Amrita-অমৃত

Amrita-অমৃত সবার উপরে মানুষ সত্য
তাহার উপরে নাই...
👉কবি বড়ু চণ্ডীদাস

মা তাঁকে স্বপ্নাদেশ দিয়েছিলেন ধনীদের থেকে সম্পদ নিয়ে দরিদ্রদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়ার জন্য। দেবীর নির্দেশ পালন করতে গিয়েই ধ...
21/08/2026

মা তাঁকে স্বপ্নাদেশ দিয়েছিলেন ধনীদের থেকে সম্পদ নিয়ে দরিদ্রদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়ার জন্য। দেবীর নির্দেশ পালন করতে গিয়েই ধনা এক ডাকাত দল গড়ে তোলেন। ব্রিটিশ পুলিশের তাড়া খেয়ে একসময় ধনা দেবীর বিগ্রহটি একটি পুকুরে ফেলে দেন এবং এরপর থেকেই তিনি নিরুদ্দেশ হয়ে যান।
চুঁচুড়ার বুকে অবস্থিত ‘বুনো কালী’ মন্দিরটি কেবল একটি ধর্মীয় স্থান নয়, এটি জড়িয়ে আছে প্রায় দেড়শো বছরের পুরনো এক রোমাঞ্চকর ইতিহাস ও অলৌকিক জনশ্রুতির সঙ্গে। একসময়ের ঘন বনাঞ্চল আজ লোকালয়ে পরিণত হলেও, দেবীর নাম আজও রয়ে গেছে সেই প্রাচীন ‘বুনো কালী’ হিসেবেই।
প্রতিষ্ঠার নেপথ্যে এক বিদ্রোহী চরিত্র
এই মন্দিরের ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে আছেন ধনা পাসোয়ান নামের এক ব্যক্তি। ব্রিটিশ আমলে ধনা ছিলেন ব্রিটিশ বিরোধী এবং স্বাধীনচেতা। পিতার সঙ্গে মতবিরোধের জেরে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে ত্রিবেণীর ঘাটে এক শিলাখণ্ডের ওপর বিশ্রাম নেওয়ার সময় তিনি দেবীর স্বপ্নাদেশ পান। দেবী তাঁকে সেই শিলাখণ্ডটিকে কালী রূপে প্রতিষ্ঠা করার নির্দেশ দেন।

পরবর্তীতে ধনা চুঁচুড়ার জঙ্গলে মাকে প্রতিষ্ঠা করেন। লোকশ্রুতি অনুযায়ী, মা তাঁকে স্বপ্নাদেশ দিয়েছিলেন ধনীদের থেকে সম্পদ নিয়ে দরিদ্রদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়ার জন্য। দেবীর নির্দেশ পালন করতে গিয়েই ধনা এক ডাকাত দল গড়ে তোলেন। ব্রিটিশ পুলিশের তাড়া খেয়ে একসময় ধনা দেবীর বিগ্রহটি একটি পুকুরে ফেলে দেন এবং এরপর থেকেই তিনি নিরুদ্দেশ হয়ে যান।

কিছুদিন পর বটুক মান্না নামের স্থানীয় এক জেলে স্বপ্নাদেশ পেয়ে পুকুর থেকে সেই শিলাখণ্ড উদ্ধার করেন। দেবী তাঁকে বনের মধ্যেই মন্দির প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেন, যা কালক্রমে আজকের এই মন্দিরের রূপ নিয়েছে।
চুঁচুড়ার বুকে অবস্থিত ‘বুনো কালী’ মন্দিরটি কেবল একটি ধর্মীয় স্থান নয়, এটি জড়িয়ে আছে প্রায় দেড়শো বছরের পুরনো এক রোমাঞ্চকর ইতিহাস ও অলৌকিক জনশ্রুতির সঙ্গে। একসময়ের ঘন বনাঞ্চল আজ লোকালয়ে পরিণত হলেও, দেবীর নাম আজও রয়ে গেছে সেই প্রাচীন ‘বুনো কালী’ হিসেবেই।

তথ্য: সংগৃহীত
জয় মা বুনো কালী❤️🙏

17/08/2026

রাত পৌহালেয় মা মনসা পুজা...
"ওঁ আস্তিকস্য মুনের্মাতা ভগিনী বাসুকেস্তথা।জরৎকারুমুনেঃ পত্নী মনসাদেবী নমোহস্তুতে।"
জয় মা মনসা❤️🙏

১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় থেকে প্রায় ১০৪ বছর ধরে জগন্নাথ হল সনাতন ধর্মাবলম্বী ও অন্যান্য সংখ্যালঘু ...
12/08/2026

১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় থেকে প্রায় ১০৪ বছর ধরে জগন্নাথ হল সনাতন ধর্মাবলম্বী ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক হল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশ্ববিদ্যালয় যে তিনটি হল নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল, জগন্নাথ হল তার একটি। মানিকগঞ্জের বালিয়াটির জমিদার কিশোরীলাল চৌধুরীর পিতা জগন্নাথরায় চৌধুরীর নামে এই হলের নামকরণ করা হয়। এই হলে প্রথম প্রভোস্ট ছিলেন অধ্যাপক নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত। হলের অভ্যন্তরে অবস্থিত এই প্রাচীন শিব মন্দিরটি তখন থেকেই এই হলের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। ধারণা করা হয়, হলটি যেখানে অবস্থিত, সেখানে আগে থেকেই একটি মন্দির ছিল, যা পরবর্তীতে হলের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ হলের অভ্যন্তরে অবস্থিত শিব মন্দিরটি হিন্দু সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাসনালয়। ঢাকা শহরের অন্যতম ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থাপনা, যেখানে প্রতিদিনের প্রার্থনার পাশাপাশি শিবরাত্রিসহ নানা ধর্মীয় উৎসব ও আচার-অনুষ্ঠান অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে উদযাপিত হয়।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অবস্থিত জগন্নাথ হলের ঐতিহাসিক প্রাঙ্গণ,১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জগন্নাথ হল সনাতন ধর্মাবলম্বী ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের মিলনকেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। হলের ভেতরের এই শিব মন্দিরটি দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষার্থীদের আধ্যাত্মিক চর্চার কেন্দ্রবিন্দু। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে এই শিব মন্দিরের আশেপাশের স্টাফ কোয়ার্টারে পা'কি'স্তা'নি বাহিনীর হামলায় শহীদ হয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিখ্যাত ‘মধুর ক্যান্টিন’-এর প্রতিষ্ঠাতা মধুসূদন দে এবং তাঁর পরিবার।

