08/04/2026
✍️ নবীপ্রেম সমস্ত ইবাদতের প্রাণ
عَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَجُلًا قَالَ يَارَسُولَ اللَّهِ مَتَى السَّاعَةُ قَالَ وَيُلَكَ وَمَا أَعْدَدْتَ لَهَا قَالَ مَا أَعْدَدْتُ لَهَا إِلَّا أَنِّي أُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ قَالَ أَنْتَ مَعَ مَنْ أَحْبَبْتَ قَالَ أَنَسٌ فَمَا رَأَيْتُ الْمُسْلِمِينَ فَرِحُوا بِشَيْءٍ بَعْدَ الْإِسْلَامِ فَرْحَهُمْ بِهَا مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ مِشْكوة صفحه ٤٢٦ دم
অর্থাৎ, হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি আবেদন করলেন, এয়া রসূলাল্লাহ! কেয়ামত কখন হবে? উত্তরে আল্লাহর রসূল জিজ্ঞেস করলেন, ক্বিয়ামতের জন্য তুমি কী প্রস্তুতি নিয়েছ? লোকটি আরয করলো, তজ্জন্য আমি তেমন কোন প্রস্তুতি নিতে পারিনি; তবে আমি আল্লাহ এবং তাঁর রসূলকে ভালবাসি। এবার হুযূর এরশাদ করলেন, "তুমি যাকে ভালবাস ক্বিয়ামত দিবসে তুমি তার সাথেই থাকবে।” (এ হাদীসের বর্ণনাকারী) হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বলেন, "ইসলামের আবির্ভাবের পরে আমি মুসলমানদেরকে এরূপ আর খুশি হতে দেখিনি, যেরূপ এ কথাটুকু শুনে খুশি হয়েছেন।”
সূত্র: বুখারী শরীফ ২য় খন্ড ৯১১ পৃষ্ঠা, মুসলিম শরীফ ২য় খণ্ড ৩৩১ পৃষ্ঠা, মিশকাত শরীফ ৪২৬ পৃষ্ঠা।
📝 প্রাসঙ্গিক আলোচনা
নবীপ্রেমই খোদাপ্রাপ্তির পূর্বশর্ত। কারণ আল্লাহ পাক স্বয়ং ক্বোরআনে ইঙ্গিত দিয়েছেন, আমাকে কেউ ভালবাসতে চাইলে কিংবা আমার ভালবাসা পেতে চাইলে, সে যেন আমার হাবীবের আনুগত্য করে, এক কথায় আমার নবীর গোলামী করে। আর আল্লাহর হাবীব এরশাদ করেছেন, "ততক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের কেউ পরিপূর্ণ ঈমানদার হতে পারবেনা, যতক্ষণ পর্যন্ত আমি তার কাছে বেশি প্রিয় হব না তার মাতাপিতা, সন্তান-সন্ততি, মানুষ ও সবকিছুর চেয়ে।”
[বুখারী শরীফ: ১ম খণ্ড: ৭১ পৃষ্ঠা।
পবিত্র ক্বোরআন-হাদীস'র সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনায়ও প্রতীয়মান হয়, পৃথিবীতে কোন ব্যক্তি যত বড় নামাযী, রোযাদার, দানবীর তথা ইবাদতকারী হোকনা কেন যদি তার অন্তরে নবীর প্রেম-ভালবাসা স্থান না পায়, তাহলে তার ওইসব ইবাদত, নামায, রোযার কোন মূল্য নেই। কারণ, ঈমানদার হওয়ার জন্য নবীর মুহাব্বত প্রত্যেকের উপর ওয়াজিব তথা আবশ্যক। আর নামাযের ভিতরেও আল্লাহর নবীর
উপর দুরূদ পড়া ও আল্লাহর হাবীবকে সালাম দেওয়া ওয়াজিব। আর সালাম প্রদানের সময় নবীজীর স্মরণ অন্তরে একাগ্রতার সাথে রাখা বাঞ্ছনীয়। আনমনা, তথা অন্যমনস্ক হয়ে নামায পড়া হলে, তা পরিপূর্ণ নামায নয় বলে হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে। আর মহান রব্বুল আলামীন হুঁশিয়ারবাণী উচ্চারণ করেছেন-"ফাওয়াইলুল্লিল মুসাল্লী-না ল্লাযী-নাহুম 'আন সালা-তিহিম সা-হু-ন” (ঐসব নামাযীদের জন্য রয়েছে ধ্বংস, যারা নিজেদের নামাযের ব্যাপারে অন্যমনস্ক থাকে।) তাই উদ্ধৃত ক্বোরআন-হাদীসের বাণীদ্বয় আমাদেরকে শিক্ষা দিচ্ছে নামাযেও রসূলকে স্মরণ করা একান্ত আবশ্যক। অথচ ওহাবীরা বলে নামাযের মধ্যে নবীর খেয়াল আসা গাধা- গরুর খেয়াল আসার চেয়েও বেশি খারাপ (না'উযু বিল্লাহ)।
নবীর ভালবাসা কেমন হওয়া চাই, তার প্রমাণ দিয়ে গেছেন, আমীরুল মুমিনীন সিদ্দীক্ব-ই আকবর হযরত আবু বকর রদ্বিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু। হিজরতের রাত 'সওর' পর্বতে গুহার অভ্যন্তরে প্রবেশ করে ছোট ছোট সকল গর্ত বন্ধ করে সর্বশেষ গর্তটি বন্ধ করার কিছু না পেয়ে নিজের পা দিয়ে গর্তের মুখ ঢেকে রেখেছিলেন, যাতে বিষাক্ত কিছু ওই গর্ত দিয়ে এসে আল্লাহর রসূলের আরামের ব্যাঘাত করতে না পারে। সর্বশেষ ওই গর্তেই বিষাক্ত সাপ এসে ছোবল মারলে সিদ্দীক্ব-ই আকবরের সমস্ত শরীর নীল হয়ে এক পর্যায়ে শরীরে কম্পন সৃষ্টি হয়ে গিয়েছিল। নিজের প্রাণ চলে যাবার উপক্রম হয়েছিল এমন মুহূর্তে সিদ্দীক্ব-ই আকবর নবীজীর ঘুম ভেঙ্গে যাবে, কষ্ট হবে এমন ভেবে একটু শব্দও করেননি। এক কথায় প্রাণের চেয়েও বেশি নবী-ই পাকের আরামকে প্রাধান্য দিয়েছেন। এত গেল কেবল একটা দৃষ্টান্ত। এরকম হাজারো দৃষ্টান্ত হযরত সিদ্দীক্ব-ই আকবর পরবর্তী প্রজন্মের জন্য রেখে গেছেন তাইতো একদা আম্মাজান আয়েশা সিদ্দীক্বা রদ্বিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা'র প্রশ্নের উত্তরে হুযূর করীম বলেছিলেন- আকাশের নক্ষত্রের সংখ্যার চেয়েও বেশি আমল করেছে ফারূকু-ই আ'যম হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব। আর ওমরের এ ইবাদতের চেয়েও তোমার পিতা আবু বকরের এক রাতের ইবাদত শ্রেষ্ঠ।
[মিশকাত শরীফ: কিতাবুল মানাকিব।
👉 পরবর্তী আলোচনা দ্বিতীয় পর্ব........