13/01/2025
🌻আজ ১২ই রজব আল্লামা গাজী শে'রে বাংলা সৈয়দ মোহাম্মদ আজিজুল হক আল কাদেরী (র)-এর উফাত শরীফ উপলক্ষে সংক্ষিপ্ত জীবনী:🌻
🟨 রসূলে পাকের নির্দেশে খেলাফত লাভ ও দুইটি নেয়ামত লাভ:
হযরত মাওলানা শাহসূফী সৈয়দ আবদুল হামিদ বাগদাদী (র) এর হাতে বা’য়াত গ্রহণ করে সিলসিলায়ে আলিয়া কাদেরিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর তাঁর সাথে হযরত শেরে বাংলা (র) এর পর পর তিনদিন গােপন রূহানী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তৃতীয়দিন হযরত বাগদাদী (র) হুজুর কেবলাকে বলেন,
“আমি আপনাকে বেলায়তের সর্বোচ্চ খেলাফত দান করলাম। গতকাল রাত্রে তাহাজ্জুদের নামাজের সময় পেয়ারা রাসূল (দঃ) এসে আপনাকে খেলাফত দেওয়ার জন্য আমাকে নির্দেশ দান করেন। আমি প্রশ্ন করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ (দঃ)! তাঁকে তাে শুধুমাত্র খেলাফত দিলে চলবে না। সাথে বিশেষ কিছু নেয়ামতও প্রদান করতে হবে। পেয়ারা রাসূল (দঃ) এরশাদ করেন, তাঁকে জানিয়ে দিন, দু'টি বিশেষ নেয়ামত তাঁকে দেয়া হয়েছে, যা ইতিপূর্বে তাঁকে প্রদান করা হয়েছে। তার একটি হচ্ছে ইন্তেকালের তিনমাস পূর্বে তাঁকে বিশেষভাবে সতর্ক করা হবে। অপরটি হচ্ছে সমস্ত আম্বিয়ায়ে কেরাম ও আউলিয়ায়ে কেরামের রূহ হাজির এবং সরাসরি আলাপ করার ক্ষমতা তাঁকে প্রদান করা হয়েছে।”
🟨 ‘শেরে বাংলা' উপাধি লাভ:
সম্ভবতঃ চল্লিশ দশকের প্রারম্ভ। পটিয়া সাতবাড়ীয়া নিবাসী প্রখ্যাত আলেম সুলতানুল ওয়ায়েজীন হযরতুল আল্লামা মাওলানা আবদুল হামিদ ফখরে বাংলা (র) অনেক আলেমসহ কাদিয়ানীদের সাথে চট্টগ্রাম আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদে মোনাজারায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। সেখানে দীর্ঘক্ষন ধরে প্রশ্ন-উত্তর চলার পর আল্লামা গাজী শেরে বাংলা (রহ:) নির্দেশ লাভ করে তর্কে অংশগ্রহণ করেন। আল্লাহর মহান কুদরতে তিনি দু-একটি সারগর্ভ প্রশ্ন উত্থাপন করার সাথে সাথে বাতিলপন্থী কাদিয়ানী পরাজিত হয়ে মজলিস ত্যাগ করে। সকলে তার বুদ্ধি ও সাহস থাকে আশ্চর্যান্বিত হলেন। হযরতুল আল্লামা মাওলানা আব্দুল হামিদ ফখরে বাংলা (রহ) সকলের সমর্থন ও রায় গ্রহণ করার পর দীপ্তকণ্ঠে ঘোষণা করলেন—