মন্দিরটি নির্মাণে চুন, সুরকি ও পোড়ামাটি ব্যবহার করা হয়েছে। এর দেওয়ালে অসাধারণ কারুকাজ ও পুরাণের বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তির নিদর্শন ফুটিয়ে তোলা হয়েছে স্থাপত্যশৈলীতে বাংলার প্রাচীন মন্দির নির্মাণরীতি ও চমৎকার টেরাকোটার কাজ ফুটে উঠেছে। যে কেউ এখানে এলে মুগ্ধ হবে পোড়ামাটির নির্মাণশৈলীতে। বিশেষ করে পোড়ামাটির কারুকার্যগুলো ভক্ত ও পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়।
প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় মন্দিরে নিয়মিত পূজা ও আরতি অনুষ্ঠিত হয়। জগন্নাথ হল সরস্বতী পূজা ও দুর্গা পূজার জন্যও বিখ্যাত। জগন্নাথ হল সারস্বত পূজার আয়োজন করে থাকে এবং এটি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার একটি উল্লেখযোগ্য পূজা কেন্দ্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পূজা মণ্ডপের মধ্যে জগন্নাথ হলের দুর্গা পূজা অন্যতম। উৎসবের সময় পুরো মন্দির চত্বর সেজে ওঠে রঙিন আলো ও ফুলের সাজে।
শ্রী শ্রী শিব মন্দিরের সঠিক ইতিহাস
শ্রী শ্রী শিব মন্দিরের সঠিক প্রতিষ্ঠার ইতিহাস নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে স্থানীয় ভক্ত ও ইতিহাসবিদদের মতে, এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের অন্যতম একটি প্রাচীন ও জাগ্রত শিব মন্দির। এটি সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের কাছে একটি পবিত্র উপাসনালয়। নিয়মিত পূজার পাশাপাশি বিশেষ ধর্মীয় দিনগুলোতে মন্দির চত্বরে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়ে।
যোগাযোগ: ঢাকা শহরের যেকোনো স্থান থেকে যানবাহন যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আসা যায়। নিকটতম বাস স্টপ শাহবাগ। সেখান থেকে জগন্নাথ হলে প্রবেশ করে মন্দিরে যেতে হবে। জগন্নাথ হলের ঈশান কোণে (উত্তর-পূর্ব দিকে) এই মন্দিরটির অবস্থান। যেকোনো সময় ক্যাম্পাসের ছাত্র-শিক্ষক বা স্থানীয় লোকজন সঠিক পথ বলে দিতে পারবেন।
হর হর মহাদেব ❤️🙏

জয় শৈব তীর্থ বাবা ঘন্টেশ্বরহর হর মহাদেব ❤️🙏
04/08/2026

জয় শৈব তীর্থ বাবা ঘন্টেশ্বর
হর হর মহাদেব ❤️🙏

কথিত আছে নেপালের একজন রাজা স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে বিশ্বের পাঁচ কোনে পাঁচটি শিবমন্দির নির্মান করেন। এগুলো হলো          ১/নেপা...
02/08/2026

কথিত আছে নেপালের একজন রাজা স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে বিশ্বের পাঁচ কোনে পাঁচটি শিবমন্দির নির্মান করেন। এগুলো হলো

