Khankah Amanatia Nakshebandia Muzaddedia

Khankah Amanatia Nakshebandia Muzaddedia This is the official page of the blessed Khanqah of Hazrat Shah Sufi Amanat Khan (R.). Hazrat Shah Sufi Amanat Khan (R.) of Laxmibazar, Dhaka.

was a famous Sufi of the Naqshbandi Muzaddedi order, a descendant of the Holy Prophet (SAW) and a Khalifa of Hazrat Abdur Rahim Shahid (R.) The great Sufi breathed his last breath on 1187 Hijri and was buried at his own Khankah at Laldighi East, Chittagong, Bangladesh. Currently the descendants are in charge of the Dargah complex, the Khankah Sharif and it's day to day affairs. The Annual Urs Sharif is held on 29 Jilkad to 1st Jilhajj every year.

⚜️ হযরত শাহ সূফী আমানত খান (র.) এর খলিফা সূফী মুহাম্মদ দায়েম (র.) এর প্রপৌত্র শাহ মুহাম্মদ লকিতুল্লাহ (র.) এর অন্যতম খলি...
19/07/2026

⚜️ হযরত শাহ সূফী আমানত খান (র.) এর খলিফা সূফী মুহাম্মদ দায়েম (র.) এর প্রপৌত্র শাহ মুহাম্মদ লকিতুল্লাহ (র.) এর অন্যতম খলিফা হযরত ছালেহ মুহাম্মদ লাহোরী (র.)। তাঁর মুরিদ ও খলিফা মাইজভান্ডার দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা হযরত শাহ সূফী মাওলানা আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (র.) অত্যন্ত সখ‍্যতা থাকায় দিনের প্রায় সময় হযরত শাহ সূফী আমানত খান (র.)-এর আওলাদে পাক ও খানকাহ আমানতীয়ার ৪র্থ সাজ্জাদানশীন হযরত শাহজাদা ফজর আলী খান (র.)-এর সাথে বাবাজানের দরবার শরীফেই কাটাতেন। এমনকি মাঝেমধ্যে হযরতের রুহানী ফয়েজে অবগাহন করে আবেগাপ্লুত হয়ে মসজিদের বারান্দায় দাঁড়িয়ে আজান দিতেন।

উল্লেখ্য, হযরত শাহজাদা ফজর আলী খান (র.) ১৮৯০ সালে ওফাতের পরে তাঁর পুত্র শাহজাদা মৌলভী শের আলী খান (র.)-এর সাথেও হযরত শাহ সূফী মাওলানা আহমদ উল্লাহ (র.) অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। হযরত শাহ সূফী মাওলানা আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (র.) ১৯০৬ সালে ওফাত গ্রহণ করেন।

সুত্র: হজরত শাহ সূফী আমানত খান (রা.)
লেখক: আমানউদ্দিন আব্দুল্লাহ

১৯ শতকে মৌলভী হামিদুল্লাহ খান বাহাদুর কর্তৃক ফারসি ভাষায় রচিত চট্টগ্রামের প্রাচীন ইতিহাস বিষয়ক একটি বিখ্যাত গ্রন্থ “আহা...
19/07/2026

১৯ শতকে মৌলভী হামিদুল্লাহ খান বাহাদুর কর্তৃক ফারসি ভাষায় রচিত চট্টগ্রামের প্রাচীন ইতিহাস বিষয়ক একটি বিখ্যাত গ্রন্থ “আহাদিসুল খাওয়ানিন” বা খানদের ইতিবৃত্ত। লেখক হযরত শাহ সূফী আমানত খান (র.) এর ব‍্যাপারে কিছুটা আলোকপাত করেছেন এভাবে -

“ ইসলামাবাদের প্রখ্যাত ওলিয়ে কামেল শাহ আমানত মরহুম (যাঁর খানকাহ শরীফ লালদীঘির পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত লালকুঠির নিকটে অবস্থিত) শুধু এ অঞ্চলের প্রখ্যাত বুজুর্গ এবং খানকাহনশীন পীর গনের অন‍্যতমই ছিলেন না বরং সমধিক প্রসিদ্ধতম ছিলেন। তৎকালীন শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিগণ হযরতের মুরিদ ও তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন । মরহুম সূফী মোহাম্মাদ দায়েম তাঁর মুরিদ ছিলেন।”

