবের প্রাণ। ধন্য হল আজ মানবকুল, সার্থক হল তাদের মানবজনম। এই যুগলমূর্ত্তি ভক্ত-অন্তঃকরণে সারা জীবন ধ'রে জ্বলন্ত হয়ে থেকে তাদের সাধনার পথ প্রশস্ত করে দেবেন, বিশ্বাস-ভক্তির অধিকারী করে তুলবেন, ইহকাল-পরকালের পথ উজ্জ্বল করে মানবজাতিকে পরম-প্রাপ্তির গন্তব্যস্থলে উপনীত করাবেন। তাঁরাই হলেন একমাত্র আশ্রয়স্থল, অগতির গতি, অনাথের নাথ। যুগে যুগে ত্রাণের পথ দেখিয়ে দেওয়ার জন্য নরবিগ্রহ ধারণ ক'রে নেমে আসেন মর্ত্যে। আর্তমানবকে নানাভাবে ত্রাণের উপায় দেখিয়ে দিয়ে নরলীলা সম্বরণ ক'রে আবার চলে যান স্বধামে ----বৈকুণ্ঠে।
বাংলা ১৩০১ সাল। শ্রাবণ মাস। ভরা বর্ষাকাল। কখনও ঝরছে বৃষ্টি, কখনও চলছে মেঘ-রোদ্দুরের খেলা। তারই ছন্দে ছন্দে উল্লসিত হ'য়ে সদলবলে ভেক বর্ষার গুণগান করছে, ঝিঁঝির ডাক একটানা চলছে। পাখির ডাক শোনা যাচ্ছে। চতুর্দ্দিকে ফুটে উঠেছে বর্ষার অপরূপ সৌন্দর্য্য। এমন একদিনের মধুময় ঊষালগ্নে ধরাধামে অবতীর্ণ হলেন পরমাপ্রকৃতি স্বয়ং। ধরিত্রী যেন এতদিন ধরে হৃদয় আসন পেতে রেখে তাঁরই প্রতীক্ষায় উদগ্রীব হয়ে বসেছিলেন। সেই দিনটি ছিল শ্রাবণ মাসের ১৪ তারিখ, রবিবার, কৃষ্ণা দ্বাদশী তিথি। ইংরাজী ১৮৯৪ সালের ২৯শে জুলাই।
মা ত্রিনয়নী দেবী সেই সময় ছিলেন পিতৃগৃহে ----গাঁড়াদহে। পাবনা জেলারই এক অখ্যাত পল্লী ----এই গাঁড়াদহ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর এই গ্রামখানির এদিক থেকে ওদিক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে এই সুসংবাদটি। মায়েদের মুখে মুখে প্রচারিত হচ্ছে ----ত্রিনয়নীর একটি কন্যা সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়েছে। কি সুন্দর ! দেখলেই মন প্রাণ উদ্বেলিত হ'য়ে ওঠে। তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করে। মুখখানি যেন সদ্য প্রস্ফুটিত শতদল। কি যেন এক অদ্ভুত মায়া আছে চোখদুটিতে।
দিদিমার আঁচলের ধন এই মেয়েটি ক্রমে ক্রমে চন্দ্রকলার মত বড় হয়ে উঠতে লাগলেন। হাসে, কথা কয়, খেলে, স্কুলেও যায়। সবাই আবদার করে ডাকে ফটকী বলে। নাম হল ষোড়শীবালা। চিত্তাকর্ষী তার প্রতিটি আচার-আচরণ। পার্থিব জগতে থাকলেও চলন-চরিত্র যেন অন্য কোনও এক অজানা রাজ্যের। যে একবার দেখেছে ----সে-ই অভিভূত হ'য়ে পড়েছে। মুগ্ধ হ'য়ে গেছে তার শান্ত, সৌম্য মূর্ত্তি দেখে, আচার ব্যবহার দেখে।