১/নেপালের পশুপতিনাথ।

২/কাশিতে বিশ্বনাথ।

৩/পাকিস্তানে ভুতনাথ।

৪/মহেশখালীর আদিনাথ।

৫/আর সীতাকুন্ডে চন্দ্রনাথ।

প্রাচীন ধর্মগ্রন্থ ও ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায় প্রাচীন কালে এখানে মহামুনি ভার্গব বসবাস করতেন।অযোদ্ধার রাজা দশরথের পুত্র রামচন্দ্র তার বনবাসের সময় এখানে এসেছিলেন।মহামুনি ভার্গব তাঁরা আসবেন জানতে পেরে তাঁদের স্নানের জন্য তিনটি কুণ্ড সৃষ্টি করেন এবং রামচন্দ্রের এখানে ভ্রমণ কালে তাঁর স্ত্রী সীতা এই কুণ্ডে স্নান করেন।এই কারনেই এখানকার নাম সীতাকুণ্ড বলে অনেকে ধারনা করেন।
নব্যপ্রস্তর যুগের দিকে সীতাকুণ্ডে মানুষের বসবাস শুরু হয় বলে ধারনা করা হচ্ছে;এখান থেকে আবিষ্কৃত প্রস্তর যুগের আসামিয় জনগোষ্ঠীর হাতিয়ার গুলো তারই স্বাক্ষ বহন করে।১৮৮৬ সালের দিকে এখানথেকে নব্যপ্রস্তর যুগের অশ্মীভূত কাঠের তৈরী হাতিয়ার পাওয়া যায় বলে ভারতীয় প্রত্নতত্ববিদ রাখালদাশ বন্দোপাধ্যায় তার বই "বাংলার ইতিহাস (১ম সংখ্যা ১৯১৪সাল)"এ উল্লেখ করেন।১৯১৭ সালের দিকে ব্রিটিশ খনিতত্ববিদ ডঃ যে কোগিন ব্রাউন প্রাগৈতিহাসিক যুগের কিছু কেল্ট এবং প্রচুর পরিমানে নুড়িপাথর আবিস্কার করেন, তবে এগুলো প্রাগৈতিহাসিক কোন স্থাপনা বা অস্ত্র তৈরীর কাজে ব্যবহৃত হতো কিনা এবং কোন সময়কার তা প্রত্নতত্ববিদরা সঠিক ভাবে জানাতে পারেননি।
তবে ৬ষ্ঠ ও ৭ম শতাব্দীর দিকে চট্টগ্রাম অঞ্চল আরাকান রাজ্যের অন্তর্ভূক্ত ছিল।পরবর্তী শতাব্দীতে এই অঞ্চল পাল সম্রাট ধর্মপাল দ্বারা (৭৭০-৮১০ খ্রীঃ)শাসিত হয়।বাংলার সুলতানি বংশের প্রথম সুলতান সোনারগাঁও এর সুলতান ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ্ (১৩৩৮-১৩৪৯ খ্রীঃ)১৩৪০ খ্রীষ্টাব্দে এ অঞ্চল অধিগ্রহন করেন।১৫৩৮ খ্রীষ্টাব্দে বাংলার সুলতানি বংশের শেষ সুলতান সুলতান গীয়াস উদ্দীন মুহাম্মদ শাহ্ যখন সুর বংশের শের শাহ্ সুরির হাতে পরাজিত হন তখন এ এলাকা আবার আরাকান রাজ্যের অর্ন্তভূক্ত হয়।১৫৩৮ থেকে ১৬৬৬ সালের মধ্যে পর্তূগীজরা চট্টগ্রাম অঞ্চলে আসে এবং এখানে আরাকানীদের বংশধরদের সাথে একত্রে এই এলাকা শাসন করতে থাকে।এ এলাকা প্রায় ১২৮ বছর তাদের শাসনাধীন ছিল।১৫৫০ সালের দিকে এর কিছু এলাকা পাগনার আক্রমনকারীদের দখলে চলে যায়।১৫৬৬সালে মুঘল সেনাপতি বুজরুগ উম্মে খান এ এলাকা দখল করে নেন।
১৭৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরে বাংলার শেষ নবাব সীরাজদ্দৌলার ইংরেজ ইষ্টইন্ন্ন্ডিয়া কোশ্পানীর কাছে পরাজয়ের সাথে সাথে বাংলার অন্যান্য অংশের মত সীতাকুণ্ডও ইংরেজদের শাসনে চলে যায়।বাঙ্গালী জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখানকার অবাঙ্গালী জনগোষ্ঠী দলগত ভাবে এই এলাকা ত্যাগ করে এবং পার্বত্য অঞ্চলেরদিকে চলে যায়।ফেব্রুয়ারী ১৯০৮ সালে স্বদেশী আন্দোলনের সময় এ এলাকা স্বদেশীদের হাতে চলেযায় এবং কেন্দ্রীয় ভাবে কলকাতা থেকে নিয়ন্ত্রিত হতে থাকে।ভারতীয় পেট্রোলিয়াম কোম্পানী ১৯১০ সালে এখানে খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানের কাজ শুরু করে এবং এটিই পূর্ব বাংলার প্রথম অনুসন্ধান কাজ।এর পর ১৯১৪ সালে আরো চারবার খনিজ সম্পদ উত্তোলনের চেষ্টা করা হয়, কিন্তু সবগুলো চেষ্টাই ব্যার্থ হয়।
১৮৫৭ সালে ভারতে বিদ্রোহের পর ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর থেকে ইংরেজ কেন্দ্রীয় সরকার এই এলাকার শাসন ভার নেয়।আর ১৯৪৭ সালে যখন ব্রিটিশ সরকার যখন ভারত উপ মহাদেশকে ভারত, পাকিস্তান দুটো দেশে ভাগ করে স্বাধীন করে দেয় তখন এই এলাকা পূর্ব পাকিস্তান নামে পরিচিতি লাভ করে।১৯৬৪ সালে এখানে শিপব্রেকিং ইর্য়াডের যাত্রা শুরু হয়।ফৌজদারহাটের উপকূলবর্তী এলাকায় এমভি এলপাইন নামে ২০,০০০ মেট্রিক টনের একটি জাহাজ কাটার মাধ্যমে চট্টগ্রাম ইস্পাত হাউস নামে প্রতিষ্ঠান যাত্রা শুরু করে।১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এ এলাকা মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলামের নিয়ন্ত্রনাধীন ২নং সেক্টরের অর্ন্তভূক্ত ছিল।স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সালে আবার শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের কাজ শুরু হয় ১৯৭১ সালে কর্ণফুলী নদীতে ধংস প্রাপ্ত একটি জাহাজ কাটার মাধ্যমে।
অজানা কোন এক ঋষির আঁকা মানচিত্র- যেটা কয়েকশো বছর ধরে সংরক্ষিত ও অনুসারিত হয়ে আসছে।
সীতাকুন্ড পাহাড়ে ঊঠার জন্য বানানো সিড়ি।
এক নজরে দেখে আসা যাক এই সীতাকুন্ডের ঐতিহ্যবাহী এবং ধর্মীয় স্থান সমূহঃ
অক্ষয়বট
ব্যাসকুণ্ডের পশ্চিম পাড়ে এবং ভৈরব মন্দিরের বাম পাশে একটি বিশাল বট বৃক্ষ আছে, এটিই অক্ষয় বট নামে পরিচিত।
অন্নপূর্ণা এবং বিষ্ণু মন্দির
সয়ম্ভূনাথ মন্দিরের উত্তর পাশে অন্নপূর্ণা ও বিষ্ণু মন্দির অবস্থিত।এখানে দেবী অন্নপূর্ণা এবং ভগবান বিষ্ণুর মূর্তী আছে।এখানে সারা বছর ধরে প্রতিদিন পূজা হয়।
বাড়বকুণ্ড
সীতাকুণ্ড রেলষ্টেশন থেকে ৩ মাইল দক্ষিনে বাড়বাকুণ্ড রেলষ্টেশন অবস্থিত।আর বাড়বাকুণ্ড রেলষ্টেশন থেকে ১ মাইল পূর্বে পাহাড় ঘেরা স্থানে বাড়বাকুণ্ড মন্দির টি অবস্থিত।এটি একটি দোতালা মন্দির, বাড়বাকুণ্ড এর নিচতলায় অবস্থতি।এর উত্তর পাশে বাসীকুণ্ড এবং এর পাশেই রয়েছে কাল ভৈরব মন্দির।এই কুণ্ডের জল গরম জলের মত শব্দ করে ফুটছে।স্থানীয় ভাবে একে অগ্নিপ্রসবনও বলে।
বারৈয়াঢালা আশ্রম
সীতাকুণ্ড সদর থেকে ১০ কি.মি. উত্তরে বারৈয়াঢালা নামক স্থানে বারৈয়াঢালা আশ্রম অবস্থিত।এটি নারায়ন আশ্রম নামেও পরিচিত।শ্রীমৎ স্বামী মাধবানন্দ মহারাজ এই আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন।এখানে সারাবছর ধরে প্রতিদিন ভগবান শ্রী নারায়ন দেবের পূজা হয়।
ব্যাসকুণ্ড
"পুরান" অনুসারে মহামুনি ব্যাসদেব এবং অন্যান্য ঋষিগন সহ এখানে অশ্বমেধ যজ্ঞ করেছিলেন।এখানে লোকমুখে প্রচলিত আছে যে শিবচর্তুদশী তিথিতে সয়ম্ভূনাথ মন্দির দর্শনের আগে এ কুণ্ডে স্নান করতে হয়।পূর্বে এটি প্রায় ৬ বর্গফুটের সমান ছিল।কিন্তু তীর্থ যাত্রীদের সুবিধার্থে এটিকে পুকুরের আকার দেয়া হয়েছে।
ছত্র শিলা
সয়ম্ভুনাথ মন্দির হতে বিরুপাক্ষ মন্দির যাবার পথে রাস্তার পূর্ব পাশে একটি বড় শিলাখণ্ড দেখাযায় যা ছত্র শিলা নামে পরিচিত, কেউ কেউ একে স্বরস্বতী শিলাও বলে থাকে।