-(আহাদিসুল খাওয়ানিন, কলিকাতা ১৮৭১ খৃ., পৃ: ২০৮)

আহাদিসুল খাওয়ানিন : মৌলভী হামিদুল্লাহ খান বাহাদুর (১৮০৯-১৮৮০)। এতে প্রাচীন জনপদ হিসেবে চট্টগ্রামের দু'হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, এবং উনিশ শতকের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবন বিস্তারিতভাবে স্থান পেয়েছে।

মাহবুবে রব্বানী গাউসে সামাদানী কুতুবুল আকতাব গরীবে নেওয়াজ হযরত শাহ সূফী আমানত খান (রঃ) দরবার শরীফের পক্ষ থেকে দক্ষিণ চট্...
13/07/2026

মাহবুবে রব্বানী গাউসে সামাদানী কুতুবুল আকতাব গরীবে নেওয়াজ হযরত শাহ সূফী আমানত খান (রঃ) দরবার শরীফের পক্ষ থেকে দক্ষিণ চট্টগ্রামের পানিবন্দি ও বন্যাকবলিত এলাকায় সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যেই একাধিক দল খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ঔষধ, কাপড় ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করছে। আগামীকাল মঙ্গলবার সকালেও একটি দল বাঁশখালীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবে।

গভীর রাত পর্যন্ত হযরতের আওলাদে পাকগণের তত্ত্বাবধানে খাদেম সাহেব ও আশেকানগণ খানকাহ আমানতীয়া প্রাঙ্গণে খাদ্যসামগ্রী প্যাকিংয়ের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। এটি শত শত বছরের সুফি ঐতিহ্যেরই ধারাবাহিকতা—যেখানে হযরত শাহ আমানত (র.) সবসময়ই মানুষের দুঃসময়ে পাশে থেকেছেন।

খানকাহ আমানতীয়া নকশবন্দীয়া মোজাদ্দেদীয়া আধ্যাত্মিক দিকনির্দেশনার পাশাপাশি মানবসেবাই সর্বদা নিয়োজিত। আজকের এই দুর্যোগে হযরতের আওলাদগন আপনাদের পাশে রয়েছে এবং থাকবে।

12/07/2026

প্রবল বর্ষণের মধ্যেও যথারীতি ঈশার নামাজের পর হজরত শাহ সূফী আমানত খান (রঃ) দরবার শরীফে লঙ্গর পরিবেশন করা হয়েছে। দরিদ্র ও ভক্তদের মাঝে এই পবিত্র তাবাররুক পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে অব্যাহতভাবে।

এটি হযরতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা—যেখানে দয়ার দরজা কখনো বন্ধ হয় না, আর অন্নের হাঁড়ি সর্বদা ভরে থাকে। যখন সকল দরজা বন্ধ থাকে, হযরতের দরবারের দরজা সকলের জন্য খোলা থাকে।

এটি ১৮২৫ সালে ব্রিটিশ শিল্পী Thomas Prinsep-এর আঁকা একটি ঐতিহাসিক চিত্র, যা আজও British Library-এ সংরক্ষিত রয়েছে।ছবিতে ...
05/07/2026

এটি ১৮২৫ সালে ব্রিটিশ শিল্পী Thomas Prinsep-এর আঁকা একটি ঐতিহাসিক চিত্র, যা আজও British Library-এ সংরক্ষিত রয়েছে।

ছবিতে টিলার আড়ালে যে গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটি দেখা যাচ্ছে, সেটি হলো কদম মোবারক মসজিদ। নবাব ইয়াসিন খাঁ কর্তৃক ১৭২৩ সনে নির্মিত এই মসজিদেই হযরত শাহ্ সূফী আমানত খান (র.) জুম্মার নামাজ আদায় করতেন। এই কদম মোবারক মসজিদে এক জুম্মার নামাজের সময় হযরত শাহ সূফী আমানত খান (র.)-এর এক কারামতের কারণে হযরতকে তাঁর খলিফা আজিমপুর দায়রা শরীফের হযরত শাহ সূফী মুহাম্মদ দায়েম (র.) চিনতে পান এবং উপস্থিত সকল মুসল্লিদের মাঝে হযরতের আধ্যাত্মিক পরিচয় প্রকাশ হয়ে পড়ে।

মসজিদের পেছনে ব্রিজসংযুক্ত যে সড়কটি দেখা যায়, সেটিই বর্তমান মোমিন রোড-এর তৎকালীন রূপ।

