09/10/2019
মা আমার আবার ফিরে গেলেন তাঁর স্বামীর সংসারে। মা প্রতি বছর স্বামীর সংসার ছেড়ে বাপের বাড়ি আসেন। আসলে মা'কে আমরা শক্তি রূপে, দুর্গতিনাশিনী হিসেবে আরাধনা করে থাকি । কিন্তু, এই পূজো করে আমাদের কী লাভ হচ্ছে? আসলে লাভ-ক্ষতির হিসাবটা আমরা আগেই করি তো তাই বললাম। শুধু শুধু টাকার শ্রাদ্ধ করা। সারা বছরই আমাদের প্রতি ঘরে-ঘরে দুঃখ, দুর্দশা তো লেগেই থাকে। তার থেকেও মনে বড় কষ্ট লাগে, যখন শুনি আমার ভাই-বোনেরা অন্য সম্প্রদায়ের ভাই-বোনের হাত ধরে চলে যায়। কেন এমন হয়। এক বারও ভাবি না, যে মা দশ মাস দশ দিন তার পেটে বহন করে অতিকষ্টে সংসারের সকল কাজ সম্পাদন করেছেন। এক দিন হাঁড় ভাঙ্গা কষ্ট নিয়ে প্রসব করেছেন। তিলতিল করে বড় করেছেন। যখন তোমাদের এই দিনটি আসবে তখন একবার হলেও তাদের কষ্টের দিনগুলোর কথা চিন্তা করে দেখো। তারা তোমাদের জন্য কত কষ্ট করেছেন। আসলে সমস্যা হলো গোঁড়াতে, বীজ ভালো না হলে পক্ষ চারা কোথা থেকে জন্ম নেবে? তার কারন হলো আমরা কেউ দশবিধ সংস্কার মানছি না। যেটুকু করতেছি তা নিজের খেয়াল খুশি মতো। এর বড় সমস্যা হলো বিবাহ সংস্কার। যারা জাতপাত ভুলে বিয়ের পরামর্শ দিচ্ছেন তারা একবার ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করে দেখবেন। একটা পরিপক্ষ গাছের সাথে বেশ কয়েকটি হাতিও বেধে রাখা যায়। কিন্তু নড়বড়ে গাছের সাথে তা পারা যায়না। তেমনি একজন আদর্শ সন্তান তার পরিবারের, দশের এবং দেশের জন্য সুফল বয়ে আনে। নড়বড়ে সন্তান জন্ম দেওয়া/পালন করা মানে হিংস্র জানোয়ার বা বিষধর সাপ জন্ম দেওয়া/পালন করা। প্রতিলোম জাত সন্তানকে শাস্ত্রে চণ্ডাল বলা হয়। আবার যদি ভালো গাছ না হয় ফলও ভালো হয় না। আমরা অনেক অনেক কিছু জানি বুঝি, তবে কেউ তা মানি না। যদি কেউ সমাজের গোড়ার কথা বলে, তখন একদল উঠে এসে বলে বেশি জ্ঞান দিতে এসো না। এমনিতেই আমাদের সংখ্যা দিনদিন কমতেছে। তাদের বলি, ভাই আগে সমস্যাটা বুঝতে চেষ্টা কর। বাস্তবে তা উপলব্ধি কর, তাহলেই বুঝতে পারবে। দুর্গা পূজো সবে মাত্র শেষ হলো। এ পূজোতে আমাদের আনন্দের সীমা ছিলো না। এতোই আনন্দিত হয়ে গিয়েছিলাম যে, মা'য়ের সামনে বা গাড়িতে বা রাস্তায় বা কার সাথে বা কার সামনে লাফালাফি করতেছি ভুলেগেছি । বিশেষ করে আমার মায়েরা যে ভাবে নাচানাচি করেছেন তা একদম ঠিক নই। কামুকরা হয়তো তোমাদের সমর্থন করবে। কারন সে তার কামনা বাসনা চরিতার্থ করার জন্যই করবে। মা দুর্গার এমন একটা সাজানো গোছানো সংসার আমাদের শিক্ষা দেয় না? তিনি কীভাবে স্বামী, ছেলে-মেয়ে এবং হিংস্র জন্তু-জানোয়ার নিয়ে এক সাথে বেঁধে সুন্দর এক পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন। এ পৃথিবীটা হল কর্ম ক্ষেত্র। এখানে কর্ম ছাড়া কেষ্ট মেলে না। শুধু মার পুজো করলেই যে মা এসে হাতে কড়ি দিয়ে শিখিয়ে দেবেন বা মা এসে রক্ষা করবেন এটা স্বপ্নেও ভাববেন না। নিজেকে সেই ভাবে পরিচালিত করতে হবে। তবেই তো দেবতুল্য সংসার হবে। আপনারা একবার শাস্ত্র বা অতীত খুঁজে দেখবেন কেমন সংসারে ঐ রকম দেব তুল্য সন্তানরা জন্মে ছিলো। দেব তুল্য সন্তান প্রসব করতে হলে দেব সংসার গঠন করতে হবে। তার জন্য দরকার একজন আদর্শ। আর সে আদর্শ হলেন বর্ত্তমান যুগ পুরুষোত্তম শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকুল চন্দ্র। আসুন, একবার তাঁর চরণ তলে, যাচাই করে দেখি তাঁর কেমন জীবন বিধান। একমাত্র শ্রীশ্রীঠাকুর দিয়ে গিয়েছেন যুগোপযোগী জীবন বিধান। ধরতে পারলে মানব জীবন সার্থক। নইলে কালচক্রে ঘুরতে হবে।
" জয়গুরু", "শারদ শুভেচ্ছা"।