চন্দ্রনাথ মন্দির
বিরুপাক্ষ মন্দির থেকে চন্দ্রনাথ মন্দিরের দুরত্ব প্রায় আধা মাইল।এটি ভগবান শিবের একটি বড় মন্দির এবং এখানকার প্রধান মন্দির।এ মন্দিরের অধিষ্ঠিত ভগবান শিবের নাম এখানে চন্দ্রনাথ।এই মন্দির সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ১২-১৩শ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত।এটি বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান।এই মন্দিরে প্রতিদিন পূজা হয়, তবে প্রতিবছর শিবরাত্রি তথা শিবর্তুদশী তিথিতে বিশেষ পূজা হয়;এই পূজাকে কেন্দ্র করে সীতাকুণ্ডে বিশাল মেলা হয়।
কেন্দ্রীয় মহাশ্মশান
ব্যাসকুণ্ড হতে কিছু দূর পূর্বে হেঁটে গেলেই রাস্তার বাম পাশে চোখে পরবে সীতাকুণ্ড কেন্দ্রীয় মহাশ্মশান।এটি বাংলাদেশে একমাত্র শ্মশান যেখানে হিন্দু এবং বৌদ্ধরা তাদের মৃতদেহ গুলোর শেষকৃত্বানুষ্ঠান সম্পন্ন করে।কিন্তু বর্তমানে এখানে শুধু হিন্দুদেরই শেসকৃত্বানুষ্ঠান হয়।এখানে ভগবান শিব এবং কালী মাতার মন্দির আছে।
বিরুপাক্ষ মন্দির
এটিও ভগবান শিবের মন্দির।এ মন্দিরে বিরাজমান দেবতা বিরুপাক্ষ শিব নামে পরিচিত।সয়ম্ভূনাথ মন্দির থেকে চন্দ্রনাথ মন্দিরে যাবার পথে এ মন্দিরটি দেখা যাবে।
দধি ভৈরব
বাড়বকুণ্ড মন্দিরে উঠার সিঁড়ির পাশে তেতুল গাছের নিচে দধি ভৈরব অবস্থিত (বর্তমানে তেতুল গাছটি নেই)।এটিএকটি গোলাকৃতির শিলাখণ্ড,এর উপরের দিকে একটি গর্ত আছে যেখানে দুধদিলে তা নিমিসেই দই-এ পরিণত হয়।এই কারনেই একে দধি ভৈরব বলে।
দধিকুণ্ড
লবণাক্ষকুণ্ডের অতিরিক্ত পানি একটি সরু পথদিয়ে বের হয়ে লবণাক্ষকুণ্ডের কিছু দূরেই আরেকটি কুণ্ডের সৃষ্টি করেছে যা দধিকুণ্ড নামে পরিচিত।
গয়াক্ষেত্র
সয়ম্ভুনাথ মন্দির থেকে সামান্য পূর্বদিকে গেলে চন্দ্রনাথ মন্দিরে যাবার পথের বাম পাশে ৩০/৪০টি সিঁড়ি নিচেরদিকে গেলেই গয়াক্ষেত্র দেখা যাবে।এখানে একটি কুণ্ডের মত আছে ,ইতিহাস মতে এই কুণ্ডের মধ্যেদিয়ে মন্থন নদী পূর্ব থেকে পশ্চিমে বয়ে গেছে।কিন্তু প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারনে বর্তমানে তা শুকিয়ে গেছে।এখানে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে পিণ্ডদান করা হয়।
গুরুধুনী
লবণাক্ষমন্দির হতে সহস্রধারা যাবার পথে রাস্তার উত্তরপশ্চিম কোণে গুরুধুনী অবস্থিত।এখানে সারা বছর ধরে পাহাড়ের গায়ে আগুন জ্বলছে।লোকমুখে প্রচলিত আছে যে এখানকার আগুন স্পর্শ করলে শিবলোক প্রাপ্ত হয়।
হনুমান মন্দির
সয়ম্ভুনাথ মন্দিরের কাছা কাছি সীতা মন্দিরের সামনে পাহাড়ের উপরে হনুমান মন্দির অবস্থিত।
জগন্নাথ মন্দির
সীতাকুণ্ডের মহন্তের আস্তানার পাশেই জগন্নাথ মন্দির অবস্থিত।এখানে ভগবান জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার মূর্তি আছে।বর্ষাকালে (আষাঢ় মাসে) এখানে রথযাত্রা উৎসব অনুষ্ঠীত হয়।এখানে সম্ভুনাথ মন্দিরের পরে আরও একটি জগন্নাথ মন্দির আছে।
জ্বালামুখী কালীবাড়ী
বাড়বাকুণ্ড রেলওয়ে ষ্টেশন থেকে বাড়বাকুণ্ড মন্দিরে যাবার পথে রাস্তার ডান পাশে জ্বালামুখী কালীবাড়ী অবস্থিত।এখানে কালী মাএর নিম কাঠের নির্মীত মূর্তী আছে।
জ্যোতির্ময়
ভবানী মন্দিরের পাশেই ভগবান শিবের আরো একটি মন্দির আছে এটিই জ্যোতির্ময় নামে পরিচিত।পূর্বে এখানে শিলা খণ্ডের উপর আগুন জ্বলত, বর্তমানে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারনে তা আর দেখাযায় না।
কর্কর নদী
কুমারীকুণ্ড থেকে একটি ছোট খাল (স্থানীয় ভাষায় "ছড়া") কুমিরা গ্রামের দিকে প্রবাহিত হয়ে সমুদ্রে গিয়ে মিলেছে।মানুষের বিশ্বাস এটাই ধর্মীয় গ্রহন্থে উল্লেখিত কর্কর নদী।
শ্রীকৃষ্ণ মন্দির
এটি ভগবান শ্রী কৃষ্ণের মন্দির।এখানে সারা বছর ধরেই পূজা হয়, তবে ভগবান শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমীর সময় এখানে বিশষ পূজা এবং বিভিন্ন ধরণের অনুষ্ঠান হয়।
কুমারীকুণ্ড
সীতাকুণ্ড থেকে প্রায় ৫ মাইল দক্ষিনে কুমিরা রেলওয়ে ষ্টেশন।এই রেলওয়ে ষ্টেশন থেকে প্রায় ৬ মাইল পূর্বদিকে গেলে পাহাড়ে ঘেরা বনের মধ্যে একটি ইটের বেষ্টনী নির্মীত কুণ্ড দেখা যাবে তাই কুমারীকুণ্ড।এখানে পানির মধ্যে আগুণ জ্বলছে এবং এখানকার পানি খুবই উত্তপ্ত।এটিও হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি ধর্মীয় স্থান।
লবণাক্ষ তীর্থ
সীতাকুণ্ড সদর থেকে ৩ মাইল উত্তরে ছোটদারোগারহাট নামক স্থানে লবণাক্ষ তীর্থ অবস্থিত।এই লবণাক্ষ তীর্থ চম্পকারণ্য নামেও পরিচিত।সহস্রধারা ঝর্ণার পানি এই এলাকার উপর দিয়ে প্রবাহিত।ছোটদারোগারহাট থেকে ৩ মাইল পূর্বে পুকুর পারে একটি মন্দির দেখা যায় যা লবণাক্ষ মন্দির, এই মন্দিরের ভিতরেই লবণাক্ষ কুণ্ড অবস্থিত।এই কুণ্ডের পানি খুবই লবণাক্ত এবং এর পাশেই ছোট ছিদ্র পথে আগুণ জ্বলছে।বর্তমানে এখানে সূর্যকুণ্ডের পাশেই সহস্রধারা ঝর্ণার পানি আটকে সেচকাজে ব্যবহারের জন্য বাধঁ দেয়া হয়েছে, যা এখানকার সৌর্ন্দয্য আরো বৃদ্ধি করেছে।এই বাধঁ পর্যন্ত এখন গাড়ীতে যাওয়া যায়।
রামকুণ্ড ও লক্ষণকুণ্ড
রাম, সীতা ও লক্ষণ তাদের বনবাসের সময় তাঁরা শরভঙ্গ মুনির আশ্রমে গিয়েছিলেন।তখন মুনি তাঁদের পূর্বদেশ ভ্রমন করতে বলেন।এদিকে মহামুনি ভার্গব ধ্যানয্যোগে জানতে পেরে তিনি তাদের স্নানের জন্য ৩টি ঊষ্ণ পানির কুণ্ড সৃষ্টি করেন।তারা সীতাকুণ্ড পাহাড় ভ্রমণের সময় এই কুণ্ডে স্নান করেন।এই ৩টি কুণ্ডের মধ্যে যেটিতে রাম স্নান করেছিলেন সেটিই রামকুণ্ড নামে পরিচিত।তবে বর্তমানে কুণ্ডগুলো শুকিয়েগেছে এবং ইটের দেয়াল দিয়ে চিহ্নিত করে রাখা আছে।
মোহান্তের আস্তানা
মোহান্ত মহারাজ শ্রী শ্রী চন্দ্রনাথ ধামের তীর্থগুরু।তিনি এ স্থানে বাস করতেন বলে তাঁর নাম অনুসারে এ স্থানের নাম হয় মোহান্তের আস্তানা।এখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রায় সকল ধরনের পূজা সারা বছর ধরে করা হয়।
পঞ্চবটি
মূলত এখানে ৫ ধরনের গাছ আছে, তাই এর নাম পঞ্চবটি।ইংরেজী ১৯০১ সালে স্বামী বিবেকানন্দ তাঁর মা কে নিয়ে সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ মন্দির দর্শন করতে এসেছিলেন।বিপদজ্জনক এবং ঘন জঙ্গল হওয়ার কারনে তখন তিনি মা কে নিয়ে চন্দ্রনাথ মন্দিরে যেতে পারেননি ও এখানই মহাদেবের পূজা করেন।তাঁর সীতাকুণ্ডে পর্দাপনের স্মৃতি রক্ষাত্তে সীতাকুণ্ড শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম এই স্থান সংরক্ষণ করে রেখেছে।
