31/07/2026
ডবলমুরিং থানা জামায়াতের উদ্যোগে দিনব্যাপী অগ্রসর কর্মী শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত
তথ্য ও এলমে সমৃদ্ধ হয়ে আদর্শিক কর্মী হিসেবে গড়ে উঠতে হবে — নজরুল ইসলাম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর ডবলমুরিং থানা শাখার উদ্যোগে অগ্রসর কর্মীদের নিয়ে দিনব্যাপী শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) নগরীর একটি স্থানীয় কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এ শিক্ষাশিবিরে থানা শাখার অগ্রসর কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
দিনব্যাপী কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, “ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের তথ্য ও এলমে সমৃদ্ধ হতে হবে। খেলাফতে রাশেদার ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে এবং দ্বীনের পথে যারা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন, বিশেষ করে হযরত বিলাল (রা.) ও হযরত সুমাইয়া (রা.)-এর জীবন থেকে অবিচল ঈমান, ধৈর্য ও কুরবানির শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।”
তিনি বলেন, “সূরা আল-ফাতহের ১০ থেকে ১৮ নম্বর আয়াত আমাদের অঙ্গীকার রক্ষা ও দায়িত্ব পালনে দৃঢ় থাকার শিক্ষা দেয়। তাই যখন যে দায়িত্ব ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রয়োজন হবে, তখন তা বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রত্যয়ী হতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “জামায়াতে ইসলামী করা মানেই অন্ধ আনুগত্য নয়; বরং কুরআন-সুন্নাহর আলোকে সচেতনভাবে দায়িত্ব পালন, শূরার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং নিজেকে ইসলামী আন্দোলনের একজন দৃঢ় ভিত্তি ও বাস্তব সাক্ষী হিসেবে গড়ে তোলাই একজন রুকনের দায়িত্ব।”
শিক্ষাশিবিরের শুরুতে দারসুল কুরআন পেশ করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক হাফেজ মাওলানা আবু তাহের। তিনি কুরআনের আলোকে আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া, ইখলাস এবং দ্বীনের ওপর অবিচল থাকার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, একজন মুমিনের ব্যক্তি ও সামাজিক জীবন কুরআনের শিক্ষার প্রতিফলন হওয়া উচিত।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চসিক মেয়র পদপ্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালী বলেন, ইসলামী আন্দোলনের কর্মীকে সমাজের আস্থাভাজন ব্যক্তি হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে সমাজে ইসলামের সৌন্দর্য তুলে ধরাই একজন কর্মীর দায়িত্ব।
চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা জাকির হোসেন বলেন, সাংগঠনিক জীবনে দায়িত্বশীল আনুগত্য, শূরাভিত্তিক সিদ্ধান্ত, জবাবদিহিতা এবং গঠনমূলক আত্মসমালোচনার চর্চা সংগঠনকে শক্তিশালী করে এবং কর্মীদের মধ্যে ঐক্য সুদৃঢ় করে।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য ড. মাসরুর হোসাইন বলেন, আল্লাহর পথে সম্পদ ব্যয় কেবল দান নয়; বরং এটি ঈমান, দায়িত্ববোধ ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তিনি ইসলামী আন্দোলনের কার্যক্রমকে গতিশীল করতে ইনফাকের চর্চা আরও সম্প্রসারিত করার আহ্বান জানান।
বিশেষ আলোচকের বক্তব্যে বন্দর থানা নায়েবে আমীর শফিউল আলম বলেন, সময় একজন কর্মীর সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। পরিকল্পিত জীবন, সময়ের যথাযথ ব্যবহার এবং দায়িত্বের সুষম বণ্টনের মাধ্যমেই ব্যক্তি ও সাংগঠনিক জীবনে সফলতা অর্জন সম্ভব।
শিক্ষাশিবিরে ‘সহিহ তেলাওয়াত শিক্ষা’ সেশন পরিচালনা করেন মাওলানা জসীম উদ্দিন ফারুকী।
দিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরের সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন ডবলমুরিং থানা আমীর ও চট্টগ্রাম মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য ফারুক আজম। ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করেন থানা সেক্রেটারি ও মহানগরী শূরা পরিষদ সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ। সহকারী ব্যবস্থাপক ছিলেন থানা সহকারী সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন থানা সহকারী সেক্রেটারি ইমরানুল হক, থানা কর্মপরিষদ সদস্য মাসুদুল কবির, আব্দুর রহিম, মুহাম্মদ বেলাল, হাফেজ শহীদুল্লাহ, শহীদুল্লাহ ফারুকী, মাকছুদুর রহমান, মামুনুর রশিদ, ফাহেদ আহমেদসহ থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের বিভিন্ন দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।