ছবির বাম পাশে টিলার ওপর যে দোতলা ভবনটি দেখা যাচ্ছে, সেটি বর্তমানে হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ-এর উপরের পরিত্যক্ত ঐতিহাসিক পর্তুগিজ ভবন বলে পরিচিত। তৎকালীন নবাবদের অফিস-আদালত ছিল এই ভবনটি যেটা হযরত শাহ্ সূফী আমানত খান (র.)-এর চট্টগ্রাম আগমনের পর কর্মস্থল ছিল।

এছাড়াও এই চিত্রে তৎকালীন গুডস হিল, রোডস অ্যান্ড হাইওয়েজ হিল এবং মহসিন কলেজ এলাকার পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক চিত্র ফুটে উঠেছে।

চট্টগ্রামের অতীত নগরচিত্র, স্থাপত্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা লাভের ক্ষেত্রে এই চিত্রটি একটি মূল্যবান ঐতিহাসিক দলিল। চিত্রটি দেখে বোঝা যাচ্ছে চট্টগ্রামকে সূফী-দরবেশ আওলিয়ায়ে কেরাম কেন এত পছন্দ করতেন। চট্টগ্রামের পরিবেশ যেন আল্লাহ তায়ালা নিভৃতে ইবাদাতের জন‍্যই তৈরি করেছেন।

দিল্লির নবমুকুটধারী সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক যখন চিশতিয়া খানকাহ থেকে বেরিয়ে এলেন, তখন ৮৭ বছর বয়সী হযরত শেখ নিযামউদ্দ...
29/06/2026

দিল্লির নবমুকুটধারী সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক যখন চিশতিয়া খানকাহ থেকে বেরিয়ে এলেন, তখন ৮৭ বছর বয়সী হযরত শেখ নিযামউদ্দিন আউলিয়া (র.) হঠাৎ উচ্চারণ করলেন:
“একজন সুলতান চলে গেছে, আরেকজন সুলতান আসছে।”

শিষ্যরা বিস্মিত হলেন। কেউ কেউ ছুটে বাইরে গেলেন দেখতে কে এসেছে। তারা কেবল একটি জীর্ণ পোশাক পরা তরুণকে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলেন। জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, তাঁর নাম হাসান, তিনি জাফর খানের দূর সম্পর্কীয় আত্মীয়, যিনি একসময় দিল্লির সুলতানের মন্ত্রী ছিলেন।

সাধারণ সেই অপরিচিতকে খানকাহে আনা হলো। শেখ তাঁর হাতে একটি রুটির টুকরো দিলেন এবং বললেন:
“এটাই চত্র — সার্বভৌমত্বের ছাতা। এটি স্থায়ী হবে।”

উপস্থিতরা মৃদু হাসি বিনিময় করলেন। শেখ তাঁর ধাঁধাময় কথার জন্য পরিচিত ছিলেন, কিন্তু তখন মনে হচ্ছিল ক্ষুধার্ত হাসানের প্রয়োজন ছিল একটি স্থায়ী চাকরি, রাজত্বের স্বপ্ন নয়।

২২ বছর পরে ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ হলো — যদিও যারা এর জন্মদৃশ্য দেখেছিলেন, তাদের খুব কমই তখন জীবিত ছিলেন। ১৩৪৭ সালে সেই হাসানই দাক্ষিণাত্যের সুলতান হিসেবে অভিষিক্ত হলেন, বাহমনী বংশের প্রথম বাদশাহ। রাজা হিসেবে তাঁর প্রথম কাজ ছিল দরিদ্রদের মধ্যে চারশো পাউন্ড সোনা এবং এক হাজার পাউন্ড রূপা দান করা — দিল্লির সেই সাধকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, যিনি একসময় জীর্ণ পোশাক, খালি পেট এবং ক্লান্ত হাড়ের অধিকারী মানুষটির জন্য রাজত্বের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।

সিয়ার উল আউলিয়ার লেখক যথার্থই মন্তব্য করেছিলেন:

سری کے سودا شد بر خاکِ آستانِ تو
ز یک قبولِ تو تا روزِ حشر جاویدان شد۔

— যে মাথা তোমার দোরগোড়ার ধূলিতে ঘষা হলো,
তা কিয়ামতের দিন পর্যন্ত চিরস্থায়ী হয়ে গেল।