পাতালপুরী
বিরূপাক্ষ মন্দির থেকে চন্দ্রনাথ মন্দিরে যাবার পথে রাস্তার পূর্ব দিকে আধা মাইলের মত নিচের দিকে গেলে পাতালপুরী দেখা যায়।এখানে হর গৌরী, দ্বাদশ শালগ্রাম, বিশ্বেশ্বর শিব, পাতালকালী, অষ্টবসু, রুদ্রেশ্বর শিব, গোপেশ্বর শিব, পঞ্চানন শিব, মন্দাকিনী, পাতাল গঙ্গা সহ অন্যান্য দেবদেবী রয়েছেন।তবে গহীন অরণ্য এবং বিপদজ্জনক স্থান হবার কারনে মানুষ এখানে সহজে যায় না।
রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম
১৯৯১ সালের ২৯শে এপ্রিলের প্রলয়ংকারী ঘুর্ণিঝড় আঘাত আনার পর সীতাকুণ্ডের ঘুর্ণিদুর্গত মানুষের সাহায্যার্থে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সাধু, সন্যাসীরা এখানে ত্রানসামগ্রী নিয়ে এসেছিলেন।তাদের ত্রাণ কর্মকাণ্ডে এখানকার মানুষ খুবই খুশী হয়েছিল এবং এই তীর্থস্থানে একটি রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম স্থাপনের জন্য উদ্যোগ গ্রহন করে।তারপর দ্রুত তা তৈরীর কাজ শুরু হয় এবং এক বছরের মাথায় কাজ শেষ হয়।১৯৯২ সালের ১লা মে আরম্বর পূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শ্রী রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম তাদের জনহিতকর এবং ধর্মীয় কার্যক্রম শুরু করে।রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন ঢাকা, বাংলাদেশের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী অক্ষরানন্দজী মহারাজ এই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।জনহিতকর কাজ হিসাবে এখানে প্রতিমাসের শেষ শুক্রবার সাধারণ সাস্থ্যসেবা ও বিনামূল্যে ঔষধ প্রদান সহ চট্টগ্রাম লায়ন্স ক্লাবের সহায়তায় চক্ষু চিকিৎসা শিবির করা হয়।এগুলো ছাড়াও দরিদ্র মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরন এবং নানা ধরনের সাহায্য সহযোগীতা করা হয়।দেশ-বিদেশের অনেক স্বনামধন্য সন্যাসী এবং ব্যক্তিরা এই আশ্রম পরিদর্শন করে গেছেন।
সহস্রধারা
সীতাকুণ্ড সদর থেকে প্রায় ৩ মাইল উত্তরে ছোটদারোগারহাট নামক স্থানে সহস্রধারা অবস্থিত।ছোটদারোগারহাট বাজার থেকে প্রায় ৩-৪ মাইল পূর্বে এটি অবস্থিত।এটি মূলত একটি ঝর্ণা এবং প্রায় ৩০০ মিটার উচুঁ পাহাড়ের চুড়াঁ থেকে পরছে।ইকোপার্ক তৈরীর পর এই এলাকার একটি ঝর্ণাকে সহস্রধারা নামকরন করা হয়, তবে তা আসলে সহস্রধারা ঝর্ণা নয়।ছোটদারোগারহাটে অবস্থিত সহস্রধারা ঝর্ণাই আসল এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি ধর্মীয় স্থান।
শংকর মঠ
শংকর মঠ সীতাকুণ্ডের ঐতিহ্যবাহী আশ্রম গুলোর মধ্যে একটি।এটি শংকরাচার্য্যের অনুসারিদের একটি আশ্রম।এখানে একটি অনাথআশ্রম, একটি সংস্কৃত কলেজ (বাংলাদেশ সরকার অনুমোদীত) এবং একটি দাতব্য চিকিৎসালয় আছে।
স্বয়ম্ভূনাথ মন্দির
ভবানী মন্দির থেকে ২০-২৫ টি সিড়িঁ উপরের দিকে উঠলে আপনি অনেকগুলো দেব-দদেবীর মন্দির সংলগ্ন স্থানে আসবেন।এখানকার সবচেয়ে বড় এবং প্রধান মন্দিরটিই হল সয়ম্ভূনাথ মন্দির।এটি মূলত ভগবান শিবের মন্দির।স্বয়ম্ভূনাথের অপর নাম ত্রায়ম্বদীশ্বর।তাঁর মাথায় একটি অর্ধচন্দ্রাকৃতির গোলাকার ছিদ্র আছে।এখানে সারা বছর ধরেই পূজা হয় এবং শিবর্তুদশী অর্থাৎ শিবরাত্রীতে বিশেষ পূজা হয়।
সীতাকুণ্ড
রাম, সীতা ও লক্ষণ তাদের বনবাসের সময় তাঁরা শরভঙ্গ মুনির আশ্রমে গিয়েছিলেন।তখন মুনি তাঁদের পূর্বদেশ ভ্রমন করতে বলেন।এদিকে মহামুনি ভার্গব ধ্যানয্যোগে জানতে পেরে তিনি তাদের স্নানের জন্য ৩টি ঊষ্ণ পানির কুণ্ড সৃষ্টি করেন।তারা সীতাকুণ্ড পাহাড় ভ্রমণের সময় এই কুণ্ডে স্নান করেন।এই ৩টি কুণ্ডের মধ্যে যেটিতে সীতা স্নান করেছিলেন সেটিই সীতাকুণ্ড নামে পরিচিত।তবে বর্তমানে কুণ্ডগুলো শুকিয়েগেছে এবং ইটের দেয়াল দিয়ে চিহ্নিত করে রাখা আছে।
সূর্যকুণ্ড
লবণাক্ষ কুণ্ড হতে কিছুদূর পূর্বেই সূর্যকুণ্ড অবস্থিত।এখানে একটি ছোট মন্দির আছে।
উনকোটি শিব
সয়ম্ভূনাথ মন্দির থেকে বিরূপাক্ষ মন্দিরে যাবার পথে রাস্তার বাম পাশে গিরি গুহার অভ্যন্তরে উনকোটি শিব অবস্থিত।কোন এক সময় এখানদিয়ে ৮টি নদী প্রবাহিত ছিল।এখানে শত-সহস্র শিবলিঙ্গ আছে এবং এগুলো সারা দিনরাত মন্দাকিনীর পানিতে স্নান করছে।এটিও খুবই বিপদজনক এলাকা মানুষ সাধারণত এস্থানে যায় না।
ভবানী মন্দির
প্রাচীন কাহিনীতে উল্লেখ আছে যে, শিবের স্ত্রী সতীর পিতা রাজা দক্ষ যগ্যানুষ্ঠান করছিলেন, কিন্তু তিনি জামাতা শিবকে ছাড়া আর সকল দেব-দেবীকে সে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রন করেন।এই অপমান সহ্য করতে না পেরে সতী সে যগ্যে আত্নাহূতি দিয়ে দেহত্যাগ করেন।ভগবান শিব তখন সতীর মৃতদেহনিয়ে প্রলয় নৃত্য করতে থাকেন।পুরো সৃষ্ট ধংস হবে দেখে ভগবান বিষ্ণু শিবের প্রলয় নৃত্য বন্ধ করার জন্য তার সুর্দশন চক্র দিয়ে সতীর দেহ খন্ড খন্ড করে ফেলেদেন।এই দেহাবশেষ ৫১ খন্ড করে ৫১ স্থানে ফেলা হয়, তা থেকে ৫১ মাতৃপীঠ বা শক্তিপীঠের সৃষ্টি হয়েছে।পুরানে উল্লেখ আছে যে, সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ে সতীর ডান হাত পরেছে।এই পীঠস্থানটিই ভবানী মন্দির, এই মন্দিরের অধিষ্ঠাত্তি দেবী কালী মাতা।এটি চন্দ্রনাথ পাহাড়ের সয়ম্ভূনাথ মন্দিরের নীচে অবস্থিত।
ভৈরব মন্দির
ব্যাসকুণ্ডের পশ্চিম পাড়ে ভৈরব মন্দির অবস্থিত।এই মন্দিরে দ্বারপাল ভৈরব, ব্যাসেশ্বর শিব, চণ্ডী প্রভূতি সহ বিভিন্ন দেব দেবীআছেন।এই মন্দিরকেই ভৈরব মন্দির বলে।
ভোলানন্দ গিরি আশ্রম
এটি সীতাকুণ্ডের পুরাতন আশ্রম গুলোর মধ্যে একটি।এখানে সারা বছর ধরে দূর্গা পূজা, কালী পূজা, শ্রী কৃষ্ণের রাসযাত্রা, ঝুলন যাত্রা সহ বিভিন্ন পূজা অনুষ্ঠিত হয়।পূর্বে কোন এক শিবর্তুদশী মেলার সময় শ্রীমৎ স্বামী ভোলানন্দ গিরি মহারাজ এখানে এসে এই আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন।তাই এই সময় এখানে বিশেষ পূজা, হোম, নামর্কীতন হয়।
চন্দ্রনাথ পাহাড়- বাংলাদেশের সীতাকুন্ডে অবস্থিত প্রকৃতির এক অপরূপ লীলাভূমি।চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড বাজার থেকে ৪কি.মি. পূর্বে চন্দ্রনাথ পাহাড় অবস্থিত। সীতাকুণ্ডের পূর্বদিকে চন্দ্রনাথ পাহাড় আর পশ্চিমে সুবিশাল সমুদ্র ।
ইতিহাস।
হর হর মহাদেব ❤️🙏

