22/11/2025
🍁🌿 কেন দীক্ষা নিবেন❓কার কাছ থেকে দীক্ষা নিবেন❓অপসম্প্রদায় থেকে দীক্ষা নিলে তার কি ফল❓চারটি প্রামাণিক বৈষ্ণব সম্প্রদায় কী কী? প্রমাণিক সম্প্রদায় থেকে কেন দীক্ষা নিতে হবে?
উত্তর: পদ্মপুরাণে বলা হয়েছে---
সম্প্রদায়বিহীনা যে মন্ত্রাস্তে নিষ্ফলা মতাঃ। অতঃ কলৌ ভবিষ্যন্তি চত্বারঃ সম্প্রদায়িনঃ।
শ্রী-মাধ্বী-রুদ্র-সনকা বৈষ্ণব্য ক্ষিতিপাবনাঃ। চত্বারস্তে কলৌ দেবী সম্প্রদায়প্রবর্ত্তকাঃ॥১॥
অর্থাৎ, যাঁরা সম্প্রদায়-বিহীন বা কোনও সম্প্রদায়-ভুক্ত নন, তাঁদের মন্ত্র ফলদায়ক হয় না। এইজন্য কলিকালে শ্রী, মাধ্ব, রুদ্র ও সনক এই চারজন ক্ষিতি-পাবন বৈষ্ণব আবির্ভূত হয়ে চারটি সম্প্রদায় প্রবর্ত্তন করবেন।
🌿 ''শ্রী ব্রহ্ম রুদ্র সনক বৈষ্ণব ক্ষিতিপাবন
চত্বারন্তে কলৌ ভব্য হি উৎকলে পুরুষোত্তম''।।
(পদ্মপুরাণ)
অর্থাৎ জগতের পবিত্রতা সম্পদানকারী শ্রী, ব্রহ্ম, রুদ্র ও সনক, এই কলিযুগে চারটি সম্প্রদায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ থেকে বা উৎকল দেশ পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীজগন্নাথ থেকে আবির্ভূত হবে।।
🌿 ভক্তমাল-গ্রন্থে দেখতে পাই,---
“রামানুজং শ্রীঃ স্বীচক্রে মধ্বাচার্য্যং চতুর্ম্মুখঃ। শ্রীবিষ্ণুস্বামিনং রুদ্রো নিম্বাদিত্যং চতুঃসনঃ॥”
অর্থাৎ-শ্রী (লক্ষ্মী) রামানুজকে, চতুর্ম্মুখ (ব্রহ্মা) মধ্বাচার্য্যকে, রুদ্র (মহাদেব) শ্রীবিষ্ণুস্বামীকে এবং চতুঃসন (সনক, সনন্দ, সনাতন, সনৎকুমার) নিম্বাদিত্যকে আপনি আপন সম্প্রদায়-প্রবর্ত্তকরূপে স্বীকার করেন।
এই চার সম্প্রদায় হতে অসংখ্য বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের সৃষ্টি হয়েছে।”
আমাদের ইন্দ্রিয়সমুহ অপুর্ণ তাই আমরা পরম সত্যকে জানতে পারি না। যেমন কোন বিষয়ে জ্ঞান লাভ করতে হলে আমরা সে বিষয়ের জ্ঞানীর নিকট হতে শিক্ষা লাভ করি। তেমনি পরমার্থজ্ঞান লাভ করতে হলে তত্ত্বদর্শী ব্যাক্তি বা পরমার্থতত্ত্ববেত্তা পুরুষের আশ্রয় গ্রহন করতে হয়। এবং এই তত্ত্বদ্রষ্টা পুরুষ হলেন গুরুদেব। এই গুরুদেবও একান্তভাবে আশ্রিত যথার্থ ও যোগ্য শিষ্যের মত কোন তত্ত্বদর্শী ব্যাক্তি বা গুরুদেবের কাছ থেকে এই জ্ঞান লাভ করেছেন। এবং পরবর্তীতে তিনি আবার এই কর্মসাধ্য পারমার্থিক জ্ঞান তার যোগ্য শিষ্যের মাঝে দান করেন।
🌼 এইভাবে যথার্থ শিষ্য পরম্পরার মাধ্যমে আদিগুরু পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ থেকে এই জ্ঞান প্রবাহিত হয়েছে। এবং পরবর্ত্তীতে তা একাধিক ধারা বা গুরুপরম্পরা রুপ বা সম্প্রদায় সৃষ্ট হয়েছে। বিশুদ্ধ প্রামাণিক পরম্পরায় দিব্য জ্ঞান স্বয়ং পরমেশ্বর ভগবান থেকে পরম্পরা ধারায় শিষ্যের নিকট পৌঁছায়, সুতরাং, এই জ্ঞান সম্পূর্ণরূপে অপ্রাকৃত এবং যথার্থ। প্রামাণিক পরম্পরার সদ্গুরুর চরণাশ্রয় না করলে কখনোই এই দিব্য জ্ঞান প্রাপ্তি সম্ভব নয়। সদ্গুরু হলেন পরমেশ্বর ভগবানের প্রতিনিধি, সেই শ্রীগুরু পাদ্পদ্মের আশ্রয় গ্রহণ পূর্বক ভগবদ্ভক্তি অনুশীলন করার ফলে গুরু-কৃষ্ণের কৃপায় শিষ্যের হৃদয়ে দিব্য জ্ঞান প্রকাশিত হয়।
তাই শুদ্ধ পরম্পরা ধারা বা সম্প্রদায়ের সাথে যুক্ত না হলে জীবের পারমার্থিক জীবন, তার ইহলোক ও পরলোক দুটোই নষ্ট হয়।
🌼এই চারটি সম্প্রদায়ে চারজন আচার্য্য দ্বারা কলিযুগে পারমার্থিক জ্ঞান প্রবাহিত হয়েছে।