তারপর একদিন ষোড়শীবালা ফিরে এলেন জন্মদাতা পিতা রাম গোপাল ভট্টাচার্যের কাছে। রাম গোপাল ভট্টাচার্য মহাশয় ধোপাদহ গ্রামের একজন অতি সজ্জন সাত্ত্বিক সুপণ্ডিত ব্রাহ্মণ। পাবনা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক। অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই পিতার নয়নমণি হ'য়ে উঠল মেয়েটি। আর এদিকে সামান্য বয়সবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তৎকালীন নিয়মানুসারে উপযুক্ত পাত্রের সন্ধানে ব্যস্ত হ'য়ে পড়েন পিতা। ইং ১৯০৬ খৃষ্টাব্দের ১৩ আগস্ট তারিখে বিবাহ সুসম্পন্ন হল পরমভাগবত পূজ্যপিতা শিবচন্দ্র চক্রবর্তীর প্রথমাত্মজ লোকপাবক শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের সঙ্গে। এইভাবে জাগতিক নিয়মানুসারে তাঁদের লৌকিক মিলন সংগঠিত হল।
যুগত্রাতা পরমদয়াল শ্রীশ্রীঠাকুর তখনও ঠাকুর বলে প্রচারিত হন নাই। হাইস্কুলের ছাত্র। তখন থেকেই তিনি নানান গূঢ় উপদেশ দিয়ে তাঁর বালিকা-বধূর কাছে চিঠি লিখতেন। কলিকাতায় ডাক্তারী কলেজে পড়ে থাকার সময় একবার লিখেছিলেন---- "... ...সংসারে সকলই নূতন। মনে ক'রে দেখ, কাল তুমি কেমন ছিলে, আজ আবার কেমন হইয়াছ ! আমি কাল বা কেমন ছিলাম আজ আবার কেমন হইয়াছি ! আমাদের বাল্য, কৈশোর কোথা দিয়া চলিয়া গিয়াছে, আমরা কিছুই ঠিক পাই নাই। সংসারে বাহিরের সকলই নিত্য নূতন ----সকলই পরিবর্ত্তনশীল। আজ যাহা দেখিতেছ কাল আর তাহা দেখিবে না। রূপ-যৌবন অর্থ-সম্পত্তি আচার-ব্যবহার ইত্যাদি যাহা কিছু বল-না বা দেখ-না, আজ যাহা বলিবে বা দেখিবে কাল আর তাহা বলিবে না বা দেখিবে না। সংসার চির-নূতন বা চির-পরিবর্ত্তনশীল, তবে বল দেখি কিসের পরিবর্ত্তন নাই ? পরিবর্ত্তন নাই আত্মার। তুমি-আমি যখন গর্ভে ছিলাম, প্রাণ বা আত্মা তখন যেমন ছিল আজও তেমনই আছে। এই আত্মাই এ বিশ্ব-সংসারে প্রধান কর্ম্মী। এই আত্মার যাহা ইচ্ছা তাহাই ঘটিয়া থাকে এবং চিরকালই ঘটিবে। এই আত্মার মিলনই বিবাহ, বিচ্ছেদই বিরহ।