গলায় রুদ্রাক্ষের মালা পড়ে টকশো-তে এসে নজর কাড়লেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এমপি❤️🙏
31/07/2026

গলায় রুদ্রাক্ষের মালা পড়ে টকশো-তে এসে নজর কাড়লেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এমপি
❤️🙏

পৌরাণিক বিশ্বাস অনুসারে জনশ্রুতি রয়েছে, পাতালপুরীর অধিপতি অহিরাবণের পুত্র মহীরাবন শ্রী রামচন্দ্রকে বলি দেওয়ার জন্য এই পা...
29/07/2026

পৌরাণিক বিশ্বাস অনুসারে জনশ্রুতি রয়েছে, পাতালপুরীর অধিপতি অহিরাবণের পুত্র মহীরাবন শ্রী রামচন্দ্রকে বলি দেওয়ার জন্য এই পাতাল অঞ্চলে নিয়ে এসেছিলেন।

রহস্যময় আরাধনীয় শ্রী শ্রী পাতালকালী মা ❤️🙏

এখনো গভীর রাতে বাজে ঘণ্টা! ফিরিঙ্গি কালী মায়ের মন্দিরে...এলাকায় বসবাসকারী ইউরোপীয়দের ‘ফিরিঙ্গি’ বলা হত, লোককথা অনুযায়...
28/07/2026

এখনো গভীর রাতে বাজে ঘণ্টা! ফিরিঙ্গি কালী মায়ের মন্দিরে...
এলাকায় বসবাসকারী ইউরোপীয়দের ‘ফিরিঙ্গি’ বলা হত, লোককথা অনুযায়ী অনেক খ্রিস্টান ও বিদেশি মানুষ এই মন্দিরে এসে কালীপুজো দিতেন। কেউ সন্তান লাভের জন্য, কেউ রোগমুক্তির আশায় কেউ আবার ব্যবসায় উন্নতির আশায় মানত করতেন । ধর্ম আলাদা হলেও বিশ্বাসে মা সবার। ধীরে ধীরে মানুষের মুখে মুখে মন্দিরের নাম হয়ে যায় ফিরিঙ্গি কালীবাড়ি।
“খৃষ্টে আর কৃষ্টে কিছু ভিন্ন নাই রে ভাই/ শুধু নামের ফেরে মানুষ ফেরে”— কবিয়াল অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি-র এই গানের বাস্তব রূপ আজও দেখা যায় বৌবাজারের গলিপথে দাঁড়িয়ে থাকা ফিরিঙ্গি কালীবাড়ি-তে।
পর্টুগিজ আগমনের প্রথম যুগে কলকাতায় এই ফিরিঙ্গি কালীবাড়ি তৈরি। মন্দিরে একটি ফলকে ৯০৫ বঙ্গাব্দের উল্লেখ, যার অর্থ দাঁড়ায় ১৪৯৮ খ্রিষ্টাব্দ। মনে রাখতে হবে এই বছরেই ভারতে পোর্তুগীজ বণিকরা প্রথম পা রেখেছিল। ফিরিঙ্গি কালী প্রতিষ্ঠার সময় বাঙালি ফিরিঙ্গি অর্থাৎ ইউরোপীয় বলতে কেবল পোর্তুগীজদেরই বোঝাতো।
এই মন্দিরকে ঘিরে নানা রহস্যময় কাহিনি শোনা যায় । বহু ভক্তের বিশ্বাস, গভীর রাতে যখন কেউ থাকেন না তখন মন্দির চত্বরে ঘণ্টাধ্বনি শোনা যায়। কেউ কেউ স্বপ্নে মায়ের নির্দেশ পেয়ে দুর দূরান্ত থেকে আসেন এই মন্দিরে। সেই ভক্তদের মতে মা তাঁদের ফেরাননা।

উত্তর কলকাতার বৌবাজার এলাকায় একসময় ইউরোপীয় বণিক ও পর্তুগিজ খ্রিস্টানরা বসতি স্থাপন করেন। ঐতিহাসিকদের মতে, আঠারো শতকের শেষভাগ থেকে উনিশ শতকের শুরুতে এই এলাকায় একটি শিবমন্দির গড়ে ওঠে। পরে শাক্ত প্রভাবে সেখানে কালীমূর্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। আজ সেই স্থানই পরিচিত ফিরিঙ্গি কালীবাড়ি নামে। এই কালীবাড়ির নাম ফিরিঙ্গি কালীবাড়ি নামকরণ হওয়ার পিছনে শোনা যায় অনেক রকমের গল্প।
এলাকায় বসবাসকারী ইউরোপীয়দের ‘ফিরিঙ্গি’ বলা হত, লোককথা অনুযায়ী অনেক খ্রিস্টান ও বিদেশি মানুষ এই মন্দিরে এসে কালীপুজো দিতেন। কেউ সন্তান লাভের জন্য, কেউ রোগমুক্তির আশায় কেউ আবার ব্যবসায় উন্নতির আশায় মানত করতেন । ধর্ম আলাদা হলেও বিশ্বাসে মা সবার। ধীরে ধীরে মানুষের মুখে মুখে মন্দিরের নাম হয়ে যায় ফিরিঙ্গি কালীবাড়ি।

আবার ‘স্যার হ্যারি ইভান কটন’-এর বই থেকে জানা যায় এই এলাকায় জঙ্গলের মধ্যেই ছিল মহাশ্মশান। সেই শ্মশানের এক ডোম শ্রীমন্ত, ছোট্ট এক চালাঘরে শিবমন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন । মা শীতলাকেও পুজো করতেন তিনি । শ্রীমন্ত ডোম ছিলেন বলে এই মন্দিরে কোনও পুরোহিত পুজো করত চাইতেন না। নিজেই পুজো করতেন শ্রীমন্ত । মা কালীর মূর্তি পরে প্রতিষ্ঠিত হয় এখানে। এই মন্দিরের পিছনে ছিল পর্তুগিজ বংশোদ্ভূত কবিয়াল অ্যান্টনি ফিরিঙ্গির মামার বাড়ি। পর্তুগিজ হলেও বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রেমিক ফিরিঙ্গি কাবিগানের মঞ্চে দাঁড়িয়ে কালী ও দুর্গার বন্দনা করতেন । শোনা যায়, তিনি নিয়মিত ফিরিঙ্গি কালীবাড়িতে যেতেন এবং মা কালীকে তাঁর কবিগান শোনাতেন । যদিও লিখিত নথিতে তাঁর দ্বারা মন্দির প্রতিষ্ঠার সরাসরি প্রমাণ মেলে না, তবু লোকসংস্কৃতি ও জনশ্রুতি অনুযায়ী মন্দির প্রতিষ্ঠার সঙ্গে অ্যান্টনি ফিরিঙ্গির যোগ ছিল। অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি এই মন্দিরের মা কালীর সাধনা করতেন বলে মন্দিরের নাম ফিরিঙ্গি কালীমন্দির হয়েছে বলে মত অনেকের।

সেই সময়তেও ফিরিঙ্গি কালীবাড়ি ছিল সকল ধর্মের মানুষের মেল বন্ধনের স্থল। এখানে জাতপাত , ধর্মের কড়াকড়ি তুলনামূলকভাবে কম ছিল। খ্রিস্টান, মুসলমান এমনকি বিদেশিরাও মায়ের প্রসাদ গ্রহণ করতেন—যা সেই সময়ের সমাজব্যবস্থায় ছিল বিরল।

ফিরিঙ্গির মাতৃকা উপাসনায় আশ্চর্য কিছু নেই। মনে রাখতে হবে, মাতৃধর্ম পৃথিবীর প্রাচীনতম ধর্ম। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আদি মাতৃকা উপাসনার ধারা ছিল যা খ্রিষ্টধর্মের আগমনের পরে মূলত খ্রিষ্টমাতা মেরির উপাসনার মাধ্যমে প্রকাশিত হতে থাকে। মেরির উপাসনা ক্যাথলিকদের মধ্যে বিশেষ করে সর্বব্যাপী।
বাংলায় এসে, কলকাতা কালীক্ষেত্রে এসে, বাঙালির দেশে এসে বাঙালির অধিষ্ঠাত্রী জগন্মাতা কালীর উপাসনা করা মেরিভক্ত ফিরিঙ্গির পক্ষে একেবারেই অস্বাভাবিক নয়।

আবার সেই সময়ে ভারতে আসা ইউরোপীয়দের মধ্যে বসন্ত ও জ্বরের বিশেষ প্রকোপ ছিল। তাই রোগের কষ্ট থেকে রক্ষা পেতে করুণাময়ী মায়ের শরণাপন্ন হওয়ার রীতিও তাদের মধ্যে ছিল। সম্ভবত এই কারণেই মা ফিরিঙ্গি কালীর মন্দিরে মা শীতলাও অধিষ্ঠান করছেন।

আমাদের প্রসিদ্ধ অ্যান্টনি কবিয়াল এই মন্দির স্থাপনার অনেক পরের, অষ্টাদশ শতকের মানুষ। তাঁর অন্ততঃ তিনশো বছর আগে থেকেই ফিরিঙ্গি কালীবাড়ি কলকাতার বুকে সগৌরবে বিরাজমান। তিনি এই মন্দিরে সাধনা করতেন এমন কোনো ঐতিহাসিক নিদর্শনও পাওয়া যায় না।

শনি মঙ্গল ছাড়াও অমাবস্যায় বৌবাজার ক্রসিং এর এই মন্দিরে মা সিদ্ধেশ্বরী কালীর পুজো দেওয়ার বিশেষ জনসমাগম হয়। নগর কলকাতার বহুজাতিক বহুসাংস্কৃতিক আন্তর্জাতিক কৃষ্টির আশ্রয়দাত্রী হিসেবে মা ফিরিঙ্গি কালী আছেন প্রায় পাঁচ শতাব্দী ধরে।
প্রতিদিন সকাল ৭ টা থেকে ১২ টা বেজে ১৫ মিনিট অবধি এবং বিকেল সাড়ে চারটে থেকে রাত আটটা অবধি খোলা থাকে এই ফিরিঙ্গি কালীবাড়ি
জয় সিদ্ধেশ্বরী কালী মা ❤️🙏

নদীর ঘাটে এক শাঁখারির কাছে শাঁখা পড়তে যান গ্রামেরই এক বধূ। শাঁখারি তাঁর কাছে টাকা চাইলে তিনি বলেন, টাকা নেওয়ার জন্য যেত...
27/07/2026

নদীর ঘাটে এক শাঁখারির কাছে শাঁখা পড়তে যান গ্রামেরই এক বধূ। শাঁখারি তাঁর কাছে টাকা চাইলে তিনি বলেন, টাকা নেওয়ার জন্য যেতে হবে শবনপুর গ্রামে তাঁর বাবা ব্রাহ্মণ দেবনাথ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে। সেই মতো শাঁখারি দেবনাথ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে গিয়ে শোনেন, তিনি নিঃসন্তান। শাঁখারির মুখের সমস্ত ঘটনা শুনে অবাক দেবনাথবাবু তাঁকে সঙ্গে করে হাজির হন জঙ্গলের মধ্যে নদীর সেই ঘাটে। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখা যায় কোনও নববধূ তো দূর, জনমানুষ নেই সেখানে। শুধু পাথরে রয়ে গেছে যুবতী পায়ের ছাপ।
অবস্থান: মন্দিরটি মাইথন বাঁধের কাছেই, বরাকর
শোনা যায়, রাজা বল্লাল সেন ছিলেন এই কাপালিকের ভক্ত।
কাপালিকের নির্দেশ মেনেই তিনি অধুনা শ্রবনপুরে একটি মন্দির নির্মাণ করেন।

আসানসোনলের মাইথনের কল্যাণেশ্বরী মন্দির কেন এত জাগ্রত, জানা আছে কি?