১। রামানুজাচার্য (শ্রী সম্প্রদায়)
২। মধবাচার্য ( ব্রহ্ম সম্প্রদায়)
৩। বিষ্ণুস্বামী ( রুদ্র সম্প্রদায়)
৪। নিম্বাকাচার্য ( কুমার সম্প্রদায়)
🌼 শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এই চারটি সম্প্রদায় ছাড়া অন্যান্য নিজ মনগড়া অপসম্প্রদায়গুলিকে ত্যাগ করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
🌼 শাস্ত্র ও তত্ত্ববিদ্গণের মতে চারটি শুদ্ধ পরম্পরায় ভগবৎ-তত্ত্ব বিজ্ঞানের বিশুদ্ধ মন্দাকিনী ধারা বর্তমান আছে এর বাইরে বিভিন্ন সময়ে মনধর্মপ্রসূত যত তথাকথিত সম্প্রদায় সৃষ্ট হয়েছে তা সবই অপসম্প্রদায়।
🌿 যারা উপরোক্ত এ চার সম্প্রদায়ের বাহিরে দীক্ষা নিবেন, তাদের মনুষ্য জন্ম বৃথা যাবে এবং ভগবদ্ভক্তির অনুশীলন না করে মনুষ্য জীবনের সদ্ব্যবহার না করার ফলে পরবর্তী জন্মে পশুযোনী প্রাপ্ত হবে।
🌼 তাই মানব জীবন স্বার্থক করতে হলে, গোলকধাম- যা আমাদের সত্যিকারের গন্তব্যস্থান, সেখানে যেতে হলে অবশ্যই এ চার সম্প্রদায়ের সিদ্ধ দীক্ষা পরম্পরা হতে দীক্ষা নিতে হবে। তবেই পরমেশ্বর এর সেবার অধিকারী হতে পারবো, তাঁর ভজনের মাধ্যমে তুষ্ট করে তাঁর চরণযুগল লাভ করতে পারবো। এবং তা অবশ্যই সিদ্ধ গুরুপরম্পরা তথা দীক্ষা পরম্পরার মাধ্যমে।
🌼 অনেকেই বিভিন্ন মত ভালো লাগে বলে যেখান সেখান হতে দীক্ষা নিয়ে নেন, এবং তা সিদ্ধ না। আবার অনেকে শাস্ত্রীয় বিধি-নিষেধ মানতে হবে না বলে, যেখানে সহজে দীক্ষা হয়ে যাই, সেখান থেকে তারা দীক্ষা নিয়ে নেয়। তারা খালি বাইরে লোক দেখানোর জন্য যে, আমারও গুরু আছে, তাই যেখান সেখান থেকে দীক্ষা নিয়ে নেয়। অন্ধকার দীক্ষা নিয়ে লাভ নেই। কারণ, দীক্ষার দ্বারা যদি কারো জীবন পরিবর্তিত না হয়, কেউ যদি দিব্য জ্ঞান লাভ না করতে পারে, কেউ যদি শাস্ত্র বিধি অনুসারে ভগবদ্ভক্তির অনুশীলন না করতে পারে, তাহলে সেই প্রকার তথিকথিত দীক্ষা নিয়ে কি লাভ?! তাই দীক্ষা নেওয়ার ব্যাপারে সাবধান।
🔘 উক্ত চার সম্প্রদায়ে পরম্পরা ধারায় আগত শিক্ষা প্রদান করাই গুরুপরম্পরার উদ্দেশ্য।
🔴 অন্যথায় গুরুপরম্পরা কেবল একটি শারীরিক পরম্পরা (গুরুর ছেলে যেমনই হোক সেই পরবর্তী গুরু হবে) বলে গণ্য হবে। মনে রাখবেন, অপসম্প্রদায়গুলি কেবল তাদের গুরু-নামধারী ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে, যাদের দেওয়া মন্ত্রে কোনো ক্রিয়া হয় না। আবার অনেক গুলো গুরু আছে যাদের মন্ত্র একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দক্ষিণা দিয়ে রিচার্জ করাতে হয়। আবার রিচার্জ ফুরিয়ে গেলে, আবার তাকে দক্ষিণা দিয়ে আসতে হয় তবেই সেই মন্ত্র নাকি কাজ করে?! আবার অনেকে বলে দুদিন নিরামিষ খেলেই হবে, বাকি দিনগুলো জীব হত্যা করো কোনো অসুবিধা নেই! কেউ কেউ তো আবার বলে তুমি শুধু মাসে মাসে আমাকে দক্ষিণা দিয়ে যেও তাহলেই হবে!! এই ধরনের কত যে শাস্ত্রজ্ঞানহীন ভন্ড গুরু এই পৃথিবীতে ঘুরে বেড়াচ্ছে তার সীমা নেই। তাই দীক্ষা অত্যন্ত বিবেচনা করে গ্রহণ করা উচিত কারণ এটি আমাদের এক জন্মের প্রশ্ন নয়; দীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে শ্রীগুরু এবং ভগবানের চরণে সমর্পণ করা হয়। তাই গুরু নির্বাচনের পূর্বে আমাদের অবশ্য কর্তব্য গুরুদেবের পরম্পরা বিষয়ে এবং সদ্গুরুর লক্ষণাদি অনুসন্ধান করা। হরেকৃষ্ণ 🙏