❝আমাকে ব্রিটিশ সরকার প্রকারের বাংলা উপাধি দিয়ে সম্মান জানিয়েছেন। আজ আমি এই সভায় আলেম সমাজের পক্ষ থেকে ঘোষণা দিচ্ছি বাংলার গৌরব মাওলানা সৈয়দ আজিজুল হককে 'শেরে বাংলা' উপাধিতে ভূষিত করা হলো।❞
🟨 মজবুত ঈমান-আক্বিদার অনুসারী:
মােজাদ্দেদে মিল্লাত, ইমামে আহলে সুন্নাত হযরতুল আল্লামা গাজী শাহ্ সৈয়দ মােহাম্মদ আজিজুল হক শেরে বাংলা (র) বাল্যকাল থেকেই অতি মেধাবী ও সচ্চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। কথিত আছে, তিনি যা একবার পাঠ করতেন বা শ্রবণ করতেন কিংবা অবলােকন করতেন তা কখনও বিস্মৃত হতেন না। এ কারণে তাকে অনেকে জ্বিনের সন্তান বলে আখ্যায়িত করতেন।
শৈশবকালে তিনি সর্বপ্রথম প্রাথমিক শিক্ষা আপন সম্মানিত পিতা হযরত শাহসূফী মাওলানা সৈয়দ মােহাম্মদ আবদুল হামিদ আল কাদেরী মেখলী (র) এর নিকট লাভ করেন। অতঃপর কৈশােরকালে প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন করার জন্য হাটহাজারী মাদ্রাসা-এ-মঈনুল ইসলামে ভর্তি হন, যা বর্তমানে হাটহাজারী ওহাবী মাদ্রাসা নামে পরিচিত। তৎকালে টাইটেল মাদ্রাসার বড়ই অভাব ছিল। তাছাড়া উক্ত মাদ্রাসায় গরীব ও মেধাবী ছাত্রদের সর্বপ্রকার সাহায্য ও সহযােগিতা প্রদান করা হত। তাই দেওবন্দী ওহাবী আক্বীদা অনুযায়ী পরিচালিত হলেও অনেক সুন্নী আক্বিদার ছেলে নিরূপায় হয়ে উক্ত মাদ্রাসায় অধ্যয়ন করত। বাতিলপন্থীরা পরিচালনা করলেও তৎকালে সুন্নী আক্বীদার আলেমও সেখানে শিক্ষকতা করতেন।
✨ তাঁর মূল শিক্ষা জীবনের সম্পূর্ণটা ওহাবী মাদ্রাসায় অতিবাহিত হলেও তিনি ছিলেন ওহাবী চিন্তাধারা থেকে সদামুক্ত, নিষ্কলুষ ও পূতঃপবিত্র। বরঞ্চ ওহাবীদের সংস্পর্শ ও তাদের বদ আক্বীদার কিতাবাদী পঠনের ফলে তার ঈমান-আক্বীদা মজবুত হয়েছে এবং পরবর্তীতে বাতিলদের বিরুদ্ধে তর্ক ও জেহাদ করার পথ সুগম করেছে।
🟨খিজির (আ)-এর সহিত সাক্ষাৎ:
টাইটেল পাশ করার পর তিনি কোরআন, হাদীস, ফিকাহ শাস্ত্রে উচ্চতর শিক্ষা লাভ করার জন্য হিন্দুস্থানে গমন করেন। দিল্লীর বিখ্যাত ফতেহপুর আলীয়া মাদ্রাসায় অধ্যয়নকালে আল্লামা গাজী শেরে বাংলা (র) ইলমে লাদুন্নিয়া তথা বাতেনী রহস্যজ্ঞানের ধারক হযরত খাজা খিজির (আঃ) এর সাক্ষাৎ লাভ করেন। উক্ত মহাপুরুষ তাঁকে সস্নেহে আলিঙ্গন করেন এবং পবিত্র হাদীস শরীফ থেকে ৪টি ছবক পাঠ করিয়ে অদৃশ্য হয়ে যান। এ ঘটনার পর থেকে তাঁর জ্ঞান ও স্মরণশক্তি অসাধারনভাবে বৃদ্ধি পায়।