চির-পরিবর্ত্তনশীল মনকে যদি অপরিবর্ত্তনীয় করিয়া চির-স্থির প্রাণের সহিত একত্রে নিরবচ্ছিন্নভাবে মিশাইয়া রাখিয়া যদি ভালবাসা যায়, তাহাকেই প্রকৃত ভালবাসা বলে এবং সেই ভালবাসার সহিত-ই ধর্ম্ম-অর্থ-কাম-মোক্ষ নিরবচ্ছিন্নভাবে বিরাজমান থাকে। সে ভালবাসায় কামের ঘৃণিত লালসা নাই, সে ভালবাসায় ক্রোধের করাল মূর্ত্তি নাই, সে ভালবাসা লোভশূন্য, সে ভালবাসা মোহের ফাঁদে জীবকে জড়ায় না, সে ভালবাসায় নিম্নাকর্ষণকারী মায়া নাই, সে ভালবাসায় কেবল ভালবাসা ----নিরবচ্ছিন্ন ভালবাসা। সে ভালবাসায় বিশ্ব বিকশিত হয়, সে ভালবাসায় বিরহ নাই ----ভেদ নাই ----সে ভালবাসায় স্বামী-স্ত্রীর প্রাণ এক হ'য়ে যায়। দেবতাগণের যত পৃথিবী আছে সমস্ত পৃথিবী একত্র হইলেও তাহাতে বিরহ আনিতে পারে না, যদি ভালবাসিতে হয় তবে ঐরূপ ভালবাসাই উচিত ... ...।"
অন্য এক পত্রে তিনি লিখেছিলেন, ----"যে তাঁর নাম করে, তার শারীরিক মানসিক সর্ব্বপ্রকার ব্যাধি বিনষ্ট হয়। তিনি অমৃত ----তাঁর নাম অমৃতময়, যে যত বেশী পান করে তার তত আনন্দ। নিঃসন্দেহে প্রাণ খুলে বিশ্বাস করে তাঁর নাম কর ----আনন্দে উথলে উঠবে ----অমৃতময় হয়ে উঠবে।"
শ্রীশ্রীঠাকুরের প্রতি শ্রীশ্রীবড়মার শ্রদ্ধা, ভালবাসা, অনুরাগ অত্যন্ত গভীর ----আমাদের মত সাধারণ মানুষের বোধের অগম্য। তিনি পরমপুরুষের অঙ্গজ্যোতি ----সম-বিপরীত সত্তা। লীলা-সঙ্গিনীরূপেই আবির্ভূত হয়েছেন। স্বামীই তাঁর যথাসর্ব্বস্ব ----প্রাণধন। স্বামীই তাঁর পরমগুরু ----ভগবান। স্বামী ছাড়া তাঁর কিছুই নেই। স্বামীকে কেন্দ্র ক'রে তিনি সংসারে প্রবেশ করেছেন। স্বামীকেই কেন্দ্র করে আপন করে নিয়েছেন সবাইকে। স্বামীর মনোবৃত্তানুসারিণী তিনি। স্বামীর সুখেই সুখী, স্বামীর দুঃখে দুখী ----স্বামীই তাঁর অস্তিত্বের সবটুকু। নিজের সুখ-দুঃখের প্রতি কোন খেয়াল নেই তাঁর। শ্রীশ্রীবড়মার স্বামী-সেবা সম্পর্কে কত যে চিত্তাকর্ষক কাহিনী শুনেছি। একদিনের একটা ঘটনা। শ্রীশ্রীবড়মার শরীরে ১০৪ ডিগ্রী জ্বর। কাতরাচ্ছেন। শ্রীশ্রীঠাকুর তখন বললেন, "বড়বৌ খাওয়াবে না ?" অম্লান বদনে শ্রীশ্রীবড়মা চলে গেলেন রান্নাঘরে। মুখে রোগযন্ত্রণার এতটুকুও চিহ্ন নাই। কর্মব্যস্ততার মধ্যেই তাপমাত্রা নেমে এলো স্বাভাবিক অবস্থায়। তিনি রান্না করে শ্রীশ্রীঠাকুরকে খাওয়ালেন।
আর একদিনের একটি সুন্দর ঘটনা। পূজনীয় ছোঁড়দা আশ্রমে থিয়েটার করবেন। কিন্তু শ্রীশ্রীবড়মা না আসার জন্য শুরু করতে পারছেন না। এদিকে রাত বেড়ে চলেছে। সবাই উৎকণ্ঠা নিয়ে বসে আছেন। অবশেষে পূজনীয় ছোড়দা লোক পাঠালেন মায়ের কাছে। তখনও কিন্তু শ্রীশ্রীঠাকুরের ভোগ হয়নি। শ্রীশ্রীবড়মা ঐ দাদাটির কাছে বলে পাঠালেন, "যা বল গা ----ঠাকুরের ভোগ না হওয়া পর্যন্ত যম এলেও কোথাও যাব না।"
