18/05/2024
কেন আমরা ধনী হই?
কেন আমরা গরিব হই?
শুভমানব তথাগত সম্যক সম্বুদ্ধকে এই প্রশ্নটা করেছিলেন?
তথাগত সম্যক সম্বুদ্ধ শুভমানবকে দেশনা করেছিলেন।
আমরা যে চুরি করি, আরেকজনের পকেট থেকে ৫০০ টাকা, ১০০০ টাকা বা তার অধিক টাকা চুরি করে নিলাম।যার কাছ থেকে চুরি করলাম সে সেই পরিমাণ দরিদ্র হয়ে গেল।
তাহলে আমি যে আরেকজনকে দরিদ্র করে দিয়েছি এটা আমার চিত্ত সেইভ করে রেখে দিয়েছে। কেউ দেখে নি।আমি চুরি করার সময় কেউ দেখে নি বটে কিন্তু আমার চিত্ত সেইভ করে রেখে দিয়েছে।
আমি জন্মান্তর গ্রহণ করার সময় আমি গরিব কূলে জন্ম গ্রহণ করবো।ভিখারির কূলে জন্ম নেব, দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেব।এটার কারণ আমি আরেকজনকে দরিদ্র করে দিয়েছিলাম। সে কারণে আমি দরিদ্র কূলে জন্ম নেব। এটা স্বাভাবিক। এটা প্রকৃতির নিয়ম। আমরা যে শীল গ্রহণ করার সময় বলেছি আমি চুরি করা থেকে বিরত থাকব।চুরি করব না।অভয় দান দিলাম।
আমার কারণে কারো সম্পদ হরণ হবে না।কারো সম্পত্তি নষ্ট হবে না।পরের সম্পদের প্রতি অভয় দিলাম।এই অভয় দানের ফলে তাই আমরা শীল নিয়ে যে গাথাটি বলি,
সীলেন সুগতিং যন্তি, সীলেন ভোগসম্পদা,
সীলেন নিব্বুতিং যন্তি, তস্মা সীলং বিসোধয়ে।
অর্থাৎ শীলের দ্বারা তুমি সুগতি লাভ করবে।শীলের দ্বারা তুমি ভোগ সম্পদ লাভ করবে।
তার মানে তুমি ধনী হবে এবং শীলের দ্বারা নির্বাণ সম্পদ পর্যন্ত লাভ করা যায়।
তস্মা সীলং বিসোধয়ে,সেই কারণে শীলকে বিসুদিতে করিবে।তাহলে শীলের কারণে, দানের দ্বারা ধনী হওয়া যায় বুঝলাম।কিন্তু শীলের দ্বারা যে ধনী হওয়া যায় বুদ্ধের বাণী।
শীলের কারণে কেনো ধনী হবো?
এই যে অভয় দিলাম আমি পরের সম্পদকে অভয় দান করলাম।এটা আমার চিত্ত সেইভ করে ধরে রেখেছে। যেদিন আমার ফল দেবে সেদিন আমি সুগতি স্হানে জন্ম নেবো।
সুগতি স্থান বলতে কোথায়?
আমরা ত্রিভুবন বলি না,প্রায় ধর্মে আছে।হিন্দুরা ও স্বীকার করে।বৌদ্ধ ধর্মেও স্বীকার করে।
ত্রিভুবন টা কি?
১) কামভুবন ২) রূপ ভুবন ৩) অরূপভুবন।
এই ত্রিভুবনকে বৌদ্ধ ধর্মে ৩১ লোকভূমিতে বিভক্ত করেছে।
কামভুবন বলতে যেখানে জন্ম নিলে প্রাণীগণের কামচিত্ত উৎপন্ন হয়। সেই স্থানগুলোকে কামভূবন বলে।এই কামভুবন হচ্ছে ১১ টা। ১১ টাকে ২ ভাবে ভাগ করেছে।১) কামসুগতি ভুমি ২) কামদূর্গতি ভূমি।
কাম দূর্গতি ভূমি হচ্ছে ৪ টা।
নরক, অসূর,প্রেত,তীর্যক।
আর বাকি ৭ টাকে কামসুগতি ভূমি।
মনুষ্যলোক,চতুর্মহারাজিক স্বর্গ,তাবতিংস স্বর্গ,যাম স্বর্গ,তুষিত স্বর্গ,নির্মাণরত