তথ্যসূত্র: The Sufi Shaykh and the Sultan, Simon Digby; History of Medieval Deccan, Vol 2, Haroon Khan Sherwani; Gulshan-i Ibrahimi, Muhammad Qasim Ferishta; Siyar ul Auliya, Mir Khwurd

“সকল প্রশংসা আল্লাহর! কী অপূর্ব ভূমি এই বঙ্গদেশ, যেখানে নানা দিক থেকে বহু সাধক ও সূফী এসে এটিকে তাঁদের আবাস ও নিবাসে পরি...
29/06/2026

“সকল প্রশংসা আল্লাহর! কী অপূর্ব ভূমি এই বঙ্গদেশ, যেখানে নানা দিক থেকে বহু সাধক ও সূফী এসে এটিকে তাঁদের আবাস ও নিবাসে পরিণত করেছেন!”

— মীর সাইয়্যিদ আশরাফ জাহাঙ্গীর সিমনানি (র.)(সুলতান ইব্রাহিম শারকী, জৌনপুরকে লেখা এক চিঠিতে)

চিত্রে: গৌড়ের কদম রসূল মসজিদের অভ্যন্তর। উনবিংশ শতকে সিতারাম কর্তৃক অঙ্কিত জলরঙ। বর্তমানে ব্রিটিশ লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত।

⚜️ হজরত শাহ মাওলানা মোহাম্মদ মুস্তাকীম হাশেমী (র.): নিভৃতচারী এক সূফী—বুখারা হতে হজরত বাহাউদ্দিন নক্‌শবন্দ (র.) নক্‌শবন্...
27/06/2026

⚜️ হজরত শাহ মাওলানা মোহাম্মদ মুস্তাকীম হাশেমী (র.): নিভৃতচারী এক সূফী

বুখারা হতে হজরত বাহাউদ্দিন নক্‌শবন্দ (র.) নক্‌শবন্দীয়া তরিকার ধারায় প্রায় ২৫০ বৎসর পরে ভারতের পূর্ব পাঞ্জাবের সিরহিন্দ নগরে একজন আলোড়ন সৃষ্টিকারী বুজর্গের আবির্ভাব ঘটে। তাঁর নাম হজরত শায়খ আহমদ ফারুকী সিরহিন্দী (র.) (৭৯১-১০৩৪ হি.)। সম্রাট আকবর প্রবর্তিত বানোয়াট ধর্ম ‘দ্বীন ইলাহী’ কে চ্যালেঞ্জ করে ইসলামের অভাবনীয় সংস্কার সাধন করে তিনি ‘মোজাদ্দেদ আলফেসানী’ নামে বিশেষ পরিচিতি ও প্রসিদ্ধি লাভ করেন। তাঁর এই অসাধারণ কৃতিত্বের ধারাবাহিকতায় নক্‌শবন্দীয়া তরীকার অঙ্গসৌষ্ঠভকে আরো মহিমামণ্ডিত করে প্রকাশ ঘটে মুজাদ্দেদীয়া তরীকার।

এ তরীকারই ক্রমবিকাশের ধারায় বিভিন্ন পর্যায়ে পেরিয়ে প্রায় তিনশত বৎসর পরে ভারতের উত্তর প্রদেশের রামপুর শহরে মারিফাত জগতের এক উচ্চমার্গীয় বুজর্গের আবির্ভাব হয়। শাহ হাফেজ ইনায়াত উল্লাহ খান রামপুরী নামে তিনি সমধিক পরিচিত। এভাবে কাল পরিক্রমায় এ তরীকা তাঁরই সুযোগ্য প্রতিনিধি গণের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। রামপুরের খানকাহ শরীফে দীক্ষাপ্রাপ্ত প্রখ্যাত সূফী সাধক শায়খুল হাদীস হজরত মাওলানা সফিরুর রহমান হাশেমী এর পরিশুদ্ধ ব্যক্তিগত জীবনাচরণ এবং কঠোর কঠিন রেয়াজত এবং অনুশীলনের ফলশ্রুতিতে এ তরীকা চট্টগ্রামের বুকে তাসাউফ জগতে এক অনন্য সাধারণ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত। পীর ছাহেবের এজাজত নিয়ে তদীয় পীর ভাই হজরত মাওলানা বেসারত আলী (র.) সমভিব্যহারে তিনি চট্টগ্রাম ফিরে আসেন। এখানে এসে আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তদীয় একমাত্র পুত্র হজরত মাওলানা মুস্তাকিম হাশেমীর পীর ভাইয়ের কন্যার বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে তাঁদের সুদীর্ঘ পারস্পরিক সম্পর্ক নতুন মাত্রিকতা লাভ করে।