পতিব্রতা নারীর এক চূড়ান্ত নিদর্শন শ্রীশ্রীবড়মা। স্বামীকে স্বস্তি দেওয়ার মধ্যে খুঁজে পেতেন নিজের জীবনের স্বস্তি, আনন্দ। স্বামীর আনন্দই তাঁর আনন্দ। প্রতিটি মুহূর্তই অতন্দ্র প্রহরীর মত সজাগ থাকতেন স্বামীর জন্য। এক সময়ের আর একটি চমৎকার ঘটনা। শ্রীশ্রীঠাকুর তখন দুমকায়। বাইরে তাঁবুতে শুয়ে আছেন। লোকজন অনেকেই পাহারা দিচ্ছেন। তবুও শ্রীশ্রীবড়মা কাউকে কিছু না বলে, কাউকে কিছু না জানিয়ে বসে আছেন বারান্দায়। সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে শ্রীশ্রীঠাকুরের ওপর। শুধু সেদিনই নয়। প্রতিদিন শ্রীশ্রীঠাকুর যেখানে থাকেন শ্রীশ্রীবড়মার সতর্ক দৃষ্টি সেখানেই।
স্বামী সেবা সম্পর্কে এমন দিব্য কাহিনী অনেক শুনেছি। শুধু তাই নয়, স্বামী সেবা ছাড়াও সংসারে সবারই ওপর তাঁর প্রত্যক্ষ দৃষ্টি ছিল। প্রতি-প্রত্যেককেই যথাবিধি সেবা-শুশ্রূষার মধ্যে দিয়ে সন্তুষ্ট রাখার প্রাণপণ চেষ্টা করতেন। অনেক সময় নানান গঞ্জনা, কটূক্তিও নীরবে সহ্য করতে হয়েছে। তাছাড়া বহিরাগত অভ্যাগত অতিথি-সেবা তো লেগেই থাকে। সবারই সেবা সম্পন্ন করার পর রাত্রে বিশ্রামের সময় আবার ছুটতে হয় শাশুড়ির পা মালিশ করার জন্য। যতক্ষণ না শাশুড়ির ঘুম আসে ততক্ষণ পা মালিশ করেই যেতেন। তারপর ছিল তাঁর বিশ্রাম। বিশ্রামের সময় ছিল তাঁর খুবই কম। তাই দেখে প্রত্যক্ষদর্শী যাঁরা তাঁরা বলছিলেন---- "এই বড়ির বধূটি মানুষ নয়, অদম্য প্রাণ-শক্তিতে ভরপুর অশ্রান্ত কর্ম করার একটি সজীব যন্ত্রবিশেষ। যন্ত্রেরও বরং বিরতি আছে, বিরতি নেই শুধু এই বধূটির।"
শ্রীশ্রীবড়মার জীবন ছিল এক শান্ত সমুদ্রের মত গভীর। বিবাহিত কাল থেকে জীবনের অন্তিম কাল পর্যন্ত কেউ কোনদিন তাঁকে বিচলিত হওয়া দেখেনি, দেখেনি মুখে কোন রকমের বিরক্তির চিহ্ন। সংসারের অযুত ঘাত প্রতিঘাত, ঝড়-ঝঞ্ঝা, ব্যথা-বেদনার মধ্যেও তিনি ছিলেন ধীর-স্থির শান্ত। কোনও অনুযোগ অভিযোগ তাঁর ছিল না। মা আমার সর্ব্বংসহা ধরিত্রী। স্বামীর মুখের দিকে তাকিয়ে অকাতরে করে গেছেন সমস্তই। সেইজন্য দেখতাম শ্রীশ্রীঠাকুরের চলন, বলন, সবকিছু ছিল তাঁর জীবনের মহামন্ত্র। মনে প্রাণে সেই মহামন্ত্র অন্তরে পোষণ করে সকলকে জানাতেন। একবারের একটি ঘটনা। শ্রীশ্রীঠাকুর কয়েকটা টাকা রাখতে দিয়েছিলেন শ্রীশ্রীবড়মার