🟨 রসূল (ﷺ)-এর পরিপূর্ণ অনুকরণে শারীরিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য:
মােজাদ্দেদে মিল্লাত হযরতুল আল্লামা গাজী শাহ সৈয়দ মােহাম্মদ আজিজুল হক শেরে বাংলা (র) এর পবিত্র শারীরিক কাঠামাে ছিল মধ্যম প্রকৃতির। তাঁর পবিত্র গায়ের রং ছিল ফর্সা। চেহারা মােবারক ছিল নূরাণী। হুজুরের চুল মােবারক ছিল গাঢ় কাল বাবরী কাটা, সম্পূর্ণ চোয়াল বরাবর গাঢ় লম্বা চাপ দাড়ি বিদ্যমান ছিল। এগুলাে রাসূলে পাক (দঃ) এর সুন্নাতেরই পরিপূর্ণ অনুকরণ। তিনি মাথায় সর্বদা গাঢ় কাল লম্বা টুপি পড়তেন। কাবা শরীফের গিলাফের রং কাল বলে তিনি অনুরূপ পছন্দ করতেন। কিন্তু আদবের বরখেলাফের আশংকায় কখনও কাল জুতা পরিধান করতেন না। হুজুর বেশীর ভাগ সময়ে সাদা পাঞ্জাবী ও সাদা লুঙ্গি পরিধান করতেন।
✨হুজুরের আচার-ব্যবহার ছিল অতি কোমল ও নমনীয়। তাঁর প্রতি দৃষ্টিপাত করলে দর্শনার্থীর মনে দয়ার উদ্রেক হত। যারা তাঁকে শত্রু বলে মনে করত তারাও হুজুরকে সর্বদা দেখতে আসত। এমনকি ওহাবীরা পর্যন্ত হুজুরকে দেখতে আসত। হুজুর দু'হাত তুলে দোয়া করতেন।
🟨 হাদীয়ে জমান, পেশওয়ায়ে আহলে সুন্নাত বাণিয়ে জামেয়া হযরত সায়্যেদ আহমদ শাহ্ সিরিকোটি (র) এর সাথে সম্পর্ক:
সুন্নী আক্বীদার প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে ফটিকছড়ি থানার দৌলতপুর নিবাসী তৎকালীন বার্মায় বসবাসকারী জনাব আব্দুল বারিক চৌধুরীর দাওয়াতে হযরত শেরে বাংলা (র) বার্মা গমন করেন। নির্দিষ্ট দিন আবদুল বারিক চৌধুরী সাহেবেরই নিজস্ব জাহাজে করে ইমাম শেরে বাংলা (র) সঙ্গীসমেত বার্মা যাত্রা করেন। বার্মার রেঙ্গুনে পৌছে তাঁরা সর্বপ্রথম রেঙ্গুনস্থিত বিখ্যাত বাঙ্গালী মসজিদে এশার নামাজ আদায় করেন।
নামাযের ইমামতি করছিলেন পীরে তরীকত, রাহনুমায়ে শরীয়ত, বাণিয়ে জামেয়া আল্লামা হযরত হাফেজ ক্বারী ছৈয়দ আহমদ শাহ ছিরিকোটি (র)। নামায সমাপনান্তে হযরত ছৈয়দ আহমদ শাহ (র) এর সাথে শে'রে বাংলার সাক্ষাৎ ঘটে। তাঁর সাথে হুজুর কেবলার আকীদামূলক বিভিন্ন বিষয়ের উপর সারগর্ভ আলাপ হয়। শেরে বাংলা (র) হিন্দুস্থানের দেওবন্দীদের লেখা বিভিন্ন কিতাব প্রদর্শন করে তাতে উল্লেখিত বিভিন্ন কুফরী উক্তিসমূহ উপস্থাপন করেন। ছৈয়দ আহমাদ শাহ ছিরিকোটি (র) শেরে বাংলা (র) এর সাথে দৃঢ় চিত্তে একাত্মতা প্রকাশ করে ওহাবীরা কাফের বলে ঘােষণা প্রদান করেন।
