24/07/2026
যে মানুষটি সারাদিন ঘুমাত, জীবনে কোনো আগ্রহই ছিল না… তার জীবন কীভাবে বদলে গেল?
ড. উমর আবদুল কাফী (হাফি.) বর্ণনা করেন,
একদিন জুমার খুতবার পর এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বললেন,
"আমি ভীষণ অলস। দিনে ১৫ ঘণ্টারও বেশি ঘুমাই। শুধু খাওয়ার জন্য উঠি, তারপর আবার ঘুমিয়ে পড়ি। কাজ, ভবিষ্যৎ, সন্তান — কোনো কিছুর প্রতিই আমার আগ্রহ নেই। সব সময় হতাশ লাগে। আমাকে বাঁচার কোনো উপায় বলে দিন।"
ড. উমর তাকে বললেন,
"প্রতিদিন অন্তত ১০০ বার ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পড়ুন। এক সপ্তাহ পর এসে জানাবেন কী পরিবর্তন হয়েছে।"
লোকটি অবাক হয়ে বলল,
"আমি তো বলছি আমি অলস! নামাজ, কাজ — সব অবহেলা করছি। আর আপনি আমাকে শুধু ইস্তিগফার করতে বলছেন?"
ড. উমর বললেন,
"মানুষ যখন গুনাহে জড়িয়ে পড়ে, তখন সেই গুনাহ তার হৃদয়কে ভারী করে দেয়। অলসতা, উদ্যমহীনতা ও হতাশার অন্যতম কারণও হতে পারে এই আধ্যাত্মিক ভার। তুমি ইস্তিগফারকে আঁকড়ে ধরো, তারপর ফল দেখো।"
ছয় দিন পর সেই ব্যক্তি আবার এলেন।
চোখেমুখে আনন্দের ছাপ।
তিনি বললেন,
"আজ আমি আপনার হাত চুমু খেতে চাই! এখন আমি কখনো ১০০ বার, কখনো ৪০০ বার, আবার কখনো ১০০০ বার পর্যন্ত ইস্তিগফার করি।
আল্লাহ আমার অন্তরে নতুন উদ্যম সৃষ্টি করেছেন। এখন ৭ ঘণ্টারও কম ঘুমই যথেষ্ট হয়। কাজে মন বসে, নতুন ব্যবসায়িক চুক্তিও করেছি। কোনো নামাজ আর ছুটে না, সন্তানদের সঙ্গেও আগের চেয়ে অনেক বেশি সময় দিই। আমার কাছে ইস্তিগফার যেন এক শক্তির উৎস হয়ে গেছে।"
ড. উমর বলেন,
ইস্তিগফার এমন এক শক্তি, যা মানুষকে সামনে এগিয়ে দেয়। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমতের দরজা খুলে দেয়। জীবনের দুঃখ, হতাশা, ব্যর্থতা ও সংকটে ইস্তিগফারকে সঙ্গী বানান।
রাসূলুল্লাহ ﷺ এক বৈঠকেই সত্তরেরও বেশি বার ইস্তিগফার করতেন।
হয়তো আপনার জীবনের অনেক সমস্যার সমাধান শুরু হবে একটি বাক্য থেকেই,
"أستغفر الله"
"আস্তাগফিরুল্লাহ"।
আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে কখনো ক্লান্ত হবেন না। যে বান্দা বারবার তাঁর দরজায় ফিরে আসে, আল্লাহ কখনো তাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দেন না।
..