কাছে। অনেক দিন হয়ে গেছে। মনে থাকার কথা নয়। একদিন হঠাৎ ঠাকুর চেয়ে বসলেন সেই টাকাটা। যেমনভাবে দিয়েছিলেন শ্রীশ্রীঠাকুর, শ্রীশ্রীবড়মাও সেই টাকা কয়টি ঠিক তেমনভাবেই দিয়ে দিলেন। টাকা-পয়সার কত সমস্যাই তো ইতিমধ্যে পার হয়ে গেছে, কিন্তু কোন প্রয়োজনবশতঃই একটি টাকাও পরিবর্ত্তন করে রাখেনি।
পরিবর্ত্তন করাটা যে go-between ----দ্বন্দ্বীবৃত্তি। শ্রীশ্রীঠাকুর তা পছন্দ করেন না। তাই তিনি প্রতিটি ক্ষেত্রেই খুব সতর্ক হয়ে চলতেন। এমনি করেই তিনি স্বামীর প্রকৃত মনোবৃত্তানুসারিণী হ'য়ে উঠতেন।
শ্রীশ্রীবড়মা মহাসমুদ্রেরই এক শান্ত রূপ। তাঁর সংস্পর্শে এলে প্রাণ সুশীতল হয়ে যায়, পায় আশ্রয়, পায় গভীর বিশ্বাস, সান্ত্বনা।
কত ঘটনা মনে পড়ছে আজ। এক সন্তানহীনা মা, দুঃখ বেদনায় তার অন্তঃস্থল জর্জরিত। কতই না আক্ষেপ জননী হতে না পারায়। প্রচুর অর্থ আছে, নাই শুধু কোল জুড়ে থাকার মত একটি সন্তান। শ্রীশ্রীবড়মার মাতৃহৃদয় বিগলিত হ'য়ে উঠল। তিনি বোঝেন মা হতে না পারার কি জ্বালা ! ব্যথাতুর প্রাণে সান্ত্বনা দিয়ে আশীর্বাদ করলেন। শ্রীশ্রীবড়মার আশীর্বাদে একটি সুন্দর সন্তানের জননী হল সেই মা। এরকম ঘটনা একটি-দুটি নয় -----অসংখ্য।
শ্রীশ্রীবড়মা শ্রীশ্রীঠাকুরেরই অন্য এক রূপ। তাঁর জীবনের দিব্যকাহিনী বলে শেষ করা অসম্ভব। তাঁর স্নেহের সুশীতল ছায়ায় শ্রীশ্রীঠাকুরের শ্রীচরণাশ্রিত সহস্র সহস্র আর্ত, পীড়িত, নরনারী লোকচক্ষুর অন্তরালে সঞ্জীবিত হয়ে উঠেছে, তাঁর করুণা-প্রীতি-মমতায় বর্দ্ধিত হ'য়ে ইষ্টপথে ছুটে চলেছে। তাঁর স্নেহের তুলনা নাই। তাঁর সেই দীপ্ত অথচ স্নেহ-কোমল সেবামুখর ব্যক্তিত্বের দিব্য-মহিমা সর্বকালে সর্ব্বজনের ধ্যানের বস্তু হয়ে থাকবে।
মা, আজ তোমার আবির্ভাব দিবস। আশীর্ব্বাদ কর মা, আমিও যেন তোমার সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় লাভ করে ইষ্টপথে ছুটতে পারি। প্রণাম তোমার রাঙ্গা আশীষ চরণে ----তোমার এই শুভ আবির্ভাব দিবসে।
সমাপ্ত---
Compiler : Sri Nirmalya Debnath
Bongaigaon
Assam.
*** [উক্ত রচনা ----'সৎসঙ্গ' - দেওঘর, ঝারখণ্ড থেকে প্রকাশিত মাসিক পত্রিকা 'আলোচনা', শ্রাবণ- ১৩৯১ (৩৬ বৰ্ষ, নবম সংখ্যা, অনুকূলাব্দ- ৩৮) -এর শ্রীহোমেশ্বর কাকতী রচিত ----'পরমারাধ্যা জগজ্জননী শ্রীশ্রীবড়মা' ----নামক নিবন্ধ থেকে নেওয়া।]