কথিত আছে, ১২০০ বছরের পুরনো এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মহারাজা বল্লাল সেন। মন্দিরের প্রাচীন তথ্য থেকে জানা যায়, খ্রিস্টীয় দ্বাদশ শতাব্দীতে কাপালিক দেবদাস চট্টোপাধ্যায় মা কালীর সাধনা করার জন্য এখানে আসেন। সেই সময় এই এলাকায় ছিল ঘন জঙ্গল। শোনা যায়, রাজা বল্লাল সেন ছিলেন এই কাপালিকের ভক্ত। কাপালিকের নির্দেশ মেনেই তিনি অধুনা শ্রবনপুরে একটি মন্দির নির্মাণ করেন। সেখানেই বহু বছর আরাধনা হয় দেবী শ্যামারূপার। শ্রবণপুরে জনবসতি গড়ে উঠলে দেবী নাকি কোলাহলে রুষ্ট হয়ে কল্যাণেশ্বরীতে একটি একফুট গভীর গর্তে আশ্রয় নেন। সেই থেকেই এখানে পূজিতা হচ্ছেন তিনি। কল্যাণেশ্বরী দেবীর নামেই পরবর্তীতে মাইথন নামটি প্রচলিত হয়। মাইথন, অর্থাত্‍ মাই কা থান, সেখান থেকেই ছোট হয়ে মাইথন নামে প্রচলিত হয়।
মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, কল্যাণেশ্বরী মন্দিরে কোনও মূর্তি পুজো হয় না। এখানে রয়েছে একটি বড় পাথর। তার তলায় আছে একটি অদৃশ্য গুহা। পাথরের এক কোনায় একটি গর্ত রয়েছে। ভক্তদের বিশ্বাস, ওই গর্ত ছুঁয়ে দেখলেই দেবীর আশীর্বাদ লাভ করা যাবে। এই বিশ্বাসেই গত ১২০০ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে মন্দির প্রাঙ্গণে আসছেন ভক্তরা।
জানা যায়, রাজা বল্লাল সেনের পালিতা কন্যার নাম ছিল লক্ষ্মী। পুরুলিয়ার কাশীপুরের রাজা কল্যাণীপ্রসাদের সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয় লক্ষ্মীর। বিয়েতে যৌতুক হিসেবে মা শ্যামারূপার মূর্তি তুলে দেওয়া হয় নবদম্পতির হাতে। বিয়ের পর কুলটি স্বপ্নপুর গ্রামের কাছে জঙ্গলের মধ্যে দিকভ্রষ্ট হন নববিবাহিত দম্পতি। সেই জঙ্গলের মধ্যেই দেবী শ্যামারূপাকে নামিয়ে রাখেন কল্যাণীপ্রসাদ। সেই দিনটা পথ খুঁজতে খুঁজতেই কেটে যায়। পরের দিন রাস্তা খুঁজে পাওয়ার পর যখন কল্যাণীপ্রসাদ দেবীকে তুলতে আসেন, তখন শত চেষ্টাতেও দেবী শ্যামারূপাকে সেখান থেকে নড়ানো যায়নি। স্বপ্নপুরের সেই জঙ্গলেই দেবী শ্যামারূপার মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন কল্যাণীপ্রসাদ। তাঁর নামে দেবীর নাম হয় কল্যাণেশ্বরী। সেই স্বপ্নপুর গ্রামই বর্তমানের শবনপুর।

📌জনশ্রুতি-দেবীকে নিয়ে অন্য জনশ্রুতিও রয়েছে। জানা যায়, বর্তমান মন্দিরের জায়গায় আগে গভীর জঙ্গল ছিল। পাশ দিয়ে বয়ে যেত ছোট এক নদী। একদিন সেই নদীর ঘাটে এক শাঁখারির কাছে শাঁখা পড়তে যান গ্রামেরই এক বধূ। শাঁখারি তাঁর কাছে টাকা চাইলে তিনি বলেন, টাকা নেওয়ার জন্য যেতে হবে শবনপুর গ্রামে তাঁর বাবা ব্রাহ্মণ দেবনাথ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে। সেই মতো শাঁখারি দেবনাথ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে গিয়ে শোনেন, তিনি নিঃসন্তান। শাঁখারির মুখের সমস্ত ঘটনা শুনে অবাক দেবনাথবাবু তাঁকে সঙ্গে করে হাজির হন জঙ্গলের মধ্যে নদীর সেই ঘাটে। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখা যায় কোনও নববধূ তো দূর, জনমানুষ নেই সেখানে। শুধু পাথরে রয়ে গেছে যুবতী পায়ের ছাপ। সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত ঘটনা বুঝতে পারেন দেবনাথ চট্টোপাধ্যায়। জঙ্গলের মধ্যেই মায়ের নতুন মন্দির প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেবায়েত হিসেবে মায়ের পুজো শুরু করেন দেবনাথ চট্টোপাধ্যায়।
সন্তান লাভের আশ্বাস: বহু বছর ধরে বিশ্বাস করা হয়, যেসব নারীরা নিঃসন্তান, তারা যদি পূজা দেন, তাহলে মা তাঁদের সন্তান দান করেন।

অবস্থান: মন্দিরটি মাইথন বাঁধের কাছেই, বরাকর নদীর তীরে অবস্থিত।এটি পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের সীমানার খুব কাছাকাছি। কাছের বড় শহর: আসানসোল (প্রায় ২০ কিমি), বরাকর রেলস্টেশন (প্রায় ৫ কিমি)
উৎসব ও পূজা: দুর্গা পূজা, ও কালীপূজা এখানে মহাসমারোহে পালিত হয়। প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার দেবীর বিশেষ পূজা হয়। অনেক ভক্ত মানত করে আসেন — বিশেষত সন্তান লাভের আশায়।
প্রাচীন কল্যাণেশ্বরী মন্দিরটি বর্তমান মন্দিরের অনতিদূরে অবস্থিত। ২ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে শবনপুর এলাকায় কল্যাণেশ্বরীর প্রাচীন মন্দিরটি অবস্থিত। এই মন্দিরে দেবী অধিষ্ঠিত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধান সেবায়েত দিলীপ দেওঘরিয়া। প্রতিষ্ঠার সময় রাজা কল্যাণীপ্রসাদ এখানে এনে রেখেছিলেন মাকে। কিন্তু আর নিয়ে যেতে পারেননি।
জয় মা কল্যাণেশ্বরী❤️🙏

জয় বাবা বুড়োরাজহর হর মহাদেব ❤️🙏
21/07/2026

জয় বাবা বুড়োরাজ
হর হর মহাদেব ❤️🙏

Address

Amirabad, Lohagara
Chittagong
PADUA4397

Telephone

+8801873207773

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Amrita-অমৃত posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Amrita-অমৃত:

Shortcuts

Share