✨ বার্মা থেকে প্রত্যাবর্তনের সময় হযরত শেরে বাংলা (র) তরীকতের প্রচার ও প্রসারের জন্য হুজুর কেবলা সৈয়দ আহমদ শাহ ছিরিকোটি (র) কে চট্টগ্রামে আগমনের দাওয়াত প্রদান করেন। তিনি তাঁর এই মহান দাওয়াত অকুণ্ঠচিত্তে কবুল করেন। অবশেষে হযরত শেরে বাংলা (র) এর সক্রিয় পরামর্শ ও অনুরােধক্রমে ১৯৪৬ সালে হযরতুল আল্লামা ছৈয়দ আহমদ শাহ ছিরিকোটি (র) চট্টগ্রামের জমিনে তশরীফ আনেন।
🟨 ইন্তেকালের পূর্বে প্রিয় নবীজি (ﷺ)-এর দর্শন লাভ:
মােজাদ্দেদে মিল্লাত আল্লামা গাজী শেরে বাংলা (র) হচ্ছেন ছানীয়ে ওয়াইছুল করণী। তাঁর জনৈক মুরিদ বলেন, হুজুর কেবলা অসুস্থতার কারণে ইন্তেকালের পূর্বে যখন কম কথা বলতেন, তখন আমি হুজুরের প্রধান খলিফা হযরত মাওলানা মােহাম্মদ আবদুল মাবুদ আল্ কাদেরী (র) কে বললাম, হুজুর কেন কথা কম বলছেন? বাতিল পন্থীরা বলবে, তােমাদের শেরে বাংলা তাে দুনিয়া থেকে যাওয়ার আগে কথাও বলে যেতে পারেননি। তখন মাওলানা আবদুল মাবুদ আল কাদেরী (র) হুজুরকে বললেন, “হুজুর আপনি কথা কম বলেন কেন? বাতিলপন্থীরা তাে আমাদেরকে ঠাট্টা করে বলবে, তােমাদের শেরে বাংলা তাে কথাও বলে যেতে পারেননি।” অমনি হুজুর কেবলা শোয়া থেকে উঠে বসে বললেন,
“নবীজির দুশমনরা কি আর বলবে? আমি এক সপ্তাহের মধ্যে নবীজিকে চল্লিশবার দেখেছি।”
🟨 ইন্তেকালের পূর্বে অসিয়ত:
হযরত শেরে বাংলা (র) অসুস্থ অবস্থায় তার মুরিদ ও খলিফা হযরত মাওলানা শেখ জামাল উদ্দিন আহমদ আল কাদেরী (র) কে বলেন, “আমাকে ৬৩ বৎসর বয়সে ইহজগৎ হতে চলে যেতে হচ্ছে, যেটা মহানবী (দঃ) এর জীবনে সংগঠিত হয়েছিল। মনের মানুষ জীবনে কাউকে পেলাম না, যাকে আমার অন্তরের আগুন দিয়ে যেতাম। কিন্তু তােমরা তােমাদের কর্তব্য আদায় করতে থাক। আমার ইন্তেকালের পরেও সদা-সর্বদা আমার আন্তরিকতা পাবে।” হুজুর আরও বলেন, “বাবা আমার অন্তিম অবস্থা। আমি পরপারে থেকেও প্রকৃত সুন্নী জমাতের কর্তব্য পালন করে যাব। তােমাদেরকে বলেছিলাম আমার জীবনে চারবার হযরত খাজা খিজির (আঃ) এর সাক্ষাৎ হবে কিন্তু তিনবারের কথা তােমাদেরকে জানিয়েছিলাম। এই শেষবারের মত তিনি আমাকে বিদায় জানিয়েছেন। এই কথা আমি তােমাদেরকে বলি নাই। আল্লাহর উপর ভরসা রেখে কাজ করতে থাকবে। আমার ইন্তেকালের পর আমার মাজারে এসে অনেক উপকৃত হতে পারবে।”
🟨 ওফাত শরীফ:
১২ই রজব বুধবার দিবাগত রাত্রে সুবহে সাদেকের সময় এদেশের সুন্নীয়াতের আন্দোলনের সর্বোজ্জ্বল জ্যোতিক, সুন্নী জনতার প্রাণস্পন্দন মােজাদ্দেদে মিল্লাত হযরতুল আল্লামা গাজী সৈয়দ মােহাম্মদ আজিজুল হক (র) পর্দা করেন।
✨ইন্তেকালের পূর্বক্ষণে তিনি পবিত্র হস্তে পাখা নিয়ে মাটিতে আঘাত করে জোড় কণ্ঠে বলতে লাগলেন, “উঠো! উঠো! সবাই উঠো! আমি চলে যাচ্ছি। আমার প্রিয় নবী (দঃ) আমাকে নিতে এসেছেন।” এ বলে তিনি হস্ত মােবারক বেঁধে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং সজোরে উচ্চ কণ্ঠে বলতে লাগলেন, “আস্সালাতু ওয়াস্সালামু আলাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহু (দঃ)।” এ আওয়াজ পূর্ব পশ্চিম সম্পূর্ণ রুমে একে একে প্রত্যেক ব্যক্তির কানে পৌছল। সবাই ব্যাকুল হয়ে ছুটে এসে দেখতে পেল যে, তাদের প্রাণপ্রিয় হুযুর শেরে বাংলা (র) আর ইহজগতে নেই।
🟨শহীদী মক্বাম লাভ:
হুজুরের ইন্তেকালের পর দীর্ঘ ৩০ ঘন্টা যাবৎ ঘাম মােবারক নিঃসৃত হয়েছিল। হযরতুল আল্লামা কাজী মােহাম্মদ নুরুল ইসলাম হাশেমী ছাহেব অজস্রধারায় ঘর্ম নির্গমনের রহস্য উন্মােচন করেন। তিনি ছিহাহ ছিত্তাহর হাদীছ ছহীহ বুখারী ও মুসলিম শরীফ থেকে উদ্ধৃতি পেশ করে বলেন, “ইন্তেকালের পর ঘর্ম নির্গমন হওয়া এটা শােহাদায়ে কেরামের লক্ষণ ও প্রমাণ। হুজুর খন্দকিয়ার জমিনে শাহাদাৎবরণ করলেও শহীদি মকাম লাভ করেছেন গত বুধবার ইন্তেকালের পর। হুজুরের ইন্তেকালের পর থেকে প্রচুর পরিমাণে ঘর্ম নিঃসরণ হুজুরের উঁচু দরজার শহীদি মকাম লাভেরই বহিঃপ্রকাশ।”
আল্লামা কাজী মােহাম্মদ নুরুল ইসলাম হাশেমী ছাহেবের ইমামতিতে লক্ষাধিক লােকের উপস্থিতিতে হুজুরের পবিত্র ঐতিহাসিক নামাজে জানাযা সম্পন্ন হয়।
✨ হাটহাজারীর প্রাণকেন্দ্রে হুজুরেরই নির্দেশ মােতাবেক পূর্বে খরিদকৃত জায়গায় হুজুরকে শায়িত করা হয়। শুক্রবার জুমার পূর্বে এই পবিত্র দাফন কার্য সম্পন্ন হয়। হুজুরেরই নছীহত মােতাবেক হুজুরের কবর শরীফকে খুবই উঁচু ও প্রশস্ত করা হয়। কারণ তিনি জীবদ্দশায় এরশাদ করে গেছেন, “তােমরা দাফনের সময় আমার কবরকে অন্ততঃ মাথা বরাবর উঁচু করবে। যাতে করে আমি প্রিয় নবীজি (দঃ) কে দাঁড়িয়ে সালাম জানাতে পারি। আমার রওজায় যখন মিলাদ মাহফিল হবে তখন যেন আমি দাঁড়িয়ে কেয়াম করতে পারি।”
🟨 ইন্তেকালের পর তাঁকে স্বপ্নে দর্শন:
