12/03/2025
আল-আসমাউল হুসনা
Day-10
৪৬. াকীম الْحَكِيمُ
সুবিজ্ঞ
আলাহ সব কিছুর যথার্থ জ্ঞান রাখেন। তিনি আলীম। আর জ্ঞানের ভিত্তিতে নির্ধারণ করেন বলেই তিনি আল হাকীম। যেকোন ব্যাপারে তাঁর বিধান প্রবর্তন প্রজ্ঞতার ভিত্তিতেই হয়ে থাকে।
তাৎপর্য-
আল্লাহ আহকামুল হাকিমিন। তিনি সবকিছু নির্ধারণ করেছেন জ্ঞানের ভিত্তিতে। সুতরাং আমরা তাঁর বিধিনিষেধ, হালাল-হারাম মেনে চলব, যা নিজেদের জন্যই শ্রেয়।
৪৭. াদুদ الْوَدُودُ
স্নেহশীল, যিনি ভালোবাসেন।
পবিত্র কুরআনে আল-ওয়াদুদ নামটি এসেছে রাহিম, গাফুর এই নাম সমূহের সাথে।
যিনি আমাদের ভালোবাসেন, তিনিই তো আমাদের ক্ষমা করতে পারেন, দয়া দেখাতে পারেন।
তাৎপর্য-
আল্লাহ তা'আলার মত কেউই আমাদের ভালোবাসতে পারেন না। সকল ভালোবাসার অন্তীম আছে, বাবা-মা কিংবা স্ত্রী-সন্তান। একমাত্র আল্লাহর ভালোবাসাই অনন্ত। তিনি বান্দার প্রতি স্নেহশীল ও বান্দার কল্যাণের ব্যাপারে মমতাময়ী। মানুষের মধ্যকার ভালোবাসা, মহব্বতের উৎসও তিনিই।
৪৮. াজীদ الْمَاجِدُ
মহিমান্বিত, সম্মানিত।
মহান আল্লাহ তা'আলা সম্মান, ক্ষমতা, জ্ঞান, মর্যাদা, দয়া, ক্ষমা সকল গুণেই অসীম। তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই।
তাৎপর্য-
আল্লাহ পবিত্র কুরআনকে মাজীদ বলেছেন, কারণ তা জ্ঞানে এবং মর্যাদায় সুমহান। তাই আমরা এর যথাযোগ্য সম্মান ও আঁকড়ে রাখার চেষ্টা করব। সর্বোত্তম আমলের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিফলন ও আচরণে সৌহার্দ্য বজায় রাখব।।
৪৯. াই'ছ الْبَاعِثُ
পুনরুত্থানকারী।
ঈমানের অন্যতম স্তম্ভ আখিরাতে বিশ্বাস। আল্লাহ আমাদের সকলকে বিচার দিবসে পুনরুজ্জীবিত করবেন। তিনি আমাদের সকল কাজের হিসাব নিবেন।
তাৎপর্য-
আল্লাহ বিচার দিবসের মালিক। যারা তাঁর সামনে দাড়ানোর ভয় করে তারা নিজেদের সংযত করে। আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুণ এবং তাওবার উপর মৃত্যুবরণ করার তৌফিক দিন।
৫০. াহীদ الشَّهِيدُ
মহা সাক্ষী
আল্লাহর নিকট কোনো কিছুই অজানা নয়। তিনি মহাকালের যাবতীয় সমস্ত বিষয়ের সাক্ষী। মাখলুকের প্রতিটি পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি অবগত।
তাৎপর্য-
সূরা আন-নূর এ আলাহ বলেন, "যেদিন তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে তাদের জিহবা, তাদের হাত, তাদের পা- তাদের কৃতকর্মের ব্যাপারে। আল্লাহ সেদিন তাদেরকে তাদের ন্যায্য পাওনা পুরোপুরিই দেবেন আর তারা জানতে পারবে যে, আল্লাহই সত্য স্পষ্ট ব্যক্তকারী।" (আয়াত ২৪-২৫)
কী হবে যখন আমাদের চোখ, কান, জিহ্বা আমাদের কৃত সকল কাজের সাক্ষ্য দিবে? যখন আলাহ বলবেন, ‘পাঠ কর তোমার কিতাব, আজ তোমার হিসাব নেয়ার ব্যাপারে তুমিই যথেষ্ট।’
(সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত ১৪)
আমরা নিজেদের লজ্জা তখন কোথায় লুকোবো?
আল্লাহুম্মাগফিরলি।