28/07/2026
রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।"
— সহীহ আল-বুখারী, হাদিস: ৮৯৩; সহীহ মুসলিম, হাদিস: ১৮২৯
এই হাদিসে রাসূল ﷺ আমাদের শেখাচ্ছেন যে, আল্লাহ প্রত্যেক মানুষকে কোনো না কোনো দায়িত্ব দিয়েছেন। সেই দায়িত্ব পালন করা শুধু নৈতিক কর্তব্য নয়, বরং কিয়ামতের দিন এর হিসাবও দিতে হবে।
তিনি এরপর বিভিন্ন দায়িত্বের উদাহরণ দিয়েছেন:
১. শাসক তার অধীনস্থ জনগণের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।
২. পরিবারের কর্তা (স্বামী/পিতা) তার পরিবারের দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।
৩. স্ত্রী স্বামীর ঘর ও সন্তানদের দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।
৪. কর্মচারী বা আমানতদার তার কাছে অর্পিত সম্পদ ও দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।
অর্থাৎ, যার ওপর যতটুকু দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, সে ততটুকুর জন্য আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করবে।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
"হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবারকে সেই আগুন থেকে রক্ষা কর, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর।"
— সূরা আত-তাহরীম, ৬
এই আয়াত প্রমাণ করে যে, একজন মুসলিমের দায়িত্ব শুধু নিজের ইবাদত করা নয়; বরং পরিবারকে সালাত, কুরআন, ইসলামী আদব-আখলাক ও আল্লাহভীতির শিক্ষা দেওয়া।
দায়িত্বশীলতার বাস্তব রূপ।
একজন মুমিনের দায়িত্ব হলো—
পাঁচ ওয়াক্ত সালাত প্রতিষ্ঠা করা এবং পরিবারকে সালাতে উৎসাহিত করা।
হালাল উপার্জন করা এবং হারাম থেকে বেঁচে থাকা।
সন্তানদের কুরআন, সুন্নাহ ও উত্তম চরিত্রের শিক্ষা দেওয়া।
স্ত্রী-সন্তানের হক আদায় করা।
মানুষের আমানত ও অধিকার রক্ষা করা।
নিজের প্রতিটি কথা ও কাজের জন্য আল্লাহর ভয় রাখা।
fans