আনােয়ারা থানাধীন ঝিওরী গ্রামের জনাব মাওলানা আবদুল হাকিম ছাহেব হযরতুল আল্লামা গাজী শেরে বাংলা (র) এর একান্ত আশেক ও একনিষ্ঠ মুরিদ ছিলেন। তিনি হুজুরের ইন্তেকালের পর রাত্রে স্বপ্নে দেখেন যে, হযরত শেরে বাংলা (র) এর পবিত্র রওজা পাকে পেয়ারা রাসূল (দঃ) খােলাফায়ে রাশেদীনসহ তশরীফ এনেছেন। হযরত শেরে বাংলা (র) সসম্মানে দাঁড়িয়ে সালাম আরজ করেন এবং রওজা পাকের ভিতরে উত্তর পার্শ্ব থেকে একটি পুটলি বের করে সেখান থেকে রক্তমাখা জামা ও রুমাল হুজুর পাক (দঃ) এর সামনে মেলে ধরে কেঁদে কেঁদে বলতে থাকেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ (দঃ)! আপনার শান বয়ান করার কারণে বাতিল ওহাবীরা আমাকে এভাবে রক্তাক্ত করেছে।” অতঃপর হুজুর তাঁর পবিত্র খণ্ডিত মস্তক রাসূলে পাক (দঃ) এর সামনে নত করে দু'হাত দ্বারা দেখিয়ে উচ্চস্বরে ক্রন্দন করে বলতে থাকেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ (দঃ) এয়া নবী সালাম আলাইকা’ বলার কারণে আপনার দুশমনরা আমার মাথাকে আঘাত করে কতভাগ করেছে দেখুন!” এতটুকু দেখার পর মাওলানা আবদুল হাকিম ছাহেব জাগ্রত হয়ে ভয়ে চিৎকার শুরু করলেন। তিনি ঘর থেকে বের হয়ে দিগ্বিদিকশূন্য অবস্থায় পাগলের মত ছুটাছুটি শুরু করলেন। কয়েকদিন তিনি কোথায় এবং কি অবস্থায় ছিলেন তাও তিনি বলতে পারেন না। অবশেষে তিনি চার দিনের দিন হুজুরের চাহরাম শরীফে হাটহাজারী দরবার শরীফে সম্পূর্ণ অলৌকিকভাবে উপস্থিত হন। ইমামে আহলে সুন্নাত হযরতুল আল্লামা আলহাজ্ব কাজী মােহাম্মদ নুরুল ইসলাম হাশেমী ছাহেবের নির্দেশে তিনি চাহরাম শরীফে উপস্থিত হাজার হাজার জনতার সামনে কেঁদে কেঁদে উপরােক্ত ঘটনা বর্ণনা করেন।
🟨 ইন্তেকালের পর অলৌকিকভাবে সশরীরে দর্শন লাভ:
হুজুরের চাহরাম শরীফে অগণিত মানুষের সমাগম হয়েছিল। অতিরিক্ত ভীড়ের কারণে অনেকে ফাতেহা শরীফের ফলাহার খেতে পারেনি। এমনিভাবে হুজুরের মাজার শরীফের পার্শ্বে উপস্থিত ছােট দু'টি বালকের ভাগ্যেও ফলাহার জোটেনি। ব্যর্থ মনােরথ হয়ে দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বালক দু'টি বাড়ি ফিরে যাচ্ছিল। কিন্তু মাজার শরীফের উত্তর পার্শ্বের ব্রীজের উপর এলে বালক দুটি দেখতে পেল হযরত শেরে বাংলা (র) তাদের ডেকে বলছেন, “বাবা তােমরা তাে ফলাহার পাওনি, নাও ফলাহার” এই বলে পকেট হতে কিছু ফলমূল বের করে ছেলে দুটোর হাতে দিলেন।
♦️তথ্যসূত্র :
১. মাসিক তরজুমানে আহলে সুন্নাত।
২. মোজাদ্দেদে মিল্লাত আল্লামা গাজী শেরে বাংলা (রঃ)।