পিতার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে হজরত মাওলানা মোহাম্মদ মুস্তাকীম হাশেমী (র.) শৈশবে ভারতের রামপুরের মাদ্রাসা আলীয়া এবং পরবর্তীকালে লাহোরে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ করেন। প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মীয় শিক্ষা সমাপন করে তিনি মর্যাদাপূর্ণ জীবন জীবিকার প্রশ্নে সিলেট তিব্বিয়া কলেজে হেকিমী শিক্ষা লাভ করেন। তিব্বিয়া কলেজে অধ্যয়ন শেষে তিনি চট্টগ্রাম এসে বুজর্গ পিতার সান্নিধ্যে মারিফাতের সুক্ষ্মাতিসুক্ষ্ম জ্ঞানের চর্চা অব্যাহত রাখেন।
ইতোমধ্যে ১৯৫৫ সনে তদীয় বুজর্গ পিতার ইন্তেকাল হলে সমকালীন বিশিষ্ট আলেমগণের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত ক্রমে তিনি নামাজে জানাজার ইমামতির দায়িত্ব পালন করেন।

নিভৃতচারী এই আধ্যাত্মিক সাধক হজরত মাওলানা মুস্তাকীম হাশেমী (র.), তদীয় পিতা কর্তৃক ১৯৩৫ সালে স্থাপিত আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ প্রাঙ্গনে খানকাহ-এ সফিরিয়া মুজাদ্দেদীয়া ও হাশেমী দাওয়াখানায় আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ড এবং হেকিমী চিকিৎসা চালিয়ে যেতে থাকেন। একে কেন্দ্র করে জাগতিকভাবে হাশেমী দাওয়াখানার আবরণ এবং আভরণে চলতে থাকে উচ্চতর আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ডের চর্চা ও অনুশীলন, যা তরীকত পন্থীদের সংপ্রশংস দৃষ্টি আকর্ষণ করে অতি সহজে। সে কারণেই তরীকতের অনুসারী ছাড়াও সমাজ জীবনের মননশীল বিশিষ্ট জনেরা তাঁর কাছে ছুটে আসতেন একান্ত করুণা লাভের আশায়। পিতার ওফাতের পরে নি:সঙ্গতার সঙ্গী হিসেবে প্রাপ্ত তদীয় পীর ভাই, হজরত শাহ সূফী আমানত খান (র.) এর সুযোগ্য বংশধর, হজরত শাহজাদা মুহাম্মদ ফৌজুল আজীম খান (র.) এর একান্ত সাহচর্যে জাগতিক এবং আধ্যাত্মিক ভাব বিনিময় এবং যাবতীয় কর্মকাণ্ডে তাঁর ঐকান্তিক অংশগ্রহণের বিষয়টি এ প্রসঙ্গে প্রণিধানযোগ্য।

নিজেকে অত্যন্ত সচেতনভাবে গুটিয়ে রাখলেও আল্লাহ পাকের হুকুমে সত্যসন্ধানী লোকজন তাঁর সান্নিধ্যে আগমন করতে থাকে। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য দু’জন হলেন হালিশহর নিবাসী জনাব আজীমুল হক ও বাবুল হক। প্রসঙ্গত এ কথা স্মরণীয় যে, তদীয় পিতা হজরত মাওলানা সফিরুর রহমান হাশেমীর প্রথম মুরিদ ছিলেন হালিশহরের অধিবাসী, যে বিষয়টি রীতিমতো গবেষণার দাবি রাখে।

নক্‌শবন্দীয়া মুজাদ্দেদীয়া তরীকার মূলনীতি লোকালয়ে অবস্থান করেও নিজেকে লুক্কায়িত রাখা। এ বিশেষত্বকে তিনি ধারণ, লালন এবং প্রতিপালন করেছিলেন সমগ্র জীবন সত্ত্বায়। নীরবতা, মৌনতা এবং মৃদু ভাষণের মধ্যেও যে কী প্রচণ্ড শক্তি নিহিত থাকতে পারে তার এক উজ্জ্বল চলমান দৃষ্টান্ত ছিলেন তিনি। এর সাথে যুক্ত ছিলো তাঁর তুলনা রহিত আতিথেয়তা, যা তরীকত এবং তরীকত বহির্ভূত সকলশ্রেণী পেশার মানুষকে আকর্ষণ করতো বিশেষভাবে। একান্ত নিষ্ঠা ও সততার সাথে পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে শরীয়তের বিধি বিধান অনুসরণ ও অনুশীলনের ক্ষেত্রে তাঁর আজীবন সাধনা ছিলো রীতিমতো কিংবদন্তীতুল্য। সেক্ষেত্রে বিন্দু পরিমাণ ছাড়ও তিনি কখনো কোন অবস্থায় দিতেন না। তাঁর এই অনুকরণীয় বিশেষত্ব আলেম সমাজ এবং তরীকত জগতের সর্বমহলে, বিশেষ করে এই তরিকার আধ্যাত্মিক কেন্দ্র রামপুর শরীফেও বিশেষভাবে আলোচিত হতো।
জাগতিক জীবন ধারণের জন্য যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই তিনি ভোগ করতেন অত্যন্ত সতর্কতার সাথে। আল্লাহ পাকের মর্জির উপর অবিচল আস্থা এবং তার যথাযথ অনুসরণ ছিলো হজরতের জীবনে অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এমন কি জীবনাচরণের সর্বক্ষেত্রে যে পরিমিত বোধ ক্রিয়াশীল ছিলো সর্বক্ষণ তার যথাযথ শিক্ষা দিয়ে গিয়েছেন তদীয় সন্তানদের।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, তাঁর প্রথম ও দ্বিতীয় নামাজে জানাজায় ইমামতি করেন যথাক্রমে তদীয় প্রথম ও দ্বিতীয় ছাহেবজাদা।

১১ই আগস্ট ২০১৪, সোমবার দিবাগত রাত ৯টা পঞ্চাশ মিনিটে হজরত তদীয় পিতার রওজা শরীফ সংলগ্ন বাস ভবনে পরিবারের সদস্য এবং অনুরক্তদের উপস্থিতিতে বেসালে হাকিমী লাভ করেন। পরদিন সকালে জনসমুদ্রের বিশাল উপস্থিতি সামাল দেওয়ার প্রয়োজন পর পর তিনবার নামাজে জানাজা শেষে তদীয় পিতা এবং মুর্শিদ হজরত মাওলানা সফিরুর রহমান হাশেমী (র.) এর ফৌজদার হাটস্থ রওজা শরীফ প্রাঙ্গনে হজরতকে সমাহিত করা হয়। আমরা স্মরণ করি পরম ভক্তি ও শ্রদ্ধায়।

সুত্র: আমানউদ্দিন আব্দুল্লাহ

25/06/2026
হযরত শাহ সূফী আমানত খান (রা:) এর দরবার শরীফে ১০ দিন ব‍্যাপী শাহাদাতে কারবালা মাহফিলে আজ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ...
24/06/2026

হযরত শাহ সূফী আমানত খান (রা:) এর দরবার শরীফে ১০ দিন ব‍্যাপী শাহাদাতে কারবালা মাহফিলে আজ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন সুন্নি আলেম ও ইসলামিক স্কলার সৈয়দ মাওলানা মুহাম্মদ হাসান আজহারী।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও হযরতের আওলাদগনের উদ্যোগে খানকাহ্ আমানতীয়ার ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১০ দিন ব্যাপী শাহাদাতে কারবালা মাহফিল।

প্রতিদিন বাদ মাগরিব হতে এশা পর্যন্ত ফোরাতের তীরে কারবালার প্রান্তরে হযরত রাসুল (সা:) এর দৌহিত্র ইমাম হুসাইন (রা:) সহ আহলে বায়তের কুরবানীর মহাত্ম নিয়ে আলোচনার এই পবিত্র মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

আশেকানদের প্রতি বন্ধু সহ মাহফিলে উপস্থিতত হওয়ার জন্য বিশেষভাবে দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে।

Address

Hazrat Shah Amanat Khan (R. ) Darbar Sharif, Shah Amanat (R. A) Road, East Laldighi
Chittagong

Telephone

+8801826168339

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Khankah Amanatia Nakshebandia Muzaddedia posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share