26/06/2026
মুহাররম ও আশুরা সম্পর্কে আলোচনা
------------------------------------------------
১. মুহাররম মাস সম্মানিত চারটি মাসের একটি। (সূরা তাওবা)
২. রমযানের পর পুরা মুহাররমের মাসের রোজা ফযীলতপূর্ণ।
أفضل الصيام بعد رمضان شهر الله المحرم. أخرجه مسلم.
৩. আশুরার দিনের রোজায় বিগত এক বছরের গুনাহ মাফ হয়।
صيام يوم عاشوراء أحتسب على الله أن يكفر السنة التي قبله. رواه مسلم.
৪. তবে ইয়া*হুদীদের সাথে সাদৃশ্যতা বর্জনের জন্য এর সাথে পূর্বে বা পরের দিন আরেকটি রোজা মিলিয়ে রাখা উত্তম।
৪. আশুরার দিন হযরত মুসা আঃ ও তার কওমকে ফেরাউনের কবল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।
৫. ফেরাউন ও তার অনুসারীদেরকে এই দিনে লোহিত সাগরে (Red sea) ডুবিয়ে মারা হয়।
عن ابن عباس: أن رسول الله ﷺ قدم المدينة، فوجد اليهود صياما يوم عاشوراء، فقال لهم ﷺ:(ما هذا اليوم الذي تصومونه؟) فقالوا: هذا يوم عظيم أنجى الله فيه موسى وقومه، وغرق فرعون وقومه، فصامه موسى شكرا فنحن نصومه، فقال رسول الله ﷺ: (فنحن أحق وأولى بموسى منكم) فصامه رسول الله ﷺ وأمر بصيامه. مسلم.
৬. মুহাররমের গুরুত্বপূর্ণ একটি ফযীলত হলো, এর সঙ্গে তওবা কবুলের ইতিহাস যুক্ত। হাদীসে এসেছে, এতে একটি দিনে এক জাতির তওবা কবুল হয়েছে এবং এতে অন্য জাতির তওবা কবুল হবে।
أخرج الترمذي عن علي قال: سأله رجل فقال: أي شهر تأمرني أن أصوم بعد شهر رمضان؟ قال له: ما سمعت أحدا يسأل عن هذا إلا رجلا سمعته يسأل رسول الله صلى الله عليه وسلم وأنا قاعد عنده فقال يا رسول الله: أي شهر تأمرني أن أصوم بعد شهر رمضان؟ قال: إن كنت صائما بعد شهر رمضان فصم المحرم فإنه شهر الله،
فيه يوم تاب فيه على قوم، ويتوب فيه على قوم آخرين. قال أبو عيسى: حديث حسن.
৭. সূরা ইউনূসের ৯২ নং আয়াতের আলোকে ফেরাউনের লাশ এখনো মিশরের জাদুঘরে সংরক্ষিত থাকা কুরআনে কারীমের সত্যতার অন্যতম দলিল। (দেখুন, তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন)
৮. আশুরার দিনে পরিবারের জন্য ওসাআত বা একটু ভালোভাবে খানার আয়োজন করা।
من وسع على عياله يوم عاشوراء وسع الله عليه في سائر سنته. رواه البيهقي، وقد اختلف في صحته.
কারবালার ঘটনা ও শিক্ষা
------------------------------------
১. হাররা ও কারবালার ঘটনায় ইয়াজিদ নিঃসন্দেহে ফাসেক, জালেম ও ঘৃণিত। তবে অনেক ইমাম তাকে লানত করতে নিষেধ করেছেন।
২. কারবালার প্রধান শিক্ষা হলো, কুরআন-সুন্নাহর সংবিধান সমাজ, রাষ্ট্র ও জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতিতে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা।
৩. কারো ক্ষমতার দাপটের মুখেও সত্যের পথে অবিচল থাকা।
কিছু অসত্য ধারণা ও ভুল কাজ
----------------------------------------
১. কারবালার কারণে আশুরা সম্মানিত হয়নি। কেননা, কারবালার ঘটনা ৬১ হিজরীতে সংঘটিত হয়েছে, যা শরীয়ত পূর্ণ হওয়ার অর্ধশতাব্দী পর।
তবে হ্যাঁ, এই মহিমান্বিত দিনে কারবালা সংঘটিত হওয়ার কারণে হযরত হোসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুর শাহাদাতের মর্যাদায় মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে।
২. এই দিনে আদমের তওবা কবুল হওয়া, ইব্রাহিমের অগ্নিকুণ্ড থেকে মুক্তি লাভ করা, নূহের নৌকা জূদী পাহাড়ে গিয়ে স্থির হওয়া, ইউসুফ কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া ইত্যাদি ঘটনা বিশুদ্ধ সূত্রে প্রমাণিত নয়।
এছাড়া আশুরার দিন কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার হাদীসও প্রমাণিত নয়।
৩. ফেরাউন নীল নদে ডুবেনি, বরং লোহিত সাগরে।
৪. কারবালার ঘটনার কারণে মুহাররমে বিবাহ অশুভ মনে করা।
৫. আশুরার দিনে ওসাআত মানে মুরগি খাওয়া নয়। বরং যে কোনভাবেই একটু ভালোভাবে খেলেই হয়।
৬. ইয়াজিদের সমালোচনা করতে গিয়ে বা আহলে বাইতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে গিয়ে হযরত মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহুর সম্মানে আঘাত করা।
৭. হযরত হোসাইন রাদিয়াল্লাহুর নামের শুরুতে "ইমাম" শব্দ বলার প্রথা সম্ভবত শিয়াদের 12 ইমাম কনসেপ্ট থেকে এসেছে।
৮. আশুরার দিন তাজিয়া মিছিল বের করা।
৯. বুকে বা পিঠে আঘাত করা।
কারবালার ঘটনা পর থেকে ৩০০ বছর পর্যন্ত আশুরার দিন কান্নাকাটি, আহাজারি, চিৎকার ও বুক চাপড়ানোর প্রথার কোন অস্তিত্ব ছিল না।
সর্বপ্রথম 352 হিজরীতে মুঈযুদ দাওলা দাইলামি নামক শিয়া আশুরার দিন শুধু বাগদাদে মাতম করার জন্য হুকুম জারি করে।