সাতবাড়িয়া বার আউলিয়া মাদরাসা

সাতবাড়িয়া বার আউলিয়া মাদরাসা Knowledge is power

27/09/2024

#শিক্ষকদের_অর্থোপার্জন_ও_কিছু_আত্ম_জিজ্ঞাসা:
সম্মানিত শিক্ষকগণ জাতির বিবেক ও জাতির প্রধান সম্পদ। শিক্ষকবৃন্দই তো একটা জাতির আসল রক্ষক। কিন্তু সততা ও দায়িত্বানুভূতি না থাকলে রক্ষককে ভক্ষক হতে বেশিক্ষণ লাগে না। জাতির ভবিষ্যত কর্ণধার ছাত্রদের গড়ে তুলতে শিক্ষকগণকে বহুমূখী ভূমিকা পালন করতে হয়। তাঁদের হতে হয় অনেক সংযমী ও ধৈর্যশীল। পাঠপ্রস্তুতি ও যথার্থ অধ্যয়ন ছাড়াই গতানুগতিক কিছু বুলি শ্রেণিকক্ষে আওড়ালেই কি একজন শিক্ষকের কর্তব্য আদায় হয়? পাঠ প্রস্তুতি ও পাঠদান এর মহান দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন না করে বেতন নিলে তা কি হালাল হবে? জাল সনদ কিংবা যোগ্যতা ছাড়া কেবল অবৈধ তদবীরের মাধ্যমে শিক্ষকতার কোনো পদ দখল করলে তাতে কি উপার্জন বৈধ হবে? শ্রেণিকক্ষে নিষ্ঠার সাথে পাঠ না দিয়ে প্রাইভেট ক্লাসমূখী করার অপচেষ্টা এ সমাজে সবচেয়ে বড় প্রতারণা। প্রাইভেট ক্লাসের ছাত্রদের উত্তরপত্রে মার্ক বেশি দেয়া কিংবা পরীক্ষার পূর্বে প্রশ্নপত্র পূর্ণ বা আংশিক বলে দেয়া সবচেয়ে বড় খেয়ানত। পরীক্ষার হলে কোন ছাত্রকে বিনিময়ের মাধ্যমে বা বিনিময় ছাড়া সহায়তা দেয়া এক প্রকার অবিচার ও খেয়ানত। ইচ্ছাকৃতভাবে ক্লাসে না যাওয়া, ক্লাসে দেরীতে যাওয়া, নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে চলে আসা, গল্প-কাহিনী বলে ক্লাসরুমে সময় অপচয় করা কিংবা সংশ্লিষ্ট পাঠ না দিয়ে বারবার অন্য প্রসঙ্গে চলে যাওয়া নিঃসন্দেহে বিবেকবান শিক্ষকদের পরিচয় নয়। পরীক্ষার হলে পরিদর্শক গল্প করলে, হলের বাইরে অবস্থান করলে বা নির্জীব হয়ে বসে থাকলে ছাত্ররা অসদুপায় অবলম্বন করবেই। এমতাবস্থায় পরিদর্শন ফি অবৈধ হওয়ার কি আর যুক্তির প্রয়োজন হবে? তদবীর করে কোনো কমিটিতে আমার নাম তুলব, আর কোনো কাজ ছাড়াই অন্যান্য সদস্যদের মত সম্মানীর অংক গুণব; বৈধ হবে কি? রাসূলে পাক (সা.) এর ছোট বাণীটি বড়ই প্রণিধানযোগ্য। তা হল- من غش فليس منا "যে ধোঁকা দেয়, জালিয়াতি করে সে আমার দলভুক্ত নয় (তিরমিজী)।"

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ যোগ্যতা আর অভিজ্ঞতার বলে বড় স্কেলে পাওনা ভোগ করেন। তিনি প্রধান কর্তা আবার কিভাবে নিজেকে কর্মচারীদের কাতারে নামিয়ে পরীক্ষাসহ বিভিন্ন শ্রমজনিতখাতে হিসসা গ্রহণ করেন? কোনো কোনো
প্রতিষ্ঠানে প্রধান সাহেব যুগপথ কর্মচারীর দায়িত্ব (?) পালন করে ইনকামের অংকটাকে আরো বড় করেন। এসব অতিলোভীদের নিকট জনগণের আমানত কি অক্ষত থাকা আশা করা যায়?

চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করিয়ে যে শিক্ষা-বাণিজ্য চলছে, তা ভেজাল পণ্যের ব্যবসাকেও হার মানাচ্ছে। এদেশে অধিকাংশ কিন্ডারগার্টেন তো ভেজাল ব্যবসার এক বাস্তব নমূনা। শিশুদের পাঠ দানের প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষকতা এবং শিশুদের ছড়ি দিয়ে বার বার পিঠিয়ে হওয়া যায় কিন্ডারগার্টেন এর দক্ষ (!) শিক্ষক। হাদিয়ার বদৌলতে তুলনামূলক নিম্নমানের পাঠ্যপুস্তক সিলেবাসভুক্ত করার ঘৃণ্য ব্যবসা তো এখন দিবালোকেই চলছে। শুনা যায়, কোনো প্রকাশনার প্রতিনিধি উপস্থিত হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক প্রথমেই বলে উঠেন, আমার পাওনা কি?" এ রকম নীচু মনা শিক্ষকরা কি অতি ঘৃণ্য ডাকাতির অপরাধে অপরাধী নন? এরাতো নিষ্পাপ শিশুদের উপর জুলুম করছে।

মনে রাখা উচিত, শিক্ষকবৃন্দের দায়িত্ব পালনে অবহেলা বা অসতর্কতাও অপরাধ। এর জন্য রয়েছে পরকালে ভয়াবহ শাস্তি। এ প্রসঙ্গে পাকিস্তানের মুফতী এ আ'জম মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহঃ) বলেছেন, "কুরআন মাজিদের সূরা মুতাফফিফীন এর মধ্যে যে তাফীফ (কম দেয়া) এর উল্লেখ রয়েছে, তা কেবল ওজন ও পরিমাপে কম দেয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং অপর কারো কোনো প্রকারের হক আদায়ে গড়িমসি করার মধ্যেও ব্যাপ্ত। অতএব কোন চাকুরিজীবী যদি তার দায়িত্ব পরিপূর্ণ আদায় না করে অথবা কাজে অবহেলা প্রদর্শন করে, এভাবে কোন প্রশাসক, জনপ্রতিনিধি, আমলা, কর্মচারী, পিয়ন বা দ্বীনি খেদমতে নিয়োজিত ব্যক্তি যদি যথাযথভাবে দায়িত্ব আদায় না করে তাহলে তা ওজনে কম দেয়ার অপরাধের মত অপরাধী হবে।” (মা'আরিফুল কুরআন)

অতএব সকল শিক্ষকের উপার্জন হালাল নয়। তাই জাতির বিবেকগণকে এ মর্মে আত্মবিচার করা উচিত।

29/08/2024
28/08/2024

You all are invited to our new page "সাতবাড়ীয়া বার আউলিয়া মাদরাসা"

28/08/2024

#অধ্যক্ষের_বাণী:
সকল প্রশংসা মহান আল্লাহ তা'য়ালার জন্য যিনি আমাদেরকে ঐশী জ্ঞানের মারকাজে সামান্য খেদমত করার সুযোগ করে দিয়েছেন। দরূদ ও সালাম পেশ করছি মানবতার মহান শিক্ষক হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর প্রতি। সাথে সাথে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি যারা 'সাতবাড়ীয়া বার আউলিয়া হামেদিয়া আলিম মাদরাসা'র শুভসূচনা করেছেন।

এটি একটি আবাসিক ও অনাবাসিক আদর্শ দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ধর্মহীন কর্মশিক্ষা এবং কর্মহীন ধর্মশিক্ষা কোনটিই জাতির কল্যাণ বয়ে আনতে পারেনা। তাই দেশের দ্বিমুখী শিক্ষাব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে ইসলামী ও সাধারণ শিক্ষার বাস্তব সমন্বয় সাধন করে ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে এ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। আদর্শ জাতিগঠনের জন্য প্রয়োজন দ্বীনিশিক্ষায় শিক্ষিত করে সমাজে আলিম, মুহাদ্দিস, ফকিহ তথা ইসলামী বিষয়ে বিশেষজ্ঞ তৈরী করা, যারা হবে আখেরাত মুখী মানুষ গড়ার রাহবার এবং দুনিয়াবী কার্যক্রম পরিচালনায় দক্ষ প্রশাসক। সেই মানুষ তৈরি করাই এ প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।

নিবেদক,
আলহাজ্ব মাওলানা মুহাম্মদ হোছাইন রুমী
কামিল (হাদিস)
মাদরাসা-ই-আলিয়া ঢাকা।
অধ্যক্ষ,
সাতবাড়ীয়া বার আউলিয়া হামেদিয়া আলিম মাদরাসা।
হাজিরপাড়া, চন্দনাইশ, চট্টগ্রাম।

Address

Satbaria, Hazirpara, Chandanaish, Chattogram
Chittagong
4383

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when সাতবাড়িয়া বার আউলিয়